পণ্ডিতো কন্ড
১. সিপপং সম নথি, সিপপং চোরা না গণহরে ইধলোকে সিপ্লং মিত্তং, পরলোকে সুখাবহং॥
২. অল্পকং নাতিমঞেয্য, চিত্তে সুতং নিধাপযে। বম্মিকোদক বিন্দু'র চিরেন পরিপুরতি ॥
৩. সেলে সেলে না মানিকং, পজে গজে না মুত্তিকং। বনে বনে না চন্দনং, ঠানে ঠানে ন পণ্ডিতং।
৪. পোথকেসু যং সিম্পং পরহেত্থেসু যং ধনং। যথাকিচেচ সমুপন্নে ন তং সিপং ন তং ধনং।
৫. নথি বিজ্ঞাসমং মিত্তং, ন চ ব্যধিসমো রিপু। ন চ অত্তসমং পেমং, ন চ কম্ম সমং বলং॥
৬. যাবজ্জীবম্পি চে বালো পণ্ডিতং পযিরুপাসতি। ন সো ধম্মং বিজানাতি দব্বি সুপরসং যথা।
৭. রূপযোব্বনাম্পন্না বিসালকুলসম্ভম্বা! বিজ্জাহীন ন সোভন্তি, নিগন্ধা ইব কিংসুকা।
৮. হীনপুত্তো রাজামচ্চো, বালপুত্তো চ পন্ডিতো। অধনস ধনং বহু, পুরিসানং ন মঞথ।
শব্দার্থ
সিপ্লং-বিদ্যা; সমং-তল্য; নথি-নেই; ন-না; গনহরে-নিতে পারে; মিত্তং-বন্ধ; অল্পকং-অল্প; নতিমঞঞেয্য-অবহেলা কর না; নিধাপযে- রেখে দেবে; বস্মিক-উইয়ের ঢিবি; উদকবিন্দু 'ব-জলবিন্দুর ন্যায়; চিরেন-অচিরে; পরিপূরতি-পূর্ণ হয়; খুদ্দোতি-ক্ষুদ্র বলে; মুক্তিকং-মুক্তা; সেলে-পর্বতে; গজে-হাতিতে; ঠানে-স্থানে; পোখকেসু-পুস্তকে; যথাকিচ্চে-প্রয়োজন; সমুপপন্নে-উৎপন্ন হলে; রিপু-শত্রু; অত্তসমং-নিজর সমান; দব্বি-চামচ; যাবজীবম্পি-সারাজীবন; বারো-মূর্খ; পযিরপাসতি-সেবা করে; বিজানাতি-বিশেষভাবে জানে; সুপরসং-ঝোল; রূপযোব্বন-রূপযৌবন; কুলসম্বা-কূলে জাত; ইব-তুল্য; কিংসুক-পরাশ ফুল; ন সোভন্তি-শোভা পায় না।
পণ্ডিত কণ্ড
পণ্ডিত মানে বিদ্বান এবং কন্ড অর্থ হল অধ্যায়। অর্থাৎ বিদ্যার শ্রেষ্ঠত্ব ও বিদ্বান ব্যক্তির গুণাবলি যে অধ্যায়ে সংগৃহীত তার নামকরণ হয়েছে পণ্ডিত কন্ড।
সারাংশ
বিদ্যাই শ্রেষ্ঠ ধন যা চোরেরা পর্যন্ত হরণ করতে পারে না। বিদ্যা ইহজন্মে বন্ধু তুল্য ও পরলোকে সুখপ্রদ।
অল্প হলেও বিদ্যাকে হেয় জ্ঞান করতে নেই। যা শ্রবণ করা হয় তা ধারণ করবে। উইয়ের ঢিবি কিংবা বিন্দু বিন্দু জল ক্রমে বিশাল আকার ধারণ করে।
প্রত্যেক পর্বতে মণি, প্রত্যেক হাতিতে মুক্তা ও প্রত্যেক বনে চন্দন থাকে না। সেরূপ প্রত্যেক স্থানে পণ্ডিতও থাকে না। পুস্তকে স্থিত বিদ্যা এবং পরহস্তগত ধন প্রয়োজনে কোন কাজে আসে না।
বিদ্যার সমান বন্ধু নেই এবং রোগের সমান শত্রু নেই। তেমনি নিজের সমান প্রিয়পাত্র ও কর্মের সমান বল নেই।
লোকনীতি
