পোশাকের যত্ন ও সংরক্ষণ (চতুর্দশ অধ্যায়)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - গার্হস্থ্যবিজ্ঞান - ঘ বিভাগ- বস্ত্র ও পরিচ্ছদ | NCTB BOOK
625
Please, contribute by adding content to পোশাকের যত্ন ও সংরক্ষণ.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

দরিদ্র সহপাঠী রানা অসুস্থতার কারণে বেশ কয়েকদিন যাবত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। বন্ধু জয় তার অন্যান্য সহপাঠীদের সহযোগিতায় রানার চিকিৎসার খরচ যোগাড় করে।

সকলের ভালোবাসা পাওয়ার জন্যে
খ্যাতি অর্জনের জন্যে
নিজেকে আকর্ষণীয় করার জন্যে
উদারতা দেখানোর জন্যে
অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

জেবা আলমারিতে তুলে রাখার জন্য তার সুতি শাড়িগুলো ধুয়ে মাড় না দিয়ে। হালকা ভেজা থাকতেই ইস্ত্রি করল।

বিদ্যুৎ খরচ বাঁচাতে
কাপড়ের আকৃতি ঠিক রাখতে
কাপড়ের গরম ভাব দূর করতেও
তন্তু নরম রাখতে

পোশাকের যত্ন (পাঠ ১)

497

সভ্য সমাজে আমরা সবাই পোশাক পরিধান করি। কিন্তু সঠিক উপায়ে সবাই পোশাকের যত্ন নিতে পারে না। তোমরা কি নিজেদের পোশাকের যত্ন নাও? কীভাবে পোশাকের যত্ন নেওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর?
পোশাক পরিধানে ময়লা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ময়লা পোশাকটি সঠিক নিয়মে ধুয়ে, যথাযথ উপায়ে ভাঁজ করে, নির্দিষ্ট জায়গায় তুলে রাখাই হচ্ছে পোশাকের যত্ন। আবার সব সময় যে পোশাক পরিধান করলেই ময়লা হবে বা ধুতে হবে, এ ধারণা ঠিক নয়। এক্ষেত্রে ব্যবহারের পর অযথা ফেলে না রেখে যথাযথ উপায়ে ভাঁজ করে, নির্দিষ্ট জায়গায় তুলে রাখতে হবে। ব্যবহার করার ফলে যদি পোশাকটি ছিড়ে যায় বা পোশাকটিতে যদি দাগ লেগে যায়, তাহলে সেই ত্রুটি দূর করাও পোশাকের যত্নের অন্তর্ভুক্ত হবে।
পোশাক-পরিচ্ছদ কতটুকু সুন্দর দেখাবে এবং কতদিন টিকে থাকবে তা তোমার উপরই নির্ভর করবে। তুমি যদি তোমার পোশাক অযত্নে রাখো, তাহলে অনেক সময় দামি পোশাকও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যাবে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হবে। পোশাকের যত্নকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১. পোশাকের দৈনিক যত্ন- প্রতিদিন পোশাকের যে যত্ন নিতে হয় তাই হচ্ছে পোশাকের দৈনিক যত্ন। তোমরা প্রতিদিন যে পোশাক পরিধান কর তা গোসলের সময় সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে এবং বাইরের ব্যবহৃত পোশাকগুলো ধোওয়ার প্রয়োজন না থাকলে রোদে শুকিয়ে যথাযথ স্থানে তুলে রাখতে পার। নতুবা প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে পাবে না।

কাজ-১ তুমি কীভাবে পোশাকের দৈনিক যত্ন নিবে- ধারাবাহিকভাবে শ্রেণিতে উপস্থাপন করো।

২. পোশাকের সাপ্তাহিক যত্ন- সপ্তাহের ছুটির দিনটিতে বোতাম লাগানোর প্রয়োজন থাকলে বোতাম লাগাবে, পোশাক ছেঁড়া থাকলে মেরামত করবে এবং নিজের পোশাক নিজে ধুয়ে ইস্ত্রি করে রাখবে। জুতা, ব্যাগ ইত্যাদি এই দিনেই পরিষ্কার করতে পার। পোশাকের সাপ্তাহিক যত্ন সংক্রান্ত কাজের সময় বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা রাখলে ভালো হয়। যেমন- গান শুনতে শুনতে এ কাজগুলো করলে কাজে ক্লান্তি আসবে না। পোশাকের সাপ্তাহিক যত্ন নিলে পরবর্তী সপ্তাহের পোশাকের জন্য তোমার কোনো চিন্তা থাকবে না।

