স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং (দ্বিতীয় অধ্যায়)

শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

2k

স্কাউটিং ও গার্ল গাইড বিশ্বব্যাপী একটি সমাজ সেবামূলক যুবআন্দোলন। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই স্কাউটিং ও গার্ল গাইডের কার্যক্রম রয়েছে। সুস্বাস্থ্য অর্জন, চরিত্র গঠন ও মানসিক গুণাবলির বিকাশ সাধনের মাধ্যমে বালক-বালিকাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্কাউটিং ও গার্ল গাইড আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে স্কাউটিং ও গার্ল গাইড কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সবার সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এ অধ্যায় শেষে আমরা

  • স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং এর ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং এর মূলনীতি ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং এর মাধ্যমে সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে উদ্বুদ্ধ হব।
  • প্রাথমিক প্রতিবিধান/চিকিৎসার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

সীমা রান্না করতে গিয়ে হাত পুড়ে ফেলেছে। তার বোন পোড়া স্থান চিহ্নিত করে ঠান্ডা পানি ঢালে এবং মলম লাগায়।

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

সাকিব একজন স্কাউট। সে নির্দিষ্ট পোশাক পড়ে স্কাউটিং এ অংশ নেয়।

বাম বুক পকেটে ঢাকনার লাইনের উপর
বাম বুক পকেটে ঢাকনার লাইনের নিচে
ডান বুক পকেটে ঢাকনার লাইনের উপরে
ডান বুক পকেটের ঢাকনার লাইনের নিচে

স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং একটি অরাজনৈতিক সেবামূলক সংগঠন। বিশ্বব্যাপী এর পরিচিতি রয়েছে। বালকদের স্কাউট এবং বালিকাদের গাইড বলা হয়। রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল স্কাউটিং ও গাইড আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি জাতিতে ইংরেজ ও পেশায় সৈনিক ছিলেন। ১৮৫৭ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি তারিখে তিনি ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। স্কাউটিং ও গাইড পদ্ধতিতে বালক-বালিকাদের নৈতিক চরিত্র গঠনে এর কার্যকর ভূমিকায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কাউটিং ও গার্ল গাইড আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। গাইড আন্দোলনের জন্য তিনি তার বোন এগনেস ব্যাডেন পাওয়েল ও তার স্ত্রী অলিভ ব্যাডেন পাওয়েলকে দায়িত্ব প্রদান করেন। তাঁরা গাইড আন্দোলনকে সাফল্যজনকভাবে পরিচালিত করে সর্বত্র এর প্রসার ঘটান। বাংলাদেশে স্কাউটিং ও গার্ল গাইড কর্মসূচি চালু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরপর ১৯৭২ সালে। এসব কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফলে দেশের বালক-বালিকাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের উন্মেষ ও উন্নয়ন ঘটানো এবং তাদেরকে সমাজ-সচেতন দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করছে।

স্কাউট ও গার্ল গাইডগণ জনসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে। স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে শ্লোগান প্রচার করা হয়। এই শ্লোগান হচ্ছে:-
'প্রতিদিন কারো না কারো উপকার করা।' যেমন:
১। রাস্তা থেকে ইট, পাথর, কাঁটা, কলার খোসা তুলে ফেলা।
২। কারো জিনিস পড়ে গেলে তা তুলে দেওয়া।
৩। অন্ধ ও শিশুকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করা।
৪। রাস্তার কোনো ছোটো গর্ত ভরাট করে দিয়ে লোক চলাচলে সাহায্য করা।
৫। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে নেওয়া।
৬। বন্যায় ত্রাণকাজে সহায়তা করা ইত্যাদি।

কাজ-১: স্কাউটিং ও গার্ল গাইড কর্মসূচি জীবনে কেন প্রয়োজন? বর্ণনা কর।
কাজ-২: সেবামূলক কাজ কী কী তার তালিকা তৈরি করে পোস্টার আকারে উপস্থাপন কর।
Content added By

স্কাউট ও গার্ল গাইডের সদস্য ব্যাজ পেতে হলে এ বিষয়ের মূলনীতি ও প্রতিজ্ঞা জানতে ও বুঝতে হয়। মূলমন্ত্র, চিহ্ন, সালাম এগুলো স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং এর সাধারণ বিষয়।
মূলনীতি :- স্কাউট আন্দোলন তিনটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যথা:
১। স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য পালন।
২। অপরের প্রতি কর্তব্য পালন।
৩। নিজের প্রতি কর্তব্য পালন।
স্কাউটের প্রতিজ্ঞা: প্রত্যেক স্কাউটকে স্কাউট হিসেবে দীক্ষা নেয়ার সময় একটি প্রতিজ্ঞা নিতে হয়।
প্রতিজ্ঞাটি হলো-

১। আল্লাহ ও দেশের প্রতি কর্তব্য পালন।
২। প্রতিদিন কারো না কারো উপকার করা।
৩। স্কাউট নীতিমালা মেনে চলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা।

