খ বিভাগ- শিশু বিকাশ ও পারিবারিক সম্পর্ক

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - গার্হস্থ্যবিজ্ঞান | NCTB BOOK
2.3k

শিশুর শিক্ষার প্রথম স্থান হলো তার পরিবার। পরিবারের প্রতিটি সদস্য শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রত্যেকটি শিশুই আলাদা। কিন্তু বয়স অনুযায়ী কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা সকল শিশুর মধ্যেই বিরাজ করে। এগুলো জানা থাকলে পরিবারের একজন হিসেবে শিশুর প্রতি সঠিক আচরণ করা সম্ভব। কিশোর বয়সে বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকলে জীবন অনেক সহজ হয়। কৈশোরে সামাজিক পরিবেশে গ্রহণযোগ্য আচরণ করার মধ্য দিয়ে একটি কিশোর বা কিশোরী সকলের ভালোবাসা পেতে পারে। তার জীবন হয়ে ওঠে সফল ও আনন্দময়।

এ বিভাগ শেষে আমরা-

  • পরিবার, পরিবারের কাজ, পরিবারের প্রকারভেদ বর্ণনা করতে পারব।
  • বিভিন্ন বয়সের শিশুর বৈশিষ্ট্য জেনে তাদের সাথে সঠিক আচরণ করতে পারব।
  • বয়স্কদের সাথে শিষ্টাচারপূর্ণ আচরণের কৌশল ও পদ্ধতি প্রদর্শন করতে পারব।
  • পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে যথাযথ আচরণ করতে পারব।
  • ছোট শিশু ও প্রতিবন্ধীদেরকে তাদের প্রয়োজনের সময় সহায়তা করতে পারব।
  • কৈশোরের শারীরিক, মানসিক, আবেগীয়, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশ বর্ণনা করতে পারব।
  • কৈশোরের বিভিন্ন আবেগের ক্ষতিকর দিক ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের উপায় বর্ণনা করতে পারব।
Content added By

পরিবার ও শিশু (চতুর্থ অধ্যায়)

595
Please, contribute by adding content to পরিবার ও শিশু.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

চিত্রের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও
অতি শৈশব কাল
মধ্য শৈশব কাল
প্রারম্ভিক শৈশব কাল
শৈশব কাল
অতি শৈশব কাল
মধ্য শৈশব কাল
প্রারম্ভিক শৈশব কাল
শৈশব কাল

পরিবার ও পরিবারের প্রকারভেদ (পাঠ ১)

2.3k

আমরা প্রত্যেকেই পরিবারে বসবাস করি। সাধারণত আমাদের পরিবারে থাকে মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি আরও অনেকে। পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন বয়সের সদস্য একত্রে বাস করে যাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিয়ের মাধ্যমে এবং জন্ম সুত্রে। পরিবার হলো সমাজের মূল একক।

পরিবারের সদস্য হিসেবে প্রত্যেকেরই কিছু চাহিদা থাকে। যেমন- খাদ্য, বাসস্থান, পোশাক ও শিক্ষা ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে ভালোবাসা, সঙ্গলাভ, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার চাহিদা। পরিবারের ছোট সদস্যদের দরকার হয় উপযুক্ত যত্ন ও পরিচালনা। সর্বোপরি প্রয়োজন একটি নিরাপদ পরিবেশ। উপরের সবগুলো চাহিদা পূরণই পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

পারিবারিক বন্ধন- বাবা বা মায়ের অনুপস্থিতিতে আমাদের মন খারাপ লাগে। ভাই-বোনের মধ্যে কেউ এক জন বেড়াতে গেলে একা একা লাগে। পরিবারের কারও অসুস্থতায় আমরা সবাই বিচলিত হয়ে পড়ি। বলতে পারো, কেন এমন হয়? কারণ পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক বিরাজ করে। এটাই পারিবারিক বন্ধন। এ বন্ধন তৈরি হয় বিয়ে, রক্তের সম্পর্ক, স্নেহ-ভালোবাসা ও একে- অপরের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে। পরিবারে একে অপরের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য আন্তরিকতার সাথে পালন করা, স্নেহ-ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা-সম্মান আদান-প্রদান করা, ভাই-বোন একে অপরকে সঙ্গ দেওয়া, পরস্পর ভালো-মন্দ নানা অভিজ্ঞতা ও ভাব বিনিময় করা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা যায়।

পরিবারের প্রকারভেদ- গঠন অনুসারে পরিবার দুই ধরনের হয়। ১) একক পরিবার ও ২) যৌথ পরিবার।

১। একক পরিবার- একক পরিবার হলো ছোট পরিবার। এ ধরনের পরিবারে পৃথক একটি বাসগৃহে শুধুমাত্র মা-বাবা এবং তাদের অবিবাহিত সন্তান-সন্ততি থাকে। বর্তমানে অধিকাংশ পরিবার একক পরিবার।

২। যৌথ পরিবার- যৌথ পরিবার হলো বড় পরিবার। যেখানে দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, মা-বাবা ও সন্তানেরা একসাথে বসবাস করে। এটাই যৌথ পরিবার। যখন এই ধরনের পরিবারে বন্ধন দৃঢ় থাকে, তখন তারা নানাভাবে একে-অপরের সহযোগিতায় আসতে পারে।
বর্তমান আধুনিক সমাজে একক পরিবারের সদস্যরা সে সব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে-

  • একক পরিবারের সন্তানেরা তাদের দাদা-দাদি বা পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সহযোগিতা ছাড়াই বেড়ে ওঠে।
  • দাদা-দাদি ও নাতি-নাতনি উভয়েই একে অপরের সঙ্গ থেকে বঞ্চিত হয়।
  • মা-বাবা উভয়েই কর্মজীবী হলে সন্তানদের এমন কেউ দেখাশোনা করে যারা তাদের আত্মীয় নয়।

অনেক সময় একক পরিবারে বৃদ্ধ দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানি বা এদের মধ্যে যে কেউ একজন থাকেন। এক্ষেত্রে একক পরিবারটিও বয়স্কদের পরামর্শ, সঙ্গ, ভালোবাসা পেয়ে থাকে।

কাজ-১ তোমার পরিবারটি কোন ধরনের পরিবার। এই পরিবারে সদস্যদের সাথে তোমার সম্পর্ক তুলে ধরো।
কাজ-২ পরিবারের বন্ধন দৃঢ় করার জন্য তুমি যে কাজগুলো করতে পার তার তালিকা করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

তার বাবা-মা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদির সাথে একই পরিবারে বাস করে. সুমনা। পরিবারে তার দাদা গৃহ পরিচালনা করেন।
২০. সুমনা কোন ধরনের পরিবারে বাস করে?

সুন্দর ও মনোরম গৃহ
পারিবারিক বন্ধন
অধিক অর্থ সম্পদ
বড় পরিবার

বিভিন্ন বয়সের শিশুর বৈশিষ্ট্য (পাঠ ২)

1.2k

১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের নিচে সকলকে শিশু বলে গণ্য করা হয়।
এখন প্রশ্ন হতে পারে- একটি সদ্যোজাত শিশু কিংবা একটি ৫ বছরের শিশুর বৈশিষ্ট্য কি এক? কখনই না। তাই শিশুর বিভিন্ন বয়সের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শিশুকালকে বিভিন্ন নামকরণ করা হয়েছে।

  • জন্ম মুহূর্ত থেকে ২ সপ্তাহ- নবজাতক কাল
  • ২ সপ্তাহ থেকে ২ বছর পর্যন্ত- অতি শৈশব
  • ২ বছর থেকে ৬ বছর পর্যন্ত- প্রারম্ভিক শৈশব
  • ৬ বছর থেকে ১০/১১ বছর পর্যন্ত- মধ্য শৈশব

প্রতিটি শিশুই পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বিভিন্ন বয়সের শিশুর বৈশিষ্ট্য আমাদের জানা দরকার। কারণ-

  • শিশুর সাথে সঠিক আচরণ করতে পারব।
  • বিভিন্ন বয়সের শিশুর চাহিদা পুরণ করতে পারব।
  • শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে নতুন মা-বাবাকে সচেতন করতে পারব।
  • যে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতায় সময়মতো চিকিৎসা করাতে পারব।
  • বড় ভাই-বোন হিসেবে তাকে যত্ন ও সঙ্গ দিতে পারব।

নবজাতক কাল- যে সব শিশু জন্মের সময় লালচে বা গোলাপি বর্ণের হয়, জন্ম মুহূর্তে কাঁদে, স্বাভাবিকভাবে দুধ খেতে পারে, তারাই সুস্থ নবজাতক। নবজাতক দিনে প্রায় ১৮-২০ ঘণ্টা ঘুমায়। দু-তিন ঘণ্টা পর পর জেগে ওঠে, আহার করে, মলমূত্র ত্যাগের পর আবার ঘুমায়।

  • আরও কিছু লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য দিয়ে আমরা নবজাতকের সুস্থতা বুঝতে পারব।
  • নবজাতকের প্রথম ভাষা হলো কান্না। এর মাধ্যমে শিশুর ফুসফুস সক্রিয় হয়ে ওঠে।
  • ঠোঁটের কাছে আঙুল রাখলে শিশু চুষে খেতে চায়।
  • শিশুর হাতের তালুতে কিছু রাখলে (পেন্সিল বা হাতের আঙুল) তা সে শক্ত করে চেপে ধরে।
  • হঠাৎ কোনো শব্দ হলে শিশু চমকে ওঠে।

উপরোক্ত যেকোনো একটি অভিব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলে নবজাতকটি যে স্বাভাবিক নয় তা বোঝা যায়। তখন দেরি না করে শিশুটিকে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

কাজ-১ : তোমার ছোট ভাই বা বোনের সাথে তুমি কী ধরনের আচরণ করবে-সে সম্পর্কে লেখো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

মিনু একজন গর্ভবতী মা। বস্তির নোংরা পরিবেশে তার প্রসব সম্পন্ন হয়। প্রসবকালীন সময় নবজাতকের গায়ের রং নীল হয়ে যাওয়ায় ডাক্তার বলেন। তার অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

অতি শৈশব কাল (পাঠ ৩)

1.1k

নবজাতক সময়ের পর বা ২ সপ্তাহ থেকে ২ বছর পর্যন্ত কালকে অতি শৈশব কাল বলা হয়। আবার দেড় বছর থেকে যখন শিশু হাঁটতে থাকে তখন তাদেরকে 'টডলার'ও বলা হয়। এ সময়ে শিশুর বিকাশ এত দ্রুত হয় যে, কিছুদিন পরপরই পরিচিত জনের কাছেও শিশুকে অনেক বড় এবং অচেনা লাগে। জন্মের সময় যে শিশুটি বড় অসহায় ছিল সে এখন হাঁটতে পারে, লাফালাফি করতে পারে, কথা বলতে পারে, আরও কত কী!

