প্রতিবেশীদের ভালোবাসা দেখাতে আমাদের বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হয়। আমি তাদের সাথে হাসিমুখে কথা বলতে পারি। কেউ অসুস্থ হলে তার খোঁজখবর নিতে পারি। প্রয়োজন হলে তাদের একটু সাহায্য করতে পারি। বাড়িতে বাড়তি খাবার থাকলে তাদের সাথে ভাগ করে খেতে পারি। তাদের প্রতি সবসময় ভদ্র হতে হয়। প্রতিবেশীদের কোনো সমস্যা হলে সমস্যা সমাধানে পাশে দাঁড়াতে পারি। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাহায্য করাও ভালোবাসার একটি কাজ। তাদের সাথে খেলাধুলা বা ছোটোখাটো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারি। যদি তারা কোনো জিনিস ধার চায় সম্মানের সাথে দিতে চেষ্টা করব। মোটকথা আমি তাদের নিজের মতো করে ভালোবাসব এবং সেবা করব।
ঈশ্বরকে আমরা চোখে দেখতে না পেলেও তাঁকে ভালোবাসতে পারি। ঈশ্বরকে ভালোবাসার প্রথম উপায় হলো তাঁকে মনে রাখা। তাঁর কথামতো চলাও ঈশ্বরকে ভালোবাসার একটি বড়ো উপায়। তিনি বলেছেন আমরা যেন প্রতিবেশীকে নিজের মতো করে ভালোবাসি।
তাদের আপদে-বিপদে এগিয়ে আসা এবং তাদের প্রয়োজনে সাহায্য করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। অন্যদের প্রতি ভালো ব্যবহার করলে ঈশ্বর খুশি হন। সত্য কথা বলা ও ভালো কাজ করলেও ঈশ্বরের সেবা করা হয়। আমরা যখন বন্ধুবান্ধবদের সাহায্য করি, তখন ঈশ্বর তা দেখেন। গান গেয়ে বা প্রার্থনায় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেওয়া তাঁকে ভালোবাসার প্রকাশ। ঈশ্বর আমাদের ভালোবাসেন, তাই আমাদের ভালো হতে হয়। আমরা ভালো আচরণ করলে ঈশ্বর খুশি হন।
পিতার প্রতি যীশুর আনুগত্য আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। প্রথমত, আমরা শিখি যে প্রকৃত আনুগত্য ভালোবাসা থেকে আসে, জোর করে নয়। যীশু স্বেচ্ছায় পিতার কথা শুনেছিলেন। দ্বিতীয়ত, যীশুর কাছ থেকে বাধ্যতা শিখতে পারি। আমরা শিখি যে, ঈশ্বরের কথা মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যীশু সবসময় ঈশ্বরের কথামতো কাজ করতেন। তিনি ঈশ্বরকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি কঠিন সময়েও ঈশ্বরের ওপর ভরসা রাখতেন। তাঁর আনুগত্য আমাদের সাহসী হতে শেখায়। তাঁর উদাহরণ দেখে আমরা বোঝি যে, ভালো কাজ করলে সবাই খুশি হয়। যীশুর আনুগত্য আমাদের শেখায় যে, ঈশ্বরের পথে চললে আমাদের জীবন সুন্দর হয়।
আমি আমার প্রতিবেশীকে অনেকভাবে ভালোবাসতে পারি। আমি তাদের প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল হতে পারি। তাদের প্রয়োজনমতো সাহায্য করতে পারি। ভদ্র ব্যবহার এবং মিষ্টি হাসির সাথে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারি। আমার ছোটো ছোটো জিনিসও তাদের সাথে ভাগ করে নিতে পারি। তাদের ভুল হলে তর্ক না করে ক্ষমা করে দিতে পারি। যদি তারা কখনো অসুস্থ হয় তাঁদের জন্য প্রার্থনা করতে পারি। তাদের পাশে সবসময় থাকতে পারি যেন তারা নিরাপদ বোধ করে। আমার ভালোবাসা, সুন্দর ব্যবহার তাদের জীবনকে আনন্দময় করে তোলে। যদি তারা সমস্যায় পড়ে তখন তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারি। এভাবেই আমি আমার প্রতিবেশীকে ভালোবাসতে পারি।
