উত্তরঃ

পদাশ্রিত নির্দেশক: যে সকল অব্যয়বাচক শব্দাংশ পদের পরে যুক্ত হয়ে পদটিকে নির্দিষ্টতা দান করে, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলে। যেমন: -টি, -টা, -খানা, -খানি, -গাছি।

বচনের চিহ্ন: যে সকল শব্দাংশ বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সংখ্যাগত ধারণা (একবচন বা বহুবচন) প্রকাশ করে, সেগুলোকে বচনের চিহ্ন বলে। যেমন: -গুলি, -গুলো, -বৃন্দ, -গণ, -দল।

বিভক্তি: যে সকল বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি নামপদ বা ক্রিয়াপদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কারকভেদে পদগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। যেমন: -কে, -রে, -এ, -য়, -তে, -দ্বারা, -দিয়ে।

বলক: বাংলা ব্যাকরণের প্রমিত পরিভাষাগুলোতে 'অর্থহীন শব্দাংশ' হিসেবে 'বলক' নামক কোনো সুনির্দিষ্ট বা বহুল প্রচলিত ব্যাকরণিক উপাদান নেই, যা পদাশ্রিত নির্দেশক, বচনের চিহ্ন বা বিভক্তির মতো পদ বা বাক্যে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করে।


বাংলা ব্যাকরণে শব্দের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ধরনের অর্থহীন শব্দাংশ রয়েছে যা শব্দের অর্থ পরিবর্তন না করে তার ব্যাকরণিক রূপ বা পদগত কার্যকারিতা পরিবর্তন করে। এগুলোকে সাধারণত রূপমূল (Morpheme) বা ব্যাকরণিক প্রত্যয় (Grammatical Affixes) হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রশ্নে উল্লিখিত এই শব্দাংশগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

        
  •         পদাশ্রিত নির্দেশক (Definite Articles/Post-positional Particles):         

    পদাশ্রিত নির্দেশক হলো এক প্রকার অব্যয়বাচক শব্দাংশ যা বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে সেই পদটিকে নির্দিষ্টতা দান করে। এর নিজস্ব কোনো শাব্দিক অর্থ নেই, তবে এটি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বস্তু বা ব্যক্তির সংখ্যা, প্রকার বা নির্দিষ্টতা প্রকাশে সহায়তা করে। এগুলো বাংলা ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

            

    উদাহরণ:

            
                  
    • একবচনে: -টি, -টা, -খানা, -খানি, -গাছি, -গাছা, -টুকু, -টুকুন। (যেমন: বইটি, লোকটা, একখানা কাপড়, ছাগলটি)
    •             
    • বহুবচনে: -গুলো, -গুলি। (যেমন: বইগুলো, লোকগুলি)
    •         
            

    পদাশ্রিত নির্দেশক অনেক সময় সংখ্যাবাচক বিশেষণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিমাণও নির্দেশ করে। যেমন: দুটি, তিনটে, পাঁচজন।

        
  •     
  •         বচনের চিহ্ন (Number Markers):         

    বচনের চিহ্ন হলো সে সকল শব্দাংশ যা বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশ করে। অর্থাৎ, একটি বস্তুকে নির্দেশ করছে (একবচন) নাকি একাধিক বস্তুকে নির্দেশ করছে (বহুবচন), তা বোঝায়। বাংলা ভাষায় প্রাণীবাচক ও অপ্রাণীবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বচনের চিহ্ন ব্যবহৃত হতে পারে।

            

    উদাহরণ:

            
                  
    • প্রাণীবাচক বহুবচনে: -গণ, -বৃন্দ, -দল, -মণ্ডলী। (যেমন: ছাত্রগণ, শিক্ষকবৃন্দ, পক্ষিদল, দেবমণ্ডলী)
    •             
    • অপ্রাণীবাচক বহুবচনে: -সমূহ, -সব, -কুল, -রাজি, -মালা, -পুঞ্জ, -দাম, -নিকর। (যেমন: পর্বতসমূহ, তারকারাজি, মেঘমালা, কুসুমপুঞ্জ)
    •         
            

    উল্লেখ্য, বাংলা ভাষায় অনেক সময় পদাশ্রিত নির্দেশক (-গুলো, -গুলি) বচনের চিহ্ন হিসেবেও কাজ করে। যেমন: বইগুলো, মানুষগুলি।

        
  •     
  •         বিভক্তি (Case Endings):         

    বিভক্তি হলো সে সকল বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যা নামপদ (বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম) এবং ক্রিয়াপদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্থাপন করে। বিভক্তি সাধারণত পদের কারক এবং ক্রিয়ার কাল, পুরুষ ও বচন নির্দেশ করে। বিভক্তি না থাকলে বাক্যের পদগুলোর মধ্যে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হয় না।

            

    উদাহরণ:

            
                  
    • নামপদের বিভক্তি (কারক বিভক্তি): প্রথমা (০/অ), দ্বিতীয়া (-কে, -রে), তৃতীয়া (-দ্বারা, -দিয়ে, -কর্তৃক), চতুর্থী (-কে, -রে), পঞ্চমী (-হতে, -থেকে, -চেয়ে), ষষ্ঠী (-র, -এর), সপ্তমী (-এ, -য়, -তে)। (যেমন: ছেলকে দাও, লাঠি দিয়ে মারো, বাড়ি থেকে এলে)
    •             
    • ক্রিয়াপদের বিভক্তি (ক্রিয়া বিভক্তি): -ই, -ছ, -ব, -লাম, -ছেন ইত্যাদি। (যেমন: করি, কর, করব, করেছিলাম, করছেন)।
    •         
            

    বিভক্তি পদের অর্থ পরিবর্তন না করে শুধুমাত্র তার ব্যাকরণিক ভূমিকা নির্ধারণ করে।

        
  •     
  •         বলক (Bolok):         

    বাংলা ব্যাকরণের প্রমিত পরিভাষাগুলোতে 'অর্থহীন শব্দাংশ' হিসেবে 'বলক' নামক কোনো সুনির্দিষ্ট বা বহুল প্রচলিত ব্যাকরণিক উপাদান নেই, যা পদাশ্রিত নির্দেশক, বচনের চিহ্ন বা বিভক্তির মতো পদ বা বাক্যে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করে। বিভিন্ন ব্যাকরণবিদদের প্রচলিত গ্রন্থেও এই পদের ব্যবহার অত্যন্ত বিরল। যদি এটি কোনো বিশেষ প্রামাণ্য গ্রন্থ বা গবেষণাপত্রের অংশ হয়, তবে সেক্ষেত্রে এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও প্রয়োগ থাকতে পারে। তবে সাধারণ বা একাডেমিক বাংলা ব্যাকরণে এটি স্বীকৃত পরিভাষা নয়। প্রশ্নটিতে উল্লিখিত এই পদটি হয়তো কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপট, আঞ্চলিক ব্যবহার, বা অপ্রচলিত পরিভাষাকে নির্দেশ করছে অথবা এটি একটি ভুল প্রয়োগ।

