দ্বিতীয় ভাগ

সংস্কৃত - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

486
Please, contribute by adding content to দ্বিতীয় ভাগ.
Content

(অ-কারান্ত, ই-কারান্ত ও আ-কারান্ত)
সংস্কৃত ভাষায় শব্দবিভক্তি সাত প্রকার-
প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী) ও সপ্তমী (৭মী)। প্রত্যেক বিভক্তির তিনটি বচন থাকে- একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন। প্রথমা থেকে সপ্তমী পর্যন্ত সাতটি বিভক্তি ও সম্বোধন পদের তিনটি বচনে শব্দের যে সকল রূপ হয়, তারই নাম শব্দরূপ।
শব্দবিভক্তি- যেসকল বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে পদ গঠন করে, সেগুলোকে শব্দবিভক্তি বলা হয়। যেমন-নর + ঔ = নরৌ। এখানে 'নর' একটি শব্দ, এর সঙ্গে 'ঔ' যুক্ত হয়ে 'নরৌ' পদ গঠিত হয়েছে। সুতরাং 'ঔ' শব্দবিভক্তি।
সম্বোধনপদ- যাকে আহ্বান করে কোন কিছু বলা হয়, তার নাম সম্বোধন পদ। যেমন- দেবি, অত্র আগচ্ছ (দেবি, এখানে এস)।
বিভিন্ন বিভক্তি ও বচনে শব্দবিভক্তির বিভিন্ন আকৃতি আছে। নিম্নে শব্দবিভক্তির আকৃতি প্রদত্ত হল:

শব্দ বিবক্তির আকৃতি

বিভক্তিএকবচনদ্বিবচনবহুবচন
১মাসু (ঃ)জস্ (অঃ)
২য়াঅম্ঔট্ (ঔ)শস্ (অঃ)
৩য়াটা (আ)ভ্যাম্ভিস্ (ভিঃ)
৪র্থীডে (এ)ভ্যাম্ভ্যস্ (ভ্যঃ)
৫মীঙসি (অ)ভ্যাম্ভ্যস্ (ভ্যঃ)
৬ষ্ঠীঙস্ (অঃ)ওস্ (ওঃ)আম্
৭মীঙি (ই)ওস্ (ওঃ)সুপ্ (সু)

শব্দরূপ-পুংলিঙ্গ অ-কারান্ত-নর

বিভক্তিএকবচনদ্বিবচনবহুবচন
১মানরঃ (একজন মানুষ)নরৌ (দুজন মানুষ) নরাঃ (মনুষ্যগণ)
২য়ানরম্ (একজন মানুষকে)নরৌ (দুজন মানুষকে)নরান্ (মনুষ্যগণকে)
৩য়ানরেণ (একজন মানুষ দ্বারা)নরাভ্যাম্ (দুজন মানুষ দ্বারা)নরৈঃ (মনুষ্যগণের দ্বারা)
৪র্থীনরায় (একজন মানুষকে)নরাভ্যাম্ (দুজন মানুষকে)নরেভ্যঃ (মনুষ্যগণকে)
৫মীনরাৎ (একজন মানুষ থেকে)নরাভ্যাম্ (দুজন মানুষ থেকে)নরেভ্যঃ (মনুষ্যগণ থেকে)
৬ষ্ঠীনরস্য (একজন মানুষের)নরয়োঃ (দুজন মানুষের)নরাণাম্ (মনুষ্যগণের)
৭মীনরে (একজন মানুষে )নরয়োঃ (দুজন মানুষে)নরেষু (মনুষ্যগণে)
সম্বোধননর (হে মানুষ)নরৌ (হে দুজন মানুষ)নরাঃ (হে মনুষ্যগণ)

দ্রষ্টব্য: ছাত্র, শিক্ষক, সূর্য, চন্দ্র, গজ (হাতি), মৃগ (হরিণ), দেব, বৃক্ষ, কাক, সিংহ, ব্যাঘ্র প্রভৃতি অ-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দের রূপ নর শব্দের মত।