স্কাউটিং এর আইন: স্কাউটিং আইন সুনাগরিক হওয়ার ভিত্তি তৈরি করে। স্কাউটিং আইন অনুসরণে একটি বিস্তারিত নীতিমালা রয়েছে যা একজন স্কাউটকে অবশ্যই মেনে চলতে হয়। স্কাউটিংয়ের সাতটি আইনের প্রতিটির আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। যেমন-
১। স্কাউট আত্মমর্যাদায় বিশ্বাসী। স্কাউট কখনোই তার আত্মমর্যাদা ভঙ্গ করে না।
২। স্কাউট সকলের বন্ধু। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে স্কাউট সকলকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে।
৩। স্কাউট বিনয়ী ও অনুগত। সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে সর্বদাই স্কাউটরা একে অপরকে সাহায্য ও বিনয় প্রদর্শন করে।
৪। স্কাউট জীবের প্রতি সদয়। একজন স্কাউট সাধ্যমতো প্রাণীদের কষ্ট লাঘব ও যন্ত্রণা হতে রক্ষা করবে।
৫। স্কাউট সদা প্রফুল্ল। স্কাউট সকল কাজকর্ম হাসিমুখে করে থাকে।
৬। স্কাউট মিতব্যয়ী। একজন স্কাউট কখনোই অপচয় করে না। সে মিতব্যয়িতার সাথে জীবন পরিচালনার অভ্যাস গড়ে তোলে।
৭। স্কাউট চিন্তায়, কথায় ও কাজে নির্মল। স্কাউটরা এমন কোনো কাজ করে না যা অন্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

গার্ল গাইডের প্রতিজ্ঞা: আমি আমার আত্মসম্মানের উপর নির্ভর করিয়া প্রতিজ্ঞা করতেছি যে,
১। স্রষ্টা ও দেশের প্রতি আমি যথাসাধ্য আমার কর্তব্য পালন করিব।
২। সর্বদা পরের উপকার করিব।
৩। গাইডের নিয়মাবলি মানিয়া চলিব।

গার্ল গাইডের নিয়মাবলি: গার্ল গাইডদের জন্য ১০টি নিয়ম রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-
১। গাইডের আত্মমর্যাদা নির্ভরযোগ্য।
২। গাইড বিশ্বস্ত।
৩। গাইডের কর্তব্য নিজে কার্যোপযোগী হওয়া ও অপরকে সাহায্য করা।
81 গাইড সকলের বন্ধু এবং গাইড মাত্রই গাইডের ভগ্নি।
৫। গাইড মাত্রই বিনয়ী।
৬। গাইড জীবের বন্ধু।
৭। গাইড আদেশ পালন করে।
৮। গাইড হাসিমুখে প্রতিকূল অবস্থার মোকাবেলা করে।
৯। গাইড মিতব্যয়ী।
১০। গাইড কথায়, কাজে ও চিন্তায় নির্মল।

স্কাউট ও গার্ল গাইডের মটো বা মূলমন্ত্র: স্কাউট ও গার্ল গাইডের মূলনীতি হলো 'সদা প্রস্তুত'। প্রত্যেক স্কাউট ও গার্ল গাইড অপরের সেবার জন্য বা যেকোনো ভালো কাজ করার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে। 'সদা প্রস্তুত' এর অর্থ হলো যেকোনো প্রয়োজনে অন্যকে সাহায্য করার জন্য সদা প্রস্তুত থাকা। এর ইংরেজি হলো 'Be Prepared' ।

স্কাউট ও গার্ল গাইডের চিহ্ন: ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে কনিষ্ঠ আঙুলকে চেপে ধরে তালুর ওপর এনে মাঝখানের তিনটি আঙ্গুলকে সোজা করে ধরতে হবে। তালু সামনের দিকে রেখে কনুই ভাঁজ করে হাত উপরে ওঠাতে হবে। হাত এমনভাবে রাখতে হবে যেন তালু প্রায় চোখ বরাবর থাকে। এ অবস্থাকে চিহ্ন বলে। চিহ্নের তিনটি আঙুলের মাধ্যমে প্রতিজ্ঞার তিনটি বৈশিষ্ট্য এবং দুই আঙুলের বন্ধনে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের ইঙ্গিত প্রকাশ পায়।

চিহ্নের ব্যবহার

ক) প্রতিজ্ঞা পাঠের সময় চিহ্ন দেখাতে হয়।
খ) সাধারণ পোশাকে একজন গাইড/স্কাউটের সাথে অপর একজন গাইড/স্কাউটের পরিচিত হওয়ার জন্য এ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এ চিহ্ন দেখলেই বোঝা যাবে যে সে একজন স্কাউট বা গার্ল গাইড।

