আমাদের জীবনে বয়ঃসন্ধিকাল (চতুর্থ অধ্যায়)

শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

896

শিশু জন্মগ্রহণ করলে পরিবারে আনন্দের সাড়া পড়ে যায়। সকলেই শিশুটিকে আদর করতে চায়। মায়ের সযত্ন পরিচর্যায় শিশুটি ধীরে ধীরে বড়ো হতে থাকে। শিশুটি কয়েকটি পর্যায় অতিক্রম করে বড়ো হয়ে ওঠে। প্রথমে যে পর্যায়ে সে বেড়ে ওঠে সেটা হচ্ছে শৈশবকাল। এর ব্যাপ্তি ধরা হয় পাঁচ বছর। ছয় থেকে দশ বছর পর্যন্ত বাল্যকাল এবং দশের পর থেকে আঠারো বছর পর্যন্ত বয়সকে কৈশোর বলে। শৈশব ও যৌবন এ দুইয়ের মাঝে কৈশোর একটি সেতুর মতো কাজ করে। কিশোর ও কিশোরীর জীবনের এই সময়কে বয়ঃসন্ধিকাল বলে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের দিকগুলো ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • শারীরিক, মানসিক ও আচরণিক পরিবর্তনের সময় করণীয় নির্ধারণ করতে পারব।
  • বয়ঃসন্ধিকালে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যের উপযোগিতা বর্ণনা করতে পারব।
  • বয়ঃসন্ধিকালের ঝুঁকি সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • বয়ঃসন্ধিকালে নিরাপদ থাকার উপায় বর্ণনা করতে পারব।
  • ঋতুস্রাবকালীন পালনীয় স্বাস্থ্যবিধিসমূহ মেনে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারব। [ছাত্রীদের জন্য।]
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

আকাশ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। এসময় তার শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন পরিবর্তন হয়।

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

নাসির যষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তার খালার বাড়িতে বেড়াতে গেল। খালা নাসিরকে দেখে অবাক হয়ে বলল, তুমি কত লম্বা ও মোটা হয়ে গেছ। তোমার কণ্ঠস্বরও পাল্টে গেছে। নাসিরের বয়স এখন তের বছর।

বয়ঃসন্ধিকাল প্রতিটি কিশোর ও কিশোরীর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে শরীর ও মনে নানা ধরনের পরিবর্তন হতে শুরু করে এবং যৌবনে এসব পরিবর্তন পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। ছেলেদের ১০ থেকে ১৫ বছর এবং মেয়েদের ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হয়।
বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক পরিবর্তন: বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েদের শারীরিক পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এ সময়ে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হয়।

ছেলেদের পরিবর্তনগুলো নিম্নরূপ

ক. দ্রুত লম্বা হয়ে ওঠা, খ. দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, গ. শরীরে দৃঢ়তা আসা, ঘ. শরীরের গঠন প্রাপ্তবয়স্কদের মতো হয়ে ওঠা, ঙ. দাড়ি-গোঁফ গজাতে থাকা, চ. স্বরভঙ্গ হওয়া ও গলার স্বর মোটা হওয়া, ছ. বুক ও কাঁধ চওড়া হয়ে ওঠা।

মেয়েদের পরিবর্তনগুলো নিম্নরূপ

ক. মেয়েদের ঋতুস্রাব শুরু হওয়া, খ. শরীর ভারী হওয়া, শরীরের বিভিন্ন হাড় মোটা ও দৃঢ় হওয়া ছাড়াও আরও কিছু শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। শারীরিক এসব পরিবর্তন সবার বেলায় একই সময়ে একই রকম নাও হতে পারে।

বয়ঃসন্ধিকালের মানসিক ও আচরণিক পরিবর্তন : বয়সন্ধিকালে শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি যেসব মানসিক ও আচরণিক পরিবর্তন হয় তা হচ্ছে-
মানসিক পরিবর্তন
ক. নিকটজনের মনোযোগ, যত্ন ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়।
খ. আবেগ দ্বারা চালিত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
গ. ছেলেমেয়েদের পরস্পরের প্রতি কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
ঘ. এসময় নানাধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অস্থিরতা কাজ করে।
আচরণিক পরিবর্তন
ক. প্রাপ্তবয়স্কদের মতো আচরণ করে।
খ. নিজের মতামত প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে।
গ. বিভিন্ন আচরণের মাধ্যমে নিজেকে একজন আলাদা ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্ঠা করে।
ঘ. দুঃসাহসিক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের আগ্রহ বাড়ে।

