আমরা সবাই জানি, আমরা যে পোশাক পরিধান করি তা তৈরি হয় বস্ত্র থেকে। আপাতদৃষ্টিতে তোমাদের মনে হতে পারে যে, সুতা থেকে এই বস্ত্র উৎপাদন করা হয়। কথাটি সঠিক হলেও দেখা গিয়েছে যে, এই সুতা আবার তৈরি হয় কতকগুলো ছোট ছোট আঁশ থেকে। অনেক সময় এই ছোট ছোট আঁশ থেকেও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি বস্ত্র উৎপাদন করা হয়। বস্ত্র উৎপাদনে ব্যবহৃত যেসব তন্তুর নাম তোমরা সাধারণত শুনে থাকবে তাদের মধ্যে রয়েছে- তুলা তত্ত্ব, পাট তন্তু, রেশম তত্ত্ব, পশম তত্ত্ব, রেয়ন তত্ত্ব, নাইলন তত্ত্ব ইত্যাদি।

কাজেই তোমরা বলতে পার যে, পোশাক, বস্ত্র বা সুতা তৈরির উপযোগী আঁশগুলোকেই বলা হয় বয়ন তত্ত্ব।

| কাজ- ১ বয়ন তন্তু থেকে বস্ত্র তৈরির পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো লিপিবদ্ধ করে একটি চার্ট তৈরি করো। |
বয়ন তন্তুর গুণাবলীগুলো হচ্ছে-
বয়ন তন্তুর দৈর্ঘ্য প্রন্থের চেয়ে বড় হবে। তন্তু যত সূক্ষ্ম হবে, বস্ত্র ততই মসৃণ ও নমনীয় হবে।
বয়ন তন্তুর পর্যাপ্ত শক্তি থাকতে হবে। কারণ শক্তি না থাকলে এ ধরনের আঁশ দিয়ে সুতা বা বস্ত্র তৈরি করা যাবে না।
সুতা বা বস্ত্র যেহেতু পেঁচিয়ে বা ভাঁজ করে রাখতে হয় তাই বস্ত্রে ব্যবহৃত তত্ত্বকে অবশ্যই নমনীয় হতে হবে। এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই বয়ন তন্তুতে পাক বা মোচড় দিয়ে সুতা তৈরি করা যায়।
ছোট ছোট আঁশগুলোর একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকার প্রবণতা থাকতে হবে।
তন্তুগুলো ভাঁজ করা বা মোচড়ানোর পর আগের অবস্থায় ফিরে আসার ক্ষমতা থাকতে হবে।
বয়ন তন্তুর মধ্যে নিজস্ব উজ্জ্বলতা থাকবে।
আর্দ্রতা শোষণ ক্ষমতা থাকতে হবে।
বয়ন তন্তুকে স্থিতিস্থাপক হতে হবে, অর্থাৎ টানলে বড় হবে, ছেড়ে দিলে আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।
| কাজ- ১ কী কারণে যে কোনো প্রকার আঁশকে আমরা বয়ন তত্ত্ব বলতে পারি না তা উল্লেখ করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রিফা আজ ক্লাসে বয়ন তন্তু সম্পর্কে পড়েছে। বাড়িতে এসে সে কয়েকটি পুরাতন পোশাক নিল। এরপর পোশাকগুলি থেকে তত্ত্ব বের করে তন্তুর বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে দেখল।