পরিভাষা গাইড ও নোট (প্রথম পরিচ্ছেদ)

ষষ্ঠ শ্রেণি — মাধ্যমিক - সংগীত - তত্ত্বীয় | NCTB BOOK
154

সংগীত
সাধারণত সংগীত বলতে গানকে বোঝায়। সংগীত কথাটি দিয়ে বাদ্যসংগীতকে বা বাজনাকেও বোঝানো হয়। তবে সংগীত বলতে মূলত গীত, নৃত্য ও বাদ্যকে একত্রে বোঝায়। সংগীতকে ইংরেজিতে Music বলে। গীত মানে কণ্ঠসংগীত, বাদ্য মানে বাদ্যসংগীত এবং নৃত্য মানে মুদ্রা ও অভিনয় সহযোগে অঙ্গক্রিয়া।
স্বর কী?
সংগীতে ব্যবহৃত ধ্বনির নাম স্বর। এই স্বর দুই প্রকার, তাহলো শুদ্ধস্বর ও বিকৃতস্বর। শুদ্ধ স্বর ৭টি ও বিকৃত স্বর ৫টি। উভয় মিলে মোট স্বরের সংখ্যা ১২টি। ৭টি শুদ্ধ স্বরের নাম হচ্ছে ষড়জ, ঋষভ বা রেখাব, গান্ধার, মধ্যম, পঞ্চম, ধৈবত এবং নিষাদ বা নিখাদ। সংক্ষেপে এগুলোকে বলে সা রে গা মা পা ধানি।
শুদ্ধ স্বর আবার দুই প্রকার: চলস্বর এবং অচলস্বর। সাতটি শুদ্ধ স্বর হচ্ছে-সারেগামাপাধা নি। এর মধ্যে সা এবং পা বিকৃত হয় না বলে এ দুটিকে বলে অচলস্বর। রেগামাধানি এই পাঁচটির প্রত্যেকটি বিকৃত হয় বলে এগুলোকে বলে চলম্বর।
স্বরের প্রকারভেদ
বিকৃত স্বর দুই প্রকার যেমন: কোমল ও তীব্র বা কড়ি। কোমলস্বর চারটি। তীব্র বা কড়ি স্বর একটি। এগুলো কোমল গান্ধার, কোমল ধৈবত, কোমল নিষাদ ও তীব্র মধ্যম।
তীব্রস্বর
তীব্রস্বরের সংখ্যা মাত্র একটি। সেটি হচ্ছে তীব্র মধ্যম বা কড়ি মধ্যম।
স্বরের নাম ও স্বর চিহ্ন
স্বরলিপির অনেক পদ্ধতি আছে। আমাদের দেশে আকারমাত্রিক স্বরলিপি পদ্ধতি সর্বাধিক প্রচলিত। স্বরচিহ্ন এবং স্বরগুলোর নামের তালিকা নিচে আকারমাত্রিক এবং ভাতখণ্ডে পদ্ধতি অনুযায়ী দেয়া হলো:

শুদ্ধস্বরের চিহ্নসমূহ

স্বরের নাম স্বরের নাম (সংক্ষিপ্ত) আকারমাত্রিক পদ্ধতিতে ভাতখণ্ডে পদ্ধতিতে

ষড়জ সা স সা

ঋষভ বা রেখাব রে র রে

গান্ধার গা গ গ

মধ্যম মা ম ম

পঞ্চম পা প প

ধৈবত ধা ধ ধ

নিষাদ বা নিখাদ নি ন নি

বিকৃতস্বরের চিহ্নসমূহ

স্বরের নাম আকারমাত্রিক পদ্ধতিতে ভাতখণ্ডে পদ্ধতিতে

কোমল ঋষভ ঋ রে

কোমল গান্ধার জ্ঞ গ

কড়ি মধ্যম হ্ম ম

কোমল ধৈবত দ ধ

কোমল নিষাদ ণ নি

সপ্তক
সাত স্বরের সমষ্টিকে সপ্তক বলা হয়। কণ্ঠসংগীতে সাধারণত তিনটি সপ্তক ব্যবহৃত হয়। এগুলো হচ্ছে- মন্দ্র সপ্তক, মধ্য সপ্তক ও তার সপ্তক। প্রচলিত কথায় এগুলোর নাম- উদারা, মুদারা ও তারা। আকারমাত্রিক স্বরলিপি পদ্ধতিতে উদারা সপ্তকের স্বর চিহ্নে হসন্ত এবং তার সপ্তকের স্বর চিহ্নে রেফ ব্যবহৃত হয়। ভাতখণ্ডে স্বরলিপি পদ্ধতিতে উদারা সপ্তকের স্বর চিহ্নে স্বরের নিচে বিন্দু এবং তার সপ্তকের স্বর চিহ্নে স্বরের উপরে বিন্দু ব্যবহৃত হয় এবং মুদারা সপ্তকের স্বর চিহ্নে উভয় পদ্ধতির স্বরলিপি লিখনে কোনো চিহ্ন ব্যবহৃত হয় না। তিন সপ্তকের অবস্থান নিম্নরূপ:

