উত্তরঃ
'বহিপীর' নাটকের সবচেয়ে সহানুভূতিশীল ও মানবিক চরিত্র হাশেম। 'বহিপীর' নাটকের ঘটনাপ্রবাহ ও হাশেম আলি চরিত্রের অবিচল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য মন্তব্যটি যথাযথ।
'বহিপীর' নাটকের বহিপীর, তাহেরা ও হাতেম আলি চরিত্র শেষ পর্যন্ত মানবিক চেতনায় উত্তীর্ণ হলেও হাশেম আলি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানবিক চেতনায় অটুট। অন্যান্য চরিত্রের সাপেক্ষে তাই এই চরিত্রটিকে সহানুভূতিশীলতা ও মানবিকতার সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত বলা যেতে পারে।
'বহিপীর' নাটকের কেন্দ্রীয় তথা নাম-চরিত্র বহিপীর শুরু থেকেই অত্যন্ত ধূর্ত ও কূটকৌশলী। তাহেরাকে উদ্ধার করার জন্য তিনি পুলিশের আশ্রয় ত্যাগ করেছেন। কেননা তাদের এই অসম বিয়ের আইনি বৈধতা নেই। ফলে 'হিতে-বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। তাহেরাকে তিনি শরিয়তি বিয়ের দোহাই দেন, পুলিশের ভয় দেখান এবং সবশেষে হাতেম আলির জমিদারি রক্ষায় অর্থ সহায়তার বিনিময়ে তাহেরাকে পেতে চান। কিন্তু সব কৌশল ব্যর্থ হলে তিনি মানবিকতায় উত্তীর্ণ হয়।
তাহেরা চরিত্রটি প্রথম থেকেই স্বাধীনচেতা ও অনমনীয়। সে অসম বিয়ে না মেনে অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়াতেও দ্বিধান্বিত হয়নি। বহিপীরের শরিয়তি বিয়ের দোহাই, পুলিশের ভয় তাকে নমনীয় করতে পারেনি। কিন্তু আশ্রয়দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রশ্নে তাহেরা মানবিক হয়ে উঠেছে।
হাতেম আলি চরিত্রটি প্রথম দিক থেকেই আত্মনিমগ্ন। জমিদারি রক্ষার শেষ ভরসা বন্ধু আনোয়ারউদ্দিনের কাছে অর্থ সহায়তা না পেয়ে তিনি দিশেহারা। তাই বহিপীরের অমানবিক প্রশ্নে প্রথমে সায় দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এই শর্ত থেকে বেরিয়ে আসেন। এমন অমানবিক শর্তে টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাতেম আলি চরিত্রটি মানবিক চেতনায় উত্তীর্ণ হয়।
'বহিপীর' নাটকের একমাত্র চরিত্র হাশেম আলি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। সে শিক্ষিত, আধুনিক, যুক্তিবাদী তরুণ। শিক্ষা কেবল তার বাহ্যিক দিক হয়ে ওঠেনি, এটি তার মনুষ্যত্বেও ভূমিকা রেখেছে। তাহেরা ও বহিপীরের বিয়ে সামাজিক ধর্মীয় মতে স্বীকৃতি পেলেও হাশেম আলির কাছে এ বিয়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেননা এ বিয়েতে তাহেরার মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। হাশেম তাহেরাকে অসহায় অবস্থা থেকে উদ্ধার করার জন্য প্রথম থেকেই সোচ্চার হয়েছে। সে তাকে আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচায়। মাকে স্পষ্ট বলে দেয়, সে তাহেরাকে বিয়ে করে হলেও বাঁচাবে। বজরার সবাই তাহেরার বিপক্ষে চলে গেলেও
একমাত্র হাশেম শেষ পর্যন্ত তাহেরার পক্ষে অবিচল থেকেছে। শেষে তাহেরাকে নিয়ে পা বাড়িয়েছে অনিশ্চিত অজানার উদ্দেশ্যে।
সুতরাং দেখা যায় যে, হাশেম আলি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানবিক চেতনায় ও সহানুভূতিতে অটুট ছিল। তাই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, হাশেম 'বহিপীর' নাটকের সবচেয়ে সহানুভূতিশীল ও মানবিক চরিত্র।