ব্রয়লার মুরগির মৃত্যুর হার খুব বেশি হলে একজন ব্রয়লার পালনকারীর কাছে তা বিরাট সমস্যা। মৃত্যুর হার বেশি দেখে যেকোনো পালনকারী নিরুৎসাহ বোধ করাই স্বাভাবিক। তবে সতর্ক দৃষ্টি ও ভাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৃত্যুর হার কমানো যায়। মাত্র কয়েকটি রোগ ছাড়া বেশির ভাগ রোগকে নিরাময় করা যায় না। তাই যেকোনো রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- ব্রয়লার রোগ ও রোগের শ্রেণি বিভাগ করতে পারব
- রাণীক্ষেত রোগের কারণ, সংক্রমণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাখ্যা করতে পারব
- গামবোরো রোগের কারণ, সংক্রমণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাখ্যা করতে পারব
- এভিয়ান-ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের কারণ, সংক্রমণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাখ্যা করতে পারব
- ইনফেকশাস ব্রংকাইটিস রোগের কারণ, সংক্রমণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাখ্যা করতে পারব
- ককসিডিওসিস রোগের কারণ, সংক্রমন, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাখ্যা করতে পারব
- ব্রয়লারের পুষ্টি উপাদানের অভাব জনিত রোগের নাম, কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাখ্যা করতে পারব
- ব্রয়লারের টিকা প্রদান কর্মসূচি বর্ণনা করতে পারব
- খামারের বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব
- ইনফেকশাস ব্রংকাইটিস রোগের কারণ, সংক্রমণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাখ্যা করতে পারব
- ককসিডিওসিস রোগের কারণ, সংক্রমন, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাখ্যা করতে পারব
- ব্রয়লারের পুষ্টি উপাদানের অভাব জনিত রোগের নাম, কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাখ্যা করতে পারব
- ব্রয়লারের টিকা প্রদান কর্মসূচি বর্ণনা করতে পারব
- খামারের বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব
৪.১ ব্রয়লারের রোগ ও রোগের শ্রেণি বিভাগ (Classification of Broiler Doseases) :
পর্যাপ্ত খাদ্য ও উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার পরও যদি শরীরের অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় তবে তাকে রোগ বলে। অর্থাৎ যেকোনো প্রাণির স্বাভাবিক অবস্থা থেকে অস্বাভাবিক অবস্থায় রুপান্তরকেই রোগ বলে ।
ব্রয়লার মুরগির অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রোগগুলোকে নিম্নরূপে শ্রেণিবিভাগ করা যা:
- সংক্রামক রোগ (Contagious Diseases)
- অসংক্রামক রোগ (Non-contagious diseases)
- পরজীবী ঘটিত রোগ (Parasitic Diseases)
- অপুষ্টিজনিত রোগ (Malnutritious Diseases)
সংক্রামক রোগ (Contagious Disease)
যে সমস্ত রোগ জীবাণু মাধ্যমে অসুস্থ পাখি থেকে সুস্থ পাখিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সেগুলোকে সংক্রামক রোগ বলে। এদেরকে নিম্নলিখিত ভাবে ভাগ করা যায়, যথা-
২. অসংক্রামক রোগ (Non-contagious diseases) :
যে সমস্ত রোগ জীবাণু বা জীবিত বস্তুর উপস্থিতি ছাড়া জীব দেহে হঠাৎ যে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে অসংক্রামক রোগ বলে।
৩. পরজীবী (Parasites) জনিত রোগ:
পরজীবী এক ধরনের জীব যা অন্য জীব দেহে বসবাস করে জীবন ধারন করে। যে জীবের দেহের উপর এরা জীবন ধারন করে তাদেরকে হোস্ট বা গোষক বলে। কিছু পরজীবী আছে যারা পোষকের দেহের ভিতরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বসবাস করে ক্ষতিসাধন করে। এদেরকে দেহাভ্যন্তরের পরজীবী বলে। আবার কিছু পরজীবী আছে যারা পোষকের দেহের বাহিরের অঙ্গে বসবাস করে ক্ষতি সাধন করে । এদেরকে বহিঃদেহের পরজীবী বলে। উভয় পরজীবী আক্রমণের ফলে পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এরা পাখির দেহে বসবাস করে পাখি কর্তৃক খাওয়া পুষ্টিকর খাদ্য নিজেরা খেয়ে ফেলে, ফলে আক্রান্ত পাখি পুষ্টি হীনতায় ভোগে। অনেক পরজীবী পাখির দেহে বসবাস করে রক্ত তবে নেয়, ফলে আক্রান্ত পাখির দেহে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
পরজীবী দুই প্রকার:
১. অন্তঃপরজীবী: কৃমি
২. বহিঃপরজীবী: উকুন, আটালী, মাইট।
অপুষ্টি জনিত রোগ (Malnutrition):
গৃহপালিত পাখি পালনের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হল পাখিকে সুষম খাদ্য প্রদান করা। পাখির মাংস ও ডিম উৎপাদন এবং দৈনিক বৃদ্ধি সাধনের জন্য সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। খাদ্যের মধ্যে যেকোনো খাদ্যে উপকরণের অভাব হলে মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাঘাত ঘটে, ডিম ও মাংস উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায় এমনকি পাখির মৃত্যুও হতে পারে। অপুষ্টি জনিত রোগঃ জেরোপথ্যালামিয়া, প্যারালাইসিস, পেরোসিস, ক্যানাবলিজম, রিকেট ।