যে নীতি বা উপদেশসমূহ অনুসরণ করলে সকল মানুষের উপকার সাধিত হয়, সেগুলোই লোকনীতি। পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজেকে গঠন করার জন্য এ নীতিগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। লোককল্যাণ হিসেবে এ হিতোপদেশগুলো শিক্ষা করা উচিত। লোকশিক্ষার ক্ষেত্রে এ নীতিগুলোর গুরুত্ব অপরিহার্য।
ধম্মপদ
অল্পমাদ বঙ্গো
১. অল্পমাদো অমতপদং, পমাদো মচ্চুনো পদং, অল্পমত্তা না মীযন্তি, যে পমত্তা যথামতা।
২. এতং বিসেসতো ঞত্বা অল্পমাদহি পণ্ডিতা, অল্পমাদে পমোদপ্তি, অরিযানং গোচরে রতা।
৩. তে ঝাযিনো সাততিকা নিচ্চং দলপরাক্কমা, ফুসন্তি ধীরা নির্বানাং যোগমেং অনুত্তরং।
৪. পমাদং অনুযুঞ্জপ্তি বালা দুম্মেধিনো জনা; অল্পমাদঞ্চ মেধাবী ধনং সেফ্টং'ব রস্থতি।
৫. অপম্মাদেন মঘবা দেবানং সেঠতং গতো, অল্পমাদং পসংসন্তি পমাদো গরহিতো সদা।
শব্দার্থ
অল্পমাদ-অপ্রমাদ; বঙ্গো-বর্গ, শ্রেণি, দল, অধ্যায়; অমতপদং-অমৃতের পথ; মচ্চুনো-মৃত্যুর; অপমত্তা-অপ্রমত্তগণ; যথামতা-মৃতস্বরূপ; বিসেসতো-বিশেষভাবে; ঞত্বা-জেনে; অরিযানং-আর্যগণের; রতা-রত থাকেন; অনুযুজন্তি-অনুসরণ করে; বালা-মূর্খগণ; দুম্মেধিনো জনা-অজ্ঞ ব্যক্তিগণ; রতি-রক্ষা করে; মঘবা-দেবরাজ ইন্দ্র; সেষ্ঠতং-শ্রেষ্ঠত্ব।
সারাংশ
অপ্রমাদ অমৃতের পথ। প্রমাদ মৃত্যুর দ্বারস্বরূপ। অপ্রমত্ত ব্যক্তির কখনও মরেন না। তিনি মরেও অমর। প্রমত্ত ব্যক্তির জীবনের কোন মূল্য নেই। সর্বদা নিন্দিত হয়। পণ্ডিত ব্যক্তি এটা জেনে সদা অপ্রমাদে রত থাকেন। তিনি সর্বত্র প্রশংসিত হন। অপ্রমাদকে শ্রেষ্ঠ ধনের ন্যায় সযত্নে রক্ষা করেন। এতে আনন্দিত হন। সতত সৎকার্যে উদ্যোগী হন। উদ্যমশীল, স্মৃতিমান ব্যক্তির যশ চতুর্দিকে প্রচারিত হয়। মেধাবী ব্যক্তি অপ্রমাদের দ্বারা এমন জীবন গঠন করেন যাঁকে সংসারে স্রোত ধ্বংস করতে পারে না। নিয়ত জাগ্রত থাকেন। অপ্রমত্ত ব্যক্তি বাধাসমূহ অগ্নির ন্যায় দগ্ধ করে সাধনার মাধ্যমে নির্বাণ লাভ করেন।
চিত্ত বঙ্গো
১. ফন্দনং চপলং চিত্তং দুরং দুন্নিবারযং, উজুং করোতি মেধাবী উসুকারো'ব তেজনং
২. বারিজো'ব থলে খিত্তো ওকমোকতো উত্তুতো, পরিফন্দতি'দং চিত্তং মারধেয্যং পহাতবে।
৩. দূরংগমং একচরং অসরীরং গুহাসযং যে চিত্তং সঞমেসন্তি মোস্তি মারবন্ধনা।
8. দিসো দিসং যং তং কযিরা বেরী বা পন বেরিনং মিচ্ছা পণিহিতং চিত্তং পাপিযো নং ততো করে।
৫. ন তং মাতাপিতা কযিরা অঞে বাপি চ ঞাতকা, সম্মাপণিহিতং চিত্তং সেয্যসো নং ততো করে।
শব্দার্থ
ফন্দনং-স্পন্দনশীল; চপলং-চঞ্চল, দুরং-দুরক্ষণীয়; দুন্নিবারয়ং-দুনিবার্য; উজুং-সোজা;
উসুকারো-শরনির্মাতা; বারিজো'ব-মাছের ন্যায়; থলে-স্থলে; খিত্তো-নিক্ষিপ্ত; পরিফন্দতি-ধুক ধুক করে; মারধেয্য-মাররাজ্য; পহাতবে-ছেড়ে যাবার জন্য; দূরঙ্গমং-দূরগামী; গুহাসযং-গুহায় (হৃদয়ে) আশ্রিত; সঞমেসন্তি-সংযত করেন; মোস্তি-মুক্তি লাভ করেন; দিসো দিসং-শত্রু শত্রুর; বেরী-অনিষ্ট কারী/শত্রু; ঞাতকা-জ্ঞাতিগণ; সম্মাপণিহিতং-সত্যনিবিষ্ট।
সারাংশ
চিত্ত স্বভাবত চঞ্চল চপলমতি বালকের মত এদিকে ওদিকে ঘুরে বেড়ায়। একস্থানে আবদ্ধ হয়ে থাকতে চায় না। এর গতিকে প্রতিহত করা কঠিন। সহজে দমন করা যায় না। সদা বিচরণশীল। ভাল-মন্দ সব কিছুতে লিপ্ত হতে চায়। বেঁধে রাখা যায় না। জল থেকে জীবন্ত মাছ যেমন কূলে ছুঁড়ে মারলে ছটফট করে জলে ফিরে যেতে চায়, তেমনি চিত্তের অবস্থাও অনুরূপ।
চিত্তা দূরগামী একচর, অশরীরী ও হৃদয়-গুহাশ্রিত। চিত্তকে যাঁরা সংযত করেন, তাঁরা মারের বন্ধন থেকে মুক্ত হন। শত্রু শত্রুর যেরূপ অনিষ্ট করতে পারে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করে নিজের বিপদগ্রামী চিত্ত।
পিতা মাতা কিংবা জ্ঞাতিবর্গ যে উপকার মানুষের করতে পারে না, সম্যক পথে পরিচালিত চিত্ত তার চেয়ে অধিক উপকার করতে পারে।
টীকা
চিত্ত: যা চিন্তা করে তা-ই চিত্ত। কোন বিষয়কে অবলম্বন করে চিত্ত উৎপন্ন হয়। চিত্তা, মন হৃদয় ও বিজ্ঞান একার্থ বোধক। এদের যে কোন অন্য তিনটির প্রতিশব্দরূপে ব্যবহৃত হয়। কোন কিছুকে চিন্তা করা চিত্তের স্বভাব।
অল্পমাদ: 'অপমাদ শব্দের মূল অর্থ অপ্রমাদ, জাগ্রত ভাব, উদ্যম, উৎসাহ প্রভৃতি। প্রমাদ তার বিপরীত শব্দ। প্রমাদকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করা হয়েছে। অপ্রমাদকে মৃত্যুঞ্জয় বা মৃত্যুর অতীত বলা হয়েছে। অপ্রমাদ প্রজ্ঞার সাথে তুলনীয়। প্রমত্ত ব্যক্তির জীবন অসহনীয়। অপ্রমত্ত ব্যক্তিরা সুখে বাস করেন। সর্বদা শান্ত থাকেন। প্রমত্ত ব্যক্তির মন সর্বদা অশান্ত থাকে।
ধম্মপদ: ধম্মপদ সুত্ত পিটকের অন্তগৃত খুদ্দক নিকায়ের দ্বিতীয় গ্রন্থ। 'ধম্ম' শব্দের অর্থ স্বভাব, নীতি, পদ্ধতি, পুণ্য। আর 'পদ' শব্দের অর্থ করা হয়েছে পথ, রাস্তা, উপায়, শোক। সুতরাং 'ধম্মপদ' শব্দের অর্থ হল পুণ্যের পথ, ধর্মের পথ, সত্যের পথ। বুদ্ধের ভাষিত সর্বজনীন (সবার জন্য প্রযোজ্য) উপদেশগুলো একত্রিত করে ধম্মপদ গ্রন্থে সংগ্রহ করা হয়েছে।