ই-কারান্ত-মুনি

বিভক্তিএকবচনদ্বিবচনবহুবচন
১মামুনিঃমুনীমুনয়ঃ
২য়ামুনিম্মুনীমুনীন্
৩য়ামুনিনামুনিভ্যাম্মুনিভিঃ
৪র্থীমুনয়েমুনিভ্যাম্মুনিভ্যঃ
৫মীমুনেঃমুনিভ্যাম্মুনিভ্যঃ
৬ষ্ঠীমুনেঃমুন্যোঃমুনীনাম্
৭মীমুনৌমুন্যোঃমুনিষু
সম্বোধনমুনেমুনীমুনয়ঃ

দ্রষ্টব্য: কবি, রবি (সূর্য), অগ্নি, কপি (বানর), হরি, গিরি (পাহাড়) প্রভৃতি সকল ই-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দের রূপ মুনি শব্দের অনুরূপ ।

স্ত্রীলিঙ্গরূপ আ-কারান্ত লতা

দ্রষ্টব্য: আশা, প্রভা (কিরণ), কৃপা, গুহা, দেবতা, নৌকা, শয্যা, হিংসা প্রভৃতি সকল আ-কারান্ত সত্রীলিঙ্গ শব্দের রূপ লতা শব্দের মত।

দ্রষ্টব্যঃ জল, বন, ধন, তৃণ, মিত্র, সুখ, দুঃখ, পাপ, পুণ্য, রক্ত, মাংস, মুখ প্রভৃতি সকল অ-কারান্ত ক্লীবলিঙ্গ শব্দের রূপ ফল শব্দের মত।

Content added By

১। সকল বিভক্তি ও বচনে 'নর' শব্দের রূপ লেখ।
২।শব্দবিভক্তির আকৃতি মুখস্থ লেখ।
৩।প্রথমা থেকে তৃতীয়া বিভক্তি পর্যন্ত 'মুনি' শব্দের রূপ লেখ।
৪। চতুর্থী থেকে সপ্তমী বিভক্তি পর্যন্ত 'লতা' শব্দের রূপ লেখ।
৫। নির্দেশ মত নিচের শব্দগুলোর রূপ লেখ।
(ক) 'ছাত্র শব্দের ২য়ার বহুবচন
(খ) 'নর' শব্দের ৭মীর দ্বিবচন
(গ) 'লতা' শব্দের ৩য়ার একবচন
(ঘ) 'দেবতা' শব্দের ৪র্থীর একবচন
(ঙ) 'বিদ্যা' শব্দের ৫মীর একবচন
(চ) 'ফল' শব্দের ২য়ার একবচন
(ছ) 'বন' শব্দের ১মার বহুবচন

৬। সংস্কৃতে অনুবাদ করঃ-
দুজন মানুষ, হে মনুষ্যগণ, ছাত্রদের, ফলের দ্বারা, বিদ্যা থেকে, লতাগুলো, জল, মুনিগণের।
৭। বাংলায় অনুবাদ করঃ-
নরেণ, মুনিম্, ছাত্রাঃ, ফলানি, চন্দ্রেণ, লতয়া।
৮। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ-
(ক) সংস্কৃত ভাষায় শব্দবিভক্তি কয় প্রকার?
(খ) শব্দবিভক্তি কার সাথে যুক্ত হয়?
(গ) যে পদের সাহায্যে আহ্বান করা হয়, তাকে কোন পদ বলে?
(ঘ) 'হরি' শব্দের রূপ কোন শব্দের মত?