শ্রেণির তাত্ত্বিক কাজ -১ (জীবাণু ঘটিত রোগ)
শ্রেণির তাত্ত্বিক কাজ-২ (পরজীবী নাম)
৪.২ জীবাণুঘটিত রোগ
ভাইরাস জনিত রোগসমূহ
৪.২.১ রাণীক্ষেত রোগ (Newcastle Disease):
রাণীক্ষেত ব্রয়লার মুরগির ভাইরাসজনিত তীব্র ছোঁয়াচে রোগ। পৃথিবীর কমবেশি প্রত্যেক দেশে এ রোগের প্রকোপ রয়েছে। বাংলাদেশের মুরগির রোগগুলোর মধ্যে রাণীক্ষেত সবচেয়ে মারাত্মক ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর এ রোগে দেশের বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়। এ রোগের ব্যাপকতা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি যে, মুরগি পালনের জন্য রাণীক্ষেত রোগ একটি প্রধান অন্তরার। বয়স্ক অপেক্ষা বাচ্চা মুরগি এতে বেশি আক্রান্ত হয়। সাধারণত: শুল্ক আবহাওয়ায়, যেমন- শীত ও বসন্তকালে এ রোগটি বেশি দেখা যায়। তবে, বছরের অন্যান্য সময়েও এ রোগ হতে পারে। এ রোগটি সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল নামক শহরে শনাক্ত করা হয়। তাই তাকে নিউক্যাসল ডিজিলও বলা হয়। তাছাড়া এ উপমহাদেশে ভারতের রাণীক্ষেত নামক স্থানে সর্বপ্রথম এ রোগটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে বলে এ রোগকে রাণীক্ষেত রোগ বলা হয় ।
রোগের কারণঃ
রাণীক্ষেত রোগ বলা হয় । প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের নিউক্যাসল ডিজিজ ভাইরাস নামক এক প্রজাতির প্যারামিক্সোভাইরাস এ রোগের কারণ।
রোগ সংক্রমণ -
নিম্নলিখিতভাবে এ রোগের জীবাণু সংক্রমিত হতে পারে। যেমন-
- বাতাসের মাধ্যমে আক্রান্ত স্থান থেকে অন্যস্থানে জীবাণু ছড়াতে পারে
- অসুস্থ বা বাহক পাখির সর্দি, হাঁচি-কাশি থেকে অন্যস্থানে জীবাণু ছড়াতে পারে
- আক্রান্ত এবং অতিথি পাখি বা মুরগি আমদানির মাধ্যমে
- মৃত মুরগি বা পাখি যেখানে সেখানে ফেললে
- বন্য পশুপাখির মাধ্যমে
- পরিচর্যাকারী বা দর্শনার্থী মানুষের জামা, জুতো বা খামারের যন্ত্রপাতির মাধ্যমে
- খাদ্য, পানি ও লিটারের মাধ্যমে
রোগের লক্ষণ: রাণীক্ষেত রোগের প্রধানত তিন প্রকৃতির লক্ষণ প্রকাশ পায় । যথা-
ক. ভেলোজেনিক (Velogenic) প্রকৃতি লক্ষণ ।
খ. মেসোজেনিক (Messogenic) প্রকৃতি লক্ষণ ।
গ. লেন্টোজেনিক (Lentogenic) প্রকৃতি।
ক. ভেলোজেনিক প্রকৃতি লক্ষণ :
এ প্রকৃতির রাণীক্ষেত রোগ সবচেয়ে মারাত্বক। এতে অনেক সময় অত্যন্ত দ্রুত জীবাণু সংক্রমনের ফলে লক্ষণ প্রকাশের পূর্বেই মুরগি মারা যেতে পারে। তবে তা না হলে নিম্নলিখিত লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন-
- প্রথমদিকে আক্রান্ত পাখি দলছাড়া হয়ে ঝিমাতে থাকে
- মাথায় কাপুনি হয়, ঘন ঘন শ্বাস গ্রহন করে
- সাদাটে সবুজ পাতলা পায়খানা করে ও দূর্বল হয়ে পড়ে
- মুখ হা করে রাখে, কাশতে থাকে এবং নাকমুখ দিয়ে শ্লেষ্মা ঝরে
- শরীর শুকিয়ে যায়
- মাথার ঝুঁটি ও গলার ফুল কালচে হয় এবং চোখ মুখ ফুলে যায়
- ডিমপাড়া মুরগির ডিম উৎপাদন কমে যায়, ডিমের খোসা পাতলা ও খসখসে হয়। তাছাড়া অপুষ্ট ডিম উৎপন্ন হয়
খ. মেসোজেনিক প্রকৃতি লক্ষণ:
মেসোজেনিক প্রকৃতিতে আক্রান্ত মুরগিতে রোগের লক্ষণ ততটা তীব্র নয়। তবে, নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা যায়।
- ক্ষুদামন্দা দেখা দেয় ।
- ডিম উৎপাদন কমে যায় ৷
- পাখির কাশি হয় ও মুখ হা করে নিঃশ্বাস নেয়।
- হলদে সবুজ রঙের পাতলা পায়খানা করে ।
- জীবাণু আক্রমনের দু সপ্তাহ পর স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়। ফলে মাথা ঘুরায় ও পা অবশ হয়ে যায়।
- মাথা একপাশে বেকে যেতে পারে, কখনো বা মাথা দু পায়ের মাঝখানে চলে আসে অথবা সোজা খাড় বরাবর পিছন দিকে বেঁকে যেতে পারে।
গ. লেপ্টোজেনিক প্রকৃতি
এতে মৃদু প্রকৃতির লক্ষণ প্রকাশ পায়। যথা-
- শ্বাসতন্ত্র কম আক্রান্ত হওয়ায় এ তন্ত্রের লক্ষণ কম প্রকাশ পায়।
- সামান্য কাশি থাকে।
- কিছুটা ক্ষুদামন্দা ভাব থাকে ।
- ডিমপারা মুরগির ডিম উৎপাদন আস্তে আস্তে কমতে থাকে।
রোগ নির্ণয়:
ময়নাতদন্তে নিম্নলিখিত লক্ষন দেখা যায়-
- শ্বাসনালীতে রক্তাধিক্য ও রক্ত সঞ্চায়ন
- স্বরযন্ত্র ও শ্বাসনালীতে রক্তাম্ব বা লৈখিক নিঃশ্ৰাৰ
- প্লীহা বড় হয়ে যায়
- খাদ্য অস্ত্রে, বিশেষ করে প্রভেন্ট্রিকুলাস ও পিজার্ভে রক্তক্ষরিত পচা ক্ষত দেখা যায়
- অন্ত্রের শেষভাগে পাতলা সাদাটে মল
চিকিৎসা:
এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। তবে, আক্রান্ত পাখিতে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমিক সংক্রমণ রোধে অ্যান্টিবায়োটিক বা সালফোনেমাইড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও ০.০১% পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট পানির সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত পাখিকে দৈনিক ২/৩ বার খাওয়ানো যেতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ :
রাণীক্ষেত রোগ প্রতিরোধ দু'ধরনের টিকা ব্যবহার করা হয়। যথা- বি.সি.আর.ডি.ভি এবং আর. ডি. ভি।
বি.সি.আর.ডি.ভি:
এ টিকাবীজের প্রতিটি শিশি বা ভায়ালে হিম শুষ্ক অবস্থায় ১ মি. লি. মূল টিকাবীজ থাকে। প্রতিটি শিশির টিকাবীজ ৬ মি.লি. পরিস্রুত পানিতে ভালোভাবে মিশাতে হয়। এরপর ৭ দিন ও ২১ দিন বয়সের প্রতিটি বাচ্চা মুরগির এক চোখে এক ফোটা করে ড্রপারের সাহায্য নিতে হবে।
আর. ডি. ভি:
এ টিকাবীজের প্রতিটি ভায়ালে ০.৩ মি.লি. মূল টিকাবীজ হিম শুষ্ক অবস্থায় থাকে। এ টিকা দু'মাসের অধিক বয়সের মুরগির জন্য উপযোগী। প্রথমে ভায়ালের টিকাবীজ ১০০ মি:লি: পরিস্রুত পানির সঙ্গে ভালভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর তা থেকে ১ মি.লি. করে নিয়ে প্রতিটি মুরগির রানের মাংসে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে হবে। ছয় মাস পরপর এ টিকা প্রয়োগ করতে হবে। টিকা ছাড়া খামার থেকে রোগ দমনের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে । যথা-
- রাণীক্ষেত রোগে মৃত পাখিকে পুড়িয়ে ফেলতে হবে বা মাটি চাপা দিতে হবে
- খামারের যাবতীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি জীবাণুনাশক ওষুধ (যেমন-আয়োসান, সুপারসেপ্ট ইত্যাদি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিত মাত্রায়) দিয়ে পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে
শ্রেণির তাত্ত্বিক কাজ
৪.২.২ গামবোরো রোগ (Infectious bursal Disease):
গামবোরো বাচ্চা মুরগির মারাত্বক সংক্রমণ রোগ। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এর প্রাদুর্ভাব রয়েছে। এ রোগে মুরগির রোগ প্রতিরোধক অঙ্গ অর্থাৎ বার্সা ফ্যাব্রিসিয়াস আক্রান্ত হয় বলে প্রতিরোধক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তখন এরা সহজেই অন্য যেকোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই এ রোগকে বাৰ্ড এইডস না পোল্ট্রি এইডসও বলা হয়। এই রোগটি সর্ব প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের ডেলওয়ার অঙ্গরাজ্যের গামবোরো অঙ্গ রাজ্যে শনাক্ত করা হয় বলে একে গামবোরো রোগ বলে। কিন্তু এর মূল নাম ইনফেকশাস বার্সাইটিস বা ইনফেকশাস বার্সাল ডিজিজ। এ রোগে সাধারণত ২-৬ সপ্তাহ বয়সের বাচ্চা বেশি আক্রান্ত হয়। আক্রান্তের হার খুব বেশি (১০০% পর্যন্ত), তবে মৃত্যু হার খুব কম (৫-১৫%)। তবে কোনো কোনো সমর আক্রান্ত বাচ্চার ৫০% ও মারা যেতে পারে। এ রোগ থেকে সেরে ওঠা মুরগির উৎপাদন ক্ষমতা অত্যন্ত কমে যায়।
রোগের কারণ:
বিরনা ভিরিডি পরিবারের অন্তর্গত বিরনা ভাইরাসের সেরোটাইপ-১ এ রোগের জন্য দায়ী। এ ভাইরাসের দুটো স্ট্রেইন রয়েছে। যেমন- ক্ল্যাসিকাল ও ভেরিয়েন্ট স্ট্রেইন।
সংক্রামণঃ
নিম্নলিখিতভাবে এ রোগটি অসুস্থ্য মুরগি থেকে সুস্থ্য মুরগিতে সংক্রমিত হতে পারে। যেমন-
- একই ঘরে রাখা অসুস্থ্য বাচ্চার সংস্পর্শে সুস্থ বাচ্চা এলে
- বাতাসের মাধ্যমে
- কলুষিত লিটার, যন্ত্রপাতির মাধ্যমে
- খাদ্য, লিটার, পোকামাকড়ের মাধ্যমে
- পরিচর্যাকারী বা দর্শনার্থীর জামা, জুতো ইত্যাদির মাধ্যমে
গামবোরো রোগে আক্রান্ত লক্ষণ দেখা যায়:
- পালক উসকোখুশকো হয়ে যায়।
- শ্লেষ্মাযুক্ত মল ত্যাগ করে, মলে রক্ষ থাকতে পারে। এ মল মলদ্বারের চারপাশে আঠার মতো লেগে থাকতে পারে।
- প্রথমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যার ও পরে তা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে আসে।
- পাতলা পায়খানা বা ভাররিরার কারণে পানিশুন্যতা দেখা দেয়।
- মুরগি ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় ও দুর্বল হয়ে যায় ।
- শরীরের সতেজতা নষ্ট হয়।
- তীব্র রোগে মুরগির শরীরে কাপুনি হর ও অবশেষে পাখি মারা যায়।
- বেঁচে যাওয়া মুরগির দৈহিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় ।
- বাচ্চাগুলো একসঙ্গে ব্রুডার বা ঘরের এককোণে জড়ো হয়ে থাকে।
- ক্রিম সবুজ রঙের ডায়রিয়া হয়।
রোগ নির্ণয়:
মৃত বাচ্চার ময়না তদন্তে নিম্নলিখিত প্যাথলজিক্যাল পরিবর্তন দেখে গামবোরো রোগ সনাক্ত করা যায়-
- থাইমাস এবং বার্সা স্কুলে যায় ও তাতে রক্তের ছিটা দেখা যাবে
