আগের ক্লাসে আমরা সবাই মিলে সফল শিক্ষার্থীর গুণাবলির একটি তালিকা তৈরি করেছি। কিন্তু এই গুণগুলো কীভাবে অর্জন করা যায়? চলো এবারে আমরা চেষ্টা করি সফল শিক্ষার্থীর গুণাবলি অর্জনের পন্থাগুলো সম্পর্কে জানতে।
এসো নিচের ছবিগুলো দেখি আর কী ঘটছে তা একজন ক্লাসের সবাইকে বুঝিয়ে বলি।

এসো চিন্তা করি: উপরের ছবিগুলোতে ওরা কোথায় যাচ্ছে? কীভাবে যাচ্ছে? ওরা কি ভালো শিক্ষার্থী হতে পারবে? কেন তোমার এ রকম মনে হচ্ছে তা বন্ধুদের বুঝিয়ে বল।
এসো দেখি আমরা কী শিখলাম .…………..
এসো স্কুলে যাই প্রতিদিন
ভবিষ্যৎ হবে বাধাহীন
যদি তোমরা ভালো শিক্ষার্থী হতে চাও, তবে অবশ্যই নিয়মিত স্কুলে যাওয়া এবং প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থাকাটা জরুরি। অনেক সময়ই শিক্ষার্থীরা মনে করে বাসায় বসে পড়েও ভালো শিক্ষার্থী হওয়া যায়। কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই যারা পরীক্ষায় ভালো করে, তারা নিয়মিত স্কুলে আসে এবং ক্লাস করে। স্কুলে না এলে শিক্ষকের পড়ানো, শ্রেণির কাজ, নোট নেওয়া, ইত্যাদি কাজ থেকে তুমি পিছিয়ে পড়বে। আর স্কুলে শুধু আমরা পড়ালেখাই শিখি না, আরো অনেক কিছু শিখি। যেমন: সহপাঠীদের সাথে মিলেমিশে চলা ও তাদের সাথে পাঠ নিয়ে আলোচনা করা, শিক্ষকসহ সবার সাথে সুন্দর আচরণ করা, বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করা, তারা কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য করা এ রকম আরও কত কী!

এসো চিন্তা করি: উপরের ছবি দুটি লক্ষ কর। সফল শিক্ষার্থী হবার সাথে সালাম ও শিউলির কাজগুলোর কোনো সম্পর্ক আছে কি? থাকলে, কীভাবে তা সালামকে সফল শিক্ষার্থী হতে সাহায্য করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করি।
এসো দেখি আলোচনা শেষে আমরা কী শিখলাম ..........
ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত হলেই কিন্তু যথেষ্ট নয়। প্রতিটি ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। শিক্ষক যা বোঝানোর চেষ্টা করেন তা একটু মন দিলেই আসলে বোঝা যায়। ক্লাসে পড়া বুঝতে পারলে বাসায় গিয়ে পড়ার জন্য পরিশ্রমও কমে যায়। শিক্ষক যখন শ্রেণির কাজ দেন, তখন তা মন দিয়ে করার চেষ্টা করা প্রয়োজন। আর বাড়ির কাজ কী করতে হবে তা ঠিকভাবে নোট বুকে তুলে না নিলে বাসায় আসতে আসতে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময়ই তোমরা মনে কর যে লেখার দরকার নেই, হয়ত মনে থাকবে। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্কে এত কিছু মনে রাখা বা ধারণ করা আসলে সম্ভব নয়। তাই সবসময় নিজেকে সাহায্য করার জন্য একটি ডায়রি বা নোটবুক রাখবে। প্রয়োজনীয় সবকিছু তাতে লিখে রাখবে। লেখার জন্য শোনায় যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। এ জন্য অবশ্যই তোমাকে মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকের কথা শুনতে হবে। শ্রেণিকক্ষে কী কী ঘটছে, সে ব্যাপারেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা সবসময় সহজ নাও হতে পারে। চেষ্টা করতে হবে শ্রেণিকক্ষে থাকাকালীন অন্যান্য বিষয় নিয়ে চিন্তা না করার। অন্য কিছু মাথায় আসলেও তা সেই মুহূর্তে মাথা থেকে দূর করার চেষ্টা করা উচিত।

এসো চিন্তা করি: উপরের ছবিতে অণিমা ও রাসেল কী করছে? সফল শিক্ষার্থী হবার কোন গুণটি তাদের আছে, তা নিয়ে আলোচনা করি।
সময়মত পড়ালেখা, সময়মত খেলা
এমনি করেই নিয়মমত কাটে আমার বেলা।
এসো দেখি নিয়মমাফিক সময়মত কোনো কাজ করার সুবিধা। আরও দেখি সময়মত কোনো কাজ না করলে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে।
| সময়মত কাজ করার সুবিধা | সময়মত কাজ না করার অসুবিধা |
| ১। প্রতিদিনের পড়াটা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করলে পরীক্ষার আগে চাপ পড়ে না। | ১। অনেক সময় আমরা প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করি না। তখন পরীক্ষার আগে অনেক পড়া জমে যায়। এত পড়া একসাথে পড়ার চেষ্টা করলেও আসলে তা সম্ভব নয়। ফলে পরীক্ষার আগে আমাদের অনেক কষ্ট হয়, ফলাফলও ভালো হয় না। |
| ২। একসাথে অনেক পড়া পড়তে হয় না বলে পড়ার মাঝে আনন্দ পাওয়া যায়। | ২। একসাথে অনেক পড়া পড়তে হয় বলে মনের মধ্যে পড়ার ভয় জমে যায়। |
| ৩। খেলার জন্য, শখের কাজটি করার জন্য, আত্মীয়দের বাড়িতে যাবার জন্য, ছোটো ভাই- বোনকে পড়ানোর জন্য...... এরকম অনেক কাজের জন্যও যথেষ্ট সময় থাকে। | ৩। কোনো আনন্দের মুহূর্তও উপভোগ করতে পারি না। হয়ত কোনো একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছি, কিন্তু মোটেই মজা করতে পারছি না। কারণ শুধুই মনে হচ্ছে, সামনে পরীক্ষা, পড়া হয়নি। |
| ৪। প্রতিটি কাজের জন্য সময় থাকে বলে কাজগুলো ঠিকমত করা যায়। | ৪। প্রতিটি কাজের জন্য যথেষ্ট সময় থাকে না বলে কাজগুলো ঠিকমতো করা যায় না। তাড়াহুড়ায় কাজগুলো ভালোভাবে করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। |
| ৫। এতে করে ঠিক সময়ে ঘুম, খাওয়া, পড়া, খেলা করা সম্ভব। তাই শরীর-স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। | ৫। অনিয়মের কারণে স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে। |
সবচেয়ে ভালো হয় যদি প্রতিদিন কখন কী কাজ করব তার একটি সাপ্তাহিক রুটিন তৈরি করা যায়।
রুটিনমাফিক সব কাজ করার মাঝেও অনেক আনন্দ পাওয়া যায়।

এসো চিন্তা করি: ছবিতে শিক্ষার্থীরা কী করছে? তোমরাও কি ক্লাসে এরকম কাজ কর? এরকম আর কী কী কাজ তোমরা করো?
শিক্ষার্থী হিসেবে সক্রিয় থাকি
সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকি।
এবারে এসো একটি গল্প শুনি......
সক্রিয় সুমি
|
| দলগত কাজ এসো আলোচনা করে নিচের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি: সুমিকে তার সহপাঠী বন্ধুরা কেন সক্রিয় সুমি বলে ডাকে তা ব্যাখ্যা কর। |

একবারে পড়া যদি না বুঝি ভাই
ধৈর্য ধরে বারবার চেষ্টা করে যাই।
কাজ: এবারে চল একটি ধাঁধার সমাধান করি: ![]() ধাঁধা: এক লোক একটি বাঘ, একটি ছাগল, এক ঝুড়ি পান নিয়ে নৌকায় করে নদী পার হবে। কিন্তু শর্ত আছে। |
- বলোতো বাঘ, ছাগল এবং পানের ঝুড়িকে সে কীভাবে নদীর অন্য পারে নেবে?
কী, করতে পেরেছ ধাঁধার সমাধান? হয়তো কেউ কেউ পেরেছ। যারা এখনো ধাঁধার সমাধান বের করতে পারনি, তারা বন্ধুদের সাহায্য নিতে পার। যারা পেরেছ তারা কি একবারেই পেরেছ? নিশ্চয়ই না। বেশিরভাগেরই এ জন্য কয়েকবার করে চেষ্টা করতে হয়েছে। কোনো কাজে সফল হওয়ার জন্য ধৈর্য ধরে চেষ্টা করাকে আমরা বলি অধ্যবসায়। এটিও সফল শিক্ষার্থী হবার একটি বড়ো গুণ।
ঠিক ধাঁধার সমাধানের মতোই অনেক সময় পড়া বুঝতে, শ্রেণির কাজ বা বাড়ির কাজ করতে একবারের চেষ্টায় সফল হওয়া যায় না। তখন অনেক সময় আমাদের রাগ হয়, মন খারাপ হয়। তবে মনে রাখতে হবে, চেষ্টা করলে প্রায় সব কাজেই কিছুটা হলেও সফল হওয়া যায়। আর সবচেয়ে বড়ো কথা হলো-চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও লজ্জার কিছু নেই। বরং চেষ্টা করাটাই সম্মানজনক, চেষ্টা না করাটাই বোকামি। আবার কিছু কিছু কাজ আছে যা বারবার করলে দক্ষতা জন্মায়। ফলে কাজটি কম সময়ে নিখুঁতভাবে করা যায়। যেমন: প্রথমবার রুটি তৈরি করতে গেলে সময় অনেক বেশি লাগে এবং রুটির আকৃতি ও সুষম হয় না। কিন্তু বরাবার চেষ্টা করতে থাকলে একসময় রুটিটি সুন্দর গোলাকার ও পাতলা হয় এবং সময়ও কম লাগে বলতে পার আর কী কী কাজ আছে যেগুলো বারবার করার ফলে আমরা কাজটি করায় পটু হয়ে উঠি?
উপরের অনুচ্ছেদে আমরা ধৈর্য এবং অধ্যবসায় সম্পর্কে কিছু বিষয় বা ধারণা জানলাম। সেগুলো হলো:-

