প্রাণিজগতে একমাত্র মানুষের ভাষা আছে। শরীর ও স্নায়ুবিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, ভাষা ব্যবহারের জন্য মানুষের স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক ও অন্যান্য প্রত্যঙ্গ যেভাবে তৈরি হয়েছে, অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। ভাষার সাহায্যে আমরা কথা বলি। ভাষার মাধ্যমে আমরা প্রকাশ করি আমাদের অভিজ্ঞতা, নানা ধরনের আবেগ, বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি, যেমন- হিংসা, বিদ্বেষ, ভালোলাগা ও ভালোবাসা, ঘৃণা, ক্ষোভ ইত্যাদি। ভাষার আরও কাজ রয়েছে। ভাষা আমাদের শিক্ষার মাধ্যম, ভাষার সাহায্যে আমরা অন্যের সঙ্গে তর্কবিতর্ক করি। ভাষাকে দেশগঠনের হাতিয়ার হিসেবেও গ্রহণ করা হয়। দেশগঠন বলতে দেশের ও মানুষের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বোঝায়। এই অগ্রগতি বা কল্যাণসাধন কীভাবে করা যাবে, কীভাবে দেশের মানুষের মঙ্গল করা সম্ভব- সেসব কথা ভাষার মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরতে হয়। ভাষা দুই প্রকার- (ক) মৌখিক ভাষা ও (খ) লিখিত ভাষা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভাষার প্রধান উপাদানগুলো হলো- ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও বাগর্থ। নিচে এগুলো আলোচনা করা হলো।
ক) ধ্বনি: বাতাসে আঘাতের ফলে ধ্বনির সৃষ্টি হয়। কিন্তু সব ধ্বনিই ভাষার ধ্বনি নয়। ভাষায় তাকেই ধ্বনি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে যা বাগ্যন্ত্রর সাহায্যে তৈরি হয়। বাগ্যন্ত্রের ক্ষমতা অসীম। এর সাহায্যে আমরা পশু-পাখির নানারকম ডাক ডাকতে বা অনুকরণ করতে পারি। কিন্তু এসব ভাষার ধ্বনি নয়। ভাষার ধ্বনি শুধু বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে উৎপাদিত হলে চলবে না, তাকে অবশ্যই অর্থপূর্ণ হতে হবে। পশু-পাখির ডাক কিংবা এজাতীয় কোনো ডাককে আমরা বলি আওয়াজ। ভাষার একটি ধ্বনির স্থলে আরেকটি ধ্বনি বদলে দিলে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়। যেমন- 'কাল'। এখানে ক্ ধ্বনিটি বদলিয়ে খ বললেই সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ বহন করে এমন শব্দ তৈরি হয়। যেমন-খাল, গাল, তাল, ঢাল, মাল, শাল ইত্যাদি। এভাবে আমরা ঋগ্ ম্ শ্ ধ্বনি পাই। ধ্বনির উপলব্ধি ভাষাভাষীদের মনেই রয়েছে এবং সাক্ষর ও নিরক্ষর সব মানুষই তা জানে, বোঝে ও ব্যবহার করে।
খ) শব্দ: এক বা একাধিক ধ্বনি মিলে শব্দের সৃষ্টি হয়। যেমন-মানুষ। এখানে পাঁচটি ধ্বনি আছে: ম্+ আ+ন্+উ+(ষ)। লক্ষ করো, এ-উদাহরণে শেষ ধ্বনিটি বোঝাতে তালব্য-শ লিখে প্রথম বন্ধনীতে মূর্ধন্য-ষ লেখা হয়েছে। মনে রাখতে হবে, মূর্ধন্য-ষ ধ্বনি নয়, বর্ণ।
গ) বাক্য: বাক্য বলতে কথা বা বাচনকে বোঝায়। ভাষার উপাদান হিসেবে ধরলে বাক্যের স্থান তৃতীয়। ধ্বনি দিয়ে যা শুরু হয়েছিল শব্দে এসে তা আরও সংহত হয়। বাক্যে এসে পরিপূর্ণ না হলেও সে অনেকটাই পূর্ণতা পায়। প্রতিটি বাক্যই কেউ উৎপাদন করে আর কেউ শোনে। বাক্যের সঙ্গে তাই দুজনের সম্পর্ক রয়েছে- বক্তা ও শ্রোতা। এই দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ঘাটতি থাকলে চলে না। বক্তা যা বলে তাতে শ্রোতার সব কৌতূহল মিটতে হয়। এজন্য বলা হয়: যা উক্তি হিসেবে সম্পূর্ণ এবং যাতে শ্রোতা পরিপূর্ণভাবে তৃপ্ত হয় তা-ই হলো বাক্য। যেমন- আমরা গ্রামে বাস করি। মহৎ গুণই মানুষকে বড় করে।

ঘ) বাগর্থ: অভিধানে শব্দের অর্থ থাকে। কিন্তু সেই শব্দ যখন বিশেষ পরিবেশে ব্যবহার করা হয় তখন তার অর্থ বদলে যায়। একই কথা বলা চলে বাক্য প্রসঙ্গে। আমরা শব্দের সাহায্যে যে-বাক্য তৈরি করি, তার অর্থ বাক্যে গিয়ে পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন- 'পোড়া' একটি শব্দ। এর অর্থ 'দগ্ধ হওয়া' (আগুনে তার খড়ের ঘর পুড়ে গেছে)। শব্দটি দিয়ে যখন বাক্য তৈরি করে বলা হয়: 'আমার মন পুড়ছে'- তখন এ-পোড়া' দগ্ধ হওয়া নয়। ভাষার শব্দ ও বাক্যের এসব অর্থের আলোচনাই হলো বাগর্থ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভাষা মানুষের ভাব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম নয়। এজন্য আরও কিছু মাধ্যম রয়েছে। ভাষা আবিষ্কারের পূর্বে নানারকম অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে, কখনো আবার ছবি এঁকে মানুষ নিজেকে প্রকাশ করেছে। এজন্য নানা ধরনের চিহ্ন এবং সংকেতও ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা মুখ বা চেহারার নানা ভঙ্গি করে হাসি, কান্না, বিস্ময়, জিজ্ঞাসা ইত্যাদি বোঝাতে পারি। মাথা নেড়ে হাঁ বা না বোঝাতে পারি। এজাতীয় ভাষাকে বলে অঙ্গভঙ্গির ভাষা। রাস্তায় দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশ হাতের ইশারায় গাড়ি থামায়, আবার চলার নির্দেশ দেয়। রাস্তার দুপাশে অনেক নির্দেশ থাকে-

কোন দিকে গাড়ি চলবে, কোন দিকে গাড়ি চলবে না, রাস্তা সোজা না বাঁকা, পথচারী কীভাবে রাস্তা পার হবে ইত্যাদি। যারা কথা বলতে ও শুনতে পায় না তাদের আমরা বলি মূক ও বধির। তাদের ব্যবহারের জন্য এক ধরনের ভাষা আছে। হাতের আঙুল ব্যবহার করে, কখনো আঙুল মুখে ছুঁয়ে, কখনো আবার হাত মাথায় উঠিয়ে, কখনো বুকে হাত দিয়ে তারা তাদের ভাব প্রকাশ করে। ভাষার মধ্যে এই যোগাযোগও পড়ে। একে বলে সংকেত ভাষা। ইশারা ভাষা হিসেবেও তা পরিচিত।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মাতৃভাষা অর্থ মায়ের ভাষা। অন্যভাবে বলা যায়, আমরা মায়ের কাছ থেকে যে-ভাষা শিখি তা-ই হলো আমাদের মাতৃভাষা। শিশু সব সময়ই যে মায়ের কাছ থেকে ভাষা শেখে তা নয়। কখনো কখনো এর ব্যতিক্রম ঘটে। মায়ের মতো যে শিশুকে প্রতিপালন করে কিংবা জন্মের পর থেকে যার সেবায় ও যত্নে শিশু ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে তার ভাষাই শিশু প্রথম শেখে। বাঙালি মায়ের সন্তান জন্মের পর থেকে স্প্যানিশ বা জার্মানভাষী মায়ের পরিচর্যায় বড় হলে তার প্রথম বা মাতৃভাষা কখনো বাংলা হবে না, হবে স্প্যানিশ বা জার্মান। তাই বলা হয়, শিশু প্রথম যে-ভাষা শেখে তা-ই তার প্রথম ভাষা বা মাতৃভাষা। সাধারণত দেখা যায় যে, বাঙালি মায়ের শিশুর মাতৃভাষা বাংলা, ইংরেজ মায়ের শিশুর ইংরেজি, আরবি মায়ের শিশুর আরবি, জাপানি মায়ের শিশুর জাপানি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভাষার কোনো অখণ্ড বা একক রূপ নেই। একই ভাষা নানা রূপে ব্যবহৃত হয়। ভাষার এসব রূপবৈচিত্র্য নিচে আলোচনা করা হলো।
উপভাষা
একই ভাষা যারা ব্যবহার করে তাদেরকে বলে একই ভাষাভাষী বা ভাষিক সম্প্রদায়। আমরা যারা বাংলা ভাষায় কথা বলি তারা সকলে বাংলাভাষী সম্প্রদায়ের অন্তর্গত। সকলের বাংলা আবার এক নয়। ভৌগোলিক ব্যবধান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সমাজগঠন, ধর্ম, পেশা ইত্যাদি কারণে এক এলাকার ভাষা থেকে অন্য এলাকার ভাষায় পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। ভৌগোলিক ব্যবধান বা অঞ্চল ভেদে ভাষার যে-বৈচিত্র্য তা-ই হলো উপভাষা। এ-ভাষাকে আঞ্চলিক ভাষা-ও বলা হ। আমাদের প্রতিটি জেলার ভাষাই বৈচিত্র্যপূর্ণ। আমাদের প্রত্যেক জেলার নিজস্ব উপভাষা রয়েছে। উপভাষায় কথা বলা মোটেও দোষের নয়। উপভাষা হলো মায়ের মতো। মাকে আমরা শ্রদ্ধা করি, নিজ-নিজ উপভাষাকে আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে হবে। নিচে বাংলাদেশের কয়েকটি উপভাষার পরিচয় দেওয়া হলো।
উপভাষিক এলাকা --- উপভাষার নমুনা
খুলনা-যশোর : অ্যাকজন মাশির দুটো ছাওয়াল ছিল্।
বগুড়া : অ্যাকজনের দুই ব্যাটা ছৈল আছিল্।
রংপুর : অ্যাকজন ম্যানশের দুইক্না ব্যাটা আছিলো
ঢাকা : অ্যাকজন মানশের দুইডা পোলা আছিলো।
ময়মনসিংহ : অ্যাকজনের দুই পুৎ আছিল্।
সিলেট : অ্যাক মানুশর দুই পোয়া আছিল্।
চট্টগ্রাম : এগুয়া মানশের দুয়া পোয়া আছিল্।
নোয়াখালী : অ্যাকজনের দুই হুত আছিল্।
প্রমিত ভাষা
একই ভাষার উপভাষাগুলো অনেক সময় বোধগম্য হয় না। এজন্য একটি উপভাষাকে আদর্শ ধরে সবার বোধগম্য ভাষা হিসেবে তৈরি ভাষারূপই হলো প্রমিত ভাষা। এ-ভাষার মাধ্যমে শিক্ষা, প্রশাসনিক কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পাদিত হয়। দেশের সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এ-ভাষারূপ ব্যবহার করা হয়। উপভাষা ও প্রমিত ভাষার পার্থক্য সুস্পষ্ট:
- প্রমিত ভাষার লিখিত ব্যাকরণ থাকে; উপভাষার থাকে না।
- উপভাষা শিশুকাল থেকে প্রাকৃতিক নিয়মে অর্জন করতে হয়; প্রমিত ভাষা চর্চা করে শিখতে হয়।
- প্রমিত ভাষা শেখার বিষয়; উপভাষা অর্জনের বিষয়।
কথ্যভাষা
শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন, কিংবা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে আমরা বক্তব্য উপস্থাপন করি তখন ভাষা ব্যবহারে সচেতনতা দেখা যায়। তাই বিশেষ পরিবেশ ও প্রয়োজনের বাইরে যখন ভাষা ব্যবহার করা হয় তাকে কথ্যভাষা বলে। অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে বন্ধু কিংবা সহকর্মী বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ-ভাষারূপ ব্যবহার করা হয়।
সাধু ও চলিতভাষা
মানুষ যে ভাষায় কথা বলে সেই ভাষারূপ লিখিত ভাষায় গ্রহণ করা হয় না। মুখের ভাষা স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত হলেও লিখিত ভাষা সে-তুলনায় আড়ষ্ট ও কৃত্রিম। বাংলা লিখিত ভাষা যখন উদ্ভাবিত হয়, তখন উদ্ভাবকরা সেভাবেই বাংলা গদ্যের ভাষাকে তৈরি করেছিলেন। এ-ভাষাই সাধুভাষা বা সাধুরীতি হিসেবে পরিচিত। উল্লেখ করা যায় যে, সাধুভাষার সৃষ্টিতে যাঁরা নিয়োজিত ছিলেন, তাঁরা বাংলা ভাষী হলেও লোকজ মানুষের ভাষারীতিতে শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না। তাঁরা সংস্কৃত ভাষার পণ্ডিত ছিলেন। ফলে সেই ভাষার আদলে তাঁরা ভাষার এই রীতি তৈরি করেন। সব পণ্ডিতই যে এ-আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন তা নয়। কিন্তু তাঁদের সে-প্রচেষ্টা পরবর্তীকালে গ্রহণীয় হয় নি। সাধুভাষার পরিচয় গ্রহণ করলে দেখা যায় যে, এ-ভাষায় বেশি পরিমাণে সংস্কৃত শব্দই শুধু নেই, সংস্কৃত ব্যাকরণের বিভিন্ন বিষয় গৃহীত হয়েছে। প্রথম দিকের সাধুভাষা ছিল আড়ষ্ট। এ-ভাষা প্রাঞ্জল হয়ে উঠতে অনেক দিন লেগেছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই প্রথম এ কাজ করেন। এজন্য তাঁকে বাংলা সাধুভাষার জনক বলা হয়। নিচে সাধুভাষার উদাহরণ দেওয়া হলো:
নদীতে স্নান করিবার সময় রাজদত্ত অঙ্গুরীয় শকুন্তলার অঞ্চলকোণ হইতে সলিলে পতিত হইয়াছিল। পতিত হইবামাত্র এক অতিবৃহৎ রোহিত মৎস্যে গ্রাস করে। সেই মৎস্য, কতিপয় দিবস পর, এক ধীবরের জালে পতিত হইল। ধীবর, খণ্ড খণ্ড বিক্রয় করিবার মানসে, ঐ মৎস্যকে বহু অংশে বিভক্ত করিতে করিতে তদীয় উদরমধ্যে অঙ্গুরীয় দেখিতে পাইল। ঐ অঙ্গুরীয় লইয়া, পরম উল্লসিত মনে, সে এক মণিকারের আপণে বিক্রয় করিতে গেল। [ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: শকুন্তলা]
সাধুভাষার তুলনায় চলিতভাষা বা চলিতরীতি নবীন। সব ধরনের কৃত্রিমতা থেকে লিখিত বাংলা ভাষাকে মুক্ত করাই চলিতভাষা সৃষ্টির প্রেরণা। এ-ভাষা জীবনঘনিষ্ঠ, আমাদের প্রতিদিনের মুখের ভাষার কাছাকাছি। কোনো কষ্টকল্পনা এতে স্থান পায় না। এ-ভাষারীতির শব্দসমূহ স্বভাবতই আমাদের পরিচিত। বাংলা প্রবাদ-প্রবচন খুব সহজে এ-ভাষায় ব্যবহার করা যায়। নিচে বাংলা চলিতরীতির উদাহরণ তুলে ধরা হলো:
সাহিত্যের সহজ অর্থ যা বুঝি সে হচ্ছে নৈকট্য, অর্থাৎ সম্মিলন। মানুষ মিলিত হয় নানা প্রয়োজনে, আবার মানুষ মিলিত হয় কেবল মেলারই জন্যে, অর্থাৎ সাহিত্যেরই উদ্দেশে। শাকসবজির খেতের সঙ্গে মানুষের যোগ ফসল-ফলানোর যোগ। ফুলের বাগানের সঙ্গে যোগ সম্পূর্ণ পৃথক জাতের। সবজি খেতের শেষ উদ্দেশ্য খেতের বাইরে, সে হচ্ছে ভোজ্যসংগ্রহ। ফুলের বাগানের যে-উদ্দেশ্য তাকে এক হিসাবে সাহিত্য বলা যেতে পারে। অর্থাৎ, মন তার সঙ্গে মিলতে চায়- সেখানে গিয়ে বসি, সেখানে বেড়াই, সেখানকার সঙ্গে যোগে মন খুশি হয়। [রবীন্দ্রনাথ: সাহিত্যের তাৎপর্য]
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
ঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ন (√) দাও:
১। প্রাণিজগতে একমাত্র কাদের ভাষা আছে?
ক. পাখির
খ. পশুর
গ. মানুষের
ঘ. সবার
২। ভাষা ব্যবহারের জন্য অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় মানুষ ব্যতিক্রম যে দিক থেকে তা হলো-
i. স্নায়ুতন্ত্র
ii. মস্তিষ্ক
iii. মানুষের অন্যান্য প্রত্যঙ্গ
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৩। ভাষার মাধ্যমে আমরা যে ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করি তা হলো-
i. হিংসা-বিদ্বেষ
ii. ভালোলাগা-ভালোবাসা
iii. ঘৃণা, ক্ষোভ
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৪। ভাষাকে দেশগঠনের কী হিসেবে গ্রহণ করা হয়?
ক. মাধ্যম
খ. হাতিয়ার
গ. অঙ্গ
ঘ. বাহক
৫। ভাষা কত প্রকার?
ক. ১
খ. ২
গ. ৩
ঘ. ৪
৬। যেসব ভাষা লেখার ব্যবস্থা নেই সেগুলোকে কী বলে?
ক. মৌখিক ভাষা
খ. লিখিত ভাষা
গ. ইশারা ভাষা
ঘ. সব কটি
৭। কোন ভাষার সীমাবদ্ধতা আছে?
ক. লিখিত ভাষার
খ. ইশারা ভাষার
গ. মৌখিক ভাষার
ঘ. সব কটি
৮। ভাষার লিখনব্যবস্থা-
i. বর্ণভিত্তিক
ii. অক্ষরভিত্তিক
iii. ভাবাত্মক
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৯। যে ভাষার বর্ণ রয়েছে সেগুলো হলো-
i. ইংরেজি
ii. বাংলা
iii. তামিল
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
১০। অক্ষর কী?
ক. বর্ণ
খ. ধ্বনি
গ. বাক্য
ঘ. কথার টুকরো অংশ
১১। উচ্চারণের একক কী?
ক. বর্ণ
খ. ধ্বনি
গ. অক্ষর
ঘ. শব্দ
১২। অক্ষর অনুযায়ী যেসব ভাষা লেখার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাকে কোন ধরনের লিখনরীতি বলে?