- গা এবং উরুর মাংসে রক্তের বড় বড় ছিঁটা দেখা যায়
চিকিৎসা:
এ রোগের কোন চিকিৎসা নেই । তবে আক্রান্ত পাখিগুলোকে ৩-৫ দিন স্যালাইন পানি (৫ লিটার পানি + ২৫০ গ্রাম আখের গুড় + ১০০ গ্রাম লবণ) পান করালে এদের পানিশূন্যতা রোধ হয়। এরা পায়ে শক্তি পায় এবং রক্তপড়া বন্ধ হতে পারে।
রোগ প্রতিরোধঃ রোগপ্রতিরোধই এ রোগ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র পন্থা। এজন্য খামারে সবসময় সাহাসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। ঘরলোর, খাঁচা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি জীবাণুনাশক, যেমন ফরমালিন (ফরমালিন : পানি = ১:৯), আরোসান বা সুপারসেন্ট দিয়ে ধৌত করতে হবে। বাংলাদেশে পামবোরোর বেশ কয়েক ধরনের টিকা আমদানি করা হয় যেমন:
- নবিপিস গামবোরো ডি ৭৮
- ভি১ বার্সা জি
- বার ৭০৬
- পামবোরাল সিটি ইত্যাদি
এখনো প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিত মাত্রায় নির্দিষ্ট বয়সে পাখিতে প্রয়োগ করতে হবে। তবে, ১৪-১৮ দিন বয়সে প্রথমবার ও ২৪-২৮ দিন বয়সে বুষ্টার হিসেবে চোখে ড্রপ বা মুখের মাধ্যমে পান করিয়ে এ টিকা প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
৪.২.৩ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (Avian Influenza) :
এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের কারণ:
এটি ভাইরাসজনিত রোগ। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা নামক ভাইরাস এরোগের কারণ। মানুষে ছড়ালে একে বা ফ্লু বলে। মানুষে সংক্রমণের কারণে বার্ড ফ্লু বর্তমানে সর্বাধিক আলোচিত রোগ। এ রোগে ব্রয়লার মুরগির মৃত্যুর হার ১০০% পর্যন্ত হতে পারে।
রোগের বিস্তার:
রোগাক্রান্ত মুরগির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শ, মুরগির মল, লালা ইত্যাদি ব্যবহৃত খাদ্য, পানি, যন্ত্রপাতি, পাত্র, ইত্যাদির মাধ্যমে রোগটি ছড়াতে পারে।
এছাড়া আক্রান্ত খামারের যানবাহন, ব্যক্তি, পরিদর্শনকারী ইত্যাদির মাধ্যমে রোগটি ছড়াতে পারে ।
রোগের লক্ষণ:
- ব্রয়লারের খাবার চাহিদা কমে যায়
- চোখ, মাথা ও ঝুঁটি ফুলে যায়
- চোখ দিয়ে পানি পড়ে
- শরীরের পালকবিহীন অংশে রক্ত জমে কালো হয়ে যায়
- মুরগি দুর্বল হয়ে প্যারালাইসিস হরে যার
- আক্রান্ত মুরগির শ্বাসকষ্ট হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বড় বড় শব্দ করে
- ঝুটি বেগুনি রং ধারণ করে
- সবুজ রঙের পাতলা পায়খানা দেখা যায়
- আক্রান্তের হার দ্রুত বাড়তে থাকে এবং মৃত্যুর হার ১০০% পর্যন্ত হতে পারে
পোস্টমর্টেম লক্ষণঃ
শরীরের বিভিন্ন অংশে ও মাংসপেশিতে রক্তক্ষরণ দেখা যায়। চামড়ার নিচে, শ্বাসনালী, ফুসফুসে রক্তক্ষরণ ও যা দেখা যায়। সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত ল্যাবে পাঠাতে হবে।
প্রতিরোধের উপায়ঃ
জৈব নিরাপত্তা সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে। এছাড়া কোনো খামারে এ রোগ দেখা দিলে সম্মিলিতভাবে বৈজ্ঞানিক উপারে সমক ব্রয়লার মুরগিকে ধ্বংস করতে হবে। কোন ভাবেই আক্রান্ত মুরগি খামার থেকে বের করা যাবে না।
শ্রেণির তাত্ত্বিক কাজ
৪.২.৪ ইনফেকশাস ব্রংকাইটিস (Infections Bronchitis) :
রোগের কারণ:
এভিয়ান করোনা ভাইরাস এ রোগের কারণ। সাধারণত বাচ্চা মুরগির এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সাদা জাতের মুরগিতে এ রোগের প্রাদুভাব বেশি। মৃত্যুহার ১০-১৫% পর্যন্ত হতে পারে। বাচ্চা মৃত্যুর হার ১০% পর্যন্ত হতে পারে ।
রোগের বিস্তার:
বাতাসের মাধ্যমে আক্রান্ত মুরগি ও তার ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়।
রোগের লক্ষণ:
- খামারে এ রোগের আক্রমণ হঠাৎ করে ঘটে ও প্রায় সকল মুরগি এক সাথে আক্রান্ত হয়
- শ্বাসকষ্ট হয় ও মুখ দিয়ে পানি ঝরতে থাকে
- সকালে ও রাতে লক্ষণগুলো প্রকট হয়
- অনেক সমর পানির মত পাতলা ডাইরিয়া হয়
- চোখের ঝিল্লি লাল হয়
- ডিম পাড়া মুরগির ডিম উৎপাদন কমে যায় ও ডিমের খোসা পাতলা ও অমসৃণ থাকে
পোস্টমর্টেম লক্ষণ:
শ্বাসনালীতে প্রচুর শ্লেম্মা ও মৃদু রক্তক্ষরণ দেখা দিবে। অস্বাভাবিক ডিমের কুসুম দেখা যাবে।
প্রতিরোধ :
নিয়মমতো টিকা প্রদান করতে হবে এবং জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
চিকিৎসা:
কার্যকরী চিকিৎসা নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে সংক্রমণ এড়াতে অ্যান্টিবায়োটিক (মাইক্রোনিড, ডক্সাসিল ভেট) প্রয়োগ করতে হবে।
শ্রেণির তাত্ত্বিক কাজ
প্রটোজোয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ :
৪.২.৫ ককসিডিওসিস (Coccidiosis) বা রক্ত আমাশয়ঃ
