# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মিসেস সাদিয়া একজন সচেতন গৃহিণী। তিনি তার ছেলেকে ডাক্তারি পড়ানোর সুদীর্ঘ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন এবং সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক বেশি যত্নশীল ও সচেতন ছিলেন। আজ তার ছেলে এদেশের স্বনামধন্য একজন ডাক্তার।
তোমরা ইতোমধ্যে গৃহ ও এর পরিবেশ সম্পর্কে জেনেছ। আমরা সবাই চাই আমাদের গৃহটা যেন শান্তিপূর্ণ হয়, সুশৃঙ্খল হয়। আমাদের সব আশা, আকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছা পূরণ এই গৃহেই হয়ে থাকে। আর ইচ্ছে বা উদ্দেশ্যগুলো পূরণ করতে হলে বিভিন্ন রকম কাজ করতে হয়। কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য ব্যবস্থাপনা দরকার হয়। তুমি নিশ্চয়ই লক্ষ করেছ যে, তোমাদের বাড়িতে রোজ অনেক রকম কাজ হয়। কখনো কি ভেবে দেখেছ, কাজগুলো-
- কে বা কারা করছে?
- কেন করা হচ্ছে?
- কীভাবে করা হচ্ছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের কর। দেখবে পরিবারের বিভিন্ন সদস্য যৌথভাবে কাজগুলো করছে। তারা তাদের সময়, বুদ্ধি, টাকা-পয়সা শ্রম ইত্যাদি সম্পদ ব্যবহার করে কাজগুলো করছে, পরিবারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য। প্রতিটা পরিবারের অনেক লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে। লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য তারা উপায় খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। প্রথমে তারা লক্ষ্য ঠিক করে কাজ করার একটা পরিকল্পনা করে। কীভাবে করবে তা চিন্তা করে। তারপর পরিবারের সদস্যরা মিলে কাজগুলো সম্পন্ন করে। সবশেষে কাজের ভালো-মন্দ ফলাফল যাচাই করে দেখে যে, কাজটাতে সফলতা এলো কি না।
অর্থাৎ আমরা বলতে পারি, পরিবারের লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য বিভিন্ন সম্পদ ব্যবহারে পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন করাকে এক কথায় গৃহ ব্যবস্থাপনা বলে।
গৃহ ব্যবস্থাপনা একটি ধারাবাহিক কর্মপদ্ধতি যা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। গৃহ ব্যবস্থাপনা গৃহের সব কর্মকাণ্ডকে সচল রাখে।

পরিকল্পনা-গৃহ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রথম ধাপ পরিকল্পনা করা। যে কোনো কাজ করতে হলে আগে কাজটি কেন করা হবে, কীভাবে করা হবে, কে বা কারা করবে ইত্যাদি সম্বন্ধে ভাবনা-চিন্তা করার নামই পরিকল্পনা। পরিকল্পনা করে নিলে কোন কাজ কখন করা হবে তা সহজেই বোঝা যায়।
সংগঠন
বিভিন্ন কাজের মধ্যে সংযোগ সাধন করা অর্থাৎ কাজ, কর্মী ও সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাই হলো সংগঠন।
নিয়ন্ত্রণ
পরিকল্পনা বাস্তবে কাজে পরিণত করার জন্য নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। গৃহীত পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ও সংগঠনের বিভিন্ন ধারাকে কার্যকর করাই নিয়ন্ত্রণ।
মূল্যায়ন
গৃহ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সর্বশেষ ধাপের নাম মূল্যায়ন। কাজের ফলাফল ভালো না মন্দ তা যাচাই করাই মূল্যায়ন। কাজটির সফলতা বা ব্যর্থতা, মূল্যায়ন করার ফলেই বোঝা যায়। ফলে ভবিষ্যতে কাজটি সহজেই নির্ভুলভাবে করা যায়।
| কাজ-১ তোমার পরিবারের একটা লক্ষ্য হচ্ছে তোমাকে শিক্ষিত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে তুমি কী কী করছ? তালিকা করো। কাজ-২ তোমার পরিবারে যে কজন সদস্য আছে, তারা একদিনে কে, কী কী কাজ করছে, তা লিপিবদ্ধ করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরিকল্পনার মাধ্যমেই আমরা ঠিক করে নেই, কোন কাজের পর কোনটা করব, কখন, কীভাবে করব ইত্যাদি। পরিকল্পনা করে নিলে কাজ করাটাও সহজ হয়ে যায়। কাজের পরিকল্পনাটা সব সময় লিখিতভাবে করতে হয়, যাতে মনে থাকে।