খাদ্য, পুষ্টি, যত্ন, বাবা-মায়ের আকার আকৃতি ইত্যাদি কারণে বিভিন্ন শিশুর বৃদ্ধি বিভিন্ন রকম হয়। কিন্তু তবুও এ বয়সে ওজন ও উচ্চতা বাড়ার একটি স্বাভাবিক নিয়ম আছে। শিশুর ওজন জন্মকালীন ওজনের দ্বিগুণ হয় ছয় মাসে। এক বছরে হয় তিনগুণ। দু'বছরে হয় চারগুণ। তিন বছরে হয় পাঁচগুণ। জন্মের সময় শিশুর যা দৈর্ঘ্য থাকে, চার-পাঁচ বছরে তা দ্বিগুণ হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে ওজন বাড়ার হার ধীরে ধীরে কমতে থাকে। সুস্থ ও স্বাভাবিক শিশু আমরা তাকেই বলব, যার বয়স অনুযায়ী ওজন ও উচ্চতা স্বাভাবিক, চোখ স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল, চামড়া, চুল চকচকে ও মসৃণ, চেহারায় আছে আনন্দ ও পরিতৃপ্তির ছাপ।

ছোট্ট শিশুটির যত্নে আমাদের করণীয়-

  • ক্ষুধা লাগলেই তাকে খাবার দেওয়া।
  • মল-মূত্র ত্যাগ করলে তাড়াতাড়ি পরিষ্কার করা, ভেজা অবস্থায় না রাখা।
  • কান্নার সময় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার অসুবিধা দূর করা।
  • অতিরিক্ত গরম বা শীতে তার যেন কষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল করা।
  • ভয় পেলে কোলে তুলে নেওয়া।
  • আরামদায়ক ঘুমের ব্যবস্থা করা।

উপযুক্ত খাদ্য শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, খাদ্যের সাথে সাথে মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য দরকার স্নেহ, ভালোবাসা ও উদ্দীপনার।

শিশুর যত্নে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু যে সব পরিবারে অন্যান্য সদস্যরা শিশু পালন, খেলা, ভাব বিনিময়ে অংশ নেয়, সে সব শিশু অন্য শিশুদের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যবান ও বুদ্ধিমান হয়। তারা অধিক নিরাপত্তার মধ্যে বেড়ে ওঠে।

কাজ-১ : অতি শৈশবে শিশুর বিকাশের জন্য কোন কোন কাজ গুরুত্বপূর্ণ, এসব তথ্যসংবলিত একটি পোস্টার তৈরি করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

অর্থির বয়স দেড় বছর। বাসার সব কাজ শেষ করে মা অর্থিকে বেশি সময় দিতে পারে না। তাই উপযুক্ত খাদ্য খাওয়া সত্ত্বেও অর্থির বুদ্ধির বিকাশ কম।

অধিক খাদ্য দান
ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া
খেলাধুলায় উৎসাহিত করা
খাদ্যের পাশাপাশি গল্প ও ভাব বিনিময় করা

প্রারম্ভিক শৈশব (Early Childhood) (পাঠ ৪)

1k

২ বছর থেকে ৬ বছর পর্যন্ত সময় প্রারম্ভিক শৈশব বা শৈশবের প্রথম পর্যায়। এ বয়সের অন্য আর একটি নাম হলো প্রাক বিদ্যালয় শিশু বা স্কুল পূর্বের শিশু। এটা এমন একটা বয়স যখন শিশু আনুষ্ঠানিক ভাবে স্কুলে পড়াশোনা শুরু করে না কিন্তু স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। আবার কোনো কোনো শিশু এ বয়সে স্কুলে যায়, তারা স্কুলে খেলা-ধুলার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরুর প্রস্তুতি নেয়। এ সময়কে খেলার বয়সও বলা হয়।

এ সময়টা শিশুর আনন্দের সময়। পৃথিবী তার কাছে একটা বিরাট বিস্ময়। নিজেকে, অপরকে, আশে-পাশের সবকিছুকে নিয়ে আছে হাজারো প্রশ্ন। প্রত্যেক বিষয়ে সে অনর্গল প্রশ্ন করে। সে সবকিছু শিখতে চায়। এ বয়সটা আগ্রহ ও কৌতূহলের। ধমক দিয়ে বা বিরক্ত হয়ে তাকে থামিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তার সকল প্রশ্নের উত্তর সহজভাবে দিয়ে তাকে উৎসাহী করে তুলতে হবে। এটা কী, ওটা কী, এটা কেন হয়- এসব প্রশ্নের মাধ্যমে তার বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে।

কথোপকথন

আসিফ- আমি একশ গুনতে পারি।
রাইয়ান- আমি একশ হাজার গুনতে পারি।
আসিফ- আমি দুইশ হাজার গুনতে পারি।
রাইয়ান- আমি পৃথিবীর সবার চেয়ে বেশি গুনতে পারি।

উপরের কথোপকথনটি দুইটি প্রাক বিদ্যালয় শিশুর মধ্যে কথোপকথন। এ বয়সে তারা প্রচুর কথা বলতে পারে। তারা থাকে আত্মকেন্দ্রিক। এ জন্য নিজ সম্পর্কে তারা বেশি কথা বলে। কোন কোন বিষয় তার কাছে আনন্দের, তার পরিবারে কে কে আছে, তার কী কী জিনিস আছে- সে সম্পর্কে বলতে আগ্রহী হয়।
তারা সমবয়সীদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে শুরু করে। এভাবেই তাদের সামাজিক বিকাশ ঘটে। এ বয়সে শিশুরা অনুকরণপ্রিয় হয়। যে ধরনের কাজ তাদের সামনে করা হয়, সেভাবেই তারা অভিনয় করে, খেলে। যেমন- বাবার মতো খবরের কাগজ পড়া, মায়ের মতো সকলকে পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদি। এ বয়সে শিশুদের জীবনে সঠিক পরিবর্তন আনার জন্য দামি খেলনা, ব্যয়বহুল উপকরণের প্রয়োজন হয় না।

পরিবারের সদস্যদের তাদের জন্য যা করণীয় তা হলো-

  • তাদের সঙ্গে ঘরে ও বাইরে সুন্দরভাবে কথা বলা।
  • মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনা।
  • বিরক্ত না হয়ে তাদের প্রশ্নের সহজ উত্তর দেওয়া।
  • তাদেরকে গান, ছড়া, গল্প শোনানো।
  • তাদেরকে সময় দেওয়া, তাদের সাথে খেলাধুলা করা।
  • নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে তাদেরকে পরিচিত করা বা ধারণা দেওয়া।
  • নতুন কিছু দেখতে, শুনতে, করতে ও স্বাদ গ্রহণে উৎসাহিত করা।

শিশুর সুষ্ঠু বিকাশের জন্য এ কাজগুলো ভালোভাবে যত বেশি করা হবে, ততই তার জন্য মঙ্গলজনক।

কাজ-১ উদাহরণসহ প্রাক বিদ্যালয় শিশুর বৈশিষ্ট্যের তালিকা করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

বাবার সঙ্গে নদীর ধারে বেড়াতে যায় অমিত। সে তার বাবাকে প্রশ্ন করে আকাশে অনেক মেঘ থাকা সত্ত্বেও বৃষ্টি হচ্ছে না কেন? বাবা বুঝিয়ে তাকে তার প্রশ্নের উত্তর দেন।

পরিশ্রমী
কাজে দক্ষতা
আত্মনির্ভরশীলতা
অনর্গল প্রশ্ন করা
অতি শৈশবের
মধ্য শৈশবের
প্রারম্ভিক শৈশবের
কৈশোরের

মধ্য শৈশব (Middle Childhood) (পাঠ ৫)

767

৬ বছর থেকে ১০/১১ বছর পর্যন্ত বয়সকে মধ্য শৈশব বলে ধরা হয়। এ সময়ে শিশুর শারীরিক বিকাশ ধীরগতিতে চলে। কিন্তু সামাজিক জীবনে আসে বিস্ময়কর পরিবর্তন। অধিকাংশ শিশু স্কুলে যাওয়া শুরু করে। ছকবাঁধা জীবনে এটি একটি প্রধান পরিবর্তন। এ বয়সটি দলীয়ভাবে খেলার বয়স। ছেলেরা ছেলেদের দলে এবং মেয়েরা মেয়েদের দলে খেলাধুলা করে। স্কুলে যাওয়া ও খেলাধুলার কারণে সমবয়সীদের সাথে তার ব্যাপক যোগাযোগ হয়।

এ বয়সে তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি হয়। নিজের কাজ নিজে করতে পারে। খাওয়া, পোশাক পরা ইত্যাদি কাজ অল্প সময়ে অল্প পরিশ্রমে করতে পারে। নিজের কাজের পাশাপাশি ঘরে বাইরে নানা ধরনের কাজ করতে পারে। যেমন- বাগান করা, ঘর গোছানো ও পরিষ্কার করা ইত্যাদি।

এ বয়সে শিশুরা স্কুলে গল্প-কবিতা লেখা, ছবি আঁকা, খেলাধুলা, দুই চাকার সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা ইত্যাদি নানা রকম কাজ করে। এভাবে বিভিন্ন কাজে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা উদ্যমী ও পরিশ্রমী হয়। নতুন নতুন কাজে সাফল্য তার আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সমবয়সীদের সাথে বিভিন্ন রকম প্রতিযোগিতা করে। এ সময়ের সফলতা তার ভবিষ্যৎ সফলতার দরজা খুলে দেয়। অপরদিকে ব্যর্থতা তার মধ্যে সৃষ্টি করে হতাশা। এই হতাশা থেকে নানা রকম আচরণগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন- অতিরিক্ত রাগ, জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলা বা ভাংচুর করা, কাউকে আঘাত করা, বিষণ্ণতা, সামান্য কারণে কেঁদে ফেলা, স্কুলে যেতে না চাওয়া ইত্যাদি।

ভালো আচরণের জন্য বড়দের প্রশংসা শিশুর নিরাপত্তাবোধ জাগিয়ে তোলে। শিশুকে যখন প্রশংসা করা হয় তখন সে বুঝতে পারে যে আচরণটি করছে তা বড়দের কাছে গ্রহণযোগ্য। এটি তার মধ্যে ভালো আচরণের ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। তারা আরও ভালো কাজ করতে আগ্রহী হয়। শিশুরা চায় প্রশংসা ও ভালোবাসা। অপরদিকে যেকোনো কারণে বড়দের দেওয়া শাস্তি তাদের আত্মমর্যাদায় আঘাত করে। তাদের মধ্যে হতাশার জন্ম দেয়। তারা নতুন কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

কোনো কারণে পরীক্ষার ফল খারাপ হলে নিরুৎসাহিত হওয়া বা সাহস হারানো ঠিক না। এতে ভবিষ্যৎ সফলতায় বাধার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় মা-বাবাও হতাশ হয়ে পড়েন এবং সন্তানদেরকে তিরস্কার বা রাগারাগি করে থাকেন। বড়দের নেতিবাচক উক্তি শিশুদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। এতে ভবিষ্যৎ সফলতায় বাধার সৃষ্টি হয়। এভাবে বাড়িতে ছোটদের ব্যর্থতায় তোমাদেরকেও সচেতন হতে হবে। তাদেরকে মনোবল ফিরিয়ে আনার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

কাজ-১ ছোট ভাই বা বোনের সফলতার জন্য কীভাবে তাকে উৎসাহিত করা যায়-তার কয়েকটি উপায় লেখো।
কাজ-২ উদাহরণসহ মধ্য শৈশবের বৈশিষ্ট্যের তালিকা করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় সোমার মা তার সাথে রাগারাগি করেন। এতে সে পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

সচেতনতা বাড়বে
মনোবল তৈরি হবে
আত্মবিশ্বাস নষ্ট হবে
হতাশার সৃষ্টি হবে

অনুশীলনী

177
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. জাতিসংঘ ঘোষিত সনদ অনুযায়ী কত বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকাল ধরা হয়?
ক. ৬
খ. ১০
গ. ১৪
ঘ. ১৮