৯। শুদ্ধ উত্তরটি লেখঃ-
(ক) 'নর' শব্দের ষষ্ঠীর বহুবচনের রূপ-

(i) নরেষু
(ii) নরাণাম
(iii) নরানাম্
(iv) নরনাম্

(খ) 'মুনি' শব্দের দ্বিতীয়ার বহুবচনের রূপ-

(i) মুনিন্
(ii) মুনীন্
(iii) মুনীনা
(iv) মুনয়ে

(গ) 'লতা' শব্দের সপ্তমীর বহুবচনের রূপ-

(i) লতা
(ii) লতায়াঃ
(iii) লতাভিঃ
(iv) লতাসু

(ঘ) 'ফল' শব্দের প্রথমার দ্বিবচনের রূপ-

(i) ফলেন
(ii) ফলে
(iii) ফলানি
(iv) ফলান্

(ঙ) 'বৃক্ষ' শব্দের তৃতীয়ার একবচনের রূপ-

(i) বৃক্ষেন
(ii) বৃক্ষেণ
(iii) বৃক্ষম্
(iv) বৃক্ষাৎ

Content added By

ধাতু-ক্রিয়ার মূল বা প্রকৃতির নাম ধাতু। যেমন- পঠ, কৃ, গম্, যা ইত্যাদি। (√) এরূপ সংকেত চিহ্ন দ্বারা ধাতু প্রকাশ করা হয়।
তি বা ক্রিয়াবিভক্তি-ধাতুর শেষে যেসব বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, সেগুলোর নাম তি বা ক্রিয়াবিভক্তি।
যেমন-
√ পট্ + তি = পঠতি। √যা + তি = যাতি। √হস্ + তু = হসতু।
তি বিভক্তির দ্বারা ক্রিয়ার কাল এবং ভাব প্রকাশিত হয়। তি বিভক্তি দশ ভাগে বিভক্ত। দশটি ভাগের মধ্যে লট্, লোট্, লঙ্, বিধিলিঙ্ ও লুট্ এই পাঁচটি বিভাগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান কাল বোঝাতে লট্, অতীত কাল বোঝাতে লঙ্, ভবিষ্যৎ কাল বোঝাতে দৃঢ়, বর্তমান অনুজ্ঞা বোঝাতে লোট্ ও উচিত অর্থে বিধিলিঙের প্রয়োগ হয়।
প্রত্যেকটি তি বিভক্তির প্রথম, মধ্যম ও উত্তম এই তিন পুরুষ এবং প্রত্যেকটি পুরুষের একবচন দ্বিবচন ও বহুবচন এই তিন বচনে বিভিন্ন রূপ হয়। সুতরাং তিঙ্ বিভক্তির সংখ্যা মোট ১০ x ৩ x ৩ = ৯০ (নব্বই) টি।
এবং পরস্মৈপদী ও আত্মনেপদী ভেদে দুই প্রকার। সুতরাং তি বিভক্তি মোট ৯০ x ২ = ১৮০টি
ধাতুরূপ- ধাতুর সাথে তি, তস্, অন্তি প্রভৃতি বিভক্তিযোগে যে ভিন্ন ভিন্ন তিঙন্ত পদ গঠিত হয়, তাকে ধাতুরূপ বলা হয়।

Content added By

১। ধাতু কাকে বলে? কয়েকটি ধাতুর উদাহরণ দাও।
২। তি বিভক্তি বলতে কি বোঝ? উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।
৩। তিভ্ বিভক্তি কয় ভাগে বিভক্ত? তি বিভক্তির প্রধান পাঁচটি ভাগের নাম লেখ।
81 ধাতুরূপ কাকে বলে?
৫। লঙ্-এ তিঙ্ বিভক্তির আকৃতি লেখ।
৬। লট বিভক্তিতে সকল পুরুষ ও বচনে ভূ-ধাতুর রূপ লেখ।
৭। লুট্ বিভক্তিতে প্রথম পুরুষের তিন বচনে ভূ-ধাতুর রূপ লেখ।
৮। নির্দেশ অনুযায়ী ধাতুরূপ লেখঃ
(ক) লোট বিভক্তিতে ভূ-ধাতুর মধ্যম পুরুষের ১ বচন।
(খ) লঙ্ বিভক্তিতে ভূ-ধাতুর প্রথম পুরুষের ১ বচন।
(গ) লোট্ বিভক্তিতে ভূ-ধাতুর উত্তম পুরুষের দ্বিবচন।
(ঘ) বিধিলিঙ্ বিভক্তিতে ভূ-ধাতুর মধ্যম পুরুষের ১ বচন।
(ঙ) দৃঢ় বিভক্তিতে ভূ-ধাতুর উত্তম পুরুষের বহুবচন।