        
Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

অত্যন্ত


প্রদত্ত শব্দটি হলো "অত্যান্ত", যা একটি ভুল বানান। এর সঠিক প্রমিত বানান হলো "অত্যন্ত"।

বানান ভুলের কারণটি বাংলা ব্যাকরণের সন্ধি বিষয়ক নিয়মের সাথে সম্পর্কিত। এটি য-ফলা সিদ্ধ স্বরসন্ধির একটি উদাহরণ।

        
  • 'অত্যন্ত' শব্দটি 'অতি' এবং 'অন্ত' এই দুটি পদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে।
  •     
  • স্বরসন্ধির একটি নিয়ম অনুযায়ী, ই-কার (ি) বা ঈ-কারের (ী) পর যদি ই-কার বা ঈ-কার ভিন্ন অন্য কোনো স্বরধ্বনি আসে, তাহলে ই-কার বা ঈ-কার স্থানে য-ফলা (্য) হয়।
  •     
  • এখানে 'অতি' শব্দের শেষ বর্ণ 'ই' (ি) এবং 'অন্ত' শব্দের প্রথম বর্ণ 'অ' (অ)। এই দুটি স্বরধ্বনি মিলে য-ফলা (্য) সৃষ্টি করেছে।
  •     
  • ফলস্বরূপ, 'ত' ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে য-ফলা যুক্ত হয়ে 'ত্য' গঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো 'আ-কার' (া) যুক্ত হওয়ার ব্যাকরণগত ভিত্তি নেই। তাই 'অত্যান্ত' বানানটি ভুল এবং 'অত্যন্ত' বানানটি সঠিক।
Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ মনোযোগ

কারণ: 'মনোযোগ' শব্দটি 'মনঃ + যোগ' এই বিসর্গ সন্ধি দ্বারা গঠিত। এখানে 'মনঃ'-এর বিসর্গটি 'ও-কার'-এ পরিণত হয়ে 'মনোযোগ' হয়। 'মনযোগ' বানানে 'ন'-এর পর 'ও-কার' না থাকায় বানানটি ভুল। প্রমিত বাংলা বানানে 'মনোযোগ' শব্দটিই সঠিক এবং এর অর্থ একাগ্রতা বা একাগ্র চিত্তে কোনো কিছুতে নিমগ্ন থাকা।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

পদাবলি। কারণ, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী ‘-আবলি’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে সর্বদা ই-কার ব্যবহৃত হয়।


বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, যেসব তৎসম ও অতৎসম শব্দের শেষে ‘-আবলি’ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোতে ‘ই-কার’ (ি) ব্যবহার করা হবে। ‘আবলি’ প্রত্যয়টি মূলত সমষ্টি বা শ্রেণিবিন্যাস বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। পুরোনো বানানে অনেক সময় ‘-আবলী’ (ী-কার) ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে প্রমিত বানানে কেবল ‘-আবলি’ (ই-কার) প্রচলিত। যেমন: কার্যাবলি, শর্তাবলি, রচনাবলি, প্রশ্নাবলি ইত্যাদি। ‘পদাবলী’ শব্দটি ‘পদ’ এবং ‘আবলি’ প্রত্যয়ের সমন্বয়ে গঠিত, তাই প্রমিত বানান হবে ‘পদাবলি’ যেখানে ‘ব’ এর সাথে ই-কার (ি) যুক্ত হবে, ঈ-কার (ী) নয়। এই নিয়মটি বাংলা ভাষার লিখনশৈলীতে সামঞ্জস্য ও প্রমিতকরণ নিশ্চিত করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ অঙ্ক

বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, 'ক' বর্ণের পূর্বে অনুনাসিক ধ্বনি হিসেবে 'ং' (অনুস্বার) ব্যবহৃত হয় না, বরং 'ঙ' ব্যবহৃত হয়, যা 'ক' এর সাথে যুক্ত হয়ে 'ঙ্ক' যুক্তাক্ষর গঠন করে। 'অঙ্ক' শব্দের ক্ষেত্রে এটি একটি ক-বর্গীয় ধ্বনি-সংযুক্ত অনুনাসিক বর্ণমালা।

সাধারণত, বাংলা ব্যাকরণে ক-বর্গীয় ব্যঞ্জনবর্ণের (ক, খ, গ, ঘ) সাথে অনুনাসিক ধ্বনি যুক্ত হলে সেই বর্গের নাসিক্য বর্ণ 'ঙ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: অঙ্ক, কঙ্কাল, আকাঙ্ক্ষা। অন্যদিকে, 'ং' (অনুস্বার) প্রায়শই স্বাধীনভাবে বা অন্য কোনো বর্গের ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে ব্যবহৃত হয়, যদিও এর ব্যবহারেও নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। 'অংক' শব্দটি ভুল কারণ এটি এই প্রমিত বানান রীতিকে অনুসরণ করে না।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ রুপা

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি ও মিশ্র শব্দে ই-কার বা উ-কার বসবে। এখানে 'রূপা' শব্দটি কোনো তৎসম শব্দ নয়; এটি একটি তদ্ভব শব্দ, যার অর্থ 'সিলভার'। তাই প্রমিত বানানে এর দীর্ঘ-ঊ-কার (ঊ) পরিবর্তিত হয়ে হ্রস্ব-উ-কার (উ) হবে। এই নিয়মটি বানানের সরলীকরণ এবং শব্দে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ স্বরচিহ্ন পরিহার করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

বণ্টন


    শব্দটি 'বন্টন' নয়, সঠিক প্রমিত বানান হলো 'বণ্টন'।

    ভুলের কারণ: এটি বাংলা ব্যাকরণের ণ-ত্ব বিধানের একটি নিয়ম লঙ্ঘন করে। ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী, ট-বর্গীয় ধ্বনির (ট, ঠ, ড, ঢ) পর সবসময় 'ণ' (মূর্ধন্য-ণ) ব্যবহৃত হয়, 'ন' (দন্ত্য-ন) নয়। 'বণ্টন' একটি তৎসম শব্দ এবং এখানে 'ট' ধ্বনির পর 'ণ' যুক্ত হয়ে 'ণ্ট' তৈরি হয়, যা সংস্কৃত ব্যাকরণ এবং বাংলা প্রমিত বানানের নিয়ম। যেমন: লুণ্ঠন, কাণ্ড, প্রচণ্ড ইত্যাদি।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের সংকলন, যেটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যে কবির আধ্যাত্মিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। গানগুলো যে সময়ে রচিত হয়, তার কয়েক বছর আগে কবি তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে হারান। কবির মর্মবেদনা তাঁর দর্শন ও ধর্মচিন্তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে স্ফূর্ত গানের রূপ লাভ করেছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

