# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

আমরা প্রত্যেকেই পরিবারে বসবাস করি। সাধারণত আমাদের পরিবারে থাকে মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি আরও অনেকে। পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন বয়সের সদস্য একত্রে বাস করে যাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিয়ের মাধ্যমে এবং জন্ম সুত্রে। পরিবার হলো সমাজের মূল একক।
পরিবারের সদস্য হিসেবে প্রত্যেকেরই কিছু চাহিদা থাকে। যেমন- খাদ্য, বাসস্থান, পোশাক ও শিক্ষা ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে ভালোবাসা, সঙ্গলাভ, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার চাহিদা। পরিবারের ছোট সদস্যদের দরকার হয় উপযুক্ত যত্ন ও পরিচালনা। সর্বোপরি প্রয়োজন একটি নিরাপদ পরিবেশ। উপরের সবগুলো চাহিদা পূরণই পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
পারিবারিক বন্ধন- বাবা বা মায়ের অনুপস্থিতিতে আমাদের মন খারাপ লাগে। ভাই-বোনের মধ্যে কেউ এক জন বেড়াতে গেলে একা একা লাগে। পরিবারের কারও অসুস্থতায় আমরা সবাই বিচলিত হয়ে পড়ি। বলতে পারো, কেন এমন হয়? কারণ পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক বিরাজ করে। এটাই পারিবারিক বন্ধন। এ বন্ধন তৈরি হয় বিয়ে, রক্তের সম্পর্ক, স্নেহ-ভালোবাসা ও একে- অপরের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে। পরিবারে একে অপরের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য আন্তরিকতার সাথে পালন করা, স্নেহ-ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা-সম্মান আদান-প্রদান করা, ভাই-বোন একে অপরকে সঙ্গ দেওয়া, পরস্পর ভালো-মন্দ নানা অভিজ্ঞতা ও ভাব বিনিময় করা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা যায়।
পরিবারের প্রকারভেদ- গঠন অনুসারে পরিবার দুই ধরনের হয়। ১) একক পরিবার ও ২) যৌথ পরিবার।
১। একক পরিবার- একক পরিবার হলো ছোট পরিবার। এ ধরনের পরিবারে পৃথক একটি বাসগৃহে শুধুমাত্র মা-বাবা এবং তাদের অবিবাহিত সন্তান-সন্ততি থাকে। বর্তমানে অধিকাংশ পরিবার একক পরিবার।
২। যৌথ পরিবার- যৌথ পরিবার হলো বড় পরিবার। যেখানে দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, মা-বাবা ও সন্তানেরা একসাথে বসবাস করে। এটাই যৌথ পরিবার। যখন এই ধরনের পরিবারে বন্ধন দৃঢ় থাকে, তখন তারা নানাভাবে একে-অপরের সহযোগিতায় আসতে পারে।
বর্তমান আধুনিক সমাজে একক পরিবারের সদস্যরা সে সব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে-
- একক পরিবারের সন্তানেরা তাদের দাদা-দাদি বা পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সহযোগিতা ছাড়াই বেড়ে ওঠে।
- দাদা-দাদি ও নাতি-নাতনি উভয়েই একে অপরের সঙ্গ থেকে বঞ্চিত হয়।
- মা-বাবা উভয়েই কর্মজীবী হলে সন্তানদের এমন কেউ দেখাশোনা করে যারা তাদের আত্মীয় নয়।
অনেক সময় একক পরিবারে বৃদ্ধ দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানি বা এদের মধ্যে যে কেউ একজন থাকেন। এক্ষেত্রে একক পরিবারটিও বয়স্কদের পরামর্শ, সঙ্গ, ভালোবাসা পেয়ে থাকে।

| কাজ-১ তোমার পরিবারটি কোন ধরনের পরিবার। এই পরিবারে সদস্যদের সাথে তোমার সম্পর্ক তুলে ধরো। কাজ-২ পরিবারের বন্ধন দৃঢ় করার জন্য তুমি যে কাজগুলো করতে পার তার তালিকা করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তার বাবা-মা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদির সাথে একই পরিবারে বাস করে. সুমনা। পরিবারে তার দাদা গৃহ পরিচালনা করেন।
২০. সুমনা কোন ধরনের পরিবারে বাস করে?
১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের নিচে সকলকে শিশু বলে গণ্য করা হয়।
এখন প্রশ্ন হতে পারে- একটি সদ্যোজাত শিশু কিংবা একটি ৫ বছরের শিশুর বৈশিষ্ট্য কি এক? কখনই না। তাই শিশুর বিভিন্ন বয়সের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শিশুকালকে বিভিন্ন নামকরণ করা হয়েছে।
- জন্ম মুহূর্ত থেকে ২ সপ্তাহ- নবজাতক কাল
- ২ সপ্তাহ থেকে ২ বছর পর্যন্ত- অতি শৈশব
- ২ বছর থেকে ৬ বছর পর্যন্ত- প্রারম্ভিক শৈশব
- ৬ বছর থেকে ১০/১১ বছর পর্যন্ত- মধ্য শৈশব
প্রতিটি শিশুই পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বিভিন্ন বয়সের শিশুর বৈশিষ্ট্য আমাদের জানা দরকার। কারণ-
- শিশুর সাথে সঠিক আচরণ করতে পারব।
- বিভিন্ন বয়সের শিশুর চাহিদা পুরণ করতে পারব।
- শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে নতুন মা-বাবাকে সচেতন করতে পারব।
- যে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতায় সময়মতো চিকিৎসা করাতে পারব।
- বড় ভাই-বোন হিসেবে তাকে যত্ন ও সঙ্গ দিতে পারব।
নবজাতক কাল- যে সব শিশু জন্মের সময় লালচে বা গোলাপি বর্ণের হয়, জন্ম মুহূর্তে কাঁদে, স্বাভাবিকভাবে দুধ খেতে পারে, তারাই সুস্থ নবজাতক। নবজাতক দিনে প্রায় ১৮-২০ ঘণ্টা ঘুমায়। দু-তিন ঘণ্টা পর পর জেগে ওঠে, আহার করে, মলমূত্র ত্যাগের পর আবার ঘুমায়।
- আরও কিছু লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য দিয়ে আমরা নবজাতকের সুস্থতা বুঝতে পারব।
- নবজাতকের প্রথম ভাষা হলো কান্না। এর মাধ্যমে শিশুর ফুসফুস সক্রিয় হয়ে ওঠে।
- ঠোঁটের কাছে আঙুল রাখলে শিশু চুষে খেতে চায়।
- শিশুর হাতের তালুতে কিছু রাখলে (পেন্সিল বা হাতের আঙুল) তা সে শক্ত করে চেপে ধরে।
- হঠাৎ কোনো শব্দ হলে শিশু চমকে ওঠে।
উপরোক্ত যেকোনো একটি অভিব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলে নবজাতকটি যে স্বাভাবিক নয় তা বোঝা যায়। তখন দেরি না করে শিশুটিকে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
| কাজ-১ : তোমার ছোট ভাই বা বোনের সাথে তুমি কী ধরনের আচরণ করবে-সে সম্পর্কে লেখো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মিনু একজন গর্ভবতী মা। বস্তির নোংরা পরিবেশে তার প্রসব সম্পন্ন হয়। প্রসবকালীন সময় নবজাতকের গায়ের রং নীল হয়ে যাওয়ায় ডাক্তার বলেন। তার অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
নবজাতক সময়ের পর বা ২ সপ্তাহ থেকে ২ বছর পর্যন্ত কালকে অতি শৈশব কাল বলা হয়। আবার দেড় বছর থেকে যখন শিশু হাঁটতে থাকে তখন তাদেরকে 'টডলার'ও বলা হয়। এ সময়ে শিশুর বিকাশ এত দ্রুত হয় যে, কিছুদিন পরপরই পরিচিত জনের কাছেও শিশুকে অনেক বড় এবং অচেনা লাগে। জন্মের সময় যে শিশুটি বড় অসহায় ছিল সে এখন হাঁটতে পারে, লাফালাফি করতে পারে, কথা বলতে পারে, আরও কত কী!
খাদ্য, পুষ্টি, যত্ন, বাবা-মায়ের আকার আকৃতি ইত্যাদি কারণে বিভিন্ন শিশুর বৃদ্ধি বিভিন্ন রকম হয়। কিন্তু তবুও এ বয়সে ওজন ও উচ্চতা বাড়ার একটি স্বাভাবিক নিয়ম আছে। শিশুর ওজন জন্মকালীন ওজনের দ্বিগুণ হয় ছয় মাসে। এক বছরে হয় তিনগুণ। দু'বছরে হয় চারগুণ। তিন বছরে হয় পাঁচগুণ। জন্মের সময় শিশুর যা দৈর্ঘ্য থাকে, চার-পাঁচ বছরে তা দ্বিগুণ হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে ওজন বাড়ার হার ধীরে ধীরে কমতে থাকে। সুস্থ ও স্বাভাবিক শিশু আমরা তাকেই বলব, যার বয়স অনুযায়ী ওজন ও উচ্চতা স্বাভাবিক, চোখ স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল, চামড়া, চুল চকচকে ও মসৃণ, চেহারায় আছে আনন্দ ও পরিতৃপ্তির ছাপ।
ছোট্ট শিশুটির যত্নে আমাদের করণীয়-
- ক্ষুধা লাগলেই তাকে খাবার দেওয়া।
- মল-মূত্র ত্যাগ করলে তাড়াতাড়ি পরিষ্কার করা, ভেজা অবস্থায় না রাখা।
- কান্নার সময় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার অসুবিধা দূর করা।
- অতিরিক্ত গরম বা শীতে তার যেন কষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল করা।
- ভয় পেলে কোলে তুলে নেওয়া।
- আরামদায়ক ঘুমের ব্যবস্থা করা।
উপযুক্ত খাদ্য শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, খাদ্যের সাথে সাথে মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য দরকার স্নেহ, ভালোবাসা ও উদ্দীপনার।
শিশুর যত্নে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু যে সব পরিবারে অন্যান্য সদস্যরা শিশু পালন, খেলা, ভাব বিনিময়ে অংশ নেয়, সে সব শিশু অন্য শিশুদের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যবান ও বুদ্ধিমান হয়। তারা অধিক নিরাপত্তার মধ্যে বেড়ে ওঠে।

| কাজ-১ : অতি শৈশবে শিশুর বিকাশের জন্য কোন কোন কাজ গুরুত্বপূর্ণ, এসব তথ্যসংবলিত একটি পোস্টার তৈরি করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অর্থির বয়স দেড় বছর। বাসার সব কাজ শেষ করে মা অর্থিকে বেশি সময় দিতে পারে না। তাই উপযুক্ত খাদ্য খাওয়া সত্ত্বেও অর্থির বুদ্ধির বিকাশ কম।
২ বছর থেকে ৬ বছর পর্যন্ত সময় প্রারম্ভিক শৈশব বা শৈশবের প্রথম পর্যায়। এ বয়সের অন্য আর একটি নাম হলো প্রাক বিদ্যালয় শিশু বা স্কুল পূর্বের শিশু। এটা এমন একটা বয়স যখন শিশু আনুষ্ঠানিক ভাবে স্কুলে পড়াশোনা শুরু করে না কিন্তু স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। আবার কোনো কোনো শিশু এ বয়সে স্কুলে যায়, তারা স্কুলে খেলা-ধুলার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরুর প্রস্তুতি নেয়। এ সময়কে খেলার বয়সও বলা হয়।
এ সময়টা শিশুর আনন্দের সময়। পৃথিবী তার কাছে একটা বিরাট বিস্ময়। নিজেকে, অপরকে, আশে-পাশের সবকিছুকে নিয়ে আছে হাজারো প্রশ্ন। প্রত্যেক বিষয়ে সে অনর্গল প্রশ্ন করে। সে সবকিছু শিখতে চায়। এ বয়সটা আগ্রহ ও কৌতূহলের। ধমক দিয়ে বা বিরক্ত হয়ে তাকে থামিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তার সকল প্রশ্নের উত্তর সহজভাবে দিয়ে তাকে উৎসাহী করে তুলতে হবে। এটা কী, ওটা কী, এটা কেন হয়- এসব প্রশ্নের মাধ্যমে তার বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে।
কথোপকথন
আসিফ- আমি একশ গুনতে পারি।
রাইয়ান- আমি একশ হাজার গুনতে পারি।
আসিফ- আমি দুইশ হাজার গুনতে পারি।
রাইয়ান- আমি পৃথিবীর সবার চেয়ে বেশি গুনতে পারি।
উপরের কথোপকথনটি দুইটি প্রাক বিদ্যালয় শিশুর মধ্যে কথোপকথন। এ বয়সে তারা প্রচুর কথা বলতে পারে। তারা থাকে আত্মকেন্দ্রিক। এ জন্য নিজ সম্পর্কে তারা বেশি কথা বলে। কোন কোন বিষয় তার কাছে আনন্দের, তার পরিবারে কে কে আছে, তার কী কী জিনিস আছে- সে সম্পর্কে বলতে আগ্রহী হয়।
তারা সমবয়সীদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে শুরু করে। এভাবেই তাদের সামাজিক বিকাশ ঘটে। এ বয়সে শিশুরা অনুকরণপ্রিয় হয়। যে ধরনের কাজ তাদের সামনে করা হয়, সেভাবেই তারা অভিনয় করে, খেলে। যেমন- বাবার মতো খবরের কাগজ পড়া, মায়ের মতো সকলকে পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদি। এ বয়সে শিশুদের জীবনে সঠিক পরিবর্তন আনার জন্য দামি খেলনা, ব্যয়বহুল উপকরণের প্রয়োজন হয় না।

পরিবারের সদস্যদের তাদের জন্য যা করণীয় তা হলো-
- তাদের সঙ্গে ঘরে ও বাইরে সুন্দরভাবে কথা বলা।
- মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনা।
- বিরক্ত না হয়ে তাদের প্রশ্নের সহজ উত্তর দেওয়া।
- তাদেরকে গান, ছড়া, গল্প শোনানো।
- তাদেরকে সময় দেওয়া, তাদের সাথে খেলাধুলা করা।
- নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে তাদেরকে পরিচিত করা বা ধারণা দেওয়া।
- নতুন কিছু দেখতে, শুনতে, করতে ও স্বাদ গ্রহণে উৎসাহিত করা।
শিশুর সুষ্ঠু বিকাশের জন্য এ কাজগুলো ভালোভাবে যত বেশি করা হবে, ততই তার জন্য মঙ্গলজনক।
| কাজ-১ উদাহরণসহ প্রাক বিদ্যালয় শিশুর বৈশিষ্ট্যের তালিকা করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাবার সঙ্গে নদীর ধারে বেড়াতে যায় অমিত। সে তার বাবাকে প্রশ্ন করে আকাশে অনেক মেঘ থাকা সত্ত্বেও বৃষ্টি হচ্ছে না কেন? বাবা বুঝিয়ে তাকে তার প্রশ্নের উত্তর দেন।
৬ বছর থেকে ১০/১১ বছর পর্যন্ত বয়সকে মধ্য শৈশব বলে ধরা হয়। এ সময়ে শিশুর শারীরিক বিকাশ ধীরগতিতে চলে। কিন্তু সামাজিক জীবনে আসে বিস্ময়কর পরিবর্তন। অধিকাংশ শিশু স্কুলে যাওয়া শুরু করে। ছকবাঁধা জীবনে এটি একটি প্রধান পরিবর্তন। এ বয়সটি দলীয়ভাবে খেলার বয়স। ছেলেরা ছেলেদের দলে এবং মেয়েরা মেয়েদের দলে খেলাধুলা করে। স্কুলে যাওয়া ও খেলাধুলার কারণে সমবয়সীদের সাথে তার ব্যাপক যোগাযোগ হয়।
এ বয়সে তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি হয়। নিজের কাজ নিজে করতে পারে। খাওয়া, পোশাক পরা ইত্যাদি কাজ অল্প সময়ে অল্প পরিশ্রমে করতে পারে। নিজের কাজের পাশাপাশি ঘরে বাইরে নানা ধরনের কাজ করতে পারে। যেমন- বাগান করা, ঘর গোছানো ও পরিষ্কার করা ইত্যাদি।
এ বয়সে শিশুরা স্কুলে গল্প-কবিতা লেখা, ছবি আঁকা, খেলাধুলা, দুই চাকার সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা ইত্যাদি নানা রকম কাজ করে। এভাবে বিভিন্ন কাজে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা উদ্যমী ও পরিশ্রমী হয়। নতুন নতুন কাজে সাফল্য তার আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সমবয়সীদের সাথে বিভিন্ন রকম প্রতিযোগিতা করে। এ সময়ের সফলতা তার ভবিষ্যৎ সফলতার দরজা খুলে দেয়। অপরদিকে ব্যর্থতা তার মধ্যে সৃষ্টি করে হতাশা। এই হতাশা থেকে নানা রকম আচরণগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন- অতিরিক্ত রাগ, জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলা বা ভাংচুর করা, কাউকে আঘাত করা, বিষণ্ণতা, সামান্য কারণে কেঁদে ফেলা, স্কুলে যেতে না চাওয়া ইত্যাদি।

ভালো আচরণের জন্য বড়দের প্রশংসা শিশুর নিরাপত্তাবোধ জাগিয়ে তোলে। শিশুকে যখন প্রশংসা করা হয় তখন সে বুঝতে পারে যে আচরণটি করছে তা বড়দের কাছে গ্রহণযোগ্য। এটি তার মধ্যে ভালো আচরণের ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। তারা আরও ভালো কাজ করতে আগ্রহী হয়। শিশুরা চায় প্রশংসা ও ভালোবাসা। অপরদিকে যেকোনো কারণে বড়দের দেওয়া শাস্তি তাদের আত্মমর্যাদায় আঘাত করে। তাদের মধ্যে হতাশার জন্ম দেয়। তারা নতুন কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
কোনো কারণে পরীক্ষার ফল খারাপ হলে নিরুৎসাহিত হওয়া বা সাহস হারানো ঠিক না। এতে ভবিষ্যৎ সফলতায় বাধার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় মা-বাবাও হতাশ হয়ে পড়েন এবং সন্তানদেরকে তিরস্কার বা রাগারাগি করে থাকেন। বড়দের নেতিবাচক উক্তি শিশুদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। এতে ভবিষ্যৎ সফলতায় বাধার সৃষ্টি হয়। এভাবে বাড়িতে ছোটদের ব্যর্থতায় তোমাদেরকেও সচেতন হতে হবে। তাদেরকে মনোবল ফিরিয়ে আনার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।
| কাজ-১ ছোট ভাই বা বোনের সফলতার জন্য কীভাবে তাকে উৎসাহিত করা যায়-তার কয়েকটি উপায় লেখো। কাজ-২ উদাহরণসহ মধ্য শৈশবের বৈশিষ্ট্যের তালিকা করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় সোমার মা তার সাথে রাগারাগি করেন। এতে সে পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. জাতিসংঘ ঘোষিত সনদ অনুযায়ী কত বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকাল ধরা হয়?
ক. ৬
খ. ১০
গ. ১৪
ঘ. ১৮
২. কোন বয়সে শিশুরা দক্ষ ও পরিশ্রমী হতে শুরু করে?
ক. অতি শৈশবে
খ. প্রারম্ভিক শৈশবে
গ. মধ্য শৈশবে
ঘ. কৈশোর কালে
নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও
বাড়িতেই সালেহা বানুর সন্তানটির জন্ম হয়েছিল। জন্মের পর পর তার বাচ্চাটি কাঁদেনি এবং তার শরীর নীল হয়ে যাচ্ছিল।
৩. সালেহার বাচ্চাটি নীল হয়ে যাচ্ছিল কারণ-
i. ফুসফুস সক্রিয় না হওয়া
ii. রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়া
iii. অক্সিজেনের অভাব হওয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
৪. এ অবস্থায় সালেহার বাচ্চাটির জন্য করণীয় কী?
ক. বাচ্চাকে দ্রুত পরিষ্কার করা
খ. দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা
গ. অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা
ঘ. গরম কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখা
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. আবিদের বয়স ৩ বছর। তার চাকরিজীবী মা বাসস্থান থেকে অফিস দূরে হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর- শাশুড়ির সাথেই থাকেন। আবিদের গোসল খাওয়া ইত্যাদি কাজ তার চাচি করে থাকেন। সারাদিন মা-বাবার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও দাদা-দাদির সাথে আনন্দ হৈ চৈ করে আবিদের দিন কেটে যায়।
ক. সমাজের মূল একক কী?
খ. একক পরিবার কাকে বলে?
গ. আবিদ কোন ধরনের পরিবারে বেড়ে উঠছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আবিদের বয়সী শিশুদের বেড়ে উঠার পেছনে পরিবারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
২. সাইয়ারা আগামী বছর স্কুলে ভর্তি হবে। সে সারাদিন কথা বলে। তার চারপাশের জগৎ নিয়ে মাকে সে সারাদিন হাজারো প্রশ্ন করে ব্যস্ত রাখে। কর্মব্যস্ত মা বিরক্ত না হয়ে সাইয়ারার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকেন।
ক. জন্মের পর নবজাতকের প্রথম ভাষা কী?
খ. সুস্থ স্বাভাবিক শিশু বলতে কী বোঝায়?
গ. সাইয়ারা শৈশবের কোন পর্যায়ে আছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সাইয়ারার মায়ের ভূমিকা সাইয়ারার মতো শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশে সহায়ক-বুঝিয়ে লেখো।