Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

বহিপীরের বদদোয়া লাগার ভয়ে খোদেজা বহিপীরের পক্ষ নিয়েছিলেন।

'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রটি একটি অপ্রধান চরিত্র। তিনি জমিদারপত্নী। অত্যন্ত ধর্মভীরু ও কুসংস্কারাছন্ন এই চরিত্রটি সকল প্রগতিশীলতার বিরোধী। তাহেরার বাড়ি ছেড়ে পালানোকে তিনি মেনে নিতে পারেননি। অসম বয়সের বিয়ে অনুচিত মনে করলেও বহিপীরের সাথে বিয়ে হওয়াকে তিনি সৌভাগ্যের বিষয় মনে করেন। যেহেতু যুবক পির পাওয়া যায় না, সেহেতু বৃদ্ধ পিরকে বিয়ে করেই সন্তুষ্ট থাকা শ্রেয়। তিনি বহিপীরের বদদোয়াকে ভয় পান। ছেলে হাশেম আলিকে তিনি বহিপীরের বিরুদ্ধে যেতে নিষেধ করেন। তাহেরা বহিপীরের কাছে তার পরিচয় গোপন রাখতে বললেও খোদেজা তা শোনেন না, তিনি মনে করেন পিরসাহেব আধ্যাত্মিক শক্তির বলে সবকিছু জেনে যাবেন। হাশেম তাহেরাকে পিরসাহেবের কবল থেকে বাঁচাতে গেলে বহিপীরের সাথে মুখোমুখি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। বহিপীর-হাশেমের এই দ্বন্দ্বে পিরের বদদোয়ার ভয়ে খোদেজা বহিপীরের পক্ষ নেন। বহিপীরের অভিশাপ থেকে বাঁচতে খোদেজা এই কাজটি করেন।

উত্তরঃ

'বহিপীর' নাটকে উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বিশ শতকের শুরুর সমাজচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।

'বহিপীর' নাটকের নাম-চরিত্র বহিপীর বাংলা অঞ্চলে পিরপ্রথার জেঁকে বসা বিষয়টিকে নির্দেশ করেছে। বহিপীর সারা বছর তার মুরিদদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ান। শহরে বহিপীরের ধনী মুরিদ আছে- এ বিষয়টি বাংলা অঞ্চলে শহর গড়ে ওঠার ইঙ্গিত করেছে, যা বিশ শতকের শুরুর দিকের নগর কলকাতা-ঢাকাকে নির্দেশ করে।

দ্বিতীয়ত, তাহেরার মতো নারী স্বাধীনতার প্রতীক চরিত্রের সাথে এ অঞ্চলের নারীজাগরণের বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিষয়টি বিশ শতকের শুরুতে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, নবাব ফয়জুন্নিসা, ফজিলাতুন্নেছার নারীবাদী আন্দোলন ও সংগ্রামের ইঙ্গিত দেয়।

তৃতীয়ত, হাশেম আলি শিক্ষিত আধুনিক তরুণদের প্রতীক। বিশ শতকের শুরুতে কলকাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে আধুনিকতাবাদী আন্দোলন গড়ে ওঠে। এদের আদর্শ ছিল সমাজ থেকে কুসংস্কার, গোঁড়ামি ও অস্ত্র ধর্মবিশ্বাস ভুলে যুক্তিবাদ, মানবতা প্রতিষ্ঠা করা। হাশেম আলি চরিত্রের মধ্যে আধুনিকতাবাদীদের সেই মনস্তত্ত্ব প্রত্যক্ষ করা যায়। জমিদারপুত্র হয়েও বৈষয়িক বুদ্ধিশাসিত নয়, বরং সে যুক্তিবাদী, মানবিক চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।

চতুর্থত, ব্রিটিশ ভারতে ১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণীত হয়। এই আইনে বলা আছে, জমিদাররা নিজ নিজ জমিদারি সীমার নির্ধারিত খাজনা নির্দিষ্ট দিন সূর্যাস্তের পূর্বে পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে নতুবা জমিদাররা জমিদারি স্বত্ব হারাবে এবং তা নির্দিষ্ট মূল্যে নিলামে চড়বে। 'বহিপীর' নাটকে জমিদার হাতেম আলি সেই সূর্যাস্ত আইনের বলি হতে চলেছেন। তবে তার জমিদারির নাম-ডাক নেই। ফলে এ নাটকটি সেই সময় লিখিত যখন সূর্যাস্ত আইন শেষ দিকে। অর্থাৎ উনিশ শতকের শেষ দিকে জমিদারিপ্রথা উচ্ছেদ হতে শুরু করে।