২. কোন বয়সে শিশুরা দক্ষ ও পরিশ্রমী হতে শুরু করে?
ক. অতি শৈশবে
খ. প্রারম্ভিক শৈশবে
গ. মধ্য শৈশবে
ঘ. কৈশোর কালে

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও

বাড়িতেই সালেহা বানুর সন্তানটির জন্ম হয়েছিল। জন্মের পর পর তার বাচ্চাটি কাঁদেনি এবং তার শরীর নীল হয়ে যাচ্ছিল।

৩. সালেহার বাচ্চাটি নীল হয়ে যাচ্ছিল কারণ-
i. ফুসফুস সক্রিয় না হওয়া
ii. রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়া
iii. অক্সিজেনের অভাব হওয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

৪. এ অবস্থায় সালেহার বাচ্চাটির জন্য করণীয় কী?
ক. বাচ্চাকে দ্রুত পরিষ্কার করা
খ. দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা
গ. অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা
ঘ. গরম কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখা

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. আবিদের বয়স ৩ বছর। তার চাকরিজীবী মা বাসস্থান থেকে অফিস দূরে হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর- শাশুড়ির সাথেই থাকেন। আবিদের গোসল খাওয়া ইত্যাদি কাজ তার চাচি করে থাকেন। সারাদিন মা-বাবার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও দাদা-দাদির সাথে আনন্দ হৈ চৈ করে আবিদের দিন কেটে যায়।
ক. সমাজের মূল একক কী?
খ. একক পরিবার কাকে বলে?
গ. আবিদ কোন ধরনের পরিবারে বেড়ে উঠছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আবিদের বয়সী শিশুদের বেড়ে উঠার পেছনে পরিবারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

২. সাইয়ারা আগামী বছর স্কুলে ভর্তি হবে। সে সারাদিন কথা বলে। তার চারপাশের জগৎ নিয়ে মাকে সে সারাদিন হাজারো প্রশ্ন করে ব্যস্ত রাখে। কর্মব্যস্ত মা বিরক্ত না হয়ে সাইয়ারার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকেন।
ক. জন্মের পর নবজাতকের প্রথম ভাষা কী?
খ. সুস্থ স্বাভাবিক শিশু বলতে কী বোঝায়?
গ. সাইয়ারা শৈশবের কোন পর্যায়ে আছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সাইয়ারার মায়ের ভূমিকা সাইয়ারার মতো শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশে সহায়ক-বুঝিয়ে লেখো।

Content added By

ছোটদের শিষ্টাচার শিক্ষা (পঞ্চম অধ্যায়)

1.1k
Please, contribute by adding content to ছোটদের শিষ্টাচার শিক্ষা.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

রোজি ও রুমি স্কুলে যাওয়ার পথে এক বৃদ্ধকে দেখল রাস্তার পাশে বসে ঠকঠক করে কাঁপছেন। রোজি গায়ের চাদর ওই বৃদ্ধের গায়ে দিয়ে তারা তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে এবং বাড়ি ফেরার পথে তাদের স্কুল শিক্ষককে পেয়ে দাঁড়িয়ে সালাম দিল।

মানবীয় গুণাবলি (পাঠ ১)

1.1k

প্রতিদিন আমাদের মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, পাড়া-প্রতিবেশী, ছোট-বড় অনেকের সাথেই ভাব বিনিময় ও যোগাযোগ করতে হয়। এই ভাব বিনিময় ও যোগাযোগের মাধ্যমেই শিষ্টাচার প্রকাশ পায়। অপরের সুবিধা-অসুবিধা দেখা, অপরের মতামত, অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো এবং বুচিসম্মত ব্যবহারই শিষ্টাচার। শিষ্টাচার সভ্যতার প্রতীক, অন্তরের সৌন্দর্য। শিষ্টাচার প্রকাশের মাধ্যমে মনের সুন্দর দিকগুলো ফুটে ওঠে।

শৈশব কাল থেকেই শিষ্টাচার চর্চা বা অভ্যাস করতে হয়। জীবনকে সুন্দর ও সাফল্যময় করতে হলে, উন্নত জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অবশ্যই শিষ্টাচারী হতে হবে। তোমরা যদি ভদ্রতা, শ্রদ্ধাবোধ, সৌন্দর্যবোধ, শালীনতা ও আদব-কায়দা বজায় রেখে সমাজে চলো তা হলেই শিষ্টাচার প্রকাশ পাবে। তোমরাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। তোমাদের সভ্য, সঠিক, সুন্দরভাবে গড়ে ওঠার মধ্যেই রয়েছে দেশ ও জাতির কল্যাণ।
মানুষ হিসেবে যে আচরণগুলো আমরা সবাই একে অপরের কাছে আশা করি তাই মানবীয় আচরণ বা গুণাবলি। যেমন- সহযোগিতা, সহানুভূতিশীলতা, সহমর্মিতা, ধৈর্যশীলতা, নম্রতা, ভদ্রতা, বিনয় ইত্যাদি। মানবীয় গুণাবলি পরিবার থেকে অর্জিত হয়। পরিবারে, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে মানবীয় গুণগুলো প্রকাশ পায়।

দলগত খেলার মাধ্যমে মানবীয় গুণাবলি সহজে বিকাশ লাভ করে। তোমরা যখন দলগতভাবে খেল তখন তোমাদের একে অপরকে সহযোগিতা করতে হয়। খেলার নিয়মকানুন মেনে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দিতে হয়। দলের প্রতি বিনয়ী, সহানুভূতিশীল, ধৈর্যশীল এবং বন্ধুভাবাপন্ন হতে হয়। কেউ ব্যথা পেলে সেবা করতে হয়, সহমর্মিতা দেখাতে হয়। আবার তোমরা যদি নিজ স্বার্থ কিছুটা ত্যাগ করে অন্যের উপকার করতে পার তা হলে তোমাদের উদারতা প্রকাশ পায়। সুতরাং দেখা যায় মানবীয় গুণাবলি তোমাদের চরিত্রকে উন্নত করে।

এখন আমরা সাদিয়া সম্পর্কে জানব। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া। তার নম্রতা, ভদ্রতা, ন্যায়পরায়ণতা, শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতা, উদারতা, বন্ধুত্বপূর্ণ আচার-ব্যবহার আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও বিদ্যালয়ের সবাইকে মুগ্ধ করে। সে সব সময় বড়দের সালাম দেয় ও সম্মান করে, অতিথিদের সমাদর করে। দরিদ্র আত্মীয়-স্বজন, দরিদ্র প্রতিবেশী ও বাড়ির গৃহকর্মীর প্রতি বেশ সহানুভূতিশীল ও বিনয়ী। সে ছোটদের স্নেহ করে ও ভালোবাসে।

সাদিয়া সহপাঠীদের সহযোগিতা করে। কখনও মিথ্যা কথা বলে না ও অন্যায় আচরণ করে না। কথা দিলে সেটা রক্ষা করে। নিজের দোষ-ত্রুটি সহজেই স্বীকার করে নেয়। তাই ছোট-বড় সবাই তাকে পছন্দ করে। সাদিয়া তার মা-বাবাকে খুব শ্রদ্ধা করে এবং আদর্শ হিসেবে অনুকরণ করে।

তোমরা দেখতে পারছ সাদিয়ার মানবিক গুণের জন্য সবাই তাকে পছন্দ করছে। তার মধ্যে যদি হিংসা, বিদ্বেষ, অহমিকা, দাম্ভিকতা থাকত, সে যদি মিথ্যা কথা বলত, কথা দিয়ে সেই কথা মতো কাজ না করত নিশ্চয়ই কেউ তাকে পছন্দ করত না। তাই তোমাদের সব সময় মানবীয় গুণাবলি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। যাতে সৃষ্টিকর্তা ও সব মানুষের প্রিয় হতে পার।

কাজ-১ : সবাই যে আচরণগুলো পছন্দ করে এবং যে আচরণগুলো পছন্দ করে না তার তালিকা করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

দরিদ্র সহপাঠী রানা অসুস্থতার কারণে বেশ কয়েকদিন যাবত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। বন্ধু জয় তার অন্যান্য সহপাঠীদের সহযোগিতায় রানার চিকিৎসার খরচ যোগাড় করে।

সকলের ভালোবাসা পাওয়ার জন্যে
খ্যাতি অর্জনের জন্যে
নিজেকে আকর্ষণীয় করার জন্যে
উদারতা দেখানোর জন্যে
অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

দরিদ্র সহপাঠী রানা অসুস্থতার কারণে বেশ কয়েকদিন যাবত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। বন্ধু জয় তার অন্যান্য সহপাঠীদের সহযোগিতায় রানার চিকিৎসার খরচ যোগাড় করে।

সকলের ভালোবাসা পাওয়ার জন্যে
খ্যাতি অর্জনের জন্যে
নিজেকে আকর্ষণীয় করার জন্যে
উদারতা দেখানোর জন্যে
নিজ স্বার্থ রক্ষা করে
অন্যের উপকার করে
ভালোভাবে লেখাপড়ার মাধ্যমে
ঘরের কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে

বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা ও শিক্ষকের প্রতি সম্মান (পাঠ ২)

1.2k

তোমাদের চেয়ে বয়সে যারা বড় তারাই তোমাদের শ্রদ্ধার পাত্র। বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে মা-বাবা, বড় ভাই- বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি, খালা-খালু, ফুফু-ফুফা, চাচা-চাচি, মামা-মামি সবাই তোমাদের আত্মীয়- স্বজন। এছাড়া শিক্ষক, পাড়া-প্রতিবেশী সে যে পেশারই হোক না কেন, যারা তোমাদের চেয়ে বয়সে বড় তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখানো তোমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং এটা ভদ্রতামূলক আচরণ। বড়দের আদেশ-উপদেশ মেনে চলাকেই তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া বোঝায়। তোমরা যদি শ্রদ্ধাশীল হও, তাহলেই বড়রা তোমাদের ভালোবাসবে। শ্রদ্ধা হতেই ভালোবাসার জন্ম।

তোমরা হয়তো বলতে পারো শ্রদ্ধা ও সম্মান কীভাবে দেখাব?