৯। শুদ্ধ উত্তরটির পাশে টিক (√) চিহ্ন দাওঃ-

(ক) ক্রিয়ার মূলকে বলে-

(i) শব্দ
(ii) পদ
(iii) ধাতু
(iv) নিপাত

(খ) তি বিভক্তির অন্য নাম-

(i) ক্রিয়াবিবক্তি
(ii) শব্দবিভক্তি
(iii) প্রাতিপদিক
(iv) অব্যয়

(গ) বর্তমান কাল অর্থে ব্যবহৃত হয়-

(i) লঙ্
(ii) লট্
(iii) ল্‌ট্
(iv) লোট্

(ঘ) ভবিষ্যৎ কাল অর্থে ব্যবহৃত হয়-

(i) লুট্
(ii) লট্
(iii) লোট্
(iv) বিধিলিঙ্

(ঙ) তিভ্ বিভক্তির মোট সংখ্যা-

(i) পঞ্চাশ
(ii) ষাট্
(iii) একশত আশি
(iv) তেত্রিশ

(চ) লট্ বিভক্তির উত্তম পুরুষের একবচনের রূপ-

(i) তস্
(ii) বস্
(iii) মি
(iv) স্যতি

(ছ) লঙ্ বিভক্তির মধ্যম পুরুষের একবচনের রূপ-

(i) স্
(ii) দৃ
(iii) তাম্
(iv) অন্

(জ) লট বিভক্তিতে ভূ-ধাতুর প্রথম পুরুষের একবচনের রূপ-

(i) ভবামি
(ii) অভবৎ
(iii) ভবিষ্যতি
(iv) ভবতি

(ঝ) লোট্ বিভক্তিতে ভূ-ধাতুর মধ্যম পুরুষের দ্বিবচনের রূপ-

(i) ভবতম্
(ii) ভবানি
(iii) ভবাবঃ
(iv) ভবেৎ

(ঞ) দৃঢ় বিভক্তিতে ভূ-ধাতুর উত্তম পুরুষের একবচনের রূপ-

(i) ভবিষ্যতি
(ii) ভবতু
(iii) ভবিষ্যামি
(iv) ভবিষ্যাবঃ

Content added By

শব্দ: কয়েকটি বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি একত্র হয়ে যদি একটি অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বলা হয় শব্দ। যেমন- ন্+ অ + অ = নর। ল্+অ++ আ = লতা।
কিন্তু বর্ণসমষ্টি যদি কোন অর্থ প্রকাশ না করে, তাহলে শব্দ হয় না। যেমন-ক্ এ ত্ + অ = কেত। এখানে কতগুলো বর্ণ একত্র হলেও এগুলো মিলিতভাবে কোন অর্থ প্রকাশ না করায় শব্দ হয়নি।
পদ: বিভক্তিযুক্ত শব্দকে পদ বলা হয়। যেমন- নর ও নরৌ। এখানে 'নর' একটি শব্দ। এর সঙ্গে 'ঔ' এই শব্দবিভক্তি যুক্ত হয়ে 'নরৌ' পদ গঠিত হয়েছে।
পদের শ্রেণীবিভাগঃ পদ পাঁচ প্রকার। বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।
১। বিশেষ্য
যে পদের দ্বারা কোন ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, গুণ, অবস্থা, ক্রিয়া প্রভৃতির নাম বোঝায়, তাকে বলা হয় বিশেষ্য। যেমন-
ব্যক্তি: গোপালঃ, গোবিন্দঃ, সীতা ইত্যাদি।
বস্তুঃ বিত্তম্, জলম্, অনুম্ ইত্যাদি।
স্থানঃ মথুরা, কাশী, গয়া, বৃন্দাবনম্ ইত্যাদি।
গুণ: মধুরতা, চপলতা, মহত্ত্বম্ ইত্যাদি।
অবস্থা: কৈশোরম্, যৌবনম্, দারিদ্রম্ ইত্যাদি।

২। বিশেষণ
যে পদ বিশেষ্য বা ক্রিয়াপদের গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ বলে। বিশেষণ প্রধানত দুই প্রকার- নাম বিশেষণ ও ক্রিয়াবিশেষণ।
নামবিশেষণ: যে পদ বিশেষ্য পদের গুণ, অবস্থা প্রভৃতি প্রকাশ করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যেমন-ক্লান্তঃ পথিকঃ। গভীরা রজনী। পকুম্ ফলম্।
ক্রিয়াবিশেষণ: যে পদ ক্রিয়াপদের অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। ক্রিয়াবিশেষণে দ্বিতীয়া বিভক্তির একবচন ও ক্লীবলিঙ্গ হয়। যেমন- কোকিলঃ মধুরম্ কৃজতি। বালিকা ধীরম্ গচ্ছতি।