ক. বর্ণভিত্তিক
খ. অক্ষরভিত্তিক
গ. ভাবাত্মক
ঘ. ভাষাভিত্তিক
১৩। ভাষার প্রধান উপাদান কয়টি?
ক. ১
খ. ২
গ. ৩
ঘ. ৪
১৪। কোনটি ভাষার উপাদান নয়?
ক. বাগধ্বনি
খ. বাগর্থ
গ. আওয়াজ
গ. আওয়াজ
ঘ. বাক্য
১৫। পশু-পাখির ডাককে কী বলে?
ক. ধ্বনি
খ. ভাষা
ঘ. সংকেত
১৬। এক বা একাধিক ধ্বনি মিলে কোনো অর্থ প্রকাশ করলে তাকে কী বলে?
ক. আওয়াজ
খ. শব্দ
গ. ধ্বনি
ঘ. ভাষা
১৭। বাক্য বলতে বোঝায়-
i. কথা
ii. বাচন
iii. অর্থবোধক শব্দ
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
১৮। ভাষার উপাদান হিসেবে ধরলে বাক্যের স্থান কততম?
ক. প্রথম
খ. দ্বিতীয়
গ. তৃতীয়
ঘ. চতুর্থ
১৯। বাক্যের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে-
i. বক্তার
ii. শ্রোতার
iii. দর্শকের
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
২০। ভাষার শব্দ ও বাক্যের অর্থের আলোচনাকে কী বলে?
ক. ধ্বনি
খ. শব্দ
গ. বাক্য
ঘ. বাগর্থ
২১। অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে, ছবি এঁকে, নানা ধরনের চিহ্ন ও সংকেত ব্যবহার করে মনের ভাব প্রকাশ করাকে কী ভাষা বলে?
ক. অঙ্গভঙ্গির ভাষা
খ. ভাব-বিনিময়ের ভাষা
গ. চোখের ভাষা
ঘ. বর্ণনার ভাষা
২২। সংকেত ভাষা প্রকাশ করা হয়-
i. আঙুল মুখে ছুঁয়ে
ii. হাত মাথায় উঠিয়ে
iii. বুকে হাত দিয়ে
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
২৩। সংকেত ভাষার অপর নাম কী?
ক. চোখের ভাষা
খ. ভাব-বিনিময়ের ভাষা
গ. ইশারা ভাষা
ঘ. বর্ণনার ভাষা
২৪। মাতৃভাষা হলো-
i. মায়ের কাছ থেকে শেখা ভাষা
ii. মায়ের মতো যে শিশুকে প্রতিপালন করে তার কাছ থেকে শেখা ভাষা
iii. জন্মের পর থেকে যার সেবা ও যত্নে শিশু ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে তার কাছ থেকে শেখা ভাষা
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
২৫। শিশু প্রথম যে-ভাষা শেখে তাকে বলে-
i. প্রথম ভাষা
ii. মাতৃভাষা
iii. বিদেশি ভাষা
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
২৬। ভৌগোলিক ব্যবধানের কারণে সৃষ্ট ভাষার রূপবৈচিত্র্যকে বলা হয়-
i. উপভাষা
ii. প্রমিত ভাষা
iii. কথ্যভাষা
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
২৭। ভৌগোলিক ব্যবধান বা অঞ্চলভেদে ভাষার যে-বৈচিত্র্য তাকে কী ভাষা বলে?
ক. কথ্যভাষা
খ. উপভাষা
গ. প্রমিত ভাষা
ঘ. ব্যক্তিভাষা
২৮। উপভাষার আরেক নাম কী?
ক. আঞ্চলিক ভাষা
খ. কথ্যভাষা
গ. ব্যক্তিভাষা
ঘ. প্রমিত ভাষা
২৯। একটি উপভাষাকে আদর্শ ধরে সবার বোধগম্য ভাষা হিসেবে তৈরি ভাষারূপকে কী বলে?
ক. ব্যক্তিভাষা
খ. কথ্যভাষা
গ. উপভাষা
ঘ. প্রমিত ভাষা
৩০। প্রমিত ভাষার অপর নাম কী?
ক. ব্যক্তিভাষা
খ. সামাজিক ভাষা
গ. উপভাষা
ঘ. কথ্যভাষা
৩১। বিশেষ পরিবেশ ও প্রয়োজনের বাইরে যখন ভাষা ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে কী ভাষা বলে?
ক. প্রমিত ভাষা
খ. সামাজিক ভাষা
গ. উপভাষা
ঘ. কথ্যভাষা
৩২। ব্যক্তির নিজস্ব পরিচয় যে-ভাষারূপের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তাকে কী ভাষা বলে?
ক. প্রমিত ভাষা
খ. ব্যক্তিভাষা
গ. উপভাষা
ঘ. কথ্যভাষা
৩৩। সমাজের কোনো বিশেষ শ্রেণির ভাষাকে কী ভাষা বলে?
ক. প্রমিত ভাষা
খ. সামাজিক ভাষা
গ. উপভাষা
ঘ. কথ্যভাষা
৩৪। সামাজিক ভাষা কত প্রকার?
ক. ২ প্রকার
খ. ৩ প্রকার
গ. ৪ প্রকার
ঘ. ৫ প্রকার
৩৫। অভিজাতদের ভাষাকে কী ভাষা বলে?
ক উচ্চশ্রেণিৰ ভাষা
খ উচ্চ ভাষা
গ অভিজাত ভাষা
ঘ সম্ভ্রান্ত শ্রেণির ভাষা
৩৬। সামাজিক সুযোগ-সুবিধা যারা কম লাভ করেছে, শিক্ষাদীক্ষার সুযোগ যারা তেমন পায়নি, যারা নিরক্ষর, আর্থিক দিক থেকে তেমন সচ্ছল নয়- তাদের ভাষাকে কী ভাষা বলে?
ক. নিম্নভাষা
খ. নিম্নশ্রেণির ভাষা
গ. অশিষ্টজনের ভাষা
ঘ. সাধারণের ভাষা
৩৭। সমাজের কোনো বিশেষ পেশার মানুষের ভাষাবৈচিত্র্যকে কী ভাষা বলে?
ক. প্রমিত ভাষা
খ. সামাজিক ভাষা
গ. উপভাষা
ঘ. পেশাগত ভাষা
৩৮। মাতৃভাষা ছাড়া অন্য যেকোনো ভাষাকে বলা হয়-
i. দ্বিতীয় ভাষা
ii. তৃতীয় ভাষা
iii. বিদেশি ভাষা
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i ও iii
৩৯। বাংলা লিখিত ভাষা যখন উদ্ভাবিত হয় তখন উদ্ভাবকরা বাংলা গদ্যের ভাষাকে যে রূপ দিয়েছিলেন, তাকে কী বলে?
ক. লেখার ভাষা
খ. সাধুভাষা
গ. চলিতভাষা
ঘ. প্রমিত ভাষা
ধ্বনির উচ্চারণে মানবশরীরের যেসব প্রত্যঙ্গ জড়িত সেগুলোকে একত্রে বাগ্যন্ত্র বা বাকপ্রত্যঙ্গ বলে। আমাদের শরীরের উপরের প্রত্যঙ্গগুলো বাগ্যন্ত্র হিসেবে পরিচিত। এগুলোর প্রধান কাজ দুটি- (ক) শ্বাসকার্য পরিচালনা করা এবং (খ) খাদ্য গ্রহণ করা। কিন্তু এসব প্রয়োজন সিদ্ধ করেও বাগ্যন্ত্র মানুষের ভাষিক কাজ করে থাকে। বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে আমরা ধ্বনি উৎপাদন করি। বাগ্যন্ত্রের এলাকা বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে ফসুফুস, শ্বাসনালি, স্বরযন্ত্র, স্বরতন্ত্র, জিভ, ঠোঁট, নিচের চোয়াল, দাঁত তালু ও গলনালি। এ ছাড়াও রয়েছে মধ্যচ্ছদা ও চিবুক।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
যে-বাগধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস-আগত বাতাস মুখের মধ্যে কোনোভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয় না, সেগুলোই হলো স্বরধ্বনি। যেমন- অ, আ, ই, উ। কিছু স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস বাধাহীনভাবে একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হয়। যেমন- আঁ, ইঁ, এঁ, ওঁ ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
স্বরধ্বনির উচ্চারণে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলো জিভের উচ্চতা, জিভের অবস্থান ও ঠোঁটের আকৃতি। এ ছাড়া আরও একটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হয়, তা হলো কোমল তালুর অবস্থা। কোমল তালুর অবস্থা অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলোকে মৌখিক ও অনুনাসিক স্বরধ্বনি হিসেবে উচ্চারণ করতে হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জিভের যে-অংশের সাহায্যে স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেই অংশকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরধ্বনিগুলোকে যথাক্রমে (ক) সম্মুখ, (খ) মধ্য ও (গ) পশ্চাৎ ধ্বনি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ক) সম্মুখ স্বরধ্বনি: জিভের সামনের অংশের সাহায্যে উচ্চারিত স্বরধ্বনিগুলো হলো সম্মুখ স্বরধ্বনি। ই, এ, অ্যা স্বর এজাতীয়।
খ) মধ্য-স্বরধ্বনি: জিভ স্বাভাবিক অবস্থায় থেকে অর্থাৎ, সামনে কিংবা পেছনে না-সরে যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেগুলো হলো মধ্য-স্বরধ্বনি। আ স্বরধ্বনি এ-শ্রেণির।
গ) পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: এজাতীয় স্বরধ্বনিগুলো জিভের পেছনের অংশের সাহায্যে উচ্চারণ করতে হয়। যেমন- অ, ও, উ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জিভের উচ্চতা অনুসারে স্বরধ্বনিগুলোকে (ক) উচ্চ, (খ) নিম্ন, (গ) উচ্চ-মধ্য ও (ঘ) নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি হিসেবে নির্দেশ করা হয়।
ক) উচ্চ-স্বরধ্বনি: এগুলোর উচ্চারণের সময় জিভ সবচেয়ে উপরে ওঠে। যেমন- ই, উ।
খ) নিম্ন-স্বরধ্বনি: জিভ সবচেয়ে নিচে অবস্থান করে এসব স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়। আ, এ এ-শ্রেণির ধ্বনির দৃষ্টান্ত।
গ) উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি: এজাতীয় স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ নিম্ন-স্বরধ্বনির তুলনায় উপরে এবং উচ্চ-স্বরধ্বনির তুলনায় নিচে থাকে। যেমন- এ, ও।
ঘ) নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি: এসব স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনির তুলনায় নিচে এবং নিম্ন-স্বরধ্বনি থেকে উপরে ওঠে। যেমন- অ্যা, ও।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ঠোঁটের অবস্থা অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলোর উচ্চারণে দু-ধরনের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়- ঠোঁট গোলাকৃত অথবা অগোলাকৃত অবস্থায় থাকতে পারে। ঠোঁটের এইসব অবস্থাভেদে স্বরধ্বনিগুলোকে গোলাকৃত ও অগোলাকৃত স্বরধ্বনি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট গোলাকৃত হয়, সেই স্বরধ্বনিগুলোই হলো গোলাকৃত স্বরধ্বনি। যেমন- অ, ও, উ। অন্যদিকে যেসব স্বরধ্বনির উচ্চারণে ঠোঁট গোল না-হয়ে বিস্তৃত অবস্থায় থাকে, সেগুলোই হলো অগোলাকৃত স্বরধ্বনি। যেমন- ই, এ, অ্যা।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বিশ্বের বহু ভাষায় একই স্বরধ্বনির দুটি উপলব্ধি আছে। উচ্চারণকালে কিছু স্বরধ্বনি স্বল্পকাল স্থায়ী হয়, সে-তুলনায় অন্যগুলো অধিক সময় স্থায়ী হয়। দীর্ঘস্বর উচ্চারণের সময় আরও দুটি দিক খেয়াল করতে হবে- (ক) নিচের চোয়ালের মাংসপেশিতে বেশি চাপ পড়বে এবং (খ) মুখ দিয়ে হ্রস্ব স্বরের তুলনায় অধিক বাতাস বের হবে। স্বরের হ্রস্ব-দীর্ঘ উচ্চারণভেদে দুটি ভিন্ন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়। যেমন- ইংরেজি bit ও beat শব্দের উচ্চারণ। প্রথম শব্দের ই-ধ্বনি হ্রস্ব (i) আর দ্বিতীয় শব্দের ই দীর্ঘ (i) এবং এই দুই স্বর উচ্চারণের কারণে ইংরেজিতে দুটি ভিন্ন অর্থবাহী শব্দ তৈরি হয়েছে।
বাংলা ভাষার সব স্বরই হ্রস্ব; কিন্তু আমাদের লিখিত ভাষায় কিছু দীর্ঘ বর্ণ রয়েছে। আমরা লিখি 'নদী', 'তরী' ইত্যাদি। এসব শব্দের স্বরের দীর্ঘ উচ্চারণ হয়তো করা যায়, কিন্তু তাতে দুটি ভিন্ন অর্থবাহী শব্দ তৈরি হয় না। অর্থাৎ লিখিত ভাষায় যা-ই থাকুক, আমাদের সব স্বরই হ্রস্ব।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মৌখিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস কেবল মুখ দিয়ে আর অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হয়। জানা দরকার, কীভাবে বাতাস কখনো মুখ, এবং কখনো নাক ও মুখ দিয়ে একসঙ্গে বের হয়। আমাদের মুখের উপরে রয়েছে তালু। এটি দেখতে অনেকটা গম্বুজ-আকৃতির। এই তালুর সামনের অংশ শক্ত কিন্তু পেছনের অংশ নরম। বোঝাই যাচ্ছে যে, শক্ত প্রত্যঙ্গ স্থির, তা নড়াচড়া করতে পারে না। সে-ক্ষমতা আছে কেবল নরম অংশের। নরম বলেই তালুর পেছনের অংশকে বলে কোমল তালু। এ-তালুকে আমরা উপরে ওঠাতে পারি আবার নিচে নামাতে পারি। মৌখিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় তা উপরে উঠে গিয়ে নাক দিয়ে বাতাস বেরোনোর পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় কোমল তালু নিচে নেমে যায়। এটি তখন এমন অবস্থায় থাকে যে, বাতাস একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হতে পারে। এভাবে উচ্চারিত স্বরধ্বনিগুলোই হলো অনুনাসিক স্বরধ্বনি। বাতাস বের হওয়ার এই দুই ধরন অনুসারে স্বরধ্বনিগুলোকে ভাগ করা হয়েছে মৌখিক ও অনুনাসিক স্বরধ্বনি হিসেবে। মৌখিক স্বরের অনুনাসিক উচ্চারণ হলে শব্দের অর্থ বদলে যাবে। বাংলা মৌখিক স্বরধ্বনি সাতটি, অনুনাসিক স্বরধ্বনিও সাতটি। নিচের সারণিতে মৌখিক ও অনুনাসিক
স্বরধ্বনিগুলো উল্লেখ করা হলো:
সারণি-০১: বাংলা মৌখিক ও অনুনাসিক স্বরধ্বনির তালিকা

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
যেসব বাগধ্বনি উচ্চারণে ফুসফুস আগত বাতাস মুখের মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ বা রুদ্ধ হয় অথবা আংশিকভাবে বন্ধ হয় কিংবা সংকীর্ণ পথে বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার সময় ঘর্ষণের সৃষ্টি করে সেগুলোই হলো ব্যঞ্জনধ্বনি। কিছু ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস প্রথমে মুখের মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়, তারপর কেবল নাক দিয়ে বেরিয়ে যায়। যেমন- প্ ক্ ল্ শ্ ম্ ন্ ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে দুটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল করতে হয়। এগুলো হলো ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান ও উচ্চারণরীতি। যে বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে ধ্বনি উচ্চারিত হয় তা-ই উচ্চারণস্থান। উচ্চারণরীতি বলতে কীভাবে ধ্বনিটি উচ্চারণ করা হয় তাকে বোঝায়। অর্থাৎ ফুসফুস থেকে আগত বাতাস মুখের মধ্যে বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে কীভাবে বাধা পায় সে-সম্পর্কিত ধারণা স্পষ্ট না হলে ধ্বনির প্রকৃত উচ্চারণ সম্ভব নয়। উচ্চারণরীতি আমাদের সে-ধারণা দান করে।
উচ্চারণস্থান অনুসারে বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে দ্বি-ওষ্ঠ্য, দন্ত্য, দন্তমূলীয়, প্রতিবেষ্টিত, দন্তমূলীয়, তালব্য, জিহ্বামূলীয় ও কণ্ঠনালীয় ধ্বনি হিসেবে দেখানো হয়।

দ্বি-ওষ্ঠ্য: দুই ঠোঁট অর্থাৎ উপরের ও নিচের ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিগুলো হলো দ্বি-ওষ্ঠ্য। তাপ, লাফ, নাম শব্দের প্, ফ্, ম্ এ-শ্রেণি ধ্বনি।
দন্ত্য: জিভের সামনের অংশ দ্বারা উপরের পাটি দাঁতের নিচের অংশকে স্পর্শ করে দন্ত্য ধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়। বাংলা মত, পথ, পদ, সাধ শব্দের ত্, থ্, দ্,ধ্ ধ্বনিগুলো এ জাতীয়।
দন্তমূলীয়: জিভের সামনের অংশ ও উপরের পাটি দাঁতের মূল বা নিচের অংশের সাহায্যে দন্তমূলীয় ধ্বনি উচ্চারিত হয়। কাসতে, দান, ঘর, দল শব্দের স্, ন্, র্, ল্ ব্যঞ্জন এ-শ্রেণির। ন্ ধ্বনিকে দন্ত্য-ন এবং স্ ধ্বনিকে দন্ত্য-স হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এ দুটি ধ্বনির উচ্চারণে কোনোক্রমেই দাঁতের স্পর্শ নেই। আমরা 'কান' শব্দ উচ্চারণ করলেই তা বুঝতে পারি। শব্দটি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ উপরের পাটি দাঁতের মূলকে স্পর্শ করে। একইভাবে 'বস্তা' কিংবা 'রাস্তা' শব্দের স্ উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ উপরের পাটি দাঁতের মূলের খুব কাছাকাছি আসে। সে-হিসেবে নৃ এবং স্ ব্যঞ্জনকে দন্ত্যমূলীয়-ন, দন্তমূলীয়-স বলাই বিজ্ঞানসম্মত।