অর্থ: যার বিদ্যা, বুদ্ধি বা গুণ কম, সেই বেশি আড়ম্বর করে বা নিজেকে জাহির করে।

বাক্য রচনা: লোকটার নিজের জ্ঞান নেই, শুধু কথায় কথায় অন্যদের ছোট করে। এমন লোকেদের দেখলেই মনে হয়, খালি কলসি বাজে বেশি

প্রসঙ্গ: এই প্রবাদটি সমাজের এক শ্রেণির মানুষকে নির্দেশ করে যারা প্রকৃত জ্ঞান, দক্ষতা বা গভীরতা না থাকা সত্ত্বেও নিজেদের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে উচ্চস্বরে কথা বলে, অনর্থক বিতর্ক সৃষ্টি করে অথবা অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক প্রদর্শন করে। কর্মজীবনে বা সামাজিক ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিদের প্রায়শই দেখা যায়, যারা প্রচারের আলোয় আসতে চায় কিন্তু তাদের কাজের গুণগত মান বা অর্জিত জ্ঞান প্রশ্নবিদ্ধ থাকে। প্রকৃত জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা সাধারণত বিনয়ী হন এবং তাদের কাজের মাধ্যমেই নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন। এই প্রবাদটি মানুষকে বিনয়ী হতে এবং অগভীর জ্ঞান নিয়ে অহংকার না করতে উৎসাহিত করে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

অর্থ: ছোট ত্রুটি বা মন্দ কাজ আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা।

বাক্য রচনা: দুর্নীতি ঢাকার জন্য শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে লাভ নেই, একদিন তা প্রকাশ পাবেই।


‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’ একটি বহুল প্রচলিত বাংলা বাগধারা। এর আক্ষরিক অর্থ হল সামান্য শাক বা সবজি দিয়ে একটি মাছকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করা, যা মূলত অসম্ভব কারণ শাকের পরিমাণ মাছকে পুরোপুরি আড়াল করার জন্য যথেষ্ট নয়। রূপক অর্থে, এটি কোনো গুরুতর দোষ, ত্রুটি, অন্যায় বা দুর্নীতিকে তুচ্ছ বা অপ্রতুল কোনো কিছু দিয়ে আড়াল করার ব্যর্থ প্রয়াসকে বোঝায়। এই বাগধারাটি সমাজে ঘটে যাওয়া ছোটখাটো অপরাধ বা বড় দুর্নীতির ঘটনাগুলোকে লুকানোর চেষ্টা করার প্রবণতাকে নির্দেশ করে, যেখানে আড়াল করার প্রচেষ্টা এতটাই দুর্বল যে তা সহজেই প্রকাশিত হয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয় যে সত্যকে বেশিদিন গোপন রাখা যায় না, তা কোনো না কোনো সময় প্রকাশ পাবেই।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ গরু মেরে জুতো দান: প্রথমে বড় ক্ষতি করে পরে সামান্য উপকারের ভান করা।
বাক্য রচনা: এলাকার বিত্তশালী লোকটি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি না দিয়ে তাদের ঠকাল, আর পরে মন্দিরে সামান্য দান করে সকলের সামনে ভালো সাজার চেষ্টা করল। এটি যেন গরু মেরে জুতো দান করার মতোই কাজ।
"গরু মেরে জুতো দান" একটি বাংলা প্রবাদ, যা দ্বারা বোঝানো হয় যে প্রথমে কোনো বড় ক্ষতি বা অন্যায় করে পরে সামান্য উপকার বা দান করে সেই ক্ষতিপূরণ বা অন্যায় ঢাকবার চেষ্টা করা। এই প্রবাদটি মূলত কপটতা এবং ভণ্ডামিকে নির্দেশ করে। যখন কোনো ব্যক্তি একটি গুরুতর অপরাধ বা ক্ষতির কারণ হয় এবং পরবর্তীতে লোকচক্ষুর সামনে সামান্য কিছু ভালো কাজ করে নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে চায়, তখন এই প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়। এটি বোঝায় যে একটি বড় পাপ বা ক্ষতির সঙ্গে সামান্য পুণ্য বা উপকার কখনোই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না এবং এই ধরনের কাজ মূলত লোকদেখানো।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ যত্নে রতন মেলে - যত্ন ও পরিশ্রম করলে দুষ্প্রাপ্য বস্তুও লাভ করা যায়।
    বাক্যে প্রয়োগ: মন দিয়ে লেখাপড়া করলে ভালো ফল পাওয়া যায়, কারণ যত্নেই রতন মেলে।     
    

‘যত্নে রতন মেলে’ একটি জনপ্রিয় বাংলা প্রবাদ। এই প্রবাদটির মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, কোনো কিছু প্রাপ্তির জন্য নিয়মিত যত্ন, চেষ্টা ও অধ্যবসায় অপরিহার্য। রতন বলতে এখানে মূল্যবান বা দুষ্প্রাপ্য কোনো বস্তুকে বোঝানো হয়েছে, যা সহজে মেলে না। আর যত্ন হলো সেই রত্নকে পাওয়ার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও মনোযোগ। অর্থাৎ, জীবনের যেকোনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা থাকলে তা সুনিশ্চিত হয়। এই প্রবাদটি মানুষকে কর্মঠ হতে এবং ধৈর্যের সাথে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে উৎসাহিত করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

সামান্য বা নগণ্য বস্তুর দ্বারাও বিপদ ঘটে।

লোকটাকে দুর্বল ভেবো না। পচা শামুকে পা কাটাও সম্ভব।


এই প্রবাদটি দ্বারা বোঝানো হয় যে, অনেক সময় আমরা যা তুচ্ছ বা গুরুত্বহীন মনে করি, তা থেকেও গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি। অর্থাৎ, ছোট বা দুর্বল মনে হলেও কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ অপ্রত্যাশিতভাবে তা বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। এটি অসাবধানতা এবং সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

অর্থ: অন্যের অনুরোধে অনিচ্ছাসত্ত্বেও কষ্টকর বা অপ্রীতিকর কাজ করা।

বাক্যে প্রয়োগ: বন্ধুর অনুরোধে অপু এমন একটি প্রকল্পের দায়িত্ব নিল যেখানে কাজ করার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা তার ছিল না; এটি যেন অনুরোধে ঢেঁকি গেলা।


