স্বাস্থ্যবিজ্ঞান পরিচিতি ও স্বাস্থ্যসেবা (তৃতীয় অধ্যায়)

শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

444

সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার বিজ্ঞানসম্মত উপায়সমূহকে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বলে। স্বাস্থ্য বলতে আমরা কী বুঝি? শারীরিক সুস্থতা বা শরীরের নীরোগ অবস্থাকে স্বাস্থ্য বোঝায়। বিশদ অর্থে শারীরিক সুস্থতাই সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়, এর সাথে মানসিক সুস্থতাও প্রয়োজন। সুস্থ থাকতে হলে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা এবং স্বাস্থ্যরক্ষার নিয়মগুলো সবার মেনে চলা উচিত। শরীরকে শক্ত ও সতেজ রাখতে হলে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জীবনযাপন এবং ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবা বলতে মূলত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যরক্ষা ও স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ইত্যাদি বোঝায়।

এ অধ্যায় শেষে আমরা

  • স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • সাধারণ সংক্রামক রোগের লক্ষণ দেখে রোগ চিহ্নিত করতে পারব।
  • রোগ সংক্রমণের বিভিন্ন মাধ্যম, রোগের কারণ ও ফলাফল বর্ণনা করতে পারব।
  • বিভিন্ন প্রকার সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপায় বর্ণনা করতে পারব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

রিপন কিছুদিন ধরে কিছু খেতে চায় না। সে দুর্বল বোধ করে। তার . দ্রুত ওজন হ্রাস পাচ্ছে এবং জ্বর হয়।

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

বেশ কিছুদিন যাবত আসগরের শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসে। সাথে মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও বমি বমি ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যের মতো মূল্যবান সম্পদ লাভ করতে হলে আমাদেরকে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতে হবে। আমরা সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করি। কাজেই আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর পারিপার্শ্বিক ও সামাজিক অবস্থার প্রভাব থাকবেই। এই প্রভাব কী তা আমাদের বুঝতে হবে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কীভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটায়, একজনের দেহ থেকে সংক্রামক ব্যাধি কীভাবে অন্যের দেহে সংক্রমণ ঘটায় এবং তা প্রতিকারের ব্যবস্থা প্রভৃতি বিষয় স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের আওতাভুক্ত। স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত গৃহ, সুষম খাদ্য, মলমূত্র ও আবর্জনা দূরীকরণ ব্যবস্থাও প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের পাঠের উদ্দেশ্য হলো স্বাস্থ্যনীতি সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা ও রোগ প্রতিরোধ করা।
দেহ নীরোগ ও সুস্থ থাকলে তাকেই সুস্বাস্থ্য বলে। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের জন্য শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যরক্ষাই যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু স্বাস্থ্যব্যবস্থা। একটি সুন্দর ও আনন্দময় জীবনযাপনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীর সুস্থ রাখা। শৈশব থেকে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে মানুষ সুখে, শান্তিতে ও আনন্দে জীবনযাপন করতে পারে। আর সুস্বাস্থ্যই মানুষকে করতে পারে সুখী। শরীর যদি সুস্থ না থাকে তাহলে মন ভালো থাকবে না। আর মন ভালো না থাকলে পড়াশোনায় মন বসবে না। অতএব, প্রত্যেকের প্রয়োজন নিজেকে সুস্থ রাখা।

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যরক্ষার কয়েকটি উপায় দেওয়া হলো-

১। নিয়মিত গোসল করা।
২। সময়মতো চুল ছাঁটা।
৩। সপ্তাহে একবার হাত ও পায়ের নখ কাটা।
৪। যেকোনো কাজ করার পর ভালোভাবে হাত ধোয়া।
৫। যেকোনো কিছু খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
৬। পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি পান করা।
৭। নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।
৮। যেখানে-সেখানে থুথু ও আবর্জনা না ফেলা।
৯। মলমুত্র ত্যাগের স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
১০। দাঁত দিয়ে নখ না কাটা।
১১। পায়খানা করার পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া।
১২। দাঁত পরিষ্কার করা।

