রাষ্ট্র

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - পৌরনীতি ও নাগরিকতা - পৌরনীতি ও নাগরিকতা | NCTB BOOK
7.3k
Summary

রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যা প্রায় ২০০টি রাষ্ট্রে বিভক্ত এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনসংখ্যা, সরকার এবং সার্বভৌমত্ব রয়েছে। অধ্যাপক গার্নারের মতে, রাষ্ট্র একটি জনগণের সমষ্টি, যা স্থায়ীভাবে একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করে এবং একটি সুসংগঠিত সরকারের প্রতি আনুগত্যশীল। রাষ্ট্রের চারটি প্রাথমিক উপাদান হলো:

  1. জনসমষ্টি: জনসমষ্টি রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান; তবে এটি নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়। রাষ্ট্রের জনসংখ্যা সম্পদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
  2. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড: রাষ্ট্রের জন্য স্থলভাগ, জলভাগ ও আকাশসীমার একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড আবশ্যক। ভূখণ্ডের আকার বিভিন্ন হতে পারে।
  3. সরকার: সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। এটি আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কার্যাবলি পরিচালনা করে।
  4. সার্বভৌমত্ব: রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা, যা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সার্বভৌমত্বের মাধ্যমে বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি দেয় এবং অভ্যন্তরে কর্তৃত্ব স্থাপন করে।

রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান । বিশ্বের সকল মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে । আমাদের এই পৃথিবীতে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২০০ টি রাষ্ট্র আছে । প্রতিটি রাষ্ট্রেরই আছে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড এবং জনসংখ্যা । এ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আরও আছে সরকার এবং সার্বভৌমত্ব। মূলত এগুলো ছাড়া কোনো রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না । অধ্যাপক গার্নার বলেন, 'সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে ।' এ সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের চারটি উপাদান পাওয়া যায়। যথা- ১। জনসমষ্টি, ২। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, ৩। সরকার ও ৪। সার্বভৌমত্ব ।

১. জনসমষ্টি : রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য উপাদান জনসমষ্টি । কোনো ভূখণ্ডে একটি জনগোষ্ঠী স্থায়ীভাবে বসবাস করলেই রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে । তবে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য কী পরিমাণ জনসমষ্টি প্রয়োজন, এর কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই । যেমন- বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি (২০১১), ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১২১ কোটি (২০১১), ব্রুনাইয়ে প্রায় চার লক্ষ (২০১৫)। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, একটি রাষ্ট্রের সম্পদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জনসংখ্যা থাকা বাঞ্ছনীয় ।

২. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড : রাষ্ট্র গঠনের জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ড আবশ্যক । ভূখণ্ড বলতে একটি রাষ্ট্রের স্থলভাগ, জলভাগ ও আকাশসীমাকে বোঝায় । রাষ্ট্রের ভূখণ্ড ছোট বা বড় হতে পারে। যেমন- বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থল সীমানা চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই দু'দেশের মধ্যে পারস্পরিক ছিটমহল বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশের মোট ভূখন্ডে ১০,০৫০.৬১ একর জমি যোগ হয়েছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে আন্তর্জাতিক আদালতে সমুদ্রসীমা মামলার রায় বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার আয়তন ১৯,৪৬৭ বর্গ কি.মি. বৃদ্ধি পেয়েছে । বর্তমানে ১,১৮,৮১৩ বর্গ কি.মি. সমুদ্র অঞ্চলে বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণচীন, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা প্রভৃতি রাষ্ট্রের আয়তন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বড় ।

৩. সরকার : রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরকার । সরকার ছাড়া রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সরকার গঠিত হয় তিনটি বিভাগ নিয়ে । যথা- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। সকল রাষ্ট্রের সরকারের গঠন একই রকম হলেও রাষ্ট্রভেদে সরকারের রূপ ভিন্ন ভিন্ন । যেমন- বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার, আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। রাষ্ট্রের যাবতীয় শাসনকাজ সরকারই পরিচালনা করে থাকে ।

৪. সার্বভৌমত্ব : সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা। এর দু'টি দিক রয়েছে, যথা- অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব। অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের সাহায্যে রাষ্ট্র দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশ জারির মাধ্যমে ব্যক্তি ও সংস্থার উপর কর্তৃত্ব করে। অন্যদিকে, বাহ্যিক সার্বভৌমত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...