এই প্রবাদটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যখন একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র অন্যের অনুরোধ বা সামাজিক চাপ রক্ষার্থে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কঠিন, অপ্রীতিকর বা এমনকি ক্ষতিকর কাজ গ্রহণ করে। এটি প্রায়শই ব্যক্তি নিজের বিচারবুদ্ধি বা সুবিধার তোয়াক্কা না করে করে থাকে। কর্মজীবনে, এই ধরনের প্রবণতা অতিরিক্ত কাজের চাপ, কর্মদক্ষতার অভাব বা নৈতিক দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে, যদি কেউ ক্রমাগত এমন কাজ গ্রহণ করে যা তার দক্ষতা, ক্ষমতা বা নৈতিকতার পরিধির বাইরে, শুধুমাত্র সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতনদের সন্তুষ্ট করার জন্য। এটি ব্যক্তিগত ও পেশাগত সীমারেখা নির্ধারণের গুরুত্ব এবং অনুরোধ বিচক্ষণতার সাথে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে এবং একটি মাত্র কর্তা সম্পর্কে একটি উক্তি প্রকাশিত হয়, তাকে সরল বাক্য বলে। এতে একটি উদ্দেশ্য এবং একটি বিধেয় থাকে।

        
  • উদাহরণ: ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।

জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য এবং এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে সংযুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাধারণত 'যে, যা, যিনি, তিনি, যখন, তখন, যদি, তবে, যেহেতু, সেহেতু' ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক দ্বারা প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

        
  • উদাহরণ: যখন বৃষ্টি থামল, তখন আমরা খেলতে গেলাম।

যৌগিক বাক্য: যে বাক্যে দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য কোনো সংযোজক অব্যয় (যেমন: ও, এবং, আর, কিন্তু, অথবা, নতুবা, তবু, তথাপি, সুতরাং, বরং ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য গঠন করে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এই বাক্যগুলোর প্রতিটিই স্বাধীন এবং নিজেদের অর্থ প্রকাশে সক্ষম।

        
  • উদাহরণ: সে ধনী, কিন্তু সে কৃপণ।

বাক্যের পারস্পরিক রূপান্তর: বাক্যগুলোর অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে তাদের গঠনগত পরিবর্তন করাকে বাক্যের রূপান্তর বলে।

১. সরল থেকে জটিল:

        
  • সরল: ভালো ছেলেরা পুরস্কার পায়।
  •     
  • জটিল: যারা ভালো ছেলে, তারা পুরস্কার পায়।

২. জটিল থেকে সরল:

        
  • জটিল: যখন বিপদ আসে, তখন মানুষের জ্ঞান হয়।
  •     
  • সরল: বিপদকালে মানুষের জ্ঞান হয়।

৩. সরল থেকে যৌগিক:

        
  • সরল: সে অসুস্থ হওয়ায় বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি।
  •     
  • যৌগিক: সে অসুস্থ ছিল এবং তাই বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি।

৪. যৌগিক থেকে সরল:

        
  • যৌগিক: সূর্য উঠেছে এবং অন্ধকার দূর হয়েছে।
  •     
  • সরল: সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয়।

৫. জটিল থেকে যৌগিক:

        
  • জটিল: যদিও সে গরিব, তবুও সে সৎ।
  •     
  • যৌগিক: সে গরিব, কিন্তু সে সৎ।

৬. যৌগিক থেকে জটিল:

        
  • যৌগিক: মন দিয়ে পড়ো, নতুবা ফেল করবে।
  •     
  • জটিল: যদি মন দিয়ে না পড়ো, তবে ফেল করবে।
Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

মানুষের ভেতরের সুপ্ত জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও শক্তিকে জাগিয়ে তোলাকেই 'আত্মাকে জাগানো' বলা হয়েছে। এই জাগরণ কেবল আধ্যাত্মিক নয়, বরং আত্ম-উপলব্ধি, মানসিক বিকাশ এবং নৈতিক উন্নতির এক সম্মিলিত প্রক্রিয়া। যে ব্যক্তি নিজের ভেতরের সম্ভাবনাকে চিনতে পারে, নিজের বুদ্ধিবৃত্তি ও মানবিক গুণাবলির স্ফুরণ ঘটাতে পারে, সেই প্রকৃত অর্থে আত্মাকে জাগাতে সক্ষম হয়।

যখন একজন ব্যক্তি নিজের আত্মাকে জাগিয়ে তোলে, তখন তার চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিধি বিস্তৃত হয়। সে পৃথিবীর জটিলতা, সৌন্দর্য এবং রহস্যকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে। তার মন সংকীর্ণতা ও অজ্ঞতা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সুযোগের প্রতি উন্মোচিত হয়। আত্মিক জাগরণ মানুষকে আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন করে তোলে, যা তাকে জীবনের পথচলায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে সাহায্য করে।

এই আত্মিক জাগরণের ফলেই ব্যক্তির সামনে বিশ্বের অবারিত দ্বার উন্মোচিত হয়। সে নতুন দিগন্ত আবিষ্কার করে, অজানাকে জানতে আগ্রহী হয় এবং জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করে তোলে। বিশ্ব তখন তার কাছে কেবল একটি ভৌগোলিক সীমারেখা থাকে না, বরং জ্ঞান, সম্ভাবনা এবং সাফল্যের এক অফুরন্ত উৎস হিসেবে প্রতিভাত হয়। সুতরাং, বাহ্যিক সাফল্যের পেছনে ছোটার পাশাপাশি আত্মিক উন্নতির সাধনা করা অত্যাবশ্যক, কারণ এর মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি সত্যিকারের বিশ্বকে উপলব্ধি করতে এবং তার ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে পারে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
(৩)

সারাংশ লিখুন:

সুতরাং দেখা যায় কন্যাকে এরূপ শিক্ষা দেওয়া হয় না, যাহাতে সে স্বামীর ছায়াতুল্যা সহচরী হইতে পারে। প্রভুদের বিদ্যার গতির সীমা নাই, স্ত্রীদের বিদ্যার দৌড় সচরাচর 'বোধোদয়' পর্যন্ত।

স্বামী যখন পৃথিবী হইতে সূর্য ও নক্ষত্রের দূরত্ব মাপেন, স্ত্রী তখন একটা বালিশের ওয়াড়ের দের্ঘ্য প্রস্থ (সেলাই করিবার জন্য) মাপেন! স্বামী যখন কল্পনা-সাহায্যে সুদূর আকাশে গ্রহনক্ষত্রমালা-বেষ্টিত সৌরজগতে বিচরণ করেন, সূর্যমন্ডলের ঘনফল তুলাদণ্ডে ওজন করেন এবং ধূমকেতুর গতি নির্ণয় করেন, স্ত্রী তখন রন্ধনশালায় বিচরণ করেন, চাউল ডাল ওজন করেন এবং রাঁধুনির গতি নির্ণয় করেন। বলি জ্যোতির্বেত্তা মহাশয়, আপনার পার্শ্বে আপনার সহধর্মিনী কই? বোধ হয়, গৃহিণী যদি আপনার সঙ্গে সূর্যমণ্ডলে যান, তবে তথায় হছিবার পূর্বেই পথিমধ্যে উত্তাপে বাষ্পীভূত হইয়া যাইবেন। তবে সেখানে গৃহিণীর না যাওয়াই ভালো!!