পঞ্চমত, নগর সভ্যতার সূচনার বিষয়টি এসেছে। জমিদার হাতেম আলি জমিদার হওয়া সত্ত্বেও শহরের বাল্যবন্ধু আনোয়ারউদ্দিনের কাছে টাকা ধার চাইতে গিয়ে ফিরে এসেছেন। অর্থাৎ গ্রামীণ সভ্যতার বিপরীতে নগর সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা বিশ শতকের ইংরেজ কোম্পানির যান্ত্রিক শিল্প-কলকারখানার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সুতরাং উপযুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, 'বহিপীর' নাটকে উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বিশ শতকের সূচনার সমাজচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। পিরপ্রথা, নারীজাগরণ, আধুনিক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তরুণদের উন্মেষ, ক্ষয়িষ্ণু জমিদারি ব্যবস্থা, নগর সভ্যতার বিকাশ ইত্যাদি বিষয় সেই সময়কেই নির্দেশ করছে।

52

Related Question

View All
উত্তরঃ

'সূর্যাস্ত আইন' জমিদার হাতেম আলির জমিদারি নিলামে দাঁড় করিয়েছে। ১৭৯৩ সালে প্রণীত এ আইনে বলা আছে, নির্ধারিত তারিখে সূর্য ডোবার পূর্বে জমিদারদের খাজনা পরিশোধ করতে হবে। তা করতে ব্যর্থ হলে খাজনা পরিশোধে অপরাগতার দায়ে জমিদারির স্বত্ব নিলামে উঠে যাবে। জমিদার হাতেম আলি ক্ষয়িষ্ণু জমিদার শ্রেণির প্রতিনিধি। বংশপরম্পরায় জমিদারির দাপট কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত হাতেম আলির জমিদারি যেখানে এসে পৌছায়, তাকে নাট্যকার 'ঢাকের ঢোল' বলে উল্লেখ করেছেন। তবু গ্রামে সম্মান বজায় রেখে চলার জন্য এই জমিদারি সহায়ক ছিল। কিন্তু খাজনা বাকি পড়ায় এখন তা নিলামে ওঠার উপক্রম হয়েছে। জমিদারির আয় ছাড়া হাতেম আলির আয়ের অন্য কোনো উৎস নেই। এই জমিদারির ওপরই নির্ভর করছে সম্মান বজায় রেখে চলা। তাই বলা যায়, 'সূর্যাস্ত আইন' হাতেম আলির জীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে।

উত্তরঃ

'বহিপীর' নাটকে বহিপীর ও হাতেম আলির সম্পর্ক আশ্রয়হীনতা ও আশ্রয়দাতার।

'বহিপীর' নাটকের বহিপীর এই এলাকার মানুষ নন। তার বাড়ি সুনামগঞ্জে। বছরের বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত তার মুরিদদের সঙ্গে কাটান। এখানে তার এক পেয়ারের মুরিদ আছে। মুরিদ পিরের আশীর্বাদ পেতে নিজ কন্যাকে বৃদ্ধ পিরের সঙ্গে বিয়ে দেয়। মুরিদের মেয়ে তাহেরা এই অসম বয়সের বিয়েকে মেনে নেয় না। তাই সে বিয়ের রাতে বাড়ি ছেড়ে পালায়। ফলে পিরসাহেব তার সহযোগী হকিকুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে নববধূকে খুঁজতে বের হন। নৌকায় করে যাওয়ার সময় প্রচন্ড ঝড় ওঠে।

তখন বহিপীরের নৌকার সঙ্গে জমিদারি বজরার ধাক্কা লাগে। আধ ডোবা অবস্থায় বহিপীরকে উদ্ধার করেন জমিদার হাতেম আলি।

হাতেম আলি একজন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। রেশমপুরে তাঁর যৎকিঞ্চিৎ জমিদারি রয়েছে যা সান্ধ্য আইনে নিলামে চলে যেতে বসেছে। তাই তিনি শহরে বন্ধু আনোয়ারউদ্দিনের কাছে টাকা ধারের জন্য গিয়েছিলেন। বিষয়টি প্রথমে তিনি স্ত্রী-পুত্র এমনকি বহিপীরের কাছেও গোপন রাখেন। বন্ধুর কাছ টাকা থেকে ধার না পাওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন এবং বহিপীরের কাছে সবকিছু খুলে বলেন।