তালব্য-দন্তমূলীয়: জিভের সামনের অংশ উপরের শক্ত তালু স্পর্শ করে তালব্য-দন্তমূলীয় ধ্বনি উচ্চারিত হয়। যেমন- টাক, কাঠ, ডাল, ঢাকা শব্দের ট্, ঠ, ড্, চ্ ধ্বনি।
তালব্য: জিভ প্রসারিত হয়ে সামনের অংশ শক্ত তালু স্পর্শ করে উচ্চারিত ধ্বনিগুলো হলো তালব্য। পচন, ছলনা, জাগরণ, ঝংকার, বাঁশ্ শব্দের চ্, ছ্, জ্, ঝ্, শ্ ধ্বনি তালব্য।
জিহ্বামূলীয়: জিভের পেছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের মূলের কাছাকাছি নরম তালু স্পর্শ করে জিহ্বামূলীয় ব্যঞ্জন উচ্চারিত হয়। কাক্, লাখ, দাগ, গগন, বাঘ, রঙ শব্দের ক্, খ্, গ্, ঘ্, ঙ্ ধ্বনি এ-জাতীয়। এ ধ্বনিগুলোকে কণ্ঠ্য ধ্বনিও বলে।
কণ্ঠনালীয়: কণ্ঠনালির মধ্যে ধ্বনিবাহী বাতাস বাধা পেয়ে উচ্চারিত ধ্বনিগুলোই কণ্ঠনালীয়। এজাতীয় বাংলা ব্যঞ্জন মাত্র একটি-হ্।
সারণি-০২: উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির তালিকা

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রতিটি ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সঙ্গে দুটি বাগযন্ত্র জড়িত থাকে। একটি সক্রিয় এবং অন্যটি নিষ্ক্রিয়। যে বাগ্যন্ত্র সচল, অর্থাৎ যাকে আমরা ইচ্ছে মতো উপরে ওঠাতে বা নিচে নামাতে পারি, তাকে বলি সচল বাকপ্রত্যঙ্গ বা সক্রিয় উচ্চারক; আর যে-বাকপ্রত্যঙ্গ স্থির, অর্থাৎ নড়াচড়া করে না, তাকে বলি নিষ্ক্রিয় বাকপ্রত্যঙ্গ বা নিষ্ক্রিয় উচ্চারক। নিচে সারণিতে বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোর উচ্চারণস্থান অনুযায়ী সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় উচ্চারকের পরিচয় দেওয়া হলো।
| উচ্চারণস্থান | সক্রিয় উচ্চারক | নিষ্ক্রিয় উচ্চারক |
| দ্বি-ওষ্ঠ্য | নিচের ঠোঁট | উপরের ঠোঁট |
| দন্ত্য | জিভের ডগা | উপরের পাটির দাঁত |
| দন্তমূলীয় | জিভের ডগা | দন্তমূল |
| তালব্য-দন্তমূলীয় | জিভের পাতা | দন্তমূলের পেছনের অংশ |
| তালব্য | জিভের সামনের অংশ | শক্ত তালু |
| জিহ্বামূলীয় | জিভের পেছনের অংশ | কোমল তালু জিভের পেছনের অংশ যা আলজিভের নিচে রয়েছে। |
| কণ্ঠনালীয় | স্বরতন্ত্র | - |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বিভিন্ন রকম বাগধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট, জিভ, জিহ্বামূল বিভিন্ন অবস্থান ও আকৃতি ধারণ করে। এসব বাক-প্রত্যঙ্গের আলোকে ধ্বনিবিচারের প্রক্রিয়াই উচ্চারণরীতি হিসেবে পরিচিত। অন্যভাবে বলা যায়, বায়ুপ্রবাহ কীভাবে বিভিন্ন বাকপ্রত্যঙ্গে বাধাপ্রাপ্ত হয়, তা-ই হলো উচ্চারণরীতি। বায়ুপ্রবাহের এই বাধার প্রকৃতি বিচার করে, অর্থাৎ উচ্চারণরীতি অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে (১) স্পৃষ্ট/স্পর্শ, (২) ঘর্ষণজাত (৩) কম্পিত, (৪) তাড়িত, (৫) পার্শ্বিক ও নৈকট্যমুলক ধ্বনি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিচে এগুলো আলোচনা করা হলো।
১. স্পৃষ্ট/স্পর্শ: মুখের মধ্যে ফুসফুস-আগত বাতাস প্রথমে কিছুক্ষণের জন্য সম্পূর্ণ রুদ্ধ বা বন্ধ হয় এবং এরপর মুখ দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে উচ্চারিত ধ্বনিগুলোই হলো স্পষ্ট। যেমন- বক্ শব্দের ক্, পাট শব্দের ট্। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী স্পৃষ্ট ধ্বনিগুলো এভাবে দেখানো যায়:
ওষ্ঠ্য: প্, ফ্, ব্, ভ্
দন্ত্য: ত্, থ্, দ্, ধ্
তালব্য-দন্তমূলীয়: ট্, ঠ্, ড্, ঢ্
তালব্য: চ্, ছ্, জ্, ঝ্
জিহ্বামূলীয়: ক্, খ্, গ্, ঘ্
২. নাসিক্য: যেসব ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময় বাতাস কেবল নাক দিয়ে বের হয়, সেগুলো হলো নাসিক্য ব্যঞ্জন। যেমন- আম, ধান, ব্যাঙ (ব্যাং) শব্দের ম্, ন্, ভ্। উচ্চারণস্থান অনুসারে নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো:
দ্বি-ওষ্ঠ্য : ম্
দন্তমূলীয় : ন্
জিহ্বামূলীয় :ঙ্
৩. ঘর্ষণজাত: এজাতীয় বাধ্বনি উচ্চারণে বাগ্যন্ত্র দুটি খুব কাছাকাছি আসে; কিন্তু একসঙ্গে যুক্ত না- হওয়ায় একটি প্রায়-বদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে ফুসফুস-আগত বাতাস বাধা পায় ও সংকীর্ণ পথে বের হওয়ার সময় ঘর্ষণের সৃষ্টি করে। বাতাসের ঘর্ষণের ফলে উচ্চারিত হয় বলে এগুলোকে ঘর্ষণজাত ধ্বনি বলে। এই ঘর্ষণকে শিস দেওয়ার আওয়াজের সদৃশ ভেবে এগুলোকে শিসধ্বনি-ও বলে। বাংলা ঘর্ষণজাত ব্যঞ্জন তিনটি- স্, শ্ এবং হ্। আসমান, দাশ, হাট শব্দের উচ্চারণে আমরা এই ধ্বনিগুলো পাই। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এই তিনটি ঘর্ষণজাত ধ্বনিকে এভাবে দেখানো যায়:
দন্তমূলীয় : স্
তালব্য : শ্
কণ্ঠনালীয় : হ্
৪. কম্পিত : জিভ কম্পিত হয়ে উচ্চারিত হয় বলে এজাতীয় ধ্বনিগুলোকে এ-পরিচয়ে চিহ্নিত করা হয়। বাংলা ভাষায় এ-শ্রেণির ধ্বনি মাত্র একটি র্।
৫. তাড়িত: এজাতীয় ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ উলটে গিয়ে উপরের পাটি দাঁতের মূলে একটিমাত্র টোকা দেয়। সে-হিসেবে এগুলোকে টোকাজাত ধ্বনিও বলে। বাংলা বড়, গাঢ় শব্দের ড়্, ঢ়্ ধ্বনি তাড়িত।
৬. পার্শ্বিক: এজাতীয় ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জিভের পেছনের এক পাশ বা দু-পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং জিভ দাঁত অথবা দন্তমূলে অবস্থান করে। তাল্, শাল, দল প্রভৃতি শব্দে আমরা যে ল্ ধ্বনি শুনি তা পার্শ্বিক ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আমাদের গলার মধ্যে একটি বাকপ্রত্যঙ্গ আছে। একে বলে স্বরযন্ত্র। স্বরযন্ত্রের ভেতরে আরও দুটি প্রত্যঙ্গ রয়েছে- স্বররন্ধ্র ও স্বরতন্ত্র। কিছু বাধ্বনি উচ্চারণের সময় শেষের বাকপ্রত্যঙ্গটি, অর্থাৎ স্বরতন্ত্র কম্পিত হয়। স্বরতন্ত্রের কম্পনের ফলে উচ্চারিত ধ্বনিই হলো ঘোষ। স্বরধ্বনি সাধারণত ঘোষ হয়। কিন্তু ব্যঞ্জনধ্বনির ক্ষেত্রে কখনো-কখনো ব্যতিক্রম ঘটে। কিছু ব্যঞ্জন উচ্চারণে স্বরতন্ত্র কম্পিত হয়। এগুলো হলো ঘোষ ব্যঞ্জন। আর যেগুলোর উচ্চারণে স্বরতন্ত্র কম্পিত হয় না, সেগুলো হলো অঘোষ ব্যঞ্জন।
স্বরতন্ত্রের কম্পন অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে এভাবে উল্লেখ করা যায়-
অঘোষ: ক্ খ্ চ্ ছ্ ত্ থ্ প্ ফ্;
ঘোষ: গ্ ঙ্ জ্ ঝ্ ড্ ঢ্ দ্ ধ্ ন্ ব্ ভ্ ম্ র্ ল্ ড্ ঢ্ হ্,।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
যে-ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে মুখ দিয়ে অধিক বাতাস বের হয় ও নিচের চোয়ালের মাংসপেশিতে বেশি চাপ পড়ে সেগুলোই হলো মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন। এজাতীয় ধ্বনিগুলোকে অনেকে 'হ-কার জাতীয় ধ্বনি' বলেছেন। মহাপ্রাণ ধ্বনির বিপরীত ধ্বনিগুলোই হলো অল্পপ্রাণ। অর্থাৎ এসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখ দিয়ে কম বাতাস বের হয় এবং নিচের চোয়ালের মাংসপেশিতে কম পড়ে। প্ এবং ফ্ ধ্বনি পরপর উচ্চারণ করলেই বোঝা যায় যে, পৃ উচ্চারণকালে মুখ দিয়ে কম বাতাস বের হয় ও নিচের মাংসপেশিতে কম চাপ পড়ে। এখন মুখগহ্বরের সামনে হাত রেখে ফ্ উচ্চারণ করলে স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, ধ্বনিটি উচ্চারণের সময় মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বাতাসের পরিমাণ আগের তুলনায় বেশি এবং নিচের চোয়ালের মাংসপেশিতে অধিক চাপ প্রয়োগ করতে হচ্ছে।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি সাতটি। এগুলো হলো: ই, এ, অ্যা, আ, অ, উ, ও। এই সাতটি স্বরেরই সাতটি অনুনাসিক উপলব্ধি বা রূপ আছে। এগুলো হলো ইঁ, এঁ, অ্যাঁ, আঁ, অঁ, উঁ, ওঁ। মনে রাখতে হবে যে, মৌখিক স্বরের অনুনাসিক উচ্চারণ করলে দুটি ভিন্ন অর্থবাহী শব্দ তৈরি হবে। যেমন- 'বাধা' ও 'বাঁধা'। বাংলা মৌলিক ও অনুনাসিক স্বরধ্বনি মিলে স্বরধ্বনি ১৪টি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলা স্বরবর্ণ ১১টি। এগুলো হলো:
অ আ ই ঈ
উ উ ঋ
এ ঐ ও ঔ
এগুলোর কয়েকটি ধ্বনি নয়। আমরা আগেই বলেছি যে, বাংলায় কোনো দীর্ঘস্বর নেই। সে-হিসেবে ঈ, ঊ ধ্বনি নয়। একই কথা খাটে ঋ, ঐ, ঔ-এর বেলায়। ঋ বললে দুটি ধ্বনির উচ্চারণ আসে র্ + ই (রি); অনুরূপভাবে ঐ-তে আসে ও ই এবং ঔ-তে আসে ও উ। এগুলোকে বলা যায় দ্বৈতবর্ণ (degraph)। ঋ-তে একটি ব্যঞ্জন ও একটি স্বর এবং ঐ, ঔ-তে দুটি করে স্বর আছে। এসব বর্ণ ধ্বনির প্রতিনিধিত্ব না-করার কারণ কী? উত্তর খুব সহজ। ভাষা যেমন মানুষ একদিনে অর্জন করতে পারেনি, ভাষাকে লিখিত আকারে ধরে রাখার কৌশল আয়ত্ত করতেও মানুষের অনেক সময় লেগেছে। লেখার প্রয়োজনে একটি ধ্বনি বোঝানোর জন্য একাধিক বর্ণ উদ্ভাবন ও ব্যবহার করতে হয়েছে। তারপর দীর্ঘকাল ব্যবহারের মাধ্যমে লিখনব্যবস্থার সংস্কার করতে হয়েছে। বিশ্বে কোনো ভাষাতে ধ্বনি ও বর্ণের মধ্যে এক-এক বা সুষম সম্পর্ক নেই। আমরা যা বলি, লিখিত ভাষায় তা সেভাবে লেখা হয় না। আমাদের ভাষার অনেক শব্দ ও ভাষিক উপাদান সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। এগুলোর পরিচয় যেমন ভিন্ন, তেমনি লেখার ব্যবস্থাও পৃথক। লেখার এ-বিধি এখনো পরিবর্তন করা যায়নি। তা সম্ভবও নয়। ইংরেজি, লাতিন গ্রিক, জার্মান ইত্যাদি ভাষার শব্দ ও ভাষিক উপাদান রয়েছে। ইংরেজিভাষীরা লিখনপদ্ধতি শেখার সময় সেগুলো মূল ভাষার বানানসহই শেখে এবং সেভাবে লেখে। আমাদেরও এগুলো জানতে হবে, শিখতে হবে সংস্কৃত শব্দগুলো এবং সেসব শব্দ লেখার নিয়মনীতি। (বাংলা বানান অংশে এ-সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে)
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণের দুটি রূপ আছে- একটি পূর্ণরূপ, অন্যটি হলো সংক্ষিপ্তরূপ বা কার।
স্বরবর্ণের পূর্ণরূপ
স্বরবর্ণ যখন স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর পূর্ণরূপ লেখা হয়। যেমন- অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ। স্বরবর্ণের পূর্ণরূপ শব্দের শুরুতে, মাঝে, শেষে- তিন অবস্থানেই থাকতে পারে। যেমন-
শব্দের শুরুতে : অলংকার, আকাশ, ইলিশ, উপকার, এলাচ, ঐক্য, ওল, ঔপন্যাসিক।
শব্দের মাঝে : কুরআন, বইচি, আউশ।
শব্দের শেষে : সেমাই, জামাই, বউ।
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্তরূপ
স্বরধ্বনি যখন ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়ে উচ্চারিত হয়, তখন স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ বা কার ব্যবহৃত হয়।
নিচে উদাহরণ দেওয়া হলো:
আ-কার-। : বাবা
ই-কার -ি : নিশি
ঈ-কার -ী : মনীষী
উ-কার ু : ভুল
ঊ-কারূ- : দূর
ঋ-কার -ৃ : পৃথিবী
এ-কার- ে: জেলে
ঐ-কার- ৈ : হৈ চৈ
ও-কার- াে: ঢোল
ঔ-কার- ৗে/ৗে : মৌন।
বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা
বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা ৩২টি। এগুলো হলো:

বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের যে-তালিকা আমরা পাই তাতে বর্ণ রয়েছে ৩৯টি। এগুলো হলো:

ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে এ-তালিকা মিলিয়ে দেখলে আমরা পাচ্ছি অতিরিক্ত ৮টি বর্ণ- ঞ, য, ণ, ষ, ৎ, ং, ঃ,ঁ । এগুলো কোনো ধ্বনি প্রকাশ করে না। ন এবং ণ-এর উচ্চারণ অভিন্ন। যেমন- বান, বাণ। লিখিত ভাষায় এ দুয়ের অর্থ আলাদা, একটি 'বন্যা', আরেকটি 'তীর'। ষ-এর উচ্চারণ শ-এর মতো। বানানে 'ভাষা' লিখলেও উচ্চারণ করতে হয় 'ভাশা'। ত এবং ৎ-এর উচ্চারণ একই। যেমন- 'মত', 'সৎ'। ঙ, ং-এর উচ্চারণেও কোনো পার্থক্য নেই। যেমন- 'ব্যাঙ'/'ব্যাং'। বিসর্গ (ঃ) এবং চন্দ্রবিন্দু (ঁ) স্বতন্ত্র বর্ণ নয়। এগুলো ধ্বনি প্রকাশের বা উচ্চারণ-নির্দেশের অণুচিহ্ন। আরবিতে যেমন হরকত আছে এগুলো তেমনি। ঞ-এর উচ্চারণ কখনো অঁ যেমন- মিঞা (মিয়াঁ) মিঞ (মিয়োঁ), কখনো দন্তমূলীয় ন্ ধ্বনির মতো, যেমন- ব্যঞ্জন (ব্যাজোন), লাঞ্ছনা (লাহানা)। বিসর্গের (ঃ) সাহায্যে ধ্বনির দ্বিত্ব উচ্চারণ বোঝায়। যেমন-'অতঃপর' উচ্চারণ করতে হয় অতোত্পর্; প্রাতঃরাশ>প্রাতোৱাশ্। অনুরূপ নির্দেশ ব্যঞ্জনের নিচে অন্তস্থ-ব (ব) দিয়ে করা হয়। যেমন- বিশ্ব বিশো; অশ্ব অশো। চন্দ্রবিন্দুর সাহায্যে স্বরের অনুনাসিকতা বোঝায়। যেমন- আ>আঁ; ই>ই; উ>উঁ। 'য' এর উচ্চারণ 'জ' এর মত। যেমন: যদি>জদি; যাই. জাই।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ব্যঞ্জনধ্বনি প্রকাশের জন্য যেসব বর্ণ ব্যবহার করা হয় সেগুলোই ব্যঞ্জনবর্ণ। বাংলা ভাষার ব্যঞ্জনবর্ণগুলো লেখার সময় কয়েকভাবে লেখা হয়। তখন এগুলোকে বিভিন্ন নামে উল্লেখ করা হয়। নিচে এসব আলোচনা করা হলো।
ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্ণরূপ
ব্যঞ্জনবর্ণ যখন স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর পূর্ণরূপ লেখা হয়। ব্যঞ্জবর্ণের পূর্ণরূপ শব্দের শুরুতে, মাঝে, শেষে- তিন অবস্থানে থাকতে পারে। যেমন-
শব্দের শুরুতে : কলম, খাতা, গগন, ঘর।
শব্দের মাঝে : পাগল, সকল, সজল, সাঁঝ।
শব্দের শেষে : অলক, বাঘ, বৈশাখ, রোগ।
ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্তরূপ
স্বরবর্ণ যেমন ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হলে আকৃতির পরিবর্তন হয়, তেমনি কিছু ব্যঞ্জনবর্ণ কিছু স্বরবর্ণ কিংবা ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হলে আকৃতির পরিবর্তন হয় এবং সংক্ষিপ্ত রূপে ব্যবহৃত হয়। ব্যঞ্জনবর্ণের এই সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলে। যে-ব্যঞ্জনটি যুক্ত হয় তার নাম অনুসারে ফলার নামকরণ হয়। যেমন-
ম-এ য-ফলা : ম্য
ম-এ র-ফলা : ম্র
ম-এ ল-ফলা : ম্ল
ম-এ ব-ফলা : ম্ব।
ফলার রূপ এরকম:
য-ফলা (্য) : ব্যাঙ, ধান্য, সহ্য
ব-ফলা : শ্বাস, বিল্ব, অশ্ব
ম-ফলা : পদ্ম, সম্মান, স্মরণ
র-ফলা (্র): প্রমাণ, শ্রান্ত, ক্ষিপ্র
ন-ফলা : রত্ন, স্বপ্ন, যত্ন