উত্তরঃ

সারাংশ:

আমাদের সমাজব্যবস্থায় নারী ও পুরুষের শিক্ষার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিদ্যমান। পুরুষ যখন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উচ্চতর গবেষণার চরম উৎকর্ষ সাধন করছে, নারী তখন উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে কেবল গৃহস্থালি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। অথচ পুরুষকে যোগ্য সঙ্গ প্রদান ও সমাজের সার্বিক অগ্রগতির জন্য নারীকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে প্রকৃত সহচরী হিসেবে গড়ে তোলা অপরিহার্য।

Satt AI
Satt AI
19 hours ago
উত্তরঃ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ (১২০১–১৮০০ খ্রি.) প্রধানত ধর্মকেন্দ্রিক ও কাব্যানুভূতিনির্ভর। এ যুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতাগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

      
  • ধর্মকেন্দ্রিকতা: মধ্যযুগের সাহিত্যের মূল চালিকাশক্তি ছিল ধর্মভাবনা। দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার এবং ঈশ্বরভক্তি প্রকাশই ছিল সাহিত্য রচনার মুখ্য উদ্দেশ্য।
  •   
  • পদ্যে কাব্য রচনা: মধ্যযুগে গদ্য সাহিত্যের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সম্পূর্ণ সাহিত্যই পদ্যে (প্রধানত পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে) রচিত হতো এবং তা গেয় বা সুর করে গাওয়া হতো।
  •   
  • অনুবাদ সাহিত্য: সংস্কৃত রামায়ণ, মহাভারত ও ভাগবত এবং ফারসি-আরবি প্রণয়োপাখ্যানের অনুবাদ ও রূপান্তর এ যুগের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক প্রবণতা ছিল।
  •   
  • মানবিকতা ও রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান: মুসলিম কবিদের হাত ধরে (যেমন: শাহ মুহম্মদ সগীর, আলাওল) বাংলা সাহিত্যে দেব-দেবীর পরিবর্তে মানুষের ইহলৌকিক প্রেম, সুখ-দুঃখ ও জীবনসংগ্রাম প্রাধান্য পায়।
  •   
  • রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতা: গৌড় ও আরাকান (রোসাঙ্গ) রাজসভার নৃপতি ও অমাত্যদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যযুগের বহু মানসম্পন্ন কাব্য রচিত হয়।
  •   
  • মঙ্গলকাব্য ধারা: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল ইত্যাদি কাব্যে লৌকিক দেব-দেবীর মহিমা প্রচারের পাশাপাশি তৎকালীন বাঙালি সমাজের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
  •   
  • বৈষ্ণব সাহিত্য ও জীবনী সাহিত্য: ষোড়শ শতকে শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভাবে বৈষ্ণব পদাবলী সমৃদ্ধ হয় এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম জীবনী সাহিত্য (যেমন: চৈতন্যভাগবত, চৈতন্যচরিতামৃত) রচনার সূত্রপাত ঘটে।
  •   
  • আখ্যান ও গীতিকাব্যিক রূপ: এ যুগের সাহিত্য মূলত দুই ধারায় বিভক্ত ছিল— আখ্যানমূলক (মঙ্গলকাব্য, রোমান্টিক কাব্য, অনুবাদ কাব্য) এবং গীতিময় (বৈষ্ণব পদাবলী, শাক্ত পদাবলী)।
Satt AI
Satt AI
19 hours ago
উত্তরঃ

বাংলা গদ্যের বিকাশ এবং শিশুপাঠ্য ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক রচনায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা অত্যন্ত যুগান্তকারী ও প্রাতঃস্মরণীয়। তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ উপায়ে শিক্ষার্থীদের উপযোগী মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন।

বিদ্যাসাগর ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও বাংলা স্কুলসমূহের পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উপলব্ধি করেন যে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পাঠ্যপুস্তকের তীব্র অভাব রয়েছে। এই প্রয়োজন মেটাতে তিনি 'বর্ণপরিচয়' (১ম ও ২য় ভাগ), 'বোধোদয়', 'কথামালা', 'আখ্যানমঞ্জরী', 'চরিতাবলী' এবং 'ঋজুপাঠ'-এর মতো বহু যুগান্তকারী পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন। তিনি বাংলা বর্ণমালাকে সংস্কার করে সুশৃঙ্খলভাবে সাজান এবং বাংলায় প্রথম সঠিকভাবে বিরামচিহ্ন বা জ্যোতিশ্চিহ্নের ব্যবহার করে প্রাঞ্জল ও সুসংহত গদ্যরীতি প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলা পাঠ্যপুস্তক রচনার ভিত্তি স্থাপন করে।

Satt AI
Satt AI
19 hours ago
উত্তরঃ

মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি বাংলা গদ্য, নাটক, কাব্য ও উপন্যাস রচনায় অসামান্য অবদান রেখেছেন।


মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক কিংবদন্তী পুরুষ, যিনি বাংলা গদ্য ও মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। তাঁর সাহিত্যকৃতির বিস্তারিত পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো:

        
  • বিষাদ সিন্ধু: এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি এবং বাংলা সাহিত্যের একটি অমূল্য সম্পদ। কারবালার বিষাদময় ঘটনা অবলম্বনে রচিত এই উপন্যাসটি বাংলা মুসলিম সমাজের মর্মস্থলে স্থান করে নিয়েছে। এর সরল ভাষা এবং গভীর মানবিক আবেদন এটিকে সর্বজনীন জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।
  •     
  • জমীদার দর্পণ: এটি একটি প্রহসনমূলক নাটক, যেখানে তিনি তৎকালীন জমিদারদের শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ তুলে ধরেছেন। এটি তাঁর সমাজ সচেতনতার পরিচয় বহন করে।
  •     
  • বসন্ত কুমারী: এটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম নাটক এবং বাংলা মুসলিম সাহিত্যিক কর্তৃক রচিত প্রথম সফল নাটক।
  •     
  • আমার জীবনী ও উদাসীন পথিকের মনের কথা: এগুলি তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা, যেখানে তিনি নিজের জীবন ও সময়ের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছেন। এসব রচনায় তাঁর ব্যক্তিজীবন, সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা প্রতিফলিত হয়েছে।
  •     
  • গাজী মিয়াঁর বস্তানী: এটি একটি বিদ্রূপাত্মক রচনা, যেখানে তিনি সমাজের নানা অসঙ্গতি ও কুসংস্কারের সমালোচনা করেছেন।
  •     
  • অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: এর মধ্যে রয়েছে 'রত্নবতী' (উপন্যাস), 'ইসলামের জয়', 'গোরাই ব্রীজ অথবা গৌরী সেতু' (প্রহসন) ইত্যাদি।

