বর্ণনামূলক প্রশ্ন

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

নিশানাথবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দৈত্য নিশানাথবাবুকে সাহায্য করতে নিজেই আসে।

আরব্য প্রচলিত গল্প অনুযায়ী আলাউদ্দিনের চেরাগ বা প্রদীপে ঘষা দিলে ভেতর থেকে একটা দৈত্য আসে। সে দৈত্য চেরাগের মালিকের অধীনে হয়ে তার ইচ্ছা পূরণ করে। 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে ভুলবশত প্রদীপ ঘষায় দৈত্য আসলেও নিশানাথবাবু তার কাছে দুর্লভ কিছু চায় না। নিশানাথবাবুর এই নির্লোভ মানসিকতা দেখে দৈত্য মুগ্ধ হয়। নিশানাথবাবুর পরিবারে কেউ না থাকায় তার নিজের কাজ নিজেকেই করতে হতো। একদিন রাতে নিশানাথবাবুর জ্বর আসলে তিনি পানির জন্য ছটফট করতে থাকেন কিন্তু বাতের ব্যথায় বিছানা থেকে উঠতে পারছিলেন না। নিশানাথবাবুর এরকম পিপাসার্ত করুণ অবস্থা দেখে চেরাগ না ঘষা ছাড়াই তাকে পানি খাওয়ানোর জন্য দৈত্য চলে আসে।

মুমূর্ষু নিশানাথবাবুর প্রতি সহমর্মিতার জন্য দৈত্যকে তিনি না ডাকলেও দৈত্য নিজ থেকে সেবা করতে আসে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তার লেখনীর মাধ্যমে অসাধারণ কল্পকাহিনি আমাদের উপহার দেন। 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে তিনি দৈত্য চরিত্রের সাথে শিক্ষক নিশানাথবাবুর সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে নিশানাথবাবুর নির্লোভ মানসিকতা ফুটিয়ে তুলেছেন।

'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের নিশানাথবাবু সমাজের নির্লোভ ও সৎ মানুষের প্রতিচ্ছবি। তিনি খুব সাধারণভাবে জীবন-যাপন করেন। আলাউদ্দিনের চেরাগ পেলেও তিনি তা অপব্যবহার বা নিজের বিলাসিতার জন্য ব্যবহার করেননি। দৈত্য তাকে বারবার বিভিন্নভাবে টাকা, সোনা, পরশপাথর ইত্যাদি দিয়ে সাহায্য করতে চাইলেও তিনি তা নেননি। বরং দৈত্য থেকে পাওয়া বিশ সের ওজনের সোনার বালতিটি স্কুলে দিয়ে দিয়েছেন।
নিশানাথবাবুর নীতিনিষ্ঠ আচরণ সমাজের সৎ মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করে। যারা লোভ বা স্বার্থপরতার বশবর্তী হয়ে কেবল নিজের সুবিধা চায়না। সমাজের কথা, অন্যের কথা ভাবে। পরশপাথর ও সোনা পাওয়ার পরও তিনি লোভ না করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। যা নির্লোভ ও মহত্ত্বের বড়ো দৃষ্টান্ত।

নিশানাথবাবুর এই গুণগুলোর মধ্যে দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ তাকে সমাজের সৎ ও নির্লোভ আদর্শ মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

নিশানাথবাবুর আর্থিক দুরাবস্থা ও নির্লোভ মানসিকতা দেখে দৈত্য তাকে পরশপাথর দিয়েছিল।

নিশানাথবাবু সাধারণভাবে জীবন-যাপন করেন। তিনি একজন সৎ, সরল ও নির্লোভ মানুষ। নিজের পরিশ্রমও সততার উপর বিশ্বাস রাখেন। আর্থিক দুরাবস্থা থাকলেও লোভ তাকে গ্রাস করে না। গল্পে নিশানাথবাবু দুঃখী ও অভাবী হলেও সহজ ও অলৌকিকভাবে দৈত্যের কাছ থেকে ধন-সম্পদ নিতে চান না। দৈত্য তার এই সততা ও দুরাবস্থা দেখে পরশপাথরের মতো মূল্যবান পাথর দিতে চায়। দৈত্য মনে করে পরশপাথরের মতো দুর্লভ ও মূল্যবান জিনিস একজন সৎ ও নির্লোভমানুষেরই প্রাপ্য। নিশানাথবাবু এমনই একজন মানুষ যিনি এটার সঠিক ব্যবহার করবেন অন্যের ক্ষতিতে নয়।

সততা, ন্যায়নিষ্ঠাবান হওয়ায় দৈত্য পরশপাথর দেওয়ার জন্য নিশানাথ বাবুকে সঠিক লোক মনে করে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

বিংশ শতাব্দীর গল্পে নতুন শৈলীর জনক হুমায়ূন আহমেদ। তিনি বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী। তাঁর কল্পনাপ্রতিভা ও প্রকাশভঙ্গির নৈপুণ্যে গল্পে ফুটিয়ে তুলেছেন নিশানাথবাবুর নির্লোভ চরিত্র। যিনি আর্থিক কষ্টে থাকলেও থেকেছেন লোভহীন ও মহৎ।