ল-ফলা (ল) : অম্ল, ম্লান, ক্লান্ত।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দুই বা তার চেয়ে বেশি ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে কোনো স্বরধ্বনি না থাকলে ব্যঞ্জনধ্বনি দুটি একত্রে লেখা হয়। যেমন- ব্ + অ + ক্+ত্ + আ = বক্তা। এখানে দ্বিতীয় বর্ণ ক্ + ত-এর মূল রূপ পরিবর্তিত হয়ে ক্ত হয়েছে। যুক্তব্যঞ্জন কয়েক ধরনের হতে পারে। যেমন- দ্বিত্ব ব্যঞ্জন, সাধারণ যুক্তব্যঞ্জন।
ক) দ্বিত্ব ব্যঞ্জন: একই ব্যঞ্জন পরপর দুবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বলে। যেমন- উচ্চ (চ+চ), বিপন্ন (ন+ন), সজ্জন (জ্+জ), সম্মান (ম্+ম)।
খ) সাধারণ যুক্তব্যঞ্জন: ব্যঞ্জনদ্বিত্ব ছাড়া সব ব্যঞ্জনসংযোগকে সাধারণ যুক্তব্যঞ্জন বলে। যেমন-
লক্ষ (ক+ষ), বক্র (ক+র), পন্থা (ন+থ), বন্ধ (ন+ধ)। কয়টি ব্যঞ্জন যুক্ত হয়ে যুক্তব্যঞ্জন গঠিত হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে সাধারণ যুক্তব্যঞ্জন কয়েক রকমের হয়। যেমন-
দুটি ব্যঞ্জনের সংযোগ : ক্+ত=ক্ত -রক্ত, দ্+ধ=দ্ধ-বৃদ্ধ।
তিনটি ব্যঞ্জনের সংযোগ : জ্+জ্+ব=জ্জ্ব -উজ্জ্বল, ম্+প্+র=ম্প্র-সম্প্রদান।
চারটি ব্যঞ্জনের সংযোগ : ন্+ত+র+যন্ত্র্য -স্বাতন্ত্র্য।
চেনা বা শনাক্তকরণের সুবিধা বা অসুবিধার দিক থেকে যুক্তব্যঞ্জন দু-প্রকারে নির্দেশ করা হয়- (ক) স্বচ্ছ যুক্তব্যঞ্জন ও (খ) অস্বচ্ছ যুক্তব্যঞ্জন। যেসব যুক্তব্যঞ্জনের মধ্যকার প্রতিটি বর্ণের রূপ স্পষ্ট, সেগুলোকে স্বচ্ছ যুক্তব্যঞ্জন বলে। যেমন-
ঙ্খ (ঙ+খ) : শঙ্খ, পঙ্খী।
স্ত (স্+ত) : রাস্তা, সমস্ত।
ম্প (ম্+প) : কম্পন, কম্পিউটার।
শ্চ (শ্+চ) : পশ্চিম, আশ্চর্য।
ন্দ (ন্+দ) : আনন্দ, সুন্দর।
যেসব যুক্তব্যঞ্জনের মধ্যকার সব কটি বা কোনো কোনো বর্ণের রূপ স্পষ্ট নয়, সেগুলোকে অস্বচ্ছ যুক্তব্যঞ্জন বলে। যেমন -
ক্র (ক্+র) : আক্রমণ, চক্র।
ক্ষ (ক্+ষ) : শিক্ষা, লক্ষ।
হ্ম (হ্+ম) : ব্রহ্ম, ব্রাহ্মণ।
গ্ধ (গ্+ধ) : দুগ্ধ, মুগ্ধ।
ত্র (ত্+র) : পত্র, নেত্র।
খ (ত্+থ) : উত্থান, উত্থিত।
হ্ন (হ্+ন) : অহ্ন, বহ্নি।
ষ্ণ (ষ্+ণ) : উষ্ণ, তৃষ্ণা।
ঞ্জ (ঞ্+জ) : গঞ্জ, সঞ্জয়।
জ্ঞ (জ্+ঞ) : অজ্ঞ, বিজ্ঞান।
ঞ্চ (ঞ্+চ) : পঞ্চাশ, মঞ্চ
যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ বিশ্লেষণ
যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণকে বিশ্লেষণ করাই যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ বিশ্লেষণ। যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণগুলো বিশ্লেষণ করলে যে রূপ পাওয়া যায় তা নিচে দেখানো হলো:
ক্ত=ক্+ত : শক্ত, রক্ত
ক্র=ক্+র : বক্র, শুক্র
ক্ষ=ক্+ষ: বক্ষ, দক্ষ
ঙ্ক=+ক : অঙ্ক, কঙ্কাল
ঙ্খ =ঙ + খ : শঙ্খ, পঙ্খী
ঙ্গ = ঙ্+গ : অঙ্গ, বঙ্গ


# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পূর্বের ও পরের ধ্বনির প্রভাবে ধ্বনির যে-পরিবর্তন তা-ই ধ্বনি-পরিবর্তন। যেমন- এক (অ্যা) + টি = একটি- একটি শব্দের পূর্বের ধ্বনিটি হলো অ্যা আর পরের ধ্বনিটি ই। স্বরধ্বনি দুটি উচ্চারণের দিক থেকে এক শ্রেণির নয়। অ্যা হলো নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি আর ই হলো উচ্চ-স্বরধ্বনি। এখানে সেভাবেই অ্যা + ই = অ্যা>এ হয়েছে। সন্ধিতে এভাবেই ধ্বনি পরিবর্তিত হয়। সন্ধি শব্দের অর্থই হলো মিলন। অর্থাৎ দুটি ধ্বনি মিলে একটি ধ্বনি হয়। যেমন- মহা আকাশ মহাকাশ; দিক অন্ত দিগন্ত। প্রথম উদাহরণে আ + আ = আ এবং দ্বিতীয় উদাহরণে ক + অ = ক>গ হয়েছে।
সন্ধির ফলে ধ্বনি কীভাবে পরিবর্তিত হয় তা ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রতিবেশ লক্ষ করলে বোঝা যায়। এখানে দুটি প্রতিবেশের সঙ্গে আমরা পরিচিত হই- (ক) একই শব্দের মধ্যে পরিবর্তন বা মিলন এবং (খ) দুটি শব্দের মধ্যে পরিবর্তন বা মিলন। উপরের দৃষ্টান্তের 'একটি' শব্দের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির পরিবর্তন ঘটেছে। 'বিদ্যালয়' শব্দে আমরা দ্বিতীয় শ্রেণির পরিবর্তন বা মিলন দেখি- বিদ্যা আলয় (আ+আ=আ)। সন্ধিকে ধ্বনির পরিচয় অনুযায়ী ভাগ করতে গিয়ে তার দুটি বিভাগ নির্দেশ করা হয়- স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি। নিচে এ-বিষয়ে আলোচনা করা হলো।
স্বরসন্ধি: ধ্বনির পরিবর্তন বা মিলন যখন স্বরধ্বনির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে তখন তাকে বলে স্বরসন্ধি। যেমন- হিত + অহিত = হিতাহিত (অ+ অ = আ)
ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি, ব্যঞ্জনধ্বনি ও স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন- মুখ+ছবি = মুখচ্ছবি (অ+ছ=চ্ছ); উৎ+চারণ উচ্চারণ = (ত্+চ=চ্চ)।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলা ভাষায় আগত সংস্কৃত শব্দগুলোর সন্ধির নিয়ম ঐ ভাষার ব্যাকরণ দ্বারা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। এগুলো আমাদের সেভাবেই শিখতে ও ব্যবহার করতে হবে। উদাহরণে এগুলো সেভাবেই দেখানো হলো:
১. অ-ধ্বনির পরে অ থাকলে উভয়ে মিলে আ হয়। যেমন- অ+অ=আ : নব+অন্ন নবান্ন; সূর্য+অস্ত=সূর্যাস্ত।
২. অ-এর পরে আ থাকলে উভয়ে মিলে আ হয়। যেমন- অ+আ=আ : হিম+আলয় হিমালয়; গ্রন্থ+আগার= গ্রন্থাগার।
৩. আ-এর পরে অ থাকলে উভয়ে মিলে আ হয়। যেমন- আ+অ=আ : তথা+অপি=তথাপি; মহা+অর্ঘ =মহার্ঘ।
৪. আ-এর পরে আ থাকলে উভয়ে মিলে আ হয়। যেমন- আ+আ=আ : মহা+আশয় = মহাশয়; কারা+আগার = কারাগার।
৫. ই+ই = ঈ। যেমন- অতি+ইত = অতীত; রবি+ইন্দ্র = রবীন্দ্র।
৬. ই-ধ্বনির পরে ঈ থাকলে উভয়ে মিলে ঈ-ধ্বনি হয়। যেমন- ই+ঈ=ঈ : পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা; প্রতি+ঈক্ষা=প্রতীক্ষা।
৭. ঈ-ধ্বনির পরে ই থাকলে উভয়ে মিলে ঈ-ধ্বনি হয়। যেমন- ঈ-ই=ঈ সুধী+ইন্দ্র=সুধীন্দ্র; শচী+ইন্দ্র=শচীন্দ্র।
৮. ঈ ধ্বনির পর ঈ থাকলে উভয়ে মিলে ঈ-ধ্বনি হয়। যেমন- ঈ+ঈ=ঈ সতী+ঈশ=সতীশ; শ্রী+ঈশ=শ্রীশ।
৯. অবা আধ্বনির পরে ই বা ঈ-ধ্বনি থাকলে উভয়ে মিলে এ-ধ্বনি হয়। যেমন- অ+ই=এ স্ব+ইচ্ছা=স্বেচ্ছা; শুভ+ইচ্ছা শুভেচ্ছা।
১০. অ+ঈ=এ। যেমন- অপ+ঈক্ষা =অপেক্ষা; নর+ঈশ =নরেশ।
১১.আ+ই=এ। যেমন- যথা+ইচ্ছা =যথেচ্ছা।
১২. আ+ঈ=এ। যেমন- মহা+ঈশ =মহেশ, ঢাকা+ঈশ্বরী=ঢাকেশ্বরী।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সন্ধির মাধ্যমে উচ্চারণে স্বাচ্ছন্দ্য আসে এবং শ্রুতিমাধুর্য বাড়ে। সন্ধি ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
ঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ন (√) দাও:
১। ধ্বনির উচ্চারণে মানবশরীরের যেসব প্রত্যঙ্গ জড়িত, সেগুলোকে একত্রে কী বলে?
ক. শ্বাসনালি
খ. স্বরযন্ত্র
গ. গলনালি
ঘ. বাগযন্ত্র
২। আমাদের শরীরের উপরের প্রত্যঙ্গগুলোর প্রধান কাজ-
i. শ্বাসকার্য পরিচালনা করা
ii. খাদ্য গ্রহণ করা
iii. কথা বলা
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i ও iii
৩। বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে আমরা কী উৎপাদন করি?
ক. ধ্বনি
খ. বর্ণ
গ. শব্দ
ঘ. বাক্য
৪। বাগযন্ত্র তৈরি হয়-
i. ফসুফুস, শ্বাসনালি, স্বরযন্ত্র দিয়ে
ii. স্বরতন্ত্র, জিভ, ঠোঁট, নিচের চোয়াল দিয়ে
iii. দাঁত, তালু, গলনালি, মধ্যচ্ছদা, চিবুক দিয়ে
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৫। যে-বাধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস-আগত বাতাস মুখের মধ্যে কোনোভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয় না, সেগুলোকে কী বলে?
ক. স্বরধ্বনি
খ. স্বরবর্ণ
গ. ব্যঞ্জনধ্বনি
ঘ. ব্যঞ্জনবর্ণ
৬। কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস বাধাহীনভাবে একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হয়?
ক. অ
খ. আ
গ. ই
ঘ. উ
৭। স্বরধ্বনির উচ্চারণে কয়টি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
ক. দুটি
খ. তিনটি
গ. চারটি
ঘ. পাঁচটি
৮। স্বরধ্বনির উচ্চারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-
i. জিভের উচ্চতা
ii. জিভের অবস্থান
iii. ঠোঁটের আকৃতি
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৯। কোমল তালুর অবস্থা অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলোকে যে জাতীয় স্বরধ্বনি হিসেবে উচ্চারণ করতে হয় তা হলো-
i. মৌখিক স্বরধ্বনি
ii. অনুনাসিক স্বরধ্বনি
iii. সম্মুখ স্বরধ্বনি
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
১০। জিভের সামনের অংশের সাহায্যে উচ্চারিত স্বরধ্বনিগুলোকে কী বলে?
ক. সম্মুখ স্বরধ্বনি
খ. মধ্য-স্বরধ্বনি
গ. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
ঘ. নিম্ন-স্বরধ্বনি
১১। জিভ স্বাভাবিক অবস্থায় থেকে, অর্থাৎ সামনে কিংবা পেছনে না-সরে যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেগুলোকে কী বলে?
ক. সম্মুখ স্বরধ্বনি
খ. মধ্য-স্বরধ্বনি
গ. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
ঘ. নিম্ন-স্বরধ্বনি
১২। জিভের পেছনের অংশের সাহায্যে উচ্চারণ করতে হয় যে-স্বরধ্বনি তাকে কী বলে?
ক. সম্মুখ স্বরধ্বনি
খ. মধ্য-স্বরধ্বনি
গ. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
ঘ. নিম্ন-স্বরধ্বনি
১৩। জিভ সবচেয়ে উপরে উঠিয়ে যে-স্বরধ্বনি উচ্চারণ করতে হয় তাকে কী বলে?
ক. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
খ. নিম্ন-স্বরধ্বনি
গ. উচ্চ স্বরধ্বনি
ঘ. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
১৪। জিভ সবচেয়ে নিচে অবস্থান করে যে-স্বরধ্বনি উচ্চারণ করতে হয় তাকে কী বলে?
ক. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
খ. নিম্ন-স্বরধ্বনি
গ. উচ্চ স্বরধ্বনি
ঘ. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
১৫। জিভ নিম্ন-স্বরধ্বনির তুলনায় উপরে এবং উচ্চ-স্বরধ্বনির তুলনায় নিচে থেকে যে-স্বরধ্বনি উচ্চারণ করতে হয়, তাকে কী বলে?
ক. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
খ. নিম্ন-স্বরধ্বনি
গ. উচ্চ স্বরধ্বনি
ঘ. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
১৬। জিভ উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনির তুলনায় নিচে এবং নিম্ন-স্বরধ্বনি থেকে উপরে উঠে যে-স্বরধ্বনি উচ্চারণ করতে হয়, তাকে কী বলে?
ক. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
খ. নিম্ন-স্বরধ্বনি
গ. মধ্য স্বরধ্বনি
ঘ. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
১৭। ঠোঁটের অবস্থা অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলোর উচ্চারণে কয় ধরনের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়?
ক. ২
খ. ৩
গ. ৪
ঘ. ৫
১৮। স্বরধ্বনি তৈরির সময় হাঁ করার উপর নির্ভর করে যে-স্বরধ্বনিগুলো গঠিত হয়, সেগুলো হলো-
i. বিবৃত
ii. অর্ধ-বিবৃত
iii. সংবৃত
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
১৯। যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট গোলাকৃত হয় সেই স্বরধ্বনিগুলোকে কী বলে?
ক. গোলাকৃত স্বরধ্বনি
খ. অগোলাকৃত স্বরধ্বনি গ. সংবৃত স্বরধ্বনি
ঘ. বিবৃত স্বরধ্বনি
২০। গোলাকৃত স্বরধ্বনি কোনটি?
ক. অ
খ. আ
গ. ই
ঘ. এ
২১। যেসব স্বরধ্বনির উচ্চারণে ঠোঁট গোল না-হয়ে বিস্তৃত অবস্থায় থাকে, সেগুলোকে কী বলে?
ক. গোলাকৃত স্বরধ্বনি
খ. অগোলাকৃত স্বরধ্বনি
গ. সংবৃত স্বরধ্বনি
ঘ. বিবৃত স্বরধ্বনি
২২। অগোলাকৃত স্বরধ্বনি কোনটি?
ক. অ
খ. আ
গ. এ
ঘ. ও
২৩। বাংলার সব স্বর-
i. হ্রস্ব
ii. দীর্ঘ
iii. কোনোটি নয়
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
২৪। তালুর পেছনের অংশকে বলে-
i. শক্ত তালু
ii. কোমল তালু
iii. কোনোটি নয়
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
২৫। একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হয়ে যে-ধ্বনি উচ্চারিত হয়, তাকে কী বলে?
ক. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
খ. অনুনাসিক স্বরধ্বনি
গ. মৌখিক স্বরধ্বনি
ঘ. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
২৬। কোন ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস প্রথমে মুখের মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ হয় তারপর কেবল নাক দিয়ে বেরিয়ে যায়?
ক. খ
খ. ল্
গ. ট্
ঘ. থ্
২৭। ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে যে বিষয়ের উপর বিশেষভাবে খেয়াল করতে হবে তা হলো-
i. উচ্চারণস্থান
ii. উচ্চারণরীতি
iii. কোনোটি নয়
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
২৮। উচ্চারণস্থান অনুসারে বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে যে ধ্বনি হিসেবে দেখানো হয়, তা হলো-
i. দ্বি-ওষ্ঠ্য, দন্ত্য
ii. দন্তমূলীয়, প্রতিবেষ্টিত, তালব্য-দন্তমূলীয়
iii. তালব্য, জিহ্বামূলীয়, কণ্ঠনালীয়
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
২৯। উপরের ও নিচের ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিগুলোকে কী বলে?
ক. দন্তমূলীয় ধ্বনি
খ. দন্ত্য ধ্বনি
গ. দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি
ঘ. তালব্য-দন্তমূলীয় ধ্বনি
৩০। জিভের সামনের অংশ উপরের পাটি দাঁতের নিচের অংশকে স্পর্শ করে কোন ধ্বনি উচ্চারিত হয়?
ক. দন্তমূলীয় ধ্বনি
খ. দন্ত্য ধ্বনি
গ. দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি
ঘ. তালব্য-দন্তমূলীয় ধ্বনি
৩১। জিভের সামনের অংশ ও উপরের পাটি দাঁতের মূল বা নিচের অংশের সাহায্যে কোন ধ্বনি উচ্চারিত হয়?
ক. দন্তমূলীয় ধ্বনি
খ. দন্ত্য ধ্বনি
গ. দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি
ঘ. তালব্য-দন্তমূলীয়
৩২। জিভের সামনের অংশ পেছনে কুঞ্চিত বা বাঁকা হয়ে কোন ধ্বনি উৎপাদিত হয়?
ক. প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি
খ. দন্ত্য ধ্বনি
গ. দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি
ঘ. তালব্য-দন্তমূলীয় ধ্বনি
৩৩। জিভের সামনের অংশ উপরে গিয়ে শক্ত তালু স্পর্শ করে কোন ধ্বনি উচ্চারিত হয়?