তাছাড়া সব সময় সোজা হয়ে বসা, সোজা হয়ে দাঁড়ানো, শরীর সোজা রেখে হাঁটা ও শোয়া ইত্যাদি অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

স্বাস্থ্যশিক্ষার কর্মসূচি

১। শ্রেণিকক্ষে স্বাস্থ্য সম্পর্কে পাঠদান।
২। স্বাস্থ্য সম্পর্কে বক্তৃতাদান ও আলোচনা।
৩। স্বাস্থ্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা।
৪। স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ।
৫। গ্রন্থাগারে স্বাস্থ্যসম্পর্কিত চিত্র, পুস্তক, চার্ট ইত্যাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা।
৬। গণমাধ্যমে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কর্মসূচি প্রচারের ব্যবস্থা।

১। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যরক্ষার কয়েকটি উপায় দিয়ে নিচের ছকটি পূরণ কর।

১।
২।
৩।
৪।
৫।

২। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় পর্যন্ত স্বাস্থ্যরক্ষায় তুমি কী কী কাজ করো অভিনয় করে দেখাও।

Content added By

নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত। কিন্তু তারপরও আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হই। রোগ বা অসুখ জীবনের একটি অংশ। সারাজীবন সম্পূর্ণ রোগমুক্ত থাকা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তবে রোগকে এড়ানো ও প্রতিরোধ করা যায়। রোগের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে জানা দরকার।
কোনো কোনো রোগ রোগীর কাছ থেকে অন্যদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের রোগকে বলে সংক্রামক রোগ। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হুপিং কাশি, ডিপথেরিয়া, উদরাময়, হেপাটাইটিস (জন্ডিস), চোখ ওঠা, সর্দি, কাশি, যক্ষ্মা, টাইফয়েড, হাম, বসন্ত, ম্যালেরিয়া, এইডস প্রভৃতি সংক্রামক রোগের উদাহরণ। মানুষের শরীর ছাড়াও কোনো বস্তুর মাধ্যমেও সংক্রামক রোগ ছড়াতে পারে।
সংক্রামক রোগকে অনেক সময় ছোঁয়াচে রোগ বলা হয়। তবে সব সংক্রামক রোগ ছোঁয়াচে নয়। যেমন- যক্ষ্মা, টাইফয়েড, হাম, ম্যালেরিয়া, এইডস প্রভৃতি সংক্রামক রোগ হলেও ছোঁয়াচে নয়। যেসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত হয় সেসব রোগকে ছোঁয়াচে রোগ বলে। যেমন- বসন্ত, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি। যেসব রোগ এক ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে সঞ্চারিত হয় না, রোগগ্রস্ত ব্যক্তি একাই রোগ বহন করে, এসব রোগকে সংক্রামক রোগ বলে না। যেমন- ক্যান্সার, প্যারালাইসিস, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। যেসব রোগজীবাণু পানির মাধ্যমে ছড়ায়, সেসব রোগকে পানিবাহিত রোগ বলে। যেমন- টাইফয়েড, জন্ডিস, কলেরা, আমাশয়, ডায়রিয়া ইত্যাদি। কিছু কিছু রোগজীবাণু বায়ুর মাধ্যমে প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে এগুলোকে বায়ুবাহিত রোগ বলে। যেমন- যক্ষ্মা, জলবসন্ত, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি। অনেক রোগজীবাণু কীটপতঙ্গের দংশনের ফলে দেহে প্রবেশ করে। যেমন- স্ত্রী এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর এবং স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়।