Content added By

বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েদের মধ্যে যেসব শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সাধিত হয় তা হচ্ছে শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রতিটি ছেলেমেয়ের জীবনে বয়ঃসন্ধিকাল আসে। এ সময় শরীর ও মনের অনেক অজানা পরিবর্তনের সূচনা হয়। ছেলেমেয়েদের কাছে তাদের চারপাশের পরিবেশের পরিচিত রূপ বদলে যায়। অনেক সময় কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে তারা নতুন অভিজ্ঞতা লাভের চেষ্টা করে, যার পরিণতি সব সময় ভালো নাও হতে পারে। এছাড়া সঠিক জ্ঞানের অভাবে কখনো কখনো তারা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

ছেলেমেয়েদের এরূপ অবস্থায় বাবা, মা, শিক্ষক, বড়ো বোন বা ভাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁরা ছেলেমেয়েদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল আচরণ করবেন। যাতে ছেলেমেয়েরা সহজে ও মন খুলে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যাবলি সম্পর্কে বাবা, মা ও স্কুলের শিক্ষক ছেলেমেয়েদের আগে থেকে স্পষ্ট ধারণা দেবেন। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বেশি করে নিয়োজিত রাখতে হবে। এছাড়া ছেলেমেয়েদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে মেনে চলতে হবে।

কাজ-২: বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তন সম্পর্কে জানা থাকার সুবিধা এবং জানা না থাকার অসুবিধাগুলো লিখ।
Content added By

শরীর রক্ষা ও বৃদ্ধির জন্য যথাসময়ে সঠিক খাদ্য যথেষ্ট পরিমাণে গ্রহণ করা প্রয়োজন। যেসব খাদ্য শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখে সেসব খাদ্যকে পুষ্টিকর খাদ্য বলে। আর সুষম খাদ্য শরীরে পুষ্টি জোগায়। আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ দ্রব্য ও পানি- এই ৬টি উপাদানসমৃদ্ধ খাবারকে সুষম খাদ্য বলে। খাদ্যের ৬টি উপাদান শরীরের বেসব কাজ করে তা নিম্নরূপ:
১. আমিষজাতীয় খাদ্য দেহগঠন, দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। এই খাদ্য দেহে কর্মশক্তি যোগায় ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ জাতীয় খাদ্যের মধ্যে রয়েছে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, পনির, ডাল, শিম ইত্যাদি।
২. শর্করাজাতীয় খাদ্য দেহের তাপ ও কর্মশক্তি যোগায়। এ জাতীয় খাদ্যের মধ্যে রয়েছে চাল, গম, ভুট্টা, আলু, চিনি, মধু, কলা, আম, আনারস ইত্যাদি।
৩. স্নেহজাতীয় খাদ্য দেহের তাপ ও কর্মশক্তি জোগায়। এ জাতীয় খাদ্যের মধ্যে রয়েছে মাখন, ঘি, চর্বি, সয়াবিন, সরিষার তেল, দুধ, মাছের তেল, নারিকেল তেল ইত্যাদি।

৪. ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য দেহের রোগ প্রতিরোধ করে এবং বিভিন্ন অঙ্গের কাজকে সচল রাখে। এ জাতীয় খাদ্যের মধ্যে রয়েছে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, মাছের তেল, হলুদ ও লাল রংয়ের শাকসবজি, কচুশাক, বিভিন্ন ফল, যকৃত, সবরকমের ডাল ও তৈল বীজ, চাল, আটা ইত্যাদি।

৫. খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য দেহের ক্ষয়রোধ ও অভ্যন্তরীণ গঠনের কাজ করে। এ জাতীয় খাদ্যের মধ্যে রয়েছে আয়োডিনযুক্ত লবণ, দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্য, ছোট মাছ, মাংস, ডিমের কুসুম, ডাল, সবরকমের শাকসবজি, বিভিন্ন রকমের ফল, ডাবের পানি ইত্যাদি।

৬. পানি দেহের গঠনে ভূমিকা এবং দেহকে সচল রাখে। আমাদের দেহে প্রায় ৭০ ভাগ পানি রয়েছে। পানি খাদ্য-দ্রব্য হজমে, রক্ত চলাচলে, দেহকোষে পুষ্টি পরিবহনে সাহায্য করে। দেহের বর্জ্য পদার্থ নিঃসরণে পানির প্রয়োজন হয়।