মারীয়া ঈশ্বরের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি ঐশকৃপা লাভ করেছিলেন। তাই তিনি ঈশ্বরের প্রশংসা করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সব আশীর্বাদের জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন। তিনি যেভাবে নিজেকে ঈশ্বরের দাসী বলে নম্রতা প্রকাশ করেছিলেন তেমনি আমিও ঈশ্বরের ইচ্ছাকে গ্রহণ করে তাঁর ওপর পরিপূর্ণ ভরসা রাখতে পারি। ঈশ্বরের সমস্ত আশীর্বাদের জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব। তিনি আমার জন্য যে মহান পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তার জন্য প্রশংসা করতে পারি। আমার মতো নগণ্য এই পাপীকে তাঁর মহিমা দেখিয়েছেন। তাই আমি যেকোনো মুহূর্তে তাঁর প্রশংসা করব। আমার হৃদয় সবসময় তাঁর আনন্দে ভরে ওঠে। আমি এভাবেই মারীয়ার ন্যায় ঈশ্বরের প্রশংসা করতে পারি।
ঈশ্বরের আরাধনা করার জন্য আমার অনেক কিছুই করার আছে। আমি তাঁকে আমার হৃদয়ের প্রথম স্থানে রাখব। তাঁকে আমি ভক্তি ও শ্রদ্ধা করব এবং ভালোবাসব। প্রতিনিয়ত তাঁর ধন্যবাদ ও প্রশংসা করব। তিনি আমাকে যা কিছু দিয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকব। তাঁর দেওয়া আদেশ আমি মেনে চলব। আমার কঠিন সময়ে আমি তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখব। আমার প্রতিদিনের কাজের মাধ্যমে ঈশ্বরকে আনন্দিত করার চেষ্টা করব। নিজের কাজ ও আচরণের মাধ্যমে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশ করব। নিয়মিত আমি প্রার্থনা ও বাইবেল পাঠ করব। এভাবেই আমি ঈশ্বরের আরাধনা করতে পারব।
মারীয়া এলিজাবেথকে সাহায্য করতে গিয়েছিলেন। তিনি দূতের কাছে জানতে পারলেন যে, তাঁর জ্ঞাতিবোন এলিজাবেথ ছয় মাসের গর্ভবতী। এলিজাবেথের তখন অনেক বয়স ছিল। তাই তাঁর সাহায্যের দরকার ছিল। এই খবর শুনে তিনি খুব খুশি হন। সেই সাথে বোঝতে পারেন যে, ঈশ্বর এলিজাবেথের জীবনে একটি বড়ো অলৌকিক কাজ করছেন। এই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার জন্য তিনি তাঁর কাছে যেতে চেয়েছিলেন। যেখানে তিনি তিন মাস তার সঙ্গে থাকলেন। এই সংকটময় সময়ে তিনি তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করলেন। মোটকথা মারীয়া এলিজাবেথের সাথে ঈশ্বরের দেওয়া আশীর্বাদ ভাগ করে নিতে চেয়েছিলেন।
আমরা মারীয়ার মতো আমাদের প্রতিবেশীদের যত্ন নিতে পারি। প্রথমে আমরা তাদের প্রতি সদয় ও ভদ্র হতে পারি। কেউ অসুস্থ হলে আমরা তার খোঁজখবর নিতে পারি। আমরা তাদের সাহায্য করতে পারি যদি তাদের কিছু প্রয়োজন হয়। যেমন বাজারের জিনিস বহন করা বা কিছু ছোটোখাটো কাজ করা। আমরা তাদের সাথে হাসি মুখে কথা বলতে পারি। বড়োদের সম্মান দেখানোও জরুরি। ছোটোদের সাথে খেলাধুলায় অংশ নিতে পারি। যদি কেউ একা বা দুঃখিত হয়, আমরা তার পাশে থাকতে পারি। আমরা আমাদের ভালো কাজ ও আচরণের মাধ্যমে তাদের আনন্দ দিতে পারি। প্রতিবেশীদের সুস্থতা, সুখ ও শান্তির জন্য আমরা প্রার্থনাও করতে পারি। মারীয়ার মতো নম্রতা, পবিত্রতা ও ভালোবাসা দিয়ে যদি আমরা প্রতিবেশীদের সেবা করি, তাহলে ঈশ্বরও খুশি হন এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
আমি আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে সদয় আচরণ করব। তাদের সাথে ভদ্র ব্যবহার করব। কেউ সাহায্য চাইলে আমি তাদের সাহায্য করব। তাদেরকে ছোটো ছোটো উপহার দিয়ে খুশি করতে পারি। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের সাথে সম্পর্ক মজবুত করতে পারি। যদি তারা দুঃখিত হয়, আমি তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারি। বড়োদের কথা শোনা এবং সম্মান দেখাতে পারি। ছোটোদের খেলা বা পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারি। তাদের সাথে আমি আমার আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করতে পারি। এভাবে আমি সবার সাথে একটি সুন্দর ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে পারব।
