জলজ পরিবেশের পারিপার্শ্বিক চাপ, রোগজীবাণু এবং চিংড়ির দেহের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফলে রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে। সে জন্য চিংড়ির রোগাক্রান্ত হওয়ার পিছনে একাধিক কারণ বা নিয়ামক কাজ করে। এখন পর্যন্ত যেসব কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- পানির ভৌত-রাসায়নিক গুণাগুণের অবনতি (পানির তাপমাত্রা, পঁচা জৈব পদার্থ, পিএইচ, দ্রবীভূত অক্সিজেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড ইত্যাদি),
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ও খাদ্য প্রয়োগ
- বাইরে থেকে ময়লা ও দূষিত পানির প্রবেশ, গলদা চিংড়ি চাষে অধিক মজুদ ঘনত্ব,
- প্রয়োজনীয় ও সুষম পুষ্টির অভাব,
- জুভেনাইল পরিবহনে ত্রুটিপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা ও হ্যালিং, এবং
- পরজীবী ও রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর সংক্রমণ।
চিংড়ির স্বাস্থ্যের ওপর জলীয় পরিবেশের গুণাগুণের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির ভৌত-রাসায়নিক গুণাগুণ চিংড়ির জন্য যত বেশি স্বাচ্ছন্দ্য হবে জলজ প্রাণী হিসেবে চিংড়ির জীবনধারণ তত বেশি পীড়নমুক্ত হবে। কারণ পরিবেশগত পীড়ন চিংড়িকে অধিকতর সংবেদনশীল করে তালে। পুকুরের জলীয় পরিবেশ খারাপ হলে মাছ ও চিংড়ি দ্রুত মারা যায় । সে তুলনায় অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী প্রাণী বা পুষ্টির অভাবজনিত কারণে চিংড়ির মড়ক হতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় ।
নিচের প্রবাহ চিত্রের মাধ্যমে চিংড়ি রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা যায়।
চিত্র-৪.১: রোগাক্রান্ত চিংড়ি
চিংড়ির স্বাস্থ্য রক্ষার উপযোগী পানির ভৌত-রাসায়নিক গুণাগুণ নিচের সারণিতে দেয়া হলোঃ
| ভৌত-রাসায়নিক গুণাগুণ | সহনশীল মাত্রা |
|---|---|
| তাপমাত্রা | ২৫-৩১° সে |
| স্বচ্ছতা | ২৫-৩৫ সেমি |
| পিএইচ | ৭.৯ |
| নাইট্রাইট | <০.০০২ পিপিএম |
| হাইড্রোজেন সালফাইড | <০.১ পিপিএম |
| ম্যাগনেসিয়াম | ১০-১২ পিপিএম |
| খরতা | ৪০-২০০ পিপিএম |
| লবণাক্ততা | ৩-৪ পিপিটি |
| দ্রবীভূত অক্সিজেন | ৫-৭ পিপিএম |
| মুক্ত অ্যামোনিয়া | ০.০২৫ পিপিএম |
| নাইট্রেট | ২০ পিপিএম |
| ক্যালসিয়াম | ১০-১২ পিপিএম |
| লৌহ | ০.০২ পিপিএম |
| ফসফরাস | ০.১৫ পিপিএম |
পানির উপরোক্ত ভৌত-রাসায়নিক গুণাগুণের পরিবর্তন হলেই চিংড়ির স্বাস্থ্য রক্ষাকারী পরিবেশ বিনষ্ট হয় এবং পরিবেশগত পীড়নের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মাছের রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু বৃদ্ধির আশঙ্কা বেড়ে যায়। এজন্য চিংড়ি চাষের সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে চিংড়ির জন্য অনুকূল পরিবেশ রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
Read more