চিহ্নের তাৎপর্য: চিহ্নের একটা বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ডান হাতের কব্জি থেকে হাতের অগ্রভাগ পর্যন্ত অংশকে সোনালি বন্ধন বা Golden tie বলে। হাতের মাঝের তিনটি আঙ্গুল দ্বারা প্রতিজ্ঞার তিনটি অংশকে বোঝায়। বুড়ো আঙ্গুল ও কনিষ্ঠ আঙুলের বন্ধনের ফলে সৃষ্ট বৃত্ত ভ্রাতৃত্ব বন্ধনকে বোঝায়।
সালাম: স্কাউট ও গার্ল গাইডরা তিন আঙুলে সালাম দেয়। ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ভাঁজ করে হাতের তালুর ওপর নিয়ে বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরতে হবে এবং বাকি তিনটি আঙুল একত্র করে সোজা অবস্থায় তর্জনী আঙুলের মাথা ডান চোখের ওপরে কপালের ভ্রুর এক কোণ স্পর্শ করবে। হাতের তালু সামনের দিকে এবং বাহু শরীরের সাথে ৯০° কোণ করে ধরতে হবে। এটি হচ্ছে স্কাউট ও গার্ল গাইডদের সালাম দেওয়ার পদ্ধতি বা নিরম।

করমর্দন: আগে বাংলাদেশের স্কাউট ও গার্ল গাইডদের বাম হাতে করমর্দন করার প্রচলন ছিল। পরবর্তী সমরে দেশের ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে ডান হাতে করমর্দন করার প্রথা চালু হয়েছে। এই প্রথা অনুযারী বাংলাদেশের স্কাউট ডান হাতে করমর্দন বা হ্যান্ডশেক করে। বিশ্বের অনেক দেশে এখনো বাম হাতে করমর্দন করে থাকে। গাইডরা এখনো বাম হাতে করমর্দন করে।

কাজ-১: স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং এর মূলনীতিগুলো খাতায় লিখ।
কাজ-২: স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং এর মূলমন্ত্র বা মটো, চিহ্ন, সালাম কীরূপ তা করে দেখাও? করমর্দন কীভাবে করবে তাও করে দেখাও।
কাজ-৩: স্কাউট ও গার্ল গাইডিং এর প্রতিজ্ঞা ব্যাখ্যা কর। (বাড়ির কাজ)
কাজ-৪: পোস্টার আকারে মূলনীতিগুলো লিখে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন কর।
Content added By

গার্ল গাইডের আট দফা কর্মসূচি রয়েছে। এই আট দফা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে গাইডরা গাইডিং উপভোগ করে ও সর্বক্ষেত্রে নিজেদের যুগোপযোগী করে গড়ে তোলে। গাইডের প্রতিজ্ঞা ও মূলমন্ত্র রক্ষা করতে হলে এসব কর্মসূচি অনুশীলনের মাধ্যমে তারা নিজেকে তৈরি করে নিতে পারে।

আট দফা কর্মসূচি

১। চরিত্র গঠন।
২। নিজেকে জানা।
৩। সৃজনশীল ক্ষমতা অর্জন।
81 পরস্পরকে জানা।
৫। সেবাব্রতে প্রস্তুত থাকা।
৬। গৃহকর্মে দক্ষতা অর্জন।
৭। বাইরের জগৎ থেকে আনন্দ আহরণ।
৮। শারীরিক উপযুক্ততা অর্জন।

এসব কর্মসূচির মাধ্যমে গাইডেরা নিজেদেরকে দেশের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। এগুলো সুমাতা, সুনাগরিক, স্রষ্টার প্রতি ভক্তি এবং অপরের মঙ্গলার্থে নিজের স্বার্থত্যাগের মনোবৃত্তি জাগিয়ে তোলে। স্বাস্থ্যসম্মত ও আনন্দদায়ক কাজকর্মের মাধ্যমে গাইডিং মানসিক গুণাবলির বিকাশ ও চিন্তাশক্তির উৎকর্ষ সাধন করে। গাইডরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এই কর্মসূচি স্বাস্থ্য উন্নয়নে, সমাজসেবায় এবং হস্তশিল্পে নৈপুণ্য অর্জনের জন্য পালিত হয়। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য গাইডদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হয়। গাইডরা ক্যাম্পিং ও হাইকিংয়ের মাধ্যমে চারিত্রিক দৃঢ়তা অর্জন করে এবং যেকোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। গার্ল গাইডরা সমাজসেবামূলক কাজকর্মের দ্বারা দেশের দুর্যোগ যথা- বন্যা, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি জরুরি ভিত্তিতে মোকাবেলা করতে পারে। হস্তশিল্প, বুনন, সবজি বা ফুলের বাগান করা, অতিথি সেবা, রান্না করা ইত্যাদি কর্মসূচিতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাছাড়া স্বাস্থ্য, প্রাথমিক চিকিৎসা, খেলাধুলা, ব্যায়াম ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা গার্ল গাইড কর্মসূচিতে আছে। এই কর্মসূচি তিনটি বিশেষ প্রতিজ্ঞা, দশটি নিয়ামবলির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