বহিপীর প্রথমত হাতেম আলির অসহায়ত্বের সুযোগ গ্রহণ করেন। তিনি জানতে পারেন তার পলাতক স্ত্রী তাহেরা জমিদারের এই বজরায়ই অবস্থান করছে। তাই তিনি জমিদার হাতেম আলিকে তার স্ত্রীকে তার সঙ্গে ফিরে যাওয়ার শর্তে টাকা ধার দিতে চান। শহরে পিরসাহেবের কিছু ধনী মুরিদ আছে। তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বহিপীর জমিদার হাতেম আলির জমিদারি রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন।

হাতেম আলি পিরসাহেবের এই শর্তের মর্মার্থ খুঁজে পান না। বিপদে ! পড়লেও' হাতেম আলি ব্যক্তিত্ববান পুরুষ। তাই তিনি এমন শর্তে টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পিরসাহেবও তার ভুল বুঝতে পারেন। । ফলে তিনি বিনা শর্তে হাতেম আলিকে টাকা দিতে রাজি হন।
বহিপীর ও হাতেম আলির সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলা যায় দুজনেই গভীর দুশ্চিন্তায় মগ্ন। বহিপীর তার পালিয়ে যাওয়া স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়ার এবং বুঝিয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় ব্যস্ত। অন্যদিকে হাতেম আলি বহু পুরোনো জমিদারি হারানোর দুশ্চিন্তায় ভীত। জমিদারির সঙ্গে হাতেম আলির মানসম্মান সহকারে বেঁচে থাকা নির্ভর করছে। তাই হাতেম আলি ও পিরসাহেবকে গভীর দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে মেলানো যেতে পারে।

61
উত্তরঃ

"খোদা কাকে কীভাবে পরীক্ষা করেন তা বুঝিবার ক্ষমতা আমাদের নাই।"- আলোচ্য উক্তিটি বহিপীরের। বহিপীর জমিদারি হারানোর ভয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হাতেম আলিকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য এ কথা বলেছেন।

বিপদের সময় আত্মহারা হয়ে পড়া উচিত নয়। বরং ধৈর্য ধরে বিপদ থেকে উত্তরণের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু যখন সব উপায় শেষ হয়ে যায়, তখন ধৈর্য ধরে রাখা সম্ভব হয় না। হাতেম আলির জমিদারি সান্ধ্য আইনে নিলামে ওঠার উপক্রম হয়েছে। স্ত্রী-'সন্তানকে মিথ্যা বলে শহরে চিকিৎসার নাম করে বাল্যবন্ধু আনোয়ারউদ্দিনের কাছে অর্থ সাহায্যের জন্য এসেছিলেন তিনি। অথচ ধনাঢ্য সেই বন্ধুও তাঁকে নিরাশ করেছেন। ফলে হাতেম আলি হতাশায় দুচোখে অন্ধকার দেখছেন। তাঁর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যেতে শুরু করেছে। বহিপীর তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখার উপদেশ দিয়েছেন। বহিপীরের মতে, সৃষ্টিকর্তা মানুষকে বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। হাতেম আলির জমিদারি যাওয়ার আশঙ্কাও হয়তো সেই রকম একটি পরীক্ষা। তাই বিচলিত না হয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভরসা রাখা উচিত বলে মনে করেন বহিপীর।

উত্তরঃ

'বহিপীর' নাটকে নানাবিধ সামাজিক সমস্যার ইঙ্গিত রয়েছে। নিচে কয়েকটি সমস্যার উল্লেখ করা হলো-

প্রথমত, 'বহিপীর' নাটকের নামকরণেই পির সম্প্রদায়ের ধর্মব্যাবসার ইঙ্গিত রয়েছে। সুফিবাদের ব্যাখ্যার ওপর পির-মুরিদ প্রথা গড়ে উঠলেও বর্তমান সময়ে তা ব্যাবসার, হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বহিপীর উল্লেখ করেছেন বছরের বিভিন্ন সময় তাকে বিভিন্ন অঞ্চলে মুরিদদের কাছে কাটাতে হয়। মুরিদরা তাদের সর্বস্ব দিয়ে পিরের সেবা করে। হালের গরু, ছাগল-মুরগির ব্যবস্থা করে খাওয়ায়। অর্থ না থাকলেও ঋণ করে পিরের সেবা করে। তাহেরার বাবা-মা সেই পিরকে খুশি করতে তাদের কিশোরী কন্যাকে বিয়ে দিয়েছিল। এমনকি বহিপীর চাইলে তার ধনী মুরিদরা পিরকে জমিদারি রক্ষার টাকা দেবেন বলেও বহিপীরের দৃঢ় বিশ্বাস'।

দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মভীতি 'বহিপীর' নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। বাস্তব জ্ঞানবহির্ভূত ধর্মভীতিই ধর্মীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়ে উৎসাহিত করে। 'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রটি ধর্মীয় ভীতির প্রামাণ্য দলিল। তাহেরার সঙ্গে বহিপীরের বিয়ে অন্যায় বুঝেও তিনি বহিপীরকেই সমর্থন করেন শুধু বহিপীরের বদদোয়া লাগার ভয়ে।

তৃতীয়ত, অসম বয়সের বিবাহ এ নাটকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। হিন্দু সমাজের কৌলীন্য প্রথার সূত্র ধরে বাংলার সর্বত্র অসম বয়সের বিয়ে চালু হয়। মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসনে আশি বছর বয়স্ক কুলীন ব্রাহ্মণের সঙ্গে আট বছরের শিশুকন্যার বিয়ে এক সময়ে এ সমাজে প্রচলিত সত্য ছিল। 'বহিপীর' নাটকে পঞ্চাশোর্ধ্ব বহিপীরের সঙ্গে কিশোরী তাহেরার বিয়ের ব্যাপারটি সেই অসম বয়সের বিয়েকে সামনে এনেছে।

চতুর্থত, নারীসমাজের প্রতি সামাজিক অবমাননার দিকটি ফুটে উঠেছে 'বহিপীর' নাটকে। 'বহিপীর নাটকে তাহেরার ঘর ছেড়ে পালিয়ে আসার দিকটি নিঃসন্দেহে দুঃসাহসিকতার পরিচায়ক। কিন্তু জমিদারপত্নী খোদেজা বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখেননি। তিনি নানাভাবে তাহেরাকে হেয় করেছেন।

পঞ্চমত, ইংরেজদের রেখে যাওয়া জমিদারি প্রথার ভাঙন। 'বহিপীর' নাটকে জমিদার হাতেম আলি ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। বাপ-দাদার আমলে জমিদারির নাম-ডাক থাকলেও এখন তা কেবল ঢাকের ঢোলের মতো। তাও সন্ধ্যা আইনে নিলামে চড়তে যাচ্ছে।

'বহিপীর' নাটকের উল্লেখযোগ্য সামাজিক সমস্যা ওপরে বর্ণিত হলো। নাট্যকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এসব বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করেছেন।

46
উত্তরঃ

আশ্রয়দাতা জমিদার হাতেম আলির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও তাঁর জমিদারি রক্ষার জন্য তাহেরা বহিপীরের সঙ্গে যেতে চেয়েছিল। তাহেরা সৎমায়ের সংসারে বড় হওয়া মেয়ে। তার সৎমায়ের ইন্ধনে বাবা বৃদ্ধ পিরের সঙ্গে তাকে বিয়ে দেয়। তাহেরা এই অসম বয়সের বিয়ের ব্যাপারে সোচ্চার হয় এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে জমিদারের বজরায় আশ্রয় নেয়। জমিদার হাতেম আলি ও তার স্ত্রী খোদেজা অসহায় তাহেরাকে আশ্রয় দেওয়ায় তাদের প্রতি তাহেরা কৃতজ্ঞ। জমিদারগিন্নি খোদেজা তাকে কন্যার সমতুল্য মনে করেছেন। ঘটনাচক্রে বহিপীর ঝড়ের কবলে পড়ে জমিদারের বজরায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। তিনি জানতে পারেন তার পলাতক নববধূ এই বজরাতেই অবস্থান করছে। ধূর্ত বহিপীর তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তে হাতেম আলিকে জমিদারি রক্ষায় টাকা ধার দিতে চান। আশ্রয়দাতা হাতেম আলির উপকারে আসার সুযোগ তাহেরা হাতছাড়া করে না। জমিদার হাতেম আলির প্রতি কৃতজ্ঞতাবশে তাহেরা বহিপীরের সঙ্গে ফিরে যেতে রাজি হয়।

উত্তরঃ

হ্যাঁ, হাশেমকে প্রতিবাদী চরিত্র বলা যায়।

'বহিপীর' নাটকের অন্যতম প্রধান চরিত্র জমিদারপুত্র হাশেম আলি। প্রচলিত জমিদারি ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা লাম্পট্য শ্রেণির যুবক সে নয়। হাশেম আলি উচ্চশিক্ষিত বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। জমিদারপুত্র হয়েও পিতার জমিদারির প্রতি তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। বরং ব্যাবসা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় সে। তাই বাবার কাছে ছাপাখানার ব্যাবসা দেওয়ার স্বপ্ন ব্যক্ত করেছে।