ধম্মপদের গাথাগুলো মনে ধারণ করে রাখতে পারলে সৎকর্মে উৎসাহ যোগায়। বিদ্যার্জন ও পান্ডিত্য প্রদর্শন এ দুটি শিক্ষার্থীদের প্রধান গুণ। পণ্ডিত ব্যক্তির সান্নিধ্যে আসলে অনেক অজানা বিষয় জানা যায়। মনকে সর্বদা শান্ত রাখবে। রাগের বশবর্তী হয়ে উত্তেজিত হবে না। চঞ্চল মনের-পরিণতি ভয়াবহ। উত্তেজনা ও রাগময় চিত্ত পাপ কর্মের অন্তর্গত। তোমরা পণ্ডিত কন্ড, অপপমাদ বঙ্গ এবং চিত্ত বঙ্গ-এর পালি গাথাগুলো বাংলা অনুবাদসহ শিখবে। সকাল সন্ধ্যায় গাথাগুলো আবৃত্তি করলে ধর্মভাব জাগ্রত থাকে।
১. রচনামূলক প্রশ্নঃ
ক. পণ্ডিত কন্ড থেকে দুটি গাথা পালিতে অবিকল উদ্ধৃত করে বাংলা অনুবাদ কর।
খ. পণ্ডিত কণ্ডের বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।
গ. চিত্তকে কিভাবে দমন করতে হয়? আলোচনা কর।
ঘ. চিত্ত বর্গের সারাংশ লেখ।
চ. অল্পমাদ বর্গের ভাবার্থ নিজের ভাষায় প্রকাশ কর।
ছ. ধম্মপদ গ্রন্থ সম্পর্কে দশ লাইনের একটি অনুচ্ছেদ লেখ।
২. সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন:
ক. প্রমাদ বলতে কি বোঝায়?
খ. অপ্রমাদ কাকে বলে?
গ. প্রমাদ ও অপ্রমাদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
ঘ. লোকনীতিতে কোন ধরনের উপদেশ রয়েছে? সংক্ষেপে বল।
৬. চিত্ত বলতে কি বোঝ?
চ. পণ্ডিত ব্যক্তিগণ চিত্তকে কিভাবে সংযত করেন?
ছ. চিত্তের প্রকৃতি কি রকম?
জ. নিচের গাথাটির বাংলা অনুবাদ কর:
অল্পমাদ অমতপদং, পমাদো মচ্চুনো পদং,
অপমত্তা ন মীযস্তি, যে পমত্তা যথামতা।
৩. উভয় পাশের পালি বাক্যাংশের মিল কর :
ক. সিম্পং সমং ধনং নথি ক. ন চ কম্মসমং বলং
খ. যথাকিচ্চে সমুষ্পন্নে খ. দব্বি সূপরসং যথা।
গ. ন চ অত্তসমং পেমং গ. ন তং সিপ্লং, ন তং ধনং।
ঘ. ন সো ধম্মং বিজানতি ঘ. সিপ্সং চোরা ন গণহস্তি।
৪. ঠিক উত্তরের পাশে টিক (✔) চিহ্ন দাও:
ক. পণ্ডিত কণ্ড কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
১. ধর্মনীতি
২. লোকনীতি
৩. গৃহীনীতি
৪. সমাজনীতি
খ. ব্যাধিকে কার সাথে তুলনা করা হয়েছে?
১. অগ্নি
২. ব্যাধ
৩. শত্রু
৪. মিত্র
গ. ধম্মপদ শব্দের অর্থ কোনটি?
১. ধর্মের সারাংশ
২. ধর্মের বিষয়বস্তু
৩. ধর্মের নির্দেশ
৪. ধর্মের পথ
ঘ. চিত্তের স্বভাব কি রকম?
১. নম্র
২. ভদ্র
৩. নিম্ন
৪. চঞ্চল
Read more