৩। সর্বনাম
যে পদ বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে। যেমন- রামঃ সুশীলঃ বালকঃ। রামঃ প্রতিদিনম্ বিদ্যালয়ম্ গচ্ছতি। রামস্য চরিত্রম্ নির্মলম্। -এই তিনটি বাক্যে বারবার রামঃ পদের ব্যবহারে শ্রুতিকটু দোষ হয়। এজন্য 'রামঃ' পদের পরিবর্তে যদি সঃ (সে) এবং রামস্য (রামের) পদের পরিবর্তে তস্য (তার) পদ ব্যবহার করা হয়, তাহলে বাক্যগুলো শ্রুতিমধুর হয়। সুতরাং শ্রুতিকটু দোষ পরিত্যাগের জন্য বিশেষ্যের পরিবর্তে অন্য পদ প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এখানে 'সঃ', 'তস্য' প্রভৃতি পদ সর্বনাম। বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত পদকে বলা হয় সর্বনাম।
কয়েকটি সর্বনাম পদ: তে (তারা), তুম্ (তুমি), যঃ (যে), কঃ (কে), কিম্ (কি), অয়ম্ (এই) ইত্যাদি।

৪। অব্যয়
অব্যয় শব্দের অর্থ 'যার ব্যয় নেই'। ব্যয় শব্দের অর্থ পরিবর্তন। সুতরাং যে পদের কখনো কোন পরিবর্তন হয় না অর্থাৎ যা সব সময় একই রূপে থাকে তাকে অব্যয় বলা হয়। যেমন অধুনা অহং গমিষ্যামি আমি এখন যাব। তস্যাঃ মুখং পদ্মম্ ইব- তার মুখ পদ্মের মত। এখানে অধুনা এবং ইব অব্যয় পদ।

আরো কয়েকটি অব্যয় পদের উদাহরণ:
কদা (কখন), কুত্র (কোথায়), অতীব (অত্যন্ত), চ (এবং), ততঃ (তারপর), তদা (তখন) ইত্যাদি।

৫। ক্রিয়া
যার দ্বারা কোন কাজ করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়াপদ বলে। যেমন সত্যং বদ-সত্য বল। ধর্মং চর-ধর্ম আচরণ কর।
বালকঃ পঠতি- বালকটি পড়ে। বালিকা চন্দ্রম্ পশ্যতি- বালিকা চাঁদ দেখে।

Content added By

১। শব্দ কাকে বলে? উদাহারণ দিয়ে বুঝিয়ে দাওা।
২। পদ কাকে বলে? পদ কত প্রকার ও কি কি?
৩। বিশেষ্য কাকে বলে? পাঁচটি বিশেষ্য পদের উদাহরণ দাও।
81 নামবিশেষণ ও ক্রিয়াবিশেষণের পার্থক্য উদাহরণ সহ লেখ।
৫। সর্বনাম পদ কাকে বলে? কয়েকটি সর্বনাম পদের উদাহরণ দাও।
৬। অব্যয় কাকে বলে? দুটি অব্যয় পদের বাক্যে প্রয়োগ দেখাও।

৭। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :-
(ক) বিভক্তিযুক্ত শব্দকে কি বলে?
(খ) মধুরতা কোন্ পদ?
(গ) ক্রিয়াবিশেষণে কোন লিঙ্গ হয়?
(ঘ) সর্বনাম পদ কোন্ পদের পরিবর্তে বসে?
(ঙ) অব্যয় শব্দের অর্থ কি?

