Academy

থের-থেরীগাথা (অষ্টম অধ্যায়)

পালি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

309

থের-থেরীগাথা
ধম্মিক থেরো

১. ধম্মো হবে রস্থতি ধম্মচারিং ধম্মো সুচিপ্নো সুখমাবহাতি, এসানিসংসো ধম্মে সুচিন্নে ন দুর্গতিং গচ্ছতি ধম্মচারী
২. নহি ধম্মো অধম্মো চ উভো সম বিপাকিনো, অধম্মো নিরযং নেতি, ধম্মো পাপেতি সুগতিং।
৩. তস্মাহি ধম্মেসু করেয্য ছন্দং ইতি মোদমানো সুগতেন তাদিনা, ধম্মে ঠিতা সুগতবরস সাবকা নীযন্তি ধীরা সরণবরঙ্গামিনো।
৪. বিস্ফোটিতো গণ্ডমূলো তণহাজালো সমূহতো সো খীণ সংসারো ন চ'থি কিঞ্চনং চন্দো যথা দোসিনা পুত্রমাসিযা'তি।

শব্দার্থ
ধম্মিক-ধার্মিক; থেরো-স্থবির, যিনি বয়সে ও জ্ঞানে বৃদ্ধ; হবে-নিশ্চয়ই; ধম্মচারী-ধর্মাচরণকারী; সুচিন্নো-সুচরিত; সুখমাবহাতি-সুখ আনে; এসানিসংসংসো-এ ফল (কর্ম ও কর্মফল); দুগ্‌গতিং-দুর্গতি; সমবিপাকিনা-সমান বিপাক বা ফলদায়ী; নেতি-নিয়ে যায়; করেয্য-করা উচিত; ছন্দং-ইচ্ছা; সরণবরগ-শ্রেষ্ঠ শরণ; বিস্ফোটিতো-বিনষ্ট

ধার্মিক স্থবির
তিনি পূর্ব বুদ্ধগণের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়ে শিখী বুদ্ধের সময় দেবতাদিগকে ধর্মদেশনা করার সময় 'একই ধর্ম বলে' নিমিত্ত গ্রহণ করেন। পরে গৌতম বুদ্ধের সময় শ্রদ্ধায় প্রব্রজিত হয়ে এক গ্রামের বিহারাধ্যক্ষ হয়ে বাস করতেন। বিহারে কোন অতিথি ভিক্ষু এল অপবাদ দিতেন। সে কারণে বিহারে আর অতিথি ভিক্ষু আসতেন না। ফলে একাকি বাস করতেন। বিহারদাতা এ বিষয়ে ভগবানকে জানালেন। তথাগত বুদ্ধ ভিক্ষুকে উপদেশ প্রসঙ্গে তাঁর অতীত কাহিনী বললেন। তিনি পূর্বজন্মেও অতিথিসেবা করতেন না। বুদ্ধ এ বিষয়ে ধর্মদেশনা করার সময় স্থবির অর্হত্বফল লাভ করেন। স্থবির ধর্মের সুফল সম্পর্কে বলতে গিয়ে গাথাগুলো রচনা করেছেন।

মর্মার্থ
লৌকিক ও লোকাত্তর ধর্মনীতিগুলো আচরণ করলে ধর্মচারী দুঃখ থেকে পরিত্রাণ পান। কর্ম ও কর্মফলে বিশ্বাস রেখে স্মৃতিমান হলে সে পুণ্যই সুখ প্রদান করে। চিত্ত প্রশান্ত হয়। পুণ্যবান ব্যক্তিরা দুর্গতিতে গমন করে না। অধর্ম মানুষকে নিরয়ে নিয়ে যায়। ধর্ম স্বর্গ প্রাপ্ত করায়। ধার্মিক ব্যক্তিরা সন্তুষ্টচিত্তে পুণ্যকর্ম করেন। বুদ্ধের শ্রাবকগণ ত্রিশরণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ধর্ম অনুশীলন করেন। এতে তাঁরা সংসারের বিবিধ দুঃখে থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত হন। অবিদ্যা ও তৃষ্ণাজাল ছিন্ন হয়। পরিশেষে অর্হত্ব ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সুখ অনুভব করেন।