ককসিডিয়া নামক প্রটোজোয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগসমূহকে ককসিডিওসিস বলে। অল্প বয়সের মুরগি বিশেষ করে ৪-৮ সপ্তাহের ব্রয়লার মুরগি এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে বেশি বয়সী মুরগিতেও কখনও কখনও এ রোগ দেখা দেয়। আমাদের দেশে আইমেরিয়া টেনেলা ও আইমেরিয়া নেকাট্রিক্স নামে ২টি জীবাণু দ্বারা রক্ত আমাশয় হয়। মুরগির বাচ্চার মড়কের কারণগুলোর মধ্যে এই রোগ অন্যতম।
রোগের লক্ষণঃ
- হঠাৎ করে খাদ্য ও পানি গ্রহণে অনীহা দেখাবে
- পালক উসকো খুসকো হবে
- রক্ত মিশ্রিত চুনা পায়খানা করবে ও মলদ্বারের পালকগুলো পায়খানায় ভিজা থাকে
- বাচ্চা চোখ বুজে এক জায়গায় চুপ করে বসে থাকে
- শরীরে কাঁপুনি হয়
- ঠোঁট পা ঝুঁটি ও গলার ফুল ফ্যাকাশে হয়ে যায়
পোস্টমর্টেম লক্ষণঃ
আক্রান্ত মুরগিতে রক্তমিশ্রিত পায়খানা থাকে। অন্ত্রের আক্রান্ত স্থানে ক্ষত চিহ্ন দেখা যায় ও অন্ত্রের দেয়ালের বাইরে থেকে রক্ত আবরণের চিহ্ন দেখা যায়। সিকামে রক্ত মিশ্রিত তরল বিষ্ঠা থাকবে।
প্রতিরোধ:
- স্বাস্থ্যসম্মত লিটার ও পরিবেশ বজায় রাখতে হবে
- ব্রয়লারের ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে
- বাড়ন্ত মুরগির সাথে বাচ্চা মুরগি রাখা যাবে না
- পানির পাত্রের নিচের ও চারিপার্শ্বের লিটার প্রতিদিন উলট পালট করে দিতে হবে
- বাচ্চা মুরগির ঘরে কাজ করার পর বড় মুরগির ঘরে কাজ করতে হবে
- বিধি মোতাবেক ঘর পরিষ্কার ও লিটার পরিবর্তন করে নতুন ব্যাচে বাচ্চা তুলতে হবে
- লিটার সব সময় শুষ্ক রাখতে হবে। ১০০ বর্গফুট জায়গায় ৫-৭ কেজি চুন ছিটিয়ে মিশিয়ে দিয়ে লিটার ওলট পালট করে দিলে লিটার শুষ্ক থাকবে। ফলে ককসিডিয়ার জীবাণুসহ অন্যান্য জীবাণু মারা যাবে।
- প্রতি ১০০ কেজি খাদ্যে ৫০ গ্রাম বাজারে প্রাপ্ত ককসিডিওস্ট্যাট মিশিয়ে খাদ্যে ব্যবহার করতে হয়।
- জৈব নিরাপত্তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
- টিকা ব্যবহার করেও বাচ্চার ককসিডিওসিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
চিকিৎসা:
- ইএসবি-৩ (৩০%) প্রতি লিটার পানিতে ১.৫-২ গ্রাম বা এমবাজিন (২৫%) প্রতি লিটার পানিতে ১.৫ গ্রাম মিশিয়ে ৩ দিন খাওয়ানোর পরে ২ দিন শুধুমাত্র পানি খাওয়াতে হবে। পুনরায় ৩ দিন উক্ত ঔষধ খাওয়াতে হবে। এছাড়া ককট্রিট ইপি পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে ।
- ভিটামিন-কে গ্রুপের ঔষধ প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম ৫-৬ দিন খাওয়াতে হবে।
৪.৩ অপুষ্টিজনিত রোগ (Malnutritious Diseases):
খাদ্যের যেকোনো এক বা একাধিক খাদ্যোপাদানের ঘাটতির কারণে ব্রয়লার মুরগির বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যাহত হয়, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। নিচে ব্রয়লারে বিভিন্ন ভিটামিনসমূহের অভাবজনিত রোগ, তাদের চিকিৎসা ও প্রতিকারের বর্ণনা দেওয়া হলো
ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ
৪.৩.১ জেরোপথ্যালমিয়া
কতদিন পর্যন্ত মুরগিগুলো এই ভিটামিনের অভাবে ভুগছে তার উপর ভিত্তি করে ভিটামিন-‘এ' এর অভাবে সৃষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায়। বয়স্ক মুরগিতে লক্ষণ দেখা দিতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কিন্তু ব্রয়লার মুরগিতে ২/৩ সপ্তাহে মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। ভিটামিন-‘এ' এর অভাবজনিত লক্ষণগুলো অবস্থা ও বয়স ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে ।
অভাবজনিত লক্ষণ :
- চোখের দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পায়, চোখের পাতা ফুলে যায়
- নাক ও চোখ দিয়ে আঠার মতো জলীয় পদার্থ বের হয়
- রাতকানা রোগ হয়
- পায়ের হাঁটু ও চামড়ার হলুদ রং ফ্যাকাশে হয়ে যেতে থাকে
- খাবার গ্রহণে আগ্রহ কমে যায় ও পালকের চাকচিক্য কমে যেতে পারে
- মাথার ঝুঁটি, গলার ফুল নীলাভ ও শুষ্ক হয়। ঝুঁটি শুষ্ক ও ফ্যাঁকাশে হয়ে যায়
- বাচ্চার শারীরিক বৃদ্ধি কমে যায়
অভাব নিরূপণ:
- খাদ্যে ভিটামিন এর পরিমাণ সঠিক আছে কিনা তার রাসায়নিক বিশ্লেষণ করা
- রক্তের সিরামে ভিটামিন এর পরিমাণ নির্ণয় করা
- চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায় কিনা তা লক্ষ্য করার মাধ্যমে এই ভিটামিনের অভাবজনিত অবস্থা নিরূপণ করা যায়
প্রতিকার ও চিকিৎসঃ
খাদ্যে এন্টি অক্সিডেন্ট ব্যবহার করা প্রয়োজন। শাকসবজি, ভূট্টা, গম, ছোট মাছ, ফলমুল, ফলমূলের খোসা, হাঙ্গর মাছের তেল খাওয়ানে ভিটামিন-এ এর অভাব দূর হয়। লক্ষণ দেখা দিলে প্রতিদিন বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন এ.ডি. প্রবণ প্রস্ততকারকের নির্দেশমত খাদ্য বা পানির সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ করতে হবে।
