জীবনের জন্য খেলাধুলা (পঞ্চম অধ্যায়)

শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

897

খেলাধুলা শিশুদের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। যে শিশুটি কয়েক দিন আগে জন্মগ্রহণ করেছে, পৃথিবীর কোনো কিছুর সঙ্গেই যার ভালো পরিচয় গড়ে ওঠেনি, সেই শিশুও নিজের মনে খেলে। ধীরে ধীরে এই শিশু বড়ো হয়ে চলতে-ফিরতে, ছুটতে শেখে এবং এভাবেই একসময় পৌঁছে যায় খেলার মাঠে। শিশু বা বয়স্ক হোক, সব মানুষের কাছেই খেলাধুলার একটা অনিবার্য আকর্ষণ আছে। কারণ খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি ও অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে পারি। নিয়মিত খেলাধুলাই পারে আমাদের শরীর ও মনকে সুস্থ, সবল ও সতেজ রাখতে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • শারীরিক সুস্থতায় খেলাধুলার প্রভাব বর্ণনা করতে পারব।
  • ইনডোর ও আউটডোর গেমসের পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ হব।
  • ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা এবং অ্যাথলেটিকস্-এর নিয়মকানুন জানব এবং অনুশীলন করব।
  • আগ্রহ অনুযায়ী কমপক্ষে একটি খেলায় বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ করে খেলাধুলায় পারদর্শী হব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

শাওন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সে খুব ভালো ফুটবল খেলে। তাদের বিদ্যালয় একটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে ফাইনালে ওঠে। সে তাদের বিদ্যালয়ের মূল একাদশে সুযোগ পেয়ে খেলে এবং তারা জয়ী হয়।

গোল কিক এর মাধ্যমে
কিক অফ এর মাধ্যমে
কর্ণার কিক এর মাধ্যমে
থ্রো-ইন এর মাধ্যমে

খেলাধুলা শিশুর একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। সুযোগ পেলেই তারা খেলাধুলায় মেতে ওঠে এবং অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে। খেলাধুলার প্রতি শিশুর এ স্বাভাবিক প্রবণতা ও অফুরন্ত আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের উপযোগী করে গড়ে তোলা খুবই প্রয়োজন। খেলাধুলা ছাড়া শিশুর দেহ ও মনের সার্বিক বিকাশ সম্ভব নয়। তাই শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের লক্ষ্যে খেলাধুলাকে আমাদের অগ্রাধিকারের বিবেচনায় রাখতে হবে। স্বাভাবিক নিয়মে কোনো কিছুর প্রতি মানুষের মনোযোগ দীর্ঘক্ষণ থাকে না। একটানা অনেকক্ষণ শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনা মনে বিরক্তির সৃষ্টি করে। এতে তাদের দেহ ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়। এ অবস্থা থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে খেলাধুলা। এতে পাঠের একঘেয়েমি দূর হবে এবং মনের সজীবতা ফিরে আসবে। পরবর্তী কোনো কাজ আগ্রহ নিয়ে নতুন উদ্যমে করতে পারবে। সর্বোপরি খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুচরিত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। সহপাঠী ও সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলা করে ছেলেমেয়েদের সামাজিক মনোভাবের উন্নতি হয়। গৃহের সীমাবদ্ধ পরিবেশের বাইরে এসে তারা নিজেকে অপরের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শেখে। খেলাধুলার নানাবিধ আইন-কানুন অনুসরণ করে, শৃঙ্খলা রক্ষা করে সময়মতো চলতে অভ্যস্ত হয়। খেলাধুলার মাধ্যমে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা অর্জিত হয় এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়।

কাজ-১ : তোমাদের এলাকার সমবয়সীদেরকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য তোমরা কী কী কাজ করতে পার? বর্ণনা কর।

কাজ-২: খেলাধুলার মাধ্যমে কী কী গুণ অর্জিত হয়? বোর্ডে লিখে একজন ব্যাখ্যা কর।

Content added By

খেলা হচ্ছে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিষয়। বড়ো খেলার মাঠ বা আঙিনা না থাকলে খেলাধুলা করা যাবে না- এ ধারণা ঠিক নয়। ঘরের ভেতর বসেও বিভিন্ন রকম খেলাধুলা করা যায়। সাধারণত ঘরে বসেই যেসব খেলা হয় তাকেই ঘরোয়া খেলা বা ইনডোর গেমস বলে। যেমন- দাবা, ক্যারম, লুডু ইত্যাদি।

দাবা: দাবা খেলার জন্ম কোন দেশে এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ বলে ভারতে, কেউ বলে পারস্যে আবার কেউ বলে চীন দেশে। তবে বেশির ভাগই বলে, দাবা খেলার কোর্ট বা ছক আবিষ্কার করেন হানসিং নামক একজন চীনা লোক। দাবা বর্তমান যুগে চমকপ্রদ এক বুদ্ধির খেলা।

দাবা বোর্ড: দাবা বোর্ড ৬৪টি সম-আকৃতি বর্গক্ষেত্র নিয়ে গঠিত। বোর্ডের ক্ষেত্রগুলো সাদা ও কালো রং দিয়ে একের পর এক ধারাক্রমে সজ্জিত। বোর্ডের সাদা ঘর খেলোয়াড়দের ডান দিকে থাকবে। খেলা আরম্ভের সময় একজন খেলোয়াড়ের ১৬টি সাদা এবং অপরজনের ১৬টি কালো রঙের ঘুঁটি থাকে। ঘুঁটিগুলোর মধ্যে ১টি রাজা, ১টি মন্ত্রী, ২টি নৌকা, ২টি হাতি, ২টি ঘোড়া, ৮টি বোড়ে বা পণ থাকে।

