Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারাটি আপিল ও কতিপয় দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে বিলম্ব মওকুফের বিধান আলোচনা করে। এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতকে এমন ক্ষমতা প্রদান করা, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও, যদি এর পেছনে পর্যাপ্ত ও যথাযথ কারণ থাকে, তবে আদালত সেই বিলম্ব মওকুফ করতে পারে।

৫ ধারার পরিধি:

তামাদি আইনের ৫ ধারার পরিধি আপিল, রিভিউ আবেদন, রিভিশন আবেদন এবং অন্যান্য কিছু দরখাস্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে, এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, এটি সাধারণত দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ আদেশের অধীনে দায়েরকৃত ডিক্রি জারির দরখাস্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এছাড়াও, ৫ ধারা সরাসরি কোনো মামলা (suit) দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই ধারাটি আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (discretionary power) প্রদান করে, যা আদালত ন্যায়বিচার ও সুবিচারের স্বার্থে প্রয়োগ করতে পারে, তবে এই ক্ষমতা অযৌক্তিকভাবে ব্যবহার করা যায় না। "যথাযথ কারণ" (sufficient cause) কী, তা প্রতিটি মামলার ঘটনা ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে আদালত নির্ধারণ করে থাকে। এই ধারার মূল লক্ষ্য হলো, কোনো পক্ষকে তার নিয়ন্ত্রণের বাইরের পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বিলম্বের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে না দেওয়া, যদি তার মামলায় মেধার ভিত্তি থাকে।

বিলম্ব মওকুফের যথাযথ কারণসমূহ:

বিলম্ব মওকুফের জন্য "যথাযথ কারণ" কী, তা তামাদি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। তবে, বিভিন্ন মামলার নজির (judicial precedents) এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কিছু কারণকে সাধারণত "যথাযথ কারণ" হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এগুলি হলো:

        
  • বাদী বা তার আইনজীবীর গুরুতর অসুস্থতা।
  •     
  • আইনজীবীর সদ্ভাবপূর্ণ ভুল বা অসঙ্গতিপূর্ণ পরামর্শ, যদি বাদী সেই পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে থাকে।
  •     
  • দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ আদেশের অধীন নয়, এমন কোনো দরখাস্তের ক্ষেত্রে সরকারি বিভাগের প্রশাসনিক বিলম্ব।
  •     
  • আদালতের কোনো কর্মচারীর ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান।
  •     
  • ডিক্রি বা আদেশের প্রত্যয়িত নকল পেতে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব।
  •     
  • কারাগারে আটক বা বিনা বিচারে আটকে থাকার কারণে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারা।
  •     
  • বাদী বা আবেদনকারীর দারিদ্র্য বা চরম অভাব, যা তাকে সময়মতো আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধা দিয়েছে।
  •     
  • বাদী বা আবেদনকারীর মৃত্যু এবং তার আইনি উত্তরাধিকারীদের দ্বারা রেকর্ডভূক্ত হতে বিলম্ব।
  •     
  • তামাদি গণনা ভুল হওয়া, যদি তা সদ্ভাবপূর্ণ ভুল (bona fide mistake) হয়।
  •     
  • কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা যা সময়মতো আদালতে উপস্থিত হতে বা কাগজপত্র দাখিল করতে বাধা দিয়েছে।
  •     
  • সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আইনের জ্ঞান না থাকা (তবে আইনজীবীর ক্ষেত্রে এটি সাধারণত প্রযোজ্য নয়)।
  •     
  • আইনি সহায়তার অভাব বা আইনি সহায়তা পেতে বিলম্ব।
  •     
  • অন্যান্য কোনো কারণ যা আদালতের মতে, আপিল বা দরখাস্ত পেশ করতে পক্ষকে বাধা দিয়েছে এবং যা যুক্তিসঙ্গত ও সদ্ভাবপূর্ণ ছিল।

এই কারণগুলি উদাহরণ মাত্র এবং আদালত প্রতিটি মামলার নির্দিষ্ট তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, বিলম্ব মওকুফের জন্য "যথাযথ কারণ" বিদ্যমান আছে কিনা।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
উত্তরঃ

১. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারার প্রয়োগ:

