বচন (দশম অধ্যায়)

পালি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

257

যা দ্বারা পদার্থের সংখ্যা বোঝায় তাকে বচন বরে। পালিতে বচন দু প্রকার। যথা-একবচন ও বহুবচন। একক সংখ্যা বোঝালে একবচন হয়। যথা- দারকো একজন বালক।
একের অধিক সংখ্যা বুঝালে বহুবচন হয়। যথা- চত্তারো দারকা- চারজন বালক; চত্তারি ফলানি-চারটি ফল।
নিচে একবচন ও বহুবনের আরও কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলঃ

একবচন
নরো (মানুষ)
ভিষ্ণু (ভিক্ষু)
সো (সে)
অহং (আমি)
একো (এক)

বহুবচন
নরা (মানুষেরা)
ভিষ্ণু (ভিক্ষুগণ)
তে (তারা)
মষং (আমরা)
একে (একের অধিক)

একবচন
যো (যে)
উতু (ঋতু)
ত্বং (তুমি)
সকুণো (পাখি)

বহুবচন
যে (যারা)
উতু (ঋতুগুলো)
তুমহে (তোমরা)
সকুণা (পাখিরা)

লিঙ্গ
১. শব্দের যে বৈশিষ্ট্য থেকে পুরুষ, সত্রী কিংবা ক্লিব অর্থ বোধগম্য হয় তাকে লিঙ্গ বরে। যথা- পুত্ত, কুমারী, আযু। পালিতে লিঙ্গ তিন প্রকার। যথা- পুংলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ ও নপুংসক লিঙ্গ।
২. সাধারণত যা পুরুষসদৃশ তা পুংলিঙ্গ। যেমন- নরো (মানুষ); বুদ্ধো (বুদ্ধ)।
৩. যা স্ত্রীসদৃশ তা স্ত্রীলিঙ্গ। যথা- মাতা, রানী।
৪. যে সকল শব্দ স্ত্রী বা পুরষ কোনটাই করে না সেগুলো নপুংসক লিঙ্গ। যথা- ফল, বারি, (জল) বন। কখনও কখনও শব্দানুসারে লিঙ্গ নির্ণয় হয়ে থাকে। যথা- পুংলিঙ্গ-চন্দো; স্ত্রীলিঙ্গ-চন্দিমা; নপুংসক লিঙ্গ-পদুমং।
৫. পুংলিঙ্গকে শব্দের সঙ্গে আ, ঈ, নী, আনী, ইকা, ইয়া, ইকিনী প্রভৃতি প্রত্যয়য়োগে সাধারণত স্ত্রীলিঙ্গ গঠিত হয়। নিম্নে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলঃ

ক. অ-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দের উত্তরে স্ত্রীলিঙ্গ আ প্রত্যয় যোগ হয়।

পুংলিঙ্গ
খত্তিযো (ক্ষত্রিয়)
মানুস (মানুষ)
অস্স (অশ্ব)
কনিষ্ঠ (কনিষ্ঠ)

স্ত্রীলোক
খত্তিযা
মানুসা
অসসা
কনিষ্ঠা

খ. অ-কারান্ত শব্দের উত্তর কোন কোন ক্ষেত্রে ঈ প্রত্যয় যোগ হয়।

পুংলিঙ্গ
মানব
সুন্দর
ব্রাহ্মণ
দেব

স্ত্রীলোক
মানবী
সুন্দরী
ব্রাহ্মণী
দেবী

গ. কতকগুলো শব্দ স্ত্রীলিঙ্গ নী প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়।

পুংলিঙ্গ
মালী
দন্ডী
তপসসী
মেধাবী

স্ত্রীলোক
মালিনী
দণ্ডিনী
তপসসিনী
মেধাবিনী

পুরিষো (পুরুষ)
কর্তার বিভিন্ন পরিবর্তনে ক্রিয়ার যে পরিবর্তন ঘটে তাকে ক্রিয়ার পুরুষ বলে।
পালিতে পুরুষ তিন প্রকার:
উত্তম পুরিসো - উত্তম পুরুষ,
মঝিম পুরিসো - মধ্যম পুরুষ,
পঠম পুরিসো - প্রথম পুরুষ।
ক. উত্তর পুরুষ (উত্তম পুরিসো): নিজেকে বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে উত্তম পুরুষ বলে। যেমন-
অহং - আমি,
মযং- আমরা।
খ. মধ্যম পুরুষ (মজঝিম পুরিসো): কারও সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তার নাম মধ্যম পুরুষ। যথা-
ত্বং - তুমি,
তুমহে – তোমরা
গ. প্রথম পুরুষ (পঠম পুরিসো): কারও সম্বন্দ্বে কিছু বলতে হলে তাকে বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তার নাম প্রথম পুরুষ। উত্তম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের চারটি পদ ছাড়া অন্যান্য সর্বনাম প্রথম পুরুষ। যথা-
সো (সে), তে (তারা), নরো (মানুষ), নরা (মানুষেরা), সকুণো (পাখি), সকুণা (পাখিরা)।

Content added By

১. রচনামূলক প্রশ্ন:
ক. পালিতে বচন কয় প্রকার ও কি কি? উদাহরণ লেখ।
খ. লিঙ্গ কয় প্রকার ও কি কি? প্রত্যেকটির সংজ্ঞাসহ উদাহরণ দাও।
গ. লিঙ্গান্তর কর:
খত্তিযো; সুন্দর; মালিনী; তপসী; কনিষ্ঠ।
ঘ. বহুবচনে পরিবর্তন কর:
ভিষ্ণু; যো; ত্ব: উতু; সো।
ঙ. পালিতে পুরুষ কত প্রকার ও কি কি? প্রত্যেকটির সংজ্ঞাসহ উদাহরণ দাও।

২. সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন:
ক. একবচন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
খ. বহুবচন বলতে কি বুঝ? উদাহরণসহ বুঝিয়ে বল।
গ. উত্তম পুরুষ কাকে বলে? উদাহরণসহ লেখ।
ঘ. পালিতে প্রথম পুরুষের চারটি উদাহরণ দাও।

৩. ঠিক উত্তরের পাশে টিক (✔) চিহ্ন দাও:

ক. উত্তম পুরুষ কোনটি?

১. ত্বং
২. সা
৩. অহং
৪. বুদ্ধ

খ. কোন শব্দটি বহুবচন?

১. একে
২. ভিষ্ণু
৩. উতু
৪. সকুণো

গ. দু প্রকার কোনটি?

১. পুরিসো
২. বচন
৩. লিঙ্গ
৪. পদ

ঘ. সত্রীলিঙ্গ শব্দ কোনটি?

১. সুন্দর
২. বচন
৩. মানব
৪. খত্তিযা

ঙ. অ-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দের উত্তর স্ত্রীলিঙ্গে কোন প্রত্যয় যোগ হয়?

১. আ
২. ঈ
৩. নী
৪. ইকা

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...