দাবার চাল: এক ঘর থেকে অন্য ঘরে খুঁটির স্থান পরিবর্তনকে দাবার চাল বলে। প্রথমে কে চাল দেবে তা টস্ করে ঠিক করতে হয়। যে সাদা ঘুঁটি নেবে সে প্রথমে চাল দেবে। দাবার ঘুঁটির চালগুলো বিভিন্ন ধরনের। এবার ওদের চালাচালি সম্বন্ধে নিম্নে আলোচনা করা হলো-

রাজা: রাজা তার ডানে-বামে, সামনে-পেছনে অর্থাৎ সবদিকে এক ঘর যেতে পারে।

মন্ত্রী: বোর্ডের ওপর মন্ত্রীর শক্তি সবচেয়ে বেশি। বোর্ডের একটি নৌকা ও গজ বা হাতির শক্তির সমান। মন্ত্রী নৌকার মতো ডানে-বামে এবং গজের মতো কোনাকুনি চলতে পারে। সামনে ঘুঁটি খেয়ে ঘর দখল করতে পারে। মন্ত্রীর মান নয় (৯)।

নৌকা: ডানে-বামে অথবা সামনে-পেছনে নৌকা সোজা পথে চলে। কোনো ঘুঁটি ডিঙিয়ে যেতে পারে না। তবে চলার পথে কোনো ঘুঁটি থাকলে তা খেয়ে ওই ঘর দখল করতে পারে। নৌকার মান ছয় (৬)।

গজ বা হাতি: গজ কোনাকুনি চলে। কালো ঘরের গজ কালো ঘর দিয়ে, সাদা ঘরের গজ সাদা ঘর দিয়ে চলতে পারে। গজের মান তিন (৩)।

ঘোড়া: ঘোড়া সামনে পেছনে, ডানে-বামে এক্কেবারে আড়াই ঘর লাফাতে পারে। নিজ বা বিপক্ষের ঘুঁটির ওপর দিয়ে ডিঙিয়ে যেতে পারে। ঘোড়ার মান তিন (৩)।

বোড়ে বা সৈনিক: বোড়ে হলো রাজার সৈনিক। এটি প্রথম চালে ইচ্ছা করলে দুই ঘর যেতে পারে। পরবর্তী চালগুলো এক ঘর করে এগিয়ে যাবে। অন্যসব ঘুঁটি পেছনে সরিয়ে আনা যায় কিন্তু বোড়ে কখনোই পেছনে চালা যায় না। বোড়ের মান এক (১)। বোড়ে কোনাকুনি একঘর সামনের ঘুঁটি খেতে পারে।

ক্যাসলিং: কিস্তি বাঁচানোর জন্য রাজা ও নৌকার মধ্যে জায়গা বদলের যে চাল দেওয়া হয় তাকে ক্যাসলিং বলে।

খেলার নিয়ম: প্রথমে সাদা বোড়ে ১ ঘর বা ২ ঘর চালতে পারে। বোড়ে বাদে ঘোড়াও চালা যায়।
তারপর বিপক্ষের চালের অবস্থা বুঝে চাল দিতে হয়। যদি কোনো বোড়ে শেষ প্রান্তে বা ৮ নং ঘরে পৌঁছায় তাহলে উক্ত বোড়ের পদোন্নতি হয়ে মন্ত্রী, নৌকা, হাতি, ঘোড়া যেকোনো ঘুঁটি হবে। রাজাকে কখনো চালমাত করা যায় না। চালমাত অর্থ হলো রাজা বিপক্ষের খুঁটির শক্তির কিস্তির মুখে নেই অথচ চালও দিতে পারছে না। এভাবে খেলতে খেলতে যার রাজা আটকে যাবে সে পরাজিত হবে।

কাজ-১: ইনডোর গেমস কাকে বলে? ইনডোর গেমসে কি কি খেলা হয় তা লিখ।
কাজ-২: দাবা খেলতে কী কী সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়? এর তালিকা তৈরি কর।

ক্যারম: ক্যারম খেলা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়ার অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ ঘরে বসে সহজে আনন্দ লাভের জন্য ক্যারমের জুড়ি মেলা ভার। একক ও দ্বৈত দুভাবেই ক্যারম খেলা যায়।

ক্যারম বোর্ড: বোর্ডটি বর্গাকার হয়ে থাকে। বোর্ডের উপরিভাগ হয় সমতল ও খুবই মসৃণ। বোর্ডের চার কোনায় চারটি গোলাকার পকেট থাকে। বোর্ডের মাঝখানে একটি বৃত্ত থাকে, এর ভিতর ঘুঁটি বসাতে হয়।

ঘুঁটি: ক্যারম খেলার ঘুঁটি ৯টি সাদা, ৯টি কালো এবং ১টি লাল রঙের। প্রত্যেকটি খুঁটি আকারে ও ওজনে একই রকম হবে।

স্ট্রাইকার: ক্যারম খেলার ঘুঁটিগুলোকে আঘাত করে পকেটে ফেলার জন্য ওজনে ও আকারে বড়ো একটি বৃত্তাকার ঘুঁটি ব্যবহার করা হয় যাকে স্ট্রাইকার বলে।

ক্যারম খেলার জন্য উন্নতমানের বোরিক পাউডার ব্যবহার করতে হবে যাতে বোর্ডের উপরিভাগ মসৃণ ও শুকনো থাকে।

স্ট্রাইক করার নিয়ম

ক. স্ট্রাইকারে আঙুল দিয়ে আঘাত করতে হবে, ধাক্কা দেওয়া যাবে না।
খ. যে হাত দিয়ে খেলবে সেই হাতের কনুই বোর্ডের উপরিভাগে আসতে পারবে না।

