উত্তরঃ
তামাদি আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব হওয়ার সময় কোনো ব্যক্তি বা তার পূর্বসূরিদের দ্বারা প্রতারণার মাধ্যমে অধিকার গোপন করা হয়, অথবা কোনো দলিল যার ওপর মোকদ্দমা বা দরখাস্তের ভিত্তি, তা প্রতারণার মাধ্যমে লুকিয়ে রাখা হয়, অথবা যখন মোকদ্দমা বা দরখাস্তের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো চুক্তি বা দলিলের বিষয়বস্তু প্রতারণার মাধ্যমে ভুলভাবে প্রদর্শন করা হয়, তখন তামাদির মেয়াদ সেই সময় থেকে গণনা শুরু হবে, যখন সেই প্রতারণা জানা যাবে বা লুকানো দলিল জানা যাবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণা জানার পূর্বে যথাযথ diligence সহকারে চেষ্টা করলে তা জানতে পারতো, তাহলে এই ধারার সুবিধা পাবে না।
উদাহরণ: ক, খ এর কাছ থেকে ১/১/২০১৫ তারিখে ১০০ বিঘা জমি ক্রয় করে। কিন্তু খ প্রতারণা করে সেই জমি পরবর্তীতে গ এর কাছে ১/১/২০১৬ তারিখে বিক্রি করে দেয় এবং গ সেই জমিতে দখল নেয়। ক যদি ১/১/২০১৬ তারিখে খ এর প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারে, তবে সেদিন থেকেই তার প্রতারণার বিরুদ্ধে মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে, অন্যথায় সেই মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে যতক্ষণ না ক প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারে।
প্রদত্ত সমস্যাটি তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908) এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, বিশেষ করে ধারা ৬ (বৈধ অক্ষমতা) এবং সম্পত্তি দখলের মামলার জন্য প্রযোজ্য তফসিল অনুযায়ী তামাদির মেয়াদ গণনার সাথে সম্পর্কিত।
প্রাসঙ্গিক আইনগত বিধান:
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৬ (আইনগত অক্ষমতার ক্ষেত্রে): এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি মোকদ্দমা দায়েরের জন্য অথবা দরখাস্ত পেশের জন্য অধিকারী হয় এবং তামাদির মেয়াদ গণনার প্রারম্ভিক সময়ে সে অপ্রকৃতিস্থ (insane) থাকে, তবে সে তার অক্ষমতা অবসানের পর একই সময়ের মধ্যে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করতে পারবে, যা অন্যথায় তফসিলের নির্দিষ্ট সময় থেকে অনুমোদিত হতো।
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৯ (মেয়াদের অবিরাম গণনা): একবার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হলে, পরবর্তীতে কোনো অক্ষমতা মেয়াদের গণনা বন্ধ করবে না। তবে ধারা ৬ এর অধীন ব্যতিক্রম সাপেক্ষে।
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর তফসিল (Article 142/144): স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হলে স্বত্ব সাব্যস্তপূর্বক দখলের মোকদ্দমার জন্য তামাদির মেয়াদ ১২ বছর, যা বেদখল হওয়ার তারিখ থেকে গণনা করা হয়।
ঘটনার বিশ্লেষণ:
Y ১/৩/২০০৮ তারিখ অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যায়।
Z ৪/৬/২০০৮ তারিখ Y কে জমি হতে বেদখল করে। এই তারিখেই Y এর বেদখল হওয়ার কারণে মোকদ্দমা করার অধিকার জন্মায় এবং তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু Z যখন Y কে বেদখল করে (৪/৬/২০০৮), তখন Y অপ্রকৃতিস্থ ছিল। অর্থাৎ, মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব হওয়ার সময়ে Y আইনগতভাবে অক্ষম ছিল।
Y ৯/৭/২০২০ তারিখ সুস্থ হয়। এই তারিখেই Y এর আইনগত অক্ষমতা (অপ্রকৃতিস্থতা) দূর হয়।
Y ২৮/৬/২০২৫ তারিখ স্বত্ব সাব্যস্তে খাস দখলের মামলা করে।
তামাদির মেয়াদ গণনা:
ধারা ৬ এর বিধান অনুযায়ী, যেহেতু Z কর্তৃক বেদখল হওয়ার সময় (৪/৬/২০০৮) Y অপ্রকৃতিস্থ ছিল, সেহেতু তার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে তার অক্ষমতা অবসানের পর থেকে। Y ৯/৭/২০২০ তারিখে সুস্থ হয়। স্বত্ব সাব্যস্তপূর্বক দখলের মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ ১২ বছর। অতএব, Y তার সুস্থ হওয়ার তারিখ ৯/৭/২০২০ থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে।
অর্থাৎ, Y মামলা দায়ের করতে পারবে ৯/৭/২০২০ + ১২ বছর = ৯/৭/২০৩২ তারিখ পর্যন্ত।
Y ২৮/৬/২০২৫ তারিখ মামলা দায়ের করেছে, যা ৯/৭/২০৩২ তারিখের পূর্বেই।
মতামত:
উপরিউক্ত বিশ্লেষণ এবং তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৬ এর বিধান অনুযায়ী, Y কর্তৃক ২৮/৬/২০২৫ তারিখে দায়েরকৃত স্বত্ব সাব্যস্তপূর্বক খাস দখলের মোকদ্দমা তামাদি আইনের দ্বারা বারিত হবে না। মোকদ্দমাটি তামাদির মেয়াদের মধ্যেই দায়ের করা হয়েছে এবং এটি আইনত গ্রহণযোগ্য হবে।