ক. প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি
খ. দন্ত্য ধ্বনি
গ. দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি
ঘ. তালব্য-দন্তমূলীয় ধ্বনি
৩৪। জিভ প্রসারিত হয়ে সামনের অংশ শক্ত তালু স্পর্শ করে কোন ধ্বনি উচ্চারিত হয়?
ক. প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি
খ. দন্ত্য ধ্বনি
গ. দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি
ঘ. তালব্য ধ্বনি
৩৫। জিভের পেছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের মূলের কাছাকাছি নরম তালু স্পর্শ করে কোন ধ্বনি উচ্চারিত হয়?
ক. জিহ্বামূলীয় ধ্বনি
খ. দন্ত্য ধ্বনি
গ. দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি
ঘ. তালব্য ধ্বনি
৩৬। কণ্ঠনালির মধ্যে ধ্বনিবাহী বাতাস বাধা পেয়ে উচ্চারিত ধ্বনিগুলো কী?
ক. জিহ্বামূলীয়
খ. দন্ত্য
গ. কণ্ঠনালীয়
ঘ. তালব্য
৩৭। জিহ্বামূলীয় ধ্বনি কোনটি?
ক. খ
খ. ল্
গ. ট্
ঘ. থ্
৩৮। কণ্ঠনালীয় ধ্বনি কোনটি?
ক. খ
খ. ল্
গ. হ্
ঘ. থ্
৩৯। যে-বাগ্যন্ত্র সচল তাকে বলে-
i. সচল বাকপ্রত্যঙ্গ
ii. সক্রিয় উচ্চারক
iii. নিষ্ক্রিয় বাকপ্রত্যঙ্গ
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৪০। যে-বাকপ্রত্যঙ্গ স্থির তাকে বলে-
i. সক্রিয় বাকপ্রত্যঙ্গ
ii. নিষ্ক্রিয় উচ্চারক
iii. নিষ্ক্রিয় বাকপ্রত্যঙ্গ
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. ii ও iii
৪১। কোনটি সক্রিয় উচ্চারক?
ক. জিভের ডগা
খ. দন্তমূল
গ. কোমল তালু
ঘ. উপরের ঠোঁট
৪২। কোনটি নিষ্ক্রিয় উচ্চারক?
ক. জিভের ডগা
খ. কোমল তালু
গ. কুঞ্চিত জিভের ডগা
ঘ. স্বরতন্ত্র
৪৩। উচ্চারণরীতি অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে যা হিসেবে বিবেচনা করা হয় তা হলো-
i. স্পৃষ্ট/স্পর্শ
ii. ঘর্ষণজাত, কম্পিত
iii. তাড়িত, পার্শ্বিক, নৈকট্যমূলক
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৪৪। মুখের মধ্যে ফুসফুস-আগত বাতাস প্রথমে কিছুক্ষণের জন্য সম্পূর্ণ রুদ্ধ বা বন্ধ হয় এবং এরপর মুখ দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে উচ্চারিত ধ্বনিগুলোকে কী বলে?
ক. নাসিক্য
খ. স্পৃষ্ট
গ. ঘর্ষণজাত
ঘ. কম্পিত
৪৫। যেসব ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময় বাতাস কেবল মুখ দিয়ে বের হয় সেগুলোকে কী ধ্বনি বলে?
ক. নাসিক্য
খ. স্পৃষ্ট
গ. ঘর্ষণজাত
ঘ. কম্পিত
৪৬। ঘর্ষণজাত ধ্বনি আর কী ধ্বনি হিসেবে পরিচিত?
ক. নাসিক্য
খ. স্পৃষ্ট
গ. শিস
ঘ. কম্পিত
৪৭। যে-ধ্বনি উচ্চারণকালে জিভ কম্পিত হয় তাকে কী ধ্বনি বলে?
ক. নাসিক্য
খ. স্পৃষ্ট
গ. শিস
ঘ. কম্পিত
৪৮। যে-ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ উল্টে গিয়ে উপরের পাটি দাঁতের মূলে একটি মাত্র টোকা দেয়, তাকে বলে-
i. তাড়িত ধ্বনি
ii. টোকাজাত ধ্বনি
iii. পার্শ্বিক ধ্বনি
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৪৯। যে-ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জিভের পেছনের এক পাশ বা দু-পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং জিভদাঁত অথবা দন্তমূলে অবস্থান করে, তাকে কী ধ্বনি বলে?
ক. পার্শ্বিক
খ. স্পৃষ্ট
গ. শিস
ঘ. কম্পিত
৫০। অন্তস্থ ব্ ও অন্তস্থ য কোন জাতীয় ধ্বনি?
ক. পার্শ্বিক
খ. নৈকট্যমূলক
গ. শিস
ঘ. কম্পিত
৫১। নৈকট্যমূলক ধ্বনির আরেক নাম কী?
ক. পার্শ্বিক ধ্বনি
খ. তরল ধ্বনি
গ. শিস ধ্বনি
ঘ. কম্পিত ধ্বনি
৫২। স্বরযন্ত্রের ভেতরে কোন প্রত্যঙ্গ রয়েছে?
i. স্বররন্ধ্র
ii. স্বরতন্ত্র
iii. সরতন্ত্র
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৫৩। যে-ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে মুখ দিয়ে অধিক বাতাস বের হয় ও নিচের চোয়ালের মাংসপেশিতে বেশি চাপ পড়ে, সে ব্যঞ্জনগুলোকে বলে-
i. মহাপ্রাণ
ii. অল্পপ্রাণ
iii. স্বল্পপ্রাণ
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৫৪। ঘর্ষণজাত ধ্বনি কোনটি?
ক. প্
খ. র্
গ. ঢ্
ঘ. শ্
৫৫। বাংলা ভাষায় মৌখিক স্বরধ্বনি কয়টি?
ক. ৬টি
খ. ৭টি
গ. ৮টি
ঘ. ৯টি
৫৬। বাংলা স্বরবর্ণ কটি?
ক. ৮টি
খ. ৯টি
গ. ১০টি
ঘ. ১১টি
৫৭। স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কী বলে?
ক. কার
খ. চিহ্ন
গ. ফলা
ঘ. প্রতীক
৫৮। বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনি কটি?
ক. ৩৩টি
খ. ৩৫টি
গ. ৩৭টি
ঘ. ৩৯টি
৫৯। বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ কটি?
ক. ৩৭টি
খ. ৩৮টি
গ. ৩৯টি
ঘ. ৪০টি
৬০। যেগুলো স্বতন্ত্র বর্ণ নয় তা হলো-
i. বিসর্গ (ঃ)
ii. চন্দ্রবিন্দু (°)
iii. অনুস্বার (ং)
কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৬১। ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্ণরূপ যে অবস্থানে থাকতে পারে তা হলো-
i. শব্দের শুরুতে
ii. শব্দের মাঝে
iii. শব্দের শেষে
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৬২। ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কী বলে?
ক. কার
খ. চিহ্ন
গ. ফলা
ঘ. প্রতীক
৬৩। একই ব্যঞ্জন পরপর দুবার ব্যবহৃত হলে তাকে কী বলে?
ক. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
খ. যুক্তব্যঞ্জন
গ. সাধারণ যুক্তব্যঞ্জন
ঘ. স্বচ্ছ যুক্তব্যঞ্জন
৬৪। ব্যঞ্জনদ্বিত্ব ছাড়া সব ব্যঞ্জনসংযোগকে কী বলে?
ক. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
খ. যুক্তব্যঞ্জন
গ. সাধারণ যুক্তব্যঞ্জন
ঘ. স্বচ্ছ যুক্তব্যঞ্জন
৬৫। যুক্তব্যঞ্জন কত প্রকারের?
ক. ২
খ. ৩
গ. ৪
ঘ. ৫
৬৬। পূর্বের ও পরের ধ্বনির প্রভাবে ধ্বনির যে-পরিবর্তন তাকে কী বলে?
ক. ধ্বনি-পরিবর্তন
খ. প্রতিবেশ
গ. ধ্বনি-রূপান্তর
ঘ. ধ্বনিলোপ
৬৭। ধ্বনির পরিবর্তন বা মিলন যখন স্বরধ্বনির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তখন তাকে বলে-
i. স্বরসন্ধি
ii. ব্যঞ্জনসন্ধি
iii. বিসর্গ সন্ধি
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৬৮। অ-ধ্বনির পর আ-ধ্বনি থাকলে উভয়ে মিলে কী হয়?
ক. ই
খ. উ
গ. আ
ঘ. ঈ
৬৯। ই-ধ্বনির পর ঈ-ধ্বনি থাকলে উভয়ে মিলে কী হয়?
ক. আ
খ. ই
গ. উ
ঘ. ঈ
৭০। অ বা আ-ধ্বনির পরে ই বা ঈ-ধ্বনি থাকলে উভয়ে মিলে কী হয়?
ক. এ
খ. ঈ
গ. উ
ঘ. আ
৭১। 'পরীক্ষা' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
ক. পরি+ইক্ষা
খ. পরী+ইক্ষা
গ. পরি+ঈক্ষা
ঘ. পরী+ঈক্ষা
৭২। সন্ধির ফলে-
i. উচ্চারণে স্বাচ্ছন্দ্য আসে
ii. শ্রুতিমাধুর্য বাড়ে
iii. ভাষা সংক্ষিপ্ত হয়
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
শব্দের গঠন এবং একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের সম্পর্কের আলোচনা হলো রূপতত্ত্ব। একে শব্দতত্ত্ব-ও বলা হয়। এ-অধ্যায়ে শব্দ এবং শব্দের গঠনপদ্ধতি এবং শব্দসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক দেখানো হলো।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দুই বা তার চেয়ে বেশি ধ্বনি মিলে শব্দ তৈরি হয়। যেমন- ম্ এবং আ মিলে হয় মা; আম্+আ+র্= আমার। একটি ধ্বনি দিয়েও একটি শব্দ তৈরি হতে পারে। যেমন- ই, উ, আ। বেদনা, ক্ষোভ, দুঃখ ইত্যাদি ভাবপ্রকাশের জন্য আমরা এগুলো ব্যবহার করি। লক্ষ করলে বোঝা যায় যে, এসবই হচ্ছে স্বরধ্বনি। অর্থাৎ একটি স্বরধ্বনি দিয়ে একটি শব্দ গঠিত হয়; কিন্তু কোনো একটি ব্যঞ্জনধ্বনির সাহায্যে শব্দ তৈরি হয় না।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শব্দগঠনের জন্য কতকগুলো ভাষিক উপাদান রয়েছে। এগুলোকে বলে প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ ও সমাস। নিচে এগুলো আলোচনা করা হলো।
১) প্রত্যয়: প্রত্যয় বলতে সেইসব ভাষিক উপাদানকে বোঝায়, যেগুলো স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না। এগুলো শব্দের পরে বসে। প্রত্যয় দু ধরনের- কৃৎ প্রত্যয় ও তদ্ধিত প্রত্যয়। কৃৎ প্রত্যয় বসে ক্রিয়ামূলের শেষে। যেমন- খেল্ + আ = খেলা; পড়ু উয়া পড়ুয়া। তদ্ধিত প্রত্যয় বসে শব্দের পরে। যেমন- সমাজ ইক সামাজিক; বাঙালই বাঙালি। প্রত্যয়ের সাহায্যে গঠিত কিছু শব্দের নমুনা নিচে দেওয়া হলো:
ক্রিয়ামূল / শব্দমূল + প্রত্যয় = গঠিত শব্দ
ফল+ অন = ফলন '- হাত+আ = হাতা
দুল্+অনা = দোলনা - ঢাকা+আই = ঢাকাই
কাঁদ্+অন = কাঁদন - প্যাঁচ-আনো = প্যাঁচানো
খেল্+অনা = খেলনা - পাগল+আমি = পাগলামি
ফুট্+অন্ত = ফুটন্ত - শাঁখা+আরি = শাঁখারি
বল্+আ = বলা - দাঁত+আল = দাঁতাল
বাঁধ+আই = বাঁধাই - আকাশ+ই = আকাশি
জান্+আন = জানান - ইচ্ছা+উক = ইচ্ছুক
মিশ্+উক = মিশুক - জমি+দার = জমিদার
নাচ্+উনি = নাচুনি - হাত+উড়ে = হাতুড়ে
২) বিভক্তি: প্রত্যয়ের মতো বিভক্তিরও স্বাধীন ব্যবহার নেই। এগুলো ক্রিয়ামূল বা শব্দমূলের পরে বসে। ক্রিয়ামূলের পরে যে-বিভক্তি বসে তাকে বলে ক্রিয়া-বিভক্তি। যেমন- খেল্ + ই = খেলি; পড়ু + ইল = পড়িল>পড়ল; দেখ্ + ইব = দেখিব দেখব। শব্দমূলের পরে যে-বিভক্তি বসে তা-ই শব্দ বিভক্তি। যেমন- বাড়ি + তে = বাড়িতে; মামা + র = মামার; ছাত্র + দের = ছাত্রদের।
৩) উপসর্গ: প্রত্যয় বা বিভক্তির মতো উপসর্গ বলতেও কিছু ভাষিক উপদানকে বোঝায়। কিন্তু প্রত্যয় ও বিভক্তি বসে শব্দের শেষে; উপসর্গ বসে শব্দের আগে। যেমন- 'হার' একটি শব্দ, এর পূর্বে প্র-, বি-, উপ- উপসর্গ যোগ করলে হয় প্রহার (< প্র + হার), বিহার (< বি+ হার), উপহার (< উপ + হার)। বোঝাই যাচ্ছে যে, উপসর্গের সাহায্যে নতুন শব্দ বা ভিন্ন অর্থবহ শব্দ তৈরি হয়। কিন্তু বিভক্তির সাহায্যে তা কখনো হয় না, মূল শব্দটি কেবল সম্প্রসারিত হয়। প্রত্যয়যোগে নতুন শব্দ কখনো হয় আবার কখনো হয় না। মনে রাখতে হবে, নতুন শব্দ তখনই তৈরি হয় যখন আগের শব্দটি থেকে গঠিত শব্দটির অর্থ, আকার বা রূপ ও শ্রেণির পরিবর্তন ঘটে। যেমন- বাড়ি তে = বাড়িতে শব্দে আয়তন 'বাড়ি' থেকে বেড়েছে, অর্থ বদলায়নি। কিন্তু 'পড়'-এর পর -উয়া প্রত্যয় যোগ করে 'পড়ুয়া' গঠন করলে দেখা যাচ্ছে যে, 'পড়'-এর অর্থ যা, 'পড়ুয়া'-র অর্থ তা থেকে ভিন্ন। 'পড়' (তুই বই পড়) হলো ক্রিয়া কিন্তু 'পড়ুয়া' বিশেষ্য। 'পড়ুয়া' নতুন শব্দ।
৪) সমাস: দুই বা তার চেয়ে বেশি শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি শব্দ তৈরির প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। যেমন- কালের অভাব = আকাল; খেয়া পারাপারের ঘাট = খেয়াঘাট; নদী মাতা যার = নদীমাতৃক ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যে ব্যবহৃত শব্দ বা পদকে সাধারণত আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো যথাক্রমে বিশেষ্য, সর্বনাম, ক্রিয়াবিশেষণ অব্যয়, ক্রিয়া বিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক ও আবেগ। নিচে এগুলা আলোচনাচনা করা হলা
১) বিশেষ্য: যে-শব্দের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নামকে বোঝায় তা-ই বিশেষ্য। যেমন- মানুষ, বাঙালি, রাস্তা, উৎসব ইত্যাদি।
২) সর্বনাম: বিশেষ্যের পরিবর্তে যা ব্যবহৃত হয় তা-ই সর্বনাম। যেমন-
অনন্যা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।
সে দুই কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে আসে।
তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু পান্না।
তারা শিক্ষা সফরে গিয়েছিল।
উদাহরণে অনন্যার পরিবর্তে 'সে', 'তার' ও 'তারা' ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলা ভাষায় এজাতীয় সর্বনাম আরও রয়েছে। যেমন- আমি, আমরা, আমার, আমাদের, তুমি, তোমার, তোমাকে, আপনি, আপনার, আপনাকে, তুই, তোর, তোকে, তার, তাকে, তিনি, তাঁর, তাঁকে ইত্যাদি।
৩) বিশেষণ: যে-শব্দের মাধ্যমে বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় তাকে বলে বিশেষণ। যেমন- বিশাল দিঘি; উঁচু বাঁধানো পুকুর; হরেক রকম পাছপালা, ঘন ঝোপ-জঙ্গলে আচ্ছন্ন পরিবেশ; পাথর-বাঁধানো ঘাট।
৪) ক্রিয়া: যে শব্দের দ্বারা কোনো কাজ করাকে বোঝায়, তাকে ক্রিয়া বলে। যেমন-
লিটন বই পড়ে।
সাকিব বল খেলেছিল।
কণা রবীন্দ্রসংগীত শোনাবে।
উপরের বাক্য তিনটিতে 'পড়ে', 'খেলেছিল', 'শোনাবে'- এ- তিনটি শব্দ কোনো-না-কোনো কাজ করাকে বোঝায়। ক্রিয়া প্রধানত দু প্রকার- (ক) সমাপিকা ক্রিয়া ও (খ) অসমাপিকা ক্রিয়া।
ক) সমাপিকা ক্রিয়া: যে-ক্রিয়া বাক্যের বা বক্তার মনোভাবের পূর্ণতা ও পরিসমাপ্তি প্রকাশ করে, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন- সে গান গাইবে; তুমি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলে; আমি বই পড়েছি।
খ) অসমাপিকা ক্রিয়া: যে-ক্রিয়া দ্বারা কাজের বা অর্থের অপূর্ণতা বা অসমাপ্তি বোঝায় তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন- আমার যাওয়া হবে না; আমি ভাত খেয়ে বাজারে যাব; আমাকে আমার মতো চলতে দাও।
৫) ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন:
ছেলেটি ভালো খেলে।
মেয়েটি দ্রুত হাটে।
লোকটি শান্তভাবে কাজ করে।
৬) অনুসর্গ: যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
৭) যোজক: পদ ও বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন: এবং, ও, আর, কিন্তু, তবু ইত্যাদি।
৮) আবেগ: যেসব শব্দ দিয়ে মনের বিচিত্র আবেগ বা অনুভূতিকে প্রকাশ করা হয়, সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলে। যেমন: বাহ্, বেশ, শাবাস, ছি ছি ইত্যদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক) বিশেষ্য থেকে বিশেষণ: বিশেষ্য শব্দের শেষে প্রত্যয় যোগ করে বিশেষণ শব্দ গঠন করা হয়। যেমন-বিশেষ্য: জল, বিশেষণ: জলা (জল+আ); ঢাকা ঢাকাই (ঢাকা+আই); দিন দৈনিক (দিন+ইক); নিচ নিচু (নিচ+উ); মাটি মেটে (মাটি+এ)।