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারা আপিল, রিভিউ আবেদন, রিভিশন আবেদন এবং অন্যান্য কতিপয় আবেদনের ক্ষেত্রে সময়সীমা বৃদ্ধির সুযোগ দেয়, যদি আপিলকারী বা আবেদনকারী উক্ত সময়সীমার মধ্যে আপিল বা আবেদন দাখিল না করার জন্য 'যথেষ্ট কারণ' (sufficient cause) প্রমাণ করতে পারেন। তবে, এই ধারা সাধারণত মূল মোকদ্দমা বা ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিশেষ আইনের (Special Law) ক্ষেত্রে ৫ ধারার প্রয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সাধারণ নীতি হলো, বিশেষ আইনের দ্বারা নির্ধারিত তামাদির সময়সীমার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে না, যদি না বিশেষ আইনে স্পষ্টভাবে এর প্রয়োগের কথা বলা থাকে অথবা বিশেষ আইনটি একটি সম্পূর্ণ কোড না হয় এবং এর মধ্যে তামাদি বৃদ্ধির নিজস্ব বিধান না থাকে।

অনেক সময় বিশেষ আইনে নিজেই যদি তামাদির সময়সীমা উল্লেখ করে এবং সেটিকে একটি সম্পূর্ণ কোড হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তামাদি আইনের ৫ ধারার সাধারণ বিধান সেখানে প্রযোজ্য হবে না। তবে, যদি কোনো বিশেষ আইন তামাদির সময়সীমা নির্ধারণ করে কিন্তু সেই আইনটি সম্পূর্ণ না হয় অথবা সে আইনে তামাদি আইনের কিছু ধারাকে প্রযোজ্য বলা হয়, তবে সেক্ষেত্রে ৫ ধারার প্রয়োগ সম্ভব হতে পারে। এটি প্রতিটি বিশেষ আইনের গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের ব্যাখ্যার উপর নির্ভরশীল।


২. Y কে আইনি পরামর্শ প্রদান:

Y এর মামলার তথ্য অনুযায়ী, সহকারী জজ কর্তৃক রায় ও ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে ১০/০৫/২০২৫ তারিখে, ডিক্রি প্রস্তুত হয়েছে ১৫/০৫/২০২৫ তারিখে এবং Y প্রত্যয়িত অনুলিপি প্রাপ্ত হয়েছেন ২২/০৫/২০২৫ তারিখে। Y জেলা জজের নিকট আপিল দায়েরের শেষ তারিখ জানতে ২৮/০৫/২০২৫ তারিখে আপনার নিকট এসেছেন।

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেওয়ানী আদালতের রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে জেলা জজের নিকট আপিলের সময়সীমা হলো ৩০ দিন। এই সময়সীমা ডিক্রির তারিখ হতে গণনা করা হয়।

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী, আপিলের তামাদি গণনা করার ক্ষেত্রে রায় বা ডিক্রি প্রদানের দিন এবং ডিক্রির প্রত্যয়িত অনুলিপি প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিতে হবে।

এখানে হিসাবটি নিম্নরূপ:

        
  • ডিক্রি প্রদানের তারিখ: ১০/০৫/২০২৫।
  •     
  • ডিক্রির প্রত্যয়িত অনুলিপি প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় সময়: ১৫/০৫/২০২৫ (ডিক্রি প্রস্তুতের তারিখ) থেকে ২২/০৫/২০২৫ (অনুলিপি প্রাপ্তির তারিখ) = ৭ দিন।
  •     
  • তামাদি সময়: ৩০ দিন (অনুচ্ছেদ ১৫৬)।

তামাদি গণনার পদ্ধতি:

        
  1. ডিক্রি প্রদানের দিন (১০/০৫/২০২৫) বাদ যাবে।
  2.     
  3. তাহলে, ৩০ দিনের সময়সীমা ১১/০৫/২০২৫ তারিখ থেকে শুরু হবে।
  4.     
  5. ১১/০৫/২০২৫ থেকে ৩০ দিন গণনা করলে শেষ হবে ০৯/০৬/২০২৫ তারিখে (মে মাসে ৩১ দিন থাকায়, মে মাসে (৩১-১০)=২১ দিন এবং জুন মাসে ৯ দিন)।
  6.     
  7. এখন, অনুলিপি প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় ৭ দিন যোগ করতে হবে।
  8.     
  9. ০৯/০৬/২০২৫ + ৭ দিন = ১৬/০৬/২০২৫।

সুতরাং, Y জেলা জজের নিকট সর্বশেষ ১৬/০৬/২০২৫ তারিখ পর্যন্ত আপিল দায়ের করতে পারবেন। Y কে এই সময়ের মধ্যে আপিল দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হলো।