শ্রদ্ধা দেখানোর উপায়

  • বয়োজ্যেষ্ঠদের দেখলে সালাম বা অভিবাদন জানাবে। কুশল বিনিময় করবে।
  • বড়রা যখন কথা বলবেন তখন মন দিয়ে শুনবে। কথার মাঝে কোনো কথা বলবে না।
  • বড়দের আদেশ উপদেশ মেনে চলবে এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে।
  • বড়দের কোনো কথা বা কাজ তোমার পছন্দ না হলে সম্মানের সাথে তোমার মতামত জানাবে।
  • বাড়িতে বৃদ্ধ দাদা-দাদি, নানা-নানি থাকলে সেবা করবে এবং সঙ্গ দিবে, গল্প করবে। কারণ তারা বয়সের কারণে নিজের কাজও নিজে করতে পারেন না, একাকিত্বে ভোগেন। এছাড়া তাদের সাথে গল্পের মাধ্যমে তোমরাও অনেক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।

তোমার বাবা-মা যেভাবে তোমাদের লালন-পালন করছেন, তোমার দাদা-দাদি/নানা-নানিও সেভাবেই তোমার বাবা-মাকে লালন-পালন করেছেন। তোমরা তাঁদের অনেক আদরের। অতি শৈশব থেকে তাঁরা তোমাদের অনেক আদর ও স্নেহ করেন, অনেক দোয়া করেন। সুতরাং বৃদ্ধ বয়সে তাঁরা যাতে কোনো দুঃখ কষ্ট না পান সে দিকে খেয়াল রাখাও তোমাদের কর্তব্য। বড়দের প্রতি তোমাদের সৌজন্যমূলক আচরণ ও শ্রদ্ধাবোধ তাঁদের স্নেহ, ভালোবাসা অর্জনে তোমাদের জন্য সহায়ক হবে এবং সামাজিক জীবন সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হবে।

কাজ - ১ একজন সন্তানের তার মা-বাবাকে কীভাবে শ্রদ্ধা ও সম্মান করা উচিত তার উপর একটি পোস্টার তৈরি করো।

কাজ- ২ বৃদ্ধ দাদা-দাদি বা নানা-নানির প্রতি তোমার করণীয় সম্পর্কে লেখো।

শিক্ষকের প্রতি সম্মান- শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষক জ্ঞান দান করেন আর তোমরা সেই জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে জীবনকে গড়ে তোল। পিতা-মাতার পরেই শিক্ষকের স্থান। শিক্ষকের প্রতি প্রকৃত সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ নিয়েই তোমাদের পাঠ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষকগণ সন্তানের মতো কল্যাণ কামনা করে ছাত্রদের গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তোমরা শিক্ষকের আদর্শ মেনে চলবে। শিক্ষক যখন পাঠ দেন তখন মনোযোগী হবে। নম্র ও ভদ্র আচরণ করবে। এগুলো তোমাদের কর্তব্য।

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ফাহিম ক্লাসে শিক্ষকের উপস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে একটুও দেরি করে না। পাঠদানকালে সে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে শিক্ষকের কথা শোনে। শিক্ষকের দেওয়া শ্রেণির কাজ, বাড়ির কাজ সে সময় মতো সম্পাদন করে। এভাবে সে শিক্ষকের নির্দেশ পালন করার মাধ্যমে শিক্ষককে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে।

শুধু তাই নয়, সে শ্রেণিকক্ষ এবং স্কুলের বাইরেও শিক্ষকদের একই ভাবে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানায়। তার এই ধরনের আচরণে সবাই তার প্রশংসা করে। সুতরাং শিক্ষকের সাথে তোমাদের সম্পর্ক হবে ঘনিষ্ঠ ও সম্মানজনক। এতে উন্নত ও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। যা সকলের কাম্য।

কাজ-৩ : স্কুলে এবং স্কুলের বাইরে তুমি কিভাবে শিক্ষককে সম্মান দেখাবে বর্ণনা করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

রনিদের বাড়িতে তার দাদি থাকেন। রনি দাদিকে অনেক সময় দেয়, তার কাজে সহযোগিতা করে। সে তার দাদির কথা মন দিয়ে শোনে।

ছোটদের প্রতি ভালোবাসা
বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা
সহপাঠীদের প্রতি কর্তব্য
প্রতিবন্ধীদের প্রতি ভালোবাসা
শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখাতে হবে
ভয় পেতে হবে
দূরে থাকতে হবে
মিলেমিশে থাকতে হবে

সমবয়সীদের প্রতি আচরণ, ছোটদের প্রতি দায়িত্ব ও স্নেহ (পাঠ ৩)

553

আমরা সবাই সঙ্গপ্রিয়। পরস্পর মিলেমিশে থাকার ফলেই আমাদের জীবন সুন্দর হয়। আর এই পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি থাকে সমবয়সীদের মধ্যে। কারণ সমবয়সীদের মধ্যে যেমন বয়সের মিল থাকে তেমনি মনেরও অনেক মিল থাকে। যাদের মধ্যে মনের মিল বেশি তাদের মধ্যেই সৃষ্টি হয় বন্ধুত্বের। বন্ধুদের

সাথে আমরা মনের ভাব আদান-প্রদান করি। তাই যাদের আচরণ ভালো, অন্যের ক্ষতি করে না, নিয়ম মেনে চলে, বিনয়ী, সহানুভূতিশীল ও সহমর্মিতাবোধ আছে, বন্ধু হিসেবে তারাই উত্তম। এছাড়া বন্ধু নির্বাচনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস থাকা।

রাসেল ও মিলন সহপাঠী ও ভালো বন্ধু। অন্যান্য সহপাঠী সবাই তাদের পছন্দ করে। তারা পড়াশোনা ও খেলাধুলায় সেরা। পড়াশোনায় তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে তবে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ নেই, আছে আত্মবিশ্বাস। স্কুলে দুই ফুটবল টিমে তারা খেলে। তারা দু'জনেই আদর্শ নিয়ে চলে। কাজে কর্মে ধৈর্যশীল, অন্যের কষ্টে সহানুভূতি দেখায় ও সাধ্যমতো সাহায্য করে। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাদের এই সমস্ত গুণের জন্য সহপাঠী এবং দলের সবাই তাদের প্রতি মুগ্ধ। একদিন মিলনের দল খেলায় পরাজিত হয়। দলের অনেকেই এটা মেনে নিতে পারছে না। মিলন দলের সবাইকে নিয়ে নিজেদের দুর্বলতা, খেলার নিয়ম-নীতি নিয়ে আলোচনা করে। ফলে সবাই পরাজয় মেনে নেয়। মিলনের বিচক্ষণতাই সকলের আগ্রাসী মনোভাব দমন করে। রাসেল ও মিলনদের ক্লাসে এমন কিছু ছেলে ছিল যারা কলহপ্রিয় ও মারামারি করতে পছন্দ করে। ওরা দুই বন্ধু ঠিক করল ওদেরকে দলে খেলতে নিবে। তারা দুষ্ট ছেলেদের দুই দলে ভাগ করে নিল। খেলার নিয়ম-নীতি, শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দিলো।
এভাবে কিছুদিন খেলার ফলে দেখা গেল দুষ্টু ছেলেদের মন মানসিকতার অনেক উন্নতি হলো।

দেখতে পারছ তোমাদের বয়সে বন্ধুর প্রভাব অনেক বেশি। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় কৈশোর বয়সে এমন অনেক চাহিদা থাকে যা মা-বাবা, শিক্ষক পূরণ করতে পারে না। সে সকল ক্ষেত্রে সমবয়সী বন্ধু অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কাজ-১ : সমবয়সীদের সাথে আচরণ এ বিষয়ে তোমার নিজস্ব মতামত লিপিবদ্ধ করো।

ছোটদের প্রতি দায়িত্ব- তোমরা ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তোমাদের স্কুলে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেকেই আছে, যারা তোমাদের চেয়ে বয়সে ছোট। তাদের প্রতি তোমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে।

  • তোমরা ছোটদের স্নেহ ও ভালোবাসা দিবে।
  • ভালো কাজের উপদেশ দিবে।
  • মন্দ কাজ করতে নিষেধ করবে এবং মন্দ কাজের কুফল বুঝিয়ে বলবে।
  • তাদের মধ্যে ন্যায়-অন্যায় বোধ ও আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করার চেষ্টা করবে।
  • তাদেরকে প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে। তবে তোমাদেরও ছোটদের সামনে ভালো কাজের দৃষ্টান্ত রাখতে হবে। যা দেখে ছোটরা তোমাদের অনুসরণ করবে। কারণ ছোটরা সব সময় বড়দের অনুকরণ করে শেখে।

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী নিপা মাঠে খেলতে যেয়ে পায়ে ব্যথা পেয়ে কাঁদতে থাকে। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মালতি ও তার বান্ধবীরা নিপাকে কোলে তুলে শিক্ষকদের রুমে নিয়ে যায়, বরফ এনে পায়ে ধরে, বাতাস করে, রুমাল ভিজিয়ে তার মুখ মুছিয়ে দেয়। এতে আস্তে আস্তে নিপা সুস্থ হয়ে ওঠে। বড় আপুদের যত্ন স্নেহ, ভালোবাসা ও সহানুভূতি নিপাকে মুগ্ধ করে।

মালতি দেখল ছোট একটি ছেলে কলা খেয়ে খোসাটি রাস্তায় ফেলল। মালতি ছেলেটিকে ডেকে তার নাম জিজ্ঞাসা করল এবং খোসাটি ডাস্টবিনে ফেলতে বলল। কলার খোসায় পা পিছলে পড়ে কেউ ব্যথা পেতে পারে, এছাড়া যেখানে সেখানে ময়লা ফেললে পরিবেশ নোংরা হয়। ছেলেটি মালতির কথা বুঝতে পারল এবং আর কখনও এমন করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করল।

কাজ-২ নিপা ও মালতির কাছ থেকে তুমি কী শিখলে বলো।

Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

মৌটুসী তার বন্ধুদলে মিলে বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলা করে। বন্ধুদের সাথে অনেক সময় কাটায়। সে রিভিন্ন রকম ভালো আচরণ শিখেছে তাদের কাছ থেকে।

খেলাধূলায় সময় কাটানো
বন্ধুদলের প্রভাব
আবেগীয় বিকাশ
বন্ধুদের ওপর নির্ভরতা

প্রতিবন্ধীদের প্রতি আচরণ, পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা (পাঠ ৪)

467

আমরা আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ দেখি যাদের হাত-পা নাই, চোখে দেখে না, কানে শোনে না, কথা বলতে পারে না, দেহের গঠন স্বাভাবিক নয়, বুদ্ধি কম। তাদের অনেক কষ্ট। তবে তাদের এই অবস্থার জন্য কিন্তু তারা দায়ী নয়। সবাই চায় সুন্দরভাবে বাঁচতে। এই ধরনের প্রতিবন্ধীদের প্রতি তোমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে।

তোমাদের সুন্দর আচরণই প্রতিবন্ধীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিবে। তাই তারা যাতে অবহেলিত না হয়, যাতে সমাজের একজন হতে পারে, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারে, পড়াশোনা শিখতে পারে। সেজন্য আমাদের সবার এদের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে।

রতনদের স্কুলে প্রতিবন্ধী একজন ছাত্র রয়েছে। ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী। নাম মিলন, সে হুইল চেয়ারে করে স্কুলে আসে। রতন ও তার সহপাঠীরা হুইল চেয়ার ঠেলে অনেক কষ্ট করে তাকে বারান্দায় তুলে ক্লাসে নিয়ে যায়। রতন চিন্তা করল, একটা র‍্যাম্প থাকলে তাদের এত কষ্ট হতো না। বিষয়টি নিয়ে সে শ্রেণি-শিক্ষকের সাথে আলাপ করে এবং তারা কয়েক বন্ধু মিলে মাটি দিয়ে ঢাল তৈরি করে। পরবর্তীতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার উপরে ইট বিছিয়ে সিমেন্ট করে র‍্যাম্প তৈরি করে দেয়। ফলে মিলনকে তার সহপাঠীরা সহজেই হুইল চেয়ার ঠেলে ক্লাসে নিয়ে যেতে পারে। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতাই মিলনকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। সমাজে অনেক দৃষ্টি, শ্রবণ, বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। তোমরা সব সময় তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে, প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে, খেলাধুলা করবে, সঙ্গ দিবে, রাস্তা ঘাট পারাপারের সময় সাহায্য করবে। তাদের সাথে এমন আচরণ করবে যাতে তারা নিজেদের অসহায় মনে না করে।

কাজ-১ একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর প্রতি তোমার আচরণ কেমন হবে?

পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা- তোমরা সবাই মা-বাবা, ভাই-বোন নিয়ে পরিবারে বাস কর। অনেকের পরিবারে আত্মীয়-স্বজনও থাকে। পরিবারে তোমাদের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ও স্নেহ, ভালোবাসার দৃঢ় বন্ধন থাকে। তারপরেও পরিবারে একত্রে বাস করতে গেলে সদস্যদের মধ্যে মনোমালিন্য, মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। তোমাদের উচিত এই বিষয়গুলো গোপন রাখা। কারণ বাইরে প্রকাশ পেলে পরিবারের মান, মর্যাদা ও সম্মান নষ্ট হতে পারে। এছাড়া অর্থ সংক্রান্ত ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে যদি তোমরা কিছু জেনে যাও, তাহলে সেটা নিজের মধ্যেই গোপন রাখবে। এই বিষয়গুলো বাইরের মানুষ জেনে গেলে পরিবারের নিরাপত্তা নষ্ট হয়, বিপদও ঘটার আশঙ্কা থাকে। সুতরাং যে বিষয়গুলো পরিবারের বাইরের কেউ জানলে পরিবারের মান, মর্যাদা, সম্মান নষ্ট হতে পারে বা পরিবারে বিপদ আসতে পারে, সেগুলোই পরিবারের গোপন বিষয়। তোমরা একটি গল্প শুনলেই বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারবে।

প্রমির মা-বাবার মধ্যে একদিন মতবিরোধ হয়। প্রমি সে কথা প্রতিবেশী বান্ধবীকে বলে। বান্ধবী তার মায়ের সাথে গল্প করতে গিয়ে প্রমির মা-বাবার বিষয়টি বলে ফেলে। কয়েকদিন পর প্রমির মায়ের সাথে বান্ধবীর মায়ের দেখা হয়। বান্ধবীর মা মতবিরোধের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করে।

এতে প্রমির মা বেশ লজ্জাবোধ করেন। এই ঘটনা থেকেই তোমরা বুঝতে পারছ পরিবারের এমন কিছু বিষয় আছে, যা বাইরে আলোচনা করা উচিত নয়। তাই পরিবারের একান্ত বিষয়গুলো নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই থাকা আবশ্যক। তবে তোমরা অনেক সময় বন্ধুদের সাথে নিজ নিজ পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলাপ করো। সেই ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবে বন্ধুর কাছে যেন তোমার পরিবারের সদস্যদের মান মর্যাদা কমে না যায়। তবে পরিবারের একান্ত গোপন যে বিষয়গুলো পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কে অবনতি ঘটায় বা ভাঙন সৃষ্টি করতে পারে বলে তোমার মনে হয়, সেটা তুমি মা-বাবা কিংবা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ বা নির্ভরযোগ্য সদস্যের সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে পার। কারণ পরিবারের যে ঘটনাগুলো সম্পর্কের অবনতি ঘটায়, সেটা খোলামেলা অলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো যায় এবং পরিবারের শান্তি, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়। পরিবারের শান্তি, শৃঙ্খলা রক্ষায় ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তোমারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

নিশাতের সহপাঠী কামাল শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে স্কুলে একা যেতে পারে না। প্রতিবেশী হওয়ায় নিশাত প্রতিদিন কামালকে স্কুলে নিয়ে যায় এবং পড়াশোনায় সাহায্য করে।

অনুশীলনী

236
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. শিষ্টাচারের মাধ্যমে কী প্রকাশ পায়?
ক. সৃজনশীলতা
খ. দৈহিক সৌন্দর্য
গ. বুদ্ধিমত্তা
ঘ. অন্তরের সৌন্দর্য

২. বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয় কী?
ক. সহানুভূতি
খ. সহযোগিতা করা
গ. ভালো ব্যবহার
ঘ. পারস্পরিক বিশ্বাস

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:

রনি তার বন্ধুদের সাথে খেলা করছে। দুইটি দুষ্ট ছেলে খেলতে চাইলে কেউ নিতে চাইল না। কিন্তু রনি বলল আজ আমি খেলা দেখি আর ওদের দুইজনকে খেলায় নাও। রনি তাদের বলেছিল খেলার নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে।
৩. রনির এ মনোভাবে কিসের প্রকাশ ঘটে?
ক. স্বার্থত্যাগ
খ. সহানুভূতিশীলতা
গ. ন্যায়বোধ
ঘ. আদর্শবোধ

8.দুষ্ট ছেলেদের মানসিকতায় যে পরিবর্তন ঘটতে পারে-
i. হিংসা বিদ্বেষ দূর হওয়া
ii. নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটা
iii. সহযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii

১.৬ষ্ঠ শ্রেণির কনক যথাসময়ে ক্লাসে আসে। ক্লাস শুরু হলে কনক প্রথম সারিতে বসে ক্লাস করছে।
কিছুক্ষণ পর সাহিদা ক্লাসে ঢুকে দেখে প্রথম সারির বেঞ্চে জায়গা নেই। তখন সে কনকের ব্যাগটি ২য় সারির বেঞ্চে রেখে কনককে যেতে বলে। কনক প্রথমে অসন্তুষ্ট হলেও শ্রেণিতে সমস্যা সৃষ্টি হবে ভেবে ২য় সারিতে চলে যায়। শ্রেণি-শিক্ষক বিষযটি লক্ষ করেন এবং বলেন, প্রত্যেকের পড়ালেখার সাথে সাথে উন্নত মানবীয় গুণাবলির অধিকারী হওয়া উচিত।
ক. মানবীয় আচরণ কাকে বলে?
খ. দলগত খেলার মাধ্যমে মানবীয় গুণাবলির সহজে বিকাশ লাভ করে কেন?
গ. কনকের ব্যবহারে কোন ধরনের শিক্ষার প্রভাব দেখা যায়- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. শিক্ষকের বক্তব্যের আলোকে সাহিদার ব্যবহারকে মূল্যায়ন করো।

২.নিচের চিত্রটি দেখো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

ক. মানুষ গড়ার কারিগর কে?
খ. বড়দের প্রতি কিভাবে শ্রদ্ধাশীল হওয়া যায়- বুঝিয়ে লেখো।
গ.চিত্রে নির্দেশিত বালকটির আচরণ কোন ধরনের শিষ্টাচারকে নির্দেশ করে- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. বালকটির এই আচরণ সমাজে সকলের মাঝে সুসম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক- আলোচনা করো

Content added By

কৈশোরকালীন বিকাশ (ষষ্ঠ অধ্যায়)

742
Please, contribute by adding content to কৈশোরকালীন বিকাশ.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

রাশি পড়াশুনায় অমনোযোগী। পড়তে বললে রাগে জিনিসপত্র ভাংচুর করে, ছুড়ে মারে। বকাঝকা বা নিষেধ করলে আরও বেশি করে সেই কাজগুলো করে। তার এ ধরনের কাজের ফলে পরিবারের অন্যরা বিরক্ত হয় এবং জিনিসের পাশাপাশি অন্যরা যে ক্ষতি হয় তা সে বুঝতে পারে না।

শারীরিক বিকাশ (পাঠ ১)

632

সাধারণত ১০/১১ বছর বা শৈশবের শেষ পর্যায়ের পর থেকে প্রাপ্তবয়সের পূর্ব অর্থাৎ ১৮/১৯ বছর পর্যন্ত কৈশোর কাল। এ বয়সকে বয়ঃসন্ধিক্ষণও বলা হয়ে থাকে।

কৈশোরে শিশু থেকে প্রাপ্তবয়সে যাওয়ার জন্য ছেলে-মেয়েদের শরীরের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। এ পরিবর্তনের সময়কাল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত। শারীরিক বিকাশ বলতে দেহের পরিবর্তন ও আকার- আকৃতির বৃদ্ধিকে বোঝায়। শারীরিক পরিবর্তনের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য যা সবার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। এ সময় বছরে উচ্চতা ৭ থেকে ১৪/১৫ সেঃ মিঃ পর্যন্ত (৩ থেকে ৫/৬ ইঞ্চি পর্যন্ত) বাড়তে পারে। সাধারণত মেয়েরা ১৮/১৯ বছর পর্যন্ত এবং ছেলেরা ২০/২১ বছর পর্যন্ত উচ্চতায় বাড়তে থাকে। এ বয়সে তাদের ওজন বাড়লেও উচ্চতা বাড়ার জন্য তাদেরকে ক্ষীণকায় দেখায়। বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিবর্তন হয়, ক্রমে ক্রমে বেড়ে শিশু থেকে পূর্ণ বয়স্কের আকার ধারণ করে। বয়ঃসন্ধিক্ষণে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যার মাধ্যমে ছেলে এবং মেয়ে আলাদাভাবে চেনা যায়। ছেলেদের গোঁফ, দাড়ি উঠতে শুরু করে। গলার স্বর পরিবর্তন হয়। শুরুতে এটা ভাঙা ভাঙা হয়ে স্বর মোটা হয়।

মেয়েদের প্রতি ২৮ দিন অন্তর অন্তর ঋতুস্রাব হয়। এটি ৩ থেকে ৫ দিন, কারো কারো ক্ষেত্রে ৭ বা তার বেশি দিন চলতে পারে। আগে থেকে জানা না থাকলে এ পরিবর্তনে ভয় পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। শারীরিক এই পরিবর্তন কারও কারও ক্ষেত্রে কৈশোরকাল শুরুর সাথে সাথে না হয়ে ২/১ বছর আগে বা পরেও শুরু হতে পারে। এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই, এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। হঠাৎ করে এ বয়সে যে পরিবর্তন হয়, তা জীবনের স্বাভাবিক চক্র।

কাজ-১ বিগত ১ বছর সময়ে তোমার শারীরিক পরিবর্তনগুলো ছকে সাজাও।
সময়কালওজনউচ্চতাচেহারাঅন্যান্য
১ বছর পূর্বে
বর্তমান বছরে
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

১২ বছর বয়সী শাফি মাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র। হঠাৎ কিছুদিন ধরে তার গলার স্বর পরিবর্তনসহ আরও কিছু শারীরিক পরিবর্তন ঘটেছে। অজানা এক ভয় ও লজ্জায় গত কয়েকদিন যাবৎ সে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

অতি শৈশবকালীন
যৌবনকালীন
কৈশোরকালীন
বৃদ্ধকালীন

কৈশোরের মানসিক বিকাশ (পাঠ ২)

786

'মন' শব্দটি থেকে মানসিক শব্দটি এসেছে। শিশুরা উচ্চতায় বাড়ে, ওজনে বাড়ে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তারা কথা বলতে শেখে, মনে রাখতে পারে। আস্তে আস্তে দিন-রাত্রির পার্থক্য বোঝে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানের দূরত্ব কত তা বুঝতে পারে। আমাদের বুদ্ধি আছে বলেই আমরা কাজ করতে পারি। পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারি। এগুলো সবই মানসিক ক্ষমতা বা মানসিক বিকাশ। মানসিক বিকাশ বলতে শিশুর বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার, ভাষার প্রকাশ, চিন্তাশক্তি, বোঝার ক্ষমতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অধিক ক্ষমতা অর্জন বোঝায়।