৮। সঠিক উত্তরটি লেখ:-

(ক) বিভক্তিযুক্ত শব্দকে বলে-

(i) কারক
(ii) সন্ধি
(iii) পদ
(iv) প্রত্যয়

(খ) 'কদা' একটি-

(i) বিশেষ্য পদ
(ii) অব্যয় পদ
(iii) সর্বনাম পদ
(iv) বিশেষণ পদ

(গ) শয়নম্ একটি-

(i) ক্রিয়াপদ
(ii) বিশেষ্যপদ
(iii) অব্যয়পদ
(iv) বিশেষণ পদ

(ঘ) 'পকুম্' একটি-

(i) বিশেষণ পদ
(ii) বিশেষ্য পদ
(iii) ক্রিয়াপদ
(iv) সর্বনাম পদ

(ঙ) পশ্যতি একটি-

(i) বিশেষ্য পদ
(ii) বিশেষণ পদ
(iii) সর্বনাম পদ
(iv) ক্রিয়াপদ

Content added By

'লিঙ্গ' শব্দের অর্থ চিহ্ন। যার দ্বারা পুরুষ বা সত্রী বুঝায় কিংবা সত্রী বা পুরুষ কিছুই নয় এরূপ বুঝায়, তাকে লিঙ্গ বলা হয়।
সংস্কৃতে লিঙ্গ তিন প্রকার (১) পুংলিঙ্গ (২) সত্রীলিঙ্গ ও (৩) ক্লীবলিঙ্গ।
বাংলা বা ইংরেজি ব্যাকরণে পুরুষবাচক শব্দগুলো পুংলিঙ্গ, স্ত্রীবাচক শব্দগুলো স্ত্রীলিঙ্গ এবং যেসব শব্দে সত্রী বা পুরুষ কিছুই বুঝায় না, সেগুলো ক্লীবলিঙ্গ। সংস্কৃতে কিন্তু এভাবে লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায় না। সংস্কৃত ব্যাকরণে সত্রীবাচক শব্দও পুংলিঙ্গ, পুরুষবাচক শব্দও ক্লীবলিঙ্গ এবং বস্তুবাচক শব্দও পুংলিঙ্গ হয়।
যেমন- 'দার' শব্দ স্ত্রীবাচক হলেও পুংলিঙ্গ, 'মিত্র' শব্দ পুরুষবাচক হলেও ক্লীবলিঙ্গ এবং 'বৃক্ষ' শব্দ বস্তুবাচক হলেও পুংলিঙ্গ।
সংস্কৃতে লিঙ্গ নির্ণয়ের জন্য অনেক নিয়ম আছে। এখানে সাধারণ দু একটি নিয়ম দেখান হল:

পুংলিঙ্গ
১। দেব, অসুর, স্বর্গ, গিরি, সমুদ্র ইত্যাদি অর্থ প্রকাশক সকল শব্দ পুংলিঙ্গ। যেমন-
(ক) দেববাচক- দেবঃ, সুরঃ, অমরঃ ইত্যাদি।
(খ) অসুরবাচক- অসুরঃ, দৈত্যঃ, দানবঃ ইত্যাদি।
(গ) স্বর্গবাচক- স্বর্গঃ, ত্রিদিবঃ, সুরলোকঃ ইত্যাদি।
(ঘ) গিরিবাচক- গিরিঃ, পর্বতঃ, শৈলঃ ইত্যাদি।
(ঙ) সমুদ্রবাচক- সমুদ্রঃ, সাগরঃ, অর্ণবঃ ইত্যাদি।

২।দেবগণের নামও পুংলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন- ইন্দ্রঃ, বিষ্ণুঃ, শিবঃ, গণেশঃ, কার্তিকেয়ঃ ইত্যাদি।

স্ত্রীলিঙ্গ
১। আ-কারান্ত, ঈ-কারান্ত ও উ-কারান্ত শব্দ সত্রীলিঙ্গ। যেমন- লতা, নদী, বধূ ইত্যাদি।
২। ঋ-কারান্ত মাতৃ (মা), দুহিতৃ (কন্যা), স্বস্ (ভগ্নী), ননান্দ (ননদ) প্রভৃতি শব্দ সত্রীলিঙ্গ। যেমন- মাতা, দুহিতা, স্বসা, ননান্দা।