বসন্ত: বসন্ত দুই প্রকার। গুটিবসন্ত ও পানিবসন্ত বা জলবসন্ত। গুটিবসন্ত বর্তমানে দেখা যায় না। অনেক আগেই পৃথিবী থেকে নির্মূল হয়ে গেছে। তবে পানিবসন্ত এখনো বিদ্যমান।
পানিবসন্ত বা জলবসন্ত: পানিবসন্ত বা জলবসন্ত একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। এ রোগ স্পর্শ দ্বারা, কাশির সময়, কফের দ্বারা, লালা দ্বারা, কাপড়-চোপড় ও বিছানাপত্রের সংস্পর্শ দ্বারা এবং বায়ু দ্বারা শরীরে সংক্রমিত হয়।

প্রতিকার
১. রোগীর সংস্পর্শে না আসা।
২. রোগীর ঘরে যাতে মাছির উপদ্রব না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা।
৩. রোগীকে মশারির মধ্যে রাখা।
৪. রোগীর কাপড়-চোপড় ফুটন্ত গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে ডেটল পানিতে বিশোধন করা।
৫. থুতু, লালা, ফোস্কা পুড়িয়ে ফেলা।
৬. রোগীকে আলো-বাতাসপূর্ণ ঘরে রাখার ব্যবস্থা করা।
৭. রোগীর ঘরে ফিনাইল ছিটিয়ে মাছির উপদ্রব কমানো।
৮. রোগীর উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
৯. সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে রোগীর সেবা করা, যেমন- নাকে মাস্ক ব্যবহার, সাবান দিয়ে হাত-মুখ ভালোভাবে ধোয়া, সেবা শেষে নিজের জামাকাপড় বদলিয়ে ফেলা ইত্যাদি।

চর্মরোগ: শরীর ও কাপড়-চোপড় অপরিষ্কার রাখলে বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ দেখা দেয়। সর্বদা বাইরের ধুলাবালি ও ময়লা প্রভৃতি এসে শরীরের লোমকুপের মুখ বন্ধ করে দেয়, ফলে বিভিন্ন চর্মরোগ হয়। খেলাধুলা শেষে বা কোনো কাজ করার পর শরীর ঘেমে গেলে তা যদি পরিষ্কার করা না হয় তাহলেও চর্মরোগ হতে পারে। যেমন- খোস-পাঁচড়া, দাদ প্রভৃতি।

প্রতিকার-
১. সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা।
২. কাপড়-চোপড় পরিষ্কার রাখা।
৩. ব্যবহৃত পোশাক-পরিচ্ছদ প্রতিদিন সাবান/সোডা/ক্ষার মিশ্রিত গরম পানিতে সিদ্ধ করে ধুয়ে ফেলা।
৪. রোগীর ব্যবহৃত কাপড়-চোপড় ব্যবহার না করা।
৫. রোগীকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া।

কাজ-১: তোমাদের এলাকায় গত ছয় মাসে যেসব সংক্রামক রোগ ছড়িয়েছে সেসব রোগের নাম ও লক্ষণসমূহ নিচের ছকে লিখ।
সংক্রামক রোগের নামসংক্রামক রোগের লক্ষণ
ক.
খ.
গ.

কাজ-২: চর্মরোগের প্রতিকার ১০ লাইনে লিখ। (বাড়ির কাজ)