রাহুল থেরো

১. উভযেনে'ব সম্পন্নো রাহুলভদ্দোতি মং বিদু, যঞ্চহি পুত্তো বুদ্ধস যঞ্চ ধম্মেসু চক্ষুমা।
২. যজ্ঞ মে আসবা খীণা যঞ্চ নত্তি পুনবো, অরহা দখিনেয্যোমহি তেবিজ্জো অমতদ্দসো।
৩. কামান্ধজালপচ্ছনা তণহাছদন ছাদিতা, পমত্তবন্ধুনা বন্ধা মচ্ছা'ব কুমিনা মুখে।
৪. তং কামং অহমুঝিত্বা ছেতা মারস্স বন্ধনং সমূলং তহং অব্বুযহ সীতিভূতোস্মি নিঝুতো'তি।

শব্দার্থ
উভযেনে'ব-উভয়ের দ্বারা; রাহুলভদ্দো-রাহুলভদ্র, যঞ্চহি-যেহেতু আমি, চক্ষুমা-চক্ষুমান; খীণ-ক্ষীণ পুনবো-পুনর্জন্ম; তেবিজ্জা-ত্রিবিদ্যা; ছাদিতা-আচ্ছাদিত; কুমিনা মুখে-জালের মুখে; অহমুজঝিত্বা-আমি পরিত্যাগ করে; ছেত্বা-ছিন্ন করে; তণহং-তৃষ্ণা; অববুয়হ-উৎপাটন; সীতিভূতো-শান্ত; নিৰ্ব্বত-নির্বাণ প্রাপ্ত; থেরো-স্থবির (প্রবীণ ও জ্ঞানী ভিক্ষু)

রাতুল স্থবির
তিনি পদুমুত্তর বুদ্ধের সময় শিক্ষাকামীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান প্রণিধান করেছিলেন। পরে গৌতম বুদ্ধের সময় সিদ্ধার্থের ঔরসে ও যশোধরার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সাত বছর বয়সে বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভ করে কপিলাবাস্তু গমন করলে, যশোধরা পুত্রকে বুদ্ধের নিকট প্রেরণ করেন। রাহুল পিতৃধন চাইলে বুদ্ধ তাঁকে সধর্মে দীক্ষিত করেন। রাহুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান লাভ করেন। তাঁর পাণ্ডিত্য ও মেধাশক্তি প্রখর ছিল। রাহুল প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে বুদ্ধের নিকট সূত্র শিক্ষা করেন। জ্ঞান অর্জনের সাথে সাথে অর্হত্বফল প্রাপ্ত হন।

মর্মার্থ
রাহুল স্থবির সংসারের বন্ধন ছিন্ন করে অনাগরিক জীবনে মার্গফল লাভ করেছেন। তাই সবাই তাঁকে রাহুল ভদ্র নামে জানে। তিনি ধর্মজ্ঞানে আলোকিত হয়েছেন। তাঁর আসক্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। আর পুনর্জন্মের হেতু নেই। তিনি ত্রিবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে বিমুক্ত হয়েছেন। জগতে প্রাণিগণ কামে অন্ধ ও তৃষ্ণাজালে আবদ্ধ। মায়ার বন্ধন থেকে সহজে বের হয়ে আসতে পারে না। কিন্তু রাহুল স্থবির সমস্ত বন্ধন অতিক্রমের মাধ্যমে তৃষ্ণাকে ধ্বংস করেছেন। তিনি অর্হত্বফল লাভ করে অনুপাদিশেষ নির্বাণে নিবৃত্ত হয়েছেন।টীকা
থেরগাথা
থেরগাথা খুদ্দক নিকায়ের অষ্টম গ্রন্থ। এতে ২৬৪ জন প্রবীণ ভিক্ষু বা স্থবির, শ্রাবক ও মহাশ্রাবকদের ভাষিত গাথা বা কবিতা সংকলিত হয়েছে। প্রত্যেকটি অধ্যায়কে 'নিপাত' নাম দেয়া হয়েছে। একক নিপাতে একটি গাথা, দুকনিপাতে দুটি গাথা- এমনি করে ক্রমশ গাথাগুলো সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৌদ্ধযুগে রচিত কাব্য গ্রন্থেসমূহের মধ্যে থেরগাথা অন্যতম। থেরদের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে এ গ্রন্থের গাঁথাগুলো রচিত হয়েছে।
আসব : যা ভাবী সংসার-দুঃখ উৎপন্ন করে তাকে আসব বলে। চিত্তের প্রমত্ততাসাধক অকুশল মনোবৃত্তিই আসব। ওঘ, যোগ, গ্রন্থি, বন্ধন-এ শব্দগুলো বস্তুত একই অর্থবোধক। আসব চার প্রকার। যথা-