ব্রেক: বোর্ডে প্রথম আঘাতের আগে সেন্টার সার্কেলে রেড বসিয়ে তার চারদিকে পর্যায়ক্রমে সাদা ও কালো ঘুঁটি বসাতে হবে। প্রথম স্ট্রাইক করার জন্য যে খেলোয়াড়কে (টসের মাধ্যমে) নির্ধারণ করা হয়েছে সেই ব্রেক নেবে। ব্রেক গ্রহণকারী খেলোয়াড় সাদা ঘুঁটি এবং বিপক্ষ কালো ঘুঁটি নিয়ে খেলবে। এভাবে পালাক্রমে ব্রেক গ্রহণ চলতে থাকবে। রেড থাকবে উভয় দলের জন্য সাধারণ।

স্কোরিং পদ্ধতি
ক. ২৫ পয়েন্টে এক গেম হবে। যে খেলোয়াড় সর্বপ্রথম ২৫ পয়েন্ট অর্জন করবে সে বা সেইপক্ষ জয়লাভ করবে।
খ. ঘুঁটি এবং রেড-এর মান বা পয়েন্ট হচ্ছে যথাক্রমে ১৩৩।
গ. কোনো খেলোয়াড় কোন বোর্ডে জয়লাভ করলে ওই বোর্ডে বিপক্ষের যত ঘুঁটি থাকবে সে তত সংখ্যক পয়েন্ট অর্জন করবে। কভারিংসহ যদি সে রেড পকেটে ফেলতে পারে তাহলে অতিরিক্ত ৫ পয়েন্ট লাভ করবে। ২৪ পয়েন্ট অর্জনের পর রেডের পয়েন্ট যোগ হবে না।
ঘ.রেড পকেটে ফেলার পর কভারিংয়ের এর জন্য তাকে আর একটি স্বীয় রঙের ঘুঁটি পকেটে ফেলতে হবে।
ঙ. তিন গেমের মধ্যে যে পক্ষ সর্বাধিক অর্থাৎ দুই গেমে জয়লাভ করবে সে বিজয়ী ঘোষিত হবে।

কাজ-১: ক্যারম খেলার নিয়মাবলি বোর্ডে উপস্থাপন কর।
Content added By

ঘরের বাইরে অর্থাৎ খেলার মাঠ বা বৃহৎ পরিসরের খোলা জায়গায় যেসব খেলাধুলা হয় তাকে আউটডোর গেমস বলে। যেমন- ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, গোল্লাছুট, দাড়িবান্ধা, এক্কাদোক্কা, কানামাছি, বউচি, ইদুর বিড়াল, অ্যাথলেটিকস্ ইত্যাদি।
ফুটবল: ফুটবল একটি আন্তর্জাতিক খেলা। বাংলাদেশেও ফুটবলের জনপ্রিয়তা কম নয়। ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে শারীরিক কর্মদক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, দলীয় একাত্মবোধ, পরস্পর সহযোগিতা, নেতৃত্বদান প্রভৃতি গুণ অর্জিত হয়।

নিয়মাবলি

১. খেলার মাঠ
ফুটবল খেলার মাঠ আন্তর্জাতিকভাবে দৈর্ঘ্যে ১১০ গজ এবং প্রস্থে ৭০ গজ হয়ে থাকে। তবে জুনিয়রদের জন্য দৈর্ঘ্যে ৮০ গজ ও প্রস্থে ৫০ গজ মাপের মাঠে ফুটবল খেলা যেতে পারে। গোলপোস্ট উচ্চতায় ৮ ফুট এবং এক পোস্ট থেকে অন্য পোস্টের দূরত্ব ২৪ ফুট। উভয় গোলপোস্ট থেকে পাশে ৬ গজ এবং মাঠের দিকে ৬ গজ দূরত্ব নিয়ে যে আয়তক্ষেত্র তৈরি হয় তাকে গোল এরিয়া বলে। উভয় গোলপোস্ট থেকে পাশে ১৮ গজ ও মাঠের দিকে ১৮ গজ দূরত্ব নিয়ে যে আয়তক্ষেত্র তৈরি হয় তাকে পেনাল্টি এরিয়া বলে। দুই গোলপোস্টের ঠিক মাঝখান থেকে মাঠের ভিতর ১২ গজ সামনে একটি পেনাল্টি স্পট থাকে। যেখান থেকে পেনাল্টি কিক মারা হয়। মধ্যমাঠে ১০ গজ ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্ত করা হয়, যেখান থেকে কিক অফ করে খেলা শুরু করা হয়। এছাড়া মাঠের কোনায় ১ গজের একটি কোয়ার্টার সার্কেল থাকে যেখান থেকে কর্নার কিক করা হয়।

২. খেলোয়াড় সংখ্যা: দুই দলে ১১জন করে মোট ২২জন খেলোয়াড় খেলে।
৩. রেফারি: খেলা পরিচালনার জন্য একজন রেফারি, দুজন সহকারী রেফারি ও একজন চতুর্থ রেফারি থাকেন।
৪. খেলার স্থিতিকাল: খেলার নির্ধারিত সময় ৯০ মিনিট। তবে ছোটোদের জন্য ৩৫+১০+৩৫ মিনিট খেলা হতে পারে।
৫. খেলা আরম্ভ: খেলার শুরুতে টসে জয়ী দলকে অবশ্যই মাঠের যে কোনো সাইড বেছে নিতে হবে। টসে পরাজিত দল রেফারির সংকেতের সাথে সাথে 'কিক অফ'-এর মাধ্যমে খেলা শুরু করবে।