উদারা মুদারা তারা

আকারমাত্রিক পদ্ধতিতে সঝরজ্ঞগমহ্মপদধণন সঝরজ্ঞগমহ্মপদধণন সর্খরজ্ঞগর্মাপর্দধর্ণন

ভাতখণ্ডে পদ্ধতিতে সারেরেগ্রগমমপধধনিনি সারেরেগ্রগমমপধধনিনি সারেরেগ্রগমমপধনিনি

স্বরমালিকা
স্বরমালিকা এমন একটি অনুশীলন যা রাগে ব্যবহৃত হয়। এর স্বরসমূহ তালে আবদ্ধ করে পরিভ্রমণ করা যায়। স্বরমালিকা শাস্ত্রীয়সংগীতের প্রাথমিক বা সূচনাকালীন অনুশীলনের আবশ্যিক।

জাতি
আরোহণ এবং অবরোহণের স্বর সংখ্যার হিসাবকে জাতি বলে। জাতি প্রধানত ৩টি। সম্পূর্ণ, ষাড়ব ও ঔড়ব। সাত স্বরের রাগকে বলে সম্পূর্ণ জাতির রাগ। ছয় স্বরের রাগকে বলে ষাড়ব বা খাড়ব জাতির রাগ। পাঁচ স্বরের রাগকে বলে ঔড়ব জাতির রাগ। আরোহণ ও অবরোহণের স্বর সংখ্যাভেদে এই তিনটি থেকে নয়টি জাতি সৃষ্টি হয়। এগুলোর পরিচিতি নিম্নরূপ:

জাতির নাম আরোহণের স্বর সংখ্যা অবরোহণের স্বর সংখ্যা

সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ ৭ টি ৭টি

সম্পূর্ণ-ষাড়ব ৭ টি ৬টি

সম্পূর্ণ-ঔড়ব ৭ টি ৫ টি

ষাড়ব-সম্পূর্ণ ৬ টি ৭টি

ষাড়ব-ষাড়ব ৬ টি ৬টি

ষাড়ব-ঔড়ব ৬ টি ৫টি

ঔড়ব-সম্পূর্ণ ৫ টি ৭টি

ঔড়ব-ষাড়ব ৫ টি ৬টি

ঔড়ব-ঔড়ব ৫ টি ৫টি

আরোহ বা আরোহণ
যেকোনো স্বর থেকে উপরের স্বরে যাওয়ার জন্য প্রতিটি রাগে একটি নির্দিষ্ট গতিপথ রয়েছে একে বলে আরোহ বা আরোহণ। আরোহ দুই প্রকার। যেমন: সরল ও বক্র।
অবরোহ বা অবরোহণ
যেকোনো স্বর থেকে নিচের দিকে চলার জন্য প্রতিটি রাগে একটি নির্দিষ্ট গতিপথ রয়েছে একে বলে অবরোহ বা অবরোহণ। অবরোহ দুই প্রকার। যেমন: সরল ও বক্র।
বাদী ও সমবাদী
যে স্বরের অধিক ব্যবহারে রাগরূপ স্পষ্ট হয় তাকে বাদী স্বর বলে। রাগে যে স্বরটি বাদী স্বরের চেয়ে কম কিন্তু অন্যান্য স্বরের চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় তাকে সমবাদী স্বর বলে।
অনুবাদী স্বর
বাদী এবং সমবাদী স্বর ছাড়া অন্য যে স্বরগুলি রাগে ব্যবহৃত হয় তাদের অনুবাদী স্বর বলে।
বিবাদী স্বর
সাধারণত যে স্বর রাগে ব্যবহৃত হয় না। কিন্তু কুশলী শিল্পীগণ রাগের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য যে স্বর ব্যবহার করে থাকেন তাকে বিবাদী স্বর বলে।
নিম্নে ১০টি ঠাটের নাম, স্বররূপ ও জনক রাগ এর পরিচিতি দেওয়া হলো:-

ঠাটের নাম সাত স্বর জনকরাগ

বিলাবল সরগমপধন বিলাবল

খাম্বাজ সরগমপধণ খাম্বাজ

কাফী সরজ্ঞমপধণ কাফী

আশাবরী সরজ্ঞমপদণ আশাবরী

ভৈরবী সঋজ্ঞমপদণ ভৈরবী

ভৈরব সঋগমপদন ভৈরব

কল্যাণ সরগহ্মপধন ইমন

মারওয়া বা মারবা সঋগমপদন মারওয়া বা মারবা

পুরবী সঋগমপদন পুরবী

টোড়ি সঋজ্ঞহ্মপদন টোড়ি

হারমোনিয়ামের স্কেল পরিচিতি
সংগীতে ব্যবহৃত ১২টি স্বরের প্রতিটির পৃথক পৃথক নাম রয়েছে। পাশ্চাত্য সংগীতের ধারায় এদেরকে স্কেল বলা হয়। নিচে এক সপ্তকের ১২টি স্কেল চিত্রসহ নির্দেশ করা হলো

চিত্র-২: হারমোনিয়ামের বিভিন্ন পর্দা ও স্কেল পরিচিতি

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...