রোকনুজ্জামান খানের 'হাট্ টিমা টিম' বই থেকে ছড়াটি সংকলন করা হয়েছে। এ ছড়ায় ছন্দে ছন্দে মজার একটি গল্প পরিবেশিত হয়েছে। এখানে দেখা যাচ্ছে, চিঠি বিলি করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছে একটি ব্যাঙ। কিন্তু বাইরে টাপুস টুপুস করে বৃষ্টি ঝরছে। ব্যাঙটিকে খেয়া নৌকায় নদী পাড়ি দিতে হবে। নৌকার মাঝি হিসেবে কাজ করছে চিংড়ি মাছের বাচ্চা। তাকে চিঠি লিখেছে বিলের খলসে মাছ। খলসে লিখেছে, সন্ধ্যাবেলার রোদে তার চোখ ঝলসে গিয়েছে। ওদিকে ভেটকি মাছের নাতনির কাছে চিঠি লিখেছে বিলের কাতলা মাছ। চিঠিতে কাতলা জানিয়েছে, সারা দেশ জুড়ে এ বছর খুব বৃষ্টি হবে। এই ভয়ে ব্যাঙ একটি ছাতা কিনে নিয়েছে। কারণ চিংড়ি মাঝির খেয়া নৌকার ওপর ব্যাঙের কোনো ভরসা নেই। ছড়াটির মাধ্যমে রোকনুজ্জামান খান আমাদের কল্পনাকে নিয়ে যান জলজ প্রাণীদের জগতে। সেখানে আমরা অদ্ভুত সব ঘটনার মুখোমুখি হই। ব্যাঙের চিঠি বিলি করা, ছাতা কেনা, চিংড়ি মাছের নৌকার মাঝি হওয়া কিংবা মাছেদের চিঠি লেখা বাস্তবে অসম্ভব ঘটনা। কিন্তু সব ঘটনাকেই আমরা কল্পনা করে নিতে পারি। কেননা মানুষের কল্পনা অসীম। ছড়া, কবিতা ও গল্পের মাধ্যমে কবি-লেখকেরা মানুষের জীবনছবি আঁকার পাশাপাশি মানুষের অদ্ভুত ও অসম্ভব কল্পনাকেও আঁকতে পারেন।
Content added By