ফাদার বব-এর জীবন থেকে প্রতিবেশীকে ভালোবাসার ব্যাপারে আমি শিক্ষা পাই। কারণ তিনি আমেরিকা থেকে এসে বাংলাদেশে খুব সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। তাঁর নিজের কাজ তিনি নিজেই করেছেন। তাঁর যা কিছু ছিল সমস্তই দান করেছেন। তাঁর প্রতিবেশীকে তিনি নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। তিনি উদারতার উদাহরণ তৈরি করেছেন। আমিও তাঁর মতো আমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো করে ভালোবাসব। তাঁর কাজে আমাকে অনুপ্রাণিত করে যাতে আমি দয়া, ন্যায় এবং প্রেমের পথে চলি। আমি তাঁর কাছ থেকে অন্যকে সাহায্য করার গুরুত্ব বোঝতে পারি। অবশেষে, আমি ফাদার ববের জীবন থেকে প্রতিবেশীকে ভালোবাসার ব্যাপারে শিক্ষা পেয়েছি।
খ্রীষ্টধর্মের মূলমন্ত্র হলো ঈশ্বর ও প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসা। খ্রীষ্টধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, ঈশ্বর মানবজাতিকে এতটাই ভালোবাসেন যে, তিনি তাঁর পুত্র যীশুখ্রীষ্টকে মানবতার মুক্তির জন্য পাঠিয়েছিলেন। ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় এবং তিন ব্যক্তিতে এক ঈশ্বর। এই ধর্মে ভালোবাসা, ক্ষমা, দয়া ও শান্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। খ্রীষ্টধর্ম শেখায় যে, প্রত্যেক মানুষ ঈশ্বরের সন্তান এবং সবাইকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করা উচিত। যীশু 'পরের প্রতি ভালোবাসা' শিক্ষা খ্রীষ্টধর্মের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। পাপ থেকে মুক্তি লাভের জন্য অনুশোচনা ও বিশ্বাসকে অপরিহার্য ধরা হয়। ঈশ্বরের প্রতি আস্থা এবং তাঁর আদেশ অনুসরণ করাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে দেখানো হয়। সব মিলিয়ে, খ্রীষ্টধর্মের মূলমন্ত্র মানুষের হৃদয়ে প্রেম, ক্ষমা ও সত্যের আলো জাগ্রত করে।
যীশু এসেছেন যাতে মানুষ জীবন পায়'- এই বাক্যের অর্থ হলো যীশু মানুষকে ভালো পথ দেখাতে এসেছিলেন। তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে ভালোবাসা, ক্ষমা ও সত্যের পথে চলতে হয়। যীশু মানুষের কষ্ট কমাতে এবং তাদের সাহায্য করতে সবসময় প্রস্তুত ছিলে। তিনি দেখিয়েছেন যে, সবাইকে সম্মান করতে হয়। যীশু মানুষকে ভুল থেকে ফিরে আসতে সাহায্য করেন। তিনি চান মানুষ শান্তিতে ও আনন্দে জীবন কাটাক। তাঁর শিক্ষা আমাদের হৃদয়কে ভালো করে তোলে। যীশু বলেছিলেন ভালো কাজ করলে ঈশ্বর খুশি হন। তাঁর শেখানো পথে চললে আমরা শান্তি পাই। তিনি মানুষকে আশা ও সাহস দেন। যীশু আমাদের শেখান, অন্যকে সাহায্য' করাই সত্যিকারের ভালো জীবন। তাই বলা হয়, যীশু এসেছেন যেন মানুষ সত্য, ভালোবাসা ও আলোতে ভরা জীবন পেতে পারে।
সহাবস্থানের জন্য আমাদের করণীয় নিম্নরূপ-
(ক) ধর্মীয় ভেদাভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে সব ধর্মবিশ্বাসী মানুষকে গ্রহণ করা।
(খ) অন্যান্য ধর্মের মূলমন্ত্র ও ভালো দিকগুলো জেনে, তা নিজ জীবনে ধারণ, অনুশীলন করা এবং শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
(গ) সব ধর্মের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এক, একই সৃষ্টিকর্তার গৌরব ও প্রশংসা করা।
(ঘ) কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় গোঁড়ামি পরিহার করা।
(ঙ) মৌলবাদী মনোভাব পরিহার করা।