খ) বিশেষণ থেকে বিশেষ্য যে ভাষিক উপাদানের সাহায্যে বিশেষণ শব্দ তৈরি হয়েছে, সেই ভাষিক উপাদানটি বিচ্ছিন্ন করলেই বিশেষ্য শব্দ পাওয়া যায়। যেমন- মিঠাই (মিঠা+আই) মিঠা; চালাকি চালাক; নীলিমা নীল; লালিমা (লাল+ইমা) লাল।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক) বিশেষ্য থেকে বিশেষণ: বিশেষ্য শব্দের শেষে প্রত্যয় যোগ করে বিশেষণ শব্দ গঠন করা হয়। যেমন-বিশেষ্য: জল, বিশেষণ: জলা (জল+আ); ঢাকা ঢাকাই (ঢাকা+আই); দিন দৈনিক (দিন+ইক); নিচ নিচু (নিচ+উ); মাটি মেটে (মাটি+এ)।
খ) বিশেষণ থেকে বিশেষ্য : যে ভাষিক উপাদানের সাহায্যে বিশেষণ শব্দ তৈরি হয়েছে, সেই ভাষিক উপাদানটি বিচ্ছিন্ন করলেই বিশেষ্য শব্দ পাওয়া যায়। যেমন- মিঠাই (মিঠা+আই) মিঠা; চালাকি চালাক; নীলিমা নীল; লালিমা (লাল+ইমা) লাল।
আমাদের ভাষায় এমন কিছু শব্দ রয়েছে যেগুলোর কোনোটি (ক) পুরুষবাচক, আবার কোনোটি (খ) নারীবাচক। আবার কোনো কোনো শব্দ পুরুষ বা নারীকে না বুঝিয়ে প্রাণহীন জিনিসকে বোঝায়। কোনো কোনো শব্দ আবার নারী ও পুরুষ উভয়কে বোঝাতে পারে। যেমন- চিকিৎসক, মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, উপাচার্য ইত্যাদি।
ক) পুরুষবাচক বিশেষ্য : যে-শব্দ কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে, তাকে পুরুষবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন-কাকা, চাচা, দাদা, নানা, মামা, ভাই, স্বামী ইত্যাদি।
খ) নারীবাচক শব্দ: যে-শব্দে কেবল নারীকে নির্দেশ করে, তাকে নারীবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মা, চাচি, কাকি, খালা, মামি, ভাবি, স্ত্রী, মাতা ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক) পুরুষবাচক বিশেষ্য থেকে নারীবাচক বিশেষ্য: আব্বা-আম্মা; চাচা-চাচি; মামা-মামি; ভাই-ভাবি; নানা-নানি; স্বামী-স্ত্রী। দাদা-বৌদি; দেওর-জা; পতি-পত্নী; শ্বশুর- শাশুড়ি; জেঠা-জেঠি; নায়ক-নায়িকা; বালক-বালিকা; ময়ূর-ময়ূরী; সিংহ-সিংহী; বর-বধূ।
বাংলা ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনামের সংখ্যাগত দু-ধরনের ধারণা পাওয়া যায়। যেমন-
বিশেষ্য একটির ধারণা : বল, মেয়ে, খাতা।
একাধিকের ধারণা : বলগুলো, মেয়েরা, অনেক খাতা।
সর্বনাম: একটির ধারণা : আমি, তুমি, সে।
একাধিকের ধারণা : আমরা, তোমরা, তারা।
বিভিন্ন ভাষিক উপাদান বা চিহ্ন এর মাধ্যমে, কখনো কখনো শব্দ যোগ করে (অনেক লোক; বহু বছর আগে) কখনো আবার এক শব্দ পরপর দু-বার ব্যবহার করে (হাজার হাজার বছর আগে, রাশি রাশি ধান, ঘড়া ঘড়া চাল) বচনের পরিবর্তন করা হয়। নিচে বচনের চিহ্নসহ কিছু শব্দের এক বচন থেকে বহু বচনে রূপান্তর দেখানো হলো।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পড়া শেষ করে আমি বল খেলতে যাব। আমরা পনেরো জন মিলে একটি দল করেছি। বিপক্ষ দলে যারা খেলে, তারা আমাদের চেয়ে দুর্বল নয়। আমার বন্ধু রাফিকে বললাম, "তুমি ওদের ভয় পেয়ো না। ওরা যত শক্তিশালীই হোক, আমাদের মনোবল থাকলে আমরা জিতবই। শিমুল ওদের দলনেতা। তোমরা সাহসের সঙ্গে খেলবে।" রাফি আমাকে সমর্থন করে আরও সাহসী হতে বলল।
উপরের অনুচ্ছেদে তিন ধরনের ব্যক্তি রয়েছে। ব্যাকরণে এদের পক্ষ বা পুরুষ বলে। এই পক্ষ একজন বা একাধিক হতে পারে। অনুচ্ছেদে মোটা হরফে লেখা শব্দগুলো তিন ধরনের পক্ষ নির্দেশ করে। যেমন-
বক্তাপক্ষ বক্তা নিজে ও তার বন্ধুরা : আমি, আমরা, আমাদের, আমার।
শ্রোতাপক্ষ শ্রোতা ও তার বন্ধুরা : তুমি, তোমরা।
অন্যপক্ষ : অন্য ব্যক্তি ও তার বন্ধুরা : ও, ওরা, ওদের।
বাক্যের সঙ্গে জড়িত এই তিন ধরনের ব্যক্তিকে পক্ষ বা পুরুষ বলে। পক্ষ তিন প্রকার- (ক) বক্তাপক্ষ, (খ) শ্রোতাপক্ষ ও (গ) অন্যপক্ষ।
ক) বক্তাপক্ষ: যে-সর্বনামের দ্বারা বাক্যের বা উক্তির বক্তা নিজেকে বা বক্তার দলের সবাইকে বোঝায়, তাকে বক্তাপক্ষ বা উত্তম পুরুষ বলে। যেমন- আমি, আমাকে, আমার, আমরা, আমাদের।
খ) শ্রোতাপক্ষ: যে-সর্বনামের দ্বারা শ্রোতা বা শ্রোতার দলের সবাইকে বোঝায়, তাকে শ্রোতাপক্ষ বা মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন- তুমি, তোমাকে, তোমার, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাকে, আপনার, আপনাদের, তুই, তোরা, তোকে, তোর, তোদের।
গ) অন্যপক্ষ: যে-সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে অন্য পক্ষ বা প্রথম পুরুষ বা নাম-পুরুষ বলে। যেমন-
সর্বনাম পদ: সে, তাকে, তার, এ, একে, এর, তারা, তাদের।
বিশেষ্য পদ: অপু, অপুকে, অপুর অর্থাৎ যেকোনো নাম।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
ঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ন (√) দাও:
১। শব্দের গঠন এবং একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের সম্পর্কের আলোচনা ব্যাকরণের কোন অংশে হয়?
ক. ধ্বনিতত্ত্বে
খ. রূপতত্ত্বে
গ. বাক্যতত্ত্বে
ঘ. বাগর্থতত্ত্বে
২। শব্দগঠনের জন্য ভাষিক উপাদান হলো-
i. প্রত্যয়
ii. বিভক্তি
iii. উপসর্গ ও সমাস
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৩। প্রত্যয় শব্দের কোথায় বসে?
ক. পরে
খ. পূর্বে
গ. মাঝে
ঘ. সঙ্গে
৪। স্বাধীন ব্যবহার নেই যাদের-
i. প্রত্যয়
ii. বিভক্তি
iii. উপসর্গ
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৫। বিভক্তির নেই-
i. অর্থ
ii. স্বাধীন ব্যবহার
iii. শব্দগঠনের ক্ষমতা
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৬। শব্দের পরে যে-বিভক্তি বসে তাকে কী বলে?
ক. নামবিভক্তি
খ. পদবিভক্তি
গ. শব্দবিভক্তি
ঘ. ক্রিয়াবিভক্তি
৭। দুই বা তার চেয়ে বেশি শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি শব্দ তৈরির প্রক্রিয়াকে কী বলে?
ক. বিভক্তি
খ. উপসর্গ
গ. সন্ধি
ঘ. সমাস
৮। শব্দ কত প্রকার?
ক. ৩
খ. ৪
গ. ৫
ঘ. ৬
৯। কোনো শব্দের মাধ্যমে যা বোঝালে তাকে বিশেষ্য বলে, তা হলো-
i. ব্যক্তি, জাতির নাম
ii. সমষ্টি, বস্তু, স্থানের নাম
iii. কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
১০। বিশেষ্যের পরিবর্তে যা ব্যবহৃত হয় তাকে কী বলে?
ক. বিশেষণ
খ. সর্বনাম
গ. ক্রিয়া
ঘ. অব্যয়
১১। বিশেষণ প্রকাশ করে-
i. বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ
ii. বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য
iii. ক্রিয়ার ভাব
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
১২। যে-শব্দের দ্বারা কোনো কাজ করাকে বোঝায় তাকে বলে-
i. বিশেষ্য
ii. বিশেষণ
iii. ক্রিয়া
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. iii
ঘ. i, ii ও iii
১৩। ক্রিয়া প্রধানত কত প্রকার?
ক. ২
খ. ৩
গ. ৪
ঘ. ৫
১৪। যে-ক্রিয়া বাক্যের বা বক্তার মনোভাবের পূর্ণতা ও পরিসমাপ্তি প্রকাশ, করে তাকে কী বলে?
ক. বিশেষ্য
খ. সমাপিকা ক্রিয়া
গ. অসমাপিকা ক্রিয়া
ঘ. ক্রিয়া
১৫। যে-ক্রিয়া দ্বারা কাজের বা অর্থের অপূর্ণতা বা অসমাপ্তি বোঝায়, তাকে কী বলে?
ক. বিশেষ্য
খ. সমাপিকা ক্রিয়া
গ. অসমাপিকা ক্রিয়া
ঘ. ক্রিয়া
১৬। বিশেষ্য শব্দের শেষে কী যোগ করে বিশেষণ শব্দ গঠন করা হয়?
ক. উপসর্গ
খ. অনুসর্গ
গ. বিভক্তি
ঘ. প্রত্যয়
১৭। কোন শব্দ দ্বারা নারী ও পুরুষ উভয়কে বোঝায়?
ক. দাদা
খ. মামা
গ. উপাচার্য
ঘ. খালা
১৮। বাংলা ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনামের সংখ্যাগত কত ধরনের ধারণা পাওয়া যায়?
ক. ২
খ. ৩
গ. ৪
ঘ. ৫
১৯। পক্ষ বা পুরুষ কত প্রকার?
ক. ২
খ. ৩
গ. ৪
ঘ. ৫
২০। যে সর্বনামের দ্বারা বাক্যের বা উক্তির বক্তা নিজেকে বা বক্তার দলের সবাইকে বোঝায়, তাকে বলে-
i. বক্তাপক্ষ
ii. শ্রোতাপক্ষ
iii. অন্যপক্ষ
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. iii
ঘ. i, ii ও iii
২১। যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে বলে-
i. বক্তাপক্ষ
ii. শ্রোতাপক্ষ
iii. অন্যপক্ষ
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. iii
ঘ. i, ii ও iii
২২। শ্রোতাপক্ষ কোনটি?
ক. আমি
খ. তুমি
গ. সে
ঘ. তারা
২৩। 'ইচ্ছুক'-শব্দটিতে কোন প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে?
ক. -অক
খ. -ইক
গ. -উক
ঘ. -আক
২৪। নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েছে?
ক. আকাশ
খ. আহার
গ. বিকল
ঘ. হাতল
ধ্বনি দিয়ে আমরা যে-আলোচনা শুরু করেছিলাম, শব্দে এসে তা নির্দিষ্ট কাঠামো লাভ করেছে। শব্দ থেকে বৃহৎ একক হলো বাক্য। আমরা যে-শব্দই শিখি না কেন, লক্ষ্য থাকে তাকে বাক্যে প্রয়োগ করার। যেমন-পড়া একটি শব্দ। শব্দটি বাক্যে প্রয়োগ করতে হলে আমাদের তা এভাবে প্রয়োগ করতে পারি:
আমি পড়ালেখায় আনন্দ পাই। একজাতীয় বই সবসময় পড়তে ভালো লাগে না। ছেলেমেয়েদের পড়ার সঙ্গে লেখার অভ্যাস করা দরকার।
বাক্য এবং বাক্যের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর সম্পর্কই বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আমরা বাক্য তৈরি করি এক বা একাধিক শব্দ একত্রে সাজিয়ে। যেমন- 'আমি বাড়ি গিয়ে ভাত খাব।' মনে রাখতে হবে, শব্দ যখন বাক্যে স্থান পায়, তখন তার পরিচয় হয় ভিন্ন। বাক্যের শব্দকে বলে পদ। শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যোগ করলেই পদ তৈরি হয়। সে-হিসেবে পদ তৈরির সূত্র হলো শব্দ + বিভক্তি = পদ। যেমন- 'আমি বই পড়ি', এ-বাক্যে তিনটি পদ আছে। 'আমি', 'বই' ও 'পড়ি'। এখানে 'পড়ি' পদটি তৈরি হয়েছে পড়ু -এর সঙ্গে ই বিভক্তি দিয়ে। কিন্তু 'আমি' ও 'বই' শব্দে কোনো বিভক্তি দেখা যাচ্ছে না। যেখানে বিভক্তি দেখা যায় না, সেখানে একটি শূন্য বিভক্তি কল্পনা করতে হবে। 'আমি' ও 'বই' পদ তৈরি হয়েছে আমি + শূন্য এবং বই শূন্য বিভক্তি দিয়ে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বিভিন্ন পদের সাহায্যে বাক্য গঠিত হয়। কিন্তু পদগুলো পরপর সাজালেই বাক্য হবে না। যেমন-বসেছিলাম সকালে পাশে রাস্তার আমি। এ-বাক্যে পাঁচটি পদ আছে, কিন্তু বাক্য হয়নি। কারণ পদগুলোর সাহায্যে কোনো অর্থ বোঝাচ্ছে না। বাক্যের পদগুলো ঠিকমতো পরপর বসালেই চেহারা বদলে যাবে, বাক্যটি অর্থপূর্ণ হবে। যেমন- আমি সকালে রাস্তার পাশে বসেছিলাম। পদগুলোকে এই যে সাজানো হলো তার একটি নিয়ম আছে। সব ভাষায় তা এক রকম হয় না। ইংরেজরা বলে আমি খাই ভাত (I eat rice); কিন্তু বাংলায় আগে 'ভাত' আসে, তারপর আমরা 'খাই', বলি: আমি ভাত খাই। এ-বাক্যেই পদ সাজানোর নিয়মটি লুকিয়ে আছে। কে খাবে- আমি; কী খাবে- ভাত, খাওয়া হলো মূল কাজ। যে কাজ করে তাকে বলে কর্তা, কাজটি হলো কর্ম আর ক্রিয়া তো আছেই 'খাওয়া'। এখন সূত্রের আকারে বলা যায়: বাংলা বাক্যের গঠন হলো কর্তা + কর্ম + ক্রিয়া (Subject + Object + Verb), সংক্ষেপে SOV। কখনো-কখনো বাক্যের এই গঠনসূত্র মানা হয় না। কিন্তু সাধারণভাবে তা অনুসরণ করতে হবে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভাবগত দিক থেকে বাক্যকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়- (১) বিবৃতিমূলক, (২) জিজ্ঞাসাবোধক, (৩) বিস্ময়বোধক ও (৪) অনুজ্ঞাবাচক।
১) বিবৃতিমূলক বাক্য : যে-বাক্যে কোনো কিছু বিবৃত করা হয়, তাকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। যেমন-রাস্তা বড় বিপদসংকুল। সকালে আমরা শহর দেখতে বের হলাম। আকাশ বর্ণহীন গ্যাসে ভরা। বিবৃতিমূলক বাক্য আবার দু-প্রকার- (ক) হাঁ-বোধক বাক্য ও (খ) না-বোধক বাক্য।
ক) হাঁ-বোধক বাক্য : যে-বাক্য দ্বারা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে হাঁ-বোধক বাক্য বলে। যেমন-সোমা বই পড়ে। রাহাত ফুটবল খেলে। সানজিদা গান গায়।
খ) না-বোধক বাক্য : যে-বাক্য দ্বারা না-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে না-বোধক বাক্য বলে। যেমন-টুম্পা সিনেমা দেখবে না। আমরা আজ মাঠে যাইনি। এ-গ্রামে একজন ডাক্তারও নেই।
২. জিজ্ঞাসাবোধক বাক্য : সংবাদ পাওয়ার জন্য শ্রোতাকে লক্ষ্য করে যে-বাক্য বলা হয়, তাকে জিজ্ঞাসাবোধক বাক্য বা প্রশ্নবাক্য বলে। যেমন- আজ কি তোমার স্কুল খোলা? আপনি চা খাবেন কি? তুমি কী ভাবছ?
৩. বিস্ময়বোধক বাক্য: এ-ধরনের বাক্যে বিস্ময়, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি আকস্মিক ও প্রবল আবেগ প্রকাশ পায়। যেমন- বাপ রে! কী প্রচণ্ড গরম! লোকটার কী সাহস!
৪. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য যে-ধরনের বাক্যে অনুরোধ, আদেশ, প্রার্থনা, আশীর্বাদ, মিনতি ইত্যাদি প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বা অনুজ্ঞা বাক্য বলে। যেমন- বইটি আমাকে পড়তে দাও না! তুমি ক্লাসে কথা বলবে না। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। আল্লাহ্ তোমার মঙ্গল করুন। কাল আসতে ভুল করবে না কিন্তু!
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
ঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ন (√) দাও:
১। যে কাজ করে তাকে কী বলে?
ক. কর্ম
খ. কর্তা
গ. ক্রিয়া
ঘ. উদ্দেশ্য
২। বাংলা বাক্যের গঠনপ্রক্রিয়া হলো-
i. কর্তা + কর্ম + ক্রিয়া
ii. কর্ম + কর্তা + ক্রিয়া
iii. কর্তা + ক্রিয়া + কর্ম
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৩। ভাবগত দিক থেকে বাক্য কত প্রকার?
ক. ৩
খ. ৪
গ. ৫
ঘ. ৬
৪। যে-বাক্যে কোনোকিছু বিবৃত করা হয় তাকে কী বলে?
ক. বিস্ময়বোধক বাক্য
খ. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
গ. হাঁ-বোধক বাক্য
ঘ. বিবৃতিমূলক বাক্য
৫। বিবৃতিমূলক বাক্য কত প্রকার?
ক. ২
খ. ৩
গ. ৪
ঘ. ৫
৬। সংবাদ পাওয়ার জন্য শ্রোতাকে লক্ষ্য করে যে-বাক্য বলা হয়, তাকে কী বলে?
ক. বিস্ময়বোধক বাক্য
খ. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
গ. জিজ্ঞাসাবোধক বাক্য
ঘ. বিবৃতিমূলক বাক্য
৭। যে-ধরনের বাক্যে বিস্ময়, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি আকস্মিক ও প্রবল আবেগ প্রকাশ পায়, তাকে কী বলে?
