নৈতিকতা বলতে আমরা সামাজিক ও ধর্মীয় নীতি অনুসরণ করাকে বুঝি। এখানে ভালো বা খারাপ কাজের জন্য নিজেকেই দায়ী করা হয়। ভালো কাজ করলে যেমন মনে তৃপ্তি আসে, খারাপ কাজ করলে তেমনি নিজের কাছে অনুশোচনা হয়। সত্য বললে ভালো লাগে, মিথ্যা বললে অপরাধবোধ হয়। অর্থাৎ নৈতিকতা হলো নিজের আচরণকে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করা।
মানুষের জীবনে নৈতিকতা হঠাৎ করে আসে না। নৈতিকতার বিকাশে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। শিশু অবস্থায় পরিবার থেকে ভুল ও সঠিক আচরণের ধারণা তৈরি হয়। মা-বাবা, ভাই-বোন, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যে কাজ করতে নিষেধ করেন, সেটা খারাপ কাজ এবং যে কাজ করলে খুশি হন বা প্রশংসা করেন, সেটা ভালো কাজ। এভাবে ভালো ও মন্দ কাজের ধারণা তৈরি হয়। নৈতিক বিকাশের প্রথম দিকে শিশু শান্তির ভয়ে অন্যায় আচরণ থেকে বিরত থাকে। শিশু কালের নৈতিকতাকে অনেকটা বাধ্যতামূলক নৈতিকতা বলা হয়। কিন্তু কৈশোরে ভালো ও মন্দের নিজস্ব ধারণা তৈরি হয়। এ বয়সে ভয়ভীতির কারণে তারা ভালো কাজ করে না বরং ভালো কাজ নিজের ইচ্ছেতেই করে। যুক্তি দিয়ে কাজটি কেন ভালো বা কাজটি কেন খারাপ- তা বিচার করার ক্ষমতা হয়। যারা নীতিবান হয়, তাদের মধ্যে খারাপ কাজের জন্য অনুশোচনা হয়। আবার অন্যের সামনে লজ্জা পেতে হবে জেনেও খারাপ কাজ থেকে অনেকে বিরত থাকে।
নৈতিকতা বিকাশে নিয়মানুবর্তিতার গুরুত্ব অনেক বেশি। ছোটবেলা থেকে নিয়মমতো চলার মধ্য দিয়ে আমরা ভালো অভ্যাস তৈরি করতে পারি। নিয়ম মানার মধ্য দিয়ে কোনটি করা উচিত, কোনটি করা উচিত নয়- তা জানা যায়। বাড়িতে মা-বাবা, স্কুলে শিক্ষকেরা তোমাদেরকে নিয়মনীতি মেনে চলতে অনেক সাহায্য করেন। তাদের আদেশ, নিষেধ তোমাদের ভালো অভ্যাস তৈরি করতে, অন্যায় আচরণ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। কোনো কাজ কেন ভালো বা কেন খারাপ- শিক্ষকেরা এটা বুঝিয়ে দিলে সঠিক আচরণ করা সহজ হয়। কৈশোরে শারীরিক শাস্তি ছেলেমেয়েদের মনে বিরোধ জাগিয়ে তোলে। ছেলেমেয়েরা যখন জানে, তাদের সাথে অন্যায় করা হয়েছে, তখন তাদের মধ্যে অনেক সময় নিয়ম ভঙ্গ করার ঝোঁক বেশি হয়। এ বয়সে ভালো কাজের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশংসা তাদেরকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে।
কৈশোরে বন্ধুদের সাথে মেলামেশা তার আচরণে প্রভাব ফেলে। অনেক সময় খারাপ আচরণ বন্ধুদলে সমাদৃত হয়। আবার দলীয় সদস্যদের খারাপ আচরণ লক্ষ করে তারাও খারাপ কাজ করতে শেখে। দলে নিজের মর্যাদা রাখার জন্য এ ধরনের আচরণ খারাপ জেনেও করে। এজন্য কৈশোরে ও কী ধরনের বন্ধুর সাথে মেলামেশা করছে সেটা জানা খুবই জরুরি।
এসো কৈশোরের কিছু খারাপ আচরণ সম্পর্কে জানি এবং এগুলো থেকে সতর্ক ও সাবধান থাকি।
| গৃহে খারাপ আচরণ | বিদ্যালয়ে খারাপ আচরণ |
|
|
| কাজ-১ তোমার গৃহে তুমি কী কী ভালো আচরণ করো, তার একটি তালিকা তৈরি করো। |