কাজ-১: একটি ফুটবল খেলার মাঠ অঙ্কন কর।
কাজ-২: ফুটবল খেলার নিয়মাবলি খাতায় লিপিবদ্ধ কর।
Content added || updated By

অপরাধ ও অসদাচরণের জন্য দুই ধরনের ফ্রি কিক দেওয়া হয়। যথা- ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট। যে কিকে সরাসরি গোল করা যায় তাকে ডাইরেক্ট ফ্রি কিক বলে। যে কিকে সরাসরি গোল করা যায় না তাকে ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক বলে। নিম্নলিখিত ১০টি অপরাধের জন্য ডাইরেক্ট ফ্রি কিক দেওয়া হয়-
১) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে লাথি মারা বা লাথি মারার চেষ্টা করা।
২) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে ল্যাং মারা বা ল্যাং মারার চেষ্টা করা।
৩) বিপক্ষ খেলোয়াড়ের ওপর লাফিয়ে পড়া।
৪) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে আক্রমণ বা চার্জ করা।
৫) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে আঘাত করা বা আঘাত করার চেষ্টা করা।
৬) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে ধাক্কা দেওয়া।
৭) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে আটকানো বা ধরে রাখা।
৮) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে বেআইনিভাবে ট্যাকল করা।
৯) বিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে থুতু দেওয়া।
১০) ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দিয়ে বল ধরা (তবে নিজ পেনাল্টি এরিয়ায় গোলরক্ষকের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়)।

নিম্নলিখিত কারণে ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক দেওয়া হয়
১) গোলরক্ষক তার হাতে বল নিয়ন্ত্রণের পর খেলার মাঠে পাঠানোর আগে যদি ৬ সেকেন্ডের বেশি সময় বল ধরে রাখে।
২) গোলরক্ষক একবার বল ছেড়ে দেওয়ার পর অন্য কোনো খেলোয়াড়ের ছোঁয়ার আগেই যদি পুনরায় বলটি ধরে।
৩)নিজ দলের কোনো খেলোয়াড়ের ইচ্ছাকৃত কিক করা বল বা ব্যাকম্পাস যদি গোলরক্ষক হাত দিয়ে ছোঁয় বা ধরে:
৪)নিজ দলের কোনো খেলোয়াড়ের কর্তৃক থ্রো-ইন করা বল যদি গোলরক্ষক হাত দিয়ে ছোঁয় বা ধরে;
৫)বিপজ্জনকভাবে খেলা।
৬)বল না খেলে বিপক্ষ খেলোয়াড়ের সম্মুখগতিতে বাধা দেওয়া।
৭)গোলরক্ষক বল ছুড়ে দেওয়ার সময় তাকে বাধা দেওয়া।

থ্রো-ইন: বল মাঠের পার্শ্বরেখা অতিক্রম করলে থ্রো-ইনের মাধ্যমে পুনরায় খেলা শুরু করতে হয়। থ্রো-ইন করার সময় বল দুই হাতে সমান ভর দিয়ে মাথার পেছন দিক থেকে এবং মাথার উপর দিয়ে দুই পা মাঠের বাইরে বা দাগের উপর রেখে বল মাঠের মধ্যে নিক্ষেপ করতে হয়। থ্রো-ইন থেকে সরাসরি গোল হয় না।

গোল কিক: বিপক্ষের খেলোয়াড়ের ছোঁয়া লেগে যদি বল গোললাইন অতিক্রম করে তাহলে গোল কিক হয়। গোল কিক গোল এরিয়ার মধ্য থেকে বল বসিয়ে মারতে হয়। গোল কিক থেকে সরাসরি গোল হয়। তবে গোল কিক পেনাল্টি এরিয়ার বাইরে না গেলে বল খেলার মধ্যে গণ্য হয় না।

কর্নার কিক: ডিফেন্ডারদের ছোঁয়া লেগে যদি বল গোললাইন অতিক্রম করে তাহলে বিপক্ষ দল একটি কর্নার কিক পায়। গোললাইনের যে পাশ দিয়ে বল গোললাইন অতিক্রম করে, সেই পাশের কোনা থেকে কর্নার কিক মারতে হয়।

কাজ-১: জোড় সংখ্যার রোল নম্বরধারী শিক্ষার্থীরা ডাইরেক্ট ফ্রি কিক দেওয়ার নিয়ম লিখ। এবং বিজোড় রোল নম্বরধারী শিক্ষার্থীরা ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক দেওয়ার নিয়ম লিখ।
Content added By

ফুটবল মূলত পা দিয়ে খেলা হয়। তাই পায়ের সাহায্যে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার ওপরই ফুটবল খেলার দক্ষতা নির্ভর করে। কাজেই পা সম্পর্কে কিছুটা জ্ঞান থাকা দরকার। পায়ের পাতার তিনটি দিক আছে।

১) পায়ের ভেতরের দিক (ইনসাইড)
২) পায়ের বাইরের দিক (আউটসাইড)
৩) পায়ের পাতার ওপরের দিক (ইনস্টেপ)
এছাড়া পায়ের আঙুলের দিককে টো এবং পায়ের পেছনের দিককে হিল (গোড়ালি) বলে।