ক. বিস্ময়বোধক বাক্য
খ. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
গ. জিজ্ঞাসাবোধক বাক্য
ঘ. বিবৃতিমূলক বাক্য
৮। যে-ধরনের বাক্যে অনুরোধ, আদেশ, প্রার্থনা, আশীর্বাদ, মিনতি ইত্যাদি প্রকাশ পায়, তাকে কী বলে?
ক. বিস্ময়বোধক বাক্য
খ. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
গ. জিজ্ঞাসাবোধক বাক্য
ঘ. বিবৃতিমূলক বাক্য
৯। 'পিউ সিনেমা দেখতে পছন্দ করে না।'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
ক. বিস্ময়বোধক বাক্য
খ. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
গ. জিজ্ঞাসাবোধক বাক্য
ঘ. বিবৃতিমূলক বাক্য
১০। 'সৃষ্টিকর্তা তোমার মঙ্গল করুন।'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
ক. বিস্ময়বোধক বাক্য
খ. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
গ. জিজ্ঞাসাবোধক বাক্য
ঘ. বিবৃতিমূলক বাক্য
শব্দ ও বাক্যের অর্থের আলোচনা হলো বাগর্থ। অভিধানে প্রতিটি শব্দের অর্থ থাকে। কিন্তু সেই অর্থের বাইরে নানা অর্থে শব্দ ব্যবহৃত হয়। বাগর্থতত্ত্বে এসব দিক বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা হয়। দৃষ্টান্ত দিয়ে আরও সহজে বিষয়টি বোঝানো যেতে পারে। যেমন- 'বাবা' একটি শব্দ। এর অর্থ হলো আব্বা বা পিতা। বাবার সঙ্গে আরও দুটি অর্থ জড়িয়ে আছে: 'পূর্ণবয়স্ক' ও 'পুরুষ'। যদি বলি 'সাঁইবাবা', 'সাধুবাবা' তখন আর এ-বাবা পিতা নয়, অন্যকিছু, হয়তো গুরু, নাহয় কোনো সজ্জন, শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। এ থেকে বোঝা যায়, শব্দের অর্থের নির্দিষ্ট প্রতিবেশ বা ব্যবহারের ক্ষেত্র আছে। এর বাইরে শব্দের কোনো অর্থ নেই। এ-অধ্যায়ে শব্দের অর্থ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দুটি শব্দ যখন ধ্বনিগত দিক থেকে একই রকম শোনায় কিন্তু অর্থের দিকে থেকে ভিন্ন হয় তখন এসব শব্দকে সমশব্দ বলে। এগুলোকে সমোচ্চারিত শব্দও বলা হয়। যেমন- কুল (ফলবিশেষ), কূল (নদীর পাড় বা কিনার), কৃতি (কাজ), কৃতী (সফল) ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
যে-সকল শব্দ সমান বা একই অর্থ প্রকাশ করে তাকে সমার্থশব্দ বলে। যেমন- জননী, মাতা, প্রসূতি, গর্ভধারিণী- এই শব্দগুলোর অর্থ একই। অর্থাৎ এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলোর বানান ও উচ্চারণ আলাদা, কিন্তু অর্থ এক। এজাতীয় শব্দগুলোকে বলে সমার্থশব্দ। সমার্থশব্দকে প্রতিশব্দও বলা হয়। নিচে কিছু শব্দ এবং সেগুলোর সমার্থশব্দ উল্লেখ করা হলো।
শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ-বিষয়ক সমার্থশব্দ:
১. কপাল : ভাল, ললাট।
২. কান : কর্ণ, শ্রুতিপথ, শ্রবণেন্দ্রিয়।
৩. গলা : কণ্ঠ, গলদেশ, গ্রীবা।
8. গাল : কপোল, গণ্ডদেশ।
৫. চুল : অলক, কুন্তল, কেশ।
৬. চোখ : অক্ষি, আঁখি, নয়ন, নেত্র, লোচন।
৭. নাক : ঘ্রাণেন্দ্রিয়, নাসা, নাসিকা।
৮. পা : চরণ, পদ, পাদ।
৯. পেট : উদর, জঠর।
১০. বুক : উদর, বক্ষ, সিনা।
১১. মাথা : উত্তমাঙ্গ, মস্তক, মুণ্ড, শির।
১২. মুখ : আনন, বদন।
১৩. হাত : কর, পাণি, বাহু, ভুজ, হস্ত।
প্রাকৃতিক বস্তু-বিষয়ক সমার্থশব্দ :
১. আকাশ : অম্বর, গগন, নভঃ, ব্যোম, শূন্য।
২. গাছ : তরু, দ্রুম, পাদপ, বিটপী, বৃক্ষ।
৩. জল : নীর, পানীয়, বারি, সলিল।
8. পাহাড় : অচল, অদ্রি, গিরি, পর্বত, ভূধর।
৫. মেঘ : অম্বুদ, জলদ, জলধর, বারিদ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
যখন কোনো শব্দ আরেকটি শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তখন শব্দ দুটিকে একে অন্যের বিপরীতার্থক শব্দ বলে। ভাষায় অনেক শব্দ আছে, যেমন- কম-বেশি, অল্প-অধিক। কিছু শব্দ বিভিন্ন ভাষিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয়েছে। এগুলোর বিপরীতার্থক শব্দ সেভাবেই গঠিত হয়েছে। যেমন- আস্তিক-নাস্তিক, পাপিনী-নিষ্পাপা, আমদানি-রপ্তানি ইত্যাদি। নিচে আরও উদাহরণ দেওয়া হলো:
| মূল শব্দ | বিপরীতার্থক শব্দ | মূল শব্দ | বিপরীতার্থক শব্দ |
| অতীত | বর্তমান | বড় | ছোট |
| আকাশ | পাতাল | ভালো | মন্দ |
| আনন্দ | নিরানন্দ | রাত | দিন |
| আলো | আঁধার | শত্রু | মিত্র |
| আসল | নকল | সকাল | বিকাল |
| উন্নতি | অবনতি | সৎ | অসৎ |
| উপকার | অপকার | সুখ | দুঃখ |
| কাঁচা | পাকা | কুৎসিত | সুন্দর |
| গ্রহণ | বর্জন | ধ্বংস | সৃষ্টি |
| জয় | পরাজয় | স্বাধীন | পরাধীন |
| নরম | কঠিন | জিৎ | হার |
| পাপ | পুণ্য | হাসি | কান্না |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অভিধানে শব্দের একটি অর্থ থাকে কিন্তু ব্যবহারের সময় দেখা যায়, তা সে অর্থে ব্যবহার করা হচ্ছে না। যেমন- 'পতন' একটি শব্দ। আভিধানে এর অর্থ দেওয়া আছে 'পড়া, উপর থেকে নিচে চ্যুতি।' কিন্তু আমরা যখন বলি উনসত্তরের গণআন্দোলনে পাকিস্তানি একনায়ক আইউব খানের পতন হয়'- তখন এ 'পতন' উপর থেকে নিচে পড়া নয়। এর অর্থ 'শেষ হওয়া', 'সমাপ্ত হওয়া'। এভাবে শব্দ যখন অভিধান-অতিরিক্ত অর্থ প্রকাশ করে তখন তা রূপক হয়। যেমন- 'আমি কান পেতে রই।' বাক্যটিতে 'কান' কর্ণ অর্থে ব্যবহার করা হয়নি, এখানে এটি মনোযোগ, অভিনিবেশ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথের একটি গান দেখো:
"আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে।-
আমরা সবাই রাজা।
আমরা যা খুশি তাই করি,
তবু তাঁর খুশিতেই চরি,
আমরা নই বাঁধা নই দাসের রাজার ত্রাসের দাসত্বে,
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে-
আমরা সবাই রাজা।"
গানটিতে 'রাজা' শব্দটি সাতবার ব্যবহার করা হয়েছে। এ-রাজা সম্রাট, বাদশাহ বা নৃপতি নয়। যারা গানটি গাইছে, এখানে তাদের মনের ইচ্ছাকে বড় করে দেখা হয়েছে। রাজাকে কারো কাছে কৈফিয়ত দিতে হয় না। গায়কেরাও স্বাধীন, তারা মনের খুশিতেই চলতে চায়। এভাবে কবিতা, গান কিংবা অন্য কোনো রচনায় একই শব্দ বারবার ব্যবহার করা হলে তা রূপক হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
একটি শব্দ একবার উচ্চারিত হলে শব্দটি যে-অর্থ প্রকাশ করে তা দুবার উচ্চারণ করলে সে-অর্থ পরিবর্তিত হয়। যেমন- আমার জ্বর হয়েছে। এখানে 'জ্বর'-এর যে-অর্থ প্রকাশ পায়, 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে' বললে অন্য অর্থ বোঝায়। 'জ্বর জ্বর' অর্থ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের মতো খারাপ লাগা। নিচে উদাহরণের সাহায্যে অর্থসহ কিছু দ্বিরুক্ত শব্দ দেওয়া হলো:
বহুত্ববাচক : গাড়ি গাড়ি, হাঁড়ি হাঁড়ি, সাদা সাদা।
সাদৃশ্যবাচক : নিবুনিবু, পড়োপড়ো, কাঠ কাঠ।
সংযোগ : চোখে-চোখে, পিঠে-পিঠে, হাতে-হাতে।
ক্রিয়ার অসম্পূর্ণতা : যেতে যেতে, বলতে বলতে।
প্রকার বোঝাতে : হাসিহাসি, ভালোয় ভালোয়।
পরস্পর সম্পর্ক বোঝাতে : গলাগলি, মুখোমুখি, খোলাখুলি।
প্রকর্ষ অর্থে : চ্যাঁচামেচি, ধরাধরি, হাঁকাহাঁকি।
ইত্যাদি অর্থে : কাপড়চোপড়, জলটল।
আবেগ বোঝাতে : ধিক্ ধিক্, ছি ছি, হাঁ হাঁ।
অনুকরণ অর্থে : চোর চোর, ঘোড়া ঘোড়া।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বিশেষ অর্থ বহন করে এমন শব্দগুলো হলো পারিভাষিক শব্দ। জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় এমন কিছু শব্দ পাই যেগুলোর সঙ্গে আমরা পরিচিত নই। এগুলোর বাংলা সমার্থশব্দ অনেক সময় পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় তৈরি করতে হয় পারিভাষিক শব্দ। পরিভাষা তৈরির একটি নীতি হচ্ছে উৎস ও লক্ষ্য-এর মধ্যে এক-এক সম্পর্ক রক্ষা। যেমন- ইংরেজি ভাষায় বলে Aeroplane. আমরা এর বাংলা পরিভাষা করেছি 'বিমান'। এখানে অ্যারোপ্লেন হলো উৎস আর বিমান হলো লক্ষ্য। অ্যারোপ্লেনের সঙ্গে বাতাস ও ওড়ার সম্পর্ক আছে। কিন্তু বিমান-এর সঙ্গে এসবের তেমন যোগ নেই। পরিভাষা তৈরিতে উৎস ও লক্ষ্যের মধ্যে অর্থগত ঐক্য থাকতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। অ্যারোপ্লেন বললে সব সময় 'বিমান' বুঝতে হবে। এটিই হলো এক-এক সম্পর্ক। সবচেয়ে বড় কথা, পরিভাষা নির্বাচন করতে হবে লোকজজীবনের গভীর থেকে। উদাহরণ দেওয়া যাক। ইংরেজি ভাষায় আছে Fish Landing Centre. কিন্তু আমাদের মাছেরা অবতরণ করে না। জেলেরা মাছ ধরে আড়তে আনে। সেখান থেকেই মাছ কেনা-বেচা হয়। আমাদের সবাই আড়ত বোঝে। তাই ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার-এর বাংলা পরিভাষা হলো 'মাছের আড়ত'। নিচে উৎসসহ কিছু পারিভাষিক শব্দের উল্লেখ করা হলো।
| Adviser | উপদেষ্টা | Debate | বিতর্ক |
| Affidavit | হলফনামা | Democracy | গণতন্ত্র |
| Agent | প্রতিনিধি | Design | নকশা |
| Agenda | কৃত্যসূচি | Designation | পদমর্যাদা |
| Air | আকাশ | Diplomat | কূটনীতিক |
| Airport | বিমানবন্দর | Director | পরিচালক |
| Allowance | ভাতা | Donor | দাতা |
| Analysis | বিশ্লেষণ | Duplicate | অনুলিপি |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাগধারা গুলো এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। বহু মানুষের বহু যুগের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান এগুলোর মধ্যে সঞ্চিত হয়ে আছে। শব্দের অতিপরিচিত যে-অর্থ, বাগধারার অর্থ তা থেকে স্বতন্ত্র। অভিধানে বাগধারাগুলোকে পৃথকভাবে ভুক্তি দিয়ে এগুলোর অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- 'কাঁঠাল' বললে আমরা সবাই জানি তা এক ধরনের ফল, বাংলাদেশের জাতীয় ফল। কিন্তু বান্ধারায় যখন বলা হয় 'কাঁঠালের আমসত্ত্ব, তখন কাঁঠাল কিংবা আমসত্ত্বের অর্থ খুঁজতে গেলে হতাশ হতে হবে। পুরো বাগধারাটি একটি শব্দ বা ভাষিক উপাদান এবং এর অর্থও স্বতন্ত্র, তা হলো 'অসম্ভব বস্তু'। অনুরূপ হাড়জুড়ানো; মাথা খাওয়া; মুখ করা; আঠারো মাসে বছর, ভুঁইফোঁড় ইত্যাদি বাগধারার উদাহরণ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ন (√) দাও:
১। বাগর্থে যে বিষয়ের আলোচনা হয় তা হলো-
i. ধ্বনির অর্থের
ii. শব্দের অর্থের
iii. বাক্যের অর্থের
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. ii ও iii
২। দুটি শব্দ যখন ধ্বনিগত দিক থেকে একই রকম শোনায় কিন্তু অর্থের দিক থেকে ভিন্ন হয়, তখন একে কী বলে?
ক. সমশব্দ
খ. সমার্থশব্দ
গ. বিকল্প শব্দ
ঘ. রূপক
৩। সমশব্দের অপর নাম কী?
ক. বিকল্প শব্দ
খ. সমার্থশব্দ
গ. সমোচ্চারিত শব্দ
ঘ. রূপক
৪। যেসকল শব্দ সমান বা একই অর্থ প্রকাশ করে তাকে কী বলে?
ক. বিকল্প শব্দ
খ. সমার্থশব্দ
গ. সমোচ্চারিত শব্দ
ঘ. রূপক
৫। সমার্থশব্দের অপর নাম কী?
ক. বিকল্প শব্দ
খ. সমশব্দ
গ. সমোচ্চারিত শব্দ
ঘ. প্রতিশব্দ
৬। যখন কোনো শব্দ আরেকটি শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তখন শব্দ দুটিকে একে অন্যের কী শব্দ বলে?
ক. বিকল্প শব্দ
খ. বিপরীত শব্দ
গ. সমোচ্চারিত শব্দ
ঘ. প্রতিশব্দ
৭। শব্দ যখন অভিধান-অতিরিক্ত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে কী বলে?
ক. বিকল্প শব্দ
খ. সমার্থশব্দ
গ. সমোচ্চারিত শব্দ
ঘ. রূপক
৮। একটি শব্দ পরপর দুবার ব্যবহার করলে তাকে কী বলে?
ক. দ্বিরুক্ত শব্দ
খ. সমশব্দ
গ. সমোচ্চারিত শব্দ
ঘ. প্রতিশব্দ
৯। বিশেষ অর্থ বহন করে এমন শব্দকে কী বলে?
ক. দ্বিরুক্ত শব্দ
খ. সমশব্দ
গ. পারিভাষিক শব্দ
ঘ. প্রতিশব্দ
১০। 'কুল'-এর সমশব্দ কী?
ক. কল
খ. কাল
গ. বরই
ঘ. কূল
১১। 'চোখ'-এর সমার্থশব্দ কোনটি নয়?
ক. আঁখি
খ. নেত্র
গ. লোচন
ঘ. লেচন
১২। ক্রিয়ার অসম্পূর্ণতা বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
ক. ভালোয় ভালোয়
খ. যেতে যেতে
গ. হাতে-হাতে
ঘ. হাঁকাহাঁকি
১৩। 'আকাশ'-এর প্রতিশব্দ কোনটি?
ক. পৃথিবী
খ. গগন
গ. বিশ্ব
ঘ. অবনি
১৪। কোনটি 'পাহাড়' শব্দের সমার্থশব্দ নয়?
ক. পর্বত
খ. শৈল
গ. গিরি
ঘ. ধরণী
১৫।'সুন্দর'-এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
ক. জিৎ
খ. কুৎসিত
গ. কদাকার
ঘ. কোনোটি নয়
১৬। 'কাঁচা' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
ক. গুণ
খ. পুণ্য
গ. পাকা
ঘ. অপরিপক্ব
বানান বলতে বোঝায় 'বর্ণন' বা বর্ণনা করা। অন্যভাবে বলা যায়, বানান হলো বুঝিয়ে বলা। লিখিত ভাষায় এই বলা দ্বারা স্বরবর্ণের পর স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণের পর ব্যঞ্জনবর্ণ অথবা স্বরবর্ণের পর ব্যঞ্জনবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের পর স্বরবর্ণ যোগ করাকে বোঝায়। যেমন- স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ: আম; ব্যঞ্জনবর্ণ স্বরবর্ণ: মা (ম্ + আ); ব্যঞ্জনবর্ণ + স্বরবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ: কষ্ট (ক্+অ+ষ্+ট্)।
বানান শিখতে বা লিখতে গেলে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, পরিপূর্ণভাবে ধ্বনি অনুযায়ী বানান লেখার নিয়ম বিশ্বের কোনো ভাষায় নেই। ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আমরা দেখেছি যে, আমাদের ভাষায় সব বর্ণ সব ধ্বনির প্রতিনিধিত্ব করে না। কিন্তু সব বর্ণই আমাদের লিখনপদ্ধতির আশ্রয়। আমাদের জানতে হবে কোথায় দীর্ঘস্বর (ঈ, ঊ), চন্দ্রবিন্দু (ঁ), কোথায় নৃ, কোথায় ণ্, কোথায় শ্ স্য, কোথায় বিসর্গ (ঃ), কোথায় ঙ, ঞ, ং, ক্ষ, খ, ঙ্গ, জঙ্ক্ষ, ত, ৎ, ক্ষ ইত্যাদি বসবে। এসবের ব্যবহার না জানলে বানান ভুল হবে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
এমন এক সময় ছিল যখন বাংলা বানানের নিয়মের প্রতি কারো আগ্রহ ছিল না। এ-অবস্থায় ব্যক্তি নিজের মতো করে বানান ব্যবহার করত। এতে বানানের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, শুরু হয় বাংলা বানানে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা। বাংলা ভাষায় বিভিন্ন উৎস থেকে শব্দ এসেছে, যেমন- সংস্কৃত, আরবি-ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি। বাংলায় আগত শব্দগুলোর মূল উচ্চারণ এবং বাংলা ভাষার ধ্বনিব্যবস্থা অনুসারে সেগুলো লেখার প্রেরণা থেকেই উদ্ভাবিত হয় বাংলা বানানের নিয়ম। এক্ষেত্রে প্রথম প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয় 'বাংলা' শব্দের বানানের নিয়ম। পরবর্তীকালে বাংলা বানানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগী হয়েছে। আমাদের দেশে বাংলাদেশ টেকস্ট বুক বোর্ড, বাংলা একাডেমি বানানরীতি তৈরি করেছে। পরবর্তীতে টেকস্ট বুক বোর্ড ও বাংলা একাডেমির বানানরীতি এক হয়েছে। বাংলা একাডেমির বানানরীতি এখন সর্বত্র মানা হচ্ছে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিচে বাংলা বানানের কিছু নিয়ম উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হলো:
১. বিদেশি শব্দের (ইংরেজি, আরবি-ফারসি ও অন্যান্য ভাষার শব্দ) বানানে সব সময় হ্রস্ব ই বা ই-কার (ি) হবে। যেমন- জাফরানি, মিশনারি, ফিরিস্তি, উর্দি, বনেদি প্রভৃতি।
২. বাংলা শব্দের বানানে সব সময় হ্রস্ব ই বা ই-কার (ি) হবে। যেমন- ডুলি, হাঁড়ি, বাঁশি, চাঙারি প্রভৃতি।
৩. ভাষা ও জাতিবাচক শব্দের শেষে হ্রস্ব ই-কার হবে। যেমন- বাঙালি, ইংরেজি, ইরানি, পাঞ্জাবি, ইরাকি, পাকিস্তানি, জাপানি প্রভৃতি।
৪. ইংরেজি শব্দে a-উচ্চারণ যেখানে অ্যা সেখানে-এর জন্য অ্যা, s-এর উচ্চারণ যেখানে দন্তমূলীয় স্ সেখানে s-এর জন্য স, যেখানে শ এর জন্য sh এবং st-এর জন্য স্ট হবে। যেমন- অ্যাডভোকেট, অ্যাটোর্নি, বাস, সুগার, আর্টিস্ট, স্টেশন, স্টোর প্রভৃতি।
৫. সংস্কৃত বা তৎসম শব্দে 'র'-এর পরে 'ণ' (মূর্ধন্য-ণ) হবে। যেমন- চরণ, কারণ, রণ, মরণ, অনুসরণ প্রভৃতি।
৬. বাংলা শব্দে র-এর পর ন হবে। যেমন- ধরন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ন (√) দাও:
১। বানান বলতে কী বোঝায়?
