সমবায় সমিতির মূলনীতি

মালিকানার ভিত্তিতে ব্যবসায় - ব্যবসায় উদ্যোগ - এসএসসি | NCTB BOOK

4.3k

অন্যান্য ব্যবসায় সংগঠন থেকে ভিন্ন আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিয়ে সমবায় সংগঠন গড়ে উঠে। সাধারণত সমশ্রেণি ও সমপেশাভুক্ত নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও বিত্তহীন সমাজের মানুষেরা প্রথমত নিজেদের আর্থ-সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে এ ধরনের সংগঠন গড়ে তোলে। নিচে সমবায়ের নীতিগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-


১. সমবায়ের প্রধান নীতিই হচ্ছে সমমনা, সমপেশা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সমশ্রেণির লোকদের একতা। মূলত একতাই বল (Unity is strength) নীতির ভিত্তিতে এ ব্যবসায়ের উৎপত্তি হয়েছে।


২. সমবায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো সাম্য বা সকলের সমান অবস্থান ও অংশগ্রহণ। এর সদস্যগণ অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে যেমনই হোক না কেন সবাই সমান মর্যাদার অধিকারী।

৩. সমবায়ের আরেকটি নীতি ও মূল্যবোধ হলো সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে অর্থাৎ পারস্পরিক সহযোগিতা। সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব ও সহানুভূতি সমবায়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা সমবায়ের সাফল্যের চাবিকাঠি।


৪. সদস্যদের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস সমবায়ের সাফল্যের আরেককটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়। সদস্যদের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস তাদেরকে উদ্যমী, আগ্রহী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।


৫. সমবায়ের আরেকটি মৌলিক আদর্শ হলো এর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনা। সমবায় সমিতিতে সকলের ভোট প্রয়োগের অধিকার আছে এবং প্রত্যেকের একটি ভোট থাকে। শেয়ার মূলধনের পরিমাণ সদস্যদের মধ্যে কম-বেশি থাকলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ ও মতামত প্রকাশে সকলের সমান সুযোগ আছে।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও :

সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া গ্রামে আমের মৌসুমে ২ জন ব্যাপারি প্রভাব খাটিয়ে আম ক্রয় করত। ফলে স্থানীয় জনগণ ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতো। এলাকার ২৫ জন যুবক একত্রিত হয়ে নিবন্ধন ও উপবিধি তৈরি করে, আম ক্রয়-বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করলে তারা ন্যায্যমূল্য পায়।

সামগ্রিক মুনাফা অর্জন
প্ৰতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি
পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা
সাম্য বা সকলের সমান অবস্থান ও অংশগ্রহণ
উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও :

২০০১ সালের আইন অনুযায়ী পলাশপোল গ্রামের কয়েকজন বিত্তহীন ব্যক্তি 'সাধনা' নামের একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এই সংগঠনের উন্নয়ন ও অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য তারা নিজেদের মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা, সংগঠনটি পরিচালনা করেন। এছাড়া একে অপরের বিপদ-আপদে সাহায্য ও সহযোগিতা ১ করে থাকেন। বর্তমানে সংগঠনটি এলাকার আদর্শ সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠেছে।

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...