ভাষাকে শৃঙ্খলিত ও মানসম্পন্ন করে তুলতে বানান নিয়ম অপরিহার্য। বাংলা ভাষায় সঠিক বানান রীতি রক্ষার জন্য ই-কার ব্যবহারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। নিচে উদাহরণসহ ৫টি মূল নিয়ম তুলে ধরা হলো:
১. ই-কার তৎসম ও অতৎসম শব্দে: তৎসম শব্দে সাধারণত ই-কার এবং ঈ-কার উভয়েরই ব্যবহার হয়। তবে অতৎসম শব্দে ই-ধ্বনির ক্ষেত্রে কেবল ই-কার ব্যবহারই যথাযথ। 🔹 উদাহরণ: পাখি, চিংড়ি, গিন্নি, কেরানি ইত্যাদি।
২. ক্রিয়াবাচক পদে ই-কার: মূল ক্রিয়া বা ক্রিয়াবাচক শব্দে ই-ধ্বনি থাকলে সেখানে সাধারণভাবে ই-কার ব্যবহৃত হয়। 🔹 উদাহরণ: চিমটানো, চিবানো, ডিঙানো, বিলানো ইত্যাদি।
৩. সংখ্যাসূচক শব্দে ই-কার: যেসব সংখ্যাবাচক শব্দে বিশেষ কোনো স্ত্রীবাচক বা বিশেষণগত রূপ নেই, সেগুলোর বানানে সাধারণত ই-কার ব্যবহৃত হয়। 🔹 উদাহরণ: তিন, বিশ, চল্লিশ, কোটি, আশি ইত্যাদি।
৪. প্রাণিবাচক অ-তৎসম শব্দে ই-কার: যেসব শব্দ প্রাণীকে বোঝায় এবং তৎসম নয়, সেগুলোর শেষে সাধারণভাবে ই-কার বসে। 🔹 উদাহরণ: জোনাকি, তিমি, হাতি, প্রজাপতি, বুলবুলি ইত্যাদি।
৫. স্ত্রীবাচক অ-তৎসম শব্দে ই-কার: তৎসম নয় এমন স্ত্রীবাচক শব্দের শেষেও সাধারণত ই-কার ব্যবহৃত হয়। 🔹 উদাহরণ: দিদি, কাকি, নানি, মাসি, বৌদি, মামি ইত্যাদি।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের রয়েছে হাজার বছরেরও বেশি দিনের গৌরবময় ইতিহাস; অথচ বাংলা বানানের ইতিহাস এখনো দুইশ বছরও হয়নি। উনিশ শতকের পূর্বে বাংলা বানানের নিয়ম বলতে তেমন কিছু ছিল না। উনিশ শতকের শুরুর দিকে যখন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত ঘটে এবং ঐ সাহিত্যের বাহন হিসেবে সাহিত্যিক গদ্যের উন্মেষ হয়, তখন বাংলা বানানের একটি নিয়ম নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখ্য যে, এই বানানের নিয়ম সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম মেনে রচনা করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিশ শতকের বিশের দশকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৩৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাংলা বানানের নিয়ম প্রবর্তিত হলেও বাংলা বানানের সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৮৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্মশালা করে ও বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে বাংলা বানানের নিয়মের একটি খসড়া প্রস্তুত করে। বিশ্বভারতী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের অনুসৃত বাংলা বানানের নিয়মের আলোকে ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমি 'প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' প্রণয়ন করে।
বাংলা একাডেমির 'প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' ভাবনা-কেন্দ্রে রেখে বাংলা বানানের প্রধান নিয়মগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
ই-কার যুক্ত শব্দ:
শব্দের শেষে জগৎ, বাচক, বিদ্যা, সভা, ত্ব, তা, নী, ণী, পরিষদ, তত্ত্ব ইত্যাদি থাকলে তার পূর্বে ঈ-কার না হয়ে সাধারণত ই-কার হয়। যেমন-