৪.৩.২ রিকেট:
শরীরের হাড় এবং ডিমের খোসার গঠনের জন্য অর্থাৎ ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস-এর কার্যকারিতার জন্য এই ভিটামিন অত্যন্ত জরুরি। সালফার জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করলে বা খাবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে ভিটামিন- দ্ধি নষ্ট হয়ে যার ফলে মুরগি খাবার হতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভিটামিন-ডি পায় না।
অভাব্জনিত লক্ষণঃ
- পারের অস্থি নরম মোটা ও বাঁকা হয়ে যায়, ফলে মুরগি ঠিকমতো হাঁটতে পারে না। একে “রিকেট” রোগ বলা হয়
- ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে হ র লক্ষণ প্রকাশ পাবে
- ঠোঁট, হাড় ও পায়ের নখ নরম হয়ে যায়, ফলে মুরগি হাঁটুর উপর ভর দিয়ে চলে
- দৈহিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে ও পাঞ্জর স্কুলে যায়
রোগ নিরূপণ :
ক)লক্ষণ দেখে রোগ নিরূপণ তথা ভিটামিন-ডি এর অভাব বোঝা যায় ।
খ) খাদ্যে ভিটামিনের পরিমাণ পরিমাপ করে এবং
গ) সন্দেহজনক মুরগিকে যদি ভিটামিন-ডি সরবরাহ করে ভালো ফল লাভ করা যায় তাহলে বুঝতে হবে মুরগিগুলো ভিটামিন-ডি এর অভাবে ভুগছিল ।
সতর্কতাঃ
অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন-ডি খাদ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োগ করলে মুরগির কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে ।
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:
- খাদ্যে পর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন কোম্পানির এ.ডি.ই দ্রবন নির্দেশমত খাওয়াতে হবে
- যেহেতু ভিটামিন-ডি এর সাথে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িত তাই একই সাথে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম এর প্রয়োজনীয় ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে
- খামারে ছোট বাচ্চাগুলোকে সম্ভব হলে দিনের কিছুটা সময় রোদ্রের সংস্পর্শে আসার সুযোগ দিলে এবং সকালবেলা ব্রয়লারের জন্য সূর্যালোকের ব্যবস্থা করলে ভিটামিন-ডি এর অভাবজনিত রোগের সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে
৪.৩.৩ ভিটামিন বি -১ (থায়ামিন) এর অভাবজনিত রোগ: (স্টার গেজিং)
পানিতে দ্রবণীয় এ ভিটামিনটির অভাবে খুব তাড়াতাড়ি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। খাদ্যে অধিক পরিমাণে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভিটামিন-বি-১ বিদ্যমান না থাকলে এর অভাবজনিত লক্ষণ দেখা যায় ।
অভাবজনিত লক্ষণঃ
- অরুচি এবং খাদ্য গ্রহণে অনীহা
- দৈহিক ওজন হ্রাস
- উসকো খুসকো পালক
- দুর্বলতা এবং হাঁটতে অনীহা
- ঝিমানো ভাব
- ঘাড় বাঁকানো বা ঘুরিয়ে উল্টোভাবে রাখা লক্ষণ প্রকাশ পায়
- কখনও কখনও মুরগি ঘাড় পিছনের দিকে বাঁকা করে উর্ধ্বমুখী হয়ে অবস্থান করে, একে “স্টার গেজিং” বলে
রোগ নির্ণয় :
- লক্ষণ অনুযায়ী ভিটামিন বি-১ এর অভাবে ভুগছে
- আক্রান্ত ব্রয়লার মুরগির খাদ্যে ভিটামিন এর পরিমাণ গবেষণাগারে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে এরা আসলে ভিটামিন- বি-১ এর অভাবে ভুগছে কিনা
প্রতিরোধ ও চিকিৎসাঃ
- পানি বা খাবারে ভিটামিন-বি-১ সরবরাহ করা। প্রথম কয়েক দিন প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থাৎ ১০- ১৫ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি খাবারের সাথে মিশিয়ে দিতে হবে
- খুব অসুস্থ্য ব্রয়লার মুরগির জন্য আরও বেশি পরিমাণে ভিটামিন বি-১ খাবারে সরবরাহ করা প্রয়োজন।
- এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন খাবারের সাথে ভিটামিন-বি-১ মিশিয়ে দিতে হবে
৪.৩.৪ কার্ল-টো-প্যারালাইসিস
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং খাবার পানির পিএইচ ভিটামিন বি-২ কে নষ্ট করে ফেলতে পারে। তাই খাদ্যে এর অভাব দেখা দিতে পারে।
অভাবজনিত লক্ষণ
বাচ্চা অবস্থায় প্রথম কয়েক সপ্তাহ ও ভিটামিনটির অভাব হলে মুরগির মধ্যে-
- দৈহিক দুর্বলতা ও অপর্যাপ্ত বৃদ্ধি হয়
- শুকিয়ে যায় এবং স্বাভাবিক পালক গজায় না
- পাতলা পায়খানা হয়
- তীব্র আক্রান্ত মুরগির পা অবশ হয়ে গিয়ে বুকের উপর ভর দিয়ে হাঁটে
- পারের অবশতাজনিত রোগ দেখা যায় যাকে কার্ল-টো-প্যারালাইসিস বলে । এক্ষেত্রে দুই পা 'দু' দিকে অর্থাৎ সামনের দিকে এক পা চলে পিছনের দিকে চলে যায় ফলে পা-গুলি অচল হয়ে যায় তাই তারা হাঁটতে পারে না এবং না খেয়ে মৃত্যুবরণ করে