হাশেম আলি একটি ইতিবাচক চরিত্র। মানবীয় মূল্যবোধ ও ন্যায়বোধের গুরুত্ব তার কাছে সর্বাধিক। এক অর্থে হাশেম আলিকে নায়ক বলা যেতে পারে। জমিদারপুত্র হলেও বৈষয়িক বিবেচনা তার কাছে কম। পিতার জমিদারি চলে গেলে এবং ছাপাখানা বসাতে না পারলেও সে চিন্তিত নয়। সে ভাবে, যখন লেখাপড়া করেছে তখন একটা কিছু হবেই। সে অত্যন্ত যুক্তিবাদী, আধুনিক ও মানবিক অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ।

অসম বিয়ে না মেনে ঘর ছেড়ে পালিয়ে আসা তাহেরার সমস্যা হাশেম আলিই প্রথম উপলব্ধি করে। হাশেম তাহেরার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ে। মেয়েটি আত্মহনন করতে পানিতে ঝাঁপ দিতে চাইলে হাশেম তাকে রক্ষা করে। পুরো বজরার মানুষ তাহেরার বিপক্ষে চলে গেলেও একমাত্র হাশেমই ছিল তার পক্ষে এবং শেষ পর্যন্ত সে তার পক্ষ ত্যাগ করেনি। নাটকে' তাকে অস্থিরচিত্ত বলে বর্ণনা করা হলেও সে তার অবস্থানে ছিল স্থির। এক্ষেত্রে মাতার সাবধান বাণী, বহিপীরের ভীতি প্রদর্শন, পিতার করুণ অবস্থা- কোনোকিছুই তাকে পিছু হটাতে পারেনি। সে তাহেরাকে বাঁচাতে চেয়েছে, এমনকি বিয়ে করে হলেও। জমিদারপুত্র হিসেবে তাহেরা তার কাছে একটি অপরিচিত মেয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে সব বৈষয়িক ভাবনা ত্যাগ করে মেয়েটিকে বাঁচাতে সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। সবকিছু ছিন্ন করে অচেনা অপরিচিত একটি মেয়েকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছে অজানার উদ্দেশ্যে।

হাশেম আলির শিক্ষা কেবল বাহ্যিক নয়, তার মনুষ্যত্ব গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সে সব ধরনের সংকীর্ণতামুক্ত আধুনিক যুবক। প্রেসের ব্যাবসার সম্ভাবনা বিনষ্ট হলেও সে চিন্তিত নয়। সে মায়ের সাবধান বাণী, বহিপীরের ভীতি প্রদর্শন কিংবা বাবার করুণ অবস্থার চিন্তায় মনুষ্যত্বহীন কাজ করতে প্রস্তুত নয়। সমাজের প্রচলিত অসম বিয়ের বিরুদ্ধে সে প্রতিবাদী। আর এই অসম বিয়ের শিকার বালিকা তাহেরাকে নিয়ে পালিয়ে তার প্রতিবাদী ব্যক্তিত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। তাই বলা যায় যে, হাশেমকে অবশ্যই প্রতিবাদী যুবক বলা যায়।

59
উত্তরঃ

"কথ্য ভাষা হইল মাঠ-ঘাটের ভাষা, খোদার বাণী বহন করার উপযুক্ততা তাহার নাই।"- উক্তিটি 'বহিপীর' তার নাম প্রসঙ্গে করেছিল।

'বহিপীর' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীর। তিনি এখানকার লোক নন। তার বাড়ি সুনামগঞ্জে। বছরের বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের 'বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত মুরিদদের বাড়িতে কাটান পিরসাহেব। তাকে সারা বছরই ওয়াজ-নসিহত করে ফিরতে হয়। তাছাড়া দেশের সর্বত্র তার মুরিদ থাকায় আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলা তার পক্ষে অসম্ভব। কেননা একেক অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা একেক রকম। তাই বহিপীরকে বাধ্য হয়ে বইয়ের ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হয়। তাছাড়া বহিপীর মনে করেন কথ্য ভাষা জনসাধারণের ভাষা। শরিয়ত তথা সৃষ্টিকর্তার দিকনির্দেশনামূলক উপদেশ বহন করার সক্ষমতা আঞ্চলিক কথ্য ভাষার নেই। ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত খোদার বাণীকে যথাযথভাবে ধারণ করার গুরু-গম্ভীর বৈশিষ্ট্য কেবল বইয়ের ভাষারই রয়েছে। তাই বহিপীর মনে করেন খোদার বাণী ধারণ করার ক্ষমতা কথ্য ভাষার নেই।

