শ্রীশ্রীচণ্ডীর শিক্ষা (পাঠ ৮)

ধর্মগ্রন্থ - হিন্দুধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

280

শ্রীশ্রীচণ্ডীর প্রথম চরিতে শ্রীবিষ্ণু মধু-কৈটভকে বধ করে শান্তি স্থাপন করেছেন। মধ্যম চরিতে দেবতাদের তেজ থেকে সৃষ্ট দেবীদুর্গা মহিষাসুরসহ অসুরদের হত্যা করেছেন। দেবতারা ফিরে পেয়েছেন তাঁদের স্বর্গরাজ্য। উত্তর চরিতে শুম্ভ নিশুম্ভসহ অসুরদের বধ করেছেন দেবী অম্বিকা বা দেবী কালিকা। দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শক্তির প্রতীক। উল্লিখিত এ কাহিনি দুটি থেকে আমরা বেশ কয়েকটি শিক্ষা পাই।

শ্রীশ্রীচণ্ডী আমাদের শক্তি ও সাহস যোগান। দেবী দুর্গা অন্যায়কে দমন করেছেন। শ্রীশ্রীচণ্ডীর এই শিক্ষা অনুকরণ করে আমরাও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। স্বর্গচ্যুত দেবতাগণের ঐক্যই তাঁদের আবার স্বর্গ ফিরিয়ে দিয়েছে। দেবতাদের সম্মিলিত তেজ বা শক্তিই হচ্ছে মহামায়া শ্রীশ্রীচণ্ডী। এখানে একতাই শক্তির প্রমাণ মেলে। পাশাপাশি নারীশক্তির উত্থান ঘটেছে। হিন্দুধর্মে নারীকে বিশেষভাবে মর্যাদা দেয়া হয়েছে। বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। শ্রীশ্রীচণ্ডী অর্থাৎ দেবীদুর্গা মাতৃশক্তিরূপে অধিষ্ঠিত। তিনি নারীশক্তির প্রতীক। মায়ের মতো করুণাময়ী।

শ্রীশ্রীচণ্ডীর বন্দনার মাধ্যমে শত্রুর কবল থেকে দেশ ও সমাজকে রক্ষা করার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। সকল প্রকার দুঃখ- দুর্গতির অবসানকল্পে তাঁর আরাধনা করা হয়। সকল প্রকার দুর্গতিনাশিনী বলেই তিনি শ্রীদুর্গা। দেবীকে আমরা এই বলে প্রণাম করি:

সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোহস্থ তে।।

'তুমি সকল প্রকার কল্যাণদায়িনী। তুমি মঙ্গলময়ী, তুমি সর্বপ্রকার অভীষ্টপূর্ণকারিণী। তুমি জগতের শরণভূতা, তুমি ত্রিনয়না, তুমি গৌরী, তুমি নারায়ণী। হে দেবী, তোমাকে প্রণাম করি।'

দেবী দুর্গা শরণাগতকে রক্ষা করেন। তিনি সকল প্রকার মঙ্গল সাধন করেন। আমরাও দেবীর এ আদর্শ অনুসরণ করব। শরণাগতকে রক্ষা করব। অসহায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়াব। মনের ভিতরে বসবাসকারী পশুর শক্তিকে বিনাশ করব। সমাজে গড়ে তুলব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, গড়ে তুলব আদর্শ মূল্যবোধ ও সুন্দর সমাজ।

দলীয় কাজ: 'শ্রীশ্রীচণ্ডীর শিক্ষাই ব্যক্তির অসুরশক্তিকে বিনাশ করতে পারে।' উদাহরণসহ যুক্তি দাও।

নতুন শব্দ: অভীষ্টপূর্ণকারিণী, শরণভূতা, ত্রিনয়ন, গৌরি, দুর্গতিনাশিনী।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...