প্রাথমিক চিকিৎসা চিকিৎসাশাস্ত্রের একটি অংশ। প্রাথমিক চিকিৎসার স্রষ্টা হলেন ড. ফ্রেডিক এজমার্ক। তিনি ছিলেন একজন জার্মান শল্যচিকিৎসক। তিনিই প্রথম চিন্তা করেন যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে রোগীর অবস্থার অবনতি যাতে না ঘটে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতএব প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে হঠাৎ কোনো দৈব দুর্ঘটনায় ডাক্তার না আসা পর্যন্ত হাতের কাছের জিনিস দিয়ে রোগীকে প্রাথমিকভাবে সাহায্য করা এবং রোগীর অবস্থা যাতে জটিলতর না হয় সেদিকে লক্ষ রেখে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
প্রাথমিক চিকিৎসা বা প্রতিবিধানের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো ফার্স্ট এইড (First Aid)। First অর্থ প্রথম আর Aid অর্থ সাহায্য। সুতরাং First Aid অর্থ প্রথম সাহায্য। কোনো আহত ব্যক্তিকে সবার আগে যে সাহায্য করা হয়, তা-ই প্রাথমিক চিকিৎসা।
প্রাথমিক চিকিৎসাকারীর কাজ: প্রাথমিক চিকিৎসাকারীর কাজ প্রধানত তিনটি। যেমন:
১) রোগনির্ণয়: কী কারণে অসুস্থতার সৃষ্টি হয়েছে তা খুঁজে বের করা। রোগের লক্ষণ, চিহ্ন বা ইতিহাস থেকে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।
২) চিকিৎসা: কতটুকু চিকিৎসার প্রয়োজন তা নির্ণয় করে ডাক্তার আসার আগ পর্যন্ত যাতে রোগীর অবস্থার অবনতি না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩) স্থানান্তর: রোগীকে নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।
প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ
১) ড্রেসিং: ক্ষতস্থানকে জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাকে ড্রেসিং বলে।
২) লিন্ট: জীবাণুমুক্ত বা ওষুধযুক্ত একখণ্ড কাপড়ই লিন্ট।
৩) প্যাড: ক্ষতস্থানকে আরাম দেওয়ার জন্য যে গদি ব্যবহার করা হয় তাকে প্যাড বলে।
৪) স্প্রিন্ট: ভাঙা হাড়কে সোজা রাখার জন্য যে চটি ব্যবহার করা হয় তাকে স্প্রিন্ট বলে।
৫) ব্যান্ডেজ : লিন্ট, প্যাড বা স্পিন্ট বথাস্থানে রাখার জন্য ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা হয়।
ব্যান্ডেজ দুই প্রকার: ক) রোলার ব্যান্ডেজ খ) ত্রিকোণ ব্যান্ডেজ।
কাটা: ছুরি, কাঁচি, ব্লেড, দা, বটি প্রভৃতিতে দুর্ঘটনাবশত হাত-পা কেটে যেতে পারে। প্রথমেই আহত ব্যক্তির কোথায় কতটুকু কেটেছে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রাথমিক চিকিৎসা
১) সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে কাটা স্থান পানি দিয়ে ধুয়ে তুলা বা কাপড় দিয়ে মুছতে হবে।
২) ক্ষতের চারপাশ ডেটল বা স্যাভলন বা অন্য কোনো জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
৩) ক্ষতস্থানের জমাট বাঁধা রক্ত সরানো উচিত নয়। সরালে পুনরায় রক্তক্ষরণ হতে পারে।
৪) সামান্য ক্ষত হলে সরাসরি আঙুলের চাপ দিয়ে এবং বড় ধরনের ক্ষত হলে তুলা বা গজ দিয়ে চেপে ধরে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে।
পোড়া: আগুন, গরম পানি, জ্বলন্ত বস্তু ও গরম তরল পদার্থ থেকে দুর্ঘটনাবশত শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে পোড়া জায়গায় ঠান্ডা পানি বা ডিমের সাদা অংশ মাখিয়ে দিতে হবে। কোনো জায়গায় ফোস্কা দেখা দিলে ফোস্কা গলানো উচিত নয়। সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ছড়ে যাওয়া: হাতুড়ি, ইট, পাথর প্রভৃতি ভোঁতা জিনিসের আঘাতে বা জীবজন্তু কামড় দিলে শরীরের কোনো অংশ ছড়ে যেতে পারে। ফলে আহত স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে কালচে হয়ে পড়ে।
প্রাথমিক চিকিৎসা
১) প্রথমেই আহত স্থানে ঠান্ডা পানি বা বরফ দিয়ে ব্যথা কমাতে হবে।
২) পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে বরফ বা ঠান্ডা পানি লাগাতে হবে।
৩) আহত স্থানে কোনোরূপ ম্যাসাজ করা যাবে না।
৪) প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
| কাজ-১: কেটে গেলে, পুড়ে গেলে, ছড়ে গেলে কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় তা বর্ণনা কর। (বাড়ীর কাজ) কাজ-২: শিক্ষার্থীকে রোগী সাজিয়ে শিক্ষার্থী দ্বারাই প্রাথমিক চিকিৎসার অভিনয় করে দেখাও। কাজ-৩: ছোটো ছোটো দলে ভাগ হয়ে পোস্টার পেপারে চিকিৎসার বিধান তৈরি করে উপস্থাপন কর। |
Read more