বিশ্বকর্মা দেবের পরিচয় : হিন্দুধর্ম অনুসারে বিশ্বকর্মা শিল্পী ও ভাস্কর্য এবং যন্ত্র ও যন্ত্রকৌশলের দেবতা। এ মহাবিশ্বের প্রধান স্থপতি। শিল্পনৈপুণ্য, স্থাপত্যশিল্প এবং কারুকার্য সৃষ্টিতে অনন্য গুণশালী দেবতা তিনি। পুরাণ অনুসারে তিনি দেবশিল্পী। তিনি স্থাপত্য বেদ নামে একটি উপবেদের রচয়িতা। বিশ্বকর্মা দেবের চতুর্ভুজ রূপ অত্যন্ত শৌর্যশালী। তাঁর বাম দিকের এক হাতে ধনুক

আর অন্য হাতে তুলাদণ্ড এবং ডান দিকের এক হাতে হাতুড়ি অন্য হাতে ব্রহ্ম কুঠার। তাঁর বাহন হস্তী। তাঁর কৃপায় মানুষ শিল্পকলা ও যন্ত্রবিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করে। তিনি অলংকার শিল্পের স্রষ্টা এবং দেবতাদের বিমান ও অস্ত্রনির্মাতা। তিনি ব্রহ্মার নির্দেশে কিষ্কিন্ধ্যা নগরী, যম ও বরুণদেবের প্রাসাদ, পুষ্পরথ, ইন্দ্রের বজ্র, শিবের ত্রিশূল, ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শনচক্র, কুবেরের অস্ত্র ইত্যাদি নির্মাণ করেছেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদেশে তিনি দ্বারকাপুরীও নির্মাণ করেছেন।
বিশ্বকর্মা পূজাপদ্ধতি
সর্বপ্রকার কারুকার্য বিশ্বকর্মা দেবের সৃষ্টি। বিশ্বকর্মা মানুষকে শৈল্পিক জ্ঞান ও মেধা দান করেন। বিশ্বকর্মা পূজার মূল উদ্দেশ্য তাঁর কৃপা এবং কর্মে শিল্পনৈপুণ্য লাভ করা। কারুশিল্প ও শিল্পশ্রমিকেরা ভাদ্র মাসের সংক্রান্তি তিথিতে বিশ্বকর্মার পূজা করে থাকেন। পূজার রীতিনীতি অন্যন্য পূজার অনুরূপ হলেও পূজার সময় পারিবারিক সদস্যগণ যেসকল পেশায় নিয়োজিত সেসব পেশায় ব্যবহৃত উপকরণসমূহ বিশ্বকর্মা প্রতিমার কাছে রাখা হয়। বিশ্বকর্মা পূজা পঞ্চোপচারে, দশোপচারে বা ষোড়শোপচারে করা যেতে পারে।
| একক কাজ: বিশ্বকর্মা দেবের পরিচয় দাও। |
Read more