কৈশোরে ছেলেমেয়েরা চিন্তা ও বিচারবুদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারে। যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে পারে। যুক্তি দিয়ে চিন্তা করাই মানসিক বিকাশের পরিণত ধাপ, যা কৈশোর কালের ছেলেমেয়েরা অর্জন করে। এ বয়সে ছেলেমেয়েরা বিমূর্ত ধারণা অর্থাৎ যেগুলো দেখা যায় না, সেগুলো বুঝতে পারে। যেমন- সততা, সাহসিকতা, মায়া-মমতা ইত্যাদি। যে ঘটনা বা বিষয়টি সামনে উপস্থিত নেই, কাগজে কলমে সেই সমস্যার সমাধান করতে পারে। যেমন- জ্যামিতির সমস্যা (সম্পাদ্য বা উপপাদ্য ইত্যাদি)। যুক্তি দিয়ে মতামত দিতে পারে। তাদের চিন্তা ও মনোযোগ বাড়ে। মনে রাখার ক্ষমতা, চিন্তা করার ক্ষমতা, যুক্তি দিয়ে বোঝার ক্ষমতা ইত্যাদি মানসিক ক্ষমতা যার যত বেশি সে জীবনে তত বেশি এগিয়ে যেতে পারে। পরিবেশের সাথে সহজেই খাপ খাওয়াতে পারে।

কৈশোরে মানসিক ক্ষমতা বাড়ানোর কিছু উপায়-

  • পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বেশি বেশি বিভিন্ন ধরনের ভালো বই পড়া।
  • কৌতূহল মেটানোর জন্য প্রশ্নের উত্তর খোঁজা।
  • আগ্রহ নিয়ে কোনো কিছু শোনা এবং বোঝা।
  • মনে রাখার জন্য পরিষ্কারভাবে দেখা এবং মনোযোগ দিয়ে শোনা।
  • মুখস্থ করতে হলে বিষয়বস্তু আগে বুঝে নেওয়া।
  • নিজে বুঝতে সমস্যা হলে শিক্ষক বা বয়স্কদের কাছ থেকে পরিষ্কারভাবে বিষয়বস্তু বুঝে নেওয়া।
  • অন্য ছেলেমেয়েদের সাথে মেলামেশা করা ও ধারণার বিনিময় করা।
  • বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করা।
  • হাতে কলমে পরীক্ষা করে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তা করা।
  • দলীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে নিজের করণীয় বুঝে নেওয়া।
  • আমাদের চারপাশের কোথায় কী ঘটছে তা জানার আগ্রহ থাকা ও জানা।

এভাবে চেষ্টা করলে তোমরা তোমাদের মানসিক ক্ষমতার উন্নতি করতে পারবে। তোমাদের সকলের জানা দরকার যে, শারীরিক ও মানসিক উভয় দিকের বিকাশ ছাড়া শিশু তথা মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।

কাজ-১ তোমার মানসিক বিকাশকে নির্দেশ করে এমন কয়েকটি দক্ষতার তালিকা তৈরি করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

'বীথির মা লক্ষ করলেন বীথির শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা বেড়েছে। মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে সে অনেক কিছু বোঝে।

হাসিখুশি থাকা
ভালো আচরণ
মনে রাখার ক্ষমতা
ভালো বন্ধু নির্বাচন
শারীরিক বিকাশ
মানসিক বিকাশ
ধারণা বিনিময়
হাতে-কলমে পরীক্ষা

কৈশোরের আবেগ (পাঠ ৩)

362

আনন্দ রাগ, ভয়, ভালোবাসা, হাসি, কান্না আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী, যার নাম আবেগ। আবেগ ছাড়া মানুষ হয় না। রোবটের সাথে মানুষের পার্থক্য এখানেই। রোবট মেশিনে তৈরি। মানুষের মতো সে সব পারে কিন্তু কোনো ঘটনায় হাসতে পারে না, ভয় পেয়ে পালাতে পারে না, রাগ করে চিৎকার করে না। বাইরের কোনো ঘটনা যখন আমাদের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে, তখন আমরা হাসি, কাঁদি, ভয় পাই, ঈর্ষা করি, রেগে যাই- এগুলোই আবেগ।

আবেগের ধরন

আবেগের সময় দেহ, মন ও আচরণের পরিবর্তন হয়। ভয় পেলে আমাদের শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসে, টেনশনে বুকের ঢিপ ঢিপ বেড়ে যায়, রাগে চোখ লাল হয়ে যায়, আনন্দে আমরা হাসি, কোনো দুঃখের ঘটনায় আমাদের কান্না পায়- এসবই আবেগের প্রকাশ। আবেগের দুটি ধরন আছে। যে আবেগ আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করে যেমন- সুখ, আনন্দ, হাসি, স্নেহ-মমতা ইত্যাদি। এ এরকম পরিবেশ আমরা চাই। এইগুলো ইতিবাচক আবেগ। অপরদিকে রাগ, ভয়, দুঃখ, ঈর্ষা ইত্যাদি আমরা পছন্দ করি না, এগুলো দুঃখের পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই আবেগ হলো নেতিবাচক আবেগ।

আবেগের ক্ষতিকর দিক

অতিরিক্ত আবেগ আমাদের অনেক ক্ষতি করে। আবেগের কারণে নিজের প্রকাশভঙ্গি চেহারা পরিবর্তন হয়। রাগের সময় চোখ বড় হয়ে যায়, মুখ খিঁচে যায়, হিংস্র পশুর মতো দেখা যায়। অতিরিক্ত রাগে আচরণের পরিবর্তন হয়। অনেকে রাগে জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলে, ভেঙে ফেলে, অন্যকে আঘাত করে ইত্যাদি। কোনো দুঃখজনক ঘটনায় আমাদের মন খারাপ হয়, পড়াশোনায় মনোযোগ আসে না, আমরা কাঁদি, খাওয়া বন্ধ রাখি। ভয় পেলে আমাদের অস্থিরতা বাড়ে, স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারি না, কথা বলতে তোতলাতে হয়, ঘাম হয়, হাত-পা কাঁপে। এগুলো সবই শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত আবেগ আমাদের জীবনে জটিলতা সৃষ্টি করে। আমাদের আচরণ হয় ভয়াবহ। সেখানে যুক্তি লোপ পায়।

কৈশোরে আবেগের আধিক্য থাকে। দৈহিক পরিবর্তনের জন্য আবেগের অসমতা দেখা যায়। নানা রকম দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা কাজ করে। তোমার পরিবারের সদস্যদের আচরণে তোমার অনেক সময় অভিমান হয়, রাগ হয়। এগুলো এ বয়সের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এগুলো আমাদের অনেক ক্ষতি করে।

অনেক সময় মন খারাপ থাকলে বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া যায় না, ঘুম আসে না, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, দৈনিক কাজে বাধা আসে। এ কারণে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

আবেগ নিয়ন্ত্রণের উপায়- সন্ধ্যায় টিভি দেখছিল অনিক। বাবা হঠাৎ টিভি বন্ধ করে দিলেন। বাবা রেগে গিয়ে বললেন, ভালো না লাগলে আর লেখাপড়ার দরকার নেই। বাবার কথায় তার খুব রাগ হলো। বই খাতা ছুড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছা হলো। কিন্তু সে কিছুক্ষণের মধ্যে নিজেকে সামলে নিল। সে যুক্তি দিয়ে ভাবল- বাবা তো তার ভালোর জন্যই বলেছে। সন্ধ্যায় পড়ার সময় সে টিভি না দেখলেই পারত।

উপরের ঘটনায় অনিক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করল, সে ঘটনার ভালো দিকটা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করল। এভাবে তোমরাও অতিরিক্ত আবেগ বা নেতিবাচক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস করতে পার। আবেগ নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়গুলো-

  • যেকোনো ঘটনার ভালো দিকটা খুঁজে পেতে শেখা।
  • জটিল অবস্থা মেনে নেওয়ার অভ্যাস তৈরি করা।
  • হতাশাকে প্রশ্রয় না দেওয়া।
  • দলগতভাবে কোনো কাজে বা খেলাধুলায় অংশ নেওয়া।
  • যেসব বিষয়ে রাগ হয়, ভয় হয়, সেগুলো যেন তৈরি না হয়, তার চেষ্টা করা ও সে সব ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া।
  • মা-বাবা, বন্ধুদের সাথে নিজেদের সমস্যা খোলামেলাভাবে আলোচনা করা।
কাজ-১ গত কিছুদিনের মধ্যে ঘটে যাওয়া আবেগজনিত কোনো ঘটনার বিবরণ দাও। এতে তোমার প্রতিক্রিয়া কীরূপ ছিল? তোমার প্রতিক্রিয়া সঠিক না ভুল ছিল- তা যুক্তি সহকারে লেখো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

ওয়াফি ও রিমি এক সঙ্গে বাগাডুলি খেলে। ওয়াফি হেরে গেলে সে কাঠি দিয়ে রিমিকে আঘাত করে। কিন্তু রিমি তার ভাইকে কিছু বলে না।

খেলাধুলায় অংশ না নেওয়া
জটিল অবস্থা মেনে নেওয়ার অভ্যাস
হতাশাকে প্রশ্রয় না দেওয়া
ভালো দিকটা খুঁজে পাওয়া

কৈশোরের সামাজিক বিকাশ (পাঠ ৪)

643

বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের আচরণ বদলায়। আমাদের চারপাশের মানুষ আমাদের কাছে বয়সানুযায়ী সঠিক আচরণ আশা করে। সামাজিক বিকাশ হলো বয়সানুযায়ী আচরণ করতে শেখা। যেমন- সকলের সাথে মেলামেশা করা। সমবয়সীদের সাথে খেলা, বয়স্কদের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা ইত্যাদি। একে অপরকে সাহায্য করা, সহানুভূতি দেখানো, ভাগাভাগি করতে শেখা, ভালো কাজে অংশগ্রহণ করা, নিয়ম মেনে চলতে শেখা ইত্যাদি সবই গ্রহণযোগ্য সামাজিক আচরণের মধ্যে পড়ে। অপরপক্ষে যেগুলো গ্রহণযোগ্য সামাজিক আচরণের মধ্যে পড়ে না সেগুলো হলো- বাগড়া করা, মারামারি করা বা আক্রমণধর্মী আচরণ করা, গালিগালাজ করা, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা বা স্বার্থপরতা ইত্যাদি।

কৈশোরে সমবয়সী দলের আচরণ ঐ বয়সের ছেলে-মেয়েদের আচরণে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। এ সময়ে পরিবারের বাইরে অন্যতম সামাজিক পরিবেশ হলো, স্কুলের সহপাঠী ও প্রতিবেশী ছেলেমেয়েরা। কৈশোরে ছেলেমেয়েরা দলের প্রতি অনুগত থাকে, দলের মতো হওয়ার চেষ্টা করে। সঙ্গী দলের কাছে সে তার মনের ভাব ব্যক্ত করে। ব্যক্তিগত গোপন বিষয়গুলো পরিবারের চেয়ে বন্ধুদের কাছে বলতে পছন্দ করে। এভাবে কয়েকজনকে নিয়ে একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধু দল তৈরি হয়। কৈশোরে বন্ধুদের সঙ্গে মিশে তাদের মধ্যে অনেক ভালো আচরণ গড়ে উঠতে পারে। বন্ধু দল যে আচরণ পছন্দ করে সেই আচরণ তারা করতে আগ্রহী হয়। যেমন- পড়াশোনায় প্রতিযোগিতা করা, শিক্ষকের নির্দেশ মানা, একসাথে খেলাধুলা করা ইত্যাদি।

আবার বন্ধু দলের উৎসাহে তারা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও ভয় পায় না। যেমন- পরীক্ষামূলকভাবে বিড়ি, সিগারেট পান, মাদকদ্রব্য গ্রহণ, স্কুল পালানো, বয়স্কদের বিরোধিতা করা ইত্যাদি। যদি কেউ আচরণগুলো না করে তবে তাকে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করা হয়, ঐ দলে থাকতে হলে ঐ আচরণগুলো মেনে নিতে তাকে বাধ্য করা হয়। এজন্য কৈশোরে বন্ধু নির্বাচনে অনেক সাবধান হতে হয়।