নিশানাথবাবু একজন সাধারণ স্কুল শিক্ষক। কষ্ট করে জীবনযাপন করেন। তার কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। আকস্মিকভাবে আলাউদ্দিনের চেরাগ ও দৈত্য পেয়ে তার সব ইচ্ছা পূরণ হওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা ব্যবহার করেননি। পেরেক পোতা জুতা দৈত্যকে ঠিক করে দিতে বলেছেন। অথচ তিনি চাইলে দৈত্যকে বলে নতুন ভালো জুতা নিতে পারত।

নিশানাথবাবুর চিকিৎসার জন্য দৈত্য তাকে সোনা বানানো পরশপাথর দিতে চাইলেও তিনি নিতে চান না। অথচ তিনি পরশপাথর দিয়ে সোনা বানিয়ে সেগুলো বিক্রি করে অর্থ-সম্পদ করে ধনী হতে পারতেন। নিশানাথবাবু একজন নির্লোভ মানুষ। সোনার বালতি পেয়েও তা স্কুলের জন্য দান করেন।

আত্মসম্মানবোধ ও মানবিকতার প্রবল জোর থাকায় তার চরিত্রে মহত্বের প্রকাশ ঘটেছে। তাই তিনি দরিদ্রতার মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করলেও অর্থ-সম্পদ পাওয়ার লোভ না করে মনুষ্যত্বের প্রবল শক্তিতে দারিদ্রকে পরাজিত করেছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের অঙ্ক শিক্ষক নিশানাথবাবু। তিনি একাকী বেশ কষ্টে জীবনযাপন করেন।

হুমায়ূন আহমেদ 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে তুলে ধরেছেন একজন সাধারণ শিক্ষকের নির্লোভ মানসিকতার ছবি। তিনি একজন সাধারণ শিক্ষকের জীবনযাপনের ও লোভহীন মানসিকতা তুলে ধরেছেন। এই গল্পে দেখানো হয়েছে, দুই চোখে ছানি পড়ায় চাকরি থেকে রিটায়ার্ড নিয়ে নান্দিনা বাজারের কাছে একটি ঘরে থাকেন নিশানাথবাবু। স্ত্রী ও কন্যা মারা যাওয়ায় ইহজগতে তার আর কেউ ছিল না। বাড়িওয়ালার জিনিসপত্র ঠাসা ঘরে থেকে ও বাহিরে খাওয়া-দাওয়া করে তার জীবন চলত, সন্ধ্যায় চা খেতে ইচ্ছে হলে নিজেই চা বানিয়ে খান। অর্থাভাবে নতুন জুতা ও চোখের চিকিৎসা করতেও পারছেন না। তবুও তার মনে কোন দুঃখ নেই। তিনি ভাবেন তার থেকেও আরও অনেকে অনেক খারাপ পরিস্থিতিতে আছে মানুষ। এইজন্য সে শুকরিয়া আদায় করেন। নিশানাথবাবু একজন নির্লোভী মানুষ। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে না পারলেও তিনি দৈত্যর কাছ থেকে সাহায্য নিতে চান নি।

নিশানাথবাবু লোভহীন, অনাড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর লেখনীর মধ্যে ফুটে ওঠে শিক্ষা ও নৈতিকতা। 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে নিশানাথবাবুর চরিত্রের মধ্যে দিয়ে লেখক আমাদের আত্মসম্মানবোধ, নির্লোভ মানসিকতা ও মহত্ত্বের শিক্ষা দেন।

আলোচ্য গল্পে নিশানাথবাবু হাইস্কুলের একজন সাধারণ শিক্ষক। স্ত্রী ও কন্যার মৃত্যুর পর তিনি একা জীবনযাপন করেন। চোখে সমস্যা হওয়ায় রিটায়ার্ড নিয়েছেন। অর্থাভাবে ঠিকঠাক নিজের চিকিৎসা করতে পারছেন না। ভুলবশত প্রদীপের গায়ে ঘষা লাগায় দৈত্য আসে। তাকে কোন কিছু করার হুকুম দিতে বললেও নিশানাথবাবু কোন সুবিধা নিতে পান না। শীতের সময় নিশানাথবাবুর অসুস্থতা দেখে তার স্কুলের পুরানো শিক্ষকেরা চাঁদা তুলে তিনশো টাকা দিলে তিনি খুব লজ্জা পান। তার আত্মসম্মানবোধে লাগে এভাবে হাত পেতে টাকা নিতে। চেরাগের দৈত্য তাকে টাকাপয়সা দিতে চাইলেও তিনি না করে। তার আত্মসম্মানবোধের দিকটা প্রকাশ পায় এখানে। নিশানাথবাবুর সততা ও নির্লোভ মানসিকতা দেখে দৈত্য তাকে পরশপাথর দিতে চায়। যেন পরশপাথর দিয়ে কোন কিছু সোনা বানিয়ে বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু নিশানাথবাবু সেটাও ফিরিয়ে দেন। এর মধ্যে দিয়ে তার নির্লোভ মানসিকতা প্রস্ফুটিত হয়। দৈত্যর দেওয়া সোনার বালতিও স্কুলে দান করে দিয়ে নিজের মহত্ত্বের পরিচয় দেন।

নিশানাথবাবু দরিদ্র হলেও তার মধ্যে লোভ, লালসা ছিল না। এত দরিদ্রতার মধ্যে সোনার বালতি পেয়েও নিজের চিকিৎসা না করে স্কুলের উন্নয়নে দিয়ে দেওয়ার মধ্যে নিশানাথবাবুর চরিত্র আমাদের মহৎ, নির্লোভ হবার শিক্ষা দেয়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