ক) কিকিং: পায়ের বিভিন্ন অংশ দিয়ে নানা রকম কিক মারা যায়। ইনসাইড কিক সহজ এবং খুব সহজে আয়ত্ত করা যায়। ইনসাইড কিক মারার সময় নন-কিকিং ফুট ফুটবলের লাইনের সামান্য পেছনে এবং বল থেকে ৬-৮ ইঞ্চি দুরে স্থাপন করে বলের ওপর দৃষ্টি রেখে পায়ের বাঁকানো অংশ দিয়ে কিক মারতে হয়। যে পা দিয়ে কিক মারবে তার বিপরীত পায়ের ওপর দেহের ভর রেখে দুই হাত সামান্য প্রসারিত করে কিক করবে। কিক করার পর কিকিং ফুট ফুটবলের দিকে এগিয়ে যাবে। এছাড়া নিচু সোজা কিক শুধু পায়ের উপরের অংশ ব্যবহার করে বলের মাঝখানে কিক মারতে হয় এই কিককে লো হার্ড কিক বলে।

খ) হেডিং: মাথা দিয়ে বল খেলাকে হেডিং বলে। হেড করার সময় বল এর দিকে দৃষ্টি রেখে দেহকে সামান্য পেছনে এনে ঘাড় শক্ত করে মাথার সামনের অংশ (কপাল) দিয়ে হেড করতে হয়। হেড করে বলকে সামনে, পেছনে ও পাশে পাঠানো যায়।

Content added By

ক্রিকেট একটি আন্তর্জাতিক খেলা। এ খেলার উৎপত্তি ইংল্যান্ডে। বর্তমানে বাংলাদেশেও খেলাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। শহর ছাড়া গ্রামে-গঞ্জেও এখন ক্রিকেট খেলা হয়ে থাকে।

খেলার সংক্ষিপ্ত নিয়মাবলি

১) খেলোয়াড়- দেশে ১৪জন এবং বিদেশে ১৫জন খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে একটি দল গঠিত হয়। খেলতে নামে ১১জন। টসের মাধ্যমে বোলিং বা ব্যাটিং কোন দল করবে তা নির্ধারিত হয়।
২) পিচ- ক্রিকেট খেলার পিচ দৈর্ঘ্যে ২২গজ এবং প্রস্থে ১০ফুট হয়ে থাকে।
৩) আম্পায়ার- দুজন আম্পায়ার খেলা পরিচালনা করেন এবং একজন স্কোরার থাকেন।
৪) উইকেট- পিচের দুই প্রান্তে তিনটি করে স্টাম্প দিয়ে দুটি উইকেট তৈরি করা হয়। উইকেটের চওড়া ৯ ইঞ্চি। উইকেটের উপর দুটি বেল থাকে। বেলসহ মাটি থেকে উইকেটের উচ্চতা ২ ফুট ৪.৫ ইঞ্চি।
৫) বোলিং ও পপিং ক্রিজ- উইকেটের সাথে একই রেখায় বোলিং ক্রিজের দৈর্ঘ্য হবে ৮ ফুট ৮ ইঞ্চি। বোলিং ক্রিজের সামনে সমান্তরালভাবে ৪ ফুট যে দাগ কাটা হয় সেটিই পপিং ক্রিজ।
৬) ম্যাচ: ক্রিকেট খেলায় সাধারণত তিন ধরনের ম্যাচ হয়ে থাকে।
ক) টেস্ট ম্যাচ
খ) ওয়ান ডে ম্যাচ
গ) টি টোয়েন্টি ম্যাচ
ক. টেস্ট ম্যাচ: টেস্ট ম্যাচ দুই ইনিংসে খেলা হয়ে থাকে। প্রতিদিনই পর্যায়ক্রমে ব্যাটিং ও বোলিং করতে হয়। তবে সর্বোচ্চ ৯০ ওভার পর্যন্ত একদিনে খেলতে হয়।
খ. ওয়ান ডে ম্যাচ: এ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫০-৫০ অর্থাৎ ১০০ ওভার খেলা হয়। প্রত্যেক দল একবার ব্যাট ও বল করে।
গ) টি টোয়েন্টি ম্যাচ : এই ম্যাচে প্রত্যেক দল ২০ ওভার করে ব্যাট ও বল করে।
৭) ওভার: ৬টি শুদ্ধ বলে একটি ওভার হয়। একজন বোলার ৬টি বল করে। ওভার শেষ হলে অন্য বোলার উইকেটের প্রান্ত বদল করে বল করবে।

৮) বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি : ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসা বল মাঠের সীমানা পার হলেই চার রান হয়, এটাকে বাউন্ডারি বলে। বল শূন্যে দিয়ে সরাসরি সীমানার বাইরে পড়লে ছয় রান হয়, এটাকে ওভার বাউন্ডারি বলে।
৯) নো বল: বোলার বলটি ছুড়ে মারলে, সামনের পা সম্পূর্ণরূপে পপিং ক্রিজের রেখা অতিক্রম করলে, পেছনের পা রিটার্ন ক্রিজের মধ্যে না থাকলে নো বল হয়।
১০) ওয়াইড বল: আম্পায়ারের মতে বল যদি ব্যাটসম্যানের নাগালের বাইরে দিয়ে যায় তাহলে ওয়াইড বল হয়।
১১) ব্যাটসম্যান আউট: বিভিন্ন কারণে ক্রিকেট খেলায় একজন ব্যাটসম্যান আউট হয়।
ক) বোল্ড আউট- বোলিং করা বল উইকেটে লেগে বেল পড়ে গেলে বোল্ড আউট হয়।
খ) টাইমড আউট- নতুন ব্যাটসম্যান মাঠে প্রবেশকালে তিন মিনিটের বেশি সময় নিলে টাইমড আউট হয়।
গ) হিট উইকেট- বল খেলতে গিয়ে যদি ব্যাট বা শরীরের কোনো অংশের স্পর্শ লেগে উইকেট ভেঙে যায়।
ঘ) রান আউট- রান নেওয়ার সময় পপিং ক্রিজে পৌঁছার আগেই ফিল্ডার কর্তৃক ছুড়ে দেওয়া বল উইকেটে লাগলে রান আউট হয়।
ঙ) ক্যাচ আউট- ব্যাট দিয়ে মারা বল মাটি স্পর্শ করার আগেই ফিল্ডার ধরে ফেললে ক্যাচ আউট হয়।
চ) স্টাম্পড আউট- খেলার সময় ব্যাটসম্যান যদি পপিং ক্রিজের বাইরে চলে যায় তখন উইকেটরক্ষক বল ধরে বেল ফেলে দিলে স্টাম্পড আউট হয়।
ছ) এল.বি.ডব্লিউ- যে বল উইকেটে লাগার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে সেই বলকে ব্যাটসম্যান পা দিয়ে আটকালে এল.বি.ডব্লিউ (লেগ বিফোর উইকেট) আউট হয়।