এবার জেনে নাও কৈশোরে সামাজিক হওয়ার জন্য কী কী করণীয়-

  • সকলের সাথে কুশল বিনিময় করা
  • একা একা নিজেকে গুটিয়ে না রাখা
  • বিভিন্ন কাজে অংশ নেওয়া, খেলাধুলায় অংশ নেওয়া
  • সকলের সাথে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাস করা
  • বয়স্কদের সম্মান করা, তাদের নির্দেশ মেনে চলা
  • ছোটদের আদর, স্নেহ করা।
কাজ- ১ তুমি যে বন্ধু দলে মেলামেশা কর, সেটিকে ভালো দল বলা যায় কি? যুক্তি দেখাও। এ দলে মিশে তুমি কী কী আচরণ শিখেছ, তা লেখো।
কাজ- ২ তোমার পরিচিত কোনো খারাপ দল সম্পর্কে লেখো। তারা কী ধরনের কাজ করে এবং তাদের জন্য তোমার পরামর্শ লেখো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

তিন বন্ধু নুহা, মীরা ও ঊষা। তারা সামাজিকতার দিকটি ভালোভাবে বুঝতে শিখেছে।

বয়স্কদের সম্মান করা
অন্যদের সাথে খেলাধূলা থেকে বিরত থাকা
নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ ভাবা
কুশল বিনিময় থেকে বিরত থাকা

কৈশোরের নৈতিক বিকাশ (পাঠ ৫)

347

নৈতিকতা বলতে আমরা সামাজিক ও ধর্মীয় নীতি অনুসরণ করাকে বুঝি। এখানে ভালো বা খারাপ কাজের জন্য নিজেকেই দায়ী করা হয়। ভালো কাজ করলে যেমন মনে তৃপ্তি আসে, খারাপ কাজ করলে তেমনি নিজের কাছে অনুশোচনা হয়। সত্য বললে ভালো লাগে, মিথ্যা বললে অপরাধবোধ হয়। অর্থাৎ নৈতিকতা হলো নিজের আচরণকে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করা।

মানুষের জীবনে নৈতিকতা হঠাৎ করে আসে না। নৈতিকতার বিকাশে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। শিশু অবস্থায় পরিবার থেকে ভুল ও সঠিক আচরণের ধারণা তৈরি হয়। মা-বাবা, ভাই-বোন, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যে কাজ করতে নিষেধ করেন, সেটা খারাপ কাজ এবং যে কাজ করলে খুশি হন বা প্রশংসা করেন, সেটা ভালো কাজ। এভাবে ভালো ও মন্দ কাজের ধারণা তৈরি হয়। নৈতিক বিকাশের প্রথম দিকে শিশু শান্তির ভয়ে অন্যায় আচরণ থেকে বিরত থাকে। শিশু কালের নৈতিকতাকে অনেকটা বাধ্যতামূলক নৈতিকতা বলা হয়। কিন্তু কৈশোরে ভালো ও মন্দের নিজস্ব ধারণা তৈরি হয়। এ বয়সে ভয়ভীতির কারণে তারা ভালো কাজ করে না বরং ভালো কাজ নিজের ইচ্ছেতেই করে। যুক্তি দিয়ে কাজটি কেন ভালো বা কাজটি কেন খারাপ- তা বিচার করার ক্ষমতা হয়। যারা নীতিবান হয়, তাদের মধ্যে খারাপ কাজের জন্য অনুশোচনা হয়। আবার অন্যের সামনে লজ্জা পেতে হবে জেনেও খারাপ কাজ থেকে অনেকে বিরত থাকে।

নৈতিকতা বিকাশে নিয়মানুবর্তিতার গুরুত্ব অনেক বেশি। ছোটবেলা থেকে নিয়মমতো চলার মধ্য দিয়ে আমরা ভালো অভ্যাস তৈরি করতে পারি। নিয়ম মানার মধ্য দিয়ে কোনটি করা উচিত, কোনটি করা উচিত নয়- তা জানা যায়। বাড়িতে মা-বাবা, স্কুলে শিক্ষকেরা তোমাদেরকে নিয়মনীতি মেনে চলতে অনেক সাহায্য করেন। তাদের আদেশ, নিষেধ তোমাদের ভালো অভ্যাস তৈরি করতে, অন্যায় আচরণ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। কোনো কাজ কেন ভালো বা কেন খারাপ- শিক্ষকেরা এটা বুঝিয়ে দিলে সঠিক আচরণ করা সহজ হয়। কৈশোরে শারীরিক শাস্তি ছেলেমেয়েদের মনে বিরোধ জাগিয়ে তোলে। ছেলেমেয়েরা যখন জানে, তাদের সাথে অন্যায় করা হয়েছে, তখন তাদের মধ্যে অনেক সময় নিয়ম ভঙ্গ করার ঝোঁক বেশি হয়। এ বয়সে ভালো কাজের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশংসা তাদেরকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে।

কৈশোরে বন্ধুদের সাথে মেলামেশা তার আচরণে প্রভাব ফেলে। অনেক সময় খারাপ আচরণ বন্ধুদলে সমাদৃত হয়। আবার দলীয় সদস্যদের খারাপ আচরণ লক্ষ করে তারাও খারাপ কাজ করতে শেখে। দলে নিজের মর্যাদা রাখার জন্য এ ধরনের আচরণ খারাপ জেনেও করে। এজন্য কৈশোরে ও কী ধরনের বন্ধুর সাথে মেলামেশা করছে সেটা জানা খুবই জরুরি।

এসো কৈশোরের কিছু খারাপ আচরণ সম্পর্কে জানি এবং এগুলো থেকে সতর্ক ও সাবধান থাকি।

গৃহে খারাপ আচরণবিদ্যালয়ে খারাপ আচরণ
  • ভাই-বোন একে অপরের সাথে ঝগড়া ও মারামারি করা।
  • বয়স্কদের সাথে কড়া সুরে কথা বলা।
  • দৈনন্দিন কাজ নিয়ে গাফিলতি করা।
  • দায়িত্ব উপেক্ষা করা।
  • মিথ্যা বলা।
  • অন্যকে দোষারোপ করা।
  • কারো জিনিস নষ্ট করা, চুরি করা।
  • সহপাঠীদের কিছু চুরি করা।
  • মিথ্যা বলা।
  • ধোঁকা দেওয়া বা ঠকানো।
  • ঠাট্টা করে অন্যকে বিরক্ত করা।
  • সহপাঠীর সাথে মারামারি করা, গালি দেওয়া।
  • স্কুলের জিনিস নষ্ট করা।
  • স্কুল পালানো।
  • ধূমপান অথবা মাদকদ্রব্য সেবন করা।
কাজ-১ তোমার গৃহে তুমি কী কী ভালো আচরণ করো, তার একটি তালিকা তৈরি করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুশোচনা করা
অপরাধবোধ
নিয়ন্ত্রিত জীবন
নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবা
জটিল
বাধ্যতামূলক
নিজস্ব ধারণা
নিজের ইচ্ছানুযায়ী

অনুশীলনী

254

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. মেয়েরা কত বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতায় বাড়ে?
ক. ১৮/১৯
খ. ২০/২১
গ. ২২/২৩
ঘ. ২৪/২৫

২. কোনটি নেতিবাচক আবেগ?
ক. ভালোবাসা
খ. হাসি
গ. দুঃখ
ঘ. স্নেহ

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও
আবিরের বয়স ১৩ বছর। তার মা লক্ষ করলেন কেনাকাটা করতে গেলে আবির টাকা-পয়সার হিসাব রাখতে পারে না। কোনো জিনিসের ওজন বুঝতে পারে না। তার পাঠ্য বিষয়গুলো সে যুক্তি দিয়ে বুঝতে পারে না। আবার পড়া ভালোভাবে মনেও রাখতে পারে না।

৩. আবিরের কোন ধরনের বিকাশ ভালোভাবে হয়নি?
ক. শারীরিক
খ. মানসিক
গ. সামাজিক
ঘ. নৈতিক

৪. পড়াশোনায় ভালো করার জন্য আবিরের দরকার-
i. মুখস্থ করার আগে বুঝে নেওয়া
ii. পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়া
iii. পরিষ্কারভাবে দেখা ও মনোযোগ দিয়ে শোনা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. রাগীব এবার ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। ক্লাসে সহপাঠীদের বাড়ির কাজ বুঝিয়ে দেওয়া, দলীয় কাজে সহযোগিতা করা, বন্ধুদের বিপদে সাহায্য করা ইত্যাদি কাজে রাগীব সবার আগে এগিয়ে আসে। এ কারণে ক্লাসে সবাই তাকে পছন্দ করে।
ক. ছেলেরা কত বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতায় বাড়ে?
খ. মানসিক বিকাশ বলতে কী বোঝায়?
গ. রাগীবের আচরণে কোন ধরনের বিকাশ লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. বিভিন্ন দলে মিলে কাজ করার মাধ্যমে রাগীবের মতো চরিত্রের অধিকারী হওয়া যায় এ বিষয়ে তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

২. সাজু এবার ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। কিছুদিন ধরে তার মা লক্ষ করছেন, সে ছোট বোনের সাথে সারাদিন ঝগড়া মারামারি করে। পড়তে বসতে বললে রেগে যায়। জিনিসপত্র ছোড়াছুড়ি শুরু করে।
ক. কৈশোর কালের বয়সসীমা কত?
খ. নৈতিক বিকাশ বলতে কী বোঝায়?
গ. সাজুর আচরণে কিসের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সাজুর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা কিভাবে এ ধরনের আচরণের পরিবর্তন ঘটাতে পারে বুঝিয়ে লেখো।

Content added || updated By

কৈশোরকালীন পরিবর্তন ও নিজের নিরাপত্তা রক্ষা (সপ্তম অধ্যায়)

299
Please, contribute by adding content to কৈশোরকালীন পরিবর্তন ও নিজের নিরাপত্তা রক্ষা.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

রিয়ার শারীরিক পরিবর্তনের কারণে সে নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখতে পছন্দ করে। সে কিছু বিষয়ে খুব সতর্ক। একা একা কোথাও সে যাতায়াত করে না। এমনকি পরিচিত ও অপরিচিত কেউ একা ডাকলে সে কখনো যায় না।

কৈশোরকালীন পরিবর্তনে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা (পাঠ ১)

468

বয়ঃসন্ধিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে দ্রুত শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে দেহ, মন ও আচরণেরও পরিবর্তন হয়। এই স্বাভাবিক পরিবর্তনকে সহজভাবে গ্রহণ করা ও মানিয়ে নেওয়া হলে এই সময়টি সহজভাবে অতিবাহিত করা যায়। এ সময় দেহের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত খাদ্যশক্তির প্রয়োজন হয়। পুষ্টিমান সম্পন্ন পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে। সহজেই ক্লান্তি বোধ হয়। এ জন্য এ সময় সব রকম খাবার প্রয়োজনীয় পরিমাণে খেতে হবে। মেয়েদের এ বয়সে রক্তাল্পতা হতে পারে। লৌহজাতীয় খাবার রক্তাল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।

শারীরিক পরিবর্তন বা ঋতুস্রাব শুরুর প্রথমদিকে অনেকের পেটে ব্যথা, মাথা ধরা, পিঠে ব্যথা ইত্যাদি বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দিতে পারে। এগুলো খুব স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত অসুবিধা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে খেলাধুলাসহ সব কাজই করা যায় তবে ভারী জিনিস তোলা, বহন করা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কাজ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।

কৈশোরে শারীরিক পরিবর্তনের জন্য ছেলে মেয়ে উভয়েরই মধ্যে কিছু আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। দৈহিক পরিবর্তনের কারণে এই বয়সে ছেলে মেয়েরা অনেক সময় চলাফেরায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। এ ব্যাপারে শিক্ষক, মা-বাবা, বড় ভাই-বোন অথবা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যগণের কাছ থেকে শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিলে সহজেই শারীরিক ও মানসিকভাবে খাপ খাওয়ানো সম্ভব।

সুপ্তি এবার ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উঠেছে। সে খালার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে। এ বয়সের পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে তার অনেক কিছু জানতে ইচ্ছে করে। কিন্তু খোলামেলা জিজ্ঞাসা করতে পারে না। কেমন একটা দ্বিধা, সংকোচ তার মধ্যে কাজ করে। এটা বয়ঃসন্ধিক্ষণের একটি সাধারণ ঘটনা। সুপ্তির মতো অনেকেই বাবা-মাকে বা বড়দের কাছে সমস্যা নিয়ে খোলামেলা প্রশ্ন করতে পারে না। কিন্তু সব সময় মনে রাখতে হবে যে, এই সময়ের যেকোনো সমস্যায় মা-বাবা, বড় ভাই-বোন, শিক্ষক বা নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যক্তির পরামর্শই সকল দুশ্চিন্তা দূর করতে পারে।

পরিচ্ছন্নতা

স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা বিশেষ জরুরি। শারীরিক পরিচ্ছন্নতায় মনও প্রফুল্ল থাকে। বয়ঃসন্ধিক্ষণে ত্বকের নিচে বগলের গ্রন্থি থেকে বেশি ঘাম নিঃসরণ হয়। এজন্য নিয়মিত গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা উচিত।

মেয়েদের ঋতুস্রাবের সময় করণীয়-

  • পরিষ্কার কাপড় বা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করা।
  • কাপড় ব্যবহার করলে সেটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে রোদে শুকানো।
  • কাপড় অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে জায়গায় না রাখা, এতে রোগ জীবাণু সংক্রমণের আশংকা থাকে।
  • ব্যবহৃত কাপড় বা ন্যাপকিন ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা বদলে ফেলা। বেশিক্ষণ ভেজা অবস্থায় থাকলে নানা রকম সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।
  • ব্যবহৃত কাপড় বা ন্যাপকিন কাগজে জড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলা বা মাটিতে পুঁতে ফেলা বা পুড়িয়ে ফেলা।
কাজ-১ কৈশোরে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার জন্য কী কী করবে- তার একটি তালিকা করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

১১ বছরের অরণীর হঠাৎ করে দৈহিক পরিবর্তন আসায় মানুষের চোখ এড়াতে সে ঝুঁকে হাঁটে। সে এটাকে সমস্যা মনে করে।

নিজের নিরাপত্তা রক্ষা করতে শেখা (পাঠ ২)

573

সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য দরকার নিরাপদ পরিবেশ। এর অভাবে ছেলে-মেয়েদের প্রায়ই বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। একটু সতর্ক থাকলেই আমরা এসব বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি।
আমরা অনেক সময় খবরের কাগজে ছেলেমেয়েদের হারানো খবর, বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও বিপদে পড়ার খবর জানতে পারি। এর মধ্যে বিভিন্ন বয়সের শিশু-কিশোরদের দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাওয়ার খবর অন্যতম। সেখানে তাদেরকে দিয়ে গৃহের কাজ থেকে শুরু করে উটের জকি, মেষ চরানো, নানা ধরনের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হয়। একটি অপরাধী চক্র ছোট ছেলে-মেয়েদের বিদেশে বিক্রি করে দিয়ে অর্থ উপার্জন করে। এদের থেকে আমাদের প্রত্যেককেই সতর্ক থাকতে হবে।

অনেক সময় অপরিচিত ব্যক্তি তোমার আত্মীয় সেজে এমনভাবে কথা বলতে পারে যে, তাদের প্রলোভনে তোমাদেরও ভুল হয়ে যায়। এজন্য স্কুলে যাতায়াত, অন্যান্য চলাফেরায় খুব সতর্ক থাকা দরকার। তোমার নিজের নিরাপত্তার জন্য নিচের বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি-

  • বাবা-মার অনুমতি ছাড়া দূরে কোথাও একা একা না যাওয়া।
  • অপরিচিত কারও সাথে কোথাও না যাওয়া।
  • অপরিচিতদের কাছ থেকে খাবার না খাওয়া।
  • অপরিচিতদের কাছ থেকে কোনো জিনিস না নেওয়া।
  • কোনো রকম প্রলোভনে আকৃষ্ট না হওয়া।

অনেক সময় বাবা-মাকে বিদেশে ভালো চাকরির বা অর্থের লোভ দেখিয়ে কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে কিশোর-কিশোরীকে তারা পাচার করে ফেলে। পরিবার থেকে তারা হয় চির বিচ্ছিন্ন। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তোমাদের মা-বাবা, প্রতিবেশী, ছোট ভাইবোন এবং বন্ধুরা যেন এসব বিষয়ে সজাগ থাকে সে জন্য তোমরা তাদেরকে সতর্ক করবে।

আমরা অনেক সময় বাজারে কেনাকাটার জন্য যাই। ঈদ, পূজা বা বিভিন্ন উৎসবের আগে বাজারে প্রচুর ভিড় থাকে। এই ভিড়ের মধ্যে আমাদের বিভিন্ন প্রকার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে খারাপ স্পর্শ বা হাত দেওয়া। বাড়িতে কোনো পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তি কোনো মেয়েকে একা পেলে কিংবা খেলার মাঠে পাড়ার কোনো বড় ছেলে এরকম খারাপ স্পর্শ করতে পারে। বাবা-মায়ের অজান্তে ঘরে এবং বাইরে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ সকল সমস্যার কথা মেয়েরা অনেক সময় প্রকাশ করতে পারে না। চুপচাপ হয়ে যায়, ভয় ও লজ্জায় নিজেরাই কষ্ট পেতে থাকে। এ ধরনের ঘটনায় কখনই চুপ করে থাকা বা একা কষ্ট পাওয়া উচিত নয়। কারণ এখানে মেয়েটির কোনো দোষ থাকে না। যে এ কাজটি করেছে, সে-ই অন্যায় করেছে।

  • ভিড়ের মধ্যে গেলে সচেতন থাকা ও সাবধানতা অবলম্বন করা।
  • পরিচিত ও অপরিচিত পরিবেশে একা না যাওয়া।
  • বাড়িতে একা থাকলে সাবধানে থাকা।
  • কেউ কাছে ডাকলে নিরাপদ দূরত্বে থেকে কথা বলা।
  • কেউ শরীর নেতিবাচক ভঙ্গিতে স্পর্শ করে, এরকম সুযোগ না দেওয়া।
  • খারাপ, অশ্লীল আলোচনা করে, এমন বন্ধু-বান্ধব ও ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলা বা বর্জন করা।
  • যে কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মাকে, পরিবারের বিশ্বস্ত কাউকে অথবা শিক্ষককে জানানো।

সকল বিষয়ে এদেরকে সবচেয়ে কাছের বন্ধু ভাববে। তবেই তুমি তোমার মনের অস্থিরতা, কষ্ট সহজেই দূর করতে পারবে।

কাজ-২ প্রচার মাধ্যম থেকে জানা এমন কোনো অপহরণের ঘটনা লেখো। শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তা ক্লাসে উপস্থাপন করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

সিথি স্কুল থেকে ফেরার পথে এক ছেলে তাকে স্পর্শ করে। সে ভয় পেয়ে কাঁদতে থাকে। মা জানতে চাইলে সে লজ্জায় কিছু বলতে পারে না।

স্কুলে যাওয়া বন্ধ করবে
বাবা-মায়ের সহযোগিতা নেবে
প্রতিবেশীর সহযোগিতা নেরে
বন্ধুদের সহযোগিতা নেবে
খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য
নিজের নিরাপত্তার জন্যে
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য
অপছন্দের জন্যে

অনুশীলনী

178
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. কোন ধরনের খাবার রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে?
ক. খনিজ লবণ
খ. লৌহজাতীয়
গ. আয়োডিন
ঘ. থায়ামিন বি-১

২. বয়ঃসন্ধিক্ষণের একটি সাধারণ ঘটনা-
ক. খোলাখুলি কথা বলা
খ. দ্বিধা, সংকোচ করা
গ. স্বাভাবিক আচরণ দেখানো
ঘ. খাদ্য গ্রহণ স্বাভাবিক থাকে

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
১২ বছর বয়সী দুরন্ত চঞ্চল রুথি ঈদের বাজারে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিড়ে যেতে চায় না। এসব জায়গায় যেতে সে লজ্জা ও ভয় পায়।
৩. রুথি বিভিন্ন ভিড়ের অনুষ্ঠানে যেতে না চাওয়ার কারণ-
ক. ঝামেলা মনে করা
খ. খারাপ স্পর্শ
গ. ভিড় অপছন্দ করা
ঘ. পরিচিত সঙ্গ পরিহার করা

৪. উক্ত পরিস্থিতিতে রুথির করণীয়-
i. নিকট জনের সাথে আলোচনা করা
ii. নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
iii. চুপচাপ হয়ে যাওয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. হাসি-খুশি নীলা হঠাৎ করে কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছে। সব সময়ে ঘরে থাকে কারো সাথে বেশি কথা বলে না। খাবারেও তেমন আগ্রহ নেই। নীলার এ অবস্থা দেখে মা মেয়ের সাথে খোলামেলা কথা বলার চেষ্টা করেন। নীলার মা নীলাকে তার শারীরিক অবস্থা বুঝাতে গেলে নীলা প্রথমে সংকোচ বোধ করলেও ধীরে ধীরে মায়ের সাথে স্বাভাবিক হয়ে আসে।
ক. কখন দেহের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত খাদ্য শক্তির প্রয়োজন হয়?
খ. পুষ্টিমানসম্পন্ন পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে পুষ্টিহীনতা হয়- বুঝিয়ে বলো।
গ. নীলার আচরণিক পরিবর্তনের কারণ- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. নীলার মায়ের ভূমিকা নীলাকে স্বাভাবিক আচরণে অভ্যস্ত করবে- বক্তব্যটির সপক্ষে যুক্তি দাও।

২.কুদ্দুস মিয়া রসুলপুর গ্রামের অসহায় ও অর্থহীন বিনু ও মিনুকে ভালো বেতনে চাকরি দিবেন বলে বিদেশে পাঠান। পরবর্তীতে ১২-১৪ বছরের শান্তা ও শিমুকে বিদেশে চাকরি দিবেন বলে তার সাথে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বুঝাতে থাকে। একদিন শান্তা পেপারে দেখতে পায় বিনু ও মিনুর ছবি- বেআইনিভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সে কুদ্দুসের কাছে চাকরির কাগজপত্র দেখতে চায় এবং পরিবারকে বিষয়টি জানায়।
ক. সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য কী দরকার?
খ. কৈশোরে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা কী বুঝিয়ে লেখো।
গ. কোন ধরনের জ্ঞানের অভাবে বিনু ও মিনুর এ অবস্থা- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. শান্তা ও শিমুর সিদ্ধান্তটি কতখানি যৌক্তিক- বিশ্লেষণ করো।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...