কৈশোরের আবেগ (পাঠ ৩)

খ বিভাগ- শিশু বিকাশ ও পারিবারিক সম্পর্ক - কৈশোরকালীন বিকাশ - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

394

আনন্দ রাগ, ভয়, ভালোবাসা, হাসি, কান্না আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী, যার নাম আবেগ। আবেগ ছাড়া মানুষ হয় না। রোবটের সাথে মানুষের পার্থক্য এখানেই। রোবট মেশিনে তৈরি। মানুষের মতো সে সব পারে কিন্তু কোনো ঘটনায় হাসতে পারে না, ভয় পেয়ে পালাতে পারে না, রাগ করে চিৎকার করে না। বাইরের কোনো ঘটনা যখন আমাদের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে, তখন আমরা হাসি, কাঁদি, ভয় পাই, ঈর্ষা করি, রেগে যাই- এগুলোই আবেগ।

আবেগের ধরন

আবেগের সময় দেহ, মন ও আচরণের পরিবর্তন হয়। ভয় পেলে আমাদের শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসে, টেনশনে বুকের ঢিপ ঢিপ বেড়ে যায়, রাগে চোখ লাল হয়ে যায়, আনন্দে আমরা হাসি, কোনো দুঃখের ঘটনায় আমাদের কান্না পায়- এসবই আবেগের প্রকাশ। আবেগের দুটি ধরন আছে। যে আবেগ আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করে যেমন- সুখ, আনন্দ, হাসি, স্নেহ-মমতা ইত্যাদি। এ এরকম পরিবেশ আমরা চাই। এইগুলো ইতিবাচক আবেগ। অপরদিকে রাগ, ভয়, দুঃখ, ঈর্ষা ইত্যাদি আমরা পছন্দ করি না, এগুলো দুঃখের পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই আবেগ হলো নেতিবাচক আবেগ।

আবেগের ক্ষতিকর দিক

অতিরিক্ত আবেগ আমাদের অনেক ক্ষতি করে। আবেগের কারণে নিজের প্রকাশভঙ্গি চেহারা পরিবর্তন হয়। রাগের সময় চোখ বড় হয়ে যায়, মুখ খিঁচে যায়, হিংস্র পশুর মতো দেখা যায়। অতিরিক্ত রাগে আচরণের পরিবর্তন হয়। অনেকে রাগে জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলে, ভেঙে ফেলে, অন্যকে আঘাত করে ইত্যাদি। কোনো দুঃখজনক ঘটনায় আমাদের মন খারাপ হয়, পড়াশোনায় মনোযোগ আসে না, আমরা কাঁদি, খাওয়া বন্ধ রাখি। ভয় পেলে আমাদের অস্থিরতা বাড়ে, স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারি না, কথা বলতে তোতলাতে হয়, ঘাম হয়, হাত-পা কাঁপে। এগুলো সবই শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত আবেগ আমাদের জীবনে জটিলতা সৃষ্টি করে। আমাদের আচরণ হয় ভয়াবহ। সেখানে যুক্তি লোপ পায়।

কৈশোরে আবেগের আধিক্য থাকে। দৈহিক পরিবর্তনের জন্য আবেগের অসমতা দেখা যায়। নানা রকম দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা কাজ করে। তোমার পরিবারের সদস্যদের আচরণে তোমার অনেক সময় অভিমান হয়, রাগ হয়। এগুলো এ বয়সের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এগুলো আমাদের অনেক ক্ষতি করে।

অনেক সময় মন খারাপ থাকলে বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া যায় না, ঘুম আসে না, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, দৈনিক কাজে বাধা আসে। এ কারণে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

আবেগ নিয়ন্ত্রণের উপায়- সন্ধ্যায় টিভি দেখছিল অনিক। বাবা হঠাৎ টিভি বন্ধ করে দিলেন। বাবা রেগে গিয়ে বললেন, ভালো না লাগলে আর লেখাপড়ার দরকার নেই। বাবার কথায় তার খুব রাগ হলো। বই খাতা ছুড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছা হলো। কিন্তু সে কিছুক্ষণের মধ্যে নিজেকে সামলে নিল। সে যুক্তি দিয়ে ভাবল- বাবা তো তার ভালোর জন্যই বলেছে। সন্ধ্যায় পড়ার সময় সে টিভি না দেখলেই পারত।

উপরের ঘটনায় অনিক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করল, সে ঘটনার ভালো দিকটা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করল। এভাবে তোমরাও অতিরিক্ত আবেগ বা নেতিবাচক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস করতে পার। আবেগ নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়গুলো-

  • যেকোনো ঘটনার ভালো দিকটা খুঁজে পেতে শেখা।
  • জটিল অবস্থা মেনে নেওয়ার অভ্যাস তৈরি করা।
  • হতাশাকে প্রশ্রয় না দেওয়া।
  • দলগতভাবে কোনো কাজে বা খেলাধুলায় অংশ নেওয়া।
  • যেসব বিষয়ে রাগ হয়, ভয় হয়, সেগুলো যেন তৈরি না হয়, তার চেষ্টা করা ও সে সব ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া।
  • মা-বাবা, বন্ধুদের সাথে নিজেদের সমস্যা খোলামেলাভাবে আলোচনা করা।
কাজ-১ গত কিছুদিনের মধ্যে ঘটে যাওয়া আবেগজনিত কোনো ঘটনার বিবরণ দাও। এতে তোমার প্রতিক্রিয়া কীরূপ ছিল? তোমার প্রতিক্রিয়া সঠিক না ভুল ছিল- তা যুক্তি সহকারে লেখো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

ওয়াফি ও রিমি এক সঙ্গে বাগাডুলি খেলে। ওয়াফি হেরে গেলে সে কাঠি দিয়ে রিমিকে আঘাত করে। কিন্তু রিমি তার ভাইকে কিছু বলে না।

খেলাধুলায় অংশ না নেওয়া
জটিল অবস্থা মেনে নেওয়ার অভ্যাস
হতাশাকে প্রশ্রয় না দেওয়া
ভালো দিকটা খুঁজে পাওয়া
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...