ষষ্ঠ শ্রেণি আনন্দ থের গাইড ও নোট (পাঠ : ৩)

Class 6 Guide & Notes
173

আনন্দের জন্ম শাক্যরাজ বংশে। তিনি রাজকুমার সিদ্ধার্থের কাকাতো ভাই ছিলেন। তাঁর পিতার নাম অমিতোদন। সিদ্ধার্থ ও আনন্দ একই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অনুরুদ্ধ, ভৃগু, ভদ্দীয় ও অন্যান্য শাক্য রাজকুমারদের সাথে তিনি একই দিনে বুদ্ধের কাছে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন। আনন্দ সুপুরুষ ছিলেন। তিনি বুদ্ধের প্রিয় শিষ্য ছিলেন এবং আটটি শর্তের মাধ্যমে বুদ্ধের প্রধান সেবকের পদ লাভ করেছিলেন। তিনি ভালো বক্তা ছিলেন। দৈহিক সৌন্দর্য ও সুন্দর ব্যবহারের জন্য সকলেই তাঁকে ভালোবাসতেন।
বুদ্ধের বয়স যখন ৫৫ বছর, তখন তাঁর একজন স্থায়ী সেবকের দরকার হয়। সারিপুত্র, মৌগল্লায়ান এবং আনন্দসহ অনেকেই বুদ্ধের সেবক হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বুদ্ধ জানতেন, আনন্দ কল্পকাল ধরে এই পদের জন্য পুণ্য সঞ্চয় করে আসছেন। আনন্দ তখন মাত্র স্রোতাপত্তি ফল লাভ করেছিলেন। বুদ্ধ তাই আনন্দ থেরকে সেবক পদে নিযুক্ত করেন। সেদিন থেকে বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভ পর্যন্ত আনন্দ সব সময় বুদ্ধের সঙ্গে ছিলেন। তথাগত বুদ্ধ আনন্দকে সম্বোধন করে ভিক্ষুসঙ্ঘের উদ্দেশ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছেন এসব উপদেশ 'মহাপরিনির্বাণ' সূত্রে পাওয়া যায়। আনন্দ থের অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে বুদ্ধের সেবা করতেন। বুদ্ধ যখন উপদেশ দিতেন, তিনি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনতেন। সব উপদেশ মনে রাখতেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল খুবই প্রখর। তিনি বুদ্ধের যেকোনো উপদেশ প্রয়োজনে হুবহু অন্যকে বলতে পারতেন। এ জন্য তিনি 'ধর্মভান্ডারিক' ও 'শ্রুতিধর' ভিক্ষু নামে খ্যাত হন।
বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের অল্পকাল পরেই রাজগৃহের সপ্তপর্ণী গুহায় প্রথম মহাসঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়। মহাসঙ্গীতিতে একমাত্র অর্হৎ ভিক্ষুদেরই প্রবেশাধিকার ছিল। তবে বুদ্ধের সেবক ও শ্রুতিধর হিসেবে আনন্দের জন্য একটি আসন সংরক্ষিত ছিল। এ আমন্ত্রণ পেয়ে আনন্দ মহাসঙ্গীতির পূর্বরাতে গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হলেন। সেই রাতেই তিনি অর্হত্ব ফলে উন্নীত হন। অর্হত্ব লাভ করে তিনি ভিক্ষুদের অনেক উপদেশ প্রদান করেন। নিম্নে দুটি উপদেশ তুলে ধরা হলো:
১. কর্কশ বাক্যভাষী, ক্রোধী, অহংকারী এবং সংঘভেদকারী ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে না, তাদের সঙ্গী হওয়া উচিত নয়।
২. শ্রদ্ধাবান, শীলবান, জ্ঞানবান ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে। তাঁদের সঙ্গ উত্তম।
এদিকে মহাসঙ্গীতি উপলক্ষে সম্মেলনকক্ষে সকল অর্হৎ ভিক্ষু সমবেত হন। শুধু আনন্দ থের ছিলেন অনুপস্থিত। মহাসঙ্গীতি শুরু হলো। হঠাৎ সকলেই দেখলেন আনন্দ তাঁর আসনে বসে আছেন। সকলের মন খুশিতে ভরে উঠল। কথিত আছে, তিনি আকাশপথে এসে তাঁর জন্য রাখা নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করেছিলেন। প্রথম মহাসঙ্গীতিতে আনন্দ ধর্ম (সূত্র ও অভিধর্ম) আবৃত্তি করেছিলেন।
ভিক্ষুণী সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠায় আনন্দের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। মহারাজ শুদ্ধোদনের মৃত্যুর পর মহাপ্রজাপতি গৌতমী বুদ্ধের কাছে গিয়ে প্রব্রজ্যা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু বুদ্ধ প্রথমে এতে সম্মত হননি। পরে আনন্দের প্রবল অনুরোধে নারীদেরও সঙ্ঘে প্রবেশাধিকার অনুমোদন করেন। সে সময়ে নারীদের ভিক্ষুণী পদের মর্যাদা প্রদান করা খুবই কঠিন ছিল। নারীদের গৃহে থাকাই ছিল সামাজিক প্রথা। তাই বলা হয়, মাতৃজাতিকে ধর্মীয় ক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিতকরণে আনন্দ থের র ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

অনুশীলনমূলক কাজ
আনন্দ থের র দুটি উপদেশ লেখো।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...