কাজ-১: কী কী কারণে ব্যাটসম্যান আউট হয় তা বর্ণনা কর।
কাজ-২: ক্রিকেট খেলার নিয়মাবলি সম্পর্কে প্রত্যেকে একটি করে নিয়ম বোর্ডে গিয়ে উপস্থাপন কর।
Content added By

১. ব্যাটিং- ব্যাটিং করতে হলে যে পাঁচটি জিনিস অবশ্যই মনে রাখতে হবে সেগুলো হলো-

ক. সবসময় বলের দিকে দৃষ্টি রাখা।
খ. বলের লাইন, দূরত্ব ও গতি অনুমান করার ক্ষমতা অর্থাৎ বল কোথায় যাচ্ছে ও কখন নির্দিষ্ট জায়গায় আসবে।
গ. অবস্থা-বিশেষে উপযুক্ত ব্যাটিং স্ট্রোক নির্বাচন করা।
ঘ. সঠিক সময়ে সঠিক স্ট্রোক মারা।
ঙ. ঠিকমতো উপযুক্ত জায়গায় ব্যাট ও বলে সংযোগ ঘটানোর ক্ষমতা।

২. বোলিং- ক্রিকেট খেলায় বোলিং হলো আক্রমণাত্মক খেলার অংশ। বোলিং করে ব্যাটসম্যানকে আউট করার চেষ্টা করা হয়। সঠিকভাবে বল করতে হলে বল ধরা, বল নিয়ে দৌড়ে আসা, বল হাত থেকে ছোঁড়া (হাত ঘুরিয়ে), বল ছোড়ার পদক্ষেপ, বল এর দিকে অনুসরণ ইত্যাদি আয়ত্ত করতে হবে।

৪. উইকেট কিপিং- উইকেটরক্ষককে উইকেটের পেছনে দুই পায়ের ওপর দেহের সমান ভার রেখে বোলিং করার সময় অর্ধ বসার ভঙ্গিতে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয়। দৃষ্টি উইকেট ও বলের ওপর রেখে দ্রুততার সাথে বল ধরতে হবে।

কাজ-১: ব্যাটিং করার সময় যে ৫টি বিষয় মনে রাখতে হয় তা লিখ।
কাজ-২: উইকেট রক্ষক উইকেটের পেছনে কোন ভঙ্গিতে প্রস্তুত থাকে তা করে দেখাও।
Content added By

গোল্লাছুট খেলায় দুটি দল থাকে। টসের মাধ্যমে গোল্লা বা ছুট দল নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিদলে খেলোয়াড়ের সংখ্যা মাঠের মাপ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। একটি নির্দিষ্ট বাড়ি ও খেলা শুরুর স্থান থাকবে। এ দুটি স্থানের দূরত্ব মাঠের মাপ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। খেলা শুরু হওয়ার স্থানে গোল্লা বা ছুট দল অবস্থান করে তার দলের সবাইকে নিয়ে হাত ধরাধরি অবস্থায় থাকবে এবং সুযোগ বুঝে গোল্লাকে বাড়িতে পৌঁছাতে হবে। এই পৌঁছানো দুইভাবে হতে পারে। এক- গোল্লা সরাসরি বাড়িতে যেতে পারবে। দুই- দলের পাকা খেলোয়াড় দূরত্ব কমানোর জন্য নূতন নূতন গোল্লা তৈরি করে দাঁড়াবে এবং বাড়ির দিকে গোল্লাকে নিয়ে আগাবে। বিপক্ষ দলের কাজ হচ্ছে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া অর্থাৎ তাদেরকে স্পর্শ করে মারা। প্রতিদল ২০ মিনিট করে খেলবে। গোল্লা যতবার বাড়িতে পৌঁছাবে ততবার দুই পয়েন্টে পাবে। বিপক্ষ যদি গোল্লাকে স্পর্শ করতে পারে তখন বিপক্ষদল দুই পয়েন্ট পাবে। এইভাবে প্রতিদল ২০ মিনিট করে খেলার পর যে দলের পয়েন্ট বেশি হবে সেই দল বিজয়ী হবে।

Content added By

অ্যাথলেটিকসের সাহায্যে সুঠাম দেহ গঠন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং শরীরের সার্বিক উন্নতি করা সম্ভব। গতি, ক্ষিপ্রতা, শক্তি প্রভৃতি গুণ এর মাধ্যমে সহজে অর্জন করা যায়। অ্যাথলেটিকসকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
১. ট্র্যাক ইভেন্ট- দৌড় সম্পর্কিত।
২. ফিল্ড ইভেন্ট- নিক্ষেপ ও লাফ সম্পর্কিত।

