হৃদ্রোগ ও জন্ডিসে পথ্য (পাঠ ৪)

খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য - গার্হস্থ্যবিজ্ঞান - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

209

হৃদ্রোগে পথ্য- আমাদের দেশে দিনদিনই হৃদ্রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হৃদ্রোগীর খাদ্য এমন হতে হবে যাতে করে রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশক্তির চাইতে বেশি খাদ্যশক্তি গৃহীত না হয় ও খাদ্য সুষম হয়। খাদ্যের মাধ্যমে চিনি, লবণ ও ফ্যাটের গ্রহণ যেন কম থাকে এবং প্রচুর পরিমাণে আঁশ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা হয়।

পথ্যের ধরন

  • লাল চালের ভাত ও ভুসিসহ আটার রুটি খাওয়ায় অভ্যস্ত হতে হবে এবং চাল ও আটার তৈরি খাবার প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়ে বেশি খাওয়া যাবে না।
  • বেশি আঁশযুক্ত খাদ্য যেমন- ফল ও শাকসবজি বিশেষ করে টকজাতীয় ফল যেমন- লেবু, জাম্বুরা, কমলা, আনারস ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
  • বিভিন্ন রঙিন সবজি যেমন- সবুজ (শাকপাতা), কমলা (মিষ্টিকুমড়া/গাজর), বেগুনি (বিট), লাল (টমেটো), হালকা হলুদ-সাদা (মুলা, শসা) রঙের এবং মৌসুমি তাজা শাকসবজি
    প্রতিদিন খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
  • ডাল, বাদাম পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।
  • মাছ, চর্বিছাড়া মাংস, চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস, ডিম প্রয়োজনীয় পরিমাণে খেতে হবে।
  • ননী তোলা দুধ ও এই দুধের তৈরি টক দই খাওয়া ভালো।
  • রান্নায় লবণ কম দিতে হবে এবং খাওয়ার সময় বাড়তি লবণ খাওয়া যাবে না।

হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগীর জন্য উপকারী খাদ্য

যে খাবারগুলো বাদ দেওয়া উচিত

  • মাখন, ঘি, ডালডা, ক্রিম সস, নারকেল ও বেশি তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাদ্য
  • আইসক্রিম, মিষ্টি জাতীয় খাদ্য ইত্যাদি
  • বেশি চর্বিযুক্ত মাংস, কলিজা, হাঁস-মুরগির চামড়া ও এদের তৈরি খাদ্য
  • বেশি লবণযুক্ত বা লবণে সংরক্ষিত যেকোনো খাবার, যেমন- পনির, আচার, চাটনি, সস, সয়াসস, চিপস্, চানাচুর, লবণযুক্ত বাদাম, নোনা ইলিশ, টিনজাত মাছ ইত্যাদি
  • ফাস্ট ফুড যেমন-চিকেন ফ্রাই, পিজ্জা, মাংসের তৈরি নাগেট ইত্যাদি
  • বেকারির খাবার যেমন-বিস্কুট, পেস্ট্রি, কেক ইত্যাদি
  • সফট্ ড্রিংকস ও এনার্জি ড্রিংকস, ডার্ক কফি ইত্যাদি
  • সালাদে লবণ ও সালাদ ড্রেসিং বাদ দিতে হবে
  • স্বাদ লবণ (টেস্টিং সল্ট) বাদ দিতে হবে।

জন্ডিসে পথ্য- জন্ডিস নিজে কোনো রোগ নয় তবে এটা লিভারের কোনো রোগের লক্ষণ। এই লক্ষণ প্রকাশ পেলে সেই ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনযুক্ত এবং কম পরিমাণ ফ্যাটযুক্ত পথ্য দিতে হবে। জন্ডিসে অনেকেরই হজমের সমস্যা দেখা যায়। সেক্ষেত্রে লঘুপাক খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। হজমের কোনো সমস্যা না থাকলে উচ্চ চর্বি বা ফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করে বাকি সব ধরনের খাবার খাওয়া যায়। অনেকে মনে করেন জন্ডিস হলে হলুদযুক্ত তরকারি খাওয়া যায় না, এটা সম্পূর্ণই ভুল ধারণা। আবার অনেকে জন্ডিস হলে স্বাভাবিক খাবার একেবারে বন্ধ করে দিয়ে শুধু আখের রস, পানি আর শরবত দিয়ে থাকেন-এটাও সঠিক নয়। জন্ডিসে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে তবে চর্বিযুক্ত খাদ্য ও কৃত্রিম খাদ্যগুলো পরিহার করে সব খাবারই প্রয়োজন অনুযায়ী খাওয়া যাবে। নিচে জন্ডিস রোগীর পথ্যের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হলো।

পথ্যের ধরন

  • উচ্চ শক্তিদায়ক, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত, কম চর্বি বা ফ্যাটযুক্ত খাবার দিতে হবে।
  • জন্ডিসে সব খাবারই খাওয়া যাবে। তবে হজমে সমস্যা হলে লঘুপাক খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
  • হজমে সমস্যা হলে নরম ভাত, খিচুড়ি বা পিশপাশ, নরম ও অল্প আঁশযুক্ত সবজি, পেঁপে, আলু ইত্যাদি দেওয়া যায়। এছাড়া সুজি, নরম পুডিং এবং ফলের মধ্যে কলা, পেঁপে, কমলা, আপেল ইত্যাদি দেওয়া যায়।
  • প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর জন্য দুধ, ডিম, কম তেলযুক্ত মাছ, মুরগি ও ডাল দেওয়া যায়।
  • যথেষ্ট পরিমাণে পানীয় যেমন- দুধ, শরবত, ফলের রস, ডাবের পানি, সুপ ইত্যাদি খেতে হবে।
  • টকজাতীয় ফল যেমন- আমলকী, লেবু, জাম্বুরা ইত্যাদি দিতে হবে।

পরিহার করতে হবে

  • মাখন, ঘি, চর্বি ও বেশি তৈলাক্ত খাদ্য।
  • ডিপ ফ্রায়েড খাবার যেমন সিংগারা, সমুচা, চিকেন ফ্রাই ইত্যাদি।
  • বেকারির খাবার যেমন- পেস্ট্রি, ক্রিম কেক ইত্যাদি।
  • সফট্ ড্রিংকস ও এনার্জি ড্রিংকস।
কাজ ১- হৃদ্রোগীর জন্য বর্জনীয় খাবারগুলোর একটি তালিকা তৈরি করো।
কাজ ২- জন্ডিস হলে কোন খাবার বাদ দিতে হবে?
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...