সদস্য ব্যাজের জন্য দড়ির ছয়টি গেরো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। দড়ি পাট, শন, নারকেলের ছোবড়া, নাইলন, স্টিল, লোহা, তামা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা যায়। সাধারণত পাট বা শনের পাকানো দড়ি ব্যবহার করা হয়। ছয়টি গেরো নিম্নরূপ:
১) ডাক্তারি গেরো (Reef Knot): দুটি সমান মোটা দড়ির মাথা একটি ডান হাতে ও অপরটি বাম হাতে ধরে ডান হাতের দড়ির মাথার কাছে খানিক অংশ বাম হাতের দড়ির মাথার দিকে পাশাপাশি ধরে একটি প্যাঁচ দিতে হবে। এরপর দড়ির একটি অংশকে সেই অংশের মূল দড়ির পাশে রেখে অপর অংশটি দিয়ে পাশের অংশের সাথে প্যাঁচ দিতে হবে। এবার আস্তে আস্তে টেনে গেরো শক্ত করতে হবে। এভাবে ডাক্তারি গেরো বা রীফ নট বাঁধতে হয়। ডাক্তারি গেরো বা রীফ নট সাধারণত সমান মোটা দুটি দড়ি জোড়া দিতে, প্যাকেট বা ব্যান্ডেজ বাঁধতে ব্যবহার করা হয়।

২) বড়শি গেরো (Clove Hitch): দড়ির চলমান প্রান্ত দিয়ে খুঁটিতে একটি পূর্ণ প্যাঁচ দিতে হবে। এই প্যাঁচ দেওয়ার ফলে দড়ির স্থির অংশ দড়ির চলমান অংশের নিচে অথবা উপরে থাকতে পারে। যদি দড়ির স্থির অংশ চলমান অংশের নিচে থাকে তাহলে দড়ির চলমান অংশ আগের তৈরি প্যাঁচের নিচ দিয়ে খুঁটিতে ঘুরিয়ে এনে দড়ির স্থির অংশের নিচ দিয়ে দ্বিতীয়বার তৈরি প্যাঁচের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে হবে। দড়ির দুই প্রান্তকে টেনে শক্ত করতে হবে। এভাবে বড়শি গেরো (ক্লোভ হিচ) বাঁধতে হয়। সুতার মাথায় বড়শি বাঁধতেও এই গেরো ব্যবহার করা হয়।

| কাজ-১: দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এক গ্রুপ ডাক্তারি গেরো ও অপর গ্রুপ বড়শি গেরো করে দেখাও। |
৩) পাল গেরো (Sheet Band): একটি মোটা দড়ির এক প্রান্তে লুপ করে বাম হাতে ধরতে হবে। এবার ডান হাতে একটি সরু দড়ির প্রান্তভাগ মোটা লুপের নিচের দিক থেকে উপরে তুলতে হবে। তারপর মোটা দড়ির সাথে প্যাঁচ দিয়ে সরু দড়িটিকে তার নিচের লুপের মূল অংশের নিচে ঢুকিয়ে দিতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে এ সময় সরু দড়ির প্রান্তটি যেন লুপের উপরে থাকে। এরপর সরু দড়ির স্থির অংশকে আস্তে আস্তে টানলে পাল গেরো বা শিট ব্যান্ড তৈরি হয়ে যাবে। মোটা দড়ির সাথে দড়ি বাঁধতে, নৌকার পাল বাঁধতে, পতাকার রশি ও পতাকা দণ্ডের রশি একত্রে বাঁধতে এই গেরো ব্যবহৃত হয়।

৪) জীবনরক্ষা গেরো (Bow Line): দড়ির এক প্রান্তকে ডান হাত দিয়ে ধরে বাম হাতের তালুকে ওপরের দিকে রেখে দড়িকে বাম হাতের তালুর ওপর রাখতে হবে। দড়ির যে অংশে লুপ হবে সে পরিমাণে দড়িকে নিজের শরীরের দিকে টেনে আনতে হবে। শরীরের দিকে দড়ির যে অংশ আছে সেটি দড়ির চলমান অংশ। দড়ির চলমান অংশ দিয়ে হাতের তালুর ওপর এমনভাবে একটি লুপ তৈরি করতে হবে যেন লুপ তৈরির পর দড়ির চলমান অংশ দড়ির স্থির অংশের ওপর দিয়ে থাকে। এভাবে তৈরি লুপকে বাম হাতের মাধ্যমে বুড়ো আঙুল ধরতে হবে। বাম হাতের তর্জনী শরীরের সামনের দিকে বাড়িয়ে দড়ির স্থির অংশকে তর্জনীর উপর রাখতে হবে। এরপর দড়ির চলমান প্রান্তটি লুপের নিচ থেকে উপরের দিকে উঠিয়ে দড়ির চলমান প্রান্তকে দড়ির স্থির অংশের নিচ দিয়ে সরাসরি পুনরায় লুপের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে হবে। এখন লুপের মধ্যে দড়ির চলমান যে দুটি অংশ আছে সে দুটি অংশকে ডান হাতে ধরে দড়ির স্থির অংশ বাম হাতে ধরে টানলে তা হবে জীবনরক্ষা গেরো বা Bow Line। জীবন্ত কোনো লোককে উদ্ধারের জন্য যেমন-উপর থেকে নিচে নামানোর বা নিচ থেকে উপরে তোলার জন্য জীবনরক্ষা গেরো ব্যবহার করা হয়। তেমনি পানিতে ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করার জন্যও এ গেরো ব্যবহৃত হয়।

| কাজ-১: পাল গেরো দিয়ে দেখাও। কাজ-২: জীবনরক্ষা গেরো কখন ব্যবহার করা হয় বর্ণনা কর। |
৫) গুঁড়িটানা গেরো (Timber Hitch): দড়ির চলমান প্রান্ত ডান হাতে রেখে চলমান অংশ দিয়ে গাছের গুঁড়ি বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট বস্তুকে একবার প্যাঁচ দিতে হবে। এভাবে হাফ হিচ বা আলগা গেরো দেওয়া শেষ হলে দড়ির চলমান প্রান্ত দিয়ে মূল দড়ির অংশে অন্ততপক্ষে ৫-৭ বার প্যাঁচাতে হবে। এভাবে গুঁড়িটানা গেরো বা টিম্বার হিচ বাঁধতে হয়। কোনো বোঝা বা ভারী গাছের টুকরা টেনে আনার জন্য গুঁড়িটানা গেরো ব্যবহার করতে হয়।

৬) তাঁবু গেরো (Round Turn and Two Half Hitch): দড়ির চলমান অংশ দিয়ে কোনো খুঁটিতে দুইবার প্যাঁচ দিতে হবে। খুঁটিতে দুইবার প্যাঁচ দেয়ার পর দড়ির দুই প্রান্তকে দুই হাতে ধরে চলমান প্রান্ত দিয়ে দড়ির স্থির অংশের অল্প দূরে দূরে দুটি হাফ হিচ বা আলগা গেরো দিতে হবে। এভাবে তাঁবু গেরো বাঁধতে হয়।

| কাজ-১: তিন মিটারের দড়ি দিয়ে হাতে-কলমে গেরোগুলো বাঁধার নিয়ম করে দেখাও। |
Read more