দৌড় সম্পর্কিত খেলাগুলোর সাহায্যে ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং নিক্ষেপ ও লাফ ইভেন্টসগুলোর মধ্য দিয়ে শক্তি, সাহস, নিরীক্ষণ শক্তি, দ্রুততা প্রভৃতি অর্জিত হয়।
সাবধানতা: প্রতিটি ক্রীড়ায় বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে অবশ্যই ভালোভাবে শরীর গরম বা প্রস্তুতিমূলক অনুশীলন করতে হবে। দৌড় প্রতিযোগিতার শেষে কখনোই হঠাৎ থামতে নেই। ধীরে ধীরে দৌড়ের গতি কমিয়ে থামতে হবে।

১০০ মিটার দৌড়: ছোটো দূরত্বের দৌড় অর্থাৎ ১০০ মিটার দৌড়কে স্প্রিন্ট বলে। দৌড় শুরু করার প্রক্রিয়া নিম্নে বর্ণিত হলো। 'অন ইউর মার্ক' বলার সাথে সাথে খেলোয়াড়রা আরম্ভ রেখার পেছনে দুই হাত রেখে এক হাঁটু দিয়ে ভূমি স্পর্শ করবে এবং অপর হাঁটু ওপরে রাখবে। 'সেট' বলার সাথে সাথে পেছন দিক (হিপ) তুলে দৌড় আরম্ভের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। আওয়াজ শোনার সাথে সাথে দৌড় আরম্ভ করবে।
ফলস্ স্টার্ট হলে শান্তি পেয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়বে। কাজেই অনুশীলনের মাধ্যমে চেষ্টা করতে হবে যাতে ফলস্ স্টার্ট না হয়। দৌড় আরম্ভের সময় চোখের দৃষ্টি সোজা সামনের দিকে থাকবে। শরীরের প্রতিটি অঙ্গের স্বাভাবিকতা বজায় রাখবে। দৌড়ের সময় সামনের দিকে তাকিয়ে দৌড়াবে। 'সেট' এর সময় দম নিয়ে ৩০ থেকে ৪০ পদক্ষেপ দৌড়ানোর পর স্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী শ্বাস নেবে। সমাপ্তি রেখার কাছে এসে শরীর সামনে ঝুঁকিয়ে ফিতা স্পর্শ করার চেষ্টা করবে। সমাপ্তি রেখা অতিক্রম করেও কিছুদূর পর্যন্ত পূর্ণ বেগে দৌড়ানোর চেষ্টা করবে।

২০০ মিটার দৌড় : ২০০ মিটার দৌড়কেও স্প্রিন্ট বলা হয়। পায়ের পাতার ওপর দৌড়াতে হবে। এ দৌড়ের সময় ২০০ মিটার অথবা ৪০০ মিটার ট্র্যাক ব্যবহৃত হয়। ট্র্যাকে লেনের সংখ্যা ৮টি থাকে তবে ৬টিও হতে পারে। প্রতিটি লেনের নম্বর থাকবে এবং বাম পাশ থেকে ১ নং লেন শুরু হবে। দৌড়ের সময় শরীরের বাম পাশকে মাঠের দিকে রেখে দৌড়াতে হয়। এ ক্ষেত্রে স্ট্যাগার্ড ব্যবহার করতে হবে। দৌড়ের দূরত্বে সমতা আনার জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তাকে স্ট্যাগার্ড বলে। ২০০ মিটার দৌড়ের আরম্ভ ও সমাপ্ত করার পদ্ধতি ১০০ মিটার দৌড়ের অনুরূপ হবে।

কাজ-১: শিক্ষক ১০০ মিটার দৌড় আরম্ভ ও সমাপ্ত করার প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
Content added || updated By

রিলে: যে দৌড়ে ৪জন খেলোয়াড় নির্দিষ্ট দূরত্বে দৌড়াবার জন্য নির্দিষ্ট সীমারেখার ভেতর একে অন্যকে এক টুকরা কাঠি (ব্যাটন) বদলি দিয়ে দৌড়ায় তাকে রিলে দৌড় বলে। কাঠি বা ব্যাটনের ওপরের অংশটি মসৃণ হতে হবে। এটি কাঠ অথবা স্টিলের তৈরি গোলাকার হয়ে থাকে। সহজে চোখে পড়ে সেরকম রং ব্যবহার করতে হবে। ব্যাটনের দৈর্ঘ্য ৩০ সেন্টিমিটার (প্রায় ১ ফুট) হয়ে থাকে এবং ওজন ৫০ গ্রামের কম হবে না। এই দৌড়ের কাঠি বদল দুই রকমের হতে পারে; দেখে এবং না দেখে। এই দুই রকমের মধ্যে 'দেখে বদলি' প্রথাই নিরাপদ।

কাজ-১: ৫০×৪ মিটার রিলে দৌড়ের প্রক্রিয়া লিখে দেখাও।
Content added By

দীর্ঘ লাফের কলাকৌশলগুলোর চারটি প্রধান ভাগ আছে-
১. দৌড়ে আসা (অ্যাপ্রোচ রান)
২. মাটি ছেড়ে উপরে ওঠা (টেক অফ)
৩. মাটির ওপর শূন্যে ভাসা (ফ্লাইট)
৪. মাটিতে নামা (ল্যান্ডিং)