ক. বর্ণন
খ. বর্ণনা করা
গ. বর্ণিল
ঘ. বিশ্লেষণ
২। পরিপূর্ণভাবে ধ্বনি অনুযায়ী কোন নিয়ম বিশ্বের কোনো ভাষায় নেই?
ক. বানান লেখার নিয়ম
খ. ধ্বনির নিয়ম
গ. শব্দগঠনের নিয়ম
ঘ. ব্যাকরণের নিয়ম
৩। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বানানের উপর প্রকাশিত গ্রন্থের নাম কী?
ক. বাঙলা শব্দের বানানের নিয়ম
খ. বাঙ্গলা শব্দের বানানের নিয়ম
গ. বাঙ্গাল শব্দের বানানের নিয়ম
ঘ. বাঙ্গালা শব্দের বানানের নিয়ম
৪। 'বাঙ্গালা শব্দের বানানের নিয়ম' কখন প্রকাশিত হয়?
ক. ১৯৩৫
খ. ১৯৩৬
গ. ১৯৩৭
ঘ. ১৯৩৮
৫। বাংলাদেশে যে প্রতিষ্ঠানগুলো বানানরীতি তৈরি করেছে সেগুলো হলো-
i. বাংলাদেশ টেকস্ট বুক বোর্ড
ii. বাংলা একাডেমি
iii. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৬। বিদেশি শব্দের বানানে সব সময় কী হবে?
ক. ণ
খ. ই বা ই-কার
গ. ষ
ঘ. ঈ বা ঈ-কার
৭। জাতিবাচক শব্দে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
ক. দীর্ঘ ঈ-কার
খ. হ্রস্ব ই-কার
গ. হ্রস্ব উ-কার
ঘ. কোনোটি নয়
৮। কোন বানানগুলো ঠিক?
ক. ডুলি, চরণ
খ. মরন, শানকী
গ. গহিণ, বনেদী
ঘ. আর্টিষ্ট, অণুসরন
কথা বলার সময় বাক্যের শেষে আমরা থামি। কোনো বাক্যে আমরা কোনোকিছুর বিবরণ দিই। কোনো বাক্যে কিছু জানতে চাই। কোনো বাক্যে প্রকাশ করি বিস্ময়ের ভাব। আবার কোনো কথার অর্থ স্পষ্ট করার জন্য একই বাক্যের মাঝখানে মাঝে মাঝে থামতে হয়। বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের শেষে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কয়েকটি বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয় এবং কিছু বিরামচিহ্ন বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত হয়। নিচে এগুলোর পরিচয় দেওয়া হলো।
ক) বাক্যের শেষে ব্যবহৃত বিরামচিহ্ন: বাক্যের শেষে নিচের তিনটি বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়:
দাঁড়ি (।): বাক্যের সমাপ্তি বা পূর্ণ-বিরতি বোঝাতে বাক্যের শেষে দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহৃত হয়-
পাহাড় আর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে আমাদের রাস্তা।
রাস্তা হেয়ার-পিনের মতো এঁকেবেঁকে উপরের দিকে উঠেছে। আবদুল লতিফ পাহাড়ের পথ দিয়ে মোটর চালাতে সিদ্ধহস্ত।
প্রশ্নচিহ্ন বা জিজ্ঞাসাচিহ্ন (?): প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা বোঝাতে প্রশ্নচিহ্ন বা জিজ্ঞাসাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়-
তোমার নাম কী?
নতুনদাকে বাঘে নিল না তো রে?
এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
বিস্ময়চিহ্ন (!): হৃদয়াবেগ (ভয়, ঘৃণা, আনন্দ ও দুঃখ ইত্যাদি) প্রকাশ করতে এবং সম্বোধন পদের পরে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন-
ওরে বাবা! কত বড় সাপ!
আহা! কী চমৎকার দৃশ্য!
হায়! হায়! ছেলেটা এতিম হয়ে গেল!
মহারাজ! এ আশ্রমমৃগ, বধ করিবেন না।
খ) বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিরামচিহ্ন: বাক্যের মধ্যে সাধারণত নিচের বিরামচিহ্নগুলো বসে:
কমা (,): বাক্যের মধ্যে অল্প বিরতির জন্য কমা ব্যবহৃত হয়। বাক্যে অনেক ক্ষেত্রে কমা বসে-
ক) বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
খ) পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি পদগুলোর পর কমা বসে। যেমন: সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
গ) সম্বোধন পদের পরে কমা বসে। যেমন: নিপা, এদিকে তাকাও।
ঘ) উদ্ধরণ চিহ্নের আগে কমা বসে। যেমন- রনি বলল, "কাল স্কুল খুলবে।"
ঙ) মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ৮ই মাঘ, বুধবার, ১৩৭৫ সাল।
চ) বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসে। যেমন- ৯, ইকবাল রোড, ঢাকা ১২০৭।
ছ) সমজাতীয় একাধিক পদ পরপর থাকলে কমা বসে। যেমন- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা আর ব্রহ্মপুত্র আমাদের বড় নদী।
জ) এক ধরনের পদ জোড়ায় জোড়ায় থাকলে প্রতি জোড়াকে আলাদা করতে কমা বসে। যেমন- মামা-মামি, চাচা-চাচি, ফুফা-ফুফি আমাদের সঙ্গে বনভোজনে গিয়েছিলেন।
ঝ) এক ধরনের একাধিক বাক্যাংশকে আলাদা করতে কমা বসে। যেমন- আমাদের আছে শহিদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, রবীন্দ্র-জয়ন্তী, নজরুল-জয়ন্তী।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বিবৃতিমূলক বাক্য :
ক) হাঁ-বোধক : ছোটবেলা থেকে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছি।
সমুদ্রে নানারকম প্রাণী বাস করে।
নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ।
না-বোধক:
মনটা ভালো না।
না, শুধু শহর নয়, সমগ্র অঞ্চলটা সর্বত্র প্রসিদ্ধ ও চিরপরিচিত।
তুমি নিশ্চয়ই জানতে কোনোমতেই তাকে বিরত করা যাবে না।
প্রশ্নবোধক বাক্য:
কী করে তুমি এ-কাজ করলে?
সেই সন্ধ্যাটা আবার কবে আসবে?
বড় বড় কথার আমরা কী বুঝি?
বিস্ময়বোধক বাক্য :
এত নীচ তুমি! আবার শ্রী-কান্ত!
অনুজ্ঞাবোধক বাক্য:
মন দিয়ে পড়।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়।
ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
কাজটি করে দাও না ভাই!
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ন (√) দাও:
১। বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের শেষে কী ব্যবহার করা হয়?
ক. দাঁড়ি
খ. প্রশ্নচিহ্ন
গ. বিস্ময়চিহ্ন
ঘ. বিরামচিহ্ন
২। দাঁড়িচিহ্নের জন্য কত সময় থামতে হয়?
ক. এক সেকেন্ড
খ. দুই সেকেন্ড
গ. তিন সেকেন্ড
ঘ. চার সেকেন্ড
৩। হৃদয়াবেগ প্রকাশ পায় যার মধ্য দিয়ে তা হলো-
i. ভয়
ii. ঘৃণা
iii. আনন্দ ও দুঃখ
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
৪। কমা অপেক্ষা বেশি বিরতির প্রয়োজন হলে কোন চিহ্ন বসে?
ক. কোলন
খ. সেমিকোলন
গ. দাঁড়ি
ঘ. হাইফেন
৫। সম্বোধন পদের পরে কী বসে?
ক. কোলন
খ. সেমিকোলন
গ. কমা
ঘ. হাইফেন
৬। সমজাতীয় একাধিক পদ পরপর থাকলে কী বসে?
ক. কোলন
খ. সেমিকোলন
গ. কমা
ঘ. হাইফেন
৭। শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
ক. কোলন
খ. সেমিকোলন
গ. কমা
ঘ. বিন্দু
৮। যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা ততোধিক বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
ক. কোলন
খ. ড্যাশ
গ. কমা
ঘ. বিন্দু
৯। সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
ক. কোলন
খ. সেমিকোলন
গ. কমা
ঘ. হাইফেন
১০। ত্রিপুরার অন্তর্গত ছিল কোন জেলা?
ক. চট্টগ্রাম
খ. বরিশাল
গ. সিলেট
ঘ. কুমিল্লা
১১। 'অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়'- এটি কোন জাতীয় বাক্য?
ক. বিস্ময়বোধক
খ. বিবৃতিমূলক
গ. অনুজ্ঞাবোধক
ঘ. অনুরোধসূচক
অভিধান বলতে শব্দের সংগ্রহ-জাতীয় গ্রন্থকে বোঝায়। একটি ভাষিক সম্প্রদায় তাদের মুখের ও লিখিত ভাষায় যেসব শব্দ ব্যবহার করে সেইসব শব্দ অভিধানে ভুক্তি দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু সব সময় তা সম্ভব হয় না। অভিধানে প্রতিটি শব্দের বিস্তৃত পরিচয় লেখা থাকে। যেমন- শব্দটির উৎস কী, কীভাবে তা তৈরি হয়েছে, এর প্রাচীন ও বর্তমান ব্যবহার কেমন, এর উচ্চারণ কেমন, শব্দটি বিশেষ্য না বিশেষণ নাকি অন্য কোনো শ্রেণির ইত্যাদি। অভিধান বানান শেখার জন্য বিশ্বস্ত গ্রন্থ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলা ভাষার অভিধান রচনার প্রথম চেষ্টা করেন খ্রিষ্টান মিশনারি মানুএল দা আসসুম্পসাঁউ। তাঁর রচিত বাংলা-পোর্তুগিজ ভাষার শব্দকোষ (Vocabulario em idioma Bengala e Portugez) গ্রন্থটি ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পোর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে প্রকাশিত হয়। কিন্তু ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ প্রণীত বঙ্গভাষাভিধান-কে প্রথম বাংলা অভিধান হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীকালে বহু বাংলা অভিধান প্রকাশিত হয়েছে এবং এখনো প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলাদেশে অভিধান প্রণয়নে বাংলা একাডেমির অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে বাংলা একাডেমি থেকে বাংলা ভাষার অভিধান ছাড়াও বেশ কিছু বিশেষায়িত অভিধান; যেমন- বানান অভিধান, উচ্চারণ অভিধান, বিজ্ঞান অভিধান, ঐতিহাসিক অভিধান, বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক অভিধান ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অভিধানে শব্দ সাজানোকে বলা হয় ভুক্তি। সব ভাষার অভিধানেই শব্দের এ-ভুক্তি নির্দিষ্ট ভাষার বর্ণক্রম অনুসারে হয়। বাংলায় ১১টি স্বরবর্ণ এবং ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে। যেমন-
স্বরবর্ণ : অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ
ব্যঞ্জনবর্ণ : ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ণ ত থ দ ধ ন প ফ বভ ম য র ল শ ষ স হ ড় ঢ় য় ৎ ং ঃ ঁ।
অভিধানে এই ক্রম ঠিক এভাবে অনুসরণ করা হয়নি। সামান্য কিছু বৈচিত্র্য এক্ষেত্রে রয়েছে। বাংলা অভিধানে গৃহীত বর্ণানুক্রম নিম্নরূপ:
অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ ৎ ং ঃ ঁ ;
ক ক্ষ খ গ ঘ ঙ; চ ছ জ ছ ঞ; ট ঠ ড ড় ঢ ঢ় ণ; ত থ দ ধ ন; প ফ ব ভ ম; য (য়) র ল শ ষ স হ।
উল্লেখ্য যে,ং ঃ ঁ স্বরবর্ণের পরে ও ব্যঞ্জনবর্ণের আগে ব্যবহৃত হয়। আর 'ক্ষ' যুক্তবর্ণ হলেও অভিধানে ক-বর্ণের পরে বর্ণরূপে প্রয়োগ হয়।

অভিধানে ব্যবহৃত বর্ণানুক্রমিক শব্দ
বাংলা অভিধানের শব্দগুলো যেভাবে বর্ণানুক্রমে সাজানো হয়েছে তার কিছু নমুনা নিচে উল্লেখ করা হলো:
অ
অনাথ [অনাথ] বিণ এতিম; মা-বাবা এবং অভিভাবক নেই যেসব শিশুর।
অবনি, অবনী (বিরল) [অবোনি] বি পৃথিবী; ধরা; জগৎ।
আ
আক্কেল [আক্কেল] বি ১. বুদ্ধি; বিবেচনা; কাণ্ডজ্ঞান।
উ
উনুন [উনুন] বি চুলা।
ক
কিচিরমিচির [কিচির্মিচির্] বি ক্ষুদ্র পশুপাখির একসঙ্গে কোলাহল ধ্বনি।
কুমোর [কুমোর] বি কুম্ভকার; মাটি দিয়ে পুতুল, পাত্র, প্রতিমা তৈরি করা যাদের পেশা।
খ
খিড়কি, খিড়কী [খিড়কি] বি জানালা; বাতায়ন।
গ
গচ্ছা [গচ্ছা] বি অনর্থক অর্থদণ্ড; ক্ষতিপূরণ।
ছ
ছিন্ন [ছিন্নো] বিণ ছেঁড়া।
ছোপ [ছোপ] বি রঙের পোঁচ।
ড
ডাগর [ডাগোর] বিণ বৃহৎ; বড় (ডাগর চোখ, ডাগর মেয়ে)।
ত
তারিফ [তারিফ্] বি প্রশংসা; বাহবা।
তেজস্বী [তেজোশ্শি] বিণ শক্তিশালী; তেজোময়।
দ
দরবার [দর্বার] বি রাজসভা; জলসা।
দিব্যি [দিব্বি] বিণ ভালোভাবে; উত্তম; চমৎকার; পরিষ্কার করে।
ন
নিখিল [নিখিল] বিণ সমগ্র; পুরো; সমুদয়।
নিরানন্দ [নিরানোন্দো] বিণ আনন্দহীন; বিষণ্ণ; অসুখী।
নিয়তি [নিয়োতি] বি ভাগ্য; অদৃষ্ট; নসিব।
শ
শীর্ণ [শির্নো] বিণ কৃশ; ক্ষীণ; রোগা।
স
সচরাচর [শচরাচর] ক্রিবিণ সাধারণত; প্রায়শ; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ন (√) দাও:
১। শব্দের সংগ্রহ-জাতীয় গ্রন্থকে কী বলে?
ক. অভিধান
খ. শব্দকোষ
গ. শব্দার্থকোষ
ঘ. শব্দমালা
২। বাংলা ভাষার অভিধান রচনার প্রথম চেষ্টা করেন কে?
ক. রাজা রামমোহন রায়
খ. উইলিয়াম কেরি
গ. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
ঘ. মানুএল দা আসসুম্পসাঁউ
৩। বাংলা-পোর্তুগিজ ভাষার শব্দকোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
ক. রাজা রামমোহন রায়
খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
গ. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
ঘ. উইলিয়াম কেরি
৪। বাংলা-পোর্তুগিজ ভাষার শব্দকোষ কখন প্রকাশিত হয়?
ক. ১৭৪১
খ. ১৭৪২
গ. ১৭৪৩
ঘ. ১৭৪৪
৫। রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ প্রণীত অভিধানের নাম কী?
ক. সরল বাংলা অভিধান
খ. বঙ্গভাষাভিধান
গ. ডিকশনারি
ঘ. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান
৬। 'বঙ্গভাষাভিধান' কখন প্রকাশিত হয়?
ক. ১৮১৬
খ. ১৮১৭
গ. ১৮১৮
ঘ. ১৮১৯
৭। অভিধানে শব্দ সাজানোকে কী বলে?
ক. ভুক্তি
খ. গ্রহণ
গ. অনুপ্রবেশ
ঘ. প্রবেশ
৮। অভিধানে ব্যবহৃত বর্ণানুক্রম কোনটি ঠিক?
ক. ক আ আ উ
খ. উ ঋ ছ অ
গ. জ দ র আ
ঘ. ও ঔংঃ
৯। যুক্তাক্ষরের বর্ণানুক্রম কোনটি ঠিক?
ক. গ্ধ ঙ্গ ঙ্ক ক্ষ খ
খ. ঞ উ ড্ড ড় গ ন্ট
গ. ন্ট ন্ড ন্ঠ ন্ত ন্থ
ঘ. ষ্প ষ্ফ ষ্ণ ষ্ম ষ্ক
১০। অভিধানে ব্যবহৃত বর্ণানুক্রমিক শব্দ কোনটি ঠিক?
ক. আক্কেল, অনাথ
খ. গচ্ছা, কুমোর
গ. তারিফ, ছোপ
ঘ. নিখিল, সচরাচর
Read more