নিশানাথবাবুর অবসর জীবন দারিদ্র্যে ও দুঃখকষ্টে কাটছে।

নিশানাথবাবু নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের গণিতের শিক্ষক ছিলেন। দুই চোখে ছানি পড়ায় তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। এই অবসর গ্রহণের পর তিনি নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছিলেন। স্ত্রী ও কন্যা মারা যাওয়ায় একাকী দু-কামরার একটি পাকা দালানে ভাড়া থাকতেন। খাবারের জন্য তার ভরসা ছিল পাশের হোটেল। বিকালে নদীর পাশে হাঁটতে গেলেও সন্ধ্যায় নিজের ঘরে ফিরে আসার পর তার জীবন একঘেয়ে হয়ে উঠত।
অসুস্থ হলেও চিকিৎসা করার অর্থ কিংবা সেবা করার জন্য কোনো মানুষও ছিল না তার।

অবসর গ্রহণের পর এভাবেই দুঃখ-দৈন্য ও একাকিত্বের মধ্য দিয়ে নিশানাথবাবুর জীবন অতিবাহিত হচ্ছিল।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় লেখক। তাঁর 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে স্কুল-শিক্ষক নিশানাথবাবুর চরিত্রের মহৎ ও নির্লোভ দিকটি ফুটে উঠেছে।

'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে নিশানাথবাবু গণিতের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল-শিক্ষক। স্ত্রী, একমাত্র কন্যার মৃত্যু ও অবসর গ্রহণের পর তিনি খুব নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেন। একদিন তাঁর ছেঁড়া চটিজোড়ার উঁচু হওয়া পেরেক ঠিক করতে একটি ধাতব পুরোনো চেরাগ দিয়ে বাড়ি দেন। আকস্মিকভাবে সেখান থেকে একটি দৈত্য বের হয়ে আসে। দৈত্য তার কাছে ইচ্ছা পূরণের কথা বললে তিনি তার কাছে অর্থসম্পদ না চেয়ে কেবল চটির উঁচু হয়ে থাকা পেরেকটি ঠিক করে দিতে বলেন। এখানে তাঁর নির্লোভমানসিকতার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। নিশানাথবাবু আর্থিক সংকটে চিকিৎসা করাতে পারছেন না দেখে তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী চাঁদা তুলে তাঁকে দিলে তিনি বড়ো লজ্জা পান। দৈত্য স্বেচ্ছায় তাঁকে পরশপাথর দিতে চাইলেও তিনি তা নেন না। তাঁর চিকিৎসার অর্থের জন্য দৈত্য একটি সোনার বালতি দিলেও তিনি তা স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দেন। তাঁর নিজের আর্থিক সংকট থাকলেও অর্থসম্পদ, সোনা, ধনী হওয়ার লোভ তাকে গ্রাস করতে পারেনি।

অনাড়ম্বর, নির্লোভ, মহানুভবতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে নিশানাথবাবুর চরিত্রের মধ্যে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্যের কাছে নিশানাথবাবু অর্থসম্পদ বা দামি কোনো বস্তু না চাওয়ায় দৈত্য বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেন।

চটি জুতার পেরেক ঠিক করতে নিশানাথবাবু ধাতব চেরাগ দিয়ে বাড়ি দেন। সেই চেরাগের মধ্যে ছিল আলাউদ্দিনের দৈত্য। ঘষা খেয়ে চেরাগ থেকে দৈত্য বের হয়ে এসে নিশানাথবাবুকে কিছু চাইতে বললে তিনি জুতার পেরেক ঠিক করে দিতে বলেন। দ্বিতীয়বার দৈত্যকে মশারি খাটাতে বলে। দৈত্য নিশানাথবাবুকে চিকিৎসার জন্য এক কলস সোনার মোহর দিতে চাইলে তিনি না করে দেন। দৈত্য তার আরও কাজ করে দিতে চাইলে তিনি তাকে চা বানিয়ে দিতে বলেন। আরব্য-রজনীর গল্পগুলোতে দেখা যায় মানুষ অর্থসম্পদ, হীরা-জহরত পাওয়ার জন্য চেরাগের দৈত্যকে ব্যবহার করে। তাদের চাহিদার সীমা থাকে উচ্চে, যা তারা দৈত্যকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে পূরণ করতে চায়। কিন্তু নিশানাথবাবু লোভহীন।

তাই দৈত্য তাকে অদ্ভুত মানুষ মনে করে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

বাংলা সাহিত্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। তিনি তাঁর লেখনীর মধ্য দিয়ে সমাজের বিভিন্ন বিষয় ফুটিয়ে তুলেছেন। 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্প তেমনই আত্মসম্মানবোধ, নির্লোভ মানসিকতা ও মহত্ত্বের শিক্ষা দেয়। 

'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের নিশানাথবাবু দরিদ্র তবে প্রবল আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ও নির্লোভ একজন মানুষ। তাঁর চরিত্রের বিভিন্ন দিকের মাধ্যমে লেখক আমাদের নৈতিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। নিশানাথবাবু অবসর গ্রহণের পর একাকী নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেন। তারপরও তিনি তাঁর অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট। তিনি মনে করেন তাঁর থেকেও অনেক মানুষ কষ্টে আছে। তাঁর এই আচরণের মধ্য দিয়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার শিক্ষা পাওয়া যায়। 

