বাংলাদেশের নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিস যেমন- দা, কুড়াল, খন্তা, কাঁচি, যাঁতি, লাঙলের ফলা, হাঁড়ি, পাতিল, কলসি, মটকা, তামা, কাঁসা-পিতলের অনেক জিনিস, নৌকা, রিকশা, খাট-পালঙ্ক, দরজা ইত্যাদিতে সৌন্দর্য আরোপের জন্য এসবের গায়ে আঁচড় কেটে, খোদাই করে, কখনোবা আলাদা করে লাগিয়ে লতা, পাতা, ফুল, পাখি, বিভিন্ন জীবজন্তু ইত্যাদির ছবি বা নকশা আঁকা হয়। কারুকাজ করা এসব ব্যবহার্য সামগ্রীকে আমরা কারুশিল্প বলি। আমাদের দেশে বহু প্রকার কারুশিল্প আমরা ব্যবহার করি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারুশিল্প সম্পর্কে এখানে আমরা জানব।

রিকশা
বাংলাদেশের সুন্দর কারুশিল্প হিসেবে রিকশা দেশে ও বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছে। তিন চাকাবিশিষ্ট রিকশা চেহারা ও আকৃতির দিক থেকে একটি শিল্পকর্ম। তদুপরি বাঁশ, প্লাস্টিক ও কাপড় দিয়ে ফুল, পাতা, পাখির নকশা কেটে সেলাই করে রিকশাকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়। রিকশার হ্যান্ডেলের দুপাশে কখনও কখনও দুটি ফুলদানি স্থাপন করে তাতে প্লাস্টিকের ফুল লাগানো হয়। আবার হ্রডের চারপাশে রঙিন ঝুনঝুনি ঝুলিয়ে সাজানো হয়। এতে করে রিকশা চলার সময় ঝুনঝুনির ছন্দময় শব্দ হয়। প্রতিটি রিকশার সিটের পেছন দিকে সুন্দর ছবি এঁকে তা লাগিয়ে দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে রিকশা একটি আকর্ষণীয় কারুশিল্প।
নৌকা
নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকা অত্যন্ত পরিচিত একটি বাহন। এটি শুধু জলপথের নির্ভরযোগ্য ও বহুল ব্যবহৃত বাহনই নয় বরং আমাদের কারুশিল্পেরও উজ্জ্বল নিদর্শন। নৌকার চেহারা ও গড়নের দিক দিক থেকে যেমন শিল্পনৈপুণ্য

রয়েছে, এমনি কাঠ খোদাই করে নৌকার গায়ে অনেক কারুকাজ করা হয়। নৌকা তার চেহারার কারণে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন- গয়না, পানসি, বজরা, কোশা, সারঙ্গ, সাম্পান, দ্বীপ, জেলেনাও ইত্যাদি। অতীতে ময়ূরপঙ্খী, টিয়াঠোঁটি প্রভৃতি নামের নৌকা ছিল। গলুই ও অন্যান্য অংশের গড়ন ময়ূর, টিয়া ইত্যাদি পাখির অনুকরণে করা হতো। নৌকার গোলুইতে পিতলের দুটি চোখ, পিতল ও অ্যালুমিনিয়ামের পাত ইত্যাদি বসিয়ে নৌকা অলংকৃত করা হয়। পদ্ম, চাঁদ, তারা প্রভৃতি মোটিফ তার শোভা বর্ধন করে।
Read more