পরিকল্পিত কাজ: যে কাজ পরিকল্পনার মাধ্যমে করা হয়, তাই পরিকল্পিত কাজ। পরিকল্পনা করে কাজ করলে, ভুল ত্রুটি কম হয় এবং সময়মতো কাজটা সম্পন্ন হয়।
পরিকল্পিত কাজের সুবিধা-
- সারাদিন কোন কাজের পর কোন কাজ করা হবে তা জানা যায়।
- সব কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা যায়।
- কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায় না।
- সময়, শক্তি, টাকা-পয়সা ইত্যাদি সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয়।
- যে কোনো কাজেই সফল হওয়া যায়।
| কাজ - ১ সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য আগের দিন পরিকল্পনা করে তুমি কী কী কাজ কর তার একটি তালিকা তৈরি করো। |
অপরিকল্পিত কাজ: পরিকল্পিত কাজের বিপরীত কথাটাই হলো অপরিকল্পিত কাজ।
কল্পনা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। আজ তার অঙ্ক শ্রেণি-পরীক্ষা হলো। গতকাল স্কুল থেকে বাসায় এসে সে বন্ধুর সাথে ফোনে গল্প করেছে। সন্ধ্যার পর অনেকক্ষণ টেলিভিশন দেখেছে। রাতে খাবার পর শুধু ছবি এঁকেছে। অযথা সময় নষ্ট করার ফলে পরীক্ষার জন্য সে কোনো রকম প্রস্তুতি নিতে পারেনি। ফলে দেখা গেল যে তার পরীক্ষাটা ভালো হলো না এবং ভালো নম্বরও পেলনা।
আমাদের জীবনে লক্ষ্য অনেক, তাই অনেক কাজও করতে হয়। সেজন্যই পরিকল্পনা না থাকলে আমরা সব কাজ সঠিক সময়ে সম্পন্ন করতে পারব না। অপরিকল্পিত বা অগোছালো কাজ কখনও সফলতা আনে না।
| কাজ - ২ অপরিকল্পিত কাজের অসুবিধাগুলো কী তালিকা করো। কাজ - ৩ তুমি কোন কাজগুলো পরিকল্পনা করে কর আর কোনগুলো পরিকল্পনা ছাড়া কর তার একটি তালিকা করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শুক্রবার দুপুরের পর রিতা স্কুলের জামাকাপড়, জুতা মোজা ধুয়ে শুকাতে দিল। কিন্তু রোদ না থাকায় সেগুলো ভেজা থাকে এবং পরদিন সে স্কুলে যেতে পারে না।
যেকোনো কাজ করার অনেকগুলো পন্থা বা উপায় থাকে। সেগুলোর মধ্যে থেকে সবচেয়ে ভালো উপায়টাকে আমরা যখন গ্রহণ করি সেটাই হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই দরকার। এটা কাজ শুরুর আগে প্রথম পদক্ষেপ। সিদ্ধান্ত গ্রহণ সঠিক হলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়। আর যদি সিদ্ধান্তটাই ভুল হয়ে যায়, তাহলে কখনই লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না। সময় ও কাজের প্রয়োজনে আমাদের প্রায়ই নতুন নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।
রমেশ তার পরিবারের সাথে শীতকালীন ছুটিতে কক্সবাজারে যেতে চাইল। পরিবারের সবাই আলোচনা করে তারা প্লেনের পরিবর্তে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেন এবং তারপর বাসে কক্সবাজার যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তারা চিন্তা করে দেখল যে, প্লেনের যাতায়াত ভাড়া অনেক বেশি। তাছাড়া ট্রেনে এবং এরপর বাসে গেলে অনেক জায়গা দেখতে পাবে এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে। ফলে ভ্রমণটা অনেক আনন্দদায়ক হবে।
গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রতিটা ধাপেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করলে আমরা অবশ্যই সফল হব। সিদ্ধান্ত দুই রকমের হতে পারে। যথা-
(i) একক সিদ্ধান্ত
(ii) দলীয় সিদ্ধান্ত
একক সিদ্ধান্ত: ছোট সমস্যায় পড়লে বা অবস্থার পরিবর্তনে তুমি নিজেও সমাধানের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারো। যাকে বলে একক সিদ্ধান্ত।