Satt AI
Satt AI
6 days ago
191

Related Question

View All
উত্তরঃ

সীমা আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908) কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দলিল ব্যতিরেকেও মালিকানা, অধিকার ও স্বত্ব সৃষ্টি করতে পারে। এটি মূলত প্রতিকূল দখল (Adverse Possession) নীতির মাধ্যমে ঘটে, যেখানে দীর্ঘকাল ধরে কোনো সম্পত্তির অবৈধ অথচ প্রকাশ্য, নিরবচ্ছিন্ন ও প্রতিকূল দখল আইন দ্বারা স্বীকৃত হয়ে নতুন মালিকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

নিম্নোক্ত ধারা ও অনুচ্ছেদগুলো এই ধারণার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট:

        
  • ধারা ২৮ (Section 28) – সম্পত্তির অধিকারের বিলুপ্তি: এই ধারাটি সীমা আইনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এটি বলে যে, কোনো সম্পত্তির দখলের জন্য মামলা করার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে, সেই সম্পত্তির ওপর মূল মালিকের অধিকার সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়। অর্থাৎ, সময়সীমার মধ্যে মূল মালিক যদি তার সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি পদক্ষেপ না নেন, তাহলে তিনি সম্পত্তির ওপর তার আইনি স্বত্ব হারিয়ে ফেলেন। এই বিলুপ্তির ফলস্বরূপ, যে ব্যক্তি প্রতিকূলভাবে সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন, তার জন্য নতুন একটি অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্টি হয়।
  •     
  • প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৪২ (Article 142 of the First Schedule): এই অনুচ্ছেদটি স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুতির তারিখ থেকে সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলার জন্য ১২ বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করে। যদি কোনো ব্যক্তি তার স্থাবর সম্পত্তির দখল থেকে বিচ্যুত হন এবং ১২ বছরের মধ্যে সেই সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের না করেন, তবে তার সম্পত্তির ওপরকার অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায়।
  •     
  • প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৪৪ (Article 144 of the First Schedule): এই অনুচ্ছেদটি প্রতিকূল দখলের মাধ্যমে অর্জিত স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা দাবির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি নির্দিষ্ট করে যে, কোনো ব্যক্তি যদি ১২ বছর ধরে কোনো স্থাবর সম্পত্তির ওপর প্রতিকূলভাবে, প্রকাশ্য ও নিরবচ্ছিন্ন দখল বজায় রাখেন, তবে সেই ১২ বছর পর দখলকারীর অনুকূলে নতুন স্বত্ব ও অধিকার সৃষ্টি হয় এবং মূল মালিকের অধিকার বিলুপ্ত হয়। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিকূল দখলের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৬০ বছর (অনুচ্ছেদ ১৪৯)।

এই ধারাগুলোর সম্মিলিত প্রভাবে দেখা যায় যে, যদিও প্রতিকূল দখল মূলত একটি অবৈধ দখল, তবে আইনের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর তা আইনি বৈধতা পায় এবং দলিল ব্যতিরেকেই দখলকারীর জন্য মালিকানা, অধিকার ও স্বত্ব সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে আইন মূলত দীর্ঘদিনের স্থিতাবস্থাকে আইনি স্বীকৃতি দেয় এবং সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করার চেষ্টা করে। তবে, প্রতিকূল দখলের দাবি প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন এবং দখলকারীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে তার দখল সম্পূর্ণভাবে উল্লিখিত শর্তাবলী পূরণ করেছে।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
উত্তরঃ

তামাদি আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব হওয়ার সময় কোনো ব্যক্তি বা তার পূর্বসূরিদের দ্বারা প্রতারণার মাধ্যমে অধিকার গোপন করা হয়, অথবা কোনো দলিল যার ওপর মোকদ্দমা বা দরখাস্তের ভিত্তি, তা প্রতারণার মাধ্যমে লুকিয়ে রাখা হয়, অথবা যখন মোকদ্দমা বা দরখাস্তের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো চুক্তি বা দলিলের বিষয়বস্তু প্রতারণার মাধ্যমে ভুলভাবে প্রদর্শন করা হয়, তখন তামাদির মেয়াদ সেই সময় থেকে গণনা শুরু হবে, যখন সেই প্রতারণা জানা যাবে বা লুকানো দলিল জানা যাবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণা জানার পূর্বে যথাযথ diligence সহকারে চেষ্টা করলে তা জানতে পারতো, তাহলে এই ধারার সুবিধা পাবে না।