এগুলো আবার একটি আরেকটির সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেমন: ধৈর্য ধরে বারবার চেষ্টা করলে তাকে আমরা বলছি অধ্যবসায়। আর অধ্যবসায়ের কারণে আমরা কোনো কাজে সফল হতে পারি এবং জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারি। সফলতা আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। আবার আত্মবিশ্বাস আমাদেরকে করে তোলে আরও সফল। দক্ষতা জন্মালে আমরা কাজকে নিখুঁতভাবে করতে পারি, আমাদের সময় কম লাগে, ভুলও হয় কম।
এই বিষয়গুলোকে এদের সম্পর্ক অনুযায়ী নিচের মতো করে সাজানো যায়। একে বলে ধারণা মানচিত্র


এসো চিন্তা করি: ছবিতে রিমি আর সুমনা কী করছে? বলতে পার সবাই ওদের কেন সৃজনশীল বলে?
তোমরাও কি ওদের মতো হতে চাও?
নতুন কিছু করব আমি, নতুন কিছু গড়ব
এমনিভাবেই জীবন আমি সফলতায় ভরব।
একক কাজ
|

এসো চিন্তা করি: দিলারা আর মইনুল দুই ভাই-বোন। তারা কী করছে? কেনই বা করছে?
শুধুই মুখস্থ করি না আমি, বুঝে বুঝে পড়ি
সহজেই এ জ্ঞান তাই জীবনে প্রয়োগ করি।
দিলারা আর মইনুলের গল্প 'মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন সাহসী... মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন সাহসী...'। |
দলগত কাজ
তাহলে নিশ্চয়ই আমরা সবাই চেষ্টা করব বুঝে পড়ার। যেমন: এ অধ্যায়ের বিষয়বস্তুগুলো মুখস্থ না করে ভালোভাবে বুঝলে আর এ নিয়ে চিন্তা করলে তুমি নিজের জীবনে এর প্রভাব বুঝতে পারবে। নিজের জীবনে এগুলো কাজে লাগিয়ে তুমিও সফল শিক্ষার্থী হয়ে উঠবে। |

এসো চিন্তা করি: আগের পৃষ্ঠার ছবিগুলো ব্যাখ্যা কর। পাশের বন্ধুর সাথে এটি নিয়ে আলোচনা কর।
নিজেকেই প্রশ্ন করি কী শিখলাম আমি
যা কিনা আমার জন্য সোনার চেয়েও দামি।
| কাজ এসো জোড়ায় বসে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি। ১. আমাদের চারপাশের গাছপালার সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। কমে যাওয়ার কারণগুলো কী? ২. গাছপালা কমে যাওয়ার ফলে পরিবেশের উপর কী কী বিরূপ প্রভাব পড়ছে? ৩. এভাবে পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার ফলে আমরা কী ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি? ৪. গাছপালা রক্ষায় আমাদের করণীয় কী? এবারে পাশের সহপাঠীর সাথে আলোচনা কর ও উপস্থাপন কর। |
তোমরা যে চিন্তাগুলো করেছ তা হলো তোমাদের শিখনসংক্রান্ত চিন্তা। শিক্ষার্থী হিসেবে সফল হতে হলে এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা জরুরি। অর্থাৎ আমরা সবসময় চিন্তা করব কী শিখলাম?, কীভাবে শিখলাম?, কেন শিখলাম?, কীভাবে শিখলে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারতাম?.... ইত্যাদি নানা প্রশ্ন।
আমরা সফল শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে নিয়মিত উপস্থিতি, মনোযোগ, নিয়মানুবর্তিতা, সক্রিয়তা, ধৈর্য, সৃজনশীলতা, পাঠ্য বিষয়ের প্রয়োগ, শিখন নিয়ে চিন্তা করা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জনের পন্থা সম্পর্কে জানলাম। এগুলো জানার জন্য কখনো আমরা ছবি দেখে আলোচনা করেছি, কখনো গল্প বা ঘটনার বর্ণনা পড়েছি। এবারে আমরা আরো দুটি গুণ আত্মত্মবিশ্বাস আর আত্মমর্যাদা অর্জনের পন্থাগুলো জানব। কিন্তু এবারে মূল দায়িত্বটি নেবে তুমি......
একক কাজ ও উপস্থাপনা
|
একক কাজ ও উপস্থাপনা এবারে আত্মমর্যাদা বোঝানোর জন্য পোস্টারে ছবি বা কার্টুন আঁকবে (আগের পাঠগুলোতে রয়েছে)। ছবিতে একজন মানুষ কিছু একটা করছে। যা করছে তা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ করে থাকে। সাথে এটি বোঝানোর জন্য একটি ছোটো ছড়া লেখার চেষ্টা কর। এরপর প্রত্যেকে অল্প সময়ের মধ্যে তা বন্ধুদের সামনে উপস্থাপন কর। |
Read more