দলীয় সিদ্ধান্ত: পরিবারে এমন অনেক সমস্যা দেখা দেয়, যেগুলো কিছুটা জটিল। সেগুলোর ক্ষেত্রে দেখবে তোমার মা বা বাবা, পরিবারের ছোট-বড় সব সদস্যের সাথে আলোচনা করে কোনো একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, যাকে বলে দলীয় সিদ্ধান্ত। দলীয় সিদ্ধান্তে অনেকের মতামত পাওয়া যায়। ফলে সমস্যা সমাধানের অনেক পথও জানা যায়। সেগুলো থেকে যেকোনো একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কিছু ধারাবাহিক নিয়ম আছে। সেগুলো হচ্ছে-
- প্রথমে সমস্যাটা বুঝতে হবে এবং সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।
- সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকটা পন্থা বা উপায় খুঁজতে হবে।
- পন্থাগুলোর প্রত্যেকটা সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে।
- যে উপায় বেশি ভালো মনে হবে অর্থাৎ যে উপায় অবলম্বন করলে সমস্যা সহজেই সমাধান করা যাবে সেটা গ্রহণ করতে হবে।
- যে উপায় বা পন্থা গ্রহণ করা হলো, সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটাকে অবশ্যই কাজে পরিণত করতে হবে। তা না হলে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সেটা কোনো উপকারে আসবে না।

| কাজ-১ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য তুমি কীভাবে একা সিদ্ধান্ত নিতে পারো? কাজ-২ বন্ধুরা মিলে দলীয় সিদ্ধান্তে তোমার স্কুলে একটা ফুলের বাগান করার পরিকল্পনা করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিলুফা বেগম তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাবেন। সবার সাথে আলোচনা করে তিনি ট্রেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. কোনটি গৃহব্যবস্থাপনার শেষ ধাপ?
ক. পরিকল্পনা
খ. নিয়ন্ত্রণ
গ. মূল্যায়ন
ঘ. সিদ্ধান্ত গ্রহণ
২. পরিকল্পিত কাজের সুবিধা হচ্ছে-
i. সময়মতো সব কাজ হয়ে যায়
ii. যখন যা মনে আসে তা করা যায়
সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
লায়লা যে কোনো পারিবারিক কাজ করার পর কাজটির সফলতা বা ব্যর্থতা যাচাই করে। তাই সকলেই তার কাজের প্রশংসা করে।
৩. লায়লা ব্যবস্থাপনার কোন ধাপটি অনুসরণ করে?
ক. পরিকল্পনা
খ. মূল্যায়ন
গ. নিয়ন্ত্রণ
ঘ. সিদ্ধান্ত গ্রহণ
8. পরিকল্পিত কাজের সুবিধা হচ্ছে-
i. পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগে
ii. ভুলত্রুটি সংশোধনের সুযোগ
সময়মতো কাজ শেষ করা হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. লামিয়া ও লতিফ একই শ্রেণিতে পড়ে। লামিয়া প্রতিদিন রুটিন অনুযায়ী বই খাতা নিয়ে স্কুলে যায়। অপর দিকে লতিফ ক্লাস অনুযায়ী বই আনে না। ফলে লতিফ শিক্ষকের নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারে না।
ক. গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ কোনটি?
খ. অপরিকল্পিত কাজ বলতে কী বোঝায়?
গ. লামিয়ার স্বভাবে ব্যবস্থাপনার কোন ধাপের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। ব্যাখ্যা করো।
ঘ. লতিফের স্বভাব তার সফলতা লাভের পথে অন্তরায়। বুঝিয়ে লেখো।
২. দীপাদের স্কুল থেকে এবারে শিক্ষা সফরে সুন্দরবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ যেতে চায় বাসে কেউবা লঞ্চে। বাসে কারো কারো অসুবিধা কেউবা আবার আরামদায়কভাবে চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে যেতে চায়। শিক্ষক তাদের সময় ও অর্থের দিক চিন্তা না করে শিক্ষা সফরটা উপভোগ করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে বললেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে লঞ্চে সুন্দরবন রওনা হলো।
ক. আমাদের 'সব আশা আকাঙ্ক্ষা' কোথায় পূরণ হয়?
খ. পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?
গ. শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিল? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দীপা ও তার সহপাঠীরা ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করেছে- বুঝিয়ে লেখো।