Content added By

তোমরা পঞ্চম শ্রেণিতে ডায়রিয়া, আমাশয়, জলবসন্ত, গুটিবসন্ত, জ্বর ইত্যাদি রোগের লক্ষণ ও মাধ্যম জেনেছ। আজ আমরা আরো বিস্তারিতভাবে জানব। নিচে কয়েকটি সংক্রামক রোগের লক্ষণ এবং এগুলো কীভাবে ছড়ায় তা বর্ণনা করা হয়েছে-
সর্দিজ্বর (Influenza): সর্দিজ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা সংঘটিত হয়। এই জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে রোগজীবাণু বায়ুবাহিত হয়ে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে। রোগীর দেহের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে যেমন- আক্রান্ত ব্যক্তি ছোটো শিশুকে আদর করে চুমু খেলে শিশু আক্রান্ত হতে পারে। হালকা জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথা ও শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, গলা খুসখুস্ ও ব্যথা করা, ক্লান্তিভাব প্রভৃতি এ রোগের লক্ষণ।
যক্ষ্মা (Tuberculusis): এটি একটি জীবাণুঘটিত রোগ। ক্ষুধামন্দা, দুর্বল বোধ, দ্রুত ওজন হ্রাস, জ্বর ইত্যাদি যক্ষ্মার লক্ষণ। ফুসফুসের যক্ষ্মার ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা ও কাশি হয়। কাশির সাথে রক্ত উঠে আসতে পারে। এই যক্ষ্মা প্রতিরোধের জন্য টিকার ব্যবস্থা আছে।
যক্ষ্মা রোগীর হাঁচি ও কাশি থেকে জীবাণু বাতাসের সঙ্গে অন্য ব্যক্তির প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে। খাদ্যের মাধ্যমেও যক্ষ্মার জীবাণু ছড়াতে পারে। যক্ষ্মা সাধারণত ফুসফুসকে আক্রমণ করে। তবে মস্তিষ্ক, বৃক্ক, অস্ত্র এবং হাড়েও যক্ষ্মা হতে পারে।
টাইফয়েড (Typhoid): ডায়রিয়া ও কলেরার মতো টাইফয়েড একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ। শরীর ও মাথাব্যথা, প্রচণ্ড জ্বর, ক্লান্ডি এ রোগের প্রধান লক্ষণ। টাইফয়েড রোগীর মলমূত্রের মধ্যে টাইফয়েড জীবাণু থাকে। এই মলমূত্র দ্বারা পানি দূষিত হলে টাইফয়েড রোগের সংক্রমণ ঘটে।
হাম (Measles): হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত ছোটো শিশু ও বালক-বালিকাদের এ রোগ দেখা দেয়। হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রচণ্ড জ্বর হয়, মুখ, গলা ও দেহের অন্যান্য অংশে লালচে দানা দেখা যায়, নাক দিয়ে অনর্গল পানি পড়ে। চোখ লাল হয় ও কাশির মাধ্যমে এ রোগের জীবাণু অন্যের দেহে প্রবেশ করে।
ম্যালেরিয়া (Malaria): ম্যালেরিয়া একটি সংক্রামক রোগ। শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসা, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া এ রোগের লক্ষণ। অ্যানোফিলিস জাতীয় স্ত্রী মশা ম্যালেরিয়া জীবাণুর সংক্রমণ ঘটায়। এই মশা কোনো আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে এ রোগের সৃষ্টি হয়।
এইডস (AIDS : এইডস একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এই ভাইরাসের নাম HIV (Human Immunodeficiency Virus)। কোনো ব্যক্তির শরীরে HIV সংক্রমণ ঘটলে তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমশ কমতে থাকে। এর ফলে অন্য কোনো রোগ ওই ব্যক্তিকে অতি সহজেই আক্রমণ করে। এ অবস্থাকে বলে AIDS (Acquired Immun Deficiency Syndrome)। এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো চিকিৎসাই এখন পর্যন্ত বের হয়নি। HIV আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ব্যবহৃত ইঞ্জেকশনের সুচ অন্য কারো শরীরে ব্যবহার করলে, HIV আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ খেলে বা HIV আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের যেকোনো তরল অংশ অন্যের শরীরে প্রবেশ করলে HIV হতে পারে।
জন্ডিস (Jaundice): জন্ডিস ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়। জন্ডিসে আক্রান্ত ব্যক্তির চোখের সাদা অংশ, পায়ের চামড়া ও প্রস্রাব হলুদ বর্ণ ধারণ করে। পেটে ব্যথা ও জ্বর হতে পারে। খাদ্যে রুচি থাকে না এবং বমি হতে পারে। রোগের মাত্রা বেশি হলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে। রোগীর মূত্র, থুতু, লালা, বুকের দুধ, মল ইত্যাদিতে হেপাটাইটিস ভাইরাস থাকে। সাধারণত খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে এ রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে।
ডিপথেরিয়া (Diphtheria): শিশুদের আরেকটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ হচ্ছে ডিপথেরিয়া। যথাসময়ে চিকিৎসা না হলে এটি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। জ্বর, গলা ব্যথা এবং গলা ফুলে গিয়ে খাবার খেতে অসুবিধা হয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির বা শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ও বাতাসের সাহায্যে ডিপথেরিয়া রোগের জীবাণু অন্যের শরীরে প্রবেশ করে।
পোলিও (Poliomyelitis): এটি শিশুর একটি মারাতত্মক রোগ। এ রোগে আক্রান্ত শিশু পঙ্গু হয়ে যায় এবং সারা জীবন এই পঙ্গুত্ব বয়ে বেড়াতে হয়। এতে প্রথমে জ্বর হয়, পরবর্তী পর্যায়ে মাথা ব্যথা করে। শিশুর ঘাড় শক্ত হয়ে যায় এবং হাত-পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। শিশু দাঁড়াতে পারে না, পরে পঙ্গু হয়ে পড়ে। পোলিওর জীবাণু নাক-মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। সংক্রমিত ব্যক্তির মলের মাধ্যমে এই জীবাণু ছড়ায় ও অন্যকে সংক্রমিত করে।