৩. মৌসুমি যত্ন- আমাদের দেশ ষড় ঋতুর দেশ হলেও তিনটি ঋতুতে পোশাকের যে যত্ন নিতে হয় তাকেই মৌসুমি যত্ন বলে। তোমার পোশাকের মৌসুমি যত্ন তুমি নিজেই নিতে পারবে। এক্ষেত্রে গ্রীষ্মের শেষে পাতলা সুতির পোশাকগুলো ধুয়ে ইস্ত্রি করে নির্ধারিত জায়গায় তুলে রাখবে। বর্ষার শেষে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকগুলো ধুয়ে যথাযথ জায়গায় ভাঁজ করে রাখলেই হয়, ইস্ত্রি করার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে শীতের শেষে পশমি সোয়েটার, জ্যাকেট, মোজা, মাফলার, টুপি ইত্যাদি পোশাক ধুয়ে অথবা ধোওয়ার প্রয়োজন না থাকলে রোদে শুকিয়ে আলগা ময়লা অপসারণ করে ভাঁজ করে উঠিয়ে রাখতে হয়। এতে করে পরবর্তী বছর পুনরায় নতুন করে পোশাক কিনতে হয় না এবং প্রয়োজনের সময় সব কিছু হাতের কাছে পাওয়া যায়।

কাজ- ২ তোমার এক বন্ধু প্রায়ই ক্লাসে নোংরা পোশাক পরিধান করে আসে। কোনো কোনো সমর তার পোশাকে বোতাম, জিপার ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। তুমি এক্ষেত্রে তাকে কী পরামর্শ দিবে?
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

নিজ স্বার্থ রক্ষা করে
অন্যের উপকার করে
ভালোভাবে লেখাপড়ার মাধ্যমে
ঘরের কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে
চরিত্রকে উন্নত করে
আর্থিক অবস্থা উন্নত করে
স্বাবলম্বী করে
বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়ায়

পোশাক সংরক্ষণ (পাঠ ২)

685

পূর্বের পাঠে তোমরা পোশাকের যত্নের প্রয়োজনীয়তা ও যত্ন নেওয়ার উপায় সম্পর্কে জেনেছ। পোশাকের যত্নের অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হচ্ছে পোশাক সংরক্ষণ। অব্যবহৃত জামা কাপড় উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখলে পোকামাকড়, ধুলাবালি ও জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু পোশাক একটি ব্যয়বহুল সামগ্রী, তাই যথাযথভাবে এগুলো সংরক্ষণ না করলে পোশাকের আয়ু কমে যায় এবং অর্থেরও অপচয় ঘটে। তাই পোশাক যেন সুন্দর ও পরিপাটি রাখা যায় সেজন্য তোমাকে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখতে হবে-
১. পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার করে ধোওয়া ও ভালোভাবে শুকানোর পর সংরক্ষণ করতে হবে। ধোওয়ার সময় পোশাকটি কোন তন্তুর তৈরি তা খেয়াল রাখতে হবে। কারণ একেক তন্তুর বস্ত্র ধোওয়ার পদ্ধতি একেক রকম। যেমন-
ক) সুতি ও লিনেন বস্ত্রের পোশাক একসাথে ধোওয়া যেতে পারে। পরিষ্কার করার জন্য সাবান, সোডা, রিঠার পানি, ক্লোরিন, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। উন্নতমানের সুতি, লিনেন বস্ত্রের পোশাকের ক্ষেত্রে মৃদু গুঁড়া সাবান ব্যবহার করতে হবে। সাদা কাপড়কে আরো ধবধবে করার জন্য নীল দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে এরূপ বস্ত্রে মাড় দেওয়া যায়। এ ধরনের বস্ত্রে গরম পানি ব্যবহার করলেও ক্ষতি নেই। রোদে শুকালে ভালো হয়। তবে রঙিন বস্ত্র ছায়ায় শুকানো উচিত।
খ) রেশমি পোশাক হালকা গরম পানির সাথে মৃদু সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুতে হয়। এরূপ বস্ত্রাদির পোশাক খুব চাপ দিয়ে ধোওয়া উচিত না। আলতোভাবে ধুয়ে ছায়ায় শুকাতে দিতে হয়। পশমি বস্ত্রেও হালকা গরম পানির সাথে মৃদু সাবান ব্যবহার করতে হয়। তবে শুকানোর সময় হ্যাঙ্গারে না ঝুলিয়ে সমতলে বিছাতে হয়। নতুবা এদের আকৃতি পরিবর্তন হয়ে যাবে। রেশমি ও পশমি বস্ত্রের পোশাক কখনও মোচড় দিয়ে নিংড়ানো যাবে না।