মীর মশাররফ হোসেন তাঁর সাহিত্যকর্মে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবতাবাদের জয়গান গেয়েছেন। তাঁর ভাষা ছিল সহজ, সরল ও হৃদয়গ্রাহী, যা সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর রচনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বাংলা মুসলিম সাহিত্যকে তিনি এক নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও বাঙালি পাঠক সমাজকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

ছড়া, কবিতা, গান ও লোকগানের মধ্যে মূল পার্থক্যসমূহ নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

১. ছড়া: ছড়া প্রধানত শিশুতোষ, লঘুরসাত্মক এবং শব্দালংকার ও ছন্দের ওপর নির্ভরশীল সাহিত্যরূপ। এতে কোনো নির্দিষ্ট গভীর ভাব বা দর্শনের চেয়ে ধ্বনিমাধুর্য ও ভাবনার চপলতা প্রাধান্য পায়। এটি সাধারণত সুরে গাওয়া হয় না, তবে ছন্দে ছন্দে আবৃত্তি করা হয়।

২. কবিতা: কবিতা হলো কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি, কল্পনা, জীবনবোধ ও দর্শনের সুসংহত নান্দনিক রূপ প্রকাশ। কবিতা মূলত পাঠ করা বা আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। এতে গীতিময়তা থাকতে পারে, কিন্তু এটি নির্দিষ্ট কোনো সুর বা তালের খাঁচে আবদ্ধ থাকে না।

৩. গান: সুর, তাল ও লয়ের সমন্বয়ে যা গীত হয়, তা-ই গান। গান রচনার মূল উদ্দেশ্যই হলো তা গেয়ে পরিবেশন করা। গানের একটি নির্দিষ্ট বাণী (গীতিকবিতা) থাকে, যা সুরকারের মাধ্যমে সুরবদ্ধ হয় এবং এতে নির্দিষ্ট রাগ বা সুরের নিয়মাবলি অনুসরণ করা হয়।

৪. লোকগান: লোকগান বা লোকসংগীত হলো গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে রচিত, প্রচলিত ও সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী গান। এর রচয়িতা প্রায়শই অজ্ঞাত থাকেন। লোকগানের সুর ও বাণী অত্যন্ত সহজ-সরল এবং এতে মাটির গন্ধ ও লোকজীবনের সুখ-দুঃখ, আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটে (যেমন: বাউল, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি)।


সংক্ষিপ্ত তুলনামূলক ছক:

                                                                                                                                                          
বিষয়/বিষয়বস্তুছড়াকবিতাগানলোকগান
মূল উদ্দেশ্যআবৃত্তি ও বিনোদনপাঠ ও ভাব প্রকাশসুরসংযোগে গায়নলোকসংস্কৃতির প্রকাশ ও গায়ন
সুরের প্রয়োগসুর নেই, ছন্দপ্রধানসুর বাধ্যতামূলক নয়সুর ও তাল বাধ্যতামূলকসহজ-সরল মেঠো সুর সমৃদ্ধ
ভাবের গভীরতাহালকা ও চপল ভাবশ্রেণিগভীর ভাব ও দর্শনভিত্তিকবৈচিত্র্যময় ভাব প্রকাশ পায়সাধারণ মানুষের জীবন ও আধ্যাত্মিক ভাব
রচয়িতানির্দিষ্ট রচয়িতা থাকেন/থাকতে পারেননির্দিষ্ট কবি থাকেননির্দিষ্ট গীতিকার ও সুরকার থাকেনঅধিকাংশ ক্ষেত্রে রচয়িতা অজ্ঞাত বা লোকসমাজ
Satt AI
Satt AI
19 hours ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের কাব্যধারায় শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদ পঞ্চাশের দশকের দুই প্রধান এবং প্রভাবশালী কবি। চল্লিশের দশকের সূচনা পর্বের পর বাংলাদেশের আধুনিক বাংলা কবিতার যে স্বতন্ত্র পরিচিতি ও বিকাশ ঘটে, তার মূলে এই দুই কবির অবদান অনস্বীকার্য। তাঁরা নিজ নিজ কাব্যভাষার মৌলিকতায় বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।

১. কাব্যধারায় শামসুর রাহমানের অবদান:

শামসুর রাহমানকে বাংলা সাহিত্যের 'নাগরিক কবি' বলা হয়। নাগরিক জীবনের বিষণ্নতা, একাকিত্ব, যন্ত্রণা এবং একই সাথে বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর কবিতায় জীবন্ত রূপ পেয়েছে।

        
  • নাগরিক চেতনা ও আধুনিকতা: তিনি আধুনিক শহরের জীবনচিত্র, মধ্যবিত্তের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ও নাগরিক হতাশাকে অত্যন্ত নিপুণভাবে কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
  •     
  • গণআন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ: বাংলা ভাষার স্বাধিকার আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাঁর কলম সোচ্চার ছিল। 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা', 'স্বাধীনতা তুমি', 'আসাদের শার্ট' প্রভৃতি কবিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অমর দলিল।
  •     
  • কাব্যভাষার স্বকীয়তা: প্রতিদিনের কথ্য ভাষাকে কাব্যিক রূপ দিয়ে তিনি বাংলা কবিতায় এক নতুন স্বর সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 'প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে', 'বন্দী শিবির থেকে', 'দুঃসময়ের মুখোমুখি' ইত্যাদি।

২. কাব্যধারায় আল মাহমুদের অবদান:

আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা কবিতায় 'লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ আবহের' অনন্য রূপকার। তিনি আধুনিক নাগরিক চেতনার সাথে রূপসী বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, মাটি ও মানুষের গভীর সংযোগ ঘটিয়েছেন।

        
  • লোকজ উপাদানের আধুনিক প্রয়োগ: আল মাহমুদ আধুনিক কবিতার ফর্মের ভেতরে গ্রামবাংলার লোকজ শব্দ, গ্রামীণ জীবনবোধ ও আঞ্চলিক রূপকল্পকে নতুন শিল্পরূপ দিয়েছেন।
  •     
  • প্রেম, মাটি ও ইতিহাস: তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'-এ প্রেম, যৌনতা, ইতিহাস, মাটি এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার একসূত্রে গাথা হয়েছে। সোনালী কাবিন সনেটগুচ্ছ বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী সৃষ্টি।
  •     
  • কাব্যিক বৈশিষ্ট্য: গ্রামীণ পটভূমি হলেও তাঁর ভাষা ও উপস্থাপন ভঙ্গিতে ছিল গভীর আধুনিকতা ও নান্দনিকতা। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ: 'লোক লোকান্তর', 'কালের কলস', 'মায়াবী পর্দা দুলো না'