১. কামাসব বা কামবাসনা। এতে কাম্যবস্তু লাভের জন্য মন প্রলুব্ধ হয়।
২. ভবাসব-কামলোক ও ব্রহ্মলোকে উৎপন্ন হওয়ার বাসনা।
৩. দৃষ্টাসব-এতে সৎকায় দৃষ্টি বা আত্মার ধারণা প্রবল থাকে।
৪. অবিদ্যাসব-এটি অবিদ্যা বা অজ্ঞানের সাথে জড়িত থাকে।
উপরোক্ত আসবসমূহ ক্ষয় হলেই সাধক খীনাসব নামে অভিহিত হন।

বিদ্যা
বিদ্যা বা জ্ঞান তিন প্রকার। যথা।
১. পূর্ব নিবাসানুস্মৃতি-পূর্ব পূর্বজন্মে কোন স্থানে কিরূপে হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সে বিষয়ে সে জ্ঞান উৎপন্ন হয় তাকে জাতিস্মর জ্ঞান বলে।
২. দিব্যচক্ষু- প্রাণিগণের বিচরণ, অবস্থান, জন্ম-মৃত্যু ইত্যাদি সম্মন্ধে দিব্য দৃষ্টিতে দেখা।
৩. আসবক্ষয়-নিজের বাসনা বা তৃষ্ণাক্ষয় সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া।

থেরীগাথা
সুভা থেরী

১. দহরাহং সুদ্ধবসনা যংপুরে ধম্মংসুণিং তত্সা মে অপমত্তায সচ্চাভিসমযো অহু।
২. ততো' হং সব্বকামেসু ভূসং অরতিমঋগং। সক্কাযস্মিং ভযং দিস্বা নেম্মং যেব পিহযে।
৩. হিত্বানহং জ্ঞাতিগণং দাসকাকরানি চ। গামখেত্তানি ফীতানি রমনীযে পমোদিতে। পহাযহং পব্বজিতা সাতেয্যং অনপ্কং।
৪. এবং সদ্ধায নিম্ম সদ্ধম্মে সুস্পবেদিতে। ন মে তং অস্স পতিরূপং আকিঞ্চঞং হি পথযে। যা জাতরূপজতং ঠপেত্না পুনরাগমে।
৫. রজতং জাতরূপং বা ন বৌধ্য নং সন্তযে। ন এতং সমণসারূপনং ন এতং অরিযধনং৷
৬. লোভনং মদনং চেতং মোহনং রজবনং। সাসঙ্কং বহু আযাসং নথি চেখ ধুবং ঠিতি৷৷
৭. এখারত্তা পমত্তা চ সংকিরিঠমনা নরা অঞঞমঞেন ব্যারুদ্ধা পুথুকুব্বস্তি মেধগং৷৷
৮. বধো বন্ধো পরিক্লেসা জানি সোকপরিদ্দবো। কামেসু অধিপন্নানং দিস্সতে ব্যসনং বহুং।
৯. তং মঞাতি অমিত্তা বা কিং মং কামেসু যুঞ্জথ। জানাথমং পব্বজিতং কামেসু ভষদসিনিং।