একজন গাইডকে সুকন্যা, সুগৃহিণী ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গার্ল গাইড কর্মসূচি প্রণীত হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ গার্ল গাইড অ্যাসোসিয়েশন সারা দেশে এর অঙ্গ শাখাসমূহের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

পোশাক: কাব স্কাউট, স্কাউট, রোভার স্কাউট, ইউনিট লিডার, হলদে পাখি, গাইড, রেঞ্জার এবং অন্যান্য সনদপ্রাপ্ত পদের অধিকারী স্কাউট/গাইড সদস্যগণ স্কাউট পোশাক পরে থাকে। পোশাক পরিধান ও ব্যবহারের মাধ্যমে গাইড/স্কাউটদের পরিচয় পাওয়া যায়। গাইড/স্কাউট পোশাক সঠিক মাপ ও নমুনার হতে হবে। বাংলাদেশ গাইড/স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশনের অনুমোদন ছাড়া ব্যাজ ও ডেকোরেশন পোশাকের ওপর পরা যাবে না।

স্কাউট পোশাক: ছেলে

১) টুপি: নেভি ব্লু রঙের টুপি।
২) শার্ট: ছাই (অ্যাশ) রংয়ের কাঁধে পেটিবিহীন দুই পকেটওয়ালা (ঢাকনাযুক্ত মাঝখানে প্লেটসহ) হাফ বা ফুল-হাতা শার্ট।
৩) প্যান্ট: গাঢ় নেভি ব্লু রংয়ের ফুল প্যান্ট, স্ট্রেট কাট, নিচের মুহরী ৪০ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটারের এর মধ্যে হতে হবে।
৪) বেল্ট: বাংলাদেশ স্কাউটস-এর মনোগ্রামযুক্ত কালো চামড়া বা নেভি ব্লু রঙের কাপড়ের বেল্ট।
৫) জুতা: কালো রঙের জুতা।
৬) মোজা: প্যান্টের সাথে মানানসই মোজা।
৭) স্কার্ফ: নিজ ইউনিটের জন্য থানা স্কাউটস কর্তৃক অনুমোদিত স্কার্ফ।
৮) গ্রুপ পরিচিতি: Oval বা ডিম্বাকৃতির সবুজ পটভূমিতে সাদা রংয়ের লেখা (স্ক্রিন প্রিন্ট/এমব্রয়ডারি করা)। গ্রুপ নম্বরসহ গ্রুপ পরিচিতি ব্যাজের নিচে সেলাই করে পরতে হবে।
৯) দড়ি: এক সেন্টিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট ২.৭৫ মিটার লম্বা সুতা/শন/পাটের দড়ি স্কাউটিং পদ্ধতিতে গোছানো অবস্থায় কোমরে বেল্টের হুকের সাথে ঝুলিয়ে রাখা যাবে।
১০) নামফলক: হালকা নীল রঙের পটভূমিতে গাঢ় নীল রঙের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ লেখা কাপড়ের নিজ নামফলক ডান বুক পকেটে ঢাকনার লাইনের উপর পরতে হবে।
১১) জাতীয় পতাকার রেপলিকা : নামফলকের উপর জাতীয় পতাকার রেপলিকা পরতে হবে।

স্কাউট পোশাক: মেয়ে

) টুপি: নেভি ব্লু রংয়ের পিকযুক্ত টুপি।
২) কামিজ: ছাই (অ্যাশ) রংয়ের লম্বা কামিজ (হাঁটুর ২"-০০ নিচ পর্যন্ত) ও গাঢ় নেভি ব্লু রঙের ওড়না।
৩) পায়জামা : গাঢ় নেভি ব্লু রঙের সালোয়ার/পায়জামা।
৪) বেল্ট : বাংলাদেশ স্কাউটস-এর মনোগ্রামযুক্ত কালো চামড়া বা নেভি ব্লু রঙের কাপড়ের বেল্ট।
৫) জুতা: কালো রঙের জুতা।
৬) মোজা: পায়জামার সাথে মানানসই মোজা।
৭) স্কার্ফ: নিজ ইউনিটের জন্য থানা স্কাউটস কর্তৃক অনুমোদিত স্কার্ফ।
৮) গ্রুপ পরিচিতি: Oval বা ডিম্বাকৃতির সবুজ পটভূমিতে সাদা রঙে লেখা (স্ক্রিন প্রিন্ট/এমব্রয়ডারি) গ্রুপ নম্বরসহ গ্রুপ পরিচিতি ব্যাজ কামিজের উভয় হাতার ওপরের অংশে অঞ্চল পরিচিতি ব্যাজের নিচে সেলাই করে পরতে হবে।
৯) দড়ি: এক সেন্টিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট ২.৭৫ মিটার লম্বা সুতা/শন/পাটের দড়ি স্কাউটিং পদ্ধতিতে গোছানো অবস্থায় কোমরে বেল্টের হুকের সাথে ঝুলিয়ে রাখা যাবে।
১০) নামফলক: হালকা নীল রঙের পটভূমিতে গাঢ় নীল রংয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ লেখা কাপড়ের নিজ নামফলক ডান কাঁধ থেকে সামনের দিকে ১২ সেন্টিমিটার নিচে সেলাই করে পরতে হবে।
১১) জাতীয় পতাকার রেপলিকা : নামফলকের ওপরে জাতীয় পতাকার রেপলিকা পরতে হবে।

গার্ল গাইডের পোশাক


১) কামিজ: সাদা কামিজ অন্তত হাঁটু পর্যন্ত লম্বা, ফুল হাতা, কাঁধের সোল্ডার ফ্ল্যাপ, সার্ট কলার দুইদিকে দু'টি বুক পকেট থাকবে। পকেটটি ত্রিকোনা ঢাকনাসহ হবে।
২) বেল্ট: সাদা
৩) সালোয়ার: সাদা,
8) ওড়না: বটলগ্রিন।
৫) টাই: ত্রিকোণ বটলগ্রিন কাপড়ের,
৬) জুতা: সাদা অথবা কালো বন্ধ জুতা।
৭) মোজা: সাদা
৮) চুলের ফিতা : কালো (দুটি কলা বেণি হবে)।

পোশাকের যত্ন:

১) সব সময় পোশাকের যত্ন নিতে হবে। যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা যাবে না।
২) পোশাক ভাঁজ করে সংরক্ষণ করতে হবে।
৩) পোশাক সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ছিঁড়ে গেলে তাড়াতাড়ি সেলাই করে নিতে হবে। বোতাম খোলা রাখা যাবে না। ঠিকমতো লাগিয়ে রাখতে হবে।
৪) জুতা ময়লা হলে সাথে সাথেই পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজনমতো ব্রাশ করে পরিষ্কার রাখতে হবে।

পোশাকের ব্যবহার

স্কার্ফ : "স্কাউট স্কার্ফ” স্কাউট পোশাকের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কাপড়ের তৈরি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ আকৃতির। এটির বাহুর মাপ সাধারণত ৭৫ সেন্টিমিটার। পরিচয়ভেদে স্কার্ফ নানা রকম হতে পারে। স্কার্ফ কেবল স্কাউট ইউনিফর্মের সাথেই পরা যাবে।

স্কার্ফের উপকারিতা

১) প্রাথমিক প্রতিবিধানে ব্যান্ডেজের কাজে স্কার্ফ ব্যবহার করা যায়।
২) মাথায় টুপি না থাকলে রোদ/বৃষ্টিতে স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকা যায়।
৩) বিপদে পড়লে সংকেত দেখার জন্য নিশান হিসেবে বা কয়েকটি স্কার্ফ একসাথে বেঁধে দড়ির কাজে ব্যবহার করা যায়।

ব্যবহার বিধি: দৈর্ঘ্যের দিক থেকে জড়িয়ে স্কার্ফ তৈরি করে ঘাড়ের সাথে মিলিয়ে পরবে। স্কার্ফ অবশ্যই শার্টের কলারের ওপর পরতে হবে এবং কলারের বোতাম লাগিয়ে নিতে হবে। কোনো ক্রমেই কলারের নিচে টাই আকৃতিতে স্কার্ফ ব্যবহার করা যাবে না।

কাজ-১: স্কাউট ও গার্ল গাইডের কর্মসূচি ও পোশাক সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।
কাজ-২: স্কার্ফ ব্যবহারের উপকারিতা পোস্টার পেপারে উপস্থাপন কর।
নতুন শব্দ:
ক্যাম্পিং - কোনো কর্মসূচি সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় (তাঁবুতে) সম্মিলিতভাবে অবস্থান করাকে ক্যাম্পিং বলে।
হাইকিং - হাইকিং শব্দের অর্থ উদ্দেশ্যমূলক ভ্রমণ। পথ নির্দেশিকা অনুসরণ করে নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে স্কাউট ও গার্ল গাইডদের পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করাকে হাইকিং বুঝায়।
Content added By

সদস্য ব্যাজের জন্য দড়ির ছয়টি গেরো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। দড়ি পাট, শন, নারকেলের ছোবড়া, নাইলন, স্টিল, লোহা, তামা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা যায়। সাধারণত পাট বা শনের পাকানো দড়ি ব্যবহার করা হয়। ছয়টি গেরো নিম্নরূপ:

১) ডাক্তারি গেরো (Reef Knot): দুটি সমান মোটা দড়ির মাথা একটি ডান হাতে ও অপরটি বাম হাতে ধরে ডান হাতের দড়ির মাথার কাছে খানিক অংশ বাম হাতের দড়ির মাথার দিকে পাশাপাশি ধরে একটি প্যাঁচ দিতে হবে। এরপর দড়ির একটি অংশকে সেই অংশের মূল দড়ির পাশে রেখে অপর অংশটি দিয়ে পাশের অংশের সাথে প্যাঁচ দিতে হবে। এবার আস্তে আস্তে টেনে গেরো শক্ত করতে হবে। এভাবে ডাক্তারি গেরো বা রীফ নট বাঁধতে হয়। ডাক্তারি গেরো বা রীফ নট সাধারণত সমান মোটা দুটি দড়ি জোড়া দিতে, প্যাকেট বা ব্যান্ডেজ বাঁধতে ব্যবহার করা হয়।

২) বড়শি গেরো (Clove Hitch): দড়ির চলমান প্রান্ত দিয়ে খুঁটিতে একটি পূর্ণ প্যাঁচ দিতে হবে। এই প্যাঁচ দেওয়ার ফলে দড়ির স্থির অংশ দড়ির চলমান অংশের নিচে অথবা উপরে থাকতে পারে। যদি দড়ির স্থির অংশ চলমান অংশের নিচে থাকে তাহলে দড়ির চলমান অংশ আগের তৈরি প্যাঁচের নিচ দিয়ে খুঁটিতে ঘুরিয়ে এনে দড়ির স্থির অংশের নিচ দিয়ে দ্বিতীয়বার তৈরি প্যাঁচের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে হবে। দড়ির দুই প্রান্তকে টেনে শক্ত করতে হবে। এভাবে বড়শি গেরো (ক্লোভ হিচ) বাঁধতে হয়। সুতার মাথায় বড়শি বাঁধতেও এই গেরো ব্যবহার করা হয়।

কাজ-১: দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এক গ্রুপ ডাক্তারি গেরো ও অপর গ্রুপ বড়শি গেরো করে দেখাও।

৩) পাল গেরো (Sheet Band): একটি মোটা দড়ির এক প্রান্তে লুপ করে বাম হাতে ধরতে হবে। এবার ডান হাতে একটি সরু দড়ির প্রান্তভাগ মোটা লুপের নিচের দিক থেকে উপরে তুলতে হবে। তারপর মোটা দড়ির সাথে প্যাঁচ দিয়ে সরু দড়িটিকে তার নিচের লুপের মূল অংশের নিচে ঢুকিয়ে দিতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে এ সময় সরু দড়ির প্রান্তটি যেন লুপের উপরে থাকে। এরপর সরু দড়ির স্থির অংশকে আস্তে আস্তে টানলে পাল গেরো বা শিট ব্যান্ড তৈরি হয়ে যাবে। মোটা দড়ির সাথে দড়ি বাঁধতে, নৌকার পাল বাঁধতে, পতাকার রশি ও পতাকা দণ্ডের রশি একত্রে বাঁধতে এই গেরো ব্যবহৃত হয়।

৪) জীবনরক্ষা গেরো (Bow Line): দড়ির এক প্রান্তকে ডান হাত দিয়ে ধরে বাম হাতের তালুকে ওপরের দিকে রেখে দড়িকে বাম হাতের তালুর ওপর রাখতে হবে। দড়ির যে অংশে লুপ হবে সে পরিমাণে দড়িকে নিজের শরীরের দিকে টেনে আনতে হবে। শরীরের দিকে দড়ির যে অংশ আছে সেটি দড়ির চলমান অংশ। দড়ির চলমান অংশ দিয়ে হাতের তালুর ওপর এমনভাবে একটি লুপ তৈরি করতে হবে যেন লুপ তৈরির পর দড়ির চলমান অংশ দড়ির স্থির অংশের ওপর দিয়ে থাকে। এভাবে তৈরি লুপকে বাম হাতের মাধ্যমে বুড়ো আঙুল ধরতে হবে। বাম হাতের তর্জনী শরীরের সামনের দিকে বাড়িয়ে দড়ির স্থির অংশকে তর্জনীর উপর রাখতে হবে। এরপর দড়ির চলমান প্রান্তটি লুপের নিচ থেকে উপরের দিকে উঠিয়ে দড়ির চলমান প্রান্তকে দড়ির স্থির অংশের নিচ দিয়ে সরাসরি পুনরায় লুপের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে হবে। এখন লুপের মধ্যে দড়ির চলমান যে দুটি অংশ আছে সে দুটি অংশকে ডান হাতে ধরে দড়ির স্থির অংশ বাম হাতে ধরে টানলে তা হবে জীবনরক্ষা গেরো বা Bow Line। জীবন্ত কোনো লোককে উদ্ধারের জন্য যেমন-উপর থেকে নিচে নামানোর বা নিচ থেকে উপরে তোলার জন্য জীবনরক্ষা গেরো ব্যবহার করা হয়। তেমনি পানিতে ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করার জন্যও এ গেরো ব্যবহৃত হয়।

কাজ-১: পাল গেরো দিয়ে দেখাও।
কাজ-২: জীবনরক্ষা গেরো কখন ব্যবহার করা হয় বর্ণনা কর।

৫) গুঁড়িটানা গেরো (Timber Hitch): দড়ির চলমান প্রান্ত ডান হাতে রেখে চলমান অংশ দিয়ে গাছের গুঁড়ি বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট বস্তুকে একবার প্যাঁচ দিতে হবে। এভাবে হাফ হিচ বা আলগা গেরো দেওয়া শেষ হলে দড়ির চলমান প্রান্ত দিয়ে মূল দড়ির অংশে অন্ততপক্ষে ৫-৭ বার প্যাঁচাতে হবে। এভাবে গুঁড়িটানা গেরো বা টিম্বার হিচ বাঁধতে হয়। কোনো বোঝা বা ভারী গাছের টুকরা টেনে আনার জন্য গুঁড়িটানা গেরো ব্যবহার করতে হয়।

৬) তাঁবু গেরো (Round Turn and Two Half Hitch): দড়ির চলমান অংশ দিয়ে কোনো খুঁটিতে দুইবার প্যাঁচ দিতে হবে। খুঁটিতে দুইবার প্যাঁচ দেয়ার পর দড়ির দুই প্রান্তকে দুই হাতে ধরে চলমান প্রান্ত দিয়ে দড়ির স্থির অংশের অল্প দূরে দূরে দুটি হাফ হিচ বা আলগা গেরো দিতে হবে। এভাবে তাঁবু গেরো বাঁধতে হয়।

কাজ-১: তিন মিটারের দড়ি দিয়ে হাতে-কলমে গেরোগুলো বাঁধার নিয়ম করে দেখাও।
Content added By

প্রাথমিক চিকিৎসা চিকিৎসাশাস্ত্রের একটি অংশ। প্রাথমিক চিকিৎসার স্রষ্টা হলেন ড. ফ্রেডিক এজমার্ক। তিনি ছিলেন একজন জার্মান শল্যচিকিৎসক। তিনিই প্রথম চিন্তা করেন যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে রোগীর অবস্থার অবনতি যাতে না ঘটে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতএব প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে হঠাৎ কোনো দৈব দুর্ঘটনায় ডাক্তার না আসা পর্যন্ত হাতের কাছের জিনিস দিয়ে রোগীকে প্রাথমিকভাবে সাহায্য করা এবং রোগীর অবস্থা যাতে জটিলতর না হয় সেদিকে লক্ষ রেখে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রাথমিক চিকিৎসা বা প্রতিবিধানের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো ফার্স্ট এইড (First Aid)। First অর্থ প্রথম আর Aid অর্থ সাহায্য। সুতরাং First Aid অর্থ প্রথম সাহায্য। কোনো আহত ব্যক্তিকে সবার আগে যে সাহায্য করা হয়, তা-ই প্রাথমিক চিকিৎসা।

প্রাথমিক চিকিৎসাকারীর কাজ: প্রাথমিক চিকিৎসাকারীর কাজ প্রধানত তিনটি। যেমন:
১) রোগনির্ণয়: কী কারণে অসুস্থতার সৃষ্টি হয়েছে তা খুঁজে বের করা। রোগের লক্ষণ, চিহ্ন বা ইতিহাস থেকে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।
২) চিকিৎসা: কতটুকু চিকিৎসার প্রয়োজন তা নির্ণয় করে ডাক্তার আসার আগ পর্যন্ত যাতে রোগীর অবস্থার অবনতি না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩) স্থানান্তর: রোগীকে নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ
১) ড্রেসিং: ক্ষতস্থানকে জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাকে ড্রেসিং বলে।
২) লিন্ট: জীবাণুমুক্ত বা ওষুধযুক্ত একখণ্ড কাপড়ই লিন্ট।
৩) প্যাড: ক্ষতস্থানকে আরাম দেওয়ার জন্য যে গদি ব্যবহার করা হয় তাকে প্যাড বলে।
৪) স্প্রিন্ট: ভাঙা হাড়কে সোজা রাখার জন্য যে চটি ব্যবহার করা হয় তাকে স্প্রিন্ট বলে।
৫) ব্যান্ডেজ : লিন্ট, প্যাড বা স্পিন্ট বথাস্থানে রাখার জন্য ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা হয়।
ব্যান্ডেজ দুই প্রকার: ক) রোলার ব্যান্ডেজ খ) ত্রিকোণ ব্যান্ডেজ।

কাটা: ছুরি, কাঁচি, ব্লেড, দা, বটি প্রভৃতিতে দুর্ঘটনাবশত হাত-পা কেটে যেতে পারে। প্রথমেই আহত ব্যক্তির কোথায় কতটুকু কেটেছে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রাথমিক চিকিৎসা
১) সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে কাটা স্থান পানি দিয়ে ধুয়ে তুলা বা কাপড় দিয়ে মুছতে হবে।
২) ক্ষতের চারপাশ ডেটল বা স্যাভলন বা অন্য কোনো জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
৩) ক্ষতস্থানের জমাট বাঁধা রক্ত সরানো উচিত নয়। সরালে পুনরায় রক্তক্ষরণ হতে পারে।
৪) সামান্য ক্ষত হলে সরাসরি আঙুলের চাপ দিয়ে এবং বড় ধরনের ক্ষত হলে তুলা বা গজ দিয়ে চেপে ধরে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে।

পোড়া: আগুন, গরম পানি, জ্বলন্ত বস্তু ও গরম তরল পদার্থ থেকে দুর্ঘটনাবশত শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে পোড়া জায়গায় ঠান্ডা পানি বা ডিমের সাদা অংশ মাখিয়ে দিতে হবে। কোনো জায়গায় ফোস্কা দেখা দিলে ফোস্কা গলানো উচিত নয়। সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ছড়ে যাওয়া: হাতুড়ি, ইট, পাথর প্রভৃতি ভোঁতা জিনিসের আঘাতে বা জীবজন্তু কামড় দিলে শরীরের কোনো অংশ ছড়ে যেতে পারে। ফলে আহত স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে কালচে হয়ে পড়ে।

প্রাথমিক চিকিৎসা
১) প্রথমেই আহত স্থানে ঠান্ডা পানি বা বরফ দিয়ে ব্যথা কমাতে হবে।
২) পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে বরফ বা ঠান্ডা পানি লাগাতে হবে।
৩) আহত স্থানে কোনোরূপ ম্যাসাজ করা যাবে না।
৪) প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

কাজ-১: কেটে গেলে, পুড়ে গেলে, ছড়ে গেলে কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় তা বর্ণনা কর। (বাড়ীর কাজ)
কাজ-২: শিক্ষার্থীকে রোগী সাজিয়ে শিক্ষার্থী দ্বারাই প্রাথমিক চিকিৎসার অভিনয় করে দেখাও।
কাজ-৩: ছোটো ছোটো দলে ভাগ হয়ে পোস্টার পেপারে চিকিৎসার বিধান তৈরি করে উপস্থাপন কর।
Content added By

বহু নির্বাচনি প্রশ্ন

১. 'প্রতিদিন কারো না কারো উপকার করা' শ্লোগানটি কোন সংগঠনের?
ক. রেডক্রিসেন্ট
খ. রোভার গাইড
গ. স্কাউটিং
ঘ. ব্লু বার্ড

২. নিচ থেকে উপরে তোলার জন্য বা উপর থেকে নিচে নামানোর জন্য কোন গেরো ব্যবহার করা হয়?
ক. গুঁড়িটানা
খ. জীবন রক্ষা
গ. পাল
ঘ. তাঁবু

৩. কোন স্থান কেটে গেলে সেক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ কোনটি?
ক. লিন্ট, প্যাথিড্রিন, ব্লেড ও ডেটল
খ. লিন্ট, প্যাড, স্পিন্ট ও ডেটল
গ. কাঁচি, ড্রেসিং, হাতুরি, ছুরি ও প্যাড
ঘ.প্যাড, কাঁচি, বটি ও ব্লেড

৪. প্রাথমিক চিকিৎসায় আহত স্থানে বরফ ব্যবহৃত হয় কেন?
ক. ক্ষতস্থান বিশুদ্ধ করতে
খ. রক্তপাত বন্ধ করতে
গ. ব্যথা কমানোর জন্য
ঘ. ফোস্কা পড়া রোধে

৫. গাড়িতে সাভার থেকে ঢাকা আসার পথে তুর্যকে একটি গাছের বড়ো এক ডাল সরাতে হয়। তুর্য কোন গেরো বেঁধে গাছের ডালটি সরাবে?
ক. ডাক্তারি
খ. গুঁড়িটানা
গ. তাঁবু
ঘ. বড়শি

৬. দেওয়ালে পেরেক মারার সময় হাতুড়ির আঘাতে শিহাবের আঙুল থেতলে যায়। শিহাবের জন্য কোন প্রাথমিক চিকিৎসাটি প্রযোজ্য?
ক. জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা
গ. সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা
খ. ঠান্ডা পানিতে স্থানটি ভেজানো
ঘ. ক্ষত স্থানে গদি/প্যাড ব্যবহার করা

নিচের উদ্দীপকের চিত্রটি লক্ষ কর এবং ৭ ও ৮ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।

৭. উদ্দীপকের ২ নং চিত্রে ব্যবহৃত প্রতীকটি কোন সংগঠনের?
ক. ব্লু বার্ড
খ. রোভার
গ. স্কাউট
ঘ. গার্ল গাইড

৮. উদ্দীপকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলো-
i. প্রতীকগুলোর সবগুলোই ছেলেদের সংগঠনের
ii. চিত্র-১ এর চিহ্নটি ছেলে মেয়ে উভয় সংগঠনের
iii. চিত্র-৩ উদ্দীপকে উল্লেখিত সংগঠনের মূলমন্ত্র
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...