ব্যাকরণ
পালি বর্ণমালা
শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ বা অক্ষরকে বর্ণ বলে। যেমন-নর = নৃ + অ +র+ অ। নর শব্দটি চারটি বর্ণ বা অক্ষর নিয়ে গঠিত হয়েছে। বর্ণকে যথাস্থানে বসাতে না পারলে শব্দের সঠিক অর্থ হয় না। সুতরাং পালি ভাষা শুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণ করে পড়তে, লিখতে ও বলতে হলে পালি বর্ণমালা বা অক্ষরমালা জ্ঞান একান্ত অপরিহার্য।
১. পালি ভাষায় মোট একচলিশটি বর্ণ আছে। তন্মধ্যে আটটি স্বরবর্ণ ও তেত্রিশটি ব্যঞ্জনবর্ণ।
২. স্বরবর্ণ দুপ্রকারঃ হ্রষষর ও দীর্ঘস্বর। আটটি স্বরবর্ণের মধ্যে অ, ই, উ-এ তিনটি এক মাত্রায় (চক্ষের এক পলক পরিমিত সময়) উচ্চারণ করতে হয় বলে এদেরকে হ্রস্বস্বর এবং আ, ঈ, উ, এ এবং ও-এ পাঁচটি দুই মাত্রায় উচ্চরণ করতে হয় বলে এদেরকে দীর্ঘস্বর বলে।
৩. পালিতে স্বরবর্ণ খা, ঋ, ৯, ঐ, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ শ, য, ক্ষ, ঃ (বিসর্গ), (রেফ), (চন্দ্রবিন্দু) ব্যবহৃত হয় না। তাছাড়া ৎ নেই।
৪. ড়, ঢ়-এ দুটি বর্ণ ল্ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নিচের উদাহরণগুলো লক্ষ্য কর:
| সংস্কৃত/বাংলা | পালি |
| ঋষি | ইসি |
| ঔষধ | ওসধ |
| উৎসুক্য | উত্সক |
| মৌন | মোন |
| যক্ষ | যকখ |
| তৃষ্ণা | তণহা |
| দুঃখ | দুগ্ধ |
| সর্ব | সব্ব |
| ধর্ম | ধৰ্ম্ম |
উপরের উদাহরণে সংস্কৃত কিংবা বাংলা শব্দের ঠিক যে বর্ণে উপরে' (রেফ) আছে, সে বর্ণটি পালিতে দ্বিত্ব হয়ে গেছে। তাহলে বর্ব, র্ম-এ জাতীয় রেফ দেয়া বর্ণটি পালিতে দ্বিত্ব হয়। এ নিয়ম তোমরা শিখে রাখবে। নিম্নে পালি অক্ষরমালা বা বর্ণমালা বাংলা ও রোমান অক্ষরে দেওয়া হলঃ
১. স্বরবর্ণ

২. ব্যঞ্জন বর্ণ

৩. ব্যঞ্জনবর্ণের বর্গ বিভাগ:
ক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি বর্ণ নিম্নোক্তরূপে পাঁচটি বর্গে বিভক্তঃ

৪. স্বরবর্ণের সাহায্য ছাড়া ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারিত হতে পারে না। যেমন-

৫. সংযুক্ত বর্ণ:

৬. প্রত্যেক বর্গের প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম বর্গের উচ্চারণ কোমল বলে এগুলোকে অল্পপ্রাণ বলে। যেমন-ত, দ, ন।
৭. প্রত্যেক বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণের উচ্চারণ কঠিন বলে এদেরকে মহাপ্রাণ বলে। যেমন-ফ, ভ।
৮. বর্ণের উচ্চারণ স্থান সাধারণত ছয়টি। যেমন-কণ্ঠ, তালু, ওষ্ঠ, মুর্খা, দন্ত ও নাসিকা।
কণ্ঠ থেকে তালু পর্যন্ত যে যে স্থানের আশ্রয়ে যে যে বর্ণ উচ্চারিত হয় তাকে সে বর্ণের উচ্চারণ স্থান বলে।
নিম্নে বর্ণগুলোর উচ্চারণ স্থান দেখানো হল:

