মাদক সেবন অনৈতিক কাজ (পাঠ ৮)

হিন্দুধর্ম ও নৈতিক মূল্যবোধ - হিন্দুধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

208

এবার একটি অনৈতিক কাজের কথা বলব, যা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। তা হলো মাদক সেবন।মাদক হচ্ছে এমন কিছু জিনিস, যা নেশার সৃষ্টি করে। যেমন বিড়ি, সিগারেট, তামাক, মদ, গাঁজা, হেরোইন, প্যাথেড্রিন, ফেনসিডিল ইত্যাদি। এছাড়া ঘুমের ওষুধ নামক চেতনাশিথিলকারী কিছু ওষুধও মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মাদকাসক্তি

মাদকাসক্তি বলতে বোঝায় মাদক দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীলতা এবং মাদক গ্রহণের ঐকান্তিক আগ্রহ।

মাদক সেবন ও অনৈতিক কাজ

মাদক সেবন একটি অনৈতিক কাজ। মাদকসেবন ব্যক্তির দৈহিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি করে এবং পরিবার ও সমাজের অমঙ্গল ডেকে আনে।

দৈহিক ক্ষতি

মাদকসেবন করলে নানা রকমের রোগ হয়। যেমন খাবারে অরুচি, বদহজম বা হজমশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া, অপুষ্টি, শ্বাসনালির ক্ষতি, স্থায়ী কফ ও কাশি, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার প্রভৃতি।

এ ছাড়া হৃদ্রোগও হতে পারে। কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

মানসিক ক্ষতি

মাদক সেবনে নেশা হয়। মাদকাসক্ত অবস্থায় বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়। তখন মাদকসেবী না-করতে পারে, এমন কোনো কাজ নেই।

আর্থিক ক্ষতি

মাদকদ্রব্য ক্রয়ের জন্য মাদকসেবীকে প্রতিদিন প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ অর্থ যোগাড় করতে মাদকসেবী মা-বাবা আত্মীয়স্বজনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। কখনও কখনও অসদুপায় অবলম্বন করে মাদকের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে। সুতরাং মাদক সেবন এমন একটি অনৈতিক কাজ, যা আরও অনেক অনৈতিক কাজে লিপ্ত করে।

মাদক সেবনে পরিবার ও সমাজের অমঙ্গল হয়। পরিবারে শান্তি থাকে না। মাদকসেবী কখন কী করে বসে তার জন্য পরিবারের সকল সদস্য উদ্বিগ্ন থাকে। সমাজেও এর প্রভাব পড়ে।

হিন্দুধর্ম অনুসারে মাদক সেবন বা নেশা করা মহাপাপ। মাদকসেবী মহাপাপী। কেবল তা-ই নয়। মাদকসেবীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা বা চলাও মহাপাপ। সুতরাং মাদকাসক্তি থেকে আমরা বিরত থাকবই।

মাদকাসক্তি থেকে বিরত থাকার উপায় হচ্ছে:

১. মাদকসেবন মহাপাপ- ধর্মীয় এ অনুশাসন মেনে চলা।

২. মাদক সেবন অনৈতিক কাজ- সুতরাং নৈতিক দিক থেকেও আমরা মাদক গ্রহণ করব না।

৩. মাদকসেবীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন না-করা বা সম্পর্ক না-রাখা।

8. প্রতিজ্ঞা করা:

মাদককে না বলব,

নীতিধর্ম মেনে চলব।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...