জীব ও জগতের কল্যাণভাবনা (পাঠ ৪ ও ৫)

হিন্দুধর্মের স্বরূপ ও বিশ্বাস - হিন্দুধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

283

হিন্দুধর্ম অনুসারে ধর্মাচরণের মূল লক্ষ্য হচ্ছে: 'আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ।' অর্থাৎ ধর্মাচরণের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিজের মোক্ষলাভ ও জগতের কল্যাণ। কেবল নিজের মোক্ষলাভের বিষয়ে চিন্তা করলেই হবে না। তাহলে তা হবে একান্তই আত্মসুখের চিন্তা। হিন্দুধর্ম কেবল নিজের সুখের চিন্তা করার বিষয়টি মোটেই অনুমোদন করে না। আত্মমোক্ষ চিন্তার পাশাপাশি জগতের কল্যাণ করতে হবে। নইলে ধর্মাচরণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আর মোক্ষও লাভ হবে না। সুতরাং জীব ও জগতের কল্যাণ করা মোক্ষলাভের অন্যতম উপায়।

ধর্মকৃত্য

ধর্মের প্রয়োগ তার কৃত্য বা উপাসনায়, ধর্মাচারে ও আচরণীয় সংস্কারে। হিন্দুধর্ম অনুসারে ঈশ্বরের নিরাকার রূপকে উপাসনা করা হয় মন্ত্র জপে ও গানে-কীর্তনে। আবার সাকার উপাসনা করা হয় দেব-দেবীর প্রতিমা নির্মাণ করে তাঁদের সুনির্দিষ্ট পূজাবিধি অনুসরণ করে পূজা করার মাধ্যমে।

হিন্দুধর্ম চর্চার ক্ষেত্রে কিছু ধর্মাচার ও সংস্কার পালন করতে হয়। ধর্মাচারের মধ্যে রয়েছে নিত্যকর্ম ও যোগাসন, রয়েছে তীর্থভ্রমণ, গঙ্গা নদীসহ পবিত্র জলাশয়ে স্নান, অতিথি সেবা, তুলসী সেবা ইত্যাদি। সংস্কার হচ্ছে প্রজন্ম পরম্পরায় চলে আসা দৈনন্দিন জীবনের ক্ষেত্রে করণীয় কিছু কাজ। যেমন- জন্মকৃত্য, বিবাহ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শ্রাদ্ধ ইত্যাদি।

সুতরাং ঈশ্বরতত্ত্ব, ঈশ্বরে বিশ্বাস ও ভক্তি, কতিপয় মৌলিক ধারণা ও বিশ্বাস এবং ধর্মকৃত্যের মধ্য দিয়ে হিন্দুধর্মের স্বরূপ প্রকাশ পায়।

একক কাজ: মোক্ষলাভের কয়েকটি উপায়ের ক্ষেত্র উল্লেখ কর
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...