দৈত্যকে ব্যবহার করে নিশানাথবাবু বিভিন্ন অর্থসম্পদ বা দামি বস্তু কুক্ষিগত করার সুযোগ থাকলেও তিনি তা করেননি। অনেক সুযোগ থাকলেও নিশানাথবাবু সততা বজায় রেখেছেন। পরশপাথরের মতো দামি পাথর ফিরিয়ে দিয়ে নির্লোভ মানসিকতার চূড়ান্ত পরিচয় দিয়েছেন। সোনার কলস পেলেও তা স্কুলে দান করে মহানুভবতার পরিচয় দেন। 

এই গল্পে দেখানো হয়েছে নির্লোভ মানুষের ছবি, দরিদ্র হলেও থেকেছেন মহৎ ও লোভহীন। মনুষ্যত্বের প্রবল শক্তি যে দারিদ্রদ্র্যকে পরাজিত করতে পারে তা এই গল্প থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। আত্মসম্মানবোধ, লোভহীন, মহৎ মানসিকতাবোধসম্পন্ন মানুষ হওয়া এই গল্পের মূলশিক্ষা।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
288

নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের অঙ্ক-শিক্ষক নিশানাথবাবু কিছুদিন হলো রিটায়ার করেছেন। আরো বছরখানেক চাকরি করতে পারতেন; কিন্তু করলেন না। কারণ দুটো চোখেই ছানি পড়েছে। পরিষ্কার কিছু দেখেন না। ব্ল‍্যাকবোর্ডে নিজের লেখা নিজেই পড়তে পারেন না।

নিশানাথবাবুর ছেলেমেয়ে কেউ নেই। একটা মেয়ে ছিল। খুব ছোটোবেলায় টাইফয়েডে মারা গেছে। তার স্ত্রী মারা গেছেন গত বছর। এখন তিনি একা একা থাকেন। তার বাসা নান্দিনা বাজারের কাছে। পুরান আমলের দু-কামরার একটা পাকা দালানে তিনি থাকেন। কামরা দুটির একটি পুরোনো লক্কড় জিনিসপত্র দিয়ে ঠাসা। তার নিজের জিনিস নয়। বাড়িওয়ালার জিনিস। ভাঙা খাট, ভাঙা চেয়ার, পেতলের তলা-নেই কিছু ডেগচি, বাসনকোসন। বাড়িওয়ালা নিশানাথবাবুকে প্রায়ই বলেন, এই সব জঞ্জাল দূর করে ঘরটা আপনাকে পরিষ্কার করে দেবো। শেষপর্যন্ত করেন না। তাতে নিশানাথবাবুর খুব একটা অসুবিধাও হয় না। পাশে একটা হোটেলে তিনি খাওয়া দাওয়া সারেন। বিকেলে নদীর ধারে একটু হাঁটতে যান। সন্ধ্যার পর নিজের ঘরে এসে চুপচাপ বসে থাকেন। তার একটা কেরোসিনের স্টোভ আছে। রাতের বেলা চা খেতে ইচ্ছা হলে স্টোভ জ্বালিয়ে নিজেই চা বানান।

জীবনটা তার বেশ কষ্টেই যাচ্ছে। তবে তা নিয়ে নিশানাথবাবু মন খারাপ করেন না। মনে মনে বলেন, আর অল্প-কটা দিনই তো বাঁচব, একটু না হয় কষ্ট করলাম। আমার চেয়ে বেশি কষ্টে কত মানুষ আছে। আমার আর আবার এমনকি কষ্ট।

একদিন কার্তিক মাসের সন্ধ্যাবেলায় নিশানাথবাবু তার স্বভাবমতো সকাল সকাল রাতের খাওয়া সেরে নিয়ে বেড়াতে বেরোলেন। নদীর পাশের বাঁধের ওপর দিয়ে অনেকক্ষণ হাঁটলেন। চোখে কম দেখলেও অসুবিধা হয় না, কারণ গত কুড়ি বছর ধরে এই পথে তিনি হাঁটাহাঁটি করছেন।

আজ অবশ্য একটু অসুবিধা হলো। তার চটির একটা পেরেক উঁচু হয়ে গেছে। পায়ে লাগছে। হাঁটতে পারছেন না। তিনি সকাল সকাল বাড়ি ফিরলেন। তার শরীরটাও আজ খারাপ। চোখে যন্ত্রণা হচ্ছে। বাঁ চোখ দিয়ে ক্রমাগত পানি পড়ছে।

বাড়ি ফিরে তিনি খানিকক্ষণ বারান্দায় বসে রইলেন। রাত নটার দিকে তিনি ঘুমুতে যান। নটা বাজতে এখনো অনেক দেরি। সময় কাটানোটাই তার এখন সমস্যা। কিছু-একটা কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারলে হতো। কিন্তু হাতে কোনো কাজ নেই। বসে থাকা ছাড়া কিছু করার নেই। চটির উঁচু-হয়ে-থাকা পেরেকটা ঠিক করলে কেমন হয়? কিছুটা সময় তো কাটে। তিনি চটি হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। হাতুড়িজাতীয় কিছু খুঁজে পেলেন না। জঞ্জাল রাখার ঘরটিতে উঁকি দিলেন। রাজ্যের জিনিস সেখানে; কিন্তু হাতুড়ি বা তার কাছাকাছি কিছু নেই। মন খারাপ করে বের হয়ে আসছিলেন, হঠাৎ দেখলেন, ঝুড়ির ভেতর একগাদা জিনিসের মধ্যে লম্বাটে ধরনের কী-একটা যেন দেখা যাচ্ছে। তিনি জিনিন্সটা হাতে নিয়ে জুতার পেরেকে বাড়ি দিতেই অদ্ভুত কাণ্ড হলো। কালো ধোঁয়ায় ঘর ভর্তি হয়ে গেল।