২. সুতি ও লিনেন বস্ত্রাদির পোশাক দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করতে হলে মাড় দিবে না, এতে করে পোকামাকড়ের উপদ্রব হতে পারে।
৩. সিল্ক কাপড়ের পোশাক ধুয়ে ইস্ত্রি করে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখতে হয়। ইস্ত্রি করার সময় তোমাকে বিশেষ কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। যেমন-
ক) সুতি ও লিনেন বস্ত্রাদির পোশাক হালকা ভেজা থাকতে ইস্ত্রি করতে হয়। কাপড়টি যদি শুকিয়ে যায় তাহলে পানির ছিটা দিয়ে তন্তু নরম করে নিতে হয়।
খ) রেশমি-পশমি বস্ত্রের উপর পাতলা একটি ভেজা কাপড় রেখে হালকা চাপ ও তাপে ইস্ত্রি করতে হবে।

গ) যেকোনো পোশাকই ইস্ত্রি করার সময় তোমাদের ভাঁজের কৌশলের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ হাতার ভাঁজ বা পোশাকের চূড়ান্ত ভাঁজ যদি সঠিক না হয় তাহলে সম্পূর্ণ পোশাকটির সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে।

ঘ) ইস্ত্রি করার পর সাথে সাথে আলমারিতে সংরক্ষণ না করে বাতাসে কিছুক্ষণ উন্মুক্ত অবস্থায় রাখতে হবে। নতুবা তিলা পরার আশঙ্কা থাকে।
8. পশমি বস্ত্রের পোশাক ধোওয়ার প্রয়োজন না থাকলে রোদে শুকিয়ে ভাঁজ করে রাখতে হয়।
৫. পোশাক সংরক্ষণের স্থানটিতে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে স্থানে রাখলে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৬. সংরক্ষণের আগে সংরক্ষণের স্থানটি ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করে কীটনাশক দিয়ে স্প্রে করে নিলে ভালো হয়।
৭. দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করতে হলে কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথলিন, কালিজিরা, মথবল, শুকনো নিমপাতা ইত্যাদি দিতে হবে।
৮. বর্ষা ঋতুর আগে ও পরে সংরক্ষিত কাপড়গুলো রোদে ভালো করে মেলে শুকিয়ে নিলে অনেকদিন যাবত কাপড় ভালো থাকে।

কাজ-১ মৌসুম অনুযায়ী কোন তন্তুর পোশাক কিভাবে সংরক্ষণ করবে তার উপর ভিত্তি করে একটি চার্ট দলগতভাবে উপস্থাপন করো।
কাজ-২ শ্রেণিকক্ষে ইস্ত্রির ভাজ করার কৌশল উপস্থাপন করো।
Content added By

অনুশীলনী

146

১. পোশাকের যত্নকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
ক. এক
খ. দুই
গ. তিন
ঘ. চার

২. কোন ধরনের তন্তুর পোশাকগুলো একসাথে ধোওয়া যায়?
ক. সুতি ও লিনেন
খ. লিনেন ও রেশমি
গ. সুতি ও পশমি
ঘ. রেশমি ও পশমি

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
জেবা আলমারিতে তুলে রাখার জন্য তার সুতি শাড়িগুলো ধুয়ে মাড় না দিয়ে হালকা ভেজা থাকতেই ইস্ত্রি করল।
৩. জেবা হালকা ভেজা থাকতেই শাড়িগুলো ইস্ত্রি করল কেন?
ক. বিদ্যুৎ খরচ বাঁচাতে
খ. কাপড়ের আকৃতি ঠিক রাখতে
গ. তন্তু নরম রাখতে
ঘ. কাপড়ের গরম ভাব দূর করতে

৪. জেবা শাড়িতে মাড় না দেওয়ার কারণ-
i. দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা
ii. পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা
iii. সময় বাঁচানো
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. লাবণ্য শীতের শেষে তার সোয়েটার জ্যাকেট মোজা মাফলার ধুয়ে শুকিয়ে আলমারিতে তুলে রাখল। একদিন বেড়াতে যাওয়ার জন্য তার সিল্কের জামাটি আলমারি থেকে বের করে দেখল জামাটি পোকায় কেটেছে।
ক. রঙিন পোশাক কোথায় শুকানো উচিত?
খ. পোশাকের যত্ন বলতে কী বোঝায়?
গ. লাবণ্য তার শীতের পোশাকগুলোর কোন ধরনের যত্ন নিল? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবেই লাবণ্যর জামাটি নষ্ট হয়েছে। বুঝিয়ে লেখো।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...