- ব্রিডার মুরগি হলে দ্রিম হতে ডিম ফোটার হার কমে যায় এবং ডিমের ভিতর বাচ্চা মারা যায়
রোগ নিরূপনঃ
রোগের লক্ষণ দেখে ভিটামিন বি-২ সরবরাহ করলে যদি লক্ষণগুলো দ্রুত চলে যায় তবে বুঝতে হবে মুরগিগুলো ঐ ভিটামিনের অভাবে ভুগছিল ।
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:
- খাদ্যের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন বি-২ থাকা দরকার
- মাঝে মাঝে পানিতে অন্যান্য ভিটামিনের সাথে বি-২ সরবরাহ করা প্রয়োজন, যাতে এই ভিটামিনের অভাব না হয়
- আক্রান্ত ব্রয়লার মুরগিগুলোকে আলাদা ভাবে রেখে ভিটামিন বি-২ খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়
৪.৩.৫ ভিটামিন বি -৬ (পাইরিডক্সিন) এর অভাবজনিত রোগ
খাবারের মধ্যে অধিক পরিমাণে প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকলে সাধারণত এ ভিটামিনটির অভাবজনিত সমস্যা দেখা যায় । কারণ এটি প্রোটিনের বিপাকে সাহায্য করে ।
অভাবজনিত লক্ষণ:
- দুর্বলতা, খাদ্য গ্রহণে অনীহা বা অরুচি, উসকো খুসকো পালক ইত্যাদি
- দৈহিক বৃদ্ধি কম হওয়া
- প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়
- আক্রান্ত ব্রয়লার মুরগিগুলো উদ্দেশ্যহীনভাবে ছুটোছুটি করতে থাকে এবং সবশেষে খিঁচুনি দেখা যায় এবং মৃত্যু হয়
রোগ নির্ণয়:
খাদ্যে ভিটামিনের পরিমাণ নির্ণয় করে ও রোগের লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণার ভিত্তিতে ভিটামিন বি-৬ সরবরাহ করলে যদি ভালো ফল পাওয়া যায় তবে বুঝতে হবে ঐ ঝাঁকের মুরগিগুলি ভিটামিন বি-৬ এর অভাবে ভুগছিল ।
প্রতিকার ও চিকিৎসা:
- লক্ষণ প্রকাশ পেলে খাবারের বা পানির সাথে ভিটামিন বি-৬ সরবরাহ করে এ রোগের লক্ষণ প্রশমিত করা যায়
- নিয়মিত পরিমাণমত ভিটামিন বি-৬ খাবারের সাথে সরবরাহ করলে এর অভাবজনিত লক্ষণ দেখা যায় না
৪.৩.৬ খনিজ পদার্থের অভাবজনিত রোগ
আমিষ, শ্বেতসার, চর্বি এবং ভিটামিনের মতো পাখির খাদ্যে খনিজ পদার্থের একান্ত প্রয়োজন। পাখির বা মুরগির দৈহিক বৃদ্ধি,স্বাস্থ্য রক্ষা এবং প্রজননের জন্য খনিজপদার্থ অত্যাবশ্যক। তবে অধিক পরিমাণে খনিজপদার্থ বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।তাই পরিমিত পরিমাণ খনিজপদার্থ খাদ্যের সাথে সরবরাহ করতে হয় ।
ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস এর কাজ:
- পাখির দেহের অস্থি গঠন, ডিমের খোসা তৈরীতে খনিজ পদার্থ অত্যাবশ্যক
- দেহের অম্ল-ক্ষারত্ব সমতা রক্ষা করে
- খনিজ শর্করা ও চর্বিজাতীয় খাদ্য বিপাকে সাহায্যে করে।
ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস এর অভাবজনিত লক্ষণ :
- ঠোঁট নরম ও বাঁকা হয়
- অস্থির গঠন ঠিকমতো হয় না
- রক্ত জমাট বাঁধে না
- রিকেট রোগ ও কেজ লেয়ার ফ্যাটিগ রোগ হয়
- ডিম ফোটার হার কমে যায়
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:
- মাছের গুঁড়া, ঝিনুক, হাড়, দানা শস্য, পালং শাক ইত্যাদি মুরগির খাদ্যে সরবরাহ করলে এই রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়
- মুরগির খাদ্যের ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অনুপাত হবে- বাচ্চা মুরগিতে ২.২:১
- মুরগির খাদ্যে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অনুপাত হবে- বাড়ন্ত মুরগিতে ২.৫:১
- মুরগির খাদ্যে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অনুপাত হবে- ডিমপাড়া মুরগিতে ৯:১
সোডিয়াম এর অভাবজনিত রোগ :
সোডিয়ামের কাজঃ
- দেহের অম্ল-ক্ষারত্ব সমতা রক্ষা করার জন্য জরুরি।
- অস্থি গঠন করে ।
সোডিয়ামের অভাবজনিত লক্ষণ :
- দৈহিক বৃদ্ধি ঠিকমত হয় না
- হাড় নরম হয়
- রক্ত পাতলা হয়
- ডি-হাইড্রেশন দেখা দেয় ও মৃত্যু ঘটে
প্রতিকার ও চিকিৎসা:
খাদ্যে সাধারণ লবণ সরবরাহ করে এর অভাব দূর করা যায় ।
জিংক এর অভাবজনিত রোগ
জিংকের কাজ
- পাখির দৈহিক বৃদ্ধি,পালক গজানো ও ডিম উৎপাদনের জন্য জিংক প্রয়োজন
- অস্থির গঠনে জিংক প্ৰয়োজন
জিংকের অভাবজনিত লক্ষণ:
- দৈহিক বৃদ্ধি ঠিকমত হয় না
- পালক কম গজায় ও পায়ের চামড়া উঠে যায়
- পায়ের হাড় খাটো ও মোটা হয়
- মুরগি ঠোকরা ঠুকরি করে
প্রতিকার ও চিকিৎসা:
মুরগির খাদ্যে জিংকের বা জিংক সমৃদ্ধ উপকরণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে ।
সেলেনিয়াম এর কাজ ও অভাবজনিত রোগ
সেলেনিয়ামের কাজঃ
- সেলেনিয়াম হচ্ছে গ্লুটাথায়োন পারোক্সিডেজ (Glutathion Peroxidase) নামক এনজাইমের অংশ যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে
সেলেনিয়ামের অভাবজনিত লক্ষণ :
- ডিম বসানোর ৪র্থ দিনে ভ্রুণের মৃত্যু হয়
- চামড়ার নিচে পানি জমে
- দৈহিক বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না