তিনি ভাবলেন, চোখের গন্ডগোল। চোখ-দুটো বড়ো যন্ত্রণা দিচ্ছে। কিন্তু না, চোখের গন্ডগোল না। কিছুক্ষণের মধ্যে ধোঁয়া কেটে গেল। নিশানাথবাবু অবাক হয়ে শুনলেন, মেঘগর্জনের মতো শব্দে কে যেন বলছে, আপনার দাস আপনার সামনে উপস্থিত। হুকুম করুন। এক্ষুনি তালিম হবে।

নিশানাথবাবু কাঁপা গলায় বললেন, কে? কে কথা বলে?
: জনাব আমি। আপনার ডান দিকে বসে আছি। ডান দিকে ফিরলেই আমাকে দেখবেন।

নিশানাথবাবু ডান দিকে ফিরতেই তার গায়ে কাঁটা দিল। পাহাড়ের মতো একটা কী যেন বসে আছে। মাথা প্রায় ঘরের ছাদে গিয়ে লেগেছে। নিশ্চয়ই চোখের ভুল।
নিশানাথবাবু ভয়ে ভয়ে বললেন, বাবা তুমি কে? চিনতে পারলাম না তো।
: আমি হচ্ছি আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য। আপনি যে-জিনিসটি হাতে নিয়ে বসে আছেন এটাই হচ্ছে সেই বিখ্যাত আলাউদ্দিনের চেরাগ।
: বলো কী!
: সত্যি কথাই বলছি জনাব। দীর্ঘদিন এখানে-ওখানে পড়ে ছিল। কেউ ব্যবহার জানে না বলে ব্যবহার হয়নি। পাঁচ হাজার বছর পর আপনি প্রথম ব্যবহার করলেন। এখন হুকুম করুন।
: কী হুকুম করব?
: আপনি যা চান বলুন, এক্ষুনি নিয়ে আসব। কোন জিনিসটি আপনার প্রয়োজন?
: আমার তো কোনো জিনিসের প্রয়োজন নেই।
চেরাগের দৈত্য চোখ বড়ো বড়ো করে অনেকক্ষণ নিশানাথবাবুর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর গম্ভীর গলায় বলল, জনাব, আপনি কি আমাকে ভয় পাচ্ছেন?
: প্রথমে পেয়েছিলাম, এখন পাচ্ছি না। তোমার মাথায় ওই দুটা কী? শিং নাকি?
: জি, শিং।
: বিশ্রী দেখাচ্ছে।
চেরাগের দৈত্য মনে হলো একটু বেজার হয়েছে। মাথার লম্বা চুল দিয়ে সে শিং দুটো ঢেকে দেবার চেষ্টা করতে করতে বলল, এখন বলুন কী চান?
: বললাম তো, কিছু চাই না।
: আমাদের ডেকে আনলে কোনো-একটা কাজ করতে দিতে হয়। কাজ না করা পর্যন্ত আমরা চেরাগের ভেতর ঢুকতে পারি না।
অনেক ভেবেচিন্তে নিশানাথবাবু বললেন, আমার চটির পেরেকটা ঠিক করে দাও। অমনি দৈত্য আঙুল দিয়ে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে পেরেক ঠিক করে বলল,
: এখন আমি আবার চেরাগের ভেতর ঢুকে যাব। যদি আবার দরকার হয় চেরাগটা দিয়ে লোহা বা তামার ওপর খুব জোরে বাড়ি দেবেন। আগে চেরাগ একটুখানি ঘষলেই আমি চলে আসতাম। এখন আসি না। চেরাগ পুরোনো হয়ে গেছে তো, তাই।
: ও আচ্ছা। চেরাগের ভেতরেই তুমি থাক?
: জি।
: কর কী?
: ও আচ্ছা। চেরাগের ভেতরেই তুমি থাক?
: জি।
: কর কী?
: ঘুমোই। তাহলে জনাব আমি এখন যাই।
বলতে বলতেই সে ধোঁয়া হয়ে চেরাগের ভেতর ঢুকে গেল। নিশানাথবাবু স্তম্ভিত হয়ে দীর্ঘ সময় বসে রইলেন। তারপর তার মনে হলো-এটা স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়। বসে ঝিমাতে ঝিমাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঘুমের মধ্যে আজেবাজে স্বপ্ন দেখেছেন।
তিনি হাতমুখ ধুয়ে শুয়ে পড়লেন। পরদিন তার আর এত ঘটনার কথা মনে রইল না। তার খাটের নিচে পড়ে রইল আলাউদ্দিনের বিখ্যাত চেরাগ।
মাসখানেক পার হয়ে গেল। নিশানাথবাবুর শরীর আরো খারাপ হলো। এখন তিনি আর হাঁটাহাঁটিও করতে পারেন না। বেশির ভাগ সময় বিছানায় শুয়ে-বসে থাকেন। এক রাতে ঘুমোতে যাবেন। মশারি খাটাতে গিয়ে দেখেন, একদিকের পেরেক খুলে এসেছে। পেরেক বসানোর জন্যে আলাউদ্দিনের চেরাগ দিয়ে এক বাড়ি দিতেই ওই রাতের মতো হলো। তিনি শুনলেন গম্ভীর গলায় কে যেন বলছে-
: জনাব, আপনার দাস উপস্থিত। হুকুম করুন।
: তুমি কে?
: সে কি! এর মধ্যে ভুলে গেলেন? আমি আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য।
: ও আচ্ছা, আচ্ছা। আরেক দিন তুমি এসেছিলে।
: জি।
: আমি ভেবেছিলাম- বোধ হয় স্বপ্ন।
: মোটেই স্বপ্ন না। আমার দিকে তাকান। তাকালেই বুঝবেন- এটা সত্য।
: তাকালেও কিছু দেখি না রে বাবা। চোখ-দুটো গেছে।
: চিকিৎসা করাচ্ছেন না কেন?
: টাকা কোথায় চিকিৎসা করার?
: কী মুশকিল! আমাকে বললেই তো আমি নিয়ে আসি। যদি বলেন তো এক্ষুনি এক কলসি সোনার মোহর এনে আপনার খাটের নিচে রেখে দেই।
: আরে না, এত টাকা দিয়ে আমি করব কী? কদিনই-বা বাঁচব।
: তাহলে আমাকে কোনো-একটা কাজ দিন। কাজ না করলে তো চেরাগের ভেতর যেতে পারি না।
: বেশ, মশারিটা খাটিয়ে দাও।
দৈত্য খুব যত্ন করে মশারি খাটালো। মশারি দেখে সে খুব অবাক। পাঁচ হাজার বছর আগে নাকি এই জিনিস ছিল না। মশার হাত থেকে বাঁচার জন্য মানুষ যে কায়দা বের করেছে, তা দেখে সে মুগ্ধ।
: জনাব, আর কিছু করতে হবে?
: না, আর কী করবে! যাও এখন।
: অন্য কিছু করার থাকলে বলুন, করে দিচ্ছি।
: চা বানাতে পারো?
: জি না। কীভাবে বানায়?
; দুধ-চিনি মিশিয়ে।
: না, আমি জানি না। আমাকে শিখিয়ে দিন।
: থাক বাদ দাও, আমি শুয়ে পড়ব।
দৈত্য মাথা নাড়তে নাড়তে বলল, আপনার মতো অদ্ভুত মানুষ জনাব আমি এর আগে দেখিনি।