উদাহরণ: ক, খ এর কাছ থেকে ১/১/২০১৫ তারিখে ১০০ বিঘা জমি ক্রয় করে। কিন্তু খ প্রতারণা করে সেই জমি পরবর্তীতে গ এর কাছে ১/১/২০১৬ তারিখে বিক্রি করে দেয় এবং গ সেই জমিতে দখল নেয়। ক যদি ১/১/২০১৬ তারিখে খ এর প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারে, তবে সেদিন থেকেই তার প্রতারণার বিরুদ্ধে মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে, অন্যথায় সেই মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে যতক্ষণ না ক প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারে।


প্রদত্ত সমস্যাটি তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908) এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, বিশেষ করে ধারা ৬ (বৈধ অক্ষমতা) এবং সম্পত্তি দখলের মামলার জন্য প্রযোজ্য তফসিল অনুযায়ী তামাদির মেয়াদ গণনার সাথে সম্পর্কিত।

প্রাসঙ্গিক আইনগত বিধান:

        
  • তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৬ (আইনগত অক্ষমতার ক্ষেত্রে): এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি মোকদ্দমা দায়েরের জন্য অথবা দরখাস্ত পেশের জন্য অধিকারী হয় এবং তামাদির মেয়াদ গণনার প্রারম্ভিক সময়ে সে অপ্রকৃতিস্থ (insane) থাকে, তবে সে তার অক্ষমতা অবসানের পর একই সময়ের মধ্যে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করতে পারবে, যা অন্যথায় তফসিলের নির্দিষ্ট সময় থেকে অনুমোদিত হতো।

  •     
  • তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৯ (মেয়াদের অবিরাম গণনা): একবার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হলে, পরবর্তীতে কোনো অক্ষমতা মেয়াদের গণনা বন্ধ করবে না। তবে ধারা ৬ এর অধীন ব্যতিক্রম সাপেক্ষে।

  •     
  • তামাদি আইন, ১৯০৮ এর তফসিল (Article 142/144): স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হলে স্বত্ব সাব্যস্তপূর্বক দখলের মোকদ্দমার জন্য তামাদির মেয়াদ ১২ বছর, যা বেদখল হওয়ার তারিখ থেকে গণনা করা হয়।

ঘটনার বিশ্লেষণ:

        
  • Y ১/৩/২০০৮ তারিখ অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যায়।

  •     
  • Z ৪/৬/২০০৮ তারিখ Y কে জমি হতে বেদখল করে। এই তারিখেই Y এর বেদখল হওয়ার কারণে মোকদ্দমা করার অধিকার জন্মায় এবং তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

  •     
  • কিন্তু Z যখন Y কে বেদখল করে (৪/৬/২০০৮), তখন Y অপ্রকৃতিস্থ ছিল। অর্থাৎ, মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব হওয়ার সময়ে Y আইনগতভাবে অক্ষম ছিল।

  •     
  • Y ৯/৭/২০২০ তারিখ সুস্থ হয়। এই তারিখেই Y এর আইনগত অক্ষমতা (অপ্রকৃতিস্থতা) দূর হয়।

  •     
  • Y ২৮/৬/২০২৫ তারিখ স্বত্ব সাব্যস্তে খাস দখলের মামলা করে।

তামাদির মেয়াদ গণনা:

ধারা ৬ এর বিধান অনুযায়ী, যেহেতু Z কর্তৃক বেদখল হওয়ার সময় (৪/৬/২০০৮) Y অপ্রকৃতিস্থ ছিল, সেহেতু তার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে তার অক্ষমতা অবসানের পর থেকে। Y ৯/৭/২০২০ তারিখে সুস্থ হয়। স্বত্ব সাব্যস্তপূর্বক দখলের মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ ১২ বছর। অতএব, Y তার সুস্থ হওয়ার তারিখ ৯/৭/২০২০ থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে।

অর্থাৎ, Y মামলা দায়ের করতে পারবে ৯/৭/২০২০ + ১২ বছর = ৯/৭/২০৩২ তারিখ পর্যন্ত।

Y ২৮/৬/২০২৫ তারিখ মামলা দায়ের করেছে, যা ৯/৭/২০৩২ তারিখের পূর্বেই।

মতামত:

উপরিউক্ত বিশ্লেষণ এবং তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৬ এর বিধান অনুযায়ী, Y কর্তৃক ২৮/৬/২০২৫ তারিখে দায়েরকৃত স্বত্ব সাব্যস্তপূর্বক খাস দখলের মোকদ্দমা তামাদি আইনের দ্বারা বারিত হবে না। মোকদ্দমাটি তামাদির মেয়াদের মধ্যেই দায়ের করা হয়েছে এবং এটি আইনত গ্রহণযোগ্য হবে।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
175
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews