উত্তরঃ
'বহিপীর' নাটকটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি আধুনিক নাটক। নাটকের প্রতিটি চরিত্র শেষপর্যন্ত আধুনিক মানুষে রূপান্তরিত হয়েছে। নিচে 'বহিপীর' নাটকের চরিত্র বিশ্লেষণ করা হলো।
'বহিপীর' নাটকের নাম-চরিত্র ও কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীর। বহিপীর নামটিই তার স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে। তিনি বইয়ের ভাষায় কথা বলায় তার এরূপ নামকরণ হয়েছে। বহিপীর বৈষয়িক বুদ্ধিচালিত আধুনিক মানুষ। স্বভাবসুলভ পিরদের অনুগামী নন তিনি। নিজেই স্বীকার করেছেন তার কোনো আধ্যাত্মিক শক্তি নেই। কিশোরী তাহেরাকে বিয়ে করে তিনি কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। তাহেরাকে উদ্ধার করার জন্য নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে সবকিছুতেই ব্যর্থ হন তিনি। তাই শেষ পর্যন্ত নিজের পরাজয়কে মেনে নিয়ে বিনা শর্তে হাতেম আলিকে সাহায্য করার মধ্য দিয়ে মানবিকতায় উত্তীর্ণ হন তিনি।
'বহিপীর' নাটকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তাহেরা। নাটকের ঘটনাপ্রবাহ তাকে ঘিরেই আবর্তিত। তাকে কেন্দ্র করেই বহিপীর ও জমিদারপুত্র হাশেম আলি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। তাহেরা যুক্তিবাদী, অধিকার সচেতন, আধুনিক নারীজাগরণের প্রতীক চরিত্র। বাবা ও সৎমা বৃদ্ধ বহিপীরের সাথে তার সম্পূর্ণ অমতে বিয়ে দিলে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে জমিদারের বজরায় আশ্রয় নেয়। বহিপীরের কূটকৌশলে না ভুলে নিজের সিদ্ধান্তে স্থির থেকেছে সে। শেষপর্যন্ত হাশেম আলির হাত ধরে নতুন জীবনের পথে পাড়ি জমিয়েছে।
'বহিপীর' নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হাশেম। সে যুক্তিবাদী, উচ্চশিক্ষিত, মানবিক চেতনাসম্পন্ন, আধুনিক নাগরিক চরিত্র। অসহায় তাহেরাকে বাঁচানোর সিদ্ধান্তে শুরু থেকেই অনড় সে। বহিপীরের পুলিশের ভয়, ধর্মীয় বিয়ের দোহাই, বাবার অসহায় মুখ কোনোকিছুই তাকে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাহেরাকে নিয়ে সে অনিশ্চিত অজানার পথে পাড়ি জমিয়েছে।
'বহিপীর' নাটকের আরেক প্রধান চরিত্র জমিদার হাতেম আলি। তিনি স্থিতধী, আত্মনিমগ্ন ও মানবিক চেতনাসম্পন্ন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। জমিদারি হারানোর আশঙ্কায় মানসিক বিপর্যস্ততার কারণে বহিপীর তাহেরার বিনিময়ে টাকা ধার দেওয়ার প্রস্তাব করলে তার বুঝতে অসুবিধা হয় না, এটি অমানবিক শর্ত। শেষ পর্যন্ত এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জমিদার হাতেম আলি মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
'বহিপীর' নাটকের একটি অপ্রধান চরিত্র খোদেজা। 'তিনি কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ধর্মভীরু, গ্রামীণ শৃঙ্খলাবদ্ধ নারী সমাজের প্রতিনিধি। অসহায় তাহেরাকে মানবিকতার বশে বজরায় আশ্রয় দিলে বহিপীরের আধ্যাত্মিক শক্তির ভয় চরিত্রটিকে ক্রমে স্নান করে তুলেছে।
'বহিপীর' নাটকের পিরের ধামাধরা ব্যক্তিত্বহীন চরিত্র হকীকুল্লাহ। নাটকজুড়ে তাকে হুঁকা টানা আর পিরের খেদমত করা ছাড়া বিশেষ কোনো ভূমিকায় দেখা যায়নি।