উত্তরঃ

'বহিপীর' নাটকের 'সবচেয়ে উজ্জ্বল চরিত্র তাহেরা। সে মাতৃহীন। সে সৎমায়ের সংসারে পালিত এক মেয়ে। তার বাবা এবং সৎমা তার মতামতকে উপেক্ষা করে বৃদ্ধ পিরের সঙ্গে তাকে বিয়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে বাড়ি ছেড়ে পালায়। তাই তাহেরাকে সাহস ও স্বাধীনতার প্রতীক বলা যায়।

নিজের অমতে বিয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ঘর ছেড়ে পালানো, তৎকালীন সমাজ বিচারে একটা মেয়ের পক্ষে কখনোই সহজ কাজ 'বলা যায় না। ফলে তাহেরা পালিয়ে গিয়ে নিঃসন্দেহে দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। নানাবিধ আশঙ্কা নিয়ে পালিয়ে তাহেরা সমাজে নিজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দিকটি উন্মোচন করেছে।

ব্যক্তিমানুষ হিসেবে সমাজে নারী-পুরুষ উভয়েরই সমঅধিকার থাকা উচিত। বিয়ের মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মতামত জানানো প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার। কিন্তু আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় কর্তৃত্ববান পুরুষের মতামত নেওয়া হলেও নারীরা সব সময় থেকেছে অবহেলিত। সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তে তাদের মতামত জানার প্রয়োজন মনে করে না সমাজের কর্তাব্যক্তিরা। তাহেরার মতো প্রতিবাদী নারীরা তাদের সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য না দিলে এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে তবেই সমাজের পরিবর্তন আসবে। তাই পারিবারিক সিদ্ধান্তকে মেনে না নিয়ে পালিয়ে আসায় তাহেরা চরিত্রের মধ্যে দুঃসাহসিকতা ফুটে উঠেছে।

দ্বিতীয়ত, জন্মগতভাবে প্রত্যেক ব্যক্তিই স্বাধীন। মতামতের ব্যাপারেও তাই। প্রত্যেক মানুষের রয়েছে অপরের মতকে অগ্রাহ্য করার স্বাধীনতা। তাহেরার মাঝে ব্যক্তিস্বাধীনতার সেই বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা গিয়েছে। বাবা-মায়ের মতামত, বৃদ্ধ পিরের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত তাহেরার পক্ষে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তাই সে তার ব্যক্তিস্বাধীনতার বলে এ বিয়েকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পালিয়ে এসেছে। বিষয়টি তার ব্যক্তিস্বাধীনতাকে নির্দেশ করেছে।
উপর্যুক্ত আলোচনার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে, সমাজ তথা পারিবারিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাহেরার অবস্থান। একাকী একটা মেয়ের পক্ষে বাড়ি থেকে পালিয়ে অনিশ্চয়তার দিকে পা বাড়ানো ভীতুদের কাজ নয়। তাহেরা পালিয়ে গিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আবার প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীনতা রয়েছে পারিবারিক অবিবেচনামূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করার। তাহেরা পারিবারিক সিদ্ধান্তকে মেনে না নিয়ে সেই স্বাধীনতার পরিচয় দিয়েছে। তাই নাটকে তাহেরাকে সাহস ও স্বাধীনতার প্রতীক বলা যায়।

44
উত্তরঃ

'বহিপীর' নাটকের বহিপীর চরিত্রটি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও স্থিরবুদ্ধিসম্পন্ন তাকে অসম বয়সে বিয়ের জন্য নানাবিধ প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তিনি সবকিছু অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। বহিপীরের প্রথম স্ত্রীর মারা যান চৌদ্দ বছর পূর্বে। বৃদ্ধ বয়সের নিঃসঙ্গতা কাটাতে মুরিদের কন্যাকে বিয়ে করার অনুরোধ তিনি ফেলতে পারেননি। বিয়ের রাতে স্ত্রী পালিয়ে গেলে তিনি তাকে খুঁজতেও বেরিয়েছেন। এসব বিষয়ে তিনি পুলিশি হস্তক্ষেপ পরিত্যাগ করেছে। তাহেরাকে ফিরিয়ে আনতে তিনি ধর্মের দোহাইও দিয়েছেন। এতে তাহেরার মন না গলায় পুলিশের ভয় দেখিয়েছেন। তারপর তিনি মানবিকতার বাহানায় তাহেরার সহানুভূতি পেতে চেয়েছেন। সবকিছুই করেছেন স্থিরচিত্তের সঙ্গে। শেষমেশ হাতেম আলিকে টাকা ধার দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাহেরাকে অধিকার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তাহেরা হাশেমের সঙ্গে চলে গেলে বহিপীর বিনা শর্তে হাতেম আলির জমিদারি রক্ষার টাকা দিয়েছেন। তাই একদিক থেকে বিচার করলে 'বহিপীর' তাহেরার একটি নিশ্চিত স্থান দেখতে চেয়েছেন। 'বহিপীর' নাটকের এই দিক বিবেচনায় বহিপীর চরিত্রটি সম্পূর্ণ ইতিবাচক চরিত্র।

উত্তরঃ

'বহিপীর' নাটকে বহিপীর ও খোদেজা চরিত্রের মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামির চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।

'বহিপীর' নাটকের বহিপীর চরিত্রটি গ্রামীণ মানুষের কুসংস্কারকে আশ্রয় করে গঠিত পির সম্প্রদায়ের ধর্মব্যাবসার স্বরূপ তুলে ধরেছেন। বহিপীরের বাড়ি সুনামগঞ্জে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার মুরিদ রয়েছে।

বহিপীর সারা বছর মুরিদদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ওয়াজ-নসিহত করে সেবা নেন। বহিপীরের মুরিদরা তার কথায় সব করতে পারে। হালের গরু বিক্রি করে, আথালের ছাগল-মুরগি জবাই করে পিরের সেবা করতে প্রস্তুত। মুরিদদের সামর্থ্যে না থাকলেও কর্জ করে পিরের সেবায় মরিয়া তারা। এমনকি পিরের এক মুরিদ ও তার স্ত্রী মিলে তাদের বালিকাকন্যা তাহেরাকে পঞ্চাশোর্ধ্ব বৃদ্ধ পিরের সঙ্গেও বিয়েও দেয়। যদিও তাহেরা তা মেনে নেয়নি। বহিপীরের শহরের ধনী মুরিদরা পির সাহেবকে হাতেম আলির জমিদারি রক্ষার টাকা দিতেও কসুর করবে না। ধর্মকে পুঁজি করে ব্যাবসার এই তথ্যটি বাংলাদেশের সমাজে জেঁকে বসা পির-মুরিদি নামক ধর্মব্যাবসার স্বরূপ উন্মোচন করেছে।

'বহিপীর' নাটকের একটি অপ্রধান চরিত্র খোদেজা। জমিদার হাতেম আলির স্ত্রী। এই চরিত্রটি অত্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ধর্মভীরু। তাহেরার সঙ্গে বহিপীরের অসম বিয়েটা যে অন্যায় সেটি বুঝতে পেরেও পিরের অভিশাপের ভয়ে তিনি এ ধরনের কাজকে অস্বীকার করেন না। ছেলে হাশেম তাহেরাকে উদ্ধার করতে চাইলে তিনি ছেলেকে পিরের অভিশাপের জন্য নিষেধ করেন। এমনকি ছেলে ও পির মুখোমুখি অবস্থানে গেলে তিনি পিরের পক্ষে অবস্থান নেন। অথচ তিনি তার ছেলেকেও শক্তভাবে দমন করতে পারেনি। পিরভক্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভীতু প্রকৃতির এমন খোদেজাদের কারণেই সমাজে এখনো পির সম্প্রদায়ের ধর্মব্যাবসা টিকে থাকতে পেরেছে। পির সাহেবের জীবনাচরণ ও তার মুরিদানদের সর্বস্ব দিয়ে পিরের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা 'বহিপীর' নাটকের ধর্মীয় গোঁড়ামির চিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলেছে। পাশাপাশি জমিদারপত্নী খোদেজার কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় গোঁড়ামি সমাজে প্রচলিত ধর্মব্যাবসা বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। বহিপীর ধর্মব্যবসায়ী হলে খোদেজা ধর্মব্যাবসার অনুকূল পরিবেশ।

73
উত্তরঃ

'বহিপীর' নাটকের উল্লিখিত পিরপ্রথা বাংলাদেশের পির-মুরিদ সম্পর্কের স্বরূপ উন্মোচন করেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসলাম ধর্ম সূচিত হয়ে মধ্যযুগে ভারতবর্ষ ও বাংলা অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে। অশিক্ষিত জনসাধারণকে সুফিবাদের ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনীয়তা থেকে পিরপ্রথার সূচনা হয়। ধীরে ধীরে তা একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ধর্মব্যাবসায় রূপ লাভ করে। 'বহিপীর' নাটকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। 'বহিপীর' নাটকের নামকরণের মধ্যেই পিরপ্রথার ইঙ্গিত রয়েছে। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীর। বছর দুবছর অন্তর তিনি তার বিভিন্ন অঞ্চলে মুরিদদের বাড়ি গমন করেন। মুরিদরা সর্বস্ব উজাড় করে পিরের সেবা করে। গৃহস্থের ছাগল-হাঁস-মুরগি জবাই করে, অর্থ কর্জ করে হলেও পিরের সেবায় তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। বহিপীরের ধনী মুরিদরা তাকে জমিদারি নিলামের হাত থেকে বাঁচানোর মতো অর্থ দিতেও কসুর করবে না বলে পিরসাহেব আত্মবিশ্বাসী। তাহেরার বাবা-মা তো বৃদ্ধ পিরের সেবায় কিশোরী কন্যাকেও দান করে দিয়েছে।