কাজ-১: রোগ সংক্রমণের মাধ্যম লিখে ছকটি পুরণ কর।

রোগের নামসংক্রমণের মাধ্যম
ক. ম্যালেরিয়া
খ. হাম
গ. টাইফয়েড
ঘ. এইডস

কাজ-২: প্রত্যেকে তিনটি রোগের লক্ষণের তালিকা তৈরি কর।

Content added || updated By

জীবাণুর সংক্রমণের কারণে অনেক রোগের সৃষ্টি হয়। আমাদের চারপাশে নানা রকমের জীবাণু ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন রোগের জীবাণু প্রতিনিয়ত মানুষের দেহে প্রবেশ করে। তবে রোগের জীবাণু দেহে প্রবেশ করলেই যে সে রোগে আক্রান্ত হবে এমন নয়। জীবাণুকে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের শরীরেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা আছে। শরীরে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী না হলে রোগজীবাণু জয়ী হয়। ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অপরদিকে যার শরীর সবল ও মজবুত, রোগজীবাণু তার শরীরে প্রবেশ করলেও তার প্রতিরোধ ব্যবস্থা জীবাণুকে ধ্বংস করে। জীবাণু এত ক্ষুদ্র যে খালি চোখে দেখা যায় না।

লক্ষ-কোটি বছর আগেও পৃথিবীতে জীবাণুর অস্তিত্ব ছিল। তবে সকল জীবাণুই যে শরীরের জন্য ক্ষতিকর তা নয়। কোনো কোনো জীবাণু মানবদেহের জন্য উপকারী।
সংক্রামক রোগকে আমরা অণুজীবঘটিত রোগও বলতে পারি। সংক্রামক নামকরণ এই জন্য হয়েছে যে এই রোগগুলো এক ব্যক্তির বা প্রাণীর দেহ থেকে বিভিন্ন উপায়ে অন্য ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়। বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ বিভিন্ন রকম। কতকগুলো রোগ আছে অল্প সময়ের মধ্যে মহামারি আকার ধারণ করে।
যেমন- কলেরা, বসন্ত, ডায়রিয়া, চোখের প্রদাহ ইত্যাদি।
সংক্রামক রোগের উৎস: সংক্রামক রোগ হওয়ার ক্ষেত্রে একটা চেইন বা শিকল আছে। এই শিকলের তিনটি অংশ-

i) রোগের উৎস।
ii) রোগ বিস্তারের মাধ্যম।
iii) রোগ সংক্রমিত হতে পারে এমন সম্ভাবনাময় ব্যক্তি।

সংক্রামক রোগ বিস্তারের কারণ : সংক্রামক রোগের বিস্তারকে নিম্নলিখিতভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা যেতে পারে-
ক) প্রত্যক্ষ স্পর্শ
খ) পরোক্ষ স্পর্শ