মূল্যায়ন:

শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদ পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে বাংলাদেশের কাব্যধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন। যেখানে শামসুর রাহমান শহর, নাগরিক মানস ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠস্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন, সেখানে আল মাহমুদ গ্রাম, লোকজ ঐতিহ্য ও বাংলার চিরায়ত রূপকে আধুনিক কাব্যভাষায় রূপদান করেছেন। এই দুই কবির সৃজনশীলতার ওপর ভর করেই বাংলাদেশের কবিতা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের মূলধারায় স্থায়ী ও স্বতন্ত্র আসন লাভ করেছে।

Satt AI
Satt AI
19 hours ago
193

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত সময় মধ্যযুগ বলে চিহ্নিত। এর মধ্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশে তুর্কি বিজয়ের মাধ্যমে মুসলমান শাসনামলের সূত্রপাতের পরিপ্রেক্ষিতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি হয় নি অনুমান করে এ রকম সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলার সেন বংশের শাসক অশীতিপর বৃদ্ধ লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া বিনা বাধায় জয় করে এদেশে মুসলমান শাসনের সূত্রপাত করেন। ১৩৪২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ গৌড়ের সিংহাসন দখল করে দিল্লির শাসনমুক্ত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর পুত্র সেকান্দর শাহের আমলে বড়ু চণ্ডীদাসের আবির্ভাব হয়। বড়ু চণ্ডীদাসের কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন

Related Question

View All
উত্তরঃ

সমাজে বসবাস করতে হলে মানুষকে একে অপরের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হয় এবং সমাজে শত্রু-মিত্র উভয়ের সাথেই কোন না কোনভাবে মেলামেশা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটি হল শিক্ষা। মানুষের বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার মানদণ্ডটি অতীব জরুরি। কেননা, অশিক্ষিত বন্ধুর যত আন্তরিকতাই থাক না কেন, সে যে কোন মুহূর্তে নিজের অজ্ঞতাবশত অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বলা হয়, মূর্খ ব্যক্তি পশুর সমান। ভালোমন্দ বিচার করার যথাযথ ক্ষমতা তার নেই। অনেক সময় বন্ধুর ভালোর জন্য কিছু করলেও তার অজ্ঞতার কারণে তা বন্ধুর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এজন্য তাকে দোষও দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, শত্রুকে আমরা সাধারণত অনিষ্টের কারণ হিসেবেই বিবেচনা করি। কিন্তু তুলনামূলক বিচারে দেখা যায়, একজন মুর্খ বন্ধু অজ্ঞতাবশত যা করতে পারে, একজন শিক্ষিত শত্রু সজ্ঞানে তেমনটি করতে পারে না। জ্ঞানের নির্মল পরশ অন্তত তাকে এ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। যদি অনিষ্ট সে করে তবে সেটা হবে তার দুরাচার। আর মানুষ সব সময়ই শত্রুর দুরাচার সম্পর্কে সজাগ থাকে। ফলে শত্রুর এ চেষ্টা সফল নাও হতে পারে। কিন্তু বন্ধুর ব্যাপারে কোন সন্দেহ না থাকায় মানুষ এতটা সতর্ক থাকে না। অথচ এ অসতর্কতার ফাঁকে মূর্খ বন্ধুর অজ্ঞতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

তাই বন্ধু নির্বাচনে জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা, জ্ঞান আলো এবং মূর্খতা অন্ধকারের সমতুল্য। আলোতে অনেক বিপদেও নিরাপদ থাকা যায়, অন্যদিকে অন্ধকারে সর্বদাই বিপদের আশঙ্কা থাকে

ABDUL MALEK
ABDUL MALEK
2 years ago
4.7k

"ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন, কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন।" 

এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যতদিন ছিলে" কবিতার একটি অংশ। 

**ভাব-সম্প্রসারণ:** 

এই উদ্ধৃতিটি একটি গভীর জীবনদর্শনের প্রতিফলন। এখানে 'ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন' বলতে বোঝানো হচ্ছে যে, ব্যক্তিগত চিন্তা, অনুভূতি বা ভাবনাগুলোকে শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক বা আবেগগতভাবে না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। 'নিলীন' শব্দের মাধ্যমে এখানে অভ্যন্তরীণ চিন্তা বা অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র অন্তরেও লুকিয়ে থাকলে চলবে না। অন্যদিকে, 'কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন' বাক্যে বলা হচ্ছে যে, আমাদের দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও স্বাধীনতা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত। কর্মক্ষেত্রে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিতে পারি এবং যে কাজ করতে পারি, তা যেন আমাদের স্বাধীনতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে হয়। এখানে স্বাধীনতার সাথে সক্ষমতার সম্মিলন প্রস্ফুটিত হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তি নিজের দক্ষতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পায়। সংক্ষেপে, এই উদ্ধৃতিটি আমাদেরকে উৎসাহিত করে যে, আমাদের অভ্যন্তরীণ ভাবনা বা চিন্তাকে শুধু মনে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনের কাজে লাগিয়ে কার্যকরীভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রমাণ করতে হবে।

উত্তরঃ

আমরা সবসময় ভাবের গহনায়, অনুভূতির গভীরতায় হারিয়ে থাকি, যেখানে কোনো এক নিস্তব্ধতা বা মাধুর্য লুকিয়ে থাকে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে, বাস্তব জীবনে সেই ভাবনার পরিবর্তে আমাদের প্রমাণিত করতে হয় আমাদের ক্ষমতা এবং স্বাধীনতার। সেখানে ভাবের বন্দি হয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমরা যদি শুধু ভাবনায় নিমজ্জিত থাকি, তবে বাস্তবতার চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না।

এখানে "ভাবের ললিত ক্রোড়ে" বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আমরা আমাদের ভাবনাগুলোকে এতটাই গুরুত্ব দিই যে সেগুলো আমাদের কর্মক্ষমতা বা স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বাস্তবিকভাবে আমাদের শক্তি এবং স্বাধীনতা আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আমাদের উচিত আমাদের ভাবনার সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করা, যাতে আমাদের সক্ষমতা এবং স্বাধীনতা স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ পায়।

এইভাবে, কবি আমাদের শেখাতে চাইছেন যে ভাবনা ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ভাবনার সৌন্দর্য বা গভীরতা তার স্থানেই মূল্যবান, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও স্বাধীনতার প্রয়োগই আসল বিষয়।

