পানির গুণগত মান পর্যবেক্ষণ (২.৮.১)

দ্বিতীয় পত্র (দশম শ্রেণি) - শ্রিম্প কালচার এন্ড ব্রিডিং-২ - এসএসসি ভোকেশনাল | NCTB BOOK

456
  • লবণাক্ততা: সাধারণত গলদা চিংড়ির স্পনিং বা প্রজননের জন্য লবণাক্ততা ৩০-৩৬ পিপিটি পর্যন্ত থাকতে হয়। ভাল প্রজননের জন্য পানির লবণাক্ততা ৩০-৩২ পিপিটি নিশ্চিত করতে হবে। তবে লার্ভার প্রাথমিক পর্যায়ে বৃদ্ধির জন্য লবণাক্ততা কম থাকলে লার্ভার বৃদ্ধি দ্রুত হয়। যদিও লবণাক্ততার আকস্মিক পরিবর্তনে লার্ভার মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নিয়মিত পানির লবণাক্ততা পর্যবেক্ষণ জরুরী।
  • তাপমাত্রা: যে কোন প্রজাতির বিপাকীয় কার্যক্রমে তাপমাত্রার প্রভাব রয়েছে। যেমন- ২৪°সে তাপমাত্রার নিচে গলদা চিংড়ির ডিম ফুটে না। আবার অন্যদিকে ২৬-৩১° °সে তাপমাত্রায় লার্ভার বৃদ্ধি দ্রুত হয়। তাপমাত্রার ধীরে ধীরে পরিবর্তন চিংড়ির জন্য প্রাণঘাতী নয়। তবে হঠাৎ ২° ° সে তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে তা চিংড়ির জন্য মারাত্মক হতে পারে। এজন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যাবশ্যকীয়।
  • দ্রবীভূত অক্সিজেন: দ্রবীভূত অক্সিজেন লার্ভা পালনের জন্য অন্যতম উপাদান। যদি বায়ু চলাচল মাত্র এক ঘন্টার জন্য বন্ধ রাখা হয় তবে সকল লার্ভার মৃত্যু ঘটতে পারে। তাই সার্বক্ষণিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
  •  পিএইচ (pH) এবং নাইট্রোজেন যৌগ: সামুদ্রিক পানির pH সাধারণত ৭.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে থাকে। পানির অ্যামোনিয়ার সাপেক্ষে ট্যাংকের পরিবেশের পরিবর্তনের মূল সূচকই হল pH । যখন pH এর মান বেশি হয় তখন তা পানির অ্যামোনিয়ার (NH3) বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে যা লার্ভার জন্য বিষাক্ত। তবে অ্যামোনিয়াম (NH4) লার্ভার ফুলকা ঝিল্লির মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। তাই এটি লার্ভার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে অ্যামোনিয়াম (NH4) এর ঘনত্ব ১.৫ পিপিএম এবং NH3 এর ঘনত্ব ০.১ পিপিএম এর বেশি যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা যায়।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...