ক) প্রত্যক্ষ স্পর্শ
i) সরাসরি স্পর্শ: রোগাক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সরাসরি দৈহিক সম্পর্ক বা যৌন সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এ রোগ অন্যের দেহে প্রবেশ করে। যেমন- এইডস (AIDS), বিভিন্ন চর্ম ও চোখের রোগ।
ii) ড্রপলেট ইনফেকশন: রোগাক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশির মাধ্যমে নাক-মুখ দিয়ে যেসব ক্ষুদ্র জলবিন্দু বেরিয়ে আসে সেগুলোকে বলা হয় ড্রপলেট। যেমন- সর্দি, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, যক্ষ্মা ইত্যাদি এভাবে ছড়ায়।
iii) সংক্রমিত মাটির মাধ্যমে মাটির সাথে দেহের কোনো ক্ষুদ্র স্থানের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে কিছু রোগ বিস্তার লাভ করে। যেমন- টিটেনাস, হুক ওয়ার্ম ইত্যাদি।
iv) জীবজন্তুর কামড় জীবজন্তুর কামড়েও বিভিন্ন রোগ সংক্রমিত হয়। যেমন- পাগলা কুকুরের কামড় থেকে জলাতঙ্ক এবং ইঁদুরের কামড় থেকে প্লেগ।

খ) পরোক্ষ স্পর্শ বা বিস্তার
ⅰ) বাহনবাহিত: বাহনবাহিত বলতে এখানে খাদ্য, পানি, দুধ, রক্ত, বরফ ইত্যাদিকে বোঝায়। এই সব পদার্থকে আশ্রয় করে বিভিন্ন রোগ সংক্রমিত হয়। যেমন- পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ডায়রিয়া, রক্তের মাধ্যমে হেপাটাইটিস 'বি', ম্যালেরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি রোগ ছড়ায়।
ii) ভেক্টর বোর্ন (Vector Borne): ভেক্টর বলতে জীবন্ত প্রাণী যেমন- মাছি, মশা, আরশোলা ইত্যাদি দ্বারা বাহিত রোগকে বোঝায়।
iii) বায়ুবাহিত (Air Borne): বায়ুবাহিত রোগ যেমন যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, জলবসন্ত, নিউমোনিয়া ইত্যাদি।
iv) অপরিষ্কার হাত: অপরিচ্ছন্ন হাত ও আঙুল সংক্রামক রোগ বিস্তারের একটি সহজ মাধ্যম। এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও প রাক্ষভাবে রোগ সংক্রমিত হয় যেমন- টাইফয়েড, আমাশয় ইত্যাদি।
v) ইনজেকশনের সূচ ও ব্লেড: ইনজেকশনের সূচ ও ব্লেডের মাধ্যমেও সংক্রামক রোগ বিস্তার লাভ করে।

কাজ-১: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রোগবিস্তারের একটি তালিকা তৈরি কর।
কাজ-২: সংক্রামক রোগের উৎসগুলো পোষ্টার পেপারে লিখ। (বাড়ির কাজ)
কাজ-৩: পোস্টার আকারে সংক্রামক রোগের নাম লিখে টাঙিয়ে দাও।
Content added By

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড়ো উপায় হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যরক্ষার সকল উপায় অবলম্বন করা। শরীর সুস্থ ও সবল থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাও দৃঢ় থাকে। এতে বাইরে থেকে রোগজীবাণু শরীরে প্রবেশে বাধা পায়। কোনো রোগজীবাণু শরীরে প্রবেশ করলেও প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে পারে না। ফলে রোগজীবাণু আক্রমণ করতে পারে না। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে 'Prevention is better than cure' অর্থাৎ আরোগ্যের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো।

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের জন্য যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন

১। টিকা গ্রহণ: যেসব রোগের জন্য প্রতিরোধমূলক টিকা রয়েছে শিশু ও বয়স্কদের যথাসময়ে সেই টিকা নিতে হবে। যদি কোনো রোগের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে একাধিক বার টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে তাহলে সে ব্যবধান মেনে নিয়মিত টিকা নিতে হবে। ঘরে পোষা পশুপাখি থাকলে তাদেরও নির্দিষ্ট সময়ে টিকা দিতে হবে। আমাদের দেশে যেসব রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে সেগুলো হলো- বসন্ত, টাইফয়েড, যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হিমোফাইলাস, পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, হাম, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস 'বি', জলবসন্ত, জরায়ু মুখের ক্যান্সার ইত্যাদি।

২। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা : নিজ শরীর, পোশাক, আসবাবপত্র, রান্নার তৈজসপত্র, বাসন- কোসন, বসবাসের স্থান, বাথরুম, বসতবাড়ির চারপাশ সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

৩। হাত ধোয়ার অভ্যাস করা

  • পায়খানা-প্রস্রাবের পর সাবান বা ছাই দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া।
  • খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের আগে হাত ধোয়া।
  • খাদ্য গ্রহণের আগে ও পরে হাত ধোয়া।
  • হাত দিয়ে কোনো কিছু পরিষ্কার করার পর হাত ধোয়া।
  • অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করার পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া।
  • পোষা পশুপাখির সাথে খেলা করা, তাদের ধরা অথবা গোসল করানোর পর ভালোভাবে হাত ধোয়া।
  • প্রতিবার বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর হাত ধোয়া।

৪। খাদ্য প্রস্তুত, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবেশনে সতর্কতা

  • খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের আগে ও পরে হাত ধোয়া।
  • খাবার না খাওয়া পর্যন্ত গরম খাদ্যকে গরম এবং ঠান্ডা খাদ্যকে ঠান্ডা রাখা।
  • রান্নাঘরে মাছ-মাংস ও শাক-সবজি কাটার স্থান, তৈজসপত্র ইত্যাদি ব্যবহারের পর গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে রাখা।
  • রান্না ও খাওয়ার আগে হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসন পরিষ্কার রাখা।
  • টাটকা ফল ও সবজি খাওয়ার আগে নিরাপদ পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া।
  • শস্য, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম ঠিকমতো সিদ্ধ করে খাওয়া।
  • খাওয়া শেষ হওয়ার পরপর উদ্বৃত্ত খাদ্য ভালোভাবে সংরক্ষণ করা।
  • খাবার সবসময় ঢেকে রাখা।

৫। সকল বন্য ও গৃহপালিত পশুপাখির বিষয়ে সাবধানতা : যেকোনো প্রাণী কামড়ালে ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে এবং তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে মুরগির খামারে কাজ করার পর বা জীবন্ত মুরগি ধরার পর হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুতে হবে।
৬। কীট-পতঙ্গের কামড় এড়িয়ে চলা: যেখানে মশা বা অন্যান্য কীট-পতঙ্গ খুব বেশি, এমন এলাকায় গেলে বা অবস্থান করলে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। বন-জঙ্গলে গেলে বা ভ্রমণ করার সময় কীট- পতঙ্গের আক্রমণ থেকে সাবধান থাকতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিরোধক মলম ব্যবহার করতে হবে।
৭। জীবাণুমুক্ত নিরাপদ পানি পান ও ব্যবহার করা: পানি অনেক রোগের বাহক। স্বাস্থ্যের জন্য জীবাণুমুক্ত নিরাপদ পানি পান করা দরকার। সাধারণ ব্যবহারের পানি যেমন- গোসল করা ও কাপড় ধোয়ার পানিও পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হওয়া প্রয়োজন। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। তবে এই পানি অবশ্যই জীবাণুমুক্ত হতে হবে। টিউবওয়েলের পানি, ফোটানো পানি বা ফিস্টার করা পানি সাধারণত নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত।