উত্তরঃ

বহিপীর নাটকের দুই ভিন্ন মানসিকতার দুজন নারী চরিত্র তাহেরা ও খোদেজা। তারা পরস্পর বিপরীত মেরুর চরিত্র।

তাহেরা চরিত্রটির প্রতি নাট্যকার বিশেষ যত্নবান ছিলেন। গ্রামের সাধারণ গৃহস্থ পরিবারের মেয়ে তাহেরা। তার মা নেই। সৎমায়ের সংসারে সে মানুষ। বাবা ও সৎমা মিলে বৃদ্ধ বহিপীরের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়। বহিপীর সুনামগঞ্জের অধিবাসী। তাহেরার বাবা, সৎমা বহিপীরের মুরিদ। পিরের আশীর্বাদ পেতে তারা তাদের মেয়েকে উৎসর্গ করে। তাহেরা বিশ শতকের প্রথমার্ধের নারীজাগরণের প্রতীকী চরিত্র। সে এই অসম বিয়ে মানে না। তাই বিয়ের রাতে ঘর ছেড়ে পালিয়ে ডেমরার ঘাটে পৌছায়। সেখানে বাজে ছেলেদের কুনজরে পড়তে দেখে জমিদারপত্নী খোদেজা তাকে বজরায় আশ্রয় দেন।

অন্যদিকে জমিদারপত্নী খোদেজা। স্বামীর চিকিৎসার জন্য স্বামী ও একমাত্র পুত্র হাশেম আলিকে নিয়ে শহরে যান। খোদেজা সরল পল্লি নারীর প্রতীক। সামাজিকতার বন্ধনকে তিনি ভাগ্য বলে মেনে নিয়েছেন। কুসংস্কার ও ধর্মভীরুতা তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি মনে করেন তাহেরার বিয়ের আসর থেকে পালানো উচিত হয়নি। এমনিতে খোদেজা মানবিক গুণের অধিকারী। তবে পিরের বদদোয়াকে তিনি খুবই ভয় পান। তাহেরা প্রসঙ্গে বহিপীর ও তার নিজ পুত্র হাশেম আলি মুখোমুখি দাঁড়ালে খোদেজা বহিপীরের পক্ষ নেন। ব্যক্তিত্বের দিক থেকে খোদেজা খুবই দুর্বল। তিনি শক্ত হাতে তার পুত্রকেও দমাতে পারেননি।

এদিক থেকে তাহেরা দুঃসাহসিকতার পরিচয়বাহী। তাহেরা স্বাধীন ব্যক্তিসত্তায় উদ্ভাসিত অনমনীয় এক নারী। সে কখনোই বহিপীরকে স্বামী হিসেবে মেনে নেয়নি; বরং বারবার প্রতিবাদ করেছে। বহিপীরের দেখানো পুলিশের ভয়, বার্ধক্যজনিত সহানুভূতির দোহাই কোনোকিছুই তার ব্যক্তিত্বকে টলাতে পারেনি। সে প্রয়োজনে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবে তবু বহিপীরের সঙ্গে যাবে না। কিন্তু তার আশ্রয়দাতা হাতেম আলিকে জমিদারি রক্ষায় টাকা দেওয়ার শর্তে সে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি হয়েছে। এদিক বিচারে তাহেরা চরিত্রটি মানবিক।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, তাহেরা চরিত্রটি 'দুঃসাহসী নারীসত্তার প্রতীক। জীবনের প্রশ্নে সে স্বাধীনচেতা, নিজ সিদ্ধান্তে অনমনীয়। কৃতজ্ঞতাবোধ চরিত্রটিকে মানবীয় করে তুলেছে। অন্যদিকে খোদেজা চরিত্রটি সরল, ধর্মভীরু গ্রামীণ মায়ের প্রতীক। তাহেরাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিলেও বহিপীরের অধ্যাত্মশক্তির ভয়ে ভীত তিনি। কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস চরিত্রটিকে নেতিবাচক করে তুলেছে।

42
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews