উত্তরঃ
" 'বহিপীর' নাটকে হাশেম আলিকে অস্থিরচিত্ত বলে বর্ণনা করা হলেও, সে তার অবস্থানে ছিল স্থির।" 'বহিপীর' নাটকের পট বিবেচনায় আলোচ্য মন্তব্যটি যুক্তিপূর্ণ।
'বহিপীর' নাটকের অন্যতম প্রধান চরিত্র হাশেম আলি। সে কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীরের বিপরীত চরিত্র অর্থাৎ বহিপীর চরিত্রের ধর্মব্যাবসা, কূট চক্রান্ত, বৈষয়িক বুদ্ধির বিপরীতে হাশেম আলি যুক্তিবাদী, আধুনিক ও মানবিক চরিত্র। এক অর্থে বহিপীরকে খলনায়ক হিসেবে ধরে নিলে হাশেম আলি নায়ক চরিত্রের মহিমায় উত্তীর্ণ হবে। হাশেম আলি শিক্ষিত তরুণ মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধি। বিশ শতকের সূচনায় বাংলা অঞ্চলে যে আধুনিক চিন্তাচেতনার প্রসার ঘটেছিল, 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি সেই আধুনিকতাবাদের প্রতীক চরিত্র।
হাশেম আলি জমিদারপুত্র। তবে প্রচলিত জমিদারপুত্রদের কোনো নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য তার চরিত্রে ফুটে ওঠেনি। সে উচ্চশিক্ষিত, নাটকে তাকে বিএ পাশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পৈতৃক জমিদারির প্রতি তার কোনো প্রকার আগ্রহ নেই। সে আধুনিক চিন্তাধারায় শিক্ষিত তরুণ। ছাপাখানার ব্যাবসা করে সে নিজের ও অন্য যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়।
'বহিপীর' নাটকে হাশেম আলিকে অস্থিরচিত্ত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সে যুক্তিবাদী ও আগাগোড়া আধুনিক মানুষ। বজরায় অচেনা অপরিচিত, অসহায় মেয়ে, তাহেরা আশ্রয় নেয়। হাশেম আলি তার বিপদগ্রস্ত অবস্থার কথা শুনে সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে। পঞ্চাশোর্ধ্ব বহিপীরের সঙ্গে কিশোরী তাহেরার বিয়েকে সে অনৈতিক, বে-আইনি মনে করেছে। অসহায় তাহেরাকে এ অবস্থা থেকে বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেয় হাশেম আলি। বজরার সবাই এমনকি তাহেরাও টাকা ধার দেওয়ার শর্তে বহিপীরের সঙ্গে যেতে রাজি হলেও একমাত্র হাশেম আলি সব সময় এর বিপক্ষে থেকেছে। বহিপীরের সব কূটচক্রান্তকে হাশেম অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। বহিপীরের দেখানো পুলিশের ভয়, মায়ের নিষেধ, বাবার অসহায় মুখ কোনো কিছুই তাকে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাহেরাকে সঙ্গে নিয়েই সে অনিশ্চিত অজানার পথে পা বাড়িয়েছে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, হাশেম আলি যুক্তিবাদী, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ। সামাজিক কুসংস্কার, ধর্মভীতির বিরুদ্ধে সে সর্বদা সোচ্চার। এক্ষেত্রে সে নিজের সিদ্ধান্তে সব সময় অটুট থেকেছে। তাই বলা যায় যে, 'বহিপীর' নাটকে হাশেম আলিকে অস্থিরচিত্ত বলে বর্ণনা করা হলেও সে তার অবস্থানে ছিল স্থির।