(চ) স্থানীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ধর্মীয় নেতাদের সম্মিলিতভাবে সংলাপে বসা।
(ছ) ঐকবদ্ধভাবে অন্যান্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে সমাবেশ, মত বিনিময় সভা ও আলাপ-আলোচনা করা।
(জ) অসাম্প্রায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সহনশীলতা, ধৈর্য, সম্প্রীতির মনোভাব পোষণ করা।
(ঝ) জাতীয় পর্যায়ে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
খ্রীষ্টধর্মের আলোকে অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো মানে হলো যীশুর শিক্ষাকে অনুসরণ করা। যীশু সকলকে ভালোবাসার শিক্ষা দিয়েছেন, তাই আমরা সবাইকে সম্মানের দৃষ্টিতে ও সদয়ভাবে দেখব। তাদের উপাসনালয়, ধর্মীয় গ্রন্থ বা প্রতীকের প্রতি সম্মান দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্ন ধর্মের বন্ধুরা তাদের উৎসব পালন করলে আনন্দের সাথে তাদের শুভেচ্ছা জানানো উচিত। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং মতভেদ থাকলেও রাগ বা তর্ক না করা শ্রদ্ধার পরিচয়। কাউকে নিজের ধর্ম মানতে চাপ দেওয়া চলবে না। আমাদের সাহায্য ও দয়া দেখানো খ্রীষ্টধর্মের শিক্ষা অনুযায়ী শ্রদ্ধা প্রকাশ। শান্তি ও সহমর্মিতা বজায় রাখাই প্রকৃত শ্রদ্ধা। এভাবে 'আমরা যীশুর পথ অনুসরণ করে সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পারি।
যীশু সামারীয়/শমরিয় নারীর সাথে সংলাপের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন অনেক ভালোভাবে। তিনি কুয়োর ধারে তার কাছে গিয়ে ভদ্রভাবে কথা বলতে শুরু করেছিলেন। তার কাছে তিনি জল চেয়েছেন। তখনো যেহেতু ইহুদি ও শমরিয় একে অপরের সঙ্গে কথা বলত না। তবু যীশু বিনয়ীভাবে কথা বললেন। যীশু তার উত্তর মনোযোগ দিয়ে শুনলেন এবং রাগ করলেন না বা বিচার করলেন না। তিনি ধীরে ধীরে তাকে জীবনের সত্য, যেমন 'জীবন্ত পানি' শেখাতে শুরু করলেন। তিনি তাকে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে উৎসাহ দিলেন। নারীর ভাবনা ও অনুভূতিকে তিনি গুরুত্ব দিলেন। যীশু তাকে বোঝালেন যে, সত্যিকারের উপাসনা ঈশ্বরকে হৃদয় থেকে করা উচিত। তিনি ধৈর্য এবং ভালোবাসা নিয়ে তার সঙ্গে সংলাপ চালিয়েছিলেন।
অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি সমাজে শান্তি এবং একতার সৃষ্টি করে। আমরা একে অপরকে সম্মান করতে শিখি। অন্যদের বিশ্বাস ও ধর্মের প্রতি বোঝাপড়া বাড়ে। এটি দ্বন্দ্ব, ঘৃণা এবং হিংসা কমাতে সাহায্য করে। আমরা একে অপরের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি। এতে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং বিশ্বাস তৈরি হয়। সবাই একটি নিরাপদ এবং সহায়ক পরিবেশে থাকতে পারে। এটি মানবতা, ধৈর্য এবং ভালোবাসার মূল্য শেখায়। প্রতিটি মানুষ তার ধর্মচর্চা স্বাধীনভাবে। করতে পারে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সমাজকে শক্তিশালী এবং সুখী করে। এতে সমাজকে একটি বিশাল পরিবারের মতো মনে হবে।
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অনেক ভালো ফলাফল আছে। মানুষ একসঙ্গে বিবাদ বা ঝগড়া ছাড়া থাকতে পারে। সবাই একে অপরের বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং মতামতকে সম্মান করে। এতে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বাড়ে। মানুষ একে অপরকে সাহায্য করে এবং একসাথে কাজ করে। সমাজে সবাই নিরাপদে থাকে। শিশু এবং বড়োরা নিরাপদ পরিবেশে বড়ো হতে পারে। সবাই শান্তি এবং সুখ অনুভব করতে পারে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সমাজকে উন্নত করে। মানুষ ধৈর্য এবং বোঝাপড়া শিখে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে ব্যক্তি মানসিকভাবে স্বস্তি পায় দুশ্চিন্তা ও ভীতির পরিবর্তে আসে সুখ। এটি সকলের মধ্যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা তৈরি করে।