ক্লীবলিঙ্গ
১। মুখ, নয়ন, বন, কুসুম, ধন ও অনুবাচক শব্দগুলো ক্লীবলিঙ্গ। যেমন-
(ক) মুখবাচক- মুখম্, বদনম্, আননম্ ইত্যাদি।
(খ) নয়নবাচক নয়নম্, নেত্রম্, লোচনম্ ইত্যাদি।
(গ) বনবাচক- বনম্, অরণ্যম্, বিপিনম্ ইত্যাদি।
(ঘ) কুসুমবাচক- কুসুমম্, পুষ্পম্ ইত্যাদি।
(ঙ) অনুবাচক- অন্নম্, খাদ্যম্, ভোজ্যম্ ইত্যাদি।
(চ) ধনবাচক- ধনম্, বিত্তম্, দ্রবিণম্ ইত্যাদি।

লিঙ্গ পরিবর্তন
পুংলিঙ্গ শব্দকে সত্রীলিঙ্গে রূপান্তরিত করতে হলে পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে প্রধানত আ ও ঈ যোগ করতে হয়।
যেমন-

পুংলিঙ্গস্ত্রীলিঙ্গপুংলিঙ্গস্ত্রীলিঙ্গ
অশ্বঃঅশ্বামৃগঃমৃগী
প্রথমঃপ্রথমাব্রাহ্মণঃব্রাহ্মণী
কোকিলঃকোকিলানদঃনদী
কৃশঃকৃশাসুন্দরঃসুন্দরী
দীনঃদীনাকুমারঃকুমারী
মূষিকঃমুষিকাপিতামহঃপিতামহী
সিংহঃসিংহীমাতামহঃমাতামহী
ব্যাঘ্রঃব্যাঘ্রীতরুণঃতরুণী
Content added By

১।লিঙ্গ কাকে বলে? সংস্কৃতে লিঙ্গ কত প্রকার ও কি কি?
২।বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণের সঙ্গে সংস্কৃত ব্যাকরণের লিঙ্গের পার্থক্য কি?
৩।উদাহরণ সহ পুংলিঙ্গ নির্দেশক প্রথম নিয়মটি উলেখ কর।
81স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশক দুটি নিয়ম উদাহরণ সহ উলেখ কর।
৫।লিঙ্গ পরিবর্তন করঃ
কৃশা, অশ্বঃ, মৃগী, দীনঃ, পিতামহঃ।
৬। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :-
(ক) 'দার' শব্দ কোন্ লিঙ্গ?
(খ) লিঙ্গ শব্দের অর্থ কি?
(গ) মুখবাচক শব্দ কোন্ লিঙ্গ?
(ঘ) গিরিবাচক শব্দ কোন্ লিঙ্গ?
(ঙ) আ-কারান্ত শব্দ কোন্ লিঙ্গ?
৭।
শুদ্ধ উত্তরটির পাশে টিক (√) চিহ্ন দাও:
(ক) সংস্কৃতে লিঙ্গ তিন/দুই/চার/পাঁচ প্রকার।
(খ) বনবাচক শব্দ পুংলিঙ্গ/স্ত্রীলিঙ্গ/ক্লীবলিঙ্গ/উভয়লিঙ্গ।
(গ) স্বর্গবাচক শব্দ স্ত্রীলিঙ্গ/ক্লীবলিঙ্গ/পুংলিঙ্গ/ উভয়লিঙ্গ।
(ঘ) ঈ-কারান্ত শব্দ পুংলিঙ্গ/উভয়লিঙ্গ/ক্লীবলিঙ্গ/স্ত্রীলিঙ্গ।
(ঙ) 'নদ' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ নদী/নদি/নদা/নদো।

Content added By

রামঃ পঠতি- রাম পড়ছে।
উপরের উদাহরণে 'পঠতি' একটি ক্রিয়াপদ। এই ক্রিয়াটি সম্পাদন করছে রামঃ। সুতরাং রামঃ পদের সঙ্গে 'পঠতি' ক্রিয়াপদের সম্বন্ধ আছে।
এরূপভাবে-
ক্রিয়ার সাথে বাক্যের অন্যান্য পদের যে সম্বন্ধ থাকে, তাকে কারক বলা হয়।
কারক ছয় প্রকার- কর্তা, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান ও অধিকরণ।
১। কর্তা বা কর্তৃকারক
যিনি ক্রিয়া সম্পাদন করেন, তাকে কর্তৃকারক বলে। যেমন- সূর্যঃ উদেতি- সূর্য উদিত হচ্ছে। শ্যামলঃ পঠতি-শ্যামল পড়ছে।
২। কর্মকারক
যাকে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কর্মকারক বলে। সাধারণত ক্রিয়াপদকে 'কি' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাকে কর্মকারক বলে। যেমন-
অহং জলং পিবামি- আমি জল পান করি।
মাতা পুত্রং বদতি- মা ছেলেকে বলছেন।
৩। করণকারক
কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে করণকারক বলে। যেমন- অহং কর্ণেন শূণোমি- আমি কান দ্বারা শুনি।
বয়ং নেত্রেণ পশ্যামঃ- আমরা চোখ দিয়ে দেখি।

৪। সম্প্রদান কারক
যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কোন কিছু দান করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলে। যেমন-তৃষার্তায় জলং দেহি- তৃষার্তকে জল দান কর। অন্নহীনায় অনুং দেহি অন্নহীনকে অন্ন দান কর।
৫। অপাদানকারক
একটি বস্তু থেকে অন্য একটি বস্তু পৃথক হওয়ার পর যে বস্তুটি স্থির থাকে, তাকে অপাদানকারক বলে। যেমন-
বৃক্ষাৎ পত্রং পততি- গাছ থেকে পাতা পড়ছে।
স নগরাৎ বহিঃ গচ্ছতি- সে নগর থেকে বাইরে যাচ্ছে।
৬। অধিকরণকারক
যে স্থানে, যে কালে বা বিষয়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। যেমন-
মৎস্যঃ জলে নিবসতি- মাছ জলে বাস করে। বসন্তে কোকিলঃ কূজতি- বসন্তে কোকিল ডাকে। সঙ্গীতে নিপুণা মালবিকা- মালবিকা সঙ্গীতে নিপুণ।

Content added By

১। কারক কাকে বলে? কারক কত প্রকার ও কি কি?
২। কর্মকারক কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
৩। উদাহরণসহ অধিকরণ কারকের সংজ্ঞা লেখ।
81 অপাদান কারক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
৫। রেখাঙ্ক্ষিত পদসমূহের কারক নির্ণয় কর।
(ক) অহং জলং পিবামি।
(খ) বৃক্ষাৎ পত্রং পততি।
(গ) শ্যামলঃ পঠতি।
(ঘ) তৃষার্তায় জলং দেহি।
(ঙ) বসন্তে কোকিলঃ কূজতি।
৬। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :-
(ক) যিনি ক্রিয়া সম্পাদন করেন তাকে কোন্ কারক বলে?
(খ) কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কোন্ কারক বলে?
(গ) যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কোন কিছু দান করা হয়, তাকে কোন্ কারক বলে?
(ঘ) যাকে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কোন্ কারক বলে?
(ঙ) যে স্থানে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কোন্ কারক বলে?

৭। শুদ্ধ উত্তরটি লেখ:

(ক) যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বলে-

(i) কর্মকারক
(ii) করণকারক
(iii) কর্তৃকারক
(iv) অপাদান কারক

(খ) কারক-

(i) পাঁচ প্রকার
(ii) ছয় প্রকার
(iii) সাত প্রকার
(iv) তিন প্রকার

(গ) বৃক্ষাৎ পত্রং পততি-এই বাক্যে বৃক্ষাৎ

(i) কর্মকারকে ২য়া
(ii) করণকারকে ৩য়া
(iii) সম্প্রদান কারকে ৪র্থী
(iv) অপাদান কারকে ৫মী

(ঘ) সূর্যঃ উদেতি- এই বাক্যে সূর্যঃ

(i) কর্তৃকারক
(ii) সম্প্রদান কারক
(iii) অধিকরণকারক
(iv) অপাদান কারক

(ঙ) মাতা পুত্রং বদতি- এই বাক্যে 'পুত্রং'

(i) সম্প্রদান কারক
(ii) কর্মকারক
(iii) করণ কারক
(iv) অধিকরণ কারক

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...