বায়ুর্যমোহগ্নিবরুণঃ শশাঙ্কঃ
প্রজাপতিত্ত্বং প্রপিতামহ।
নমো নমস্তেহস্ত সহস্রকৃত্বঃ
পুনশ্চ ভূয়োহপি নমো নমস্তে ॥১১/৩৯
সরলার্থ: তুমি বায়ু, তুমি যম, তুমি অগ্নি, তুমি বরুণ ও চন্দ্র। তুমিই ব্রহ্মা, আবার ব্রহ্মারও স্রষ্টা তুমি। তোমাকে নমস্কার করি হাজারবার, বারবার তোমাকে নমস্কার।
ব্যাখ্যা: শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বিশ্বরূপ দর্শন যোগ নামক একাদশ অধ্যায়ে অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে এ উক্তি করেছেন। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ঈশ্বর। এখানে সেই ঈশ্বরের স্বরূপ প্রকাশ করা হয়েছে। যম, অগ্নি, বরুণ, চন্দ্র প্রভৃতি দেবতাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করে বলা হয়েছে তাঁরা ঈশ্বরেরই এক-একটি রূপ। তিনিই সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মা আবার তিনি ব্রহ্মারও স্রষ্টা। এখানে ঈশ্বরের সৃষ্টি করার শক্তিসহ অসীম শক্তির কথা বলা হয়েছে ।

সকল দেবতার শক্তি তাঁরই শক্তি। তিনি সর্বশক্তিমান। তিনি নিরাকার। আবার তিনিই সাকার। এ মহাশক্তিধর অনাদি অনন্ত ঈশ্বরকে তাই বারবার নমস্কার জানিয়ে পরম শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে।
শব্দার্থ :
যম – মৃত্যুর দেবতা। অগ্নি তেজ-এর দেবতা। বরুণ - জল ও আকাশের দেবতা। শশাঙ্ক - চাঁদ। প্রজাপতি - ব্রহ্মা। প্রজা-সৃষ্টি। সুতরাং প্রজাপতি বলতে বোঝানো হয়েছে সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মাকে; অর্থাৎ ঈশ্বর যে রূপে সৃষ্টি করেন তাঁর নাম প্রজাপতি। প্রজাপতি ব্রহ্মারই অপর নাম।
প্রপিতামহ – পিতার পিতা পিতামহ; ব্রহ্মাকে পিতামহ বলা হয়। প্রপিতামহ মানে পিতামহের পিতা। এখানে ঈশ্বরকে পিতামহ অর্থাৎ ব্রহ্মারও পিতা বা স্রষ্টা বলা হয়েছে।