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সমাজকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এটি মানুষকে একে অপরের প্রতি সদয় এবং সহমর্মী হতে শেখায়। সবাই একে অপরের সংস্কৃতি, বিশ্বাস এবং ভাবনাকে মান্য, করে। এতে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসাথে বসবাস করতে পারে। সমাজে সহায়তা এবং সহযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পায়। মানুষ একে অপরের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করে। এটি সমাজকে নিরাপদ এবং স্থিতিশীল করে তোলে। সবাই নিজেকে সুখী এবং আস্থাশীল অনুভব করে। ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং বোঝাপড়া বৃদ্ধি পায়। মানুষ একে অপরকে সাহায্য করতে আগ্রহী হয়। এতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সমাজের মানুষের জীবনকে সুন্দর; নিরাপদ এবং আনন্দময় করে।
আমি আমার ঈশ্বরকে আমার সমস্ত অন্তর, সমস্ত প্রাণ, সমন্ড শক্তি ও সমস্ত মন দিয়ে ভালোবাসি। তিনি আমাকে যেসব আদেশ দিয়েছেন তা সবই আমি পালন করি। কারণ তিনি বলেছেন তাঁকে ভালোবাসলে তাঁর আদেশ পালন করতে হবে। আমি নিয়মিত প্রার্থনা ও উপাসনার মাধ্যমে তাঁর কাছাকাছি যাই। এভাবে তাঁর প্রতি আমি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি। আমি আমার প্রতিবেশীকেও আমার নিজের মতো করে ভালোবাসি। কারণ এভাবেই আমি তাঁর সেবা করতে পারি। আমি তাঁকে আমার জীবনের প্রথম স্থানে রেখেছি। সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে হলেন আমার ঈশ্বর। তিনি আমার জীবনের চালক। আমি এভাবেই ঈশ্বরের প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি।
যীশু তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছিলেন আনুগত্য, আত্মত্যাগ এবং ভক্তির মাধ্যমে। তিনি সবসময় তাঁর পিতার ইচ্ছা মেনে চলতেন। এমনকি কঠিন সময়েও। তিনি প্রায়ই ঈশ্বরের সাথে প্রার্থনায় একাকী সময় কাটাতেন। তাঁর শিক্ষা, অলৌকিক কাজ এবং মানুষের সেবা ঈশ্বরের মহিমার জন্য করতেন। তিনি মানুষকে প্রেম ও ক্ষমা শিখিয়েছিলেন। যা ঈশ্বরের আদেশ অনুসরণ করার একটি উদাহরণ। যীশুর জীবনে সবসময় ঈশ্বরের পরিকল্পনা মেনে চলার প্রতিফলন ছিল। তিনি মানুষের পাপের জন্য নিজের জীবন ত্যাগ করে ঈশ্বরের-উদ্দেশ্য পূর্ণ করেছিলেন। যীশু সবকিছু করতেন পিতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য। সকল ক্ষেত্রে তাঁর ইচ্ছা পূরণ করার উদ্দেশ্যে। সর্বোপরি, যীশুর জীবন, শিক্ষা এবং আত্মত্যাগ মিলিয়ে ঈশ্বরের প্রতি 'তাঁর অশেষ, ভালোবাসার প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allঈশ্বর আমাদের প্রত্যেকের জীবনের উৎস।
প্রতিবেশীর প্রয়োজনে তাদেরকে সাহায্য করি।
প্রতিবেশীকে সেবা করার মাধ্যমে ঈশ্বরকে সেবা করছি।
যীশুকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন কুমারী মারীয়া
কলকাতার মাদার তেরেজা আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
একমাত্র পুত্রকে বলি দিতে অস্বীকার করেননি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!