শব্দার্থ
দহরাহং-তরুণ বয়সে; সুদ্ধবসনা-নির্মল বত্র; যং-যেদিন; ধম্মমসুণিং-ধর্মোপদেশ শুনলাম; সচ্চাভিসমযো-সত্যের প্রকৃত জ্ঞান লাভের সময়; ততোহং-ঐ দিন থেকে আমি; সব্বকামেসু ভুসং-সর্বকামভোগ; অরতিমাগং-অনাসক্তি আসল; সক্কাযম্মিং-সৎকায়ে অর্থাৎ নামরূপে; নেং-নিষ্ক্রমণ; পিহযে-কৃতসংকল্প হলাম; ঞাতিগণং-জ্ঞাতিগণ; দাসকম্মকরানি-দাস ও কর্মকারগণ; গামখেত্তানি-গ্রাম ও বিস্তৃত ক্ষেত্র; ফীতানি-পরিত্যাগ; ফিরে না চাওয়া; পহাযং-নিক্ষেপ করে; পতিরূপং-প্রতিরূপ; পুনরাগমে-প্রত্যাবর্তনে; ন বোধায়-জ্ঞান দিতে পারে না; ন সন্তযে-শান্তি দিতে পারে না; অরিযধনং-শ্রেষ্ঠ ধন; রজবভ্রং-কামের জনক; সসঙ্কং-আশঙ্কা; সংকিলঠমনা-উদ্বেগপূর্ণ মনা; এথরত্তা-এতে আসক্ত হয়ে; কামেসু অদিপন্নানং-এ সমস্তই কামাসক্ত, অমিত্তা-শত্রু; কামেসু ভযদসিনং-কামে অজঙ্গল বা ভয় দর্শন।
সুভা
পূর্ব জন্মান্তরে অনেক পুণ্য সঞ্চয় করে সুভা গৌতম বুদ্ধের সময়ে রাজগৃহে স্বর্ণকারের কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অত্যন্ত সুন্দরী ছিলেন বলে তাঁর নাম রাখা হয় সুভা (শুভা)। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তিনি বুদ্ধের ধর্মভাষণ শুনে স্রোতাপন্না হন। পরে যৌবনে গৃহত্যাগ করে মহাপ্রজাপতি গৌতমীর নিকট প্রব্রজিতা হন।
আত্মীয়বর্গ তাঁকে পুনরায় গৃহে প্রত্যাবর্তন করতে অনুরোধ করেন। তিনি সাংসারিক জীবনের দুঃখ-দুর্দশার কথা বর্ণনা করে তাঁদের উপদেশ দেন। অর্হত্বপ্রাপ্তির পর তিনি তাঁর পূর্বজীবন ও অনাগারিক বিমুক্তিসুখ নিয়ে যে গাথাগুলো ভাষণদান করেন সেগুলোই থেরীগাথায় সংকলিত হয়েছে।

মর্মার্থ
সুভা শুভ্র বসন পরিধান করে তরুণ বয়সে বুদ্ধের ধর্ম শ্রবণ করেন। অপ্রমত্তভাবে জীবন ধারণ করে প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারী হন। সকল প্রকার কামসুখ পরিত্যাগ করেন। আত্মবাদে ভয় দেখে গৃহত্যাগ করে তাঁর চিত্ত সংযম হয়েছে। জ্ঞাতিবর্গ, দাসদাসী ও ধনরত্ন পরিত্যাগ করে প্রব্রজিত হয়ে অনাগারিক জীবনযাপন করেন।
তাঁর আত্মীয়স্বজন তাঁকে পুনরায় গৃহে প্রত্যাবর্তনের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। তাঁদের উপলক্ষ করে তিনি যে উপদেশ দিয়েছিলেন তা সংক্ষেপে নিম্নে দেয়া হল:
স্বর্ণ, রৌপ্য, ধনসম্পত্তিতে তাঁর আগ্রহ নেই। তাতে প্রকৃত জ্ঞান ও পরম শান্তি পাওয়া যায় না। এগুলো আর্যধন নয়। অকিঞ্চনই তাঁর অভীষ্ট লাভের কামনা।
লোভ, দ্বেষ ও মোহ কামের জন্ম দেয়। তা থেকে উৎপন্ন ভয় দুঃখজনক। তাতে প্রমত্ত হয়ে মানুষ ভোগলালসায় জড়িত হয়। ফলে পরস্পর কলহে লিপ্ত থাকে। শত্রুতার কারণে হত্যা, শোক, বিলাপ প্রতিনিয়ত ঘটে থাকে। কামে শুভ নেই। তবু আত্মীয়বর্গ তাঁকে আবার কামে আবদ্ধ করতে চায়।
ধনসম্পত্তি পরিভোগে তৃষ্ণা কমে না। বরঞ্চ বেড়েই চলে। ভিক্ষালব্ধ খাদ্য ভোজ্যই তাঁর স্বরূপ। যেখানে শোক নেই, সেই শাস্তির নির্ঝর নির্বাণের পথ অনুশীলন করে বিমুক্তিলাভই তাঁর একমাত্র কাম্য।

বিমলা থেরী

১. মত্তা বল্লেন রূপেন সোভঙ্গন যসেন চ। যোব্বনেন চুপত্থদ্ধা অঞা সমতিমঞিহং।।
২. বিভূসেত্বা ইমং কাযং সুচিত্তং বালালপনং। অট্টাসিং বেসিদ্বারাহ লুদ্ধো পাসমিবোড্ডিষ।
৩. পিলব্ধনং বিদংসেস্তি গুহ্যং পকাসিকং বহুং। অকাসিং বিবিধং মাযং উজ্জ্যপ্তি বহুং জনং।
৪. সাজ্জ পিন্ডং চরিত্বান মুন্ডা সংঘাটিপারতা। নিসিন্না বুদ্ধমূলহ অবিতত্ত্বস্স লাভিনী।
৫. সব্বে যোগা সমুচ্ছিনা যে দিব্বা যে চ মানুসা। খেপেত্বা আসবে সব্বে সীতভূতহি নিঝুতা।