বিভিন্ন বয়সে সুষম খাদ্যের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন ভিন্ন হয়। বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়েরা দ্রুত বেড়ে ওঠে। এই বয়সে তারা পড়াশোনা, খেলাধুলা, দৌড়- ঝাঁপ প্রভৃতি কিছু না কিছু নিয়ে সবসময়ই মেতে থাকে। এ কারণে তাদের বেশি ক্যালরি বা খাদ্যশক্তির প্রয়োজন হয়।
বয়ঃসন্ধিকালে দ্রুত বর্ধনশীল শরীরের জন্য পুষ্টিমানসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য যথাযথ পরিমাণে গ্রহণ করা দরকার। এ বয়সে ছেলেমেয়েদের প্রচুর আমিষ ও ভিটামিনযুক্ত খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। খাদ্য শরীরে শক্তি যোগায়, ক্ষয়পূরণ ও রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তবে পুষ্টিমান কম এমন খাদ্য গ্রহণ করলে দেহের বৃদ্ধি যেমন ঠিকমতো ঘটবে না, তেমনি মানসিক বিকাশও ব্যাহত হবে। আবার যদি শারীরিক পরিশ্রম না করা হয় এবং শর্করা ও চর্বিজাতীয় খাদ্য বেশি খাওয়া হয় তাহলে স্থূলতা দেখা দিতে পারে। শরীর হালকা-পাতলা রাখার জন্য যদি কম খাবার গ্রহণ করা হয় তাহলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বয়ঃসন্ধিকালের সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস যেমন গড়ে তোলা উচিত, তেমনি সঠিক পরিমাণ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার গ্রহণ করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

কাজ-১:
বামপাশের কলামে খাদ্যের নাম ও ডানপাশের কলামে এলোমেলোভাবে সাজানো উত্তরের মধ্যে সঠিক উত্তরটির সাথে তীর চিহ্ন এঁকে মেলাও।

খাদ্যপ্রধানত দেহের যে কাজে লাগে
১. চাল
২. রঙিন শাক-সবজি
৩. সব রকমের ফল
৪. আয়োডিনযুক্ত লবণ
৫. কচু শাক
৬. মাংস ও ডিম
৭. পানি
৮. মাখন
৯. সব রকমের

-রোগ প্রতিরোধ করে।
-দেহের খনিজ পদার্থের চাহিদা পূরণ করে।

-রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।

-দেহের গঠন ও বৃদ্ধি সাধন করে।

-রক্ত চলাচলে সাহায্য করে।
-রোগ প্রতিরোধ করে।

-দেহের ক্ষয়পূরণ করে।

-দেহের গঠন ও বৃদ্ধি সাধন করে।

-তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।

কাজ-৩:
তোমাদের এলাকায় যেসব খাদ্য স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায় সেসব খাদ্যের নাম দিয়ে একটি সুষম খাদ্য তালিকা তৈরি করো। (সুষম খাদ্য তালিকায় সকাল, দুপুর, বিকেল ও রাতে খাওয়া হবে এমন খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।)

Content added By

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. মধু কোন জাতীয় খাদ্য?
ক. আমিষ
খ. শর্করা
গ. স্নেহ
ঘ. ভিটামিন

২. বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়েদের কী পরিবর্তন হয়?
ক. শারীরিক ও আর্থিক
খ. শারীরিক ও মানসিক
গ. আর্থিক ও সামাজিক
ঘ. সামাজিক ও মানসিক

৩. আমিষ জাতীয় খাদ্যের কাজ হলো-
i. শরীরের ক্ষয়পূরণ
ii. দেহের কর্ম শক্তি যোগান
iii. শরীরের বৃদ্ধি সাধন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
গ. ii ও iii
খ. i ও iii
ঘ. i, ii ও iii

৪. বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের পরিবর্তনগুলো হলো-
i. শরীরের গঠন প্রাপ্ত বয়স্কদের মতো
ii. স্বর ভঙ্গ হওয়া
iii. শরীরের হাড় মোটা হওয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

৫. বয়ঃসন্ধিকালের পূর্ণতা আসে কখন?
ক. বাল্যকালে
খ. যৌবনকালে
গ. শৈশবকালে
ঘ. বৃদ্ধকালে

৬. কোনটি বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন?
ক. আবেগ
খ. স্বরভঙ্গ হওয়া
গ. শরীর ভারী হওয়া
ঘ. হাড় মোটা ও দৃঢ় হওয়া

৭. বয়ঃসন্ধিকালের আচরণিক পরিবর্তন কোনটি?
ক. প্রাপ্তবয়স্কদের মতো আচরণ করা
খ. আবেগ দ্বারা চালিত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে
গ. ছেলেমেয়ের পরস্পরের প্রতি কৌতূহল সৃষ্টি হয়
ঘ. নানা ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অস্থিরতা কাজ করে

নিচের উদ্দীপকটি দেখে ৮ ও ৯ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।

৮. উদ্দীপকে রিফার সুষম খাদ্য তালিকায় কোনটি অনুপস্থিত রয়েছে?
ক. আমিষ
খ. স্নেহ
গ. শর্করা
ঘ. খনিজ

৯. তালিকায় খাদ্যটির অনুপস্থিতির অভাবে রিফার-
i. দেহ গঠন, বৃদ্ধিসাধন দেরিতে ঘটবে
ii. শরীরের তাপ ও কর্মশক্তি হ্রাস পাবে
iii. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...