ধাতু: ক্রিয়ার মূলকে ধাতু বলে। যেমন/পঠ/ ভূ, /দা, /গম্ ইত্যাদি।
'পঠতি' বা 'পড়ে' একটি ক্রিয়া। এতে দুটি অংশ আছে: /পঠ+তি। /পঠ একটি ধাতু এবং 'তি' ক্রিয়া বিভক্তি।
সুতরাং পঠতি ক্রিয়ার মুল ধাতু /পঠ।
বাক্য: বক্তার মনের ভাব প্রকাশক পরস্পর সম্পর্কযুক্ত পদসমষ্টিকে বাক্য বলে। যথা-
ভিষ্ণু সীলং রক্মতি।
ভিক্ষু শীল রক্ষা করে।
উপরের বাক্যটি 'ভি', 'সীলং', 'রতি' এ তিনটি পদ নিয়ে গঠিত হয়েছে। এখানে প্রত্যেকটি পদ একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। অন্যদিকে বক্তার মনের সম্পূর্ণ ভাবও প্রকাশ করছে। তাই 'ভিষ্ণু সীলং রস্থতি' একটি বাক্য।
কর্তা ও ক্রিয়া বাক্যের প্রাণস্বরূপ।
উদ্দেশ্য: যার সম্পর্কে কিছু বলা হয় তাকে উদ্দেশ্য বলে। যেমন- সো হসতি-সে হাসছে। এখানে 'সো' উদ্দেশ্য। বিশেষণ ইত্যাদি সংযোগে উদ্দেশ্যাংশ পরিবর্তিত হয়। যথা- দুব্বলো পুরিসো-দুর্বল পুরুষ। দুটি শব্দই উদ্দেশ্যের অন্তর্গত। প্রথমটি দ্বিতীয়টির দোষ প্রকাশ করছে। উদ্দেশ্য বাক্যের প্রথমে ব্যবহৃত হয়।
বিধেয়: উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয় তাকে বিধেয় বলা হয়। যথা- বুঠিং পততি।-বৃষ্টি পড়ছে। এখানে পততি হলে বিধেয়। বিধেয় সাধারণত বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয়।
বিকরণ: ধাতু পর এবং ক্রিয়া বিভক্তি যোগ করার পূর্বে যে প্রত্যয় ব্যবহৃত হয় তাকে বিকরণ বলে। যথা-পচ+অ+ তি = পচতি। এখানে 'অ' বিকরণ প্রত্যয়।
অনুবন্ধ: যে বর্ণ প্রত্যয়ের সাথে যুক্ত তাকে কিন্তু ধাতু বা লিঙ্গের সাথে যুক্ত হওয়ার সময় ঐ বর্ণ লোপ পায় তাকে অনুবন্ধ বলে। একে 'ইৎ' ও বলা হয়। যথা- দা + পাপয় দাপয়; দা+ ণাপে = দাপে। এখানে 'ণ' অনুবন্ধ বা ইৎ।
উপধা: শব্দের অন্ত বা শেষ বর্ণের পূর্ববর্ণের উপদা বলে। যেমন- সংঘ। এখানে 'সংঘ' শব্দটি বিশেষণ করলে স্ + অ + ং + ঘ + অ বর্ণগুলো পাওয়া যায়। এ সস্থলে 'সংঘ' শব্দের শেষ হল অ এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণ ঘ। সুতরাং 'ঘ' উপধা।
গুণ: উ স্থানে ই এবং উ স্থানে ঈ হওয়ার নাম গুণ। যথা-পুরুষ = পুরিস
আদেস (আদেশ): প্রত্যয় যোগে করলে ধাতু ও লিঙ্গের যে পরিবর্তন হয় তাকে আদেশ বলে। যথা- দা+ তি = দদাতি; গম + তি = গচ্ছতি। এখানে / দা এবং গম স্থানে যথাক্রমে দদা ও গচ্ছ আদেশ হয়েছে।
১. রচনামূলক প্রশ্নঃ
ক. পালিতে বর্ণ কয়টি ও কি কি?
খ. স্বরবর্ণের অন্তর্গত বর্ণগুলো বাংলা ও রোমান অক্ষরে লেখ।
গ. ব্যঞ্জনবর্ণের অন্তর্গত বর্ণগুলো বাংলা অক্ষরে লেখ।
ঘ. পালিতে সংস্কৃত কিংবা বাংলার কোন কোন বর্ণ নেই দেখাও।
ঙ. অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ বর্ণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
চ. বাক্য কাকে বলে? প্রয়োগ দেখাও।
ছ. অনুবন্ধ কাকে বলে? বুঝিয়ে বল।
জ. সংজ্ঞাসহ উদাহরণ দাও:
বিকরণ; উপধা; গুণ; আদেস (আদেশ)।
২. সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন:
ক. 'নর' শব্দটি কয়টি অক্ষর নিয়ে গঠিত? অক্ষরগুলো কি কি?
খ. পালিতে স্বরবর্ণ কয়টি ও কি কি?
গ. বর্ণের উচ্চারণ স্থান কয়টি? প্রত্যেকটি নাম লেখ।
ঘ. ক্রিয়ার মূলকে কি বলে? উদাহরণ দাও।
ঙ. বাক্যের প্রথম অংশের নাম কি? উদাহরণ দাও।
চ. 'গচ্ছতি' ক্রিয়ার মুল ধাতু বের করে দেখাও।
৩. ঠিক উত্তরটির পাশে টিক (√) চিহ্ন দাও:
ক. বর্ণ কাকে বলে?
১. বাক্যের ক্ষুদ্রতম অংশকে
২. শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশকে
২. উচ্চারণের ক্ষুদ্রতম অংশকে
৪. ব্যঞ্জন বর্ণের ক্ষুদ্রতম অংশকে
খ. পালিতে কোন বর্ণগুলোর ব্যবহার নেই?
১. শ, য,ঃ (বিসর্গ)
২. স, ং, ক
৩. চ, এ, ম
৪. ভ, হ, শ
গ. কণ্ঠজ বর্ণের উদাহরণ কোনটি?
১. চ
২. ভ
৩. র
৪. খ
ঘ. পালিতে ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?
১. একত্রিশটি
২. বত্রিশটি
৩. তেত্রিশটি
৪. চৌত্রিশটি
ঙ. বাক্যের শেষে সাধারণত কি ব্যবহৃত হয়?
১. উদ্দেশ্য
২. বিধেয়
৩. বাচ্য
৪. প্রত্যয়
চ. প্রত্যয় যোগ করলে ধাতু ও লিঙ্গের যে পরিবর্তন হয় তাকে কি বলে?
১. আদেশ
২. নির্দেশ
৩. তলদেশ
৪. স্বদেশ
ছ. অন্ত্য বর্ণে পূর্ববর্ণকে কি বলে?
১. বিকরণ
২. উপধা
৩. গুণ
৪. আদেশ
জ. অনুবন্ধের অন্য নাম কি?
১. সিৎ
২. চিৎ
৩. ইৎ
৪. কিৎ
Read more