শব্দার্থ
মত্তা-মত্ত; বপ্নেন রূপেন-বর্ণ ও রূপের দ্বারা; সোভগৃগেন-সৌভাগ্যের দ্বারা; যোব্বনে-যৌবনে; চুপত্থদ্ধা-অজ্ঞান ও অমনোযোগ; পিলন্ধনং-অলংকার; বিবিধং মাযং-নানা প্রকার ছলনায়; উজ্জঘত্তি বহুং জনং-অনেক লোককে কলংকিত করে; সাজ্জ-নিজে আজ; পিন্ডং চরিত্বান-পিন্ড গ্রহণ করে; সংঘাটিপারুতা-সংঘাটির দ্বারা আচ্ছাদিত; নিসিন্না-উপবিষ্ট হয়ে, বসে; বুদ্ধ মূলাহ-বৃক্ষমূলে।

বিমলা
তিনি বহু জন্মজন্মান্তর সংসারে পরিভ্রমণ করেন। পরে গৌতম বুদ্ধের সময়ে বৈশাখী নগরে এক গণিকার কন্যারূপে জাত হন। তাঁর নাম রাখা হয় বিমলা। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তিনিও মায়ের বৃত্তি অবলম্বন করেন। একদা তিনি মহামৌদগল্যায়নকে ভিক্ষাচরণ করতে দেখে তাঁর প্রতি প্রেমাসক্ত হন। স্থবিরের বাসস্থানে গমন করে তাঁকে প্রলুব্ধ করতে সচেষ্ট হন। স্থবির তাঁর অসঙ্গত আচরণের জন্য তাঁকে ভৎর্সনা করেন। পরে ধর্মোপদেশ দেন। স্থবিরের ধর্মদেশনা শুনে তিনি লজ্জিত ও অনুতপ্ত হন। অবশেষে বিমলা অন্য সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীদের দলে প্রবেশ করেন। পরবর্তীকালে তিনি ভিক্ষুণী হয়ে বৌদ্ধ সংঙ্গে যোগদান করে অনবরত সাধনা করে অর্হত্বফল লাভ করেন। অর্হৎ হয়ে মনের আনন্দে পূর্ব ও বর্তমান জীবনের ঘটনাবলি গাথায় বিবৃত করেন।

মর্মার্থ
বিমলা দেহের সৌন্দর্যে মত্ত হয়ে যৌবনের উন্মাদনায় মতিচ্ছন্ন ছিলেন। তাঁর সুন্দর দেহ তরুণদের লোভলালসার কারণ হত। ধূর্তব্যাধ তার ধনুর্বাণ তুলে যেমন শিকারের জন্য অপেক্ষা করে। তদ্রুপ তিনিও গণিকালয়ের পার্শ্বদ্বারে দাঁড়িয়ে যুবকদের বিবিধ মায়ায় প্রলুব্ধ করতেন। তাঁর দেহরূপের গুণকীর্তন তাদের নিকট তুলে ধরতেন। মৃদু হেসে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন।
পরে তিনি বুদ্ধশাসনে মুন্ডিতশির ও গৈরিকচীবরদারী ভিক্ষুণীধর্ম গ্রহণ করেন। পিন্ডাচরণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। বৃক্ষমূলে বসে সর্বদা বিতর্কহীন সমাধিতে রত থাকতেন। সকল বাধাসমূহ তাঁর অতিক্রান্ত হয়েছে। জন্মের মূল উৎপাটন করেছেন। তিনি অর্হত্বফল লাভ করে নির্বাণ প্রাপ্ত হয়েছেন।

টীকা
থেরীগাথা : এটি খুদ্দক নিকায়ের নবম গ্রন্থ। এ গ্রন্থখানিতে মোট ৭৩ জন থেরীর গাধা সংগৃহীতা আছে। থেরীগাথায় প্রাচীন ভারতের নারীর সমাজ জীবন, গার্হস্থ্য জীবন ও পরবর্তী অনাগারিক জীবনের ভিক্ষুণী ধর্মে তাঁদের অনুভূতির কথা ফুটে উঠেছে।

