জীবাণুর সংক্রমণ এবং পচন রোধ করে খাদ্যের স্বাদ ও-পুষ্টিগুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখার প্রক্রিয়াকে খাদ্য সংরক্ষণ বলে।
খাদ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ-
১. পর্যাপ্ত ও নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার জন্য।
২. খাদ্যকে জীবাণুর সংক্রমণ এবং পচন থেকে রক্ষা করার জন্য।
৩. মৌসুমে উৎপাদিত খাদ্য সারা বছর পাওয়ার জন্য।
৪. খাদ্যের অপচয় রোধ ও গুণাগুণ বজায় রাখার জন্য।
৫. খাদ্যের পুষ্টিগুণ রক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করার জন্য।
সুস্থ থাকার জন্য শুধু সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেলেই হরে না, বরং তা নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ যেভাবে আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে তা হলো-
১. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
২. শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকে।
৩. পরিপাকতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করে।
৪. পাকস্থলীর আলসার, বদহজম, স্থূলতা ইত্যাদি সমস্যা দূর হয়।
৫. শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে ঘটে।
৬. ক্ষুধামান্দ্য দূর হয়।
৭. শরীরের ওজন স্বাভাবিক থাকে।
নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ উপরোক্ত কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করে আমাদের স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখে।
সুষম খাদ্য তালিকায় খাদ্যের ছয়টি পুষ্টি উপাদান যেমন-শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ এবং পানি থাকা জরুরি। কম খরচে সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করতে স্থানীয় ও সহজলভ্য খাবার খেতে হবে। বেশি দামি খাবার বাদ দিয়ে কম দামের খাবারকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বয়স, লিঙ্গ ও কাজ অনুযায়ী খাবার তালিকা তৈরি করতে হবে। নিচে কম খরচের একটি সুষম খাদ্য তালিকা দেওয়া হলো-
| শর্করা | ভাত, আলু, রুটি। |
| আমিষ | ডিম, ডাল, মাছ।. |
| তেল ও চর্বি | তেল, বাদাম। |
| ভিটামিন ও খনিজ লবণ | মৌসুমি ফল, যেমন- আম, কলা, বরই ইত্যাদি, মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, সবুজ শাক-সবজি। |
যেসব খাদ্যে পরিমিত পরিমাণে শর্করা, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ ও পানি উপস্থিত থাকে তাই সুষম খাদ্য।
একটি সুষম খাদ্যের নাম হলো- দুধ।
সুষম খাদ্যের পাঁচটি উপকারিতা হলো-
১. দেহের বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও সুরক্ষা প্রদান করে।
২. দেহে তাপ উৎপাদন ও কাজ করার শক্তি প্রদান করে।
৩. শারীরবৃত্তীয় কর্মশক্তি প্রদান করে।
৪. দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৫. শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়।
জীবাণুর সংক্রমণ এবং পচন রোধ করে খাদ্যের স্বাদ ও গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখার প্রক্রিয়াই হলো খাদ্য সংরক্ষণ। খাদ্য সংরক্ষণের চারটি গুরুত্ব হলো-
১. খাদ্যকে জীবাণুর সংক্রমণ এবং পচন থেকে রক্ষা করা যায়।
২. দীর্ঘদিন খাদ্যের সতেজতা ও গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।
৩. বিভিন্ন মৌসুমি খাদ্যকে সারা বছরব্যাপী পাওয়া যায়।
৪. খাদ্যের অপচয় রোধ হয়।
আমকে দ্রুত পচন থেকে রক্ষার একটি উপায় হলো আমের আচার তৈরি করা। এতে করে আমের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। সাধারণত আমের আচার তৈরি করতে লবণ, চিনি, সরিষার তেল, ভিনেগার ও মসলা জাতীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়।
উপযুক্ত সময়ে খাদ্য গ্রহণ না করে দেরীতে বা যখন মন চায় তখন খাদ্য গ্রহণ করাই হলো বিশৃঙ্খল খাদ্যাভ্যাস। যেমন সকালের খাবার দুপুরে এবং দুপুরের খাবার রাতে গ্রহণ করা।
আমার দৈনিক খাদ্য গ্রহণের সময়সূচি সম্পর্কে তিনটি বাক্য হলো-
১. আমি সকালের খাবার প্রতিদিন সকাল ৮টার আগে খাই।
২. দুপুরের খাবার ১২টা থেকে ১টার মধ্যে খাই।
৩. রাতের খাবার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে খাই।
নিয়মিত খাদ্য গ্রহণের তিনটি সুফল হলো-
১. আলসার, বদহজম, স্থূলতা ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৩. শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকে।
খাবার গ্রহণের কোনো নিয়ম না মেনে যখন মনে হয় তখন অথবা একেক দিন একেক সময়ে খাবার খাওয়াই হলো অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ।
সময়মতো খাদ্য গ্রহণের তিনটি গুরুত্ব হলো-
১. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
২. শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকে।
৩. পরিপাকতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করে।
অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণের তিনটি কুফল হলো-
১. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়।
২. পাকস্থলীতে আলসার, ক্ষুধামান্দ্য, বদহজম ও ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
৩. শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে না।
কোনো খাদ্যকে খাবার লবণ বা এর দ্রবণ দ্বারা সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়াকে কিউরিং বলে। কিউরিং করার ফলে 'খাদ্যের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
কিউরিং করা যায় এমন দুটি খাদ্য হলো- মাছ ও মাংস।
কিউরিং এর চারটি উদ্দেশ্য-
১. খাদ্যকে পচন ও জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা।
২. দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা।
৩. খাদ্যের অপচয় রোধ করা।
৪. অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হওয়া।
বিজ্ঞানসম্মত দুটি খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি হলো-
১. হিমাগারে খাদ্য সংরক্ষণ ও
২. ফ্রিজে খাদ্য সংরক্ষণ।
যখন কোনো খাদ্যকে লবণ, চিনি, সরিষার তেল, ভিনেগার ও মসলা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা হয় তখন ঐ প্রস্তুতকৃত খাদ্যকে আচার বলে।
আচার তৈরির পদ্ধতি:
১. প্রথমে আম, বরই, তেঁতুল ইত্যাদিকে পানি দ্বারা ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়।
২. তারপর পানি শুকানোর পর এতে লবণ, চিনি, তেল, ভিনেগার ও মসলা মেশানো হয়।
৩. সবশেষে এগুলো কৌটায় ভর্তি করে কৌটার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে গ্রহণ করা উচিত।
বীজ সংরক্ষণের জন্য প্রথমে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর সাধারণ তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠাণ্ডা করার পর শুকনো ও বায়ুরোধী পাত্রে বীজ সংরক্ষণ করতে হবে। পাত্রের মুখ কাপড় বা মাটি দিয়ে বন্ধ করতে হবে।
খাদ্য সংরক্ষণের চারটি গুরুত্ব হলো-
১. খাদ্য বিষক্রিয়ামুক্ত ও নিরাপদ থাকে।
২. খাদ্য পচন থেকে রক্ষা পায়।
৩. মৌসুমে উৎপাদিত খাদ্য সারা বছর ধরে পাওয়া যায়।
৪. খাদ্যের অপচয় রোধ হয়।
Related Question
View Allখাদ্য আমাদের দেহে শক্তি উৎপাদন করে।
শরীরে খাদ্য পরিপাকের জন্য নানা ধরনের উপাদান কাজ করে।
সুষম খাদ্যে খাদ্যের ছয়টি উপাদান থাকে।
সুস্থ্যতার জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ জরুরি।
বয়সভেদে খাদ্য তালিকা ভিন্ন হয়।
আমাদের সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!