দেহ ও মনের সুস্থতা ও আনন্দ লাভের জন্য শারীরিক অঙ্গসঞ্চালনকে ব্যায়াম বলে। খেলাধুলাও ব্যায়ামের অন্তর্ভুক্ত। খেলাধুলার মাধ্যমে অঙ্গসঞ্চালন হয় এবং আনন্দ লাভ করা যায়। বিভিন্ন চিত্তবিনোদনমূলক খেলার মাধ্যমেও অঙ্গসঞ্চালন বা ব্যায়াম করা যায়। ব্যায়ামের মাধ্যমে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উন্নতি ছাড়াও মানসিক প্রশান্তি ও সামাজিক গুণাবলি অর্জন করা যায়।
ব্যায়ামের মাধ্যমে যেসব উপকার লাভ করা যায় তা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
(১) অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উন্নতি: ব্যায়াম দেহ কাঠামোর সুষম উন্নতি ও বৃদ্ধি সাধন করে। দেহের উন্নতির সাথে সাথে মনকে সতেজ করে। ফলে শরীরের শক্তি ও সহনশীলতা বাড়ে। ব্যায়ামের ফলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
(২) পাঠের একঘেয়েমি দূর করে: শ্রেণিকক্ষে একটানা লেখাপড়া করলে ক্লান্তি ও একঘেয়েমি আসে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা করলে পাঠের একঘেয়েমি ও মানসিক ক্লান্তি দূর হয়, মনে সজীবতা আসে ও পড়াশোনায় মন বসে।
(৩) স্নায়ু ও মাংসপেশির সমন্বিত উন্নয়ন: শৈশবে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্রুত বেড়ে ওঠে। শরীর বৃদ্ধি পেলেও অনেক সময় তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে মানসিক বিকাশ হয় না। এর সমন্বয় ঘটানোর জন্য সঠিক নিয়মে অঙ্গসঞ্চালন প্রয়োজন। হাত, পা ও শরীরের ব্যায়াম একসাথে করতে হবে। শুধু হাতের ব্যায়াম করলে হাতের শক্তি বাড়বে আবার পায়ের ব্যায়াম করলে পায়ের মাংসপেশি বৃদ্ধি পাবে। সেজন্য শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যায়ামের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে অনুশীলন করতে হবে।
(৪) সুশৃঙ্খল জীবনযাপন : নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মধ্যে শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে উঠবে। ফলে শিক্ষার্থী প্রাত্যহিক জীবনে সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্থ হবে।
(৫) সামাজিক গুণাবলি অর্জন: দলগত খেলাধুলা বা ব্যায়াম করলে শিক্ষক বা দলনেতার আদেশ মেনে শৃঙ্খলার সাথে খেলতে হয়। খেলায় হেরে গেলেও মেজাজ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে কাজ করতে হয়। আদেশ মেনে চলা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মেজাজ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, সহযোগিতা করা- এই সামাজিক গুণগুলো ব্যায়ামের মাধ্যমে অর্জন করা যায়।
শিক্ষার্থীদের শক্তি ও সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে ব্যায়ামের বিষয় নির্ধারণ করতে হবে। ছেলে ও মেয়েদের ব্যায়ামের তালিকা আলাদা হবে। তবে ব্যায়াম করতে হবে পরিমিত। পরিমিত ব্যায়াম না করলে স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। শরীর ও মন দুর্বল হয়ে পড়ে। ভরাপেটে ব্যায়াম করতে নেই। খাবার খাওয়ার কমপক্ষে দুই ঘণ্টা পরে ব্যায়াম করা উচিত।
| কাজ-১: ব্যায়ামের উপকারিতা খাতায় লিখ। কাজ-২: ব্যায়াম করলে কী কী সামাজিক গুণ অর্জন করা যায় তা বর্ণনা কর। কাজ-৩: অতিরিক্ত ব্যায়ামের কুফল দলগত কাজের মাধ্যমে উপস্থাপন কর। |
Read more