Shamim Hossan
Shamim Hossan
1 year ago
2.2k
(ক)
তরুণ বিশ্বশক্তির অধিকারী, অনন্ত সম্ভাবনাপূর্ণ তার জীবন । সে যদি শুধু ঘরের কোনে বসে। পূর্ব পুরুষের লিখিত পুঁথি ঘেঁটে তার অমূল্য মানবজীবনকে সার্থক করতে চায় এবং মনে করে, বর্তমানের সবকিছু অতীতে সৃষ্ট হয়েছিল , তাহলে সে যে শুধু তার অনন্ত শক্তিকে অপব্যয় করে তা নয়, তার সেই শক্তিকেও অবমাননা করে । অতীত সৃষ্টির জন্মদাতা অতীতের ঘটনা ও অতীতের পরিবেষ্টন। বর্তমান ঘটনা ও বর্তমান পরিবেষ্টন চিরকালই নতুন। বর্তমান অতীতের কুঁড়ি বৈ আর কিছু নয়। বর্তমানের আপন শক্তিতে সেই কুঁড়ি ফুটে নব পুষ্পে পরিণত হয়। সুতরাং তার ফলও নতুন হওয়া চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মানব-মন অতীতের মােহ ছাড়তে পারে না। সে এই বর্তমানের পরিবর্তিত নব পরিবেষ্টনেও সেই অতীতের ইতিহাসকে হুবহু বজায় রাখতে চায়-বর্তমানের নব প্রসব-বেদনাকে উপেক্ষা করে। তাই মানব ইতিহাসের স্তরে স্তরে দেখতে পাই কত দ্বন্দ্ব, কত সংঘর্ষ, কত বিগ্রহ-বিপ্লব, কত রক্ত-বন্যা। এর মূল কারণ হচ্ছে অতীতের সৃষ্টিকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য মানব-মনের স্বাভাবিক দুর্জয়। চিরকালই তরুন ৭ প্রকৃতির বিরুদ্ধে অভিযান করেছে। বর্তমান বেদনায় অনুভূতির চঞ্চল হয়ে ভবিষ্যতে আদশ সার্থক করার জন্য। (সারাংশ লিখুন)
অথবা
উত্তরঃ

তরুণদের উচিত তাদের অমূল্য জীবনকে সার্থক করার জন্য তাদের অনন্ত শক্তিকে কাজে লাগানো।পূর্বপুরুষদের লিখিত পুঁথি ঘেঁটে বসে না থেকে বরং বর্তমানের নতুন পরিবেষ্টনের সাথে খাপ খাওয়ানো ।তাদের বর্তমানের বেদনাকে উপেক্ষা করে ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ স্থাপন করার চেষ্টা করা উচিত।অতীতের প্রতি আসক্তি মানুষকে অন্ধ করে দেয়, বর্তমানের পরিস্থিতি বুঝতে বাধা দেয়, ফলে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ, বিগ্রহ-বিপ্লব এবং রক্ত-বন্যার মতো ঘটনা ঘটে।মানুষের উচিত অতীতের সৃষ্টিকে অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা না করে বর্তমানের নব পরিবেষ্টনের সাথে খাপ খাওয়ানো।তরুণদের চিরকালই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে।

Arif Hossain
Arif Hossain
2 years ago
1.7k
উত্তরঃ

এ কালের দৃশ্যটি অত্যন্ত মন্দ এবং চিন্তামূলক। সমাজের প্রতিনিধিত্ব করা উচিত পরিস্থিতির মধ্যে পর্যায়ক্রমে হেঁটে যাচ্ছে অস্ত্রোচ্চারণ, অন্ধ প্রতিদ্বন্দ্বীতা, স্বতন্ত্রতার অভাব, এবং নৈতিক মূল্যবোধের হারানো অবস্থা। এ দৃশ্যে অনুভব হচ্ছে ক্রুরতা, অসহ্য প্রহরণ, এবং অমানুষিক ব্যবহারের উত্কৃষ্ট উদাহরণ। প্রত্যাশা ও নিরাপদতা এ সময়ে অস্তিত্বে নেই। এই সময়ে সতর্কতা ও শান্তিপূর্ণতা অত্যন্ত প্রয়োজন।

Arif Hossain
Arif Hossain
2 years ago
1.4k
উত্তরঃ

মাছের মায়ের কান্না বাগধারার অর্থ মিথ্যাশোক।

বাক্য: খেলার সময় একটু আঘাত পেয়েই সে মাছের মার কান্না করছে।

Arif Hossain
Arif Hossain
2 years ago
2k
উত্তরঃ

কান পাতলা অর্থ যে সব বিশ্বাস করে
>সে একজন কান পাতলা মানুষ তাকে সব কথা বলতে নেই।

Arif Hossain
Arif Hossain
2 years ago
849
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

তরুণ বিশ্বশক্তির অধিকারী, অনন্ত সম্ভাবনাপূর্ণ তার জীবন । সে যদি শুধু ঘরের কোনে বসে। পূর্ব পুরুষের লিখিত পুঁথি ঘেঁটে তার অমূল্য মানবজীবনকে সার্থক করতে চায় এবং মনে করে, বর্তমানের সবকিছু অতীতে সৃষ্ট হয়েছিল , তাহলে সে যে শুধু তার অনন্ত শক্তিকে অপব্যয় করে তা নয়, তার সেই শক্তিকেও অবমাননা করে । অতীত সৃষ্টির জন্মদাতা অতীতের ঘটনা ও অতীতের পরিবেষ্টন। বর্তমান ঘটনা ও বর্তমান পরিবেষ্টন চিরকালই নতুন। বর্তমান অতীতের কুঁড়ি বৈ আর কিছু নয়। বর্তমানের আপন শক্তিতে সেই কুঁড়ি ফুটে নব পুষ্পে পরিণত হয়। সুতরাং তার ফলও নতুন হওয়া চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মানব-মন অতীতের মােহ ছাড়তে পারে না। সে এই বর্তমানের পরিবর্তিত নব পরিবেষ্টনেও সেই অতীতের ইতিহাসকে হুবহু বজায় রাখতে চায়-বর্তমানের নব প্রসব-বেদনাকে উপেক্ষা করে। তাই মানব ইতিহাসের স্তরে স্তরে দেখতে পাই কত দ্বন্দ্ব, কত সংঘর্ষ, কত বিগ্রহ-বিপ্লব, কত রক্ত-বন্যা। এর মূল কারণ হচ্ছে অতীতের সৃষ্টিকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য মানব-মনের স্বাভাবিক দুর্জয়। চিরকালই তরুন ৭ প্রকৃতির বিরুদ্ধে অভিযান করেছে। বর্তমান বেদনায় অনুভূতির চঞ্চল হয়ে ভবিষ্যতে আদশ সার্থক করার জন্য। (সারাংশ লিখুন)
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews