হ্যাচিং ডিম বাছাই ও সংরক্ষণ (৪.৩)

দ্বিতীয় পত্র (দশম শ্রেণি) - পোল্ট্রি রিয়ারিং অ্যান্ড ফার্মিং-১ - এসএসসি ভোকেশনাল | NCTB BOOK

2k

8.৩ হ্যাচিং ডিম বাছাই ও সংরক্ষণ 

ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ডিম ফোটানো বা ইংরেজীতে হ্যাচিং বলে। তাই ফোটানোর ডিম উৎপাদন করার পরের ধাপই হচ্ছে ডিম ফোটানোর পর্ব। এ পর্বে উৎপাদিত ফোটানোর ডিম বাছাই করতে হয় এবং এদের যত্ন নিতে হয়। ডিম দুভাবে ফোটানো যায়। যেমন- প্রাকৃতিক ও কৃতিমভাবে। তবে যেভাবেই ডিম ফুটানো হোক না কেন উভয় পদ্ধতিতেই একই সময় লাগবে।  অল্প বাচ্চা ফোটানোর জন্য প্রাকৃতিক ও বেশি বাচ্চা ফোটানোর জন্য কৃতিম পদ্ধতির কোন বিকল্প নেই। কৃতিম পদ্ধতিতে যেভাবে ডিম ফোটানো হয় তাকে হ্যাচারি বলে। হ্যাচারিতে ভালো মানের অধিক সংখ্যক বাচ্চা উৎপাদন করতে হলে এ সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।

 

Content added || updated By

৪.৩.১ হ্যাচিং ডিম বাছাইয়ের বিবেচ্য বিষয়সমূহ 

ডিমের আকারঃ

বাচ্চার আকার ডিমের আকারের উপর নির্ভরশীল। প্রজাতি ও জাতভেদে ডিম বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে। তবে সবসময় নির্দিষ্ট প্রজাতি ও জাতের মাঝারি আকারের ডিম ফোটানোর জন্য বাছাই করা উচিত।

ডিমের আকৃতি 

সব সময় ডিম্বাকৃতির ডিম ফোটানোর জন্য বাছাই করা উচিত। লম্বাটে বা গোলাকার ডিম ফোটানোর জন্য ভালো নয় । 

পাতলা খোসা: 

পাতলা খোসার ডিম বাছাই করা উচিত নয়। পাতলা খোসার ডিম মুরগির নিচে অথবা ইনকিউবেটরে বসালে খোসা ভেঙ্গে ডিমের ভেতরের অংশ অন্যান্য ডিমের খোসার উপর ছড়িয়ে পড়বে। এতে করে অন্যান্য ভালো ডিমের খোসার উপর আবরণ পড়ে বাচ্চা উৎপাদনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে।

ডিম সংরক্ষণ: 

গ্রীষ্মকালে ৩-৫ দিন এবং শীতকালে ৭-১০ দিনের বেশি বাচ্চা ফোটানোর ডিম সংরক্ষণ করা উচিত নয়। 

ডিমের খোসার রঙ : 

যে জাত বা উপজাতের মুরগি যে রঙের ডিম পাড়ে হ্যাচিং এর জন্য সে রঙের খোসার ডিমই বসানো উচিত। 

খোসার মসৃণতা 

সাধারণত সুষম খাদ্যের অভাবেই ডিমের খোসার মসৃণতা নষ্ট হয়ে থাকে। যে খাদ্যের মধ্যে ক্যালসিয়াম অথবা ভিটামিন ডি এর অভাব থাকে সে ধরণের খাদ্য ডিমপাড়া মুরগিকে খাওয়ানো উচিত নয়। এ ছাড়া যে সব ডিমের খোসা বেশি খসখসে সেগুলো ভালো ফোটে না। কাজেই শক্ত ও মসৃণ খোসা দেখে ডিম বসানো ভালো।

ফাটা ডিম : 

ডিমের খোসা যাতে ফাটা না থাকে সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণত ফাটা কিংবা ভাঙ্গা খোসা বিশিষ্ট ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে না। দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে ডিম সংগ্রহ করলে তা সঙ্গে সঙ্গে ইনকিউবেটরে না বসিয়ে কিছু সময় রাখার পর বসাতে হয়।

ময়লাযুক্ত ডিম: 

বাচ্চা ফোটানোর জন্য ময়লাযুক্ত ডিম বাছাই করা উচিত নয়। 

ডিমের ভেতরের গুণাবলী: 

আলোর সাহায্যে ডিমের ভেতরের অংশ পরীক্ষা করলে যদি কোনো ডিমের ভেতর রক্তের দাগ অথবা ডিমের সাদা অংশ এবং কুসুম ঘোলাটে দেখা যায় তাহলে সে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে না ।

ঋতুর প্রভাব: 

ডিমের উর্বরতা ঋতু পরিবর্তনের সাথে বদলে যায়। যেমন- বসন্তকালে ডিমের উর্বরতা বেশি ও গ্রীষ্মকালে কম।

রোগমুক্ত মুরগি 

ডিমের মাধ্যমে বংশ পরম্পরায় রোগ বিস্তার লাভ করে। পুলোরাম, মুরগির টাইফয়েড প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত মুরগির ডিম ফোটানোর জন্য বাছাই করা উচিত নয় ।

ডিমপাড়া মুরগির পুষ্টি: 

ভ্রুণের বৃদ্ধি ডিমের ভেতরের পুষ্টিকর খাদ্যের ওপর নির্ভর করে। সে জন্য ডিমপাড়া মুরগিকে সুষম খাদ্য দিতে হয়। সুষম খাদ্য না দিলেও মুরগি ডিম পাড়বে তবে সে ডিম থেকে যে বাচ্চা হবে তার বৃদ্ধি আশানুরূপ হবে না। একইভাবে সুষম খাদ্যের অভাবে মোরগের শুক্রাণু উৎপাদন কমে যাবে। উর্বরতা ও স্ফুটনক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্রিডিং ফ্লকে ব্যবহৃত মোরগকে পর্যাপ্ত পরিমাণ আমিষজাতীয় খাবার দেয়া প্রয়োজন ।

মুরগির বয়স: 

ভালো ডিম পেতে হলে মুরগির বয়সের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। মুরগি ডিম দিতে শুরু করার ৩-৪ সপ্তাহ পরে প্রাপ্ত ডিমের স্ফুটনক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। মুরগির বয়স খুব বেশি বাড়ার সাথে সাথে পরবর্তী বছরগুলোতে ডিমের ফুটন ক্ষমতা কমতে থাকে। প্রজননের জন্য ব্যবহৃত মুরগির বাসস্থান স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক হতে হবে। বাসস্থানের বাহির ও ভেতর সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং তা মুক্ত আলোবাতাস চলাচলের উপযোগী করতে হবে।

মোরগ ও মুরগির মিলনের পর যে ডিম পাওয়া যায় তা সাধারণভাবে উর্বর বলে ধরা হয়।

হ্যাচিং ডিমের উৎস: 

যে সমস্ত ফার্ম বাচ্চা উৎপাদনের লক্ষ্যে সঠিক অনুপাতে মোরগ- মুরগীর মিলন ঘটিয়ে উর্বর ডিম উৎপাদন করে সে সমস্ত ফার্মই হল হ্যাচিং ডিমের উৎস। এ সমস্ত ফার্মকে ব্রিডিং/প্রজনন ফার্ম বলা হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে সরকারি পর্যায়ে মীরপুরে কেন্দ্রিয় পোল্ট্রি প্রজনন খামার আছে। এছাড়াও বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন জেলায় আরও কয়েকটি প্রজনন খামার রয়েছে।

 

 

 

Content added || updated By

৪.৩.২ ফোটানোর ডিম সংরক্ষণ (Preservation of hatching eggs):

মুরগির ঘর থেকে ট্রে বা ঝুড়িতে করে ডিম সংগ্রহ করার পর ডিমগুলো পরিষ্কার কাপড়ের সাহায্যে শুষ্ক অবস্থায় অথবা ঈষৎ গরম পানির সাহায্যে ডিম পরিষ্কার করা যায়। এর সাথে সাথেই জীবাণুমুক্ত পরিষ্কার শুকনা কাপড় দিয়ে ডিমের খোসার পানি শুকিয়ে নিতে হবে। হঠাৎ ঠান্ডা বা গরমে ডিমের ক্ষতি হতে পারে। সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে। অসুস্থ বা স্বাস্থ্যহীন মুরগির ডিম ফোটানো উচিত নয়।

সংরক্ষণের নিয়মাবলি নিম্নরূপ: 

১. পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে ডিম সংরক্ষণ করতে হয়, কারণ ময়লা লাগলে ডিমের খোসার ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং ভ্রুণের শ্বাসকার্য ব্যাহত হয়। 

২. ডিম সাধারণত ১০-১৫.৬ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। ডিম কখনও অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশে রাখা ঠিক নয়। বড় বড় হ্যাচারিতে ডিম সংরক্ষণ করতে হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ব্যবহার করা উচিত। গ্রামে ডিম সংরক্ষণের জন্য ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্থান ব্যবহার করা উচিত।

৩. ৬০-৭০% আপেক্ষিক আর্দ্রতা ডিম সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত। ঘরের ভিতরে পানির পাত্র বসিয়ে বা ভিক্ষা চট দিয়ে ঘরের আর্দ্রতা কিছুটা নিররণ করা যায় । যদি ঘরের আর্দ্রতা অনেক কম হয় তবে ডিমে বাস্পীভবন হবে, ফলে বায়ুকোষ আকারে বড় হবে এবং হ্যাচাবিলিটি কমে যাবে।

৪. ডিম সংরক্ষণের সময় ডিমের মোটা অংশের উপরের দিকে রাখতে হয় । 

৫. ডিম গ্রীষ্মকালে ৩-৪ দিন এবং শীতকালে ৭-১০ দিনের বেশি সংক্ষরণ করা যায় না। বেশি দিন ডিম সংরক্ষণ করলে ডিম হতে পানি বেরিয়ে বায়ুকোষ বেশি বড় হয়, ফলে সেই ডিম ফোটে না । 

৬. ডিম ৭(সাত) দিনের বেশি সংরক্ষণ করলে দিনে ৩-৪ বার উল্টিয়ে দেয়া ভালো।

 

 

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...