৮। আত্মসচেতনতা সৃষ্টি: রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধের একটি কার্যকর উপায় আত্মসচেতনতা সৃষ্টি।
আত্মসচেতনতার উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • নিজ শরীর সম্পর্কে জ্ঞান ও সচেতনতা।
  • নিজ শক্তি-সামর্থ্য এবং দুর্বলতা সম্পর্কে জানা ও সচেতন থাকা।
  • শক্তি ও সামর্থ্য বৃদ্ধি এবং দুর্বলতা দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া।
  • নিজ অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন থাকা।
  • নিজের অধিকার সম্পর্কে জানা ও সচেতন থাকা।
  • নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা এবং এ বিষয়ে সচেতন থাকা।
  • নিজের শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা, ত্রুটি ইত্যাদি সঠিকভাবে চিহ্নিত করে এগুলো দূর করতে পারলে কোনো রোগ সহজে আক্রমণ করতে পারে না।

কাজ-১: নিচের ছকে রোগের নাম দেওয়া আছে। রোগের মাধ্যম লিখে ছকটি পূরণ কর।

রোগের নামমাধ্যম

১। সর্দি জ্বর

২। যক্ষ্মা

৩। টাইফয়েড

৪। হাম

৫। ডিপথেরিয়া

১।

২।

৩।

৪।

৫।

কাজ-২: হাত ধোয়ার কাজগুলো পোস্টারে লিখে উপস্থাপন কর। (শ্রেণির জন্য)

কাজ-৩: ছোট ছোট দলে ভাগ করে প্রত্যেক দলে ৩টি করে আত্মসচেতনতা সৃষ্টির বিষয়গুলো লিখ এবং উপস্থাপন কর। (দলগত কাজ)

Content added By

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. দেহ নিরোগ ও সুস্থ থাকাকে কী বলে?
ক. সুস্বাস্থ্য
খ. স্বাস্থ্য ব্যবস্থা
গ. চিকিৎসা ব্যবস্থা
ঘ. স্বাস্থ্য বিজ্ঞান

২. নিচের কোনটি ছোঁয়াচে রোগ?
ক. ম্যালেরিয়া
খ. ইনফুয়েঞ্জা
গ. প্যারালাইসিস
ঘ. টাইফয়েড

৩. কোনটি সংক্রামক রোগ বিস্তারের পরোক্ষ কারণ?
ক. ড্রপলেট ইনফেকশন
খ. জীবজন্তর কামড়
গ. ভেক্টর বোর্ন
ঘ. সরাসরি স্পর্শ

৪. নিচের কোনটি বায়ুবাহিত রোগ?
ক. নিউমোনিয়া
খ. টিটেনাস
গ. হাম
ঘ. প্লেগ

৫. 'আরোগ্যের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো'-প্রবাদটিতে নিচের কোনটি প্রতিফলিত হয়েছে?
ক. রোগ হতে আরোগ্য লাভ
খ. রোগীর সঠিক পরিচর্যা
গ. রোগ পরবর্তী সতর্কতা
ঘ. রোগ পূর্ব সতর্কতা

৬. হুক ওয়ার্ম রোগ হবার প্রধান কারণ কোনটি?
ক. পাগলা কুকুরের কামড়
খ. ইদুরের কামড়
গ. অ্যানোফিলিস মশার কামড়
ঘ. মাটির সাথে দেহের ক্ষত স্থানের সংস্পর্শ

অনুচ্ছেদটি পড়ে ৭ ও ৮ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।

৭. উদ্দীপকের কোন গুচ্ছ হাম রোগের লক্ষণ?
ক. গুচ্ছ-A
খ. গুচ্ছ-B
গ. গুচ্ছ-A ও B
ঘ. গুচ্ছ-B ও C

৮. উদ্দীপকের রোগগুলো প্রতিরোধে সর্বোত্তম ব্যবস্থা হলো-
i. যথাসময়ে প্রতিরোধমূলক টিকা গ্রহণ
ii. কীট পতঙ্গের কামড় এড়িয়ে চলা
iii. বিশুদ্ধ পানি পান ও ব্যবহার নিশ্চিত করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...