শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হলো ধর্ম ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও সকলে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের সঙ্গে বসবাস করা। অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে স্বাধীনভাবে প্রকাশ ও চর্চা করতে দেওয়া। পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করা। সুসম্পর্ক বজায় রাখা। একে অন্যকে সহযোগিতা করা ইত্যাদি। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে ঐক্য, সহানুভূতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করা সম্ভব।
মহানবি (স.) ভিন্ন ধর্মের লোকদের সঙ্গে সহনশীল আচরণ করতেন। মদিনায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস ছিল। তিনি সকলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ নেন। মুসলমানসহ অন্যান্য ধর্মের লোকদের কল্যাণের জন্য তিনি মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। তাঁর শিক্ষার ফলে মদিনায় একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। সকলের মধ্যে শান্তিপর্ণ সহাবস্থান সম্প্রীতি ও সহযোগিতা নিশ্চিত হয়।
ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ হলো- তাদের প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল আচরণ করা। নিজের ধর্ম ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান তাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে না দেওয়া। তাদের উপাসনালয়, পবিত্র স্থান, আচার-অনুষ্ঠান, জীবন-সম্পদ, মান-সম্মান ও বাসস্থানের নিরাপত্তা বিধান করা। তাদের প্রতি কটূক্তি না করা, গালি না দেওয়া বা তাদের সম্পর্কে অবমাননাকর। কথাবার্তা না বলা। ধর্মের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে বৈষম্য না করে নৈতিক সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের উপায়সমূহ হলো-তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। সহনশীলতা দেখানো এবং সম্মানজনক ভাষায় তাদের সাথে কথা বলা। বিভিন্ন কাজে তাদের সহয়োগিতা করা এবং তাদের মধ্যে অভাবী ব্যক্তিদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
ইসলামের আদর্শ, আমাদেরকে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে উদ্বুদ্ধ করে। বিভিন্ন উপায়ে আমরা ভিন্ন ধর্মের লোকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে পারি। নিচে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের উপায়সমূহের একটি তালিকা তৈরি করা হলো-
১. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়া।
২. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে উত্তম আচরণ করা।
৩. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়া।
৪. বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার মাধ্যমে আস্থা, বিশ্বাস-ও আন্তরিকতা বাড়াতে পারি।
৫. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে স্বাধীনভাবে প্রকাশ ও চর্চা করতে দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে সুন্দর সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি হলো সমাজের সকল ধর্মের মানুয়ের মাঝে সুসম্পর্ক বজায় থাকা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হয়। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ধর্মীয় সম্প্রীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সংঘাত এড়াতেও সাহায্য করে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় থাকলে সকলের মধ্যে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ে। সকলের মধ্যে সাহায্য-সহযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পায়।
ইসলাম ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দেয়। ইসলাম ভিন্ন ধর্মের লোকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে নির্দেশনা দেয়। বিভিন্ন কাজে তাদের সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করে। মহান আল্লাহ সকল মানুষের প্রতি ইনসাফ অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার এরং ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। (সূরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত: ৮)
মহানবি (স.) ও তাঁর সাহাবিগণও অমুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখেছিলেন। তাই শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনেক গুরুত্ব রয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি হলো সমাজের সকল ধর্মের মানুষের মাঝে সুসম্পর্ক বজায় থাকা।
বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ধর্মীয় সম্প্রীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সংঘাত এড়াতেও সাহায্য করে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় থাকলে সকলের মধ্যে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ে। সকলের মধ্যে সাহায্য-সহযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ সকল মানুষের প্রতি ইনসাফ অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার এবং ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। (সূরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত: ৮)
আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। এ দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি কেউ হিন্দু, কেউ বৌদ্ধ, কেউ খ্রিষ্টধর্ম পালন করে। সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। এসব কারণে আমাদের দেশকে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ বলা হয়। আমাদের দেশের ঐতিহ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরাও ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রাখি। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলি। তাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলি। তাদের বিপদ-আপদে সাহায্য করি। তাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করি। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কোনো কথা বলি না বা কোনো কাজ করি না।
ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী ধর্মীয় স্বাধীনতা হলো জোরপূর্বক কাউকে ধর্মান্তরিত না করা এবং অন্য ধর্মের মানুষকে তাদের বিশ্বাস পালনে বাধা না দেওয়া। প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্ব আকিদা ও ইবাদত স্বাধীনভাবে পালন করার অধিকার রাখে। ইসলাম আমাদের অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে সুন্দর 'ও মানবিক আচরণ করার নির্দেশ দেয়। ইসলপবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, দ্বীন বা ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি বা জোর-জুলুম নেই। এর অর্থ হলো সত্য পথ ও ভুল পথ স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং মানুষ তার স্বাধীন ইচ্ছায় ধর্ম বেছে নিতে পারে। ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে কাউকে বাধ্য করা বা ভয় দেখানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ঘোষণাটি সারা বিশ্বের মানুষের জন্য ধর্মীয় সহনশীলতার এক মহান শিক্ষা।
ইসলাম ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে উৎসাহ প্রদান করে। আমাদের চারপাশে বিভিন্ন ধর্মের লোক বসবাস করে। তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। এর ফলে সবার মধ্যে সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধন গড়ে ওঠে। স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসলাম সব ধর্মের মানুষের প্রতি সহনশীল আচরণ করতে নির্দেশনা দেয়।
মহানবি (স.) ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি দয়া, সহানুভূতি ও সম্মানজনক আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। মহানবি (স.) বলেছেন- তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারাই, যারা আচরণগত দিক থেকে সর্বোত্তম।" (সহিহ বুখারি)
মহানবি (স.) সবসময় অন্য ধর্মের লোকদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করেছেন এবং উপাসনার প্রতিও সহনশীল ছিলেন
মহানবি (স.) মদিনায় হিজরতের পর বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য যে লিখিত চুক্তি করেছিলেন তাকে মদিনা সনদ-বলে। এটি বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ লিখিত সংবিধান হিসেবে পরিচিতণ এই সনদে মদিনার সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল।
মদিনা সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে মুসলমান ও অমুসলিমরা নিজ নিজ ধর্ম পালনে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে। এটি ভিন্ন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। এই সনদের মাধ্যমে মদিনায় এক অসাধারণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জানমালের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আজও বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মদিনা সনদ একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত।
প্রতিবেশী অমুসলিম হলেও তাদের সাথে সর্বদা হাসি-খুশি থাকা এবং বিপদে-আপদে তাদের সাহায্য করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। তাদের কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দেওয়া এবং তারা অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া ইসলামের শিক্ষা। আমাদের আচরণে যেন কোনো প্রতিবেশী কখনও কষ্ট না পায় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক রাখা ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কারণ মহানবি (স.) প্রতিবেশীর অধিকারের ওপর অনেক জোর দিয়েছেন। সুন্দর আচরণের মাধ্যমে আমরা ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তাদের সামনে তুলে ধরতে পারি। এটি সমাজে শান্তি বজায় রাখে এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয়। প্রতিবেশী ভালো থাকলে পুরো মহল্লায় একটি সুন্দর ও সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে।
একবার নাজরান থেকে একদল খ্রিস্টান প্রতিনিধি মহানবি (স.)-এর সাথে দেখা করতে মসজিদে নববিতে এসেছিলেন। যখন তাদের প্রার্থনার সময় হলো, তখন মহানবি (স.) তাদের মসজিদের ভেতরেই নিজেদের ধর্ম অনুযায়ী ইবাদত করার অনুমতি দিলেন। এটি ছিল অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি তার পরম শ্রদ্ধার একটি বড়ো নিদর্শন।
এই ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে অন্যের ইবাদত ও ধর্মীয় রীতির প্রতি আমাদের পরম সহনশীল হওয়া উচিত। ইসলাম কেবল নিজ ধর্ম পালনের কথা বলে না, বরং অন্য ধর্মের মানুষের উপাসনালয় ও আচারের প্রতি সম্মান দেখাতেও শেখায়। এটি আমাদের সংকীর্ণতা দূর করে উদার মানসিকতা গঠনে সাহায্য করে। সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে আমাদেরও উচিত অন্যের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
ইসলাম অন্য ধর্মের মানুষের মন্দির, গির্জা বা প্যাগোডার মতো উপাসনালয়গুলো ভাঙচুর করতে বা ক্ষতি করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও মহানবি (স.) অমুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনালয় ও যাজকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিতেন। অন্য ধর্মের ধর্মীয় স্থানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায়।
উপাসনালয় প্রতিটি ধর্মের মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগের স্থান, তাই এটি রক্ষা করা সামাজিক শান্তি বজায় রাখার জন্য জরুরি। উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বস্তির ঝেধ তৈরি হয়। এটি সমাজে দাঙ্গা-হাঙ্গামা রোধ করে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়িয়ে দেয়। সকলের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা একটি সভ্য ও মানবিক সমাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। এদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভ্রাতৃত্বের সাথে বসবাস করে আসছে। সকল ধর্মাবলম্বী মানুষ তাদের ধর্মীয় উৎসবগুলো স্বাধীনভাবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করার সুযোগ পায়।
রাষ্ট্রীয়ভাবে সকল ধর্মের মানুষকে সমান নাগরিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা সম্প্রীতিকে আরও মজবুত করেছে। সামাজিক যেকোনো কর্মকাণ্ডে বা সংকটে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে। এই ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতিই বাংলাদেশের সংহতি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি।
মহানবি (স.) ভিন্ন ধর্মের মানুষদের উপাসনা করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেন।
মহানবি (স.) অন্য ধর্মের লোকদের উপাসনার প্রতিও সহনশীল ছিলেন। একবার নাজরান নামক স্থানে খ্রিস্টান প্রতিনিধিরা মহানবি (স.)-এর নিকট এসেছিলেন। তাদের উপাসনার সময় হলে তিনি তাদেরকে তাদের পদ্ধতিতে উপাসনা করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) জেরুজালেম জয়ের পর ঘোষণা করেন যে, অমুসলিমদের জীবন, সম্পদ, গির্জা ও ক্রুশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। কেউ তাদের গির্জায় বাস করবে না বা সেগুলো ধ্বংস করবে না। তাদের সম্পত্তি থেকে কিছুই নিবে না। ধর্মের ব্যাপারে তাদের ওপর কোনো জবরদস্তি করবে না এবং তাদের কারো ক্ষতি করবে না।
অন্যের ভিন্ন মত, বিশ্বাস বা কাজকে ধৈর্য ও উদারতার সাথে গ্রহণ করার মানসিকতাকেই সহনশীলতা বলে। সহনশীল মানুষ অন্যের ভুল বা ভিন্নতা দেখে উত্তেজিত হয় না বরং শান্তভাবে তা মোকাবিলা করে। এটি একটি মহৎ মানবিক গুণ, যা ইসলাম বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সহনশীলতা ঢাল হিসেবে কাজ করে কারণ এটি পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি ও ঘৃণা দূর করে। আমরা যখন অন্যের বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল হই, তখন অন্যরাও আমাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে। এর ফলে সমাজে অসহিষ্ণুতা কমে যায় এবং সব ধর্মের মানুষ আস্থার সাথে বসবাস করতে পারে। সহনশীলতা মানুষের মধ্যে সংলাপ ও বন্ধুত্বের নতুন পথ খুলে দেয়।
স্কুলে আমি আমার ভিন্ন ধর্মের সহপাঠীদের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করব এবং তাদের উৎসবে শুভেচ্ছা জানাবো। টিফিন ভাগ করে খাওয়া এবং একসাথে খেলাধুলা ও পড়াশোনা করার মাধ্যমে আমি সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখব। কেউ যদি অন্য ধর্ম নিয়ে মন্দ কথা বলে, তবে আমি তাকে সুন্দরভাবে নিষেধ করব।
একজন আদর্শ শিক্ষার্থী হিসেবে আমার অঙ্গীকার হবে পৃথিবীর-সকল মানুষকে ভালোবাসা এবং সবার সাথে মানবিক আচরণ করা। আমি কখনও কারও ধর্ম বা বর্ণ নিয়ে উপহাস করব না এবং ক্লাসের সবার সাথে মিলেমিশে থাকব। আমার আচরণে যেন সবসময় সহনশীলতা ও উদারতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সেদিকে সজাগ থাকব। এভাবে সম্প্রীতি বজায় রেখে আমি দেশের একজন সচেতন ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে চাই।
Related Question
View Allধর্মীয় সম্প্রীতি হলো সকল ধর্মের মানুষের মাঝে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত।
ইসলাম ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দেয়।
মহানবি (স.) অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনার প্রতিও সহনশীল ছিলেন।
আমরা ভিন্ন ধর্মের মানুষের কাজে সহযোগিতা করব।
ধর্মে দীক্ষিত করার ব্যাপারে কাউকে জোর করা বা বাধ্য করা যায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!