: কেন?
: আলাউদ্দিনের চেরাগ হাতে পেলে সবার মাথা খারাপের মতো হয়ে যায়। কী চাইবে, কী না চাইবে, বুঝে উঠতে পারে না, আর আপনি কিনা...
নিশানাথবাবু বিছানায় শুয়ে পড়লেন। দৈত্য বলল, আমি কি আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে দেব? তাতে ঘুমোতে আরাম হবে।
: আচ্ছা দাও।
দৈত্য মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। নিশানাথবাবু ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুম ভাঙলে মনে হলো, আগের রাতে যা দেখেছেন সবই স্বপ্ন। আলাউদ্দিনের চেরাগ হচ্ছে রূপকথার গল্প। বাস্তবে কি তা হয়? হয় না। হওয়া সম্ভব না।
দুঃখেকষ্টে নিশানাথবাবুর দিন কাটতে লাগল। শীতের শেষে তার কষ্ট চরমে উঠল। বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেন না এমন অবস্থা। হোটেলের একটা ছেলে দুবেলা খাবার নিয়ে আসে। সেই খাবারও মুখে দিতে পারেন না। স্কুলের পুরোনো স্যাররা মাঝে মাঝে তাকে দেখতে এসে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলেন। নিজেদের মধ্যে বলাবলি করেন, এ-যাত্রা আর টিকবে না। বেচারা বড়ো কষ্ট করল। তারা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তিন শ টাকা নিশানাথবাবুকে দিয়ে এলেন। তিনি বড়ো লজ্জায় পড়লেন। কারো কাছ থেকে টাকা নিতে তার বড়ো লজ্জা লাগে।
এক রাতে তার জ্বর খুব বাড়ল। সেই সঙ্গে পানির পিপাসায় ছটফট করতে লাগলেন। বাতের ব্যথায় এমন হয়েছে যে বিছানা ছেড়ে নামতে পারছেন না। তিনি করুণ গলায় একটু পরপর বলতে লাগলেন- পানি, পানি।
গম্ভীর গলায় কে-একজন বলল, নিন জনাব পানি।
: তুমি কে?
: আমি আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য।
: ও আচ্ছা, তুমি।
: নিন, আপনি খান। আমি আপনাতেই চলে এলাম। যা অবস্থা দেখছি, না এসে পারলাম না।
: শরীরটা বড়োই খারাপ করেছে রে বাবা।
: আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন না, টাকাপয়সা নেবেন না, আমি কী করব, বলুন?
: তা তো ঠিকই, তুমি আর কী করবে।
: আপনার অবস্থা দেখে মনটাই খারাপ হয়েছে। নিজ থেকেই আমি আপনার জন্য একটা জিনিস এনেছি। এটা আপনাকে নিতে হবে। না নিলে খুব রাগ করব।
: কী জিনিস?
: একটা পরশপাথর নিয়ে এসেছি।
: সে কী! পরশপাথর কি সত্যি সত্যি আছে নাকি?
: থাকবে না কেন? এই তো, দেখুন। হাতে নিয়ে দেখুন।
নিশানাথবাবু পাথরটা হাতে নিলেন। পায়রার ডিমের মতো ছোটো। কুচকুচে কালো একটা পাথর। অসম্ভব মসৃণ।
: এটাই বুঝি পরশপাথর?
: জি। এই পাথর ধাতুর তৈরি যে-কোনো জিনিসের গায়ে লাগালে সেই জিনিস সোনা হয়ে যাবে। দাঁড়ান, আপনাকে দেখাচ্ছি।
দৈত্য খুঁজে খুঁজে বিশাল এক বালতি নিয়ে এল। পরশপাথর সেই বালতির গায়ে লাগাতেই কাঁচা হলুদ রঙের আভায় বালতি ঝকমক করতে লাগল।
: দেখলেন?
: হ্যাঁ, দেখলাম। সত্যি সত্যি সোনা হয়েছে?
: হ্যাঁ, সত্যি সোনা।
: এখন এই বালতি দিয়ে আমি কী করব?
: আপনি অদ্ভুত লোক, এই বালতির কত দাম এখন জানেন? এর মধ্যে আছে কুড়ি সের সোনা। ইচ্ছা করলেই পরশপাথর ছুঁইয়ে আপনি লক্ষ লক্ষ টন সোনা বানাতে পারেন।
নিশানাথবাবু কিছু বললেন না, চুপ করে রইলেন। দৈত্য বলল, আলাউদ্দিনের চেরাগ যে-ই হাতে পায়, সে-ই বলে পরশপাথর এনে দেবার জন্য। কাউকে দিই না।
: দাও না কেন?
: লোভী মানুষদের হাতে এসব দিতে নেই। এসব দিতে হয় নির্লোভ মানুষকে। নিন, পরশপাথরটা যত্ন করে রেখে দিন।
: আমার লাগবে না। যখন লাগবে তোমার কাছে চাইব।
নিশানাথবাবু পাশ ফিরে শুলেন।
পরদিন জ্বরে তিনি প্রায় অচৈতন্য হয়ে গেলেন। স্কুলের স্যাররা তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিলেন। ডাক্তাররা মাথা নেড়ে বললেন-
: অবস্থা খুবই খারাপ। রাতটা কাটে কি না সন্দেহ।
নিশানাথবাবু মারা গেলেন পরদিন ভোর ছটায়। মৃত্যুর আগে নান্দিনা হাইস্কুলের হেডমাস্টার সাহেবকে কানে কানে বললেন, আমার ঘরে একটা বড়ো বালতি আছে। ওইটা আমি স্কুলকে দিলাম। আপনি মনে করে বালতিটা নেবেন।
: নিশ্চয়ই নেব।
: খুব দামি বালতি...
: আপনি কথা বলবেন না। কথা বলতে আপনার কষ্ট হচ্ছে। চুপ করে শুয়ে থাকুন।
কথা বলতে তার সত্যি সত্যি কষ্ট হচ্ছিল। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। বালতিটা যে সোনার তৈরি এটা তিনি বলে যেতে পারলেন না।
হেডমাস্টার সাহেব ওই বালতি নিয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন- বাহ্, কী সুন্দর বালতি! কী চমৎকার ঝকঝকে হলুদ! পেতলের বালতি, কিন্তু রংটা বড়ো সুন্দর।
দীর্ঘদিন নান্দিনা হাইস্কুলের বারান্দায় বালতিটা পড়ে রইল। বালতি-ভরতি থাকত পানি। পানির ওপর একটা মগ ভাসত। সেই মগে করে ছাত্ররা পানি খেত।
তারপর বালতিটা চুরি হয়ে যায়। কে জানে এখন সেই বালতি কোথায় আছে!

Related Question

View All
178
উত্তরঃ

"তাতে নিশানাথবাবুর খুব একটা অসুবিধাও হয় না।"-নিশানাথবাবুর বসবাসের পরিবেশ ও ঘরের অবস্থা প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে।

'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে নিশানাথবাবু নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের অঙ্কের শিক্ষক। তাঁর কোনো ছেলে-মেয়ে নেই। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি একা। পুরনো আমলের দু-কামরার একটা পাকা দালানে তিনি থাকেন। কামরা দুটির একটি পুরনো লব্ধর জিনিসপত্র দিয়ে বাড়িওয়ালা ঠেসে রেখেছে। সেগুলোর মধ্যে ভাঙা খাট, ভাঙা চেয়ার, পেতলের তলা নেই কিছু ডেগচি, বাসনকোসন। বাড়িওয়ালা প্রায়ই তাকে বলেন- এইসব জঞ্জাল দূর করে ঘরটা আপনাকে পরিষ্কার করে দেব। শেষ পর্যন্ত তিনি তা করেন না। নিশানাথবাবু একা একা থাকেন বলেন এসব জঞ্জাল তার কাছে খুব একটা অসুবিধা বলে মনে হয় না। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

145
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আলী ও পীরের সঙ্গে 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের নিশানাথবাবুর বৈসাদৃশ্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতায়।

হিংসা মানুষকে ধ্বংস করে। হিংসা-বিদ্বেষ মনে পুষে রাখলে মানুষ ভালো কাজ করতে পারে না। কাজেই প্রকৃত মানুষ হতে চাইলে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবার সঙ্গে সবার বন্ধুত্বময় সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

উদ্দীপকে আলী এবং পীরের মধ্যে হিংসাত্মক মনোভাবটি প্রকাশ পেয়েছে। তারা একে অন্যের সঙ্গে মোকদ্দমা করে সব হারিয়ে নিজেদের ভুল বুঝতে পারলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। একের সঙ্গে অন্যের হিংসা-বিদ্বেষের পরিণাম তারা ভোগ করেছে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। তারা দূর দেশে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে মরুভূমির পথ ধরে। একসময় তারা তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়ে। সঙ্গে থাকা এক বদনা পানি নিয়ে কাড়াকাড়ি করে মাটিতে ফেলে দেয়। সেখান থেকে এক জিন উঠে এসে তাদের পুরষ্কৃত করতে চাইলে তারা একে অন্যের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করল। তারা একে অন্যকে হিংসা করে পুরস্কার প্রার্থনা করলে একজনের এক চোখ কানা ও এক পা খোঁড়া এবং অন্যচোখের দুই চোখ কানা ও দুই পা খোঁড়া হয়ে গেল। নিশানাথবাবুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা তাদের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ তিনি কাউকে হিংসা করেন না এবং কোনো জিনিসের প্রতি তাঁর কোনো লোভ নেই। দৈত্য তাকে সুবিধা দিতে চাইলেও তিনি নেননি।

156
উত্তরঃ

"উদ্দীপকের মূলভাব 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের মূলভাবের বিপরীত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষ যত পায় তত চায়। এই অতৃপ্তির কারণে মানুষ একে অন্যকে হিংসা করে। নিজের স্বার্থের জন্য অন্যকে কষ্ট দেয়। আবার অনেকে আছেন যারা অল্পে তুষ্ট থাকেন। অতি সাধারণ জীবনযাপন করে। অন্যের জিনিসের প্রতি লোভ করেন না।

'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের অঙ্ক শিক্ষক নিশানাথবাবু অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী মানুষ। তিনি একা একা থাকার কষ্ট অনুভব করলেও মনে করেন, তার চেয়েও অনেকে কষ্টে আছে। স্ত্রী-সন্তানহীন জীবনের কষ্ট নিয়ে নিশানাথবাবু মন খারাপ করেন না। মনে মনে বলেন- আর অল্প-কটা দিনই তো বাঁচব, একটু না হয় কষ্ট করলাম। শিক্ষক নিশানাথবাবুর এ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র উদ্দীপকের আলী ও পীর। তারা অন্যের ভালো সহ্য করতে পারে না। একে অন্যকে হিংসা করে। মরুভূমিতে হেঁটে চলার সময় তৃষ্ণাকাতর দুজনে কাড়াকাড়ি করে এক বদনা পানি মাটিতে ফেলে দিয়েছে। অথচ সেই পানি দুজনে ভাগ করে পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারত।

'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে দৈত্য নিশানাথবাবুকে এক কলসি সোনার মোহর এনে দিতে চাইলেও তিনি তা নিতে চাননি। দৈত্য তাকে পরশপাথর দিতে চাইলেও তিনি তার প্রতি লোভ করেননি। অন্যদিকে উদ্দীপকের আলী ও পীর উভয়ই লোভী এবং হিংসুটে। মোকদ্দমা করে তারা উভয়ই সবকিছু হারিয়েছে। শেষে জিন তাদের উভয়কে পুরস্কার দেওয়ার শর্ত-দিলে পীর নিজের এক চোখ অন্ধ ও এক. পা খোঁড়া করে দেওয়ার কথা বলে যাতে আলীর দুই চোখ অন্ধ এবং দুই পা খোঁড়া হয়ে যায়। তাদের হিংসার এই ভয়াবহ পরিণাম 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের মূলভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত। এভাবে মন্তব্যটি যথার্থ।

127
উত্তরঃ

পরশপাথরে ধাতুর তৈরি যেকোনো জিনিস সোনা হয়ে যায়।

305
উত্তরঃ

লোভী মানুষের হাতে পরশপাথর দিতে নেই। একথাটি পরশপাথর দেওয়া প্রসঙ্গে আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য শিক্ষক নিশানাথবাবুকে বলেছিল।

'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে শিক্ষক নিশানাথবাবু তাঁর চটির উঁচু হয়ে থাকা পেরেক ঠিক করতে লম্বাটে ধরনের একটি পরিত্যক্ত জিনিস দিয়ে বাড়ি দেন। এতে পুরো ঘর ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় এবং একজন মেঘ গর্জনের মতো আওয়াজে বলে সে আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য, তার হুকুমের দাস। সে তার সব কাজ করে দিবে। দৈত্য তাকে চিকিৎসার জন্য কলসি ভর্তি মোহর দিতে চায়, তার জন্য পরশপাথর নিয়ে আসে। পরশপাথর ছুঁইয়ে একটি সোনার বালতি বানিয়ে তাকে দেয়। কিন্তু নির্লোভ শিক্ষক কিছুই নিতে চায় না। তখন দৈত্য তাঁকে বলে, 'আলাউদ্দিনের চেরাগ যে-ই হাতে পায় সে-ই বলে পরশপাথর এনে দেওয়ার জন্যে, কাউকে দিই না।' নিশানাথবাবু ঐ পাথর কাউকে না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দৈত্য তাকে বলে লোভী মানুষের হাতে পরশপাথর দিতে নেই।

586
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews