স্রষ্টা মানে যিনি সৃষ্টি করেন। যেমন মৃৎশিল্পী মাটি দিয়ে হাঁড়ি-পাতিল, খেলনা, প্রতিমা ইত্যাদি সৃষ্টি করেন। কিন্তু তিনি মাটি সৃষ্টি করতে পারেন না। শুধু মাটিই নয়, আমরা জল, নদী-সমুদ্র, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, জীব-জন্তু ইত্যাদি সৃষ্টি করতে পারি না। যিনি এসব সৃষ্টি করেছেন, তাঁকে স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা বলা হয়। এ সকল সৃষ্টির পিছনে এক অসীম শক্তি বিরাজ করছে। এ অসীম শক্তির বলেই সবকিছু একটি নিয়মের মধ্য দিয়ে আবর্তিত হচ্ছে। যিনি এই মহাশক্তিধর তাঁকে স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা বলা হয়। এ স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তাকে আমরা ঈশ্বর বলি।

ঈশ্বর শব্দটির অর্থ হচ্ছে প্রভু। তিনি সর্বশক্তিমান। তিনি শৃঙ্খলার সঙ্গে জীব-জগৎকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। সকল শক্তি ও গুণের তিনিই আধার। সূর্যের আলো তাঁরই আলো। তিনিই জীবের মধ্যে আত্মা রূপে অবস্থান করেন। তিনি সৃষ্টি, স্থিতি ও পালনের একমাত্র কর্তা। তিনিই মৃত্যুর সীমায় জীবনকে বেঁধে দিয়েছেন। এভাবেই তিনি জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন। এ জন্যই তাঁর নাম ঈশ্বর। তাঁর আদি নেই, তাই তিনি অনাদি। তাঁর অন্ত নেই, তাই তিনি অনন্ত। তাঁর বিনাশ নেই, তাই তিনি অবিনশ্বর।
হিন্দু ধর্মানুসারে আমরা স্রষ্টাকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করি। যেমন -ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান, পরমাত্মা ইত্যাদি। এ পৃথিবীতে আরো অনেক ধর্মমত আছে। যেমন ইসলাম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, শিখ ইত্যাদি। বিভিন্ন ধর্মে স্রষ্টাকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন-আল্লাহ্, খোদা, গড ইত্যাদি। এক স্রষ্টারই বিভিন্ন নাম। ঈশ্বর স্রষ্টার একটি নাম।
| একক কাজ: স্রষ্টা ও ঈশ্বরের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর। |
Read more