- রক্তশূন্যতা দেখা দেয়
প্রতিকার ও চিকিৎসা:
ছোলা জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে বা খাদ্যে সেলেনিয়াম যুক্ত করলে এর অভাব দূর হয় ।
লৌহ ও কপার এর অভাবজনিত রোগ
অভাবজনিত লক্ষণ :
- রক্তশূণ্যতা বা অ্যানিমিয়া রোগ হয়
- লাল পালক এর রং ফ্যাকাশে হয়
- স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়
প্রতিকার ও চিকিৎসা:
শাকসবজি, ঘাস, মাছের গুঁড়া ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। খাদ্যে ফেরাস সালফেট ও কপার সালফেট সংযোজন করতে হবে।
কলিন এর অভাবজনিত রোগ
ব্রয়লার শরীরে বিভিন্ন শরীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপে কলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শারীরিক অসাড়তা দূর ও শরীরের বৃদ্ধির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি দেহের বিভিন্ন টিস্যু বা কলার গঠনে এবং স্নায়ুতন্ত্র সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুরগির খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে কলিন সরবরাহ করা বাঞ্ছনীয় ।
অভাবজনিত লক্ষণ :
- পায়ের হাড় নরম ও বাঁকা হয়ে মুরগি অসাড় হয়ে যায়
- দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে
- ব্রয়লার ব্রিডার মুরগির কলিজায় অতিরিক্ত চর্বি ও রক্তক্ষরণজনিত লক্ষণ দেখা দেয়
- ব্রয়লার ব্রিডার মুরগির মৃত্যুর হার বেড়ে যায়, পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায় ফলে ডিম পাড়াও কমে যায়
রোগ নির্ণয় :
লক্ষণ দেখে এবং পোস্টমর্টেমের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। এছাড়াও খাদ্যস্থিত কলিন বৃদ্ধি করে যদি ফল পাওয়া যায় তবে ধরতে হবে কলিনের অভাব ছিল।
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:
খাবারের তালিকায় যথেষ্ট পরিমাণ সয়াবিন মিল, গম ভাঙা, ফিস মিল ইত্যাদি থাকায় ব্রয়লার মুরগিতে কলিনের অভাব সাধারণত হয় না। কারণ সয়াবিন মিল ও ফিসমিলে প্রচুর পরিমাণে কলিন থাকে। বাজারে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে যে কলিন বা কলিন ক্লোরাইড পাওয়া যায়, তা প্রয়োজন মত খাবারে মিশিয়ে দিতে হবে। তবেই কলিনের অভাজনিত রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।
৪.৪ ব্রয়লারের টিকা প্রদান কর্মসূচি :
টিকা বীজ হচ্ছে রোগের প্রতিরোধক যা রোগের জীবাণু বা জীবাণুর অ্যান্ট্রিজেনিক উপকরণ দ্বারা তৈরী করা হয়। পাখির দেহের ভিতর রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য টিকাবীজ প্রয়োগ করতে হয়। টিকা বীজ প্রয়োগের ফলে দেহের ভিতর রক্ত বা রক্তরসে একপ্রকার ইমিউনোগ্লোবিউলিন নামক আমিষ পদার্থ তৈরী হয়। যাকে অ্যান্টিবডি বলা হয়। এ অ্যান্টিবডিই হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ পদার্থ। এজন্য কৃত্রিম উপায়ে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট সময়ের ব্যাবধানে টিকা প্রদানের যে সিডিউল তৈরী করা হয় তাই টিকা দান কর্মসূচী।
বর্তমানে খামারিগণ নিম্নলিখিত টিকা প্রদান কর্মসূচি ব্যাপকভাবে অনুসরণ করেন-
জব-৫ ব্রয়লার পালনে প্রতিষেধক টিকা প্রদান
পারদর্শিতার মানদণ্ড:
- টিকাদান সুচি সংগ্রহ করা
- প্রয়োজনীয় ব্যাপাতি ও কাচামালের তালিকা তৈরি করা
- তালিকা মোতাবেক যন্ত্রপাতি ও মালামাল সংগ্রহ করা
- টিকাদানের জন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা
- টিকা প্রদান সম্পন্ন করা
- টিকাদান পরবর্তী ধকল প্রশমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা
ক) ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরাম (PPE):
খ) প্রয়োজনীয় কাঁচামাল:
গ) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি:
কাজের ধারাঃ
১) বিশ্বস্থ উৎস হতে রানীক্ষেত ও গামবোরো রোগের টিকা সংগ্রহ করা
২) নিরাপত্তামূলক পোষাক যেমন- অ্যাপ্রন, দস্তানা ও গামবুট পরিধান করা ।
৩) টিকা প্রদানে যন্ত্রপাতি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা ।
৪) সূচি মোতাবেক ব্রয়লার শেডে যাওয়া ।
৫) দিনে ঠান্ডা অংশে (সকাল বা সন্ধ্যা) ছায়াযুক্ত স্থানে টিকা প্রস্তুত কারী প্রতিষ্ঠানে নির্দেশ মোতাবেক পাতিত পানির সাথে মিশ্রিত করা।
৬) এর পর বাচ্চা মুরগিকে সঠিক ভাবে ধরে আয়ত্তে এনে নিম্নলিখিত ভাবে টিকা প্রদান করা ।
রানীক্ষেত টিকা প্রদান পদ্ধতিঃ
চিত্র ৪.১৬: রাণীক্ষেত টিকা
গামবোরো টিকা প্রদান:
৭) টিকাদানকৃত বাচ্চাকে পৃথক রাখ ।
৮) গরম কালে ১ ঘন্টা ও শীত কালে ২ ঘন্টার মধ্যে টিকাদান শেষ করো ।
৯) অবশিষ্ট টিকা ও ভায়াল মাটির নিচে পুতে ফেল ।
Read more