Content added By

১. রচনামূলক প্রশ্নঃ
ক. ধম্মিক থেরো কে ছিলেন? তাঁর জীবন ও বাণী সংক্ষেপে লেখ।
খ. ধম্মিক থেরোর গাথাগুলোর মর্মার্থ লেখ।
গ. রাহুল থেরোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
ঘ. সুভা কে ছিলেন? তাঁর পরিবর্তিত জীবনের ঘটনা সংক্ষেপে বিবৃত কর।
ঙ. সুভা থেরীর গাথাগুলোর মর্মার্থ লেখ।
চ. বিমলা কে ছিলেন? তিনি কেন সংসার ত্যাগ করেছিলেন?
ছ. থেরী বিমলার রচিত গাথাগুলোর ভাবার্থ লেখ।

২. সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন:
ক. বিহারদাতা ধম্মিক থেরোর বিরুদ্ধে বুদ্ধকে কেন অভিযোগ দিয়েছিলেন?
খ. ধার্মিক ব্যক্তির গুণাবলি কি কি?
গ. রাহুল থেরোকে রাহুল ভদ্র বলা হত কেন?
গ. বিমলা কিভাবে মহামৌদগল্যায়নকে প্ররোচিত করতে চেয়েছিলেন?
ঘ. সুভা কোন বৃত্তি অবলম্বন করেছিলেন? তাঁর কারণ কি?

৩. শূন্যস্থান পূরণ কর:

ক. ধম্মো হবে - ধম্মাচরিং
ধম্মো - সুখামাবহাতি;
এসানিসংসো - সুচিন্নো
ন দুর্গতিং - ধম্মাচারী।

খ. নহি ধম্মে চ- সমবিপাকিনো,
অধম্মো - নেতি, ধম্মো - সুগতিং।

৪. উভয় পাশের বাক্যাংশের মিল কর:

ক. ধম্মিক থেরো অতিথি ভিক্ষু এলে
খ. সভা গৌতম বুদ্ধের সময়
গ. পুণ্যবান ব্যক্তিরা দুর্গতিতে
ঘ. রাহুল থেরো শিক্ষার্থীদের মধ্যে
ঙ. থেরীগাথা খুদ্দক নিকায়ের

ক. সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান লাভ করেন।
খ. অষ্টম গ্রন্থ।
গ. রাজগৃহে স্বর্ণকারের কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেন
ঘ. অপবাদ দিতেন।
ঙ. গমন করেন না

৫. ঠিক উত্তরটির পাশে টিক (✔) চিহ্ন দাও:

ক. কে দুঃখ থেকে পরিত্রাণ পেয়ে থাকেন?

১. অধর্মচারী
২. কর্মচারী
৩. নভোচারী
৪. ধর্মচারী

খ. 'সুচিল্লো' শব্দের অর্থ কোনটি?

১. দুচ্চরিত
২. আচরিত
৩. সুচরিত
৪. মার্জিত

গ. থেরগাথায় কয়জন স্থবিরের গাথা সংগ্রহ করা হয়েছে?

১. দু শত তেষট্টি
২. দু শত চৌষট্টি
৩. দু শত পঁয়ষট্টি
৪. দু শত ছেষট্টি

ঘ. 'তেবিজ্জা' শব্দের বাংলা অর্থ কি?

১. ত্রিবেণী
২. ত্রিকোণী
৩. ত্রিবিদ্যা
৪. ত্রিপিটক

ঙ. আত্মীয়গণ পুনরায় গৃহে প্রত্যাবর্তনের জন্য কাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন?

১. থেরী সুভা
২. থেরী বিমলা
৩. থেরী অনোপমা
৪. থেরী পুন্না

চ. 'কিং মং কাসে যুঞ্জথ?"-এ কার উক্তি?

১. থের আনন্দ
২. থের কস্সপ
৩. থেরী ধীরা
৪. থেরী সুভা

ছ. বিমলা কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন?

১. শ্রাবস্তী
২. রাজগৃহে
৩. বৈশালী
৪. কুশীনগর

জ. কোন গ্রন্থটির অধ্যায়গুলোকে 'নিপাত' নামে দেয়া হয়েছে?

১. ধম্মপদ
২. সুত্তনিপাত
৩. খুদ্দক পাঠো
৪. থেরীগাথা

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...