১. দৌড়ে আসা (অ্যাপ্রোচ রান): দৌড়ে টেক অফ বোর্ডে আসাটা দীর্ঘ লাফের একটা গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ মিটার দৌড়ে এসে টেক অফ বোর্ডে/মাটিতে ধাক্কা দিয়ে লাফ দিতে হবে। টেক অফ বোর্ডে বা ঠিক জায়গায় পা পড়ছে কিনা তা আগেই মিলিয়ে নিতে হবে। একজন সাথী বেছে নিয়ে যে পায়ে লাফ দেওয়া হবে সে পায়ে একটি রঙিন ফিতা বা রুমাল বেঁধে ৩০ মিটার দূর থেকে জোরে দৌড়াতে হবে। সঙ্গী রুমালবাঁধা পা কোথায় পড়ছে তা লক্ষ রাখবে। যে জায়গায় রুমালবাঁধা পা বারবার পড়ছে সে স্পট থেকে নির্দিষ্ট চিহ্নের দূরত্ব মেপে তারপর টেক অফ বোর্ড বা লাফানোর রেখা থেকে ওই দূরত্ব মেপে একটি চিহ্ন দেবে। এটাকে চেক মার্ক ঠিক করা বলে। চেক মার্ক থেকে কয়েকবার দৌড়ে দেখে নিতে হবে যে ঠিক জায়গায় পা পড়ছে কি না। যদি দেখা যায় যে শেষ পদক্ষেপটা টেক অফ বোর্ড থেকে কিছুটা এগিয়ে বা পেছনে যাচ্ছে তাহলে চেক মার্কটা ঠিক ততটা পেছনে বা সামনে আনতে হবে। এভাবে কয়েক দিন অনুশীলন করলে টেক অফ ঠিক হয়ে যাবে।

২. মাটি ছেড়ে উপরে ওঠা (টেক অফ) : দীর্ঘ লাফে মাটি ছেড়ে উপরে ওঠার সাহায্যের জন্য 'টেক অফ বোর্ড' অর্থাৎ কাঠের শক্ত পাটাতন থাকে। মাটি ছেড়ে উপরে উঠার সময় মনে রাখতে হবে যে-
(ক) মাটি ছেড়ে উপরে ওঠার জন্য টেক অফ বোর্ডকে পায়ের পাতার সাহায্যে (যে পা দিয়ে মাটি ছাড়া হবে) সজোরে ধাক্কা দিয়ে উপরে উঠতে হবে।
(খ) টেক অফ বোর্ডে পায়ের গোড়ালি প্রথমে স্পর্শ করিয়ে সাথে সাথে দেহকে দ্রুতগতিতে গড়িয়ে দিয়ে গোড়ালি থেকে পায়ের পাতার ওপর দেহের ওজন নিয়ে ওপর দিকে ধাক্কা দিতে হবে।
(গ) টেক অফ বোর্ডে ধাক্কা দেওয়ার সময় হাঁটুর সন্ধি কিছুটা ভাঙা থাকবে।
(ঘ) ধাক্কা দেওয়ার সাথে সাথে পা সম্পূর্ণ সোজা করে নিতে হবে। একই সাথে বিপরীত হাঁটু ভেঙে দুলিয়ে সামনে উপরের দিকে নিয়ে যেতে হবে।

৩. মাটির উপর শূন্যে ভাসা (ফ্লাইট) : টেক অফের পর শরীর উপরে তুলে হাতে টান দিয়ে পা পুরোপুরি সামনে নিয়ে হিচ কিকের মাধ্যমে জাম্পিং পিটে অবতরণ করতে হবে।

৪. মাটিতে নামা (ল্যান্ডিং) : মাটিতে নামার সময় পা মাটিকে স্পর্শ করার ঠিক পূর্বমুহূর্তে পা দুটোকে সামনের দিকে সম্পূর্ণ সোজা করে নিতে হবে, যাতে যতটা সম্ভব বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা যায়। গোড়ালি দুটো প্রথমে বালু স্পর্শ করবে এবং সাথে সাথে হাঁটু দুটোকে ভেঙে নিয়ে গোড়ালি থেকে পায়ের পাতার ওপর গড়িয়ে সামনে চলে আসতে হবে।

কাজ-১: দীর্ঘ লাফের কলাকৌশলের প্রধান ভাগগুলো লিখে দেখাও।
Content added By

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. নেতৃত্বদানের ক্ষমতা অর্জিত হয় কিসের মাধ্যমে?
ক. গান-বাজনা
খ. খেলাধুলা
গ. বইপড়া
ঘ. বিদেশ ভ্রমণ

২. কিক অফের মাধ্যমে কোন খেলা শুরু হয়?
ক. হ্যান্ডবল
খ. ফুটবল
গ. বাস্কেটবল
ঘ. হকি

৩. ফুটবল খেলার মাধ্যমে অর্জিত গুণ হলো-
i. দলীয় একাত্মবোধ
ii. শারীরিক কর্ম দক্ষতা
iii. আত্মবিশ্বাস
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

৪. বাটন বদল করতে হয় কোন খেলায়?
ক. ১০০ মিটার দৌড়
খ. ২০০ মিটার দৌড়
গ. ৪০০ মিটার দৌড়
ঘ. রিলে দৌড়

৫. ক্যাসলিং কোন খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শব্দ?
ক. ক্যারম
খ. ব্যাডমিন্টন
গ. দাবা
ঘ. ফুটবল

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৬ ও ৭ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ফারহান খুব ভালো ফুটবল খেলে। তাদের বিদ্যালয় একটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে।
খেলার সময় তারা প্রত্যেকে জয়ের ব্যাপারে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এবং বিজয়ী হয়।

৬. ফারহান ও তার দল খেলা শুরু করে কীসের মাধ্যমে?
ক. গোল কিক
খ. কিক অফ
গ. কর্নার কিক
ঘ. ফ্রি কিক

৭. ফারহানের দলটি বিজয়ী হওয়ার অন্যতম কারণ-
i. দলীয় একাত্মবোধ
ii. বিপক্ষের খেলোয়